বাংলাদেশে কোন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হোক বা না হোক, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ কূটনীতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিক্যাবের এক প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিক্রম মিশ্রি বললেন, ‘‘ভারত প্রত্যাশা করে যে, বাংলাদেশে যেকোনো সরকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত, সেটার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের। সিভিল সোস্যাইটিকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে যাতে নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হয়। কারণ, এই নির্বাচন দেশের বাইরে থেকেও মহত্ত্বপূর্ণ।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশের বর্তমান সরকার চ turbulenceবন্ধনে নির্বাচিত না হলেও, ভারত শুরু থেকে এই সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রফেসর ইউনূসকে প্রশংসা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এমনকি গ্লোবাল সাউথ সম্মেলনে ইউনূসকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল, যেখানে তিনি অংশ নিয়েছেন।’’ বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘‘ভারত দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্ব দেয় এবং প্রতিবেশীদের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্ব রয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়টি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রয়েছে। এটা আইনি ও বিচারিক বিষয়, তাই এখনই কিছু বলতে পারছি না।’’ এছাড়াও, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাংলাদেশের জন্য ভিসার প্রসার ঘটছে এবং ভবিষ্যতে এই হার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গঙ্গার পানি বিষয়ক চুক্তি ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই দুটি বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’’ সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ চার হাজার কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। এখানে নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যেখানে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী নিজ ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে।’’
Category: আন্তর্জাতিক
-

সমুদ্রপথে ইতালিতে অভিবাসীদের মধ্যে সবার শীর্ষে বাংলাদেশ
এ বছরের এখন পর্যন্ত সমুদ্র পথে ইতালিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অভিবাসীরা শীর্ষে অবস্থান করছেন। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৪৭৬ বাংলাদেশি অভিবাসী সমুদ্রপথে ইতালির উপকূলে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা গত অন্য দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ, যা ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ থেকে যাত্রাকারীরা বাড়ছে। শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইতালি যাতায়াতের মোট অভিবাসীর সংখ্যা গত দুই বছরের তুলনায় কমলেও, বাংলাদেশের অভিবাসীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
-

সৌদি আরবের উদ্যোগে ওমরাহ পালনে সব ভিসাধারীদের জন্য সুখবর
সৌদি আরব এই ঘোষণা দিয়েছে যে, এখন থেকে সব ধরনের ভিসাধারীরা ওমরাহ পালন করতে পারবেন। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি এক বড় পদক্ষেপ যা আরও সহজ করবে মুসল্লিদের জন্য ওমরাহর প্রক্রিয়া। সোমবার (৬ অক্টোবর) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এই তথ্য দিয়েছে, যা গালফ নিউজের খবরে উল্লেখ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওমরাহর প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যকর করা হবে। এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, হজ ও ওমরাহ সেবার মান উন্নয়ন এবং অভিযানের বহুমাত্রিক বিস্তারের অংশ হিসেবে। এটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন-২০৩০-এর পরিকল্পনারও একটি অংশ।
যেসব ভিসার মাধ্যমে ওমরাহ পালন সম্ভব, সেগুলো হলো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ভিসা, ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা, ট্রানজিট ভিসা, কর্মভিসা এবং অন্যান্য সব ধরণের ভিসাধারীরা এখন থেকে ওমরাহর সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বিশ্বের সবাই যাতে সহজে, স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রশান্তির সাথে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ এর পাশাপাশি, নুসুক ওমরাহ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে ভ্রমণকারীরা সরাসরি প্যাকেজ নির্বাচন, অনুমোদন এবং সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহর সময়সূচি পরিবর্তন, বিভিন্ন পরিষেবা বুকিংসহ অন্যান্য সুবিধাও পাবেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, পবিত্র দুই মসজিদ—মক্কার আল হারাম মসজিদ ও মদিনার নাবী মসজিদ—রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ও ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান মুসল্লিদের সুরক্ষা, আধ্যাত্মিকতা এবং সুন্দর অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা উচ্চমানের সেবা দিয়ে সব মুসল্লি যাতে নিরাপদ ও সন্তুষ্ট থাকেন, সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
-

যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর দিনই গাজায় হামলা, নিহত ১০
মিসরের পর্যটন শহর শারম এল শেইখে চলমান যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা চালুওছে যখন, ডেলো বিষয়টি এতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা থেকে পিছিয়ে নেই ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার গাজা উপত্যকায় তারা চালিয়েছে আধামিত হামলা, যার ফলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে তিনজন খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা দিতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় নতুন একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তুলে ধরেন, যা ইসরায়েল দ্রুতই সমর্থন করে। এই প্রস্তাবের পরই গাজা নিয়ন্ত্রণাধীন গোষ্ঠী হামাস ৩ অক্টোবর সেটিতে সম্মতি জানায়। দুপক্ষের এই সম্মতি সত্ত্বেও, ৪ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রাখে, যা বন্ধের জন্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু এই কলের জবাবে ঘোষণা করেন, গাজায় সব ধরনের হামলা বন্ধের জন্য আইডিএফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে, গাজার সূত্র বলছে, ট্রাম্পের এই নির্দেশের পরও গত তিন দিনে নিহতের সংখ্যা ১০৪। এরা সবাই ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের মুখপাত্র শোশ বেদ্রোসিয়ান রোববার এক ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, তারা এখন ‘রক্ষণাত্মক’ অবস্থানে রয়েছে এবং গাজায় চলমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মিসরের দৈনিক আল কাহেরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সোমবার, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর, মিসরের পর্যটন শহর শারম এল শেখে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিসর ও হামাসের প্রতিনিধিরা ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এই বৈঠকের প্রথম পর্যায়ে গাজায় বন্দি ফিলিস্তিনি নাগরিক ও ইসরায়েলের জিম্মি সমস্যা সমাধানের প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়।
দুই বছর আগে, ৭ অক্টোবর, ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে ১,২০০ জন ব্যক্তি হত্যা করে। পাশাপাশি, হামাসের জোয়ানরা গাজায় ২৫১ জন জিম্মি করে নিয়ে আসে। এই ঘটনার জবাবে, আইডিএফ গাজায় অভিযান শুরু করে, যা এখনো চলমান। দুই বছরে এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬৭,১৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৬৯,৬৭৯ জন আহত হয়েছেন।
-

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল ধসে নিহত ৫০, বিস্তারি উদ্ধার অভিযানে অভিযান শুরু
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ভবন ধসে পড়ে মর্মান্তিক трагনায়ালয় সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও শতাধিকStudents। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরের পর, সিদোয়ার্জো শহরের আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, সেই সময় স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ভবনের উপরতলায় তখন নতুন একটি তলা নির্মাণের কাজ চলছিল, যা মূল কাঠামোর জন্য যথেষ্ট ভিত্তি বা শক্তির সুবিধা না থাকায় ধসে পড়ে। ফলে সিঁড়ির কাছাকাছি অংশসহ পুরো ভবনের শিরদাঁড়া ঝুলে পড়ে, নিচের ক্লাসগুলো একেবারেই চাপা পড়ে যায় ধ্বংসস্তূপে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্ধার সংস্থা ‘বাসারনাস’ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, জীবিত অবস্থায় আরও ১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থাটির অপারেশন পরিচালক ইউধি ব্রামান্তিও বলছেন, ধসে পড়া ভবনের ৬০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে। তবে, ধ্বংসের ক্ষতি স্কুলের পাশের একটি ভবনকেও স্পর্শ করেছে, ফলে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগই ওই পাশের ভবনের বাসিন্দা বলে মনে করা হচ্ছে।
আরেকটি উদ্ধারকারী সংস্থা বিএনপিবির তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আবদুল মুহারি বলছেন, আহতদের মধ্যে ৮৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নদির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৫ জন।
স্থানীয় শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্কুলের শ্রেণীকক্ষ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ছাদের ওপর একটি নতুন তলা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের আগে স্কুলের মূল কাঠামো বা ভিত্তির নিরাপত্তা যাচাই করা হয়নি, ফলে নির্মাণকাজের চাপে ভবনটির অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত এটি ধসে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্কুলের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা এ ধরনের গাফিলতি মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
-

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২ লাখের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহৃত, নিহত–নিখোঁজ ৭৬ হাজারের বেশি
আগামীকাল ৭ অক্টোবর marks হবে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার স্মরণ। এই দুই বছরের সময়ে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৭,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং প্রায় ১০,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর পাশাপাশি, এই সময়ে গাজায় দুই লক্ষ টনের বেশি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল–মায়েদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা সরকারের জনসংযোগ কার্যালয় এক নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে এই দুই বছরের সংঘর্ষের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখা দিয়েছে, গণহত্যা চলছে, লাখো মানুষ পালানোর জন্য বাধ্য হয়েছে, এবং হাজারো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ৭৬,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৭,১৩৯ জনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৯,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ, যাদের অনেকের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী, শিশু ও প্রবীণ মানুষ রয়েছেন। শিশু ২০,০০০ এর বেশি এবং নারীর সংখ্যা ১২,৫০০ এর বেশি। পুরো পরিবার একসাথে ধ্বংস হয়ে গেছে এমন ঘটনা ২,৭০০ এর বেশি। খুবই দুঃখজনকভাবে, এমন পরিস্থিতিতে হাজারো পরিবারে কেবল একজন সদস্যই জীবিত রয়েছেন।
গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধের ফলে ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। গোটা এলাকা এখন মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনারা গাজার ৮০ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে। দু’বছরে, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা অনেকেই একাধিকবার জায়গা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল গাজায় ক্ষুধা ও জাতিগত দ্বন্দ্বের নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুই বছরে গাজায় ২ লাখ টনের বেশি বোমা ও বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত ‘নিরাপদ এলাকা’ আল–মাওয়াসিতে ১৩০ বার বেশি বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এই সংঘর্ষে ৩৮টি হাসপাতাল ও ৯৬টি ক্লিনিক ধ্বংস বা অচল হয়ে পড়েছে। ১৯৭টি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১,৬০০ এর বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া ২৫৪ জন সাংবাদিক, ১৪০ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং ৫৪০ জন মানবিক সহায়তাকর্মী জীবন হারিয়েছেন।
আহত হয়েছেন ১,৬৯,০০০ এর বেশি মানুষ। হাসপতালগুলো বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী অনেক রোগীকে গাজর বাইরে চিকিৎসা নিতে অনুমতি দেওয়া হলেও, এখনও আটকা পড়েছেন প্রায় ২২,০০০ রোগী। পাশাপাশি, ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু মারাত্মক খাদ্যসংকটের মধ্যে রয়েছেন। দুধ, ওষুধ আর খাবারের সংকটের কারণে জীবন বিপন্নের মুখে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গাজায় সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করছে। জাতিসংঘের তথ্যে, গাজার ২৪ লাখ মানুষ প্রায় সবাই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, এবং তারা ‘অভূতপূর্ব বঞ্চনার’ শিকার।
জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছে, গাজার ৯৫ শতাংশ স্কুলে ক্ষতি হয়েছে। ১৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এই সংঘর্ষে ১৩,৫০০ শিক্ষার্থী, ৮৩০ শিক্ষকসহ অসংখ্য গবেষক ও শিক্ষাবিদ নিহত হয়েছেন। ধর্মীয় স্থানগুলোও ধ্বংসের মুখে। ৮৩৫টি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে, এমনকি কিছু গির্জাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন কবরস্থান কবরবাহী বা বোমা মেরে ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় সরাসরি ক্ষতি হয়েছে ৭০ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে আবাসন খাতে ২৮ বিলিয়ন, স্বাস্থ্য খাতে ৫ বিলিয়ন ও শিক্ষা খাতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। চাষযোগ্য জমি ও মাছের খাত প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির কারণ।
সবশেষে, আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, গাজা পুরোপুরি ধ্বংসের দেওয়ালritt রুখে দিতে। অবরোধ তুলে দিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। যদিও জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার যুদ্ধাপরাধের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করলেও, নিরাপত্তা পরিষদের রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এই দাবি কার্যকর হয়নি।
যখন গাজার যুদ্ধ তৃতীয় বছরেও প্রবেশ করছে, তখন পরিস্থিতি একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করছে—‘৭৩০ দিনের গণহত্যা ও জাতিগত নিধন’।
-

নেপালে ভারী বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৪৭, সেতু ধসের কারণে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা
নেপালে ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক সেতুও ভেঙে পড়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন সোমবার ও মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে জরুরি সেবা এবং উদ্ধার কর্মীরা ছুটির বাইরে থেকে কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারি মুখপাত্র রমেশ্বর ডাঙ্গাল বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশটির পুলিশ প্রধান কলিদাস ধাউবোজি জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন ইলাম জেলায় পৃথক ভূমিধসে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এখনও নির্ধারিত না হলেও পরিস্থিতি খুবই গুরুতর। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই বন্যায় এখনো ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং বজ্রপাতে মারা গেছেন আরও ৩ জন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, বলে জানিয়েছেন জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র শান্তি মহাত।
নেপালের আবহাওয়া বিভাগ দেশের এক ডজনের বেশি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। বিভাগীয় প্রধান কামল রাম জোশী জনগণকে নদী ও ঝর্ণার কাছ থেকে তাড়াতাড়ি সরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খবর অনুসারে, রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বাগমতি, গান্ডাকি, লুম্বিনি ও মধেশ প্রদেশের কিছু জেলার ওপরও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসের ফলে কাঠমান্ডুর প্রধান সকল সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত আরণিকো মহাসড়ক বেশ কয়েকটি স্থানে ধসে পড়েছে এবং পূর্বাঞ্চলের বিপি মহাসড়ক ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলি স্বল্পআকারে চালু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, জানিয়েছেন কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের মুখপাত্র রিনজি শেরপা।
অতি সম্প্রতি নেপালের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দশাইন শেষ হওয়ার পর এই দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিলতর হয়ে উঠেছে। কারণ, উৎসবের পর লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজ নিজ গ্রাম থেকে শহরে ফিরছেন। যেখানে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোসি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে বইছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত কোসি ব্যারেজের ১০ থেকে ১২টি স্লুইস গেট খোলা থাকলেও বর্তমানে সব ৫৬টি গেটই খোলা হয়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলও সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বর্ষাকালে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং অকাল বন্যায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশজুড়ে বর্ষা মৌসুম থাকে, যা এই দুর্যোগের অন্যতম বড় কারণ।
-

সৌদিতে ১৮ হাজার ৬৫০ প্রবাসী গ্রেফতার, অধিকাংশই দুই দেশের নাগরিক
সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে অসংখ্য প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রম ব্যবস্থা লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত দেশের প্রবাসীসহ মোট ১৮ হাজার ৬৫০ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালানো হয়েছিল। সৌদি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশীরভাগই আবাসন আইন লঙ্ঘন, সীমান্ত নিরাপত্তা ভাঙা এবং শ্রম আইন অমান্য করেছিল। Specifically, ১০ হাজার ৬৭৩ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৩ হাজার ৮২২ জন সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টায়, এবং ৪ হাজার ১৭৮ জন শ্রম আইনের লঙ্ঘনে অভিযুক্ত। দেশে অবস্থান করা বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টায় ১ হাজার ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনি ৫৯ শতাংশ, ইথিওপিয়ান ৪০ শতাংশ, এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ১ শতাংশ। এছাড়া, অবৈধভাবে সৌদি ছাড়ার চেষ্টাকারী ৫২ জনও এই তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘন করে যারা বাসস্থান বা পরিবহন ব্যবস্থা করে দিচ্ছিল, তাদের মধ্যে ১৭ জনকেও গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই ধনী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ, যেখানে বিভিন্ন দেশের অনেক লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদিকে নিয়মিত ভাবে বিচারবিভাগের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয় এবং অবৈধ প্রবাসীদের আটক করা হচ্ছে—এমন খবর তারা নিয়মিত প্রকাশ করে থাকেন।
-

ইসরায়েল গ্রেটা থুনবার্গসহ ১৬৫ অভিযাত্রীকে গ্রীসের পথে পাঠাচ্ছে
ইসরায়েল শনিবার (৪ অক্টোবর) তাদের পক্ষ থেকে জানিয়েছে যে, গ্রেটা থুনবার্গসহ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ১৫৬ জন অভিযাত্রীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আই ২৪ নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানে গ্রীসের নাগরিকদের পাশাপাশি গ্রেটার মতো বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে একটি বিশেষ বিমানে করে গ্রীসের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে। এই অভিযান শুরু হয় ৩১ আগস্ট, যখন স্পেনের বন্দরে থেকে গাজা উপকূলের দিকে বেশ কয়েকটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। সেগুলোর মধ্যে ছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা, যেখানে ছিল ৪৩টি নৌযান। এই ফ্লোটিলার মূল উদ্যোক্তা হল ফিলিস্তিন ভিত্তিক চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা—ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডোলা ম্যান্ডেলাস, এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবক। তাদের মধ্যে ছিল পার্লামেন্টারিয়ান, আইনজীবী, রাজনৈতিক আন্দোলনকারী এবং সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক।
কিন্তু ইসরায়েল এই অভিযানে বাধা দেয়। প্রথমে বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে ১৩টি নৌযান তাদের নৌবাহিনীর দ্বারাই আটক হয়, এরপর আরও ৩০টি জাহাজ জব্দ করা হয়। এই জাহাজগুলো গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সবশেষে এসব জাহাজ এবং অভিযাত্রীদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে রাখা হয়েছে।
আই ২৪ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কিছু অভিযাত্রীর বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়, আটক অবস্থায় গ্রেটাকে ইসরায়েলের সুইডিশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়। গ্রেটা বলেছেন, তাকে একটি পরিপূর্ণ চৌবাচ্চার মতো কারাদণ্ডে রাখা হয়েছে, যেখানে তাকে প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও, তাকে জোর করে ইসরায়েলি পতাকাকে চুমু দিতে এবং পতাকাটি ধরে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
-

গাজায় একদিনে ৯৩ বিমান হামলায় নিহত ৭০
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ অক্টবর) রাতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংস্থা হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে এ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে শনিবার গাজায় দখলদার ইসরায়েলি সেনারা আগ্রাসনিক অভিযান চালিয়ে ৪৬ জনকে হত্যা করে। এর মধ্যে তুফ্ফাহ এলাকার একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে একসাথে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটায় তারা। এই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, যেখানে বলা হয় যে গাজায় প্রথমে ৯৩টি বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে গাজার একদম কেন্দ্রে নিহতের সংখ্যা ৪৭।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইসরায়েলি হামলার পরেও তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কমানোর দাবিসহ বৈঠক করেনি। হামাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান একপ্রকার যুদ্ধাপরাধ। নেতানিয়াহুর সরকার এই রক্তক্ষয়ী হামলার জন্য দায়ী।’ তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আরব ও ইসলামি দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, তারা যেন মানবিক দায়িত্ব পালন করে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, ত্রাণ সহায়তা জোরদার করে এবং দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের জন্য চাপ বাড়ায়।
গাজার স্থানীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনী শনিবার ৯৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা শহরেই নিহতের সংখ্যা ৪৭। এর আগে, শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামাস তার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, হামাস ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত।’
নিয়ে আসছে, শনিবার মিসর ঘোষণা করেছে যে, সোমবার সেখানে ইসরায়েলি ও হামাস প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবেন এবং তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় বিষয়ক আলোচনা করবেন। এর আগেও, ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও সংঘাত বন্ধের জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি বন্দি মুক্তির পরিকল্পনা।
