জনপ্রিয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবারের মধ্যে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং ২৮ জনের মরদেহ হস্তান্তর করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসে শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময় সম্মিলিতভাবে হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইসরায়েল এই বিনিময়ে ৪৮ ইসরায়েলি বন্দির বদলে ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেবে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই জিম্মি মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, আমি ইসরায়েলে যাব এবং নেসেটে এই বিষয়ে বক্তব্য দেব। পাশাপাশি মিশরেও যাবো, যেখানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেন, সোমবার জিম্মিরা ফিরবেন এবং তারা এখন বেশ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে estão। তারা কোথায় আছেন, সেটা খুব কম মানুষই জানে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। এই সময়ের মধ্যে প্রায় দুই মাস যুদ্ধবিরতিসহ এমনকি এর পরে নানা সময়ে দখলদার বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
Category: আন্তর্জাতিক
-

দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান নিয়ে যা বললেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে আফগান মাটিকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে এখন এসব গোষ্ঠীর আর কোনও অস্তিত্ব নেই বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই মন্তব্য করেন তিনি বৃহস্পতিবার ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন এনডিটিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে।
মুত্তাকি বলেন, ‘গত চার বছরে, আমরা আফগানিস্তান থেকে সব ধরনের সন্ত্রাসী সংগঠনকে নির্মূল করেছি। তাদের এখন আফগানিস্তানে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেয়নি। ২০২১ সালে যার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান চালিয়েছিলাম, সেই আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণ নতুন রূপে বদলে গেছে।’
পাকিস্তানের প্রতি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অন্য দেশগুলোকেও উচিত, আফগানিস্তানের মতো সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে উদ্যোগী হতে, যদি তারা সত্যিই শান্তি চায়।’
এই বক্তব্য মুত্তাকির প্রথম ভারত সফরের সময় এসেছে। সফরকালে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও স্থাপন হয়। এর অংশ হিসেবে ভারতীয পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানান, কাবুলে ভারতের টেকনিক্যাল মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করা হবে এবং প্রতিবেশী দেশের উন্নয়নে ভারত গভীর আগ্রহী।
কাবুলের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের প্রসঙ্গে মুত্তাকি পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘সীমান্তের কাছাকাছি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি হামলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি পাকিস্তানের কাজ, যা ভুল। সমস্যা সমাধানের জন্য এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। আফগানিস্তান এখন ৪০ বছর পর শান্তি ও উন্নয়নের পথে। কেউ যেন এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যারা আফগানিস্তানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর পরিণতিও দেখুক। এই ধরনের খেলায় আফগানিস্তানের জন্য ভাল কিছু আসবে না।’
মুত্তাকি আরও জানিয়েছেন, আফগানিস্তান ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায়, তবে তা একতরফা নয়, উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার।
অফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভারতের সহায়তাকে তিনি প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পারস্পরিক সম্মান, বাণিজ্য এবং জনগণের আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতেই আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
সর্বশেষ তিনি বলেন, ‘ভারত ও আফগানিস্তানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ আলোচনা চালানো। বাণিজ্য বাড়ছে, তাই সব বাণিজ্য রুট খোলা রাখা জরুরি। রুট বন্ধ থাকলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
-

পাকিস্তানে রাতভর সংঘর্ষে ১২ জন নিহত, সাত পুলিশসহ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি সন্ত্রাসী হামলায় সন্তান-সন্ততি, নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ জনগণসহ কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সাত পুলিশ সদস্য রয়েছেন। পালটা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী এক আত্মঘাতী হামলাকারীসহ পাঁচ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর জানিয়েছে জিও টিভি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই ভয়াবহ হামলা হয়। হামলাকারীরা ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রথমে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এরপর তারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশ করে সংঘর্ষ বাধায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে নিরাপত্তাকর্মীদের এবং হামলাকারীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলে। অবশেষে, নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের পিছু হটিয়ে সীমান্তের বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই বন্দুকযুদ্ধ দ্রুতই নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে যায়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোর্সরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে ही তারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করে।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হাফিজ মুহাম্মদ আদনান বলেন, ‘সেনা-নিরাপত্তা বাহিনী সফলভাবে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করেছেন এবং হামলায় জড়িত সবাইকে নির্মূল করেছেন।’ হামলার সময় সন্দেহভাজনরা রাত প্রায় ৮:৩০ মিনিটে হামলা চালায়, এবং অভিযানে গভীর রাত পর্যন্ত চলছিল।
জেলার ডিএইচকিউ ট্রমা সেন্টারের পরিচালক বলেন, হামলার পরে ১৩ জন আহতকর্মীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মিডিয়া সঙ্গে কথা বললে জনসংযোগ মহাপরিচালক জানান, হামলার সময় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত ২ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং সহকারী সদস্যরা নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি স্বভাববশত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এটিকে কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি নিহত সাত পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং তাদের সাহসিকতা প্রশংসা করেছেন।
-

অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সবাই নিহত
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের শেলহারবার বিমানবন্দরে একটি হালকা বিমানের দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে তিন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সময় শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিমানটি সিডনি থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিমানবন্দরে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়। পুলিশ আরও জানায়, বিমানটি ভূমিতে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আকাশ থেকে তোলা ছবি অনুযায়ী, রানওয়ের উপর পুড়ে যাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে। ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটিসি ব্যুরোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আসলে, এই দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
-

আল-আজহারের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ড. আহমদ ওমর হাশেম আর নেই
বিশ্ব ইসলামী জ্ঞানচর্চার আকাশ থেকে এক দীপ্তিমান তারকা ঝরে গিয়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসূলুদ্দিন অনুষদের বিশিষ্ট অধ্যাপক, হাদিস বিভাগের প্রসিদ্ধ পণ্ডিত এবং আল-আজহার শরীফের সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিলের সদস্য, প্রখ্যাত উকিলুল আজহার ড. আহমদ ওমর হাশেম (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে গোটা মুসলিম বিশ্ব গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আমরা সবাই আল্লাহরই। মঙ্গলবার ভোরের কোমল আলো ফোটার আগেই তার মৃত্যু সংবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মানুষ শোকাভিভূত হয়। গতকাল জোহরের নামাজের পর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, এরপর শারকিয়া গভর্নরেটের জাজিজিগের বানি আমের গ্রামে দ্বিতীয় জানাজার আয়োজন করা হয়। পরে তার ক্ষতবিক্ষত দেহকে পিতৃভূমির মাটিতে দাফন করা হয়।
ড. আহমদ ওমর হাশেম ছিলেন হাদিস বিদ্যায় এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব; তাকে অনেকের কাছে “আমিরুল ফিল হাদিস” অর্থাৎ হাদিসের নেতা হিসেবে সম্বোধন করা হতো। তার জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে বহু শিক্ষা ও গবেষণামুখী মন, বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও আলেম। তিনি ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি প্রথাগত ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রজ্ঞাও যুক্ত করে ইসলামকে সমকালীন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যুক্তি, গভীর প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিকতার সংমিশ্রণে তিনি ইসলামী চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
অজস্র সময় ধরে তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছেন কুরআন ও হাদিসের সেবা, ইসলামী গবেষণা ও দাওয়াতের প্রচারে। তার জীবন ছিল এক অবিরাম জ্ঞানযাত্রা, আর এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ মুসলিম উম্মাহর জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, এর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাচ্ছে গভীর শোক একই সঙ্গে তার অসংখ্য ছাত্র ও অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
ইসলামী চিন্তা ও হাদিস গবেষণায় ড. আহমদ ওমর হাশেম মহৎ এক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা যুগে যুগে সভ্যতা ও গবেষক মনকে পথ দেখাতে থাকবে। তার ভাগ্যবদ্ধ জীবন ও অবদান সকলের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
-

দুই বছরে গাজায় ২৫০ ইমাম ও ধর্মীয় ব্যক্তির হত্যা
গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত গণহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের ধারাবাহিকতায় শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয়, এখানে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা ও নিশানা হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সোয়া দুই বছরেও ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে অন্তত ২৫০ জন খতিব, ইমাম, দাঈ এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতা-কর্মী। এই সময়ের মধ্যে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে ৮৩০টির বেশি মসজিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আরও ১৮০টির বেশি মসজিদ। আশ্চর্যের বিষয়, এই হামলার খপ্পরে পড়েছে খ্রিস্টান উপাসনালয়ও। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আক্রমণে কমপক্ষে ২৩৩জন মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং ২০জন খ্রিস্টান ধর্মযাজক নিহত হয়েছেন। মূলত, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোই মূল লক্ষ্য ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।
গাজার সরকারি গণমাধ্যমের পরিচালক ইসমাইল আস-সাওয়াবিতা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের মানসিক ও নৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হত্যা, মসজিদ ও গির্জা উড়িয়ে দেয়া এবং নাগরিক স্থাপনা ধ্বংস করেই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় নেতারা জাতির নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদের প্রতীক। তাদের হত্যা করে ইসরায়েল দেশীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা স্তব্ধ করতে চাইছে।
প্রখ্যাত তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় মারা গেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী ও আল-আকসা মসজিদের খতিব ইউসুফ সালামা, গাজারের জনপ্রিয় আলেম ও বক্তা ওয়ায়েল আজ-জারদ, এবং কোরআন শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক ওয়ালিদ আওয়াইদা।
গাজার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো পর্যন্ত ৮৩৫টি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস করেছে এবং আরো ১৮০টির ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি গাজার তিনটি ঐতিহাসিক গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে বহু নারী ও শিশু এই হামলার শিকার হয়েছে। এই গির্জাগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমান ক্যাথলিক সেন্ট পারফিরিয়াস, ক্যাথলিক হোলি ফ্যামিলি চার্চ ও ব্যাপটিস্ট ইভানজেলিকাল চার্চ।
ইসমাইল আস-সাওয়াবিতা বলেন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও উপাসনালয়ের ওপর এই হামলা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেন তিনি।
দুই বছর ধরে চলমান এই গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে, পূর্বেও বলশেভিক শক্তির আরাধনায় গাজাতে এখনো ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি চিৎকার করে আজান দিচ্ছেন অনেক মানুষ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে গাজায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৬৭ হাজার ১৩৯ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩ জন। অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া, দুর্ভিক্ষ ও ওষুধের সংকটে প্রাণ গেছে আরও ৪৬০ জনের, যাদের মধ্যে ১৫৪ জন শিশু। তবে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতেও গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনও কেউ কেউ আল্লাহু আকবার বলে আজান দিচ্ছেন, যেন এই হতাহত মানুষের অস্থিরতাকে আশ্রَয় দেন। সূত্র: আল জাজিরা। -

সোনার দাম প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে
মার্কিন সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা এবং দেশটির অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে বুধবার প্রথমবারের মতো সোনার দামে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছে, যার ফলে এর মূল্য আউন্সে ৪,০০৬.৬৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এই ধাতুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ সময়ে, অন্য মূল্যবান ধাতু রূপাও রেকর্ড মূল্যের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগের প্রবণতা নির্দেশ করে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগ বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে, সোনা মূলত নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে মানুষ ঝুঁকছেন। শেয়ারবাজারের কিছু অংশের মূল্য যখন খুব বেশি মনে হয় এবং পতনের আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমিয়ে দিয়ে সোনা বা অন্যান্য নিরাপদ সম্পদে uang{kবিশ্বাস করে। এছাড়াও, ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা আরও বাড়ছে। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিকভাবে দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি করে নিরাপদ সম্পদ, যেমন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে উদ্বুদ্ধ করছে। এ সবের পাশাপাশি, মার্কিন সরকারের কিছু অংশে অচলাবস্থা থাকায়, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বিঘ্ন ঘটে যাচ্ছে। এর ফলে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তে দেরী হচ্ছে, যা পুরো অর্থনীতির জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ সম্পদের প্রবণতা অব্যাহত থাকায়, স্বর্ণের এই অপ্রতিরোধ্য দাম বেড়েই চলেছে। সূত্র: এএফপি
-

শহিদুল আলমকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী
বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলমকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে। আজ, বুধবার (৮ অক্টেবর) স্থানীয় সময় সকালে গাজায় অবস্থিত একটি নৌযান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। এই নৌযানটি ছিল ফ্রিডম ফ্লোটিলার অংশ, যা গাজা উপত্যকার ওপর ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
শহিদুল আলম নিজে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও বার্তায় এ ঘটনা নিশ্চিত করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন ফটোগ্রাফার ও লেখক। যদি আপনি এই ভিডিও দেখেন, তাহলে বুঝবেন যে আমাদের সমুদ্র পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং আমি ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী দ্বারা অপহৃত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যা চালাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা শক্তি সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে। আমি আমার সব সহকর্মী ও বন্ধুদের অনুরোধ জানাই—প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার জন্য আরও সংগ্রাম চালিয়ে যান।’
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, দেশটির নৌবাহিনী শহিদুল আলমের বহনকারী নৌযান কনসেন্সসহ অন্যান্য নৌযানগুলোকে আটক করে। টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, তেলআবিব জানিয়েছে, গাজার সমুদ্র অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল এমন নতুন এক নৌবহরকে তারা বাধা দিয়েছে। ফ্লোটিলার সব নৌযান ও যাত্রীদের আটক করে ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছে, ‘অবৈধ নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা ও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য ব্যর্থ এই প্রচেষ্টা শেষ হলো। নৌযান ও যাত্রীদের ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। সব যাত্রীই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’
এর আগে, বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৯টার কিছু পরে শহিদুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ইসরায়েলিরা কনসেন্সের দিকে এগিয়ে আসছে।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী এগিয়ে আসছে।’
প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে একটি নৌবহর থেকে অন্তত ৪০টি নৌযান আটক করে। এটি ছিল গাজার অবরোধ ভাঙতে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই অভিযানে প্রায় ৪৭৯ জনকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী, তাদের মধ্যে অনেককে নির্যাতনও করা হয়। পরে তাদের তুরস্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়ায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে ইংরেজি জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন।
অন্যদিকে, গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলার সর্বশেষ আপডেটে জানায়, তাদের নৌযানগুলোতে ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালিয়েছে। গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা বেশ কিছু নৌকা তাকেও আটক করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি নৌযানে আঘাত হেনেছে এবং সংকেত বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
-

শহিদুল আলমের ‘কনশানস’সহ সব ফ্রিডম ফ্লোটিলার জাহাজ ইসরায়েল আটক করেছে
গাজার উদ্দেশে রওনা করা গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলার সমস্ত জাহাজকে ইসরায়েলি সেনারা আটক করেছে। ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলি সেনারা তাদের নৌবহরে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ‘কনশানস’ জাহাজে হামলা করা হয়, যেখানে ৯৩ জন সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অ্যাক্টিভিস্ট উপস্থিত ছিলেন। এরপর তারা তিনটি ছোট জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক এক্সে পোস্টে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ফ্লোটিলার অভিযান চালিয়েছে। তারা দাবি করে, আইনগত নৌ-অবরোধ ভঙ্গ ও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের নীতির লঙ্ঘন ব্যর্থ হয়েছে। আরো জানানো হয়, জাহাজ ও যাত্রীদের ইসরায়েলি বন্দরে পাঠানো হচ্ছে এবং সবাই নিরাপদ আছেন। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই তাদের নির্বাসনে নেওয়া হবে। ফ্রিডম ফ্লোটিলার ওয়েবসাইটে থাকা ট্র্যাকারে দেখা গেছে, এই বহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব নয়টি জাহাজই আটক করা হয়েছে। এই বহরের অংশ হিসেবে গাজা অভিমুখী জাহাজ ‘কনশানস’ এর যাত্রী ছিলেন বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও বর্ষীয়ান ফটোগ্রাফার শহিদুল আলম। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার ফেসবুক ভিডিও বার্তায় বললেন, ‘আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন ফটোগ্রাফার ও লেখক। যদি এই ভিডিওটি দেখেন, তাহলে জেনে নিন—আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং আমি ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী দ্বারা অপহৃত। এই দেশটি গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর সহযোগিতায় সম্পৃক্ত। আমি আমার সকল বন্ধু ও সহযোগীদের অনুরোধ জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখবেন।’
-

ট্রাম্প পাকিস্তানের দিকে যেন ঝুঁকছেন, ভারত নজরে রাখছে পরিস্থিতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন গতি লাভ করছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মনিরের হোয়াইট হাউজ সফর এবং ট্রাম্পের প্রতি তাদের প্রশংসাসূচক বক্তব্য এই ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল আরও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো। জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে পরিবেশন করেছে এর বিস্তারিত খবর।
গত জুলাই মাসে পাকিস্তানের জন্য শুল্কহার কমানোর বিনিময়ে জ্বালানি, খনিজ এবং কৃষি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর হয়, সেই জন্য শাহবাজ শরিফ হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। ওভাল অফিসের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। সেখানে দেখা গেছে, সেনাপ্রধান মনির ট্রাম্পকে বিরল মৃত্তিকা খনিজে ভরা একটি বাক্স উপহার হিসেবে দেন। এই বছর এটি মনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফর।
যদিও ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী পাকিস্তানে বিশাল তেলের মজুত থাকার কথা সন্দেহের বাইরে নয়। তবে জুলাই মাসের চুক্তির সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ভারত ‘একদিন পাকিস্তানের তেল কিনতে পারে’। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে বেশ ব্যঙ্গের মোড়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি, শরিফ ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মিরে ভারতীয় পর্যটকদের ওপর হামলার ফলে সৃষ্ট স্বল্পকালীন সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সহজ করতে ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, ভারত এই যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্পের কোনও ভূমিকা থাকার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে। মনির তো ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ারও যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এমন সময়ে হোয়াইট হাউজে পাকিস্তানের এই উত্থান, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের আগোবারুত্বে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার প্রত্যাশা থাকলেও, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে দুরত্ব লক্ষ্যণীয়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবেও রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে ৫০ শতাংশ শুল্ক রেখেছে, তা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এতে ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে। নয়াদিলির অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রধান হর্ষ পন্ত বলেন, যদি পাকিস্তান মার্কিন কৌশলের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তবে ভারতের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঙ্গনে কীভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে, তা প্রভাবিত হবে। কোয়াড জোটসহ চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যদি একজন দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হয়, তা উভয়ের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এই নতুন জোট ভারতের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে, ভারতের সাবেক দূত অজয় বিসারিয়া মনে করেন, এই মুহূর্তে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা খুব বেশি চিন্তিত নন। তিনি বলছেন, পাকিস্তান নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিত বজায় রাখতে সচেষ্ট। তিনি আরও বলেছেন, এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর অস্পষ্টতার ছায়া থাকবেন।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত মীরা শঙ্কর মনে করেন, ট্রাম্প উভয় দেশের প্রতি কার্যকরীভাবে লেনদেনের দৃষ্টিভঙ্গি জলাঞ্জলি দেননি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান নানা সুবিধা নিয়ে নিজেকে ‘প্রয়োজনীয়’ হিসেবে দেখাতে শিখেছে। তবে তাঁরা মনে করেন, মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কের এই দুর্বলতা সময়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। ভারতের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার জন্য কিছু থাকলেও, তারা মনে করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে না।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিন অমিতাভ মাত্তু বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অনেক পুরনো। স্নায়ুযুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা সময়ে তারা আবারও একে অপরের কাছাকাছি আসছে।’ তিনি বলছেন, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দ্বৈতনীতি সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়ে উঠছে এবং ভারতের প্রতি আরও নিবেদিত। তবে, এর অর্থ এই নয় যে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে একেবারে কব্জায় নিয়েছে; বরং তারা হেজিং কৌশল অবলম্বন করছে, বিষয়টি এখনও অস্থির।
