Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক, নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হলো ফিলিস্তিনিদের

    গাজায় নিহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক, নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হলো ফিলিস্তিনিদের

    ২৩ মাস ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার মানুষ আবার রক্তাক্ত হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ এখন কাতারে থাকলেও, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনী উপত্যকায় আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে সাতজন নিহত হয়েছেন উপত্যকার দক্ষিণে ত্রাণ সংগ্রহের সময়।

    ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে ফিলিস্তিনিরা দক্ষিণের এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে যেতে বলা হয়। তা না মানলে জীবনহানির সতর্কতা দেওয়া হয় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গাজার বন্দরে ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। গাজার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-মুখাবারাত এলাকাতেও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বেশ কিছু বাস ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ এলাকাতেও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে অনেক বাড়িঘর ধ্বংসের মুখে পড়ে এবং দুজন নিহত হন।

    অন্যদিকে, গাজার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে ইসরায়েলি সেনারা তীব্র হামলা চালাচ্ছে। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় গাজায় পাঁচটি বহুতল ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। ওই ভবনগুলোতে ছিল দুই শতাধিক ফ্ল্যাট। এ ছাড়া, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য গড়ে তোলা ৩৫০টিরও বেশি তাঁবু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

    এদিকে, গত সোমবার গাজা শহরের জামাল আবেদ স্ট্রিট থেকে ফিলিস্তিনিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই এলাকায় হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। একারণে, দ্রুত সময়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ‘নিরাপদ’ তালিকায় থাকা অস্থায়ী এলাকা আল-মাওয়াসিতে যেতে বলা হয়েছে।

    অভিযান শুরুর পর থেকে আল-মাওয়াসিকে নিরাপদ এলাকা হিসেবে প্রচার করা হলেও, সেখানে বেশ কিছু ভয়ঙ্কর অ্যাটাক চালিয়েছে আইডিএফ। যুদ্ধের শুরুতে এই এলাকায় বাস করত ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ, তবে বর্তমানে এই এলাকাটি মাত্র ১৬ বর্গ কিলোমিটার হলেও বাস করছেন এর দেড় লাখের বেশি মানুষ, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় তৃতীয়াংশ।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৬৪,০০০, যেখানে শিশুর সংখ্যা ২০,০০০ এর বেশি। মানুষ এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে, নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় চাইছে, কারণ এই সংঘর্ষের ছিন্নভিন্ন পরিস্থিতিতে গাজা আজ জেগে উঠছে এক বিভীষিকা হয়ে।

  • ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু

    ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু

    ফ্রান্সের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছেন সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, ফ্রান্সের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু তার সরকারে অনাস্থা ভোটে হার মানেন এবং তার পদত্যাগের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জায়গা খালি হয়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৯ বছর বয়স্ক লেকোর্নু খুব দ্রুতই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বের জন্য শীর্ষ পছন্দের একজন হয়ে ওঠেন। তিনি গত তিন বছর ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং এই সময়ে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় ফ্রান্সের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ দায়িত্বপ্রাপ্ত লেকোর্নুর কাছে কাজের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী বাজেট পাস করা। বিশেষ করে, সাবেক সরকারের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট পাসে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাইরুর সরকারের পতনের মূল কারণ ছিল বাজেটের জন্য সংসদে আস্থা ভোটে_FAIL}াৱা়।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নু দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছেন, তাঁর লক্ষ্য হলো ফ্রান্সের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের সেবা এবং দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

    তাঁর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশটির অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। বর্তমানে ফ্রান্সের সরকারী ঋণ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউরো, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরুর বিশ্লেষনে, অর্থনীতি সচল রাখতে ৪৪ বিলিয়ন ইউরো বাজেট কাটা প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সংসদে সেই প্রস্তাব পাস হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থার মুখে পড়ে।

    বিভিন্ন রাজনৈতিক মিত্ররা এখন লেকোর্নুর নিয়োগে স্বস্তি ব্যক্ত করেছেন। মোদেম দলের মন্ত্রী মার্ক ফেনো বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধার আনতে সকলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি। অন্যদিকে, বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো মন্তব্য করেছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কিছু হচ্ছে না, আর মনে করছেন, এ সময় প্রেসিডেন্ট মাখোঁর অধিকার শেষ হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মাখোঁ হয়তো মধ্যবামের রাজনৈতিক দিক থেকে কিছু করণীয় করছেন। এমনকি, সমাজতান্ত্রিক নেতা অলিভিয়ে ফোর সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত নিরবে থেকেছেন। অন্যদিকে, চরম ডানপন্থী নেতা মারি ল পেন অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট এখন তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে ‘বাঙকার থেকে’ মাখোঁর বিরুদ্ধে শেষ রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

    গত বছর ইউরোপীয় নির্বাচনে ফলাফল অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হওয়ার পর, মাখোঁ আনুমানিকভাবে জাতীয় নির্বাচন ডেকে দেন। সেই নির্বাচন ঝুলন্ত সংসদ তৈরির ফলে দেশে বিশেষ ধরণের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এখন, প্রাধান্যপ্ৰাপ্ত তিনটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হলো – বামপন্থী, চরম ডানপন্থী ও কেন্দ্র।

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল অবধি মাখোঁর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এদুয়ার ফিলিপ। তিনি মনে করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নুর অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। ফিলিপ মন্তব্য করে বলেন, আমি লেকোর্নুকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি; তিনি বিতর্কে পারদর্শী এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে এই দক্ষতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, বাজেট বিষয়ে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতা না হলে দেশে আবারো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যা নতুন নির্বাচনের দরকার পড়তে পারে।

    অতীতের মতোই, এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বৃহৎ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা। সম্প্রতি, দেশে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ ট্রিলিয়ন ইউরোতে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১৪ শতাংশ। বাইরু বাজেট কাটছাঁটের প্রস্তাব দিলেও, সেটি সংসদে পাশ হয়নি। ফলে, তার সরকার অনাস্থা পায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়।

    অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। মহামারি আন্দোলন ‘ব্লোকোঁ তু’ নামে দাবিটা করছে, যেখানে এর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

  • হোয়াইট হাউসের দাবি: কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল ইসরায়েলির হামলার বিষয়ে

    হোয়াইট হাউসের দাবি: কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল ইসরায়েলির হামলার বিষয়ে

    ইসরায়েলে চালানো হামলার ব্যাপারে কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। তিনি মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার আগে তাদের জানিয়েছিলেন যে, তারা শিগগিরই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যক্রম চালাবে। এ খবরটি তখনই যুক্তরাষ্ট্র জানতে পারে। নেতানিয়াহু সঙ্গে কথা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্টাফের মাধ্যমে দোহাকে এই হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

    তথ্য আরও জানানো হয়, কেবল হোয়াইট হাউস নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাতারস্থ ঘাঁটিও দোহাকে সতর্কতা পাঠিয়েছিল। হামলার পর, ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটবে না।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র হলো কাতার। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি রয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়ে এই দেশ গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করছে। বর্তমানে, এই সংঘর্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

    সম্প্রতি, ট্রাম্প গাজা পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছেন এবং সেই বিষয়ে আলোচনা চলার সময়, কাতারিয়ার এক ভবনে হামাসের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। ঠিক সময়ে, ইসরায়েলের বিমান হামলা চালায় ওই ভবনটিকে লক্ষ্য করে। ইসরায়েলির প্রতিরক্ষা বাহিনী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলাটি হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল হায়া ও পশ্চিম তীর শাখার নেতা জাহের জাবারিনকে হত্যার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছিল। তবে সেই লক্ষ্য সফল হয়নি; গত ঘটনার মধ্যে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে পাঁচজন হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কোনো উচ্চপদস্থ নেতা ছিল না।

    সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘হামাসকে নিশ্চিহ্ন করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য জরুরি লক্ষ্য, তবে দোহায় ইসরায়েলের এই হামলা সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।’ সূত্র: এএফপি।

  • নেপালে সেনাবাহিনীর কারফিউ জারি

    নেপালে সেনাবাহিনীর কারফিউ জারি

    নেপালে বর্তমান পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা রকমের উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে। প্রধানমন্ত্রীর কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পরও দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসেনি। এখন দেশের শাসনক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেছে, তারা রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে যাতে অশান্তি রোধ হয়। অবিলম্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বুধবার সকালে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও স্থানীয় বেশ কিছু এলাকায় ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকে জেলার সংশোধনাগারে হামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, দেশটির সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না নতুন সরকার গঠন হচ্ছে, তারা দেশটির শাসন ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশজুড়ে, যা সোমবার এবং মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কাঠমান্ডু থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে, হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান, এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের আগুনে পুড়ে যায় নেপাল পার্লামেন্ট ভবন, ওলি ও তার মন্ত্রিসভার বাসভবন। এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নেন দুষ্কৃতকারীরা। অনেক জেলে হামলা চালিয়ে বিবদমান বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করেন। নিরাপত্তারক্ষী এবং পালানোর চেষ্টাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি চালানো হয়। বন্দিদের গুলিতে সাতজন আহত হন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাঁকে জেলার পোখরার জেলেও হামলা চালানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ বন্দি বিভিন্ন জেল থেকে পালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নানা জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভের দাবিপত্র জানা। বুধবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদলের আবারও বৈঠক হতে পারে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতা করবেন সেনাবাহিনী, যা থেকে একসময় সমাধানের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের প্রধান সচিবালয় ভবনের নিয়ন্ত্রণও সেনা গ্রহণ করেছে। লুটপাট বা ভাঙচুরের খবর পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। দেশের নাগরিকের সহযোগিতা চেয়েছে সেনাবাহিনী। অশোকরাজ সেনাপ্রধান সকলের উদ্দেশে বলেছেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকুন এবং আলোচনায় বসুন যাতে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারা নিশ্চিত করেছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। তবে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে—সেই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনে রুশ হামলা

    ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনে রুশ হামলা

    রোববার সকালের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে দেখা গেছে, রাশিয়া ব্যাপকভাবে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষ্যে। এই হামলার বিশেষ দিক হলো, প্রথমবারের মতো রুশ সেনারা ইউক্রেনের মন্ত্রিসভার ভবনটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিডেনকো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এFirstTime ইউক্রেনের সরকারি ভবনে এমন হামলা ঘটলো। হামলায় ভবনটির ছাদ ও উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চালাচ্ছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, ড্রোন হামলায় ভবনটিতে আগুন ধরে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, গত দিনটি ছিল রাশিয়ার দিক থেকে ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহারে সর্বোচ্চ, যেখানে আটশর বেশি ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিসাইল ও ৫৬টি ড্রোন বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যা এক দিনে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আলাদা করে জানানো হয়, এই হামলায় আটটি আলাদা জায়গায় ড্রোন ও মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। বিবিসির সাংবাদিক সারাহ রেইনসফোর্ড বলেছেন, সকালে তিনি দেখেছেন ইউক্রেনের স্বাধীনতা চত্ত্বর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে, এবং কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার দুটি ক্রুস মিসাইল দ্রুতগতিতে উড়ে আসতে দেখে তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত ইউক্রেনের মহানগরাঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী হামলা খুবই বিরল, কারণ সেখানে সুরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে রোববার সকালে রাশিয়া এত ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে যে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তার পুরো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এই হামলায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলেও হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করলেন

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগ করলেন

    জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা আজ পদত্যাগ করেছেন। এ ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন মূলত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বিপর্যয়ের পর। নির্বাচন শেষে জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, যা দলের মধ্যে ব্যাপক চাপ তৈরি করে। অনেক নেতাই তখনই ইশিবাকে পদত্যাগের জন্য প্রাথমিক দাবি জানায়, যদিও তিনি প্রথমে সেটিকে মানতে চাননি। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্ক চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ও পার্লামেন্টে জোটের পতনের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকায় অবশেষে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূলত তাঁর নেতৃত্বে জাপানের বিভিন্ন নির্বাচনে দল বারবার হেরেছে। এর ফলে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই তাঁর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভেঙে পড়ে এবং নিম্নকক্ষের ভোটে দল ও জোট সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। ভোটারদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে অধিক উদ্বেগের ফলে জনমত ক্ষোভে রূপ নেয়, যা তাঁর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক দল ও ডানপন্থী নেতাদের পক্ষ থেকে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়তে থাকে। শনিবার রাতে, ইশিবার সঙ্গে তার দলীয় নেতারা বৈঠক করে তাকে পদত্যাগে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। যদিও, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে ইশিবার ঘোষণা আসার কথা রয়েছে চলমান পরিস্থিতিতে। আগামী দিনগুলোয় নতুন নেতা হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে রক্ষণশীল নেতা সানায়ে তাকাইচি, যিনি গত বছর দলের শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন, এবং বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাপানের রাজনীতিতে সক্রিয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইশিবার পদত্যাগ অনিবার্য ছিল। তাদের মধ্যে কোইজুমি বড় ধরনের পরিবর্তন আনবেন না বলেই প্রত্যাশা হলেও, তাকাইচির দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জাপানি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা জুলাইয়ের চুক্তির অংশ। তবে, টোকিওর শুল্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টরসের ওপর শুল্ক সংক্রান্ত কয়েকটি আদেশ এখনো জারি করেনি। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তির কার্যকারিতা এবং তার প্রভাব এখনো ঝুঁকি বহন করছে।

  • মোগল সিনাই পর্বতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি আর উন্নয়ন ঝুঁকিতে

    মোগল সিনাই পর্বতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি আর উন্নয়ন ঝুঁকিতে

    পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থান সিনাই পর্বত, যা বিশ্বের অন্যতম ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত, বর্তমানে বহুমাত্রিক পরিবর্তনের মুখোমুখি। এই পাহাড়ের ওপর অবস্থান করে রয়েছে সেই প্রাচীন স্থান যেখানে নাবী মুসা (আঃ) আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই বিশেষ স্থানটি হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত থাকলেও এখন মিসর সরকার এর উন্নয়ন কাজের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সিনাই পর্বতটি শুধুমাত্র ইসলাম בלבד নয়, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্যও অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই মহান নবী মুসা (আঃ) ঐশ্বরিক বাণী পেতেন। স্থানীয়রা এই পর্বতটিকে ‘জাবালে মুসা’ বা মুসার পর্বত নামে ডেকে থাকেন। বাংলায় অনেকের কাছে এটি তুর পাহাড় নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত নাম সিনাই পর্বত, আর আরবিতে এন্টি বলা হয় ‘তুরে সিনাই’। এই অঞ্চলের ধর্মীয় গুরুত্ব অন্যরকম, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা বছরভর ইখতিয়ারে এই স্থানে গিয়ে তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে থাকেন। এখন মিসর সরকার এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এই প্রকল্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলে জেবেলিয়া নামে এক বেদুইন সম্প্রদায়ের বাসবাস রয়েছে, যাদের বহু বছর ধরে এ জায়গায় বসবাস। তবে সম্প্রতি এই বসতি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি তাদের অনেকের মরদেহও সমাধিস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ লেখক বেন হফলার জানিয়েছেন, এই প্রকল্পকে দেশের উন্নয়ন ও টেকসই বিকাশের একটি অংশ হিসেবে দেখানো হলেও, স্থানীয়দের স্বার্থ উপেক্ষা করে বহিরাগতদের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিনাইয়ে প্রায় ৪ হাজার জেবেলিয়া বেদুইনের বাস রয়েছে, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার হয়েছে গ্রিস, যেখানে সেন্ট ক্যাথরিন মঠের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। চলতি বছর মে মাসে এক মিসরের আদালত ঘোষণা দেয়, এই প্রাচীন খ্রিস্টান মঠটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এর ফলে গ্রিসের সঙ্গে মিসরের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। গ্রিসের আধিপত্যবাদী ধর্মীয় নেতা আর্চবিশপ দ্বিতীয় ইয়েরোনিমোস এই রায়কে অপ্রীতিকর বলে সমালোচনা করেন। দীর্ঘদিনের আর্চবিশপ দামিয়ানোস এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ আঘাত বলে মনে করেন, যা দলীয় বিভাজন তৈরি করে। অন্যদিকে, জেরুজালেমের গ্রিক প্যাট্রিয়ার্ক বলেছেন, এই স্থান তাঁদের ধর্মীয় অধিকার ও ঐতিহ্যের মধ্যে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, বাইজেন্টাইন যুগ থেকে এ স্থান মুসলমানদের জন্যও নিরাপদ আশ্রয়। এলাকাটি এখনো আদালতের রায় বহাল থাকলেও, কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। গ্রিস ও মিশর যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে, এই স্থানটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১ সালে শুরু হয় ‘গ্রেট ট্রান্সফিগারেশন’ প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে নতুন হোটেল, ইকো-লজ, পর্যটন কেন্দ্র, ছোট বিমানবন্দর এবং ক্যাবল কার। তবে, এই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবী করে পরিবেশবাদীরা। ইউনেসকো পর্যটন অনুরূপ এ অঞ্চলের সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আহবান জানায়। ২০২৩ সালে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা পর্যালোচনার জন্য নির্দেশ দেয়। গত বছর, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচ সতর্ক করে দেয় যে, সিনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, ব্রিটেনের রাজা চার্লসের পক্ষ থেকেও আবেদন জানানো হয় এই প্রাচীন স্থাপনার সংরক্ষণে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অজুহাতে বহু ঐতিহাসিক স্থানসহ সিনাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক জমিই ngày দিন ճিে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা আবারো পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্রমশ, দেশের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে তিন কোটি পর্যটক আকৃষ্টের। স্থানীয় বেদুইনরা দীর্ঘদিনই মৌখিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বলছেন, তাঁদের মতামত ও অধিকার উপেক্ষা করা হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল সংগ্রাম ও অন্তর্দ্বন্দ্ব শেষে সেনা দখলদারিত্বের পরেও পরিস্থিতি আরও জটিল। জনসংখ্যা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এক রহস্যময় সত্য। সেন্ট ক্যাথেরিন মঠ হাজার বছরেরও বেশী সময় ধরে টিকে আছে, যেখানে অনেকে দেখতে আসেন নবী মুসা (আঃ) এর ঐতিহাসিক আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনের স্মারক, বা প্রাচীন কোডেক্সগুলো। এই সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য এ যেনো এক অনন্য নিদর্শন, যা আতিথেয়তা ও সংরক্ষণ জরুরি।

  • গাজা শহরে আরও এক বহুতল ভবন ধ্বংস, নিহতের সংখ্যা ৬৫ ছাড়ালো

    গাজা শহরে আরও এক বহুতল ভবন ধ্বংস, নিহতের সংখ্যা ৬৫ ছাড়ালো

    ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই হামলার ফলে এই অঞ্চলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৬৫ জনে, তাদের মধ্যে আশ্রয়হীন বহু পরিবার এখন মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।

    ফিলিস্তিনী সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে হাজারো পরিবার তাদের বসবাসের স্থান হারিয়েছেন। গাজা শহরের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েলের এই আক্রমণ। বিশেষ করে, তারা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে এই অঞ্চলের দখলকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

    দখলদার বাহিনী আরও জানিয়েছে, আল-রুয়া টাওয়ারসহ আরও বেশ কয়েকটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। রোববারে, এই ভবনগুলোর ওপর আঘাত হানে ইসরায়েলি সেনারা। এর ফলে, গাজার সবচেয়ে বড় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে।

    অপরদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলে রোববার আরও অন্তত ৬৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আশ্রয়শিবিরে থাকাকালীন নিহত হয়েছেন। বলাও হয়, ইসরায়েলি সেনারা ভবনটিতে হামলা চালানোর আগে বাসিন্দাদের সরতে বলেছিল। ফলে, আশ্রয় নেওয়া বহু পরিবার আহত অথবা পালিয়ে গেছেন।

    ফিলিস্তিনি বিভিন্ন এনজিও ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে এখন এক মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে। আমজাদ শাওয়া নামের একজন ফিলিস্তিনি এনজিও নেতা বলেন, “অবস্থা ভয়ঙ্কর, চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার আশ্রয় হারিয়েছেন। ইসরায়েল এখন মানুষকে দক্ষিণে সরিয়ে নিতে চাইছে, কিন্তু সেখানে নিশ্চয়তামূলক নিরাপদ স্থান এখনও পাওয়া যায়নি।”

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে, তাদের সেনারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও উচ্চ ভবন’ ধ্বংস করছেন। তবে, আল-রুয়া টাওয়ার ছিল একটি পাঁচতলা ভবন, যেখানে ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান, একটি ক্লিনিক ও জিম ছিল। এর আগেও আল-জাজিরা ক্লাব এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    গত শনিবার সউসি টাওয়ার এবং গত শুক্রবার মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংসের ফলে আশ্রয়হীন পরিবার কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক পরিবার জানায়, “আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিছু আনতে পারিনি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।”

    আগস্ট মাসে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার ফলে ইতোমধ্যেই কমপক্ষে এক লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে তারা বলছেন, ইসরায়েল যেখানে বলুক না কেন, গাজায় কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। গাজা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের ‘মানবিক নিরাপদ অঞ্চল’ সংক্রান্ত দাবি মিথ্যা। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

    আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ সংবাদ দেন, “প্রতি পাঁচ থেকে দশ মিনিটে গাজা সিটির চারপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চলছে। ইসরায়েল দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও বোমা রোবট ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ধ্বংসের ভয়ে বহু মানুষ এখন আশ্রয়ে রয়েছেন। শনিবার আল-ফারাবি স্কুল কেন্দ্র করে হামলার সময় কমপক্ষে আটজন নিহত হন, তাদের মধ্যে শিশু ও অসংখ্য নারী রয়েছেন।”

  • শ্রম সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের চোখ শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে

    শ্রম সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ডের চোখ শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশে

    শ্রম সংকটের কারণে বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে থাইল্যান্ডে। এর অংশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রথমে ১০ হাজার শ্রমিক আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন থেকেও শ্রমিক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। থাইল্যান্ডের কৃষি, নির্মাণ ও মৎস্যশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকরা এই খাতের মূল শক্তি। দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিত কম্বোডিয়ার শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৬০৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুমান করছে, আরও প্রায় ৫ লাখ নিবন্ধনবিহীন কম্বোডিয়ার শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজ করছে। কিন্তু ২৪ জুলাই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষের পর অনেক শ্রমিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রায় কয়েক লাখ শ্রমিক শ্রমবাজার ত্যাগ করেছেন। ফলে শিল্পখাতে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী পংকাভিন জুয়াংরুয়াংকিত বলেছেন, শ্রীলঙ্কা এখনই ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাতে প্রস্তুত। এর মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি শ্রীলঙ্কান শ্রমিক থাইল্যান্ডে কাজের জন্য নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি ক্যাবিনেট বৈঠকের সারে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার শ্রমবাজারে কাজ করছেন। ভালো মজুরি ও কর্মপরিবেশের কারণে তারা বেশ জনপ্রিয়, তবে এখনও থাইল্যান্ড বাংলাদেশীদের জন্য খুব বেশি গন্তব্য হয়নি। তবে বর্তমান সংকট নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ৮.১ শতাংশ। এর অর্থ, স্থানীয় শ্রমিকের অভাব বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। থাইল্যান্ড চেম্বার অব কমার্সের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আনুসর্ন তামাজাই বলেছেন, ‘থাইল্যান্ডের শ্রমনির্ভর শিল্প বিদেশি শ্রমিক বWithout more context or information about the specific news article, it’s challenging to add further elaboration. If you’d like, I can help expand or clarify specific parts or provide a more detailed version based on additional details.

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হচ্ছে না

    গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হচ্ছে না

    ইসরায়েলের অবিরাম হামলা, অবরোধ এবং চলমান দুর্ভিক্ষের কারণে প্রতিদিন গাজা উপত্যকায় মানুষের প্রাণহানি continue হচ্ছে। প্রতিদিনই ইসরায়েলের নিয়মিত বিমান হামলায় ও গোলাবর্ষণে অগণিত পরিবারের স্বজনেরা মৃত্যুর কোলে ঢলছে। কথিত ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে অক্টোবর মাস থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ জীবন হারিয়েছেন। এমনকি মানবিক সহায়তা করতে গিয়ে অনেক ফিলিস্তিনি জীবন হারাচ্ছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে। শনিবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৬৪,৩৬৮ জন।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে আরও ৬৮ জনের মরদেহ। সেই সময়ে আহত হয়েছেন মোট ৩৬২ জন। এভাবে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৭ জনে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বা রাস্তায় পড়ে আছেন, তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও উদ্ধারকর্মীরা ব্যর্থ হচ্ছে।

    এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সহায়তা নেওয়ার জন্য গাজা গিয়েছিলো আরও ২৩টি ফিলিস্তিনি গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে, একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন। চলতি বছরের মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত সহায়তা নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০৩৮৫ জনের বেশি, এবং আহতের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ১৭,৫৭৭।

    অতিরিক্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মারা গেছেন আরও ৬ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে একজন শিশু। এভাবে, অক্টোবর ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষুধা বা অপুষ্টিতে কষ্ট পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮২ জন, যাদের মধ্যে ১৩৫ জন শিশু।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২ মার্চ থেকে গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এর ফলে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন মানুষ বসবাসকারী এই সংখ্যালঘু অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা জরিপে দেখা গেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে খাদ্য সংকট দৃশ্যমান, আরও আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই দুর্ভিক্ষ দ্রুত নেমে আসবে দক্ষিণের এলাকাগুলোতেও।

    এছাড়া, ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল নতুন করে গাজায় হামলা শুরু করে। এ হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৮২৮ জন নিহত ও ৫০ হাজার ৩২৬ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যত ভেঙে গেছে।

    গাজার দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুক্রবার প্রবেশ করেছে ৭০০তম দিন। দীর্ঘ এই যুদ্ধের ফলে পুরো ভূখণ্ড ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং মানুষের মধ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের অবস্থা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্ব আদালতও এই পরিস্থিতির দিকে নজর দিয়েছে। গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মামলা অব্যাহত রয়েছে।