Category: আন্তর্জাতিক

  • এফবিআই সাক্ষাৎকার নথিতে কিশোরী বলেন—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    এফবিআই সাক্ষাৎকার নথিতে কিশোরী বলেন—ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সম্প্রতি প্রকাশ করেছে একাধিক এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ, যেখানে একজন নারী দাবি করেছেন—কৈশোরে তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে এবং অভিযুক্তের মধ্যে ওই ব্যক্তির নাম ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ৩০২ নামের ফাইলে থাকা তিনটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে ওই নারী তার অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কিশোর বয়সে তিনি জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তখন থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

    সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন—ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য ট্রাম্পের শরীরের একটি ব্যক্তিগত অংশে কামড় দেন। এর পর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করলে তিনি আহত হন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।

    এফবিআই ২০১৯ সালে এ নারীর সঙ্গে মোট চারবার কথা বলেছে; আগে বিচার বিভাগ সেই সাক্ষাৎকারগুলোর মধ্যে মাত্র একটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নথিতে ওই নারীর আরও কয়েকটি দাবি দেখা গেছে—তার মধ্যে একটি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

    তবে ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগ বলেছে যে এ প্রকাশিত নথিগুলোর অনেকটিতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি থাকতে পারে এবং কিছু অংশে ‘‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে। রয়টার্সসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেন এবং অব্যাহতভাবে অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যগুলোতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই এবং নথি বিষয়ে আগের প্রশাসনও কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা নথিগুলো ১৫টি নথির অংশ ছিল, যেগুলিকে ভুলবশত ডুপ্লিকেট চিহ্নিত করা হওয়ায় আগে প্রকাশ করা হয়নি। এ নথি প্রকাশকে ঘিরে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল কি না সেই অভিযোগে রাজনৈতিক তর্ক চলছে। এ বিষয়ে প্রতিনিধি পর্যায়ের একটি কমিটি বিচার বিভাগকে কার্যਪদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে উপস্থাপনকারীদের তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ট্রাম্প আগে বলেছেন যে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধসমূহ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। বিচার বিভাগের পুরনো নথিতে দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে কয়েকবার ভ্রমণ করেছিলেন—একথা নথিতে আছে, যদিও ট্রাম্প যেসব তথ্য অস্বীকার করেছেন।

    নথিগুলোতে অনুমোদিত ভাষ্য ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে বিচার বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম নির্বিশেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগকারী ওই নারী নিজে এফবিআইকে জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে তৎপর হওয়া সম্ভবত ফলপ্রসূ হবে না।

    সূত্র: পলিটিকো, এএফপি/রয়টার্স — প্রকাশিত বিচার বিভাগীয় নথি ও সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপ

  • ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    ড্রোন-সদৃশ বস্তু প্রতিহত হওয়ার পর দুবাই বিমানবন্দর কার্যক্রম স্থগিত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ শনিবার, ৭ মার্চ, আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে ড্রোন-সদৃশ একটি বস্তু প্রতিহত করার ঘটনাকে ছোটিয়ে দেখে কর্তৃপক্ষ যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়েছে।

    প্রতিবেদকদের কাছে পৌঁছানো এক প্রত্যক্ষদর্শীর মন্তব্যে জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান। এই ঘোষণা আসে ঠিক তখনই যখন বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আকাশে সন্দেহভাজন বস্তুটির অস্তিত্ব শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়। ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এও এক পর্যায়ে কিছু বিমানের বিমানভ্রমণ বাতাসে চক্কর খাওয়াতে দেখা গেছে।

    উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবেশের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা চলছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকে আংশিকভাবে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে আজ (শনিবার) মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন ও বহির্গমন ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী ঘোষণা দেবে বলে expectation করা হচ্ছে।

  • নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    নথিতে দাবি: কিশোরী বয়সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার কয়েকটি এফবিআই সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রকাশিত নথিগুলোতে একজন নারীর বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরা হয়েছে, তিনি দাবি করেছেন—কৈশোর বয়সে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেছিলেন।

    বিচার বিভাগের প্রকাশিত তিনটি এফবিআই ‘৩০২’ ফাইলে দেওয়া সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ওই নারী জানিয়েছেন, জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল এবং তখন তিনি কেবল ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন। সাক্ষাৎকারের নোটে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন কর্মকাণ্ড চালাতে চেয়েছিলেন; আত্মরক্ষায় ওই নারী ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন, এবং পরে ট্রাম্প তাকে আঘাত করে বলে তিনি দাবি করেছেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে অভিযোক্তার ওঠা হয়নি এবং এপস্টেইনের পক্ষে ট্রাম্পের জড়িত থাকার সুগঠিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি—এও নথিতে উল্লেখ আছে। বিচার বিভাগ বহু নথি প্রকাশের সময় উল্লেখ করেছে যে অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা প্রেক্ষাপটের ঘাটতি রয়েছে এবং কিছু নথিতে ‘অসত্য বা চাঞ্চল্যকর দাবি’ থাকতে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে তারা এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যে ১৫টি নথি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে কিছু প্রথমে ভুলবশত ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় আগে প্রকাশ হয়নি। এফবিআইর নথিগুলো ইঙ্গিত করে, ২০১৯ সালের পর থেকে তদন্তকারীরা ওই নারীকে আর কোনোভাবে অনুসরণ বা যোগাযোগ করেনি।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, অভিযোগকারী ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ এবং তার একটি দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জো বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ দীর্ঘ সময় এসব তথ্য জেনেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা ট্রাম্পের নির্দোষতার প্রমাণ বলে হোয়াইট হাউসের মত।

    প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এফবিআই ওই নারীর সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎকার নেয়; এর আগে বিচার বিভাগ সূত্রে চারটির মধ্যে কেবল একটি সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছিল। নতুন নথিতে অভিযোক্তার দাবি রয়েছে যে ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইন তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং একটি বড় কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করানো হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প ‘বয়-গার্ল’ বলতে যে ধরনের মেয়েদের বোঝাতেন, তিনি সেই ধরনের ছিলেন না—সেই কথাও নোটে আছে।

    প্রকাশিত নথিতে আরও উল্লেখ আছে, এফবিআইর এক সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনে নারীটিকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না; তার উত্তর ছিল, ‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’

    এই নথি প্রকাশকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে; কিছু পর্যবেক্ষক বলেন ট্রাম্প-সংক্রান্ত নথি গোপন করা হয়েছিল। প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি বিচার বিভাগের নথি প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রকাশিত এসব তথ্যের উৎস হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আগে বলা হয়েছে, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ২০০০-এর মাঝামাঝি কেটে গিয়েছিল এবং এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কখনোই অবগত ছিলেন না। পূর্বে প্রকাশিত অন্য এক নথিতে দেখা গেছে ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের বিমান ব্যবহার করেছিলেন—যা ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।

    দায় না মেনে জানানো ভালো যে এখানে বর্ণিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই দাবি পর্যায়ে রয়েছে এবং বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি; প্রকাশিত নথিতেও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণের অভাব ও সানন্দে ভুল তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে।

  • ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    ডিজোপি প্রকাশ করেছে এফবিআই সাক্ষাৎকার সারসংক্ষেপে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) বৃহস্পতিবার এফবিআইর একাধিক সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেখানে এক নারী দাবি করেছেন যে কৈশোরে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। প্রকাশিত নথিগুলো মূলত ২০১৯ সালে এফবিআই প্রস্তুত করা ৩০২ ফাইলের সারসংক্ষেপ—যেখানে ওই নারীর সঙ্গে করা সাক্ষাৎকারের বিবরণ রাখা আছে।

    সাক্ষাৎকারগুলোর সারসংক্ষেপে ওই নারী জানিয়েছেন, তার পরিচয় হয়েছিল অভিযুক্ত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে। তখন তিনি প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। নারীর দাবি, এপস্টেইন তাকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সির একটি উচ্চ ভবনের বড় কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

    এসব নথিতে আরও বলা হয়েছে—তাঁর কথায়, ট্রাম্প তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি ট্রাম্পের ‘বিশেষ অঙ্গে’ কামড় দেন; এরপর ট্রাম্প তাঁকে আঘাত করেন, এমনটাই ওই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ আছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ১৯৮০-এর দশকে এপস্টেইনের মাধ্যমে পরিচয়ের পরে ট্রাম্প তাকে ওরাল সেক্সে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

    ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” আখ্যা দিয়ে বলেন, এগুলোর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই এবং তিনি অভিযোগকারীকে মানসিক ও অপরাধমূলক অতীতসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে সতর্কও করেছে যে, প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি’’ থাকতে পারে এবং সব তথ্য সমগ্র প্রেক্ষাপটে যাচাই করা হয়নি। রয়টার্স অনুসন্ধান করে জানিয়েছে যে তারা ওই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইর নথিতে ইঙ্গিত আছে, ২০১৯ সালের পরে তদন্তকারীরা ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।

    বিচার বিভাগ বলেছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো ১৫টি কাগজপত্রের অংশ, যেগুলো আগে ভুলবশত ‘‘ডুপ্লিকেট’’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকাশ বাদ পড়েছিল।

    এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ঘটনার পর কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে—কোভর্ক করে অভিযোগ করা হচ্ছে যে ট্রাম্প-সংক্রান্ত কিছু নথি গোপন করা হয়েছিল। অভিযোগ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তারা জানতে পারে সরকার কীভাবে এসব নথি প্রকাশের বিষয়টি পরিচালনা করছে।

    নথিতে আরও দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন—যা নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব মন্তব্য আলাদা। এছাড়া এক নথিতে বলা আছে, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ট্রাম্প পাম বিচের পুলিশের প্রধানকে ফোন করে বলে ছিলেন যে ‘‘সবাই জানত সে এসব করছিল।’’

    ২০১৯ সালের একটি শেষ সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তখন ট্রাম্পের প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট মেয়াদকাল চলছিল এবং এফবিআই এজেন্টরা ওই নারীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ট্রাম্প সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে তিনি আগ্রহী কি না। তার প্রতিক্রিয়া ছিল—‘‘আমার জীবনের এই পর্যায়ে আরও তথ্য দিয়ে লাভ কী, যখন খুব সম্ভবত এ বিষয়ে আর কিছুই করা যাবে না।’’

    এই অনলাইন প্রকাশনার তথ্যসূত্র হিসেবে পলিটিকোকে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচার বিভাগ নথি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—সকল দাবিই যাচাইসাপেক্ষ।

  • ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত: দুবাই বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ

    সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই — শনিবার (৭ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুবাই মিডিয়া অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, যাত্রী, বিমানবন্দর কর্মী ও এয়ারলাইন্স ক্রুর নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

    বিমানবন্দরের কাছাকাছি আকাশে একটি ড্রোন সাদৃশ্য বস্তু প্রতিহত করার পরই এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা একটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং এরপর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

    ফ্লাইটরাডার২৪ের মতো ট্র্যাকিং সাইটে দেখা গেছে কিছু বিমান ছায়াছবির মতোভাবে আকাশে চক্কর দিচ্ছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা বাড়ায় ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছিল; গত সোমবার দুবাইয়ের প্রধান বিমানবন্দর থেকেও আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু হয়েছিল।

    তবে আজকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম এয়ারলাইন এমিরেটস ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে সব আগমন এবং প্রস্থানের ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। বিমানযাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও কর্তৃপক্ষের আপডেট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

  • ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

    ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৫

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় কমপক্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, তেহরানে আবারো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ ও যোগাযোগের অভাবের কারণে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা কঠিন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ধারাবাহিক অভিযান যার লক্ষ্য হতে পারে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানো।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ সম্প্রচারক জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর ইসরায়েলে একটি নয় তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় একজন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হামলার ফলে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানান, ইরানের থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে আসার খবর পাওয়ার পরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি শনাক্তের পর যেখানে প্রয়োজন, সেখানে প্রতিহত ও হামলার অপারেশন চালাচ্ছে।’ তারা আরও জানিয়েছে, ‘জনসাধারণকে হোম ফ্রন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

    সূত্র: আলজাজিরা।

  • মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আবুধাবিতে একজন নিহত

    মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আবুধাবিতে একজন নিহত

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। ইরানে থাকা মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পাল্টা হিসেবে এই হন্তারক কার্যক্রম চালানো হয়। ইরানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্রের অংশ, যা দেশটির টেক্কা দিয়ে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার থেকেই তেহরান বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোসহ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে এবং জর্দানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিসামগ্রী।

    অতিরিক্তভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র গুলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে, তবে এর ফলে একজন এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি নিহত হন।

    আমিরাতের সরকার এই হামলাকে “জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় তারা সব ধরনের উপায়ে নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদার করবে। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি।

    ফারস নিউজের মতে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদৈদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও, কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি ও আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।

    আবুধাবিতে এই হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এরপর বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।

    এছাড়াও, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। দুবাই ও মানামাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার পরিচায়ক।

    বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর অবস্থিত। বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন-নির্মিত প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, পূর্ব-অনুমোদিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, হুমকি শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছিল।

    তবে আলজাজিরার খবর, একমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের পরবর্তী সময়ে দোহায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, কাতার ও বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, ইরানে হামলার পর মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকরাও সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রেসিপ্রোঅক্সিটির উপরে চাপ বাড়ানো, বিশেষ করে কাতারে অবস্থিত আল-উদৈদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে। গত বছর জুন মাসেও, মার্কিন জবাবীতে কাতার কেন্দ্রীক এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরান। এই অস্থির পরিস্থিতি এখনো জারি, অঞ্চলজুড়ে নতুন নতুন উত্তেজনা তৈরি করছে।

  • ইরানে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫১

    ইরানে মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫১

    ইরানের হোরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১-এ পৌঁছেছে। এ হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার সংখ্যা বর্তমানে ৬০ জন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এই হামলার পরিকল্পনায় সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পাজেশকিয়ান, কয়েকজন মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতেও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়। অন্যত্র কতজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বা আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে, একটি স্কুলে মাত্র এই হামলায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মিনাব শহরের সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদমেহ বলেছেন, এই হামলার জন্য দায়ী ইসরায়েল সরাসরি স্কুলটিতে আঘাত হেনেছে। হামলার সময় সেখানে প্রায় ১৭০ জনের মতো শিক্ষার্থী ছিল। এখনো উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা ভবিষ্যতেও আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরাইলের উত্তরענה: বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ালো মধ্যপ্রাচ্যে

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ইসরাইলের উত্তরענה: বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ালো মধ্যপ্রাচ্যে

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, শুধু একজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। খবর রয়েছেআল জাজিরার।

    বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রীতি ও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলাকালীন সময়ে এটি একটি সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইলের আকাশে লক্ষাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হয় এই হামলা। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হয়েছে। এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর জবাবে, কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলের উপর পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি।

    ইরানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে জানায়, তারা ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি (বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) বিবৃতি দিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের দিকে আরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। অন্যদিকে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যভেদ হয়। এই হামলায় একটি নয়তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।

    বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদ চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইন্টেরসেপটর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন আহত হলেও তার অবস্থা গুরুতর নয়। সরকারি উদ্ধারকারী দল মাজেন ডেভিড আদম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • সৌদি আরবের রাজধানীতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ

    সৌদি আরবের রাজধানীতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ

    মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতার মাঝে ইরান বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বার্তা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, এএফপি এর করসপন্ডেন্ট জানিয়ে থাকেন যে, রিয়াদে দুটি বড় বিস্ফোরণের গুরুতর শব্দ শুনেছেন তিনি। পাশাপাশি ছোট ছোট বিস্ফোরণের আওয়জও কানে এসেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে। এ ঘটনার সময় মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর খবর মিলেছে, যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করে। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো এই ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এখনও আওয়ামী ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি