Category: আন্তর্জাতিক

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে তার বিরোধপূর্ণ একটি ফোনকলের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথা বলতেন। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরই তার সরকারে অবনতি ঘটে এবং আদালত তার পদ স্থগিত করে। আজ, শুক্রবার ২৯ আগস্ট, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তাকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।

    পেতোংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। এক বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা হারালেন, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি একজন প্রভাবশালী নারী নেতা এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।

    ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, পেতোংতার্ন তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন। সেই সময় তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দেশের সেনাদের জন্যই কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হয়েছে। এই ফোনকল প্রকাশ পেতেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছে।

    ১৫ জুনের ওই ফোনকলের মধ্যে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দরবারে এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার সময় দুই দেশের সীমান্তে কঠোর উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদও বাড়তে শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, বিরোধী দল অভিযোগ তোলে যে, পেতোংতারা গোপনে তাদের স্বার্থে কাজ করছেন। তখন তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং বলেন, এই ধরনের কথোপকথন তিনি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বলেছেন।

    রায় ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পেতোংতার্ন বলেছিলেন, তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, কোনও ব্যক্তিগত লাভ নয়। তিনি আরও বলেন, আমি দেশের নাগরিক ও সেনাদের রক্ষা করতে চেয়েছি। এই রায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যেখানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তবে, গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি এখনও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সালের পর, এটি পঞ্চমবার যখন থাইল্যান্ডের মূল ক্ষমতাধর নেতাদের মধ্যে কেউ না কেউ আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছে।

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর এক অভিযানে অভিযোগ উঠেছে যে ভারতীয় জাহাজে করে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ কতিপয় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছ থেকে এসেছে, যারা জানিয়েছেন, তাদেরকে দিল্লিতে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে উঠিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে উপযুক্ত পরিচয় ছাড়াই তাদেরকে ফেলে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে, মিয়ানমার যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আছে, তার মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত একেবারে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কার্যক্রম তাদের জীবনকে অনেক বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মে দিনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যখন নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সবল আলাপ করেন। উজাড় হওয়া এই ফোনালাপে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্তে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণভয়ে এলোপাথারি পালিয়ে এসেছেন, কারণ বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, যেখানে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত সংগ্রাম চলছে।

    আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও পুরো পরিবারের কী অবস্থায় আছেন, এই কষ্টের কথা আমি ভাবতেই পারছি না।”

    বিবিসি তাদের অনুসন্ধান এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, এবং মিয়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পেয়েছে। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বেহু আর্মির কাছে,যদিও তারা মূলত জান্তার সেনাদের বিরোধী গোষ্ঠী।

    ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, “আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত, চারপাশের পরিস্থিতি যেন যুদ্ধক্ষেত্র।“ তার সঙ্গে আরও ছয়জন রোহিঙ্গা ছিলেন আশ্রয়ের ওই কাঠের আশ্রয়ে।

    শরণার্থীদের ভাষ্য ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তাদেরকে বিমানযোগে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় এবং অবশেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল, তারা পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে, তারা আবার মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে বরাবরই নিপীড়ন এড়াতে তারা পালিয়ে এসেছে।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা তার ভাইকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা, চোখ মুছে জাহাজে তোলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়’।

    আতঙ্ক shared করে নুরুল আমিন বলেন, ‘মানুষকে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? এখনও মানবতা বেঁচে আছে বলে আমি মনে করি, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে মানবতা খুঁজে পাই না’।

    জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনকারীর মতে, টমাস অ্যান্ড্রুজ এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনকে এই বিষয়ে প্রমাণও জমা দিয়েছেন, যদিও এখনও কোনও উত্তর পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তারা সরকারিভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবেই বিবেচিত। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানের পর, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে তাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ মর্যাদাক্রমে।

    বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানা ডেকে নেওয়া হয়। তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য বলা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরে, তাদের শহরের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আ Min বলেন, সে সময় তার ভাই ফোন করে জানায়, তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি সহায়তা ও জাতিসংঘের সংস্থাকে খবর দিতে বলে। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দান বিমানবন্দরে পৌঁছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কায়দা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী” লেখা।

    সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠতেই আমাদের হাত প্লাস্টিকের খাপ দিয়ে বাঁধা হয়, মুখও কালো কাপড় দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের একটি জাহাজে তোলা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিল। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির, তবে এ সময় তাদের অনেককে মারধর, অপমান এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়। সাঁতরাতে সক্ষম হওয়া বেশিরভাগই এখন আবার মিয়ানমারে ফিরতে চাইছে।

    অপর এক রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ তার আঘাতের দাগ দেখিয়ে বলেন, তাকে মারধর, ঘুষি, চড় ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে এসো কি করে?”

    এমনকি, কয়েকজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা এই অভিযানে ছিলেন, যারা জিজ্ঞেস করা হয় কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং হিন্দু হিসেবে না। এমনকি, তাদের খতনা হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা হয়।

    বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগামে ঘটানো হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও এ ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হ্যান্ড লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মিয়ানমারে ছিল।

    পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খোঁজ পান এবং ফোন ব্যবহার করে তাদের পরিবারের খবর জানিয়ে দেন। এরপর থেকে বহটি আর্মি এই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে চলেছে, কিন্তু তাদের পরিবারের আতঙ্ক দূর হয়েছে না।

    জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকি’তুলি ফেলেছে।

    গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার একজন স্বজন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করে, যেখানে অনুরোধ করা হয় তাদের ফিরিয়ে আনা, নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তবে, ভারতের বিচারপতি এই অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেন। মামলার শুনানি হয় ২৯ সেপ্টেম্বর, তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা কি শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।

    ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গোপন হয়েছে, অনেকে বাড়িতে থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার শুধু ভয় কাজ করে, যে কোনো সময় আমাদেরকেও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে। তাই এখন আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না।”

    অবশেষে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে ভয়াবহ সহিংসতা থেকে পালিয়ে, জীবন বাঁচানোর জন্য। তারা সত্যিই এই দেশে থাকতে এসেছিল।”

  • শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্কের কারণে আমেরিকা বহু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেন তাদের দ্বারা হত্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ওয়াশিংটনকে কোনও নতুন শুল্ক আরোপ না করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

    মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক আরোপের কারণে আমাদের বিপর্যয় ঘটে। চীন আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করে থাকলেও ভারত আমাদের ক্ষতি করছে বেশি। তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের ওপর শুল্ক দিয়ে আমাদের হত্যা করছে এবং ব্রাজিলও একই পথ অনুসরণ করছে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করল, সেই সময় থেকেই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করে।

    তিনি ভারতের অন্যতম শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের কাছে তারা জানিয়েছে, এখন থেকে আর কোনও শুল্ক থাকবে না। তিনি বললেন, শুল্কের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য, যদি আমরা শুল্ক আরোপ না করতাম, তাহলে তারা এ ধরনের প্রস্তাব দিত না। এর ফলে, শুল্ক থাকা জরুরি, কারণ এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

    তবে এটি প্রথমবার নয় যখন ট্রাম্প এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে, সোমবার তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন ছিল একপাক্ষিক। এই সম্পর্ককে তিনি একপাক্ষিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এটি অনেক দেরিতে এসেছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈध বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে বলেছেন, আদালত ভুলভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা বললেও, তারা জানে যে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা জিতবে।

    ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক ৫০ শতাংশ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শুল্ক আরোপকে নয়াদিল্লি ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেছে।

  • গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকার বৃহৎ শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রথমবিন্দু অভিযানের শুরু করেছে। এ ছাড়া, এখন থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। এখন থেকেই আমরা গাজা সিটিতে হামলার প্রথম পর্যায় শুরু করেছি। গাজার উপকণ্ঠে যুক্তিসঙ্গত শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল জানায়, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো সামরিক বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে গাজা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ঝুঁকি বাড়ছে।’

    গত মাসে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল। এটি জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার অনুরোধে ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য করা হয়েছিল। তবে, আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংকও অবস্থান করছে।

    ইসরায়েলির এই অজস্র হামলায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,২৫১ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪৪ জন। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে আহতদের সংখ্যা।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৫৯,৪৯০ এ পৌঁছেছে। সম্প্রতি, অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরেই এই কারণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২২ জনে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।

    পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ২৩ জন হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত, সাহায্য নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২,০০২,০৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৬,০২২৮। অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ।

    বিশেষ করে, ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রে প্রাণহানি বা হামলার ঘটনা ঘটছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    ইসরায়েলের গাজা অভিযান ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকা এখন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, কারণ দখলদার ইসরায়েল গাজা সিটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শহরটিতে এর আগে কোনও বিরতি ছাড়াই গৃহীত সামরিক কার্যক্রম এখন তীব্রতর হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, তারা সেখানে ব্যাপক প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতেও ত্রাণ সহায়তার জন্য কোনও বিরতি দেওয়া হবে না। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, গাজায় ঘরে ঘরে যুদ্ধের ধাক্কা চলমান, আর জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক্সে তার এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক অভিযান এবং হামলার প্রথম পর্যায়। আমরা শক্তির সঙ্গে উপকণ্ঠে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছিল যে, কৌশলগত বিরতিটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, “আজ শনিবার সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে শহরটি পুরোপুরি একটি ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্র।” প্রথমে ২৪ ঘণ্টার জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে ইসরায়েল গাজায় হামলা বন্ধ রেখেছিল, তবে সেটি পরবর্তীতে বাতিল করে দেয়া হয়।

    অন্তর্বর্তী সময়ে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আহ্বানে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সাময়িক বিরতি চালু থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত শহরে এখন ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালসহ সর্বত্র যুদ্ধের থাবা। আগস্টের শুরুর দিক থেকে শুরু করে ইসরায়েল গাজায় বরাবরই বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, আর শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংক অবস্থান নিয়েছে। এসব হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনি সাধারণ জীবনযাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে।।

    প্রতিরোধের জন্য শহরটিতে প্রতিদিনই দ্রুত নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, তারা টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশি সংখ্যক মানুষ, যার সংখ্যাটা এখন ২২৪ জন।

    অথচ, এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও নিরীহ মানুষজনের জীবন বাঁচানোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অনেকের চোখে আজও শান্তির দেখা মেলেনি। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জন।

    আরও আরও মৃত্যুর খবর আসছে, বিশেষ করে অনাহার ও অপুষ্টির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত কারণে নিহতের মোট সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। পাশাপাশি চলমান যুদ্ধের ফলে মানবিক সহায়তা নেয়ার জন্য গাজায় গিয়ে জীবন দিয়ে যেতে হয়েছে ২৩ জন ফিলিস্তিনিকে। আপাতত, ২৭ মে থেকে এই পর্যন্ত যাদের সাহায্য পেতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ২০৩ জন এবং আহত হয়েছেন মোট ১৬ হাজার ২২৮ জন। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রচুর মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) চলতি বছরের ২৭ মে থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে, এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এই কেন্দ্রগুলোর কাছে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে গাজায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। সূত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার পেছনে মূল কারণ ছিল বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা, যা মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জের ধরে সৃষ্টি হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায় দুই দলের কর্মীরা নিজেদের দলীয় পতাকার ডাণ্ডা দিয়ে একে অপরকে মারধর করছেন। এই সংঘর্ষে বেশ কিছু নেতৃত্ব ও সাধারণ কর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কোনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন দরভাঙায় এক ব্যক্তি ভোটার অধিকারের ‘যাত্রা’ চলাকালীন কংগ্রেসের পতাকা গায়ে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় তরজা করে। এই ঘটনা সরাসরি ভিডিওতে ধরা পড়ে, যা পরবর্তীতে ভাইরাল হয়। এর জেরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে ও কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এক্স-এ দারভাঙা পুলিশ লিখেছে, ‘সিমরি থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

    বিহারেও এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। পাটনা শহরে শুক্রবার বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। সেই সময় কংগ্রেস সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং মারপিট শুরু হয়। পুলিশ বিশাল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সমঝোতা করার চেষ্টা করে, তবে শহরের অবস্থা এখনও উত্তপ্ত।

    অপর দিকে, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের অফিসের সামনে শুক্রবার এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সেখানে বিজেপির কিছু সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তারা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে মুখোশে থাকা কয়েকজন ভবনের বাইরে ভাঙচুর করে। তাদের হাতে নাচে থাকা রাহুল গান্ধীর ছবি ও ব্যানার দেখতে পাওয়া গেছে। এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। অভিযোগ দায়ের হয়েছে এন্টালি থানায়।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা দেউলিয়া, তাদের এই ধরনের কাজ করার সাহস হয় না। একমাত্র বিজেপির নেতা-নেত্রীরা নিজেদের চুরি ও দুর্নীতির রঙ ঢাকতে এইসব অপকর্ম করে। তারা আমাদের দলের ওপর রাগ প্রকাশ করছে, যখন পুরো দেশ জুড়ে তারা নানা দুর্নীতির অভিযোগে ধরা পড়ছে। এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় সরকারের মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমরা এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’

    অপর দিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দেন, ‘মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে বিজেপিকে দেবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।’

    স্বরաստ্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর ভাষায় নিন্দা প্রকাশ করে লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি অতি নিচে নেমে এসেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান ১১ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাকে অপমানের এই ভাষা মানা যায় না। এটি লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের প্রতি কলঙ্ক।’

    বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের উচিত ক্ষমা চাওয়া।’

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এ ঘটনাকে অবজ্ঞা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অশ্লীল মন্তব্য অবশ্যই নিন্দনীয়। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তার এই পদচ্যুতির পেছনে মূল কারণ হলো একটি ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশ, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফোনে তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং কম্বোডিয়ার সেনার প্রাণহানির জন্য তাদের প্রতি গালি দেন। এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, যে সময় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষ বন্ধ হয়। পরে এই ফোনকলের বিষ্ময়কর রেকর্ড ভাইরাল হলে গোটা দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, পেতোংতার্ন গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের আপোস করছেন বলে। তিনি তখন ক্ষমা চেয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য। এই সব ঘটনা শেষে, ১৫ জুনের ওই ফোনকলের ভিত্তিতে তিনি অংশবিশেষ বলেন, “যে কোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন, আমি দেখব।” এরপর নির্মম সত্যটি সামনে আসে, দেশটির আদালত ১ জুলাই তার প্রধানমন্ত্রীপদ স্থগিত করে। যদিও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন। এভাবে ২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্নের এই অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে দেশের নেতৃত্বে ধীর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ জরুরি।

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এসব দাবি করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা বলছেন, তাদের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এখন আবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছে এ সমস্ত রোহিঙ্গারা, যারা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আশ্রয় খুঁজতে পালিয়ে এসেছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই নীতির কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) তারা একাধিক সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই ঘটনা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করেছে।

    এপ্রেমে, ৯ মে তার সাথে শেষ বার কথা বলেন নুরুল আমিন, তাঁর ভাই খাইরুলের সাথে। ফোনালাপটা সংক্ষিপ্ত হলেও তা ছিল ভয়ংকর। জানাতে পারেন, ভারতের সরকারের দ্বারা তাদের খুমছে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের পরিবার ও স্বজনরা কী দুর্দশার মধ্যে আছেন, তা কল্পনাও করতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য এর থেকে বড় দুঃখ আর কিছু হতে পারে না। জান্তার কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী লড়াই করছে, ফলে এই পরিস্থিতিতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা অনেকটাই দূর্বল।

    দিল্লিতে বসবাসকারী ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমাদের বাবা-মা ও স্বজনরা কীভাবে কষ্টে আছেন, সেটা আমি ভাবতে পারছি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে মিয়ানমারে। অধিকাংশই আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধরাই ও অন্যান্য প্রতিরোধ সংঘঠনের কাছে, যারা জান্তার বাহিনী বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

    ভিডিও কলে সাক্ষাৎকারে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ।” তিনি আরও জানান, অন্য ছয়জনের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। শরণার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের আনা হয় এক বিমানে, যেখানে তাদের দ্বারা লাইফ জ্যাকেট পরানো হয়। এরপর নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা বলছে, ঐ যুদ্ধজাহাজে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলো, খেতে পাওয়া যেতো ভাত, ডাল আর পনির। তবে সেই সময় অনেককে মারধর ও অপমান করা হয়।

    সৈয়দ নূর জানান, “আমার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় আর কেঁদে চিৎকার করতে হয়েছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন অবৈধভাবে ভারতে এসেছি?” এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান ছিলেন, যাঁরা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কেন তারা ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের পেহেলগামের হামলার জন্য জড়িত বলে অপপ্রচার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব রোহিঙ্গারা মূলত শহর থেকে পালিয়ে আসছে।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন— তারা আসলে মিয়ানমারে ছিল। এর পর, ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং এখান থেকে স্বজনদের খবর দেন। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের জন্য খাদ্য ও আশ্রয় সরবরাহ করে। তবে ভারতে থাকা পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেছে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, ভারতে এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সৌজন্যে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে রোহিঙ্গাদের। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের মিশনে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও জমা দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন স্পষ্ট উত্তর পায়নি।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে আনুমানিক ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর রেজিস্ট্রেড থাকলেও, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা সেখানে ৪০ হাজারের কাছাকাছি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের ফলে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখের বেশি।

    বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় থাকা ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানায় ডেকে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের দাবি করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর, তাদের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যানডাম নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে লেখাও ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’।

    সৈয়দ নূর বলছেন, “বাসে উঠার পরই আমাদের হাত প্লাস্টিকের হাতকড়া দিয়ে বাঁধা হয়, আর মুখ মেকাপের কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, আমাদের এক যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলাম, খেতে পেতাম ভাত, ডাল ও পনির। তবে চালাকচুরি, মারধর ও অপমানের সাক্ষীও হতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে। অনেককে মারধর করা হয়েছে, চড় মারা হয়েছে।”

    ফয়াজুল্লাহ বলে, তিনি হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখাতে সক্ষম। তিনি জানিয়েছেন, তার উপর বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়, চা খাইয়ে দেয়া হয়, আর জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে কেন এসো?” এর মধ্যে ১৫ জন মত খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তর করেছেন। এমনকি, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মীরের হামলার সঙ্গে জড়িত বলে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে এসবের কোনো সম্পর্ক স্বীকার করেননি বা প্রমাণ দেখাননি রোহিঙ্গারা।

    পরবর্তীতে ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদের ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামানো হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও, তারা জানে না, আসলে তারা মিয়ানমারে ছিলেন। পরের দিন, স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়। তারা তাদের ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়, এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর, বৌদ্ধরাই তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ভারতে থাকা পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

    জনস্বার্থে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ ও নিপীড়নে বেড়িয়ে, প্রাণ বাঁচাতে।

  • ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ভারত আমাদের হত্যা করছে!

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ভারত আমাদের হত্যা করছে!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্ক নীতি আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যেন তারা আমাদের হত্যা করছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের জটিলতা কত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য করেছেন যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক বিষয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। খবর এএনডিটিভির।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্কট জেনিংস রেডিও শোতে বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তারা আমাদের বিপদে ফেলেছে। চীন যতই শুল্ক আরোপ করুক, ভারতের কাছ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক নেওয়ার কারণে তারা আমাদেরকে “हত্যা” করছে—অর্থাৎ আমাদেরকে হত্যা করছে। ব্রাজিলের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

    ট্রাম্প দাবী করেছেন, শুল্কের বিষয়টি তিনি একেবারে ভালো মতো বুঝতে পারেন। তিনি বলেন, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে শুল্ক আরও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন ভারতই দ্রুত শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে।

    গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতের শুল্ক সবচেয়ে বেশি—৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক। ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপকে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

    তার ভাষ্য, ভারতের এত বেশি শুল্ক আরোপের কারণ হলো, আমরা যদি শুল্ক না করতাম, তখন তারা আমাদের এখনকার মতো প্রস্তাব দিত না। তাই শুল্ক অপরিহার্য, যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী থাকি। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের কঠোর অবস্থানে থাকাটাই একমাত্র সমাধান।

    এর আগে, ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এখনো একপাক্ষিক। তিনি এটাকে ‘একপাক্ষিক বিপর্যয়’ ও বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের হিসেবে, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিলেও, এই প্রস্তাব দেরিতে এসেছে এবং এটা ইতিবাচক নয়।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ককে незакон বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই রায়ผิดজ্ঞানে দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা জানে, চূড়ান্তভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে থাকবো।

    উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক দিয়ে থাকে, যেখানে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা তেলের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’।

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন সাংবিধানিক আদালত। তার বিরুদ্ধে সন্দেহের দোসর ছিলো একটি ফোনলকের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথোপকথনে ছিলেন। সেই ফোনকলে তার কম্বোডিয়ার সাবেক নেতার কাছে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন ও সেনাবাহিনী নিয়ে মন্তব্যের কারণে তদন্ত শুরু হয়। এই ফোনকলের রেকর্ড প্রকাশের পরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কিছু মাসের মধ্যেই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বন্ধ হয়।

    ফোনকালে পেতোংতার্ন বলেন, ‘যা কিছু চাইলে, আমাকে বলবেন। আমি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়, কারণ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীর মন্তব্যের মাধ্যমে তার গোপন কথোপকথন প্রকাশ পায়। তখন দেশটিতে সরকারী নিপীড়ন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আবেগ বাড়িয়ে তোলে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে, তিনি গোপনে দেশের স্বার্থের ক্ষতি করেন।

    অবশেষে, তিনি দেশসেবার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, এইসব কথা দেশের জন্যই বলেছিলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। তার মতে, তিনি দেশের মঙ্গল এবং সৈন্য ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি তখনও সংস্কৃতিমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। এই ঘটনা দেশের রাজনীতি বদলে দিচ্ছে, তবে এটি নতুন নয়—২০০৮ সাল থেকে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের নির্দেশে ক্ষমতা হারিয়েছেন।