Category: আন্তর্জাতিক

  • তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    তিন দশকের লুটের বিচার চান নেপালের তরুণরা, নতুন সংবিধান চান তারা

    নেপালে সহিংস বিক্ষোভের কারণে সরকারের পতনের পর তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ বিশ্লেষণ করছে দেশের ভবিষ্যৎ ও মুক্তির পথ। জেনারেশন জি নামে পরিচিত এই তরুণেরা সরাসরি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাহী নেতৃত্বের পরিবর্তন, এবং গত তিন দশক ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লুটের তদন্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকারকে সরিয়ে দিয়ে তরুণ আন্দোলনকারীরা ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা শাসনব্যবস্থার সূচনালগ্নে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানান, সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত তিন দশকের অবৈধ সম্পদ লুটের তদন্ত ও অবাধ অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি এই আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হবে। তারা আরও বলেছেন, বেকারত্ব দূর করা, অভিবাসনের হার কমানো, এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে বিশেষ কার্যক্রম চালানো হবে।

    বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা দলের নয়, বরং পুরো দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রজন্মের জন্য। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন জরুরি, তবে সঠিক পরিবর্তনের জন্য নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ছাড়া কোনও উপায় নেই।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী এই প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে ও দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

    তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া, কারণ এটি জনগণের আস্থা হারিয়েছেন; জনগণের, বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন; নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন; এবং সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। জোর দেওয়া হয়েছে, গত তিন দশক ধরে লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত এবং অবৈধ আর্থিক সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করতে হবে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক সংস্কার দাবি করেছেন তারা।

    এদিকে বুধবার ভোর থেকে সেনাবাহিনী কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে মোতায়েন হয়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে নানান নির্দেশনা জারি করে। এর আগের দিন সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে তা জ্বলিয়ে দেয়। সেনাবাহিনী রাতারাতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে ও বিভিন্ন শহরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছু গোষ্ঠী বর্তমান পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তি বিনাশ করছে।

    পূর্বে গত সোমবার ‘জেনারেশন জি’র নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় অন্তত ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব নিতে গিয়েও আন্দোলনকারীরা সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন। এর ফলেই প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করেন এবং বিক্ষোভ শান্ত করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

  • নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    নেপালে বিক্ষোভের কারণে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি ক্ষতি

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুইদিনের ব্যাপক গণবিক্ষোভে নেপালজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, এই বিক্ষোভে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন রুপির বেশি মূল্যের সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন ভবন ধবংসের পাশাপাশি ঐতিহাসিক দলিলপত্র ও নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম খবরহাব।

    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সিংহ দরবার, পার্লামেন্ট ভবন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র বলছে, ‘এই স্থাপনাগুলোর বেশিরভাগই সংস্কারের অযোগ্য। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো মেরামত করা সম্ভব হলেও এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন রুপি খরচ হবে। এই হিসেব মাত্র ভবনগুলোর জন্য নির্ধারিত, অন্য আনুষঙ্গিক খরচগুলোও এতে যোগ হয়েছে।’

    নেপালে বিক্ষোভকারীরা শুধু রাজধানী কাঠমান্ডুতে নয়, বিভিন্ন প্রদেশেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। তারা বিধানসভা ভবন, মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, কারাগার, পুলিশ স্টেশন, জমির ও রাজস্ব অফিস এবং বিভিন্ন পৌর ওয়ার্ডের সরকারি ভবন পুড়িয়ে দিয়েছেন।

    নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে। তবে পোখারা, ইতাহারি, জনকপুর, ধানগড়ি ও বিরাটনগরসহ অন্যান্য বড় শহরেও সরকারি অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

    তাছাড়া, মঙ্গলবারের গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠানই নয়, ব্যক্তিগত সম্পদকেও লক্ষ্যবস্তু করে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা, পর্যটন প্রতিষ্ঠান, গাড়ির শোরুম, গণমাধ্যমের অফিসেও আগুন দিয়েছেন।

    গণবিক্ষোভের সময় পুলিশ গুলি চালানোর পর সোমবার ১৯ জন নিহত হয়। এরপর থেকে আন্দোলন আরও সহিংস হয়ে উঠেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন দিতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৪ জন, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

    সরকারি অবকাঠামোতে ভাঙচুরের কারণে সরকারি কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ভবন পুড়ে যাওয়ায় এখন অন্যত্র কাজ চালাতে হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন রুপি বলে জানিয়েছেন সরকার, তবে এটি আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে নিশ্চিত করে নেপালের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। বরাবরের মতো, এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও দুর্বল করছে।

  • ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    ইসরায়েল ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ছয় দেশে হামলা চালিয়েছে

    গত ৭২ ঘণ্টায় ইসরায়েল বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ছয়টি দেশে হামলা চালিয়েছে। সবার আগে, মঙ্গলবার দোহার বিমান হামলায় দেশটি এক নজির গড়ে। এই হামলার লক্ষ্য ছিল দোহায় শান্তিপূর্ণ বৈঠকরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে, যেখানে গাজার অবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিচুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হায়ার ও তার ডিরেক্টর, তিন দেহরক্ষী এবং কাতারীয় নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। তবে শীর্ষ নেতাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের বর্তমান উগ্রবাদী সরকারের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা সীমান্তের বাইরে আরও বিস্তৃত এলাকা লক্ষ্য করে। এই ৭২ ঘণ্টায় কাতারকে ছাড়াও আরো পাঁচটি দেশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছে, কোন এক বছরে এটি সপ্তম দেশ।

    গাজায় চলমান যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ৫৪০ জনের ও বেশি আহত হয়েছেন। সোমবারের হামলায় ৬৭ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে মারা যান বা আহত হন। মঙ্গলবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে ৮৩ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। গাজার বিভিন্ন ভবন ধ্বংস ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। চলমান এই হামলায় এখন পর্যন্ত আট মাসের মধ্যে প্রায় ৬৪,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে অনেকেই উপোস থাকার কারণে মারা গেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকছে।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, লেবাননে সোমবার হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা একটায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের পূর্বাঞ্চলে বেকা ও হারমেল জেলায় হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রাগার ও সামরিক স্থাপনাগুলোর উপর আঘাত করেছে। যদিও এই বিষয়ক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং হিজবুল্লাহ এর কোন মন্তব্য করেনি। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে, তবে তারা প্রতিদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তের পাঁচটি পোস্ট দখল করে রেখেছে। মঙ্গলবার বিপরীতভাবে, বৈরুতের দক্ষিণে বারজা গ্রামে ইসরায়েল ড্রোন হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সদস্য আহত হন।

    সিরিয়ায়ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার গভীর রাতে হোমসের বিমান ঘাঁটি ও লাতাকিয়ার কাছে একটি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানা যায়। হামলার পর তাড়াহুড়ো করে জরুরি উদ্ধারকর্ম ও অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। হতাহত না হলেও, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলা দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। জানাতে গেলে, ইসরায়েল দীর্ঘ সময় ধরে সিরিয়ায় বহু হামলা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে দখল করা গোলান মালভূমি থেকে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, শুধুমাত্র এ বছর ইসরায়েল সিরিয়ায় প্রায় ১০০ বার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বিমান হামলা ৮৬ বার ও স্থল হামলা ১১ বার। এসব হামলায় অন্তত ১৩৫টি স্থাপনাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং ৬১ জন নিহত হয়েছেন।

    একই সময়ে, তিউনিসিয়ার উপকূলে গাজা ত্রাণবহর লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সোমবার রাতে তিউনিসিয়ার সিদি বোউ সাইদে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ প্রধান জাহাজ ফ্যামিলি বোটে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা হয়, যার ফলে জাহাজে আগুন লাগে। তবে আশার কথা, এই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যাত্রীরা সবাই নিরাপদে থাকেন। এই বহরের বেশ কয়েকটি জাহাজের মধ্যে এটি অন্যতম বলে জানা যায়। এর আগে ২০১০ সাল থেকেই এই ধরনের তস্য বহর বিভিন্ন সময় গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এগুলো আটক বা আক্রমণ করে।

    অবশেষে, প্রথমবারের মতো ইসরায়েল কাতারে আঘাত হেনেছে। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে সংঘটিত এই হামলায় দোহায় ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। ইসরায়েল পরে দাবি করে, তারা ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে বিদেশি দূতাবাস, স্কুল ও বিভিন্ন আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে হামাসের নেতারা কাতারে অবস্থান করছেন, যেখানে বিএইর সেন্টকম নামে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা হামলার স্থান থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে।

    একই সময়ে, বুধবার ইসরায়েল ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইসরায়েল দাবি করছে। এতে সানার বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে মে মাসে এই বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল। ২৮ আগস্টের হামলায় হুতি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন। এসব হামলা ও সংকটের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় অস্থিরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র চার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থি রাজনীতির একজন স্বনামধন্য নেতা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চার্লি কার্ককে এক যুবক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। এটি ঘটেছে বুধবার উটা ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে, যখন তিনি একটি ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ওই যুবক তার দিকে গুলিবর্ষণ করে, ঘটনাস্থলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ছোট তাঁবুর নিচে বসে আছেন চার্লি। হঠাৎই গুলির বিকট শব্দ হয় এবং তিনি চেয়ার থেকে ছিটকে পড়েন। ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের এক বড় অংশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গুলিবর্ষণের সময় চার্লির গলায় গুলি লেগেছে। বিবিসির রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    অথচ এখনো দুষ্কৃতকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পরে উটার সিনেটর মাইক লি টুইট করে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। সবাই অনুরোধ, চার্লি কার্ক এবং সেখানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের জন্য দয়া করে প্রার্থনা করুন।” এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    চার্লির মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, “কিংবদন্তি চার্লি কার্ক আর নেই। তিনি একজন বিশিষ্ট তরুণ নেতা ছিলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুবকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁর অবদান ও অনুভূতি কোনদিন ভুলবার নয়।” তিনি আরো লিখেছেন, “আমার বউ মেলানিয়া এবং আমি তার স্ত্রী এরিকা ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। চার্লি, তোমাকে আমরা ভালোবাসি।”

    চার্লি কার্ক একজন ডানপন্থী নেতাকর্মী এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় এক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত। একজন স্পষ্ট ভাষার বক্তা হিসেবে তিনি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন। মূলত, মার্কিন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতেন তিনি। তার ‘Prove Me Wrong’ শোটি আমেরিকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেখানে যে কেউ তার সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে পারেন। তার বিভিন্ন বিতর্কের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

  • তিন দশকের লুটের বিচার চাই তরুণদের নতুন সংবিধানে

    তিন দশকের লুটের বিচার চাই তরুণদের নতুন সংবিধানে

    নেপালে সহিংস বিক্ষোভের ফলে সরকারের পতনের পর তরুণ প্রজন্মের নতুন করে আশা ও প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। জেনারেশন জি নামে ডাকসুর এই তরুণরা দেশ מדר সংকটের সমাধানে নানা গুরুত্বপূর্ণ দাবিও তুলেছেন। তারা দাবি করছেন, নতুন সংবিধান রচনা, সরাসরি নির্বাহী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, এবং গত তিন দশকের এলোমেলো লুটপাটের ব্যাপক তদন্ত চালানো।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পতনের পর এই তরুণরা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের দাবিতে শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, এবং গত তিন দশকে রাজনীতিবিদদের অবৈধ সম্পদ লুটের ব্যাপক তদন্ত ও দমন-পীড়নের পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত।

    বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যারা এই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরকে জাতীয় শহীদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের পরিবারকে সম্মান ও সহযোগিতা দিতে হবে। পাশাপাশি ভোঙের বেকারত্ব দূর করা, অভিবাসন কমানো এবং সামাজিক বৈষম্য নিরসনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    বক্তারা বলেন, এই আন্দোলন কোন ব্যক্তির বা দলের জন্য নয়। এটি দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের জন্য। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রয়োজন, তবে তা কেবল নতুন রাজনৈতিক কাঠামোতে সম্ভব হবে বলে মনে করেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী তাঁদের প্রস্তাবগুলোর আশানুরূপ বাস্তবায়ন করবেন।

    তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    • বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া, কারণ এটি সাধারণ জনগণের আস্থা হারিয়েছে। জনগণ, বিশেষজ্ঞ এবং তরুণদের অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা সম্পূর্ণরূপে নতুন সংবিধান লেখা।
    • অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও সুষ্ঠু, স্বাধীন, সরাসরি জনস্বার্থে নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
    • পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, গত তিন দশকের লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত ও অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ— এই পাঁচ খাতে কাঠামোগত সংস্কার গ্রহণ।

    বুধবার ভোর থেকে সেনাবাহিনী কাঠমাণ্ডুসহ অন্যান্য শহরে মোতায়েন হয়ে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অস্থিরতা দমন এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগের দিন ব্যাপক সহিংসতায় প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরেও অস্থিরতা কমেনি; পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সেনাবাহিনী রাতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং কাঠমান্ডু, ললিতপুর, ভক্তপুরসহ বেশ কিছু স্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, কিছু গোষ্ঠী দুর্বৃত্তপনা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে।

    প্রায় এক সপ্তাহ আগে, গত সোমবার জেনারেশন জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতদের জন্য দায় স্বীকার করে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানায়। সেই ঘটনা ওলির পদত্যাগের পথ সহজ করে দেয়।

  • নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পর সহিংস বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর পতন, ভারত সতর্ক

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পর সহিংস বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর পতন, ভারত সতর্ক

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনা দিল্লিকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে, কারণ এই অস্থিরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের মতো পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।

    সংবাদটি বলছে, গত কিছু বছরে নেপালে সরকারের পতন ঘটিয়ে দিয়ে হিংসাত্মক আন্দোলনের সংখ্যা তিনে পৌঁছেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং পার্লামেন্ট ভবনে আক্রমণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে কারফিউ জারি হয়েছে এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার মতো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় ভারতের লক্ষ্য ছিল সংকট মোকাবিলায় সচেতন থাকা। তবে এই পরিস্থিতি নেপালে ভারতের জন্য নতুন সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে (পূর্বের টুইটার) এক বার্তায় বলেছেন, ‘নেপালের এই সহিংসতা হৃদয়বিদারক। এত তরুণ প্রাণহানি আমাদের খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। আমরা আশা করি, নেপালের স্থিতিশীলতা ও শান্তি দ্রুত ফিরবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নেপালের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ গত মঙ্গলবার তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছেন এই পরিস্থিতি নিয়ে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অনেক অপ্রস্তুতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। সেই পরিস্থিতি আবার নেপালে ফিরে আসতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এতদিনের সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলবে। বিশেষ করে ওলির দিল্লি সফরের এক সপ্তাহের মধ্যেই তার পদত্যাগ এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

    নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকেও ভারতের গভীর গুরুত্ব রয়েছে। দেশের উত্তর, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিশাল আকারের সীমান্ত রয়েছে এই দেশে। ভারত এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, কারণ চিনের পশ্চিমাঞ্চলে চীনও নেপালে নিজের প্রভাব বিস্তার করছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-গাঙ্গেয় উপকূলে প্রবেশের পথের প্রধান প্রান্ত হচ্ছে এই প্রতিবেশী দেশটি।

    নেপালের এই অস্থিতিশীলতা ভারতের অভ্যন্তরেও প্রভাব ফেলছে। ভারতীয় মহাসংখ্যক নেপালি কর্মী ও পরিবার সেখানে বাস করছে- যার সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ লাখের মতো। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গভীর এবং অবাধ যাতায়াত রয়েছে। ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়া নেপালি নাগরিকরা ভারতে আসতে পারে, ও এখানেই কাজ করে থাকেন। এছাড়া, নেপালের প্রায় ৩২ হাজার গুর্খা সেনা বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

    নেপাল ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্যও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর হাজারো হিন্দু ভক্ত হুমকিনাথসহ বিভিন্ন নেপালি মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যান। দেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত কাঠমান্ডু তেল ও খাদ্যপণ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    অস্থিরতা কিছুটা শান্ত হলে দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন ভারতের জন্য অত্যন্ত সতর্ক নীতিমালা গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল— ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন–ইউএমএল, শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস, এবং পুষ্পকমল দাহালের নেতৃত্বাধীন সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র)—বিরোধীতায় একত্রিত হয়ে উঠতে পারে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের উচিত এখন নতুন নেপালি নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া। শিক্ষাবৃত্তি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর এই অস্থিরতা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে এবং মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল।

    ভারতীয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা বলেন, ‘ভারত বড় শক্তির স্বপ্ন দেখে, কিন্তু আগে আমাদের নিজ স্বার্থে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এই প্রভাবশালী অঞ্চল ও ভবিষ্যৎ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।’

  • ফ্রান্সে আন্দোলন চরমে: সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আটক ২ শতাধিক

    ফ্রান্সে আন্দোলন চরমে: সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আটক ২ শতাধিক

    ফ্রান্সে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের আগুন জ্বলেছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এই আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২শ’র বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্যারিস ছাড়াও অন্যান্য বড় শহর যেমন লিওন, ন্যান্টেস, গ্রেনোবল, লিল, কেন ও তুলুসের মতো শহরগুলোতে তীব্র আন্দোলনের ঝড় বইছে, যেখানে শহরগুলোতে অচলায়তন সৃষ্টি এবং যানবাহনের চলাচল বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের জন্য মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্য সংখ্যা কম হয়নি; অন্তত ৮০ হাজার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। এই আন্দোলন এদিন ‘ব্লোকঁ তু’ বা ‘সবকিছুকেই বন্ধ করে দাও’ কর্মসূচির আওতায় শুরু হয়, যা মূলত তরুণদের দ্বারা পালন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে চায়, যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লো মঁদ জানায়, আন্দোলনকারী যারা শুরুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আটক হতে শুরু করে, তারা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ, রাস্তা জ্বালিয়ে দেওয়াসহ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কঠোর নীতিমালা এবং বাজেট কাটছাঁটে ক্ষুব্ধ জনতা। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে এখন এই বিক্ষোভের গতি বাড়ছে, যারা দাবি করছে, সরকারের বাজেট পরিকল্পনা ও ব্যয় সংকোচনের নীতির বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। গত সোমবার সংসদে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বায়রু। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে, আবার বরাবরের মতোই দেশের অর্থনীতি ও বাজেট ঘাটতি বিষয়টিও এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বুধবার এক ঘণ্টার মধ্যে ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলের রেনে শহরে এক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ-পশ্চিমের রেললাইনে ক্ষতি হয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রনো রেতাইয়ো প্রকাশ করেন, এই আন্দোলন এক পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টার অংশ, যেখানে অনলাইনে সংগঠিত হয়ে কিছু বামপন্থি রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বৈষম্যের বিরোধিতা করছে। এই আন্দোলনের সূচনায় ছিল একটি ছোট অনলাইন গ্রুপ ‘লেস এসেনটিয়েলস’, যারা জানিয়েছিল, ১০ সেপ্টেম্বর সবকিছু ব্লক করে দেয়া হবে। সরকারবিরোধী এই প্রচেষ্টাকে উচ্চোক্ত করেছে বামপন্থি সংগঠন ফ্রান্স আনবোউড। মূলত বাজেটের ব্যয় সংকোচন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতায় এই আন্দোলন তীব্রতা পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী বায়রু। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবাস্টিয়ান লোকনুর নাম ঘোষণা করেন ম্যাক্রোঁ। অনেক বিক্ষোভকারী মনে করছেন, ম্যাক্রোঁর উচিত ছিল সংসদ ভেঙে দেওয়া বা বামপন্থি একটি নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করা। তবে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনকেই এই দায়িত্ব দিয়েছে, যা তারা হতাশাজনক বলছে। এই পরিস্থিতি এখন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে, দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অসন্তোষের আগুন আরও প্রবল হয়ে উঠছে।

  • ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৩৫

    ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৩৫

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩১ জন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এর এক দিন আগে কাতারের রাজধানী দোহার ভূখণ্ডে হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়।

    ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, সানার আল-তাহরির এলাকার একটি আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারী কমপাউন্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করেছে, এই হামলায় সানার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মেডিকেল সেন্টার এবং আল-হাজমে স্থানীয় সরকারি কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

    হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের জন্য তারা আকাশ থেকে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহারের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তিনি আরো জানান, ইসরায়েলি বিমান কিছু সময়ের জন্য হামলার জন্য এগোলে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বাধ্য করে ফিরে যেতে।

    তিনি দাবি করেন, একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহারে তারা জায়নবাদী আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সানা ও আল-জাওফে হুথি গোষ্ঠীর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই লক্ষ্যবস্তু ছিল হুথিদের সামরিক শিবির, যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল ও জ্বালানি ভাণ্ডার।

    প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, এই হামলা রামন বিমানবন্দরে হুথির ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ישראלের ওপর আক্রমণ চালাবে, আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং যথাযথ জবাব দেব।

  • নেপালে সেনা টহল ও আন্দোলনের ‘হাইজ্যাক’ দাবি জেন-জির

    নেপালে সেনা টহল ও আন্দোলনের ‘হাইজ্যাক’ দাবি জেন-জির

    নেপালে বিক্ষোভ ও সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি বর্তমানে বেশই অস্থির। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এরই মধ্যে, দুই দিন ধরে চলা আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ হয়েছে বলে দাবি করেছে জেনারেশন-জেড (জেন-জি) বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    খবরে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হয়েছে নেপাল। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের মতো ঘটনার কারণে জেন-জির আন্দোলনে সরকারের পতন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় এই আন্দোলন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রধানমন্ত্রী কীপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

    জেন-জিরা যা চেয়েছিল, তা সফল হয়েছে, তবে এর মধ্যেই বিতর্কের সূোর হাটে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা কোনও সহিংসতা করেনি, বরং দুষ্কৃতকারীরা বা সুযোগসন্ধানীরা এই আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীও সমর্থন দিয়েছে এসব দুষ্কৃতকারীদের। আন্দোলনকারীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে এবং তারা নাগরিক নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষাে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠে কাজ করছে। এদিকে, বুধবার আর কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানানো হয়েছে।

    বুধবার কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত কিন্তু বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন এখনো আগুনে জ্বলছে। দেশটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জেন-জির পক্ষ থেকে এক ছাত্রনেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নতুন দাওয়ার তালিকা তৈরি করছেন।

    জাতীয় পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। সেনাবাহিনী সজাগ রয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে, লুটপাট ও হামলার সন্দেহে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নেপালের বিভিন্ন স্থানে সেনার চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং যানবাহনের পরিচয়পত্র পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সংকেত দেওয়া হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে ঘরে থাকার জন্য।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাংশ রাজারাম বসনেত জানান, তারা মূলত ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যারা লুটপাট ও আগুন লাগানোর মতো কাজে লিপ্ত। কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর দেশটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। সমাজচিন্তকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে কে দায়িত্ব নেবেন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

    অন্যদিকে মঙ্গলবার, জেন-জি বিক্ষোভকারীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব অবশ্যই স্বাধীন, দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে হবে। নির্বাচন সরাসরি যোগ্য ও সততার ভিত্তিতে হতে হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর কোনো স্থান থাকবে না।

    সামাজিক কর্মী কার্কি বলছেন, নিরপরাধ তরুণদের প্রাণ গেছে, দেশ গভীর অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে। তাদের দাবি, এবার শান্তি চাই, দুর্নীতির অবসান দরকার, যা মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। সবাই মিলে এই পরিস্থিতি আর যেন না বাড়ে, সেজন্য সবাইকে সচেতন ও একবtrings।

  • ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পদত্যাগ

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পদত্যাগ

    ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রু পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে আস্থা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। এই খবর জানিয়েছিল বার্তা সংস্থা এএফপি, যা থেকে জানা যায়, সোমবার বায়রু নিজের আহ্বান করা ওই আস্থা ভোটে শোচনীয়ভাবে হেরে যান। এর ফলে দেশের রাজনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং মাখোঁর কাঁধে নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজে বের করার দায়িত্ব এসে পড়ে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাখোঁ আশপাশের কয়েক দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করবেন। এই ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে আগাম নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা समाप्त হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এএফপি কে বলেছেন, বায়রু তার পদত্যাগপত্র মাখোঁর কাছে জমা দিয়েছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী এর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বায়রু ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।