Category: আন্তর্জাতিক

  • আফগান সেনাদের নির্মম আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি এবং জীবিত ধরে নেওয়ার দাবি

    আফগান সেনাদের নির্মম আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি এবং জীবিত ধরে নেওয়ার দাবি

    খাইবার পাখতুনখাওয়ায় আফগানিস্তান সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত এক তীব্র সংঘর্ষে ৪০টি পাকিস্তানি সেনা চৌকি দখল করেছে আফগান সেনারা। এর সাথে অতিরিক্ত অভিযোগ তুলেছে তারা, যে, ব্যাপক সংখ্যক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন ও কিছু সেনা জীবন হারিয়েছেন, তাদেরকে জীবিত ধরে নেওয়া হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে ঘটানো এক বিমান হামলার উত্তরে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, তীব্র এই লড়াইয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও পরিষ্কার করেছেন যে, অনেক সেনাকে হত্যা করা হয়েছে এবং কিছু সেনা জীবন বাঁচিয়ে ধরে আনা হয়েছে।

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এই হামলার পেছনে মূলত নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    তাদের দাবি, এই সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি পাকিস্তানি সেনা চৌকি দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি সেনারা পাল্টা দাবি করছে, আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে ব্যাপকসংখ্যক সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা সীমান্তের অনেক চৌকি ধ্বংস করে দিয়েছেন।

    এই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে তোলো নিউজের সূত্র ও বয়েনের রিপোর্ট।

  • ইলহান ও রাশিদাকে মার্কিন থেকে বহিষ্কার করা উচিত: ট্রাম্পের দাবি

    ইলহান ও রাশিদাকে মার্কিন থেকে বহিষ্কার করা উচিত: ট্রাম্পের দাবি

    ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজেকে একজন ক্ষ্যাপাটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত, তার এই ব্যতিক্রমী আচরণ আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। তিনি সম্প্রতি তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় বিক্ষোভের মধ্যে দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, এই দুই সংরক্ষিত নারী জননেতাকে ‘যেখান থেকে এসেছিলেন, সেখানেই ফেরত পাঠানো উচিত’। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিবাসননীতি এবং তার প্রশাসনের সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    বিশেষ করে, তারা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান রাশিদা তালাইব এবং সোমালি বংশোদ্ভើতা ইলহান ট্রাম্পের ও তার প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতির সমালোচনা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ভাষণের সময়, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং চেয়েছিলেন যেন এই দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল দেশটিকে ক্ষতি করতে পারে, দেশের জন্য কোনো উপকারী কাজ করতে পারে না।

    এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, এই দুই নারী কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, এবং তাদের যেন অবিলম্বে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি আরও গালাগালি করে দাবি করেন, তারা অসুস্থ, মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কম বুদ্ধিসম্পন্ন।

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময়, তার দুটি ভাষণে উল্লেখযোগ্য ছিল যখন তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধের অভয়ারণ্য’ শহরগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন—যেখানে অভিবাসন ও কাস্টমস এজেন্সির সঙ্গে অসহযোগিতা দেখা যায়। এ সময়, ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইব অসহযোগিতার প্রতিবাদে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আপনাদের হাত দিয়ে আমেরিকানদের হত্যা করা হচ্ছে!’ এই ঘটনাগুলো আবারও স্পষ্ট করে দেয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন ও উত্তেজনা কতটা বেড়ে গেছে।

  • পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত!

    পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা নিহত!

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, যার নাম ‘অপারেশন গজব-লিল হক’। এই অভিযানের ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা।

    বৃহস্পতিবার ভোরে এক্স (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) এ সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওসিন্টের দাবিসা অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতা ও তার সাথে থাকা কিছু উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এটি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর তালেবান ক্ষমতা গ্রহণ করে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযানে নামে। এই হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন বলে আফগান পক্ষের দাবি। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

    এদিকে, শুক্রবার ভোরে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় পাকিস্তান আবারও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আফগান তালেবানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছেন। তালেবানের মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বোমাবর্ষণ হয়েছে, যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। সেখানে তালেবান সীমান্ত রক্ষা দলের একটি ঘাঁটি রয়েছে।

    তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্তে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, এই হামলায় ৫০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন, তবে এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    অপরদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের বাহিনীর।

  • আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা ও কাবুলে হামলা

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা ও কাবুলে হামলা

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার বেশিরভাগ কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের হামলা ও পাল্টা হামলা। এরই মধ্যে কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য প্রান্তে পাকিস্তানের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনারা এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং আরও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

    বিবিসি জানাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক্সে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর ভাষায় আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা আসার পরই পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন বড় শহর ও প্রদেশে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। কংক্রিটে, এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তান সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তানি পচার বা আর্মি ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে। এ অভিযানে, কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের বেশ কিছু সেনা চৌকি ধ্বংস করা এবং আরও কয়েকটি দখল করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।

    মোশাররফ জাইদি আরও জানান, বিমান থেকে বোমা বর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুইটি হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দুইটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টির বেশি ট্যাংক ও বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।

    অপরদিকে, এক বছর আগে, অক্টোবর মাসে, দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সবসময়ই বিচ্ছিন্নভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেও পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে বেশ কিছু এলাকা ধ্বংস করে। তবে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে। তারাও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘এর বদলা তারা নেবে।’

    বুধবার কারো দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ার ডুরান্ড এলাকার পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এই হামলার কথা জানালেও পরে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    সম্প্রতি, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানা প্রদেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই আক্রমণ তালেবানপন্থি সংগঠনের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তবে তালেবান এই ধরনের আক্রমণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, বলছে তারা লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে।

    কিছু দিন আগে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তে পাকিস্তানি সেনা ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তালেবান পক্ষের দাবি, পাকিস্তানি সেনারা রাতে তাদের চৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চালু করে, যা এখন যুদ্ধযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে তালেবানকে বাহিনী হিসেবে সমর্থন দেয় পাকিস্তান। তবে পরে তারা অভিযোগ তোলে যে পাকিস্তান তালেবানের পকা আশ্রয়দাতা। দীঘদিন ধরে পাকিস্তান প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তান আরও ৬০০টির বেশি হামলার শিকার হয়েছে।

    দীর্ঘ সীমান্তের প্রায় ১৬০০ মাইল (প্রায় ২৫৭৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ এ পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে এই অশান্তি চলমান রয়েছে। দেশ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কমেনি।

  • ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলার শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলার শর্ত দিলো যুক্তরাষ্ট্র

    সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা হয়েছে। এর পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

    মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজর ছিল এই বৈঠকে কোন সমঝোতা হয়ে ওঠে কি না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল সূত্র জানিয়েছে, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য একটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। সেটি হলো, ইরানকে তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহান—ভেঙে ফেলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের কাছে থাকা সকল সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র আরও বলছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এখন শূন্যে নামিয়ে আনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর জন্য কিছু সীমিত পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে।

    অন্যদিকে, যদি ইরান এই শর্তগুলো মানতে রাজি হয়, তবে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা দেওয়া হবে—অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা মুক্তি পেতে পারে। তবে, এই শর্ত মানা গেলে ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান এই চুক্তি মানবে না, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে রণতরীসহ এক ডজনের বেশি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। এ ছাড়াও, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে উপস্থিত হচ্ছে।

    এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ও আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সূত্রে।

  • বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের সময় রেকর্ড সংখ্যক ১২৯ জন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েলি সেনা বাহিনী। এই তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), যেটি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য অশ্রুত ও দুঃখজনক এক বছর olmuş ২০২৫, যা গত বছরও একই রেকর্ড পুনরাবৃত্তি করেছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মী। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত গণমাধ্যম কেন্দ্রেও ইসরায়েলি হামলা হয়, যার ফলে ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। এটি নিউজের ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে।

    সিপিজে জানিয়েছে, যারা ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড বা লক্ষ্যবস্তু করেছেন বলে গণ্য করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮১ শতাংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েল। গাজায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

    ইসরায়েলি সেনারা এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তারা দাবি করে যে গাজায় তারা কেবল যুদ্ধকালীন বাধ্যবাধকতার জন্যই কাজ করছে এবং শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। তবে, তারা আরও জানিয়েছে যে, গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অভিযোগেও ইসরায়েল সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে।

    গাজায় নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি, কারণ সেখানে ইসরায়েলি প্রবেশাধিকার নেই। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে যে হামাসের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের যোগাযোগ ছিল, যা সাংবাদিকরা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে সিপিজে বলেছে, ইসরায়েলের এ সব কর্মকাণ্ড ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত তিন দশকের বেশি সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি সেনারা সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যা করেছে। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনা। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সুদান, যেখানে নয় জন নিহত, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেক্সিকোতে ছয়জন, ইউক্রেনে চারজন ও ফিলিপাইনে তিনজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।

    রাশিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা জানার বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকবিরোধী হামলা চালায়নি; বরং তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল আকারে আরও ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এই কাণ্ডকারখানা ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে, যা মনোযোগ আকর্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহলে।

    তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এর মতো বহরে এই বিশাল সামরিক মোতায়েন হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারির শুরুর সময় থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য প্রায় ২৭০টি বিভিন্ন ধরনের সরবরাহকারী বিমান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থার্ড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বহরে প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ভারসাম্য সহায়ক বিমান। তাদের মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬, এবং ৪২টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও রয়েছে ট্যাঙ্কার বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও ভূমিকা পালনের জন্য ব্যবহৃত ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ ওয়ার্নিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

    তবে, গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার এর অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো बी-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

    অপরদিকে, এই বড় গুটিপোড়া বিমান শক্তির ওপরে নজর থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর ফলে মার্কিন সেনার বিমান শক্তি কার্যকরভাবে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ওই দেশ ১২টি মার্কিন বিমান, পূর্ববর্তী সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার এফ-২২, সংগ্রহ করেছে। এগুলো সম্ভাব্য ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংসের জন্য।

    এদিকে, পরমাণু আলোচনা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর আগেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান তিনি চান, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারেও তিনি পিছু হটবেন না।

    তিনি বলেন, ‘আমি এই সমস্যার সমাধানে কূটনীতি নির্ভর করব, কিন্তু একটি ব্যাপার স্পষ্ট— আমি কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না। ইরান ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম।’

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এমন উচ্চমানের মিসাইল বিকাশ করছে, যা দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশি ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

    অবশেষে, ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নির্লিপ্ত হয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলাদা করে রেখেছে। ফলে, আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকই হয়ত নতুন করে পরিস্থিতি সুচারু করবে।

  • ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    আবারো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি আমি না থাকতাম, তবে এই সংঘাতের কারণে দেশের ৩৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারাতো। এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে মৃত্যুবরণ করতেন। ট্রাম্প এই মন্তব্য মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে জানান। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ১০ মাসের মধ্যে আমি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনাও ছিল, কিন্তু আমার হস্তক্ষেপে সেটি এড়ানো সম্ভব হয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, তিনি যদি থাকতেন না, তাহলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারতেন। তিনি কি না এমনটাই দাবি করেন।

  • খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। সূত্র মতে, নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দিন ধরে উচ্চ গতিসম্পন্ন গোয়েন্দা অভিযানে নেমে পড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের প্ররোচনায় পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো—ফিতনা আল খারিজ এবং ফিতনা আল হিন্দুস্তান—কে নির্মূল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিতনা আল খারিজ হলো তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জন্য ব্যবহৃত একটি নাম, যা মূলত সন্ত্রাসের আড়ালে থাকা সংগঠনগুলোর প্রতীক। অন্যদিকে, ফিতনা আল হিন্দুস্তান নামে বালুচিস্তানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে পরিচিত। খবর অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক অভিযানে টিটিপির ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একই সময়ে, ঝোব জেলার সাম্বাজায় বালুচিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের আটজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তদের বিরুদ্ধে নর্থ ওয়াজিরিস্তানের পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালানো সন্ত্রাসী দলের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে একজন আফগান নাগরিক সন্ত্রাসী মারা গেছে। এ ছাড়াও, লাক্কি মারওয়াত জেলায় তিনজন, বান্নু জেলার নারমি খাল এলাকায় ১০ জন এবং নর্থ ওয়াজিরিস্তানের মির আলিতে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সাম্বাজা অভিযানে আটজন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসী নিহত এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দমনকারী ‘স্যানিটাইজেশন অভিযান’ও অব্যাহত আছে। দেশপ্রিয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের হত্যা এবং অস্ত্র উদ্ধার তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও এই অভিযানগুলোর প্রশংসা করে বলেন, প্রতিদিনই সন্ত্রাসবিরোধী সফলতা নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি দেশের সন্ত্রাসমুক্ত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক নতুন দিক প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সরকার। তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর পক্ষে বিশ্বজুড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ১,৭৫০ এর বেশি সেনা লড়াই করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা, যারা গতকাল বুধবার কিয়েভে ঘানা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

    সাইবিহা বলেছেন, “আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১,৭৮০ এর বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।” তিনি আরও জানান, আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশের যুবকদের কাছ থেকে এই সেনাদের আনা হচ্ছে। তারা চাকরির প্রলোভনে বা অন্যান্য প্রতারণার মাধ্যমে প্রথমে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে, পরে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্যদিকে, এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে লড়াইরত আফ্রিকান সেনাদের বেশিরভাগেরই কোনো অতীত সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এই আফ্রিকান সেনাদের আগেই কোনো নিরাপত্তা বা সেনা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের বাধ্য হয়েই সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।”

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো এই প্রলোভন ও প্রতারণা বন্ধে কাজ করবে বলে সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। ঘানা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলো এই পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান ওকুদজেতো।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরে রাশিয়া সেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার অজুহাতে আগ্রাসন চালায়। ইউক্রেনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে এবং এখনও চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় এই অভিযান চলমান থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।