আগামী সপ্তাহে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এই পুরস্কারটি চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি ও শান্তি ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য প্রদান করা হয়। বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের মধ্যে আলবার্ট আইনস্টাইন থেকে শুরু করে মাদার টেরেসা—allই এই পুরস্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রতিটি বিজয়ী পাবেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বাংলাদেশি টাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখের সমান, এবং মার্কিন ডলার প্রায় ১২০ হাজার। তবে শুধু আর্থিক পুরস্কার নয়, নোবেল অর্জনকারীরা পান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি ও সম্মান যা অধিকাংশ গবেষক ও বিজ্ঞানীর জন্য অকল্পনীয় বলে মনে করে। সুতরাং, এই পুরস্কার শুধুই অর্থের নয়, এটি একটি বিশাল মর্যাদা, যা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা স্থান করে দেয়। এই পুরস্কার শুরু হয় সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের হাত ধরে, যিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্জিত সম্পদ মানবকল্যাণে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে ব্যয় করবেন। ১৯০১ সালে প্রথমবারের মতো পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি শাখায় নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। নোবেল নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন কোন সংস্থা এই পুরস্কার প্রদান করবে। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের পুরস্কার রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস, সাহিত্য পুরস্কার সুইডিশ অ্যাকাডেমি, চিকিৎসাশাস্ত্র শাখার পুরস্কার কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, আর শান্তির পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের সংসদ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নরওয়েকে নির্বাচনের কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি; তবে তখন সুইডেন ও নরওয়ে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০তম বার্ষিকী উদযাপনকালে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করে, যা রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের মাধ্যমে প্রদান হয়। এই পুরস্কার ঘোষণা অত্যন্ত গোপনীয়তা রাখার জন্য পরিচিত। মনোনীতদের নাম সাধারণত প্রকাশ পায় না, এবং বিচারকদের আলোচনা-পর্যালোচনাও ৫০ বছর গোপন থাকতে হয়। তবে মনোনয়ন দাতারা চাইলে প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারেন। এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হবে সোমবার, স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শাখার পুরস্কার দিয়ে। এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যা, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তি, আবার ১৩ অক্টোবর অর্থনীতির বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। উল্লেখযোগ্য নোবেলজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, নীলস বোর, মেরিাকুরি, লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও মাদার টেরেসার মতো ব্যক্তিত্বরা। তবে কিছু নোবেল পুরস্কার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যেমন, ১৯৪৯ সালে শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পান এগাস মনিজ, যিনি বর্তমানে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত লোবোটমি পদ্ধতির জন্য তার পুরস্কার পান। এছাড়াও শান্তি বিষয়ে দেওয়া বেশ কয়েকটি পুরস্কারও সমালোচিত হয়েছে—for example, হেনরি কিসিঞ্জার, ইয়াসির আরাফাত, আইজাক রবিন ও শিমন পেরেজের পুরস্কার। ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীকে মৃত্যুর আগে পুরস্কার না দেওয়াকেও এক ধরনের বড় অবহেলা বলে মনে করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি।
Category: আন্তর্জাতিক
-

গাজায় একদিনে ৯৩ বিমান হামলায় নিহত ৭০
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ অক্টবর) রাতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে এ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার গাজায় দখলদার ইসরায়েলি সেনারা আগ্রাসনিক অভিযান চালিয়ে ৪৬ জনকে হত্যা করে। এর মধ্যে তুফ্ফাহ এলাকার একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে একসাথে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটায় তারা। এই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, যেখানে বলা হয় যে গাজায় প্রথমে ৯৩টি বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে গাজার একদম কেন্দ্রে নিহতের সংখ্যা ৪৭।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইসরায়েলি হামলার পরেও তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কমানোর দাবিসহ বৈঠক করেনি। হামাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান একপ্রকার যুদ্ধাপরাধ। নেতানিয়াহুর সরকার এই রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য দায়ী।’ তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আরব ও ইসলামি দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, তারা যেন মানবিক দায়িত্ব পালন করে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, ত্রাণ সহায়তা জোরদার করে এবং দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের জন্য চাপ বাড়ায়।
গাজার স্থানীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনী শনিবার ৯৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা শহরেই নিহতের সংখ্যা ৪৭। এর আগে, শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামাস তার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, হামাস ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত।’
নিয়ে আসছে, শনিবার মিসর ঘোষণা করেছে যে, সোমবার সেখানে ইসরায়েলি ও হামাস প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবেন এবং তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় বিষয়ক আলোচনা করবেন। এর আগেও, ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও সংঘাত বন্ধের জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি বন্দি মুক্তির পরিকল্পনা।
-

নেপালে ভারী বর্ষণে ভূমিধস ও বন্যায় নিহত ২২ জন
গত ৩৬ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে; বহু সেতু ভেঙে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইতিমধ্যে কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদর দপ্তর জানিয়েছে, নিহতের মধ্যে কোসি প্রদেশে ৩৬ জন ও মধেশে ৩ জন রয়েছেন। এখনও দেশজুড়ে ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।
ভূমিধসের কারণে নিহতের অধিকাংশই ইলামে, যেখানে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া উদয়পুরে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ও একজনের আহত হওয়ার খবর ও পাওয়া গেছে। খোটাংয়ে বজ্রপাতের ফলে একজনের মৃত্যু ও তিনজন আহত হয়েছেন। ভোজপুরে বজ্রপাতে আরও দুজন আহত হয়েছেন। পঞ্চথরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।
মধেশের রানিরহাটে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়। অন্যত্র, বরায় একজন, রাসুয়ারায় চারজন এবং কাঠমান্ডুতে নদীতে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মাকোয়ানপুরে বজ্রপাতে একজন আহত হয়েছেন।
নেপাল পুলিশ বলছে, শনিবার থেকে বন্যার স্রোতে ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র শান্তি মহাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখেছেন, ভূমিধস ও বন্যার কারণে বেশ কিছু মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে বা ভেঙে গেছে। এতে শত শত যানবাহন ও যাত্রী আটকা পড়েছেন। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিঞ্জি শেরপা জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো অনেকটাই ব্যাহত হলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
দক্ষিণ-পূর্ব নেপালের কোসি নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যা প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোসি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিকের দ্বিগুণের বেশি। সকল স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ভারী যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ে ঘেরা রাজধানী কাঠমান্ডুতে কয়েকটি নদী সড়কগুলো প্লাবিত করেছে। অনেক ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে, ফলে শহরটি দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই বর্ষাকালে ভূমিধস ও বন্যা ঘটে থাকে, যা হাজারো মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
-

ইসরায়েলের কারাগারে আটকা ফ্লোটিলা কর্মীরা, খাবার ও ওষুধ না দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ
ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নৌযাত্রা ‘গ্লোবাল সুমুদ’ চলাকালীন ফ্লোটিলার শত শত কর্মী ইসরায়েলের কারাগারে আটক রয়েছেন। গত শুক্রবার এই বহরের নৌযানগুলো ইসরায়েলি নৌবাহিনী কর্তৃক সমুদ্র থেকে আটক করা হয় এবং প্রথমে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতালির চার নাগরিককে ইতোমধ্যেই দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অন্য দেশের কর্মীদের ফেরতের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফ্লোটিলার আটকদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থানবার্গসহ মোট ৪৭০ জন থাকছেন। বলছে, অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাদের খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে না।
একমাত্র ৪২টি নৌযান ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে। এই নৌযানগুলো গাজায় বসবাসরত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবক ও অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।
অপরদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, আটক ১৩৭ কর্মীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধরে ইসরায়েল থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। হাফজ সান্ত্রজের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই বহিষ্কৃত কর্মীদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জর্ডান, কুয়েত, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া ও তুরস্কের নাগরিকরা।
ফিলিস্তিনের আইনি কেন্দ্র আদালাহ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে তাদের ডগম্যাজিওট কারাগারে রাখা হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যারা আটক হয়েছেন তাদের খাবার পানীয় ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি, এমনকি নিরাপদ পানীয়ের অভাবও রয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার চার নাগরিকের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মে্লোনি প্রথম থেকেই এই বহরের কার্যক্রমকে সমালোচনা করে আসছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, এটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন, এবং এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো সুবিধা নিয়ে আসবে না।
অতঃপর, ইতালির চারজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে দূতাবাসের সাক্ষাৎ করেছেন। তারা বলছেন, তারা ক্লান্ত হলেও সুস্থ আছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘অপসারণ প্রক্রিয়াকে দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। যারা দ্রুত স্বাক্ষর করবেন, তাদের আগে ফেরত পাঠানো হবে।’
কর্তৃপক্ষের এই খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখা দেয়। ইতালিতেও প্রচণ্ড আন্দোলনরত duizenden মানুষ রাস্তায় নেমেছেন।
পরস্তগিজ কর্মী মারিয়ানোরা মোর্তাগুয়া জানান, তিনি আরও ৪৮ ঘণ্টা খাবার ছাড়াই আটক ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলে নিযুক্ত পর্তুগিজ কনসাল চারজনের নিখোঁজের খবর নেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা সুস্থ আছেন।
আরও, পোলিশ তিন নাগরিকের ইসরায়েল থেকে পোল্যান্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে, তারা স্বেচ্ছায় বহিষ্কার পত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
-

গাজায় সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন স্থগিত রয়েছে। এই খবর জানিয়েছে কয়েকটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। সেখানে বলা হয়, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় নতুন করে বোমাবর্ষণ না করার আহ্বান জানানোর পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আইডিএফ-কে হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সেই নির্দেশ পালন করে।
আগ্নেয়াস্ত্রের খবর বলছে, যদিও হামলা বন্ধ করা হয়েছে, তবে পুরোপুরি গাজা অভিযান বন্ধ হয়নি। বেতার সংবাদমাধ্যম আর্মি রেডিও জানিয়েছে, সেনারা গাজায় তাদের অভিযান কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন তারা হামলা, বোমা বর্ষণ ও গোলাবর্ষণ বন্ধ রেখেছে, তবে অবস্থান ও টহল অব্যাহত রাখেনি।
গত সপ্তাহে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধের অবসানের জন্য ২০টি পয়েন্টের একটি নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এই পরিকল্পনায় তিনি হামাসের সাথে আলোচনা চালানোর জন্য প্রস্তাব দেন। যদিও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস এই পরিকল্পনায় সাড়া দেয়নি।
গত শুক্রবার ট্রাম্প হামাসকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন, যদি রোববারের মধ্যে তারা সাড়া না দেয়, তবে গাজায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এই আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামাসের উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানায় যে, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। তারা বলেছে, তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য রাজি।
হামাসের এই সাড়া পাওয়ার পর ট্রাম্প আবার ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান। এই ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতি আসে, যেখানে বলা হয় তারা গাজায় যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে ট্রাম্পের নেতৃত্বে সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
-

ভারতের সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি: পাকিস্তানকে প্রস্তুত থাকতে বললেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ সমর্থন বন্ধ না করে, তবে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান হারাতে হতে পারে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজস্থানের অনুপগড়ে একটি সেনা পোস্টে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দ্বিবেদী এমন কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুর ১.০-তে আমাদের যে সংযম দেখিয়েছিলাম, এবার তা বজায় রাখব না। এবার আমি এমন কিছু করব, যা পাকিস্তানকে ভাবতে বাধ্য করবে তারা কি আসলে তাদের ভূগোলের স্থান রাখতে চায় কি না। যদি তারা সত্যিই তাদের স্থান ধরে রাখতে চায়, তাহলে তাদের অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।’ এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ কথার পাশাপাশি জানানো হয় যে, শীর্ষ জেনারেল শুধু হুঁশিয়ারিই দেননি, বরং সৈন্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা হলে আপনাদের শিগগিরই একটি সুযোগ দেওয়া হবে। শুভকামনা।’ এটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বিবেদীর এই হুঁশিয়ারি এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংয়ের আগের দিনকার মন্তব্যের পর আসে। ভারতের সেনাপ্রধান আরও বলেন, অপারেশন সিন্দুরের সময় ভারতের লক্ষ্য ছিল নিরীহ মানুষকে ক্ষতি না পৌঁছানো এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস না করা। তবে তারা সন্ত্রাসীদের আস্থান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের নির্মূলের উপর জোর দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই অভিযানে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর F-16 এবং JF-17 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষ থামানোর জন্য পাকিস্তানই বাগডাক দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়। এছাড়া, তিনি বলেন, ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংসের পাকিস্তানি অভিযোগ ভেতর থেকে মিথ্যা প্রচার, যা সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল, যা স্পষ্ট করে দেয়, ১০ মে সংঘর্ষ বিরতিতে আসার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ নয়, বরং পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই শান্তির আহ্বান ছিল। ভারতের এই বিমানবাহিনী প্রধান বলেন, পেহেলগামে সন্ত্রাসীদের অধিনস্ত জবাবে ভারতীয় সেনারা পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি নিশূলভাবে আঘাত করে। এতে বিশ্ব দেখেছে ভারতের শক্তি ও নির্ভুলতা, যা তাদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। এচিফ মার্শাল আরও বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের সময় অসংখ্য নিরীহ প্রাণের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকলেও, আমরা লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছি। আমরা ৩০০ কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি, যার পর পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছে।’ তিনি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন এবং জানান, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ১০০ ঘণ্টার সংঘাতে পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত বা ধ্বংস করেছে। তবে গত চার মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলছেন, তিনি ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতিসংঘের মহাসম্মেলনে, বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে, এমনকি গত বুধবার মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত এবং পাকিস্তান লড়াই করছিল। আমি দু’পক্ষকে ফোন করে শান্তির পথ দেখিয়েছি এবং বর্তমানে বাণিজ্য ইস্যু ব্যবহার করে এই সংঘাত বন্ধের চেষ্টা চলছে।’ প্রসঙ্গত, গত মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলার পর দুই দেশ দ্রুত যুদ্ধের ঝুঁকিতে পৌঁছে গিয়েছিল। উভয় দেশের আকাশে হামলা চালানো হয়েছে, বহু যুদ্ধবিমান ভুপাতিতের দাবি ওঠে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক চাপ এবং উভয় দেশের মধ্যে বোঝাপড়ার ফলস্বরূপ ১০ মে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
-

২০২৬ সালে সম্ভাব্য রমজানের তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪৪৩ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের সূচনা কবে হবে, সে বিষয়ে একটি ধারণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির মতে, রমজান শুরুর বেশ কিছু দিন আগে থেকেই দেখা যাবে চাঁদ। বর্তমানে তাদের অংকন অনুযায়ী, রমজান শুরু হতে এখনো ১৩৯ দিন বাকি।
সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা ০১ মিনিটে চাঁদ দেখা যাবে। তবে সূর্যাস্তের পর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই চাঁদ অস্ত গেলে সেদিন সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না।
অতএব, চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন হবে ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। এই তারিখটি প্রাথমিক গণনা অনুসারে সর্বসম্মত ও সম্ভাব্য।
এছাড়াও, আল জারওয়ান মধ্যপ্রাচ্যের রোজা ও আবহাওয়া সংক্রান্ত কিছু ভবিষ্যদ্বাণী প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রমজানের শুরুতে, বিশেষ করে আবুধাবিতে, রোজা রাখার সময়কাল হবে প্রায় ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষে এসে এই সময় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে পৌঁছাবে। এমন পরিস্থিতিতে, দিনের আলোর সময়কাল প্রথমে ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে শেষে ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিটে দাঁড়াবে।
সূত্র: গালফ নিউজ
-

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির নামে ভয়াবহ গণহত্যার প্রস্তুতি সতর্কবার্তা
দখলদার ইসরাইলি বাহিনী দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির নামে গাজায় আরও ভয়াবহ গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। তিনি এক এক্সে পোস্টে বলেন, এখন পর্যন্ত গাজায় গত কয়েক দিনেই মারা গেছেন ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
লাজ্জারিনি জানিয়েছেন, আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার অবরুদ্ধ বাসিন্দার উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনাকে তিনি ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। এটি খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি ও মানবিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি দেখা যাচ্ছে। এর মাঝেই ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান এই নতুন সতর্কবার্তা দিলেন।
তিনি আরও বলেন, কাউকে বেসামরিক নাগরিক হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চলমান এই অপরাধের জন্য জবাবদিহি চাইতে হবে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ইতিমধ্যেই বলছে, এখানে গণহত্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বারবার অপরাধ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লাজ্জারিনির এই সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতিসংঘের এক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা থেকে সবচেয়ে তীব্র সতর্কবাণী। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অন্ধকারের ছাপ ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অতীতে গত বুধবার ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছিল, ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ জনকে হত্যা করছে। পাশাপাশি অনাহার ও চিকিৎসার অভাবে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন।
জোটবিরতি ও মানবিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান অপরাধের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নথিভুক্ত করতে হবে। মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনতে হবে ও মনোযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, গাজায় কোনো নিরাপত্তা নেই।
জেনেভায় ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি একেবারেই বিপর্যয়কর। তিনি বলেন, আকাশ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্বাচিত স্কুলগুলো নিয়মিত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। তাঁবু ও অন্যান্য আশ্রয়স্থলগুলোও বিমান হামলার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে।
-

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথমবার মুসলিম নারী মন্ত্রী নিযুক্ত
থাই রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পালা বদল ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল তাঁর মন্ত্রিসভায় জুবাইদা থাইসেতকে সংস্কৃতি মন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করেছেন। এটি ছিলো ইতিহাসের প্রথম নজির, যখন কোনো মুসলিম নারী সম্পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদোন্নতি দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এক নতুন দিক নির্দেশ করছে।
প্রধানমন্ত্রী চানভিরাকুলের উদ্দেশ্য হলো একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মন্ত্রিসভা গঠন, যেখানে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। জুবাইদা থাইসেত শিক্ষাজীবনে যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের আসাম্পশন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার পিতা চাদা থাইসেত প্রাক্তন একজন মন্ত্রী ও প্রাদেশিক রাজনীতিবিদ, যার ধারাবাহিকতা চলমান। তাঁর এই নিয়োগ দক্ষিণ থাইল্যান্ডে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণের দ্বিগুণ দায়িত্ব গ্রহণ করছে। জুবাইদার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা ব্যাবহার করে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ভাষাগত সমৃদ্ধি এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক দিক দিয়েও তার দক্ষতা শিল্প ও সাংস্কৃতিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য সহায়ক হবে, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক পর্যটনকে প্রসারিত করতে। এই পদোন্নতি থাইল্যান্ডের মুসলিম নারী ও তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি জুবাইদা সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে ভবিষ্যতে নারীর রাজনীতি এবং প্রশাসনে অংশগ্রহণ আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। এটি সমাজে নারীর ভূমিকা বুঝতে ও গ্রহণে এক স্বাভাবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
-

যুক্তরাষ্ট্রে দুই দিনের মধ্যে ব্যাপক ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই শুরু হতে পারে: হোয়াইট হাউসের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে শিগগিরই ব্যাপক হারে ফেডারেল কর্মীদের ছাঁটাইের প্রস্তুতি চলছে, যা দুই দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। গত সাত বছর wherein প্রথমবারের মতো দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার অচলাবস্থার ফাঁদে পড়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অবিরত বিরোধের কারণে দেশ জ্বলজ্বল করছে। বুধবারের মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই শাটডাউন চলমান ও অচিরেই তা মোকাবেলার কোন উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে অপরকে দোষারোপ করে চলেছে, তবে তারা কোন সমঝোতার লক্ষ্যে এখনো এগোতে পারেনি। এই অচলাবস্থার কারণে কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি লাখো সরকারি কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে যখন সিনেটের কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে, ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সরকারি কর্মচারীরা ছাঁটাই হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় দেশের অর্থনীতির ওপর বাজেভাবে প্রভাব পড়তে পারে। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স টেক্কা দিয়ে বলেন, বিরোধীপক্ষ বাস্তবতা না বুঝে রাজনৈতিক খেলা খেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা সব সময় রাজনীতি করে সরকারের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই ছাঁটাই সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষের আগে শুরু হতে পারে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যে, 一শিগগিরিই।’ তিনি আরও যোগ করেন, পরিস্থিতি কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় যা আমাদের করতে হয়, এবং এর জন্য দায়ী মূলত ডেমোক্র্যাটরাই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের সতর্কবার্তায় তিনি বলেছিলেন, শাটডাউন দীর্ঘায়িত হলে তিনি ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবেন। একই সাথে নিউইয়র্ক শহরের বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পে ধারদেনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশেষ করে নাগরিক জীবন ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ধাক্কা হতে পারে। বিভিন্ন দিক থেকে দেখা যায়, এই অচলাবস্থা রাজনৈতিক দিক থেকে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে চান, যেখানে রিপাবলিকানরা চাইছেন বর্তমান অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে। অর্থাৎ, এই দরকষাকষিতে অন্তত ৭৫০,০০০ সরকারি কর্মী অস্থায়ী ছুটিতে যেতে পারেন, এবং তাদের বেতন বন্ধ রাখতে হতে পারে। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব ২০১৮ সালের চেয়ে আরও গুরুতর হতে পারে, কারণ এই বার প্রায় ৪০ শতাংশ ফেডারেল কর্মী অস্থায়ী ছুটিতে যেতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে, হোয়াইট হাউসের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ভ্যান্স আবারও স্পষ্ট করে বলেন, এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘ সময হয়, তবে তাদের কর্মী ছাঁটাই করতেই হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনীতির দৃঢ়তা ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন, অন্যথায় দেশের সরকারি ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
