Category: আন্তর্জাতিক

  • ভারতে চলন্ত বাসে আগুনে নিহত ১৯ যাত্রী

    ভারতে চলন্ত বাসে আগুনে নিহত ১৯ যাত্রী

    ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের জয়সলমে শহরে এক ভয়াবহ বাস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে জয়সলম থেকে জোধপুরের দিকে যাচ্ছিলো এই বাসটি, পথে এক এই আপদকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকে বাসটি জয়সলম থেকে সরাসরি যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে জয়সলম-জোধপুর মহাসড়কে পৌঁছালে বাসের পেছন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক দ্রুত গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ান, কিন্তু তখনই দ্রুত বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

    অপেক্ষাকৃত দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়ে দিয়েছেন, অনেক যাত্রী দ্রুত নেমে আসার সুযোগ না পেলেও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন। বেশ কিছু যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জয়সলমেরের জওহর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

    জেলার কালেক্টর প্রতাপ সিংহ আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হেল্পলাইন নম্বর চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যপাল হরিভাউ বাগাড়ে, মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত, বিজেপি রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, আহতদের দ্রুত এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, জয়সলমে বাসে আগুন লাগার এই ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানিয়ে, আহতদের সুস্থতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হত্যা উভয় পক্ষের বেশ কয়েক ডজন

    পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হত্যা উভয় পক্ষের বেশ কয়েক ডজন

    পাকিস্তান-আফগানিস্তানের অসংখ্য চ্যালেঞ্জে পূর্ণ সীমান্তে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বুধবার ভোরে এই ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই দেশের বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক जवानসহ কমপক্ষে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল, ফলে সীমান্তের শান্তি আবারও ভেঙে গেছে।

    ২০২১ সালে তালেবানের কাবুলের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই সীমান্তে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। দু’দেশের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে লড়াই নিয়মিত হলেও, গত সপ্তাহে এই সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘ ২৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সীমান্তে বরাবরই উত্তেজনা চলে আসছে।

    আফগান তালেবান গোষ্ঠী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী স্পিন বোলদাকজেলায় আক্রমণ চালিয়েছে, যাতে অন্তত ২০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তে রাতভর সংঘর্ষে আরও ৩০ জনের বেশি আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

    পাকিস্তান পক্ষের দাবি, চামান জেলায় তালেবানরা হামলা চালিয়ে চারজন পাকিস্তানি নাগরিককে আহত করেছে। এছাড়া, ওরাকজাই জেলার পাশাপাশি অন্যত্র পাকিস্তানের সেনাদের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন সীমান্তরক্ষী নিহত ও ছয়জন আহত হন। সে জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ৯ জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে।

    অন্যদিকে, কাবুলের দাবি, পাকিস্তান স্পিন বোলদাক এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলছে, সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং আসলে আফগানিস্তানে জঙ্গিদের লুকানো চেষ্টা করছে তালেবান।

    সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সংঘাতের পর, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। সীমান্তের বেশ কয়েকটি গেট এখন বন্ধ, যার ফলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আটকা পড়েছে। আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত দিয়ে প্রতি বছর খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ চলে আসছে পাকিস্তান থেকে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে নানা মহলে। চীন ও রাশিয়া, দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, তিনি যদি চান তবে এই সংঘাতের অবসানে সহায়তা করতে পারেন।

    এদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত সফরে গেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। নয়াদিল্লি বলেছে, তারা দ্রুত কাবুলে পুনরায় তাদের দূতাবাস চালু করবে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের কূটনীতিকরাও ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

    তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

  • ইসরাইলকে সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হামাসের

    ইসরাইলকে সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হামাসের

    গাজায় দীর্ঘ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগে হামাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে হত্যা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই হামাস এই অভিযানে নামে। রয়টার্সের রিপোর্টে জানা গেছে, গাজার নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে, এই ৩৩ জন হামাসের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে তাদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালানো হয়েছে। এ সময় হামাসের ছয়জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় ও তাদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানায়নি কেউ।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর ইসরাইলের তীব্র প্রতিশোধের ফলে হামাস ব্যাপক ধ্বংসের মুখে পড়ে। যুদ্ধবিরতির পর সংগঠনটি ধীরে ধীরে সদস্যদের ফিরিয়ে আনছে, কিন্তু পরিস্থিতি যে আবারো উত্তপ্ত হতে পারে—এমন শঙ্কায় হামাস বেশ সতর্কভাবে কাজ করছে।

    গাজা সিটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, চলমান সংঘর্ষের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাফাহ অঞ্চলে হামাসবিরোধী নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান চলছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস ইতোমধ্যে আবু শাবাবের ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগীকে হত্যা করেছে এবং তার হুমকি দিচ্ছে। হামাসের দাবি, আবু শাবাব ইসরাইলের পক্ষের, কিন্তু তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখোশধারী ও সবুজ ফিতা বাঁধানো বেশ কিছু বন্দুকধারী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অন্তত সাতজনকে গুলি করে হত্যা করছে। এই ঘটনার সময় উপস্থিত কিছু সাধারণ মানুষ নিহতদের সহযোগী বলে উল্লেখ করে আনন্দ প্রকাশ করে। যদিও রয়টার্স এই ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি; গাজায় ধারণ করা বলে দাবি করা হলেও নিশ্চিত নয়।

    এর আগেও, মাসখানেক আগে, হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

    একই দিনে, হামাস দুই বছর আগে ইসরাইলের কাছে জিম্মি থাকা জীবিত ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। এই সময় গাজায় কাসাম ব্রিগেডের সদস্যদের রাস্তায় মোতায়েনও দেখা যায়। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ অন্যান্য দেশ হামাসের অস্ত্র হারানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

    যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের পর হামাসের গাজা সরকারের মিডিয়া প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেছেন, তারা কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি করবেন না, জনগণের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে যদি ফিলিস্তিনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তারা অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত। তবে, গাজার শাসন কাঠামো নির্ধারণে সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিরাই নেবে, যেখানে বিদেশি কোন হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

    ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক রেহাম ওউদার মনে করেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো হামাসের শক্তি প্রদর্শন ও ইসরাইলের সহযোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি। একই সঙ্গে তারা বোঝাতে চায়, গাজার আগামী শাসনব্যবস্থায় তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে—যদিও ইসরাইল এটি মানবে না।

    অবশেষে, এই পরিস্থিতিতে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যা বর্তমানে সামগ্রিক সমস্যা এবং অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১৫ জন নিহত

    পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১৫ জন নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় ভোরের সময় একটি ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। দেশটির রেসকিউ সার্ভিস ১১২২ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকালে সোয়াত মটরওয়ের টানেল নম্বর ৩-এর কাছে একটি ট্রাক উল্টে যায়, যা ঘটনাটি ঘটেছে। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র শাফিকা গুলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। তারা সোয়াতের বাহরাইন তহসিলের গাবরাল এলাকার বাসিন্দা এবং পাঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত রেসকিউ দল ও পুলিশ গিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে আহতদের নিকটস্থ বাটখেলা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১৫, এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনের চিকিৎসা চলছে। সোয়াতের স্থানীয় যে চারজন আহত হয়েছেন, তাদেরকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সোয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা পাকিস্তানের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই ঘটে থাকে, যার মূল কারণ হলো বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক, গাড়ির পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দুর্বল সড়ক অবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কতটা কার্যকর না হওয়া। গত মাসে এক দেরা ইসমাইল খানে ব্রেকফেল হয়ে একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত ও তিনজন আহত হন। এর আগে আরও কিছু ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা যেমন, মানসেহরাতে একটি জিপ খাদে পড়ে দুই নারী নিহত ও চারজন আহত হন, এবং হারিপুরে হাজারা মোটরওয়ে এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য প্রাণ হারান, এই সবই মানুষের জীবনে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • মেক্সিকোতে দুই মৌসুমি ঝড়ের প্রভাবে নিহত ৬৪, নিখোঁজ ৬৫

    মেক্সিকোতে দুই মৌসুমি ঝড়ের প্রভাবে নিহত ৬৪, নিখোঁজ ৬৫

    মেক্সিকোর উপসাগরীয় উপকূলে শরৎকালীন দুই ভয়াবহ মৌসুমি ঝড়ের কারণে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস ও তেল দূষণ ঘটেছে। উপসাগরীয় শহর পোজা রিকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার চিত্র। ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ফলে অন্তত ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আর ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই বন্যার ফলে প্রায় এক লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে ভেরাক্রুজ, হিদালগো, পুয়েবলায়, কোয়েরেতারো এবং অন্যান্য পাঁচটি রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

    তেল উৎপাদনের জন্য পরিচিত পোজা রিকা এখন তেল ঝরনার কবলে পড়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাছাকাছি রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা পেমেক্সের স্থাপনাগুলো থেকে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পায়নি।

    লিলিয়া রামিরেজ নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘‘পানিতে ডুবে যাবার আগের মুহূর্তে আমি খুব সহজে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। ফিরে দেখতে পাচ্ছি আমার বাড়ির প্রথম তলা ছাদ পর্যন্ত পানি ও কাদায় ভরে গেছে।’’

    বন্যা পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মেক্সিকো সরকার প্রায় ১০,০০০ সেনা ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। হেলিকপ্টার দিয়ে ২০০টি বিচ্ছিন্ন এলাকার জ্বর, খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত জীবনের ঝুঁকি থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে, ত্রাণে কোনো ফাঁকি দেওয়া হবে না। তবে দেশের দুর্গম কিছু অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছাতে কিছু দিন সময় লাগবে।’’

    বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ভেরাক্রুজে প্রায় ২৪.৭ ইঞ্চি (৬২.৭ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হয়। এই ভারী বর্ষণে ভেরাক্রুজে ২৯ জন, হিদালগোতে ২১ জন, পুয়েবলায় ১৩ জন, এবং কোয়েরেতারোতে ভূমিধসের কারণে এক শিশুসহ আরও অনেকের মৃত্যু হয়।

    সরকার জানিয়েছে, এই ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের জন্য মূলত দায়ী হারিকেন প্রিসিলা ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় রেমন্ড। এই ঝড়গুলো মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলে তৈরি হয় এবং ব্যাপক প্রভাব ফেলে। নৌবাহিনীর সচিব রেমুন্ডো মোরালেস জানান, কয়েক মাস ধরে নদীগুলো একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে উপচে পড়ছিল। বর্ষণে ভূমিধস ও জলমগ্নতা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

    প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বলেন, ‘‘এমন প্রবল বৃষ্টি আমাদের কল্পনাকেও হার মানিয়েছে।’’ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বহু সেতু, সড়ক এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শহর এখনো বিদ্যুৎবিহীন হলেও বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ রোধে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে।

    রবার্তো ওলভেরা নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘‘পেমেক্সের সংস্থাগুলো থেকে যখন সাইরেন বাজছিল, তখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম বিপদ আসছে। কিন্তু আশেপাশের অনেক মানুষ ঘরে থাকছিলেন—কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন।’’

    অব্যাহত প্রবল বৃষ্টি ও তেল দূষণের কারণে পোজা রিকা ও আশপাশের এলাকা এখনো বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। সরকার উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই দুর্যোগের তীব্রতা এবং পরিবেশগত ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে বল প্রয়োগ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

    হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করতে বল প্রয়োগ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরে যদি তারা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তবে প্রয়োজন পড়লে বলপ্রয়োগ করে হলেও হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। খবর অনুযায়ী, টাইমস অব ইসরায়েলের।

    ট্রাম্প একথা হোয়াইট হাউস থেকে সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, হামাসের নেতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে সরাসরি আলোচনা করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    উল্লেখ্য, মার্কিন সরকারের অনুমোদনে উইটকফ এবং কুশনার গত সপ্তাহে শার্ম আল-শেখে হামাসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। এ সময় তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন পরিকল্পনার শর্তাবলী অনুসারে ইসরায়েলকে জবাবদিহি করতে হবে।

    ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন মধ্যস্থতায় শুক্রবার থেকে স্থগিত হয় যুদ্ধবিরতি। এ চুক্তির অংশ হিসেবে, সোমবার হামাস ২০ জন জিম্মিকে জীবিতভাবে মুক্তি দিয়েছে।

    পরবর্তী সময়ে, ধাপে ধাপে মৃত জিম্মির দেহাবশেষও ফেরত দেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার চারজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল।

    হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে কিনা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারেন না।

    অন্যদিকে, হামাস সোমবার চারজন জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আরও চারটি মৃতদেহ ফিরিয়ে দেয়।

  • ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গাজায় ফের হামলার ঘোষণা

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গাজায় ফের হামলার ঘোষণা

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ আবারও গাজায় সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন, এবং এ ঘোষণা যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে এসেছে। তিনি বলেছেন, জিম্মি মুক্তির পর ইসরায়েল তাদের জন্য নতুন করে হামাসকে পরাজিত করার জন্য সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে। এই ঘোষণাকে সাধারণত নতুন সম্মত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিপ্রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কাটজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘জিম্মিদের মুক্তির মাধ্যমে চুক্তির প্রথম ধাপের কাজ শেষ হবে, তারপরই ইসরায়েল হামাসের সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন করতে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেবে।’ তিনি আরও জানান, ‘জিম্মি ফেরত পাওয়ার পর ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে গাজায় হামাসের সব সন্ত্রাসী সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা, যা সরাসরি আইডিএফের (ইসরায়েলী সেনাবাহিনী) মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি যৌথ অভিযানে সম্পন্ন করা হবে।’

    কাটজের মতে, গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ ও হামাসের ক্ষমতা কমানোর উদ্দেশ্যেই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। তিনি আইডিএফ বাহিনীকে নতুন সামরিক অভিযান প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই ঘোষণা তখন এসে পৌঁছেছে যখন কাতার, মিশর ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কাটজের এই বক্তব্য খুব স্পষ্ট যে, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পরিবর্তে সাময়িক বিরতিই হিসেবে দেখছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, কাটজের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবধিকার আইনের লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধবিরতি থাকাকালীন সময়ে নতুন আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া বা বড় আকারের হামলার ঘোষণা দেওয়া আইনী দিক থেকে অসঙ্গত।

    গাজার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। ইসরায়েলের টানা আক্রমণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংসের কারণে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট তীব্র।

    আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলার শুনানি চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক জনগণের ওপর deliberately হামলা, অনাহার সৃষ্টি ও গাজামের অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মত, কাটজের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, ইসরায়েল স্থায়ী শান্তি নয়, বরং তাদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

  • ভারতের তিন কাশির সিরাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

    ভারতের তিন কাশির সিরাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবার্তা

    জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ভারতের তিনটি কাশির সিরাপের ব্যাপারে জোরদার সতর্কতা জারি করেছে। এই সিরাপগুলো তৈরি করা হয়েছিল শিশুদের, যারা বয়সে এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই তিনটি সিরাপে ডায়াথিলিন গ্লাইকোল নামে এক ধরনের রাসায়নিকের অস্বাভাবিক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই কারণে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে।identifierসিরাপগুলো হলো—ভারতের শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি কোল্ডরিফ, রেডনেক্স ফার্মাসিউটিক্যালের সিরাপ রেসপিফরেশ টিআর, এবং শেপ ফার্মার তৈরি রিলাইফ। ডায়াথিলিন গ্লাইকোল মূলত শিশুদের কাশি নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু যদি সিরাপের মধ্যে এর মাত্রা অনুমোদিত সীমার থেকে পাঁচশো গুণ বেশি হয়, তাহলে তা বিষের মতো হয়ে দাঁড়ায়। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই তিন সিরাপে ডায়াথিলিন গ্লাইকোলের উপস্থিতি নির্ধারিত বা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি। আগস্টে ভারতের শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি কোল্ডরিফ সিরাপ খেয়ে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, ২০২৩ সালে অন্য কোনও ভারতীয় কোম্পানির সিরাপ খেয়ে উজবেকিস্তান, ক্যামেরুন ও গাম্বিয়ার মোট ১৪১ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। ভারতের সরকারি ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিডিসিসিও) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা মাথায় রেখে তারা ওষুধের মান আরও কড়া করে তোলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

  • ইতালি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতেআর প্রস্তুত: মেলোনি

    ইতালি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতেআর প্রস্তুত: মেলোনি

    ইতালি খুব শিগগিরই স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি গাজা সংলগ্ন মিসরীয় শহর শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত ‘গাজা শান্তি সম্মেলন’-এ উপস্থিত ছিলেন যেখানে তিনি নিজের প্রতিপাদ্য বিষয়ে মুখ খোলেন। মেলোনি বলেন, ‘ইতালি গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশায় ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি, কারণ ট্রাম্প একটি সময়োপযোগী পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। এখন আমাদের নজরrobi এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে। যদি তা সম্পন্ন হয়, তবে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইতালি প্রস্তুত ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এবং বর্তমানে আমরা এই লক্ষ্য অনুযায়ী খুব কাছাকাছি রয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তিনি গাজার পুনঃনির্মাণে ইতালির অংশ নেওয়ার Interesse প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘ইতালি তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি গর্বিত যে, এই সম্মেলনে ইতালির উপস্থিতি।’তার মন্তব্যে জোর দেয়া হয় যে, দুই বছরের সংঘাতের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায়, ফিলিস্তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছেন। এই পর্যায়ে, হামাস গাজার উপত্যকায় ইস্রায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে, হামাস ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং বিনিময়ে ৩৭০০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দিকে মুক্ত করেছে ইসরায়েল। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে মেলোনি বলেন, ‘বিশেষ করে ট্রাম্পের নেতৃত্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি একটি বড় সাফল্য। পাশাপাশি, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষেও ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে সফল দেখতে চাই।’ এই তথ্য সূত্র হিসেবে আনাদোলু এজেন্সি উল্লেখ করে।

  • ট্রাম্পের চীনা পণ্যে আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা

    ট্রাম্পের চীনা পণ্যে আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা

    চীনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য পরিস্থিতিতে আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে। আগামী মাস থেকে চীনের থেকে আমদানি করা পণ্যগুলোর ওপর আরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণা তিনি শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে দেন। ট্রাম্প জানান, চীনের অবিচারপূর্ণ বাণিজ্যনীতি ও প্রযুক্তি খাতে আক্রমণাত্মক মনোভাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানির ক্ষেত্রেও মার্কিনা নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। এর আগে এক পোস্টে ট্রাম্প চীনের বিরূপ নীতির কঠোর সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে চীন বিশ্বকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে, যা একটি শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ। ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের হুমকিও দেন, যদিও পরে তিনি জানান যে, ঐ বৈঠকটা এখনো ‘চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়নি’, তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এই ঘোষণা পেলে মার্কিন পুঁজিবাজারে দ্রুত দরপতন দেখা গেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও গাড়ি খাতের শেয়ারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিরল খনিজ রপ্তানিতে কঠোরতা আরোপের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের মধ্যেই উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এই খনিজ ব্যবহৃত হয় উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য, স্মার্টফোন ও গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে বেইজিংও বিরল খনিজের রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়, এমনকি কিছু সময়ের জন্য গাড়ি নির্মাতা ফোর্ড তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। একই সময়ে, চীন মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে এবং এর ফলস্বরূপ কোয়ালকমের একটি চিপ নির্মাতা কোম্পানি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলে যায়। এছাড়াও সম্প্রতি চীন মার্কিন-সম্প্রক্ত জাহাজ থেকে নতুন বন্দরের জন্য ফি আদায়ের ঘোষণা দেয়, যার আওতায় মার্কিন কোম্পানির জাহাজগুলোও পড়বে। গত মে মাস থেকে এই দুই পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়; বিশ্লেষকদের মতে, এই সব পদক্ষেপই সম্ভবত নতুন এক বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনাকে নির্দেশ করছে।