Category: আন্তর্জাতিক

  • সোনার দাম এক লাফে সাড়ে ১০ হাজার টাকা কমলো

    সোনার দাম এক লাফে সাড়ে ১০ হাজার টাকা কমলো

    দেশের বাজারে সোনার দামে আজ এক বিশাল কমতি দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও বাজারের পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একটি নতুন দাম ঘোষণা করেছে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর ফলে, এখন থেকে বাজারে সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকায়। এই পরিবর্তন আগামীকাল বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে।

    বাজুসের তথ্যে জানা যায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমানোর কারণে সাময়িকভাবে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার এক ভরি দাম ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখনো ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। অন্য ক্যারেটের রুপার মান দামের মধ্যে রয়েছে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ কিছুতেই ছাড়ছে না জ্যামাইকাকে, ঘণ্টায় ২৯৫ কিমি বেগে ঝড়ের তাণ্ডব, নিহত ৭

    ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ কিছুতেই ছাড়ছে না জ্যামাইকাকে, ঘণ্টায় ২৯৫ কিমি বেগে ঝড়ের তাণ্ডব, নিহত ৭

    দক্ষিণ-পশ্চিম জ্যামাইকার নিউ হোপের কাছাকাছি এলাকায় আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’। ল্যান্ডফলের সময় এই ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার, যা এত তখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। আমেরিকার ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ঝড়টিকে ক্যাটাগরি-৫ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ১৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে ইতিহাসে নথিবদ্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্যামাইকায় ‘বিপর্যয়কর’ এই ঝড়টি ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে। এর ফলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেড ক্রসের কর্মীদের মতে, এই ঝড়ের প্রভাবে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, মেলিসা বর্তমানে ক্যাটাগরি-৫ ঝড় হিসেবে বিশাল তাণ্ডব চালাচ্ছে। ল্যান্ডফলের পর এটি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকা পানিতে ডুবে গেছে এবং অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই ঝড়ের তাণ্ডবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জ্যামাইকার তিনজন, হাইতিতে তিনজন এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকে একজন। আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জ্যামাইকার সরকার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি সাহায্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি বিশেষ অনলাইন সহায়তা পোর্টাল চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিবেশী কিউবাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশটিতে বিপদসঙ্কেত জারি করে উপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, বুধবার ভোরের দিকে এই ঝড় কিউবার ভূমিতে আঘাত হানবে। আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক উচ্চতা ছাড়িয়েছে, ফলে ‘মেলিসা’ খুবই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে — যা পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য একটি মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • জ্যামাইকাকে তছনছ করে কিউবার দিকে যাচ্ছে ঘাতক হারিকেন মেলিসা

    জ্যামাইকাকে তছনছ করে কিউবার দিকে যাচ্ছে ঘাতক হারিকেন মেলিসা

    প্রবল শক্তিতে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জকে ধ্বংস করে দিয়ে অতিশক্তিশালী হারিকেন মেলিসা এখন কিউবার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রবল ঝড়ের কারণে জ্যামাইকা, হাইতি ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ব্যাপক বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার ফলে এখনো পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জ্যামাইকা ও হাইতিতে তিনজন করে এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে একজন মারা গেছেন, পাশাপাশি আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এটিকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মার্কিন জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ঝড়টি জ্যামাইকার নিউ হোপ এলাকায় স্থলভাগে আঘাত হানে, ঘণ্টায় গতিবেগ ছিল ২৯৫ কিলোমিটার, যা ক্যাটাগরি ৫ এর সমান। ঝড়ের প্রভাবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি ব্যাপক বন্যা, ভূমিধস এবং ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সাধারণ মৌসুমি বৃষ্টির দ্বিগুণ। ফলে, স্থানীয় সরকার দুর্যোগ 대응ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে, কিন্তু ক্যাটাগরি ৫ ঝড়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

    অবশ্য, এই ঝড়ের জন্য সতর্কতা জারি করে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রেডক্রসের কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ঝড়ের প্রভাবে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি এবং ক্ষতিপূরণে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে যেখানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন।

    জ্যামাইকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে নিরাপদে মানুষ সরানোর কাজ চলছে। রাজধানী কিংস্টনে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শক্তিশালী বাতাসে অনেক গাছ উপড়ে গেছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এরই মধ্যে জরুরি অবস্থায় থাকাদের জন্য হোটেলগুলো দুর্যোগকালীন কম মূল্যে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস জানান, আন্তর্জাতিক সহায়তা আসছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশ রয়েছে।

    অন্যদিকে, আলজাজিরা জানিয়েছে, ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে কিউবার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে এই প্রাণঘাতী হারিকেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সরকারি টেলিভিশনে দেখা গেছে, বাসে করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার দৃশ্য।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড়টি চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়, যা ক্যাটাগরি ৪ মাত্রায় আঘাত হানতে পারে। কিউবার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অন্তত ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগোসহ বিভিন্ন অংশে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দো মার্টিনেজ বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।” এখনকার পরিস্থিতিতে ক্ষতি এড়ানোর জন্য জরুরি প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৬৩

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৬৩

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি বাহিনী আবারো হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ৬৩ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক জীবন হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২৪ জন শিশু রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ঘটনাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে নারী ও শিশুসহ বিস্তৃত প্রাণহানি ঘটেছে।

    এর আগে, দক্ষিণ রাফায় একটি বন্দুকযুদ্ধের সময় ইসরাইলের একটি সেনা সদস্য আহত হয়। এই ঘটনার পর, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি সেনাদের আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এই হামলা, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের জন্য খুবই অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক ঘটনা, বিশেষ করে যখন ১০ অক্টোবর মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এটি হয়েছে এই অঞ্চলে সবচেয়ে নিরাপত্তাহীন ও সহিংসতার ক্ষণ।

    একজন অ্যাম্বুলেন্সকর্মী জানিয়েছেন, আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থলে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। উত্তর গাজার তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এক মা ও তার শিশু নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র।

    অপরদিকে, আল-আওদা হাসপাতালে জানানো হয়েছে যে গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বেইত লাহিয়ায় অবস্থিত এক স্কুলেও ইসরাইলি আক্রমণে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    এছাড়াও, হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সংগঠনটি আরও বলেছে, তারা নিখোঁজ ইসরাইলি পণবন্দীর লাশ হস্তান্তরের পরিকল্পনা স্থগিত করবে।

    বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসরাইলের যেকোনো উস্কানি লাশ অনুসন্ধান, খনন ও উদ্ধার অভিযানকে ব্যাহত করবে এবং বাকি ১৩ জন পণবন্দীর লাশ উদ্ধারে বিলম্ব ঘটাবে। এই পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।

  • গাজায় মৃত্যুফাঁদ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার অবিস্ফোরিত বোমা

    গাজায় মৃত্যুফাঁদ ও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার অবিস্ফোরিত বোমা

    ফিলিস্তিনের গাজা শহর ইসরায়েলি অবরোধের কারণে পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে হাজারো প্রাণ, যেখানে আরও এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে অসংখ্য অবিস্ফোরিত বোমা। এই বোমাগুলোর পরিমাণ হাজার হাজার টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ না করার কারণে গাজার জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) আল জাজিরার খবরে জানানো হয়, এই অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ইতোমধ্যে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

    গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ঢুকতে না পারায় ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে উল্লেখ করেছেন, গাজা জুড়ে অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমার ঝুঁকি খুবই গুরুতর। এসব বোমা এখন মানুষের জীবনকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে রেখে চলেছে।

    তিনি আরও জানান, পানি সরবরাহের জন্য নতুন পাইপলাইন ও কূপ খননের জন্য কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি এবং এক হাজার টনের মতো সিমেন্টের প্রয়োজন। তবে, বর্তমানে সীমান্তের অশান্ত পরিস্থিতির কারণে মাত্র ছয়টি ট্রাক গাজায় ঢুকতে সক্ষম হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম আনা সম্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখনও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকায় জীবন বিপন্ন। বেশিরভাগ নতুন যন্ত্রপাতি ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ উদ্ধারে কাজে লাগানো হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়।

    খুদারি বলেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফেরত আসে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতি বা সমাধান সম্ভব নয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, রাফাহ শহরের উদ্ধার কার্যক্রমে হাসামের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডসহ রেড ক্রসের গাড়িগুলো আনা হয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে জানান, গাজায় কোনও বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে কি-না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার শুধুই ইসরায়েলির। তিনি বলেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজস্ব আঙ্গিকে রক্ষা করি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গাজায় কোন বাহিনী গ্রহণযোগ্য নয়, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আমরা নেবো। তিনি এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এই অবস্থানকে মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেন।

    অন্যদিকে, গাজার পুনর্গঠন এবং পুনর্বাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে মাঠে রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বিশাল পরিমাণ বোমা। হালো ট্রাস্টের মধ্যপ্রাচ্য পরিচালক নিকোলাস টরবেট জানিয়েছেন, গাজার প্রতিটি অংশে বহু ধরনের বোমা পড়ে রয়েছে। এসব বোমার মধ্যে অনেকগুলি এমন ছিল, যা আঘাতের পরই বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। এই বোমাগুলোর স্বাভাবিক অপসারণে সময় লাগছে, যা পুনর্গঠনের কাজকে ব্যাপকভাবে ধীর করে দিচ্ছে।

    টরবেট পরামর্শ দিয়েছেন, ছোট পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে সহজে বোমা নিষ্ক্রয় করা যেতে পারে। তার মতে, বিশেষ জটিল সরঞ্জামের প্রয়োজন পড়ে না; হালকা যান বা হাতে নিয়েও এই কাজ সম্ভব।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজায় অন্তত দুই লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মাঝে প্রায় ৭০ হাজার টনের মতো বোমা এখনও বিস্ফোরিত হয়নি। এই সব বোমা অপসারণ না হওয়া গেলে পুনর্গঠন ও নাগরিক জীবন স্বাভাবিক করা অনেক কঠিন হবে।

  • ভারতে ফেরত পাঠানো হলো হাতকড়া পড়ে ৫০ তরুণকে

    ভারতে ফেরত পাঠানো হলো হাতকড়া পড়ে ৫০ তরুণকে

    উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখায় ভারতের তরুণরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিনিয়োগ করেছিলেন জমি বিক্রি, বাড়ি বন্ধক রাখা এবং এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে অবৈধ পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য। এই স্বপ্নের ভুরভুরি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসের জন্য ধরা পড়ে তাদের হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি পরানো হয় এবং মার্কিন প্রশাসনের হাতে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হরিয়ানা রাজ্যের ৫০ জন তরুণ ভারতে ফেরত এসেছেন, যাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য প্রশাসনের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে ১৬ জন কারনাল, ১৪ জন কাইথাল, ৫ জন কুরুক্ষেত্র এবং ১ জন পানিপথ জেলার বাসিন্দা। তারা সবাই ‘ডানকি রুট’ অনুসরণ করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ সেখানে কিছু বছর অবস্থান করেছেন, আবার কেউ মাত্র কিছু মাস। অন্যদের মধ্যে কেউ কেউ ফেরত পাঠানোর আগে কারাভোগও করেছেন।

    কারনালের ২৬ বছর বয়সী অঙ্কুর সিং জানিয়েছেন, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তার খরচ হয় প্রায় ২৯ লাখ রুপি। চার মাসের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যান। তিনি বলছিলেন, ‘সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি মদের দোকানে কাজ করার সময় ধরা পড়ি’।

    তারপর তাকে আটক করে কেন্দ্রীয় বন্দরে রাখা হয়, এবং গত ২৪ অক্টোবর তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে হরিয়ানা ছাড়াও পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ, গুজরাট ও সমগোত্রের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণেরা এসেছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত প্রায় দুই হাজার পাঁচশ’ ভারতীয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি সামরিক, চার্টার্ড এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটের বাসিন্দা।

    ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানার ঘোড়াউন্ডা ব্লকের হুসন (২১)। তিন বোনের একমাত্র ভাই হুসনের পরিবারের কাছ থেকে ৪৫ লাখ রুপি এজেন্টদের দিতে হয় মার্কিন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য। তার কাকা সুরেন্দর সিং জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরে হুসন ধরা পড়ে। পরিবার জমি বিক্রি করেছিল, কিন্তু সবই বৃথা গেল’।

    অন্যদিকে, কারনাল জেলার কালসী গ্রামের শ্রমজীবী পরিবার থেকে আসা হরিশ এসসি ২০২৩ সালে কর্মী ভিসায় কানাডা গিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সেখানে কাজ করার সময় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকেও আটক করা হয়।

    কাইথাল জেলার তারাগড় গ্রামের নরেশ কুমার এক বছরেরও বেশি সময় আটক থাকার পর ভারতে ফিরে এসেছেন। তিনি বলছেন, ‘ফ্লাইটে ওঠার সময় আমাদের হাতে হাতকড়া পরানো হয়, তবে কেউ খারাপ ব্যবহার করেনি। আমি সেখানে ১৪ মাস জেলে ছিলাম’।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাকে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে হয় এজেন্টদের, যারা কম খরচে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই টাকা জোগাতেই পরিবার জমি বিক্রি ও ধার করতে হয়েছে।

    কাইথালের পুলিশ সুপার উপাসনা জানান, জেলার ১৪ জন তরুণকে রোববার বিকেলে দিল্লি থেকে উন্নত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আবগারি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। জিন্দ জেলার এসপি কুলদীপ সিং জানিয়েছেন, জেলাটির আরও তিনজন তরুণ ফেরত এসেছেন এবং তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা

    ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা

    ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তার উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করেছেন। গতকাল রোববার এক লিখিত ঘোষণা তিনি জানিয়েছেন, যদি কখনো তিনি দায়িত্ব পালন করার মতো অবস্থা থেকে অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে অস্থায়ীভাবে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ।

    এই ঘোষণা ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আব্বাস বলেছেন, “যদি কোনো কারণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রধানের পদ শূন্য হয়ে যায়, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ অস্থায়ীভাবে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর দায়িত্ব হবে ফিলিস্তিনের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।

    ফিলিস্তিনের সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ হওয়ার পরে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন লাখ করতে হবে। যদি কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এর জন্য বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট আরও এক মেয়াদ এই পদে থাকতে পারবেন।

    সংবিধানের ডিক্রি বলে, কাকে পরিস্থিতি শূন্য হয়ে গেলে পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পালন করবেন ফিলিস্তিনের পার্লামেন্টের স্পিকার বা প্যালেস্টাইনিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

    মাহমুদ আব্বাসের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা সংবিধানের ডিক্রি নম্বর এক-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল বলে জানানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই ডিক্রি বাতিল করা হয়েছে। আব্বাস উল্লেখ করেছেন, “ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, মাতৃভূমির নিরাপত্তা ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রক্ষা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

    অষ্টমে আব্বাসের পক্ষে গত ২০ বছর ধরে তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। ২০০৪ সালের নভেম্বরে পরলোকগমন করেন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও নেতা ইয়াসের আরাফাত। তার মৃত্যুর পর ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে আব্বাস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে ধর্ষণ

    ব্রিটেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে ধর্ষণ

    উত্তর ইংল্যান্ডের ওয়ালসাল এলাকায় সম্প্রতি একজন ২০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবতীকে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষকে চিহ্নিত করেছে এবং এর দ্রুত খোঁজে জনগণের সহায়তা চেয়েছে। এ খবর ডেইলি মেইল ও পিটিআই বার্তা সংস্থা প্রকাশ করেছে।

    পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার সময় পার্ক হল এলাকায় রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ওই যুবতীকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং এটিকে একটি ‘বর্ণগত প্রতিবন্ধকতার কারণে আক্রমণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

    ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট রোনান টাইরার বলেন, এটি এক চরম নৃশংস আক্রমণ, যেখানে যুবতীর ওপর বর্বরতা চালানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্যাশক্যাম ভিডিও পর্যালোচনা এবং জনসাধারণের তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে জানা গেছে, তিনি একজন শ্বেতাঙ্গ যুবক, প্রায় ৩০ বছর বয়সী। তার মাথায় ছোট চুল রয়েছে এবং কালো পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিকটিম একজন পাঞ্জাবি যুবতী, এবং এটি শেষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বর্ণগত ভিত্তিতে আক্রমণ। এর আগে ওল্ডবারি এলাকায় একজন শিখ নারী এ ধরনের হামলার শিকার হন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়, এই ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে কিনা।

    তদন্তে যুক্ত আছে পাবলিক প্রটেকশন ইউনিট, পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ওয়ালসাল পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ফিল ডলবি বলেন, এই এলাকা বৈচিত্র্যময়। তারা জানিয়েছেন, এই দুর্ব্যবহার আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং তারা স্থানীয় জনগণের উদ্বেগ বুঝতে চেষ্টা করছে। পুলিশ আগামী দিনগুলোতে অধিক উপস্থিতি ও সতর্কতা জোরদার করবে যেনো এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

  • পর্তুগালে বিতর্কিত নির্বাচনি পোস্টার ভাইরাল: ‘এটা বাংলাদেশ নয়’

    পর্তুগালে বিতর্কিত নির্বাচনি পোস্টার ভাইরাল: ‘এটা বাংলাদেশ নয়’

    পর্তুগালের কট্টর ডানপন্থি নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা এবং তার দল শেগার নতুন নির্বাচনি প্রচার এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মন্তিজো শহরের একটি বাসস্টপে ঝুলানো একটি বিলবোর্ডে বড় ছোট অক্ষরে লেখা ছিল, ‘Isto não é Bangladesh’ অর্থাৎ ‘এটি বাংলাদেশ নয়’। এই বাক্যটি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। আরও একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জিপসিদের আইন মানতে হবে’, যা জেনোফোবিয়া এবং বর্ণবাদী রঙে রঙিন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই পোস্টার গুলোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়েছে। ভেনচুরা নিজে এই পোস্টারগুলোর ছবি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ওরা এরই মধ্যে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ১৮ জানুয়ারি আমরা এই দেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে চলেছি। কোনো ভয় নেই!’। এই পোস্টার গুলোর বিতর্কের মাঝে মনোযোগ আকর্ষণ করছে তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তবে এই বিতর্কের ব্যাপারে মন্তিজো শহরের মেয়র কার্লোস আলবিনো বলেছেন, ‘যখন বলা হয় আইন মানতে হবে, তখন সবাইকেই মানতেই হবে। এটি কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা দলের জন্য নয়। অভিবাসী হোক বা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য—সবাই আইন মানতে বাধ্য। আন্ড্রে ভেনচুরার মতো ব্যক্তিরাও আইন মানার বাইরে নয়। জেনোফোবিয়া ও বর্ণবাদ অপরাধ, আর তা আমরা মেনে নিচ্ছি না।’ মেয়র আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এটি আইন লঙ্ঘনের শামিল, তাই নগর পরিষদ সরাসরি অভিযোগ দায়ের করবে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।’ অন্যদিকে, বাংলাদেশি সাংবাদিক ফারিদ পাটোয়ারি বলছেন, ‘অনলাইনে এই ধরনের বার্তা দেখা যায়, কিন্তু রাস্তায় পোস্টার থাকলে তার প্রভাব অনেক বেশি। এটি সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ায়। পর্তুগাল সাধারণত শান্তিপূর্ণ ও আতিথেয় দেশ হিসেবে পরিচিত, তবে এই ধরনের বার্তা প্রকাশ পেলে আমাদের উচিত দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।’ বাংলাদেশের দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে প্রবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। উল্লেখ্য, পর্তুগালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা, লুইস মার্কেস মেন্ডেস, আন্তোনিও হোসে সেগুরো, আন্দ্রে ভেনচুরা, হেনরিক গোভেইয়া, জোয়াও কোট্রিম দে ফিগেইরেডো, আন্তোনিও ফিলিপ, ক্যাটারিনা মার্টিনস ও হোর্ঝে পিন্টোসহ আরও বেশ কয়েকজন।

  • সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। অতি সাম্প্রতিক এই অভিযানে মোট ২২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই খবর প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ, যা রবিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

    এর আগে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলে বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ হাজার brib-652 জন ব্যক্তি আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৪ হাজার ৩৯৪ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য এবং ৪ হাজার ৫৬৭ জন শ্রম আইন মানার বাইরে কাজ করায় গ্রেপ্তার করা হয়। সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে।

    বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩১ হাজার ৩৭৪ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৮১৪ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৬০ জন নারী। গ্রেপ্তার প্রবাসীদের মধ্যে ২৩ হাজার ২১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।

    এছাড়াও, আরও ৩ হাজার ৯৩৯ জনের সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৯ জনকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

    অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় ৩৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনের জন্য ২৩ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।

    সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করায় ১ হাজার ৬৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ইথিয়োপিয়ান ৫৪ শতাংশ, ইয়েমেনি ৪৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন ১ শতাংশ।

    সৌদি আরবের এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা কঠোর, যেখানে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা করলেই দণ্ডের ভোগদখল ও জরিমানা করা হয়। এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে নাগরিক ও অভিবাসীদের।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কাজ করছে। নিয়মিতভাবে সৌদি গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তার খবর।