Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানে খামেনি ও পেজেশকিয়ানের স্থানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলা

    ইরানে খামেনি ও পেজেশকিয়ানের স্থানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলা

    অগ্নিঝরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ পাজের ব্যাপারে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার বিষয়টি মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

    এই অপ্রত্যাশিত হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সতর্কতা জারি করে দেশের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি, তারা উল্লেখ করে, সম্ভবত ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে, তাই পূর্ব সতর্কতা হিসেবে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু বলাস্যজি, আল জাজিরা জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া আকাশে উঠে আসতে দেখা গেছে।

    ফার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো অঞ্চল উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

  • বলিভিয়ায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ১৫

    বলিভিয়ায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ১৫

    দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দেশের মধ্যে দেশটির রাজধানী লা পাজের কাছাকাছি একটি সামরিক কার্গো উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে গেছে। এই বিমানটি মূলত বলিভীয়ান বলিভিয়ানোতে পরিপূর্ণ ছিল। দুর্ঘটনার ফলে একাধিক যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হন। এছাড়াও বেশ 몇জন আহত হয়েছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে। বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, লা পাজের সংলগ্ন এল আলতো শহরের বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এক সামরিক কার্গো বিমানটি তার গন্তব্যের জন্য রওনা দেয়। কিন্তু বিমানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় পানে পরিস্থিতি অবনতি হয়। রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে কাছাকাছি মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয় সেটি। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি আত্বগত হয়ে আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের দল পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বিমানের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান পাভেল তোভার জানান, তারা ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছেন। তবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে সকলের মধ্যে কতজন বিমানযাত্রী ছিলেন এবং কতজন অন্যান্য যানবাহনে থাকতে পারেন।

    বলিভিয়ার বিমান বাহিনী থেকে জানানো হয়, ওই কার্গো বিমানটিতে মোট ৬ জন ক্রু ছিল। এর মধ্যে চারজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, অপর দুইজনের খোঁজ এখনও উদ্ধারকাজ চলছে। জানা গেছে, এই বিমানটি পূর্বাঞ্চলীয় শহর সান্তা ক্রুজ থেকে এল আলতো শহরের দিকে যাচ্ছিল।

    বিমানটি মহাসড়কে আছড়ে পড়ায় কমপক্ষে ১৫টি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বিমান বিধ্বস্তের পরে বিভিন্ন দর্শক নোট অপহরণের জন্য ভিড় জমিয়েছে।

    অপরদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড এপিনোজা জানিয়ে থাকেন, ওই নোটগুলো আপাতত কোনও কাজে আসবেনা। কারণ, সেগুলোর মধ্যে এখনো সিরিয়াল নম্বর বসানো হয়নি। তিনি জানান, বিমানটি থেকে আনা এই নোটগুলো এখনও সম্পূর্ণ মুদ্রা হিসেবে তৈরি হয়নি। সিরিয়াল নম্বর বসানোর জন্যই এগুলো নিয়ে আসা হচ্ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

  • ইরান কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে: রিপোর্ট

    ইরান কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে: রিপোর্ট

    ইরান এখন কঠোর প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি ইরানি শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ধ্বংসস্তূপ ও আতঙ্কের দৃশ্য দেখা গেছে। তেহরান এখন এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

    ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা হামলার পাল্টা প্রতিশোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাদের কঠোর জবাবই হবে।

    এদিকে, হামলার পরপরই ইরানের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা প্রদান করে।

    ইরানের সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের মুখপাত্র মাজিদ আখভান নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।’

    প্রাদেশিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজ শহরে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইসফাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    আরেক খবর অনুযায়ী, ইরানের রাজধানী তেহরানের ইউনিভার্সিটি এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এই সব ঘটনা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এখনই তেহরান কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, এবং আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

  • ইসরাইলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান, সাইরেন বাজছে

    ইসরাইলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান, সাইরেন বাজছে

    ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্যে তেহরান থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর ফলে উত্তর ইসরাইলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

    স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় ১২:১৫) ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা দেশটির মানুষকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা নির্দেশ করে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

    টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরাইলের ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখনো কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জানা গেছে, ইরান থেকে কমপক্ষে দুটির মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি খোলা জায়গায় আঘাত হেনেছে। আইনস্মৃতি বলছে, আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথাও শনাক্ত হয়েছে।

    ইসরাইল দিফেন্স ফোর্সের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের ভূখণ্ডে লক্ষ্য করে ছেড়া হয়েছে, যা তারা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অল্প কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলের দিকে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, ফলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ইসরাইলি বিমান বাহিনী হুমকি প্রতিহত ও প্রয়োজন হলে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    অতীতে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব সময় সম্পূর্ণ নির্ভুল নয়, তাই সাধারণ মানুষের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে এই নির্দেশনা অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয় যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইসরায়েল পাল্টা হামলার আশঙ্কায়

    আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইসরায়েল পাল্টা হামলার আশঙ্কায়

    শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের ওপর সরাসরি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর, ইসরায়েল পুরো দেশজুড়ে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, উন্নত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বা হয়তো কোনো আক্রমণের আশঙ্কায়, আসন্ন নির্দেশনা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ যেন বিমানবন্দরে না যান, এ আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর বিবিসির।

    এছাড়া, যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদেরকে তাদের বিমান সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট চেক করতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তখন আবার আকাশসীমা খুলে দেওয়া হবে। তবে এ সিদ্ধান্তের পিছনে মূল লক্ষ্য হল দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সম্ভাব্য পাল্টা ড্রোন বা মিসাইল হামলা থেকে রক্ষা।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ দিন ধরেই উত্তেজনা বেড়ে চলছিল। অবশেষে, ইসরায়েল আজ শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    এ পরিস্থিতির মধ্যেই, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই সামরিক আঘাত চালিয়েছে এবং দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা জানিয়েছেন যে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তেহরানের বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি ক্ষতি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও বলছেন, এ ধরনের হামলা একটি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অশান্ত পরিস্থিতিতে এই হামলা বোঝানো যায় যে, দুটি দেশই এখন অপ্রত্যাশিত সংকটের মুখোমুখি।

  • পাকিস্তানের ঘোষণা: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরু, কাবুল ও কান্দাহারে সংঘর্ষ

    পাকিস্তানের ঘোষণা: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরু, কাবুল ও কান্দাহারে সংঘর্ষ

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তারের সীমান্তে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন দিক নিল। গত কয়েকদিন ধরে কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য অঞ্চলে পাকিস্তানের হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পাকিস্তানি সেনাদের অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক তালেবান বেসামরিক ও সামরিক পর্যায়ে নিহত হয়েছে।

    বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এক কঠোর ভাষণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে এখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। এখন আমাদের ও তোমাদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী।’

    শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্সে পোস্টে জানান, পাকিস্তানি বিমান ও সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সুমরিক আক্রমণ চালানো হয়। অভিযানের মাধ্যমে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারায় ২৭টি সেনাকুড়ি ধ্বংস এবং নয়টি দখল করে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা।

    তিনি আরও জানান, এই আঘাতে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি প্রধান সদরদপ্তর, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, লজিস্টিক কেন্দ্র, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, সেক্টর হেডকোয়ার্টারসহ ৮০টিরও বেশি ট্যাংক ও বিভিন্ন ধরনের সুপ্রাচীন অস্ত্রবাহী যান ধ্বংস হয়েছে।

    প্রায় এক বছর আগে, গত বছর অক্টোবরে, দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতির জন্য আপস করলেও, বিচ্ছিন্ন অপারেশনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। গত শুক্রবার রাতে কাবুলে জোরদার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে রাতে বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দাবি করেছিলেন, শুক্রবার ভোরের হামলায় পাকিস্তানিরা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, তবে পরে এই দাবি ডিলিট করা হয়।

    পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অভিযানে ১৩৩ তালেবান নিহত হয়েছে এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছে। তবে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও আহত হয়নি। এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হস্তক্ষেপে বেশ কয়েকজন নিহত হন। আর তালেবান দাবি করে, তারা এই হামলার জন্য পাকিস্তানের সেনা ও বিমান বাহিনীকে জবাব দেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ রেখে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে, ২০০১ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান অভিযানের পরে পাকিস্তান তালেবান সমর্থন দিয়ে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগে উঠে, তারা তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।

    অন্তর্ঘর্ষের এই সময়ে, সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে তালেবান। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বহু এলাকা জঙ্গি হামলার শিকার হয়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দুই দেশের এই সংঘর্ষের ফলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারে যেতে চলেছে।

  • ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব: পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাতে শান্তির আশ্বাস

    ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব: পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাতে শান্তির আশ্বাস

    আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি রমজানের পবিত্রতা তুলে ধরে বলেছেন, এই মাসটি আত্মসংযম ও ইসলামী ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশদুটির মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সংকটময় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে সব ধরনের গঠনমূলক সংলাপের পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানো এবং সহযোগিতা জোরদার করতে ইরান তার ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান প্রকাশ্যে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তানিরা আক্রমণ চালানোর পর এই ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের দাবি, তারা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখন আরো চরমে পৌঁছেছে — তাই তারা প্রকাশ্য যুদ্ধের পথে। পাকিস্তানের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলার ফলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে, তালেবানের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের আক্রমণে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। واک্যতায়, পাল্টা হামলায় তালেবান দাবি করেছে অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

  • পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আহত বা নিহত হওয়ার আশংকা

    পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আহত বা নিহত হওয়ার আশংকা

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারো সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে একটি অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানের ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওসিন্টের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতাসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে, এই তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    ২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে অবসর নেওয়ার পর, তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং নতুন সরকার গঠন করে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    অপরদিকে, ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে। আফগান পক্ষ দাবি করে, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

    আজ শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় পাকিস্তান হামলা চালায়। এর জবাবে, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    তালেবানের মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বিমান আঘাত হেনেছে। তবে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। দামান জেলায় তালেবানের একটি সীমান্তরক্ষা ঘাঁটি রয়েছে।

    আফগানিস্তানের তালেবান কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তাদের বাহিনী দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও জানান, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে, যদিও এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তালেবান বাহিনীকে। এই সংঘর্ষে দেশ দুটির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • পাকিস্তানের দাবি, ২২৮ তালেবান নিহত, আহত ৩শ’ বেশি

    পাকিস্তানের দাবি, ২২৮ তালেবান নিহত, আহত ৩শ’ বেশি

    পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ২২৮ তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ এর আওতায় পাকিস্তানি সেনারা ৭৪টি তালেবান কম্যান্ড পোস্ট ধ্বংস করে একই সঙ্গে ১৮ জন তালেবান সদস্যকে আটক করেছে।

    এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, তালেবানের হামলায় তাদের ২৭ সেনা আহত হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করে বলেছে, তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ১১ জন আহত।

    অপরদিকে, তালেবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের হামলায় তাদের ৫৫ সৈন্য নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানের কর্মকর্তা ও সরকার মতামত দেন, তারা গত বুধবার ডুরাল্ড লাইন (পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত) বরাবর পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যেখানে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

    বছরখানেকের উত্তেজনার পর অবশেষে দুই মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। অঙ্গীকারবদ্ধভাবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে এই সংঘর্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায়।

    আফগানিস্তানের জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, এতে ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে কাবুলের দাবি, এই হামলায় ১৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।

    প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    তারপর, গত রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহরে পাকিস্তান আবারো হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষমন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।

  • নেপালে জেন-জি প্রতিবাদে পুলিশের নির্বিচার গুলির পেছনে গোপন নাটক

    নেপালে জেন-জি প্রতিবাদে পুলিশের নির্বিচার গুলির পেছনে গোপন নাটক

    গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর নেপালের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানী কাঠমান্ডুর মৈতিঘর মণ্ডলা থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি আন্দোলনের প্রতিবাদে সেদিন রক্তঝরা হয়েছিল। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিষয়টি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র ও পলায়নরত তরুণদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেয় পুলিশ প্রধানের সামনেই কর্তৃপক্ষ।

    বিবিসির বিশেষ সূত্র মতে, পুলিশের গোপন ‘লগ বুক’ ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে দেখা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ১২টা ৩০ মিনিটে কারফিউ জারির পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে রেডিও বার্তায় একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশ দেতা ঘোষণা করেন ‘পিটার ১’ কল সাইন ব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তা, যার সূত্রে জানা যায়, তিনি নেপালের আশির্ধ্ণতর পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুং।

    নথিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার প্রাণনাশক গোলার অনুমতি চেয়ে রেডিওর মাধ্যমে নির্দেশের জন্য আবেদন করেন। তখনই ‘পিটার ১’ থেকে নির্দেশ আসে, ‘কারফিউ জারি হয়েছে, পর্যাপ্ত অনুমতি প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী বল প্রয়োগ করুন।’ এই পর্যায়ে শুরু হয় নির্বিচার গুলির বর্বরতা।

    অত্যন্ত দুঃখজনক হলো, ওই দিন নিহত ১৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে করুণ কাহিনি হলো ১৭ বছর বয়সী শ্রীয়াম চৌলাগাঁইয়ের। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, সেদিন সে কোনও সহিংসতায় যুক্ত ছিল না। স্কুলের ব্যাগ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল থেকে সরে আসছিল, তখনই তার মাথার পিছনে গুলি লেগে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    শ্রীয়ামের মা-বাবা জানায়, তার ছেলে রাজনীতির অনেক সচেতন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। একবার তাদের বলেছিল, ‘আমরা তো ছোট, পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালাবে না।’ কিন্তু তার বিশ্বাসের মূল্য দিতে হল প্রাণ দিয়ে।

    নেপালের এই আন্দোলন মূলত কোনো প্রাচীন রাজনৈতিক দলের আয়োজিত নয়। বিশ্লেষকেরা এটিকে বলছেন ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। আগস্ট থেকেই তরুণেরা অনলাইনে ‘নেপো বেবি’ বা অভিজাত পরিবারের সন্তানদের বিরুদ্ধে আভিজাত্য বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সরকার যখন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিল, তখন তারা গেমিং প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে সংগঠিত হয়। ‘ইউথ অ্যাগেইনস্ট করাপশন’ নামে এই সার্ভারে বিশাল সমাবেশ ও পরিকল্পনা চলছিল।

    অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম গোপন রেখেই বলেন, তারা তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল সংগঠনের ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজান ছিল। সেখানে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩০,০০০।

    তদন্তের সময় আরও খুঁজে পাওয়া যায়, পুলিশ কেবল রাস্তা থেকেই নয়, সংসদ ভবনের উঁচু প্রাচীর ও গেটহাউস থেকেও বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে গুলি চালিয়েছে। ২টা ২১ মিনিটে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ ভবনের প্রাচীরের আড়াল থেকে ধোঁয়া বের হতে, যা স্পষ্ট করে দেয় টার্গেট করে গুলি করা হচ্ছিল। সেই গুলিতে প্রাণ হারান ২৪ বছরের যুবক যোগেন্দ্র নিউপানে।

    ৮ সেপ্টেম্বরের এই নিষ্ঠুরতার পরিপ্রেক্ষিতে, নেপাল রাজনীতিতে গভীর এক ঝড় ওঠে। পরের দিন, ৯ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ জনতা দেশব্যাপী থানায় ও সরকারি ভবনে আগুন লাগায়। পরিস্থিতি আর সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে, দুই দিনে সারা দেশে নিহত হন মোট ৭৭ জন।

    আগামী ৫ মার্চ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ৮ সেপ্টেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডের দায় কেউ গ্রেপ্তার বা প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেননি। সাবেক আইজিপি খাপুং অবসরে গিয়ে নিস্তব্ধতা পালন করছেন। একইভাবে, তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের আরও কিছু কর্মকর্তারা দায় এড়ানোর জন্য লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত।

    এত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি পাবলিক ইনকোয়ারি কমিশন গঠন হলেও তার প্রতিবেদন আজো প্রকাশ পায়নি। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    শহীদ শ্রীয়ামের মা আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন, মনে করেন, হয়তো স্কুলের ইউনিফর্ম পরা তার ছেলে ব্যাগ নিয়ে ফিরে আসবে। তরুণ সমাজ এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, তারা বলছেন, এই জুলুম আর চলতে দেওয়া হবে না।