Category: আন্তর্জাতিক

  • আমাদের পারমাণবিক শক্তি দিয়ে বিশ্বকে ১৫০ বার নিধন করা যাবে: ট্রাম্প

    আমাদের পারমাণবিক শক্তি দিয়ে বিশ্বকে ১৫০ বার নিধন করা যাবে: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বকে ১৫০ বার ধ্বংস করা সম্ভব। এ ছাড়াও, রাশিয়া ও চীনও তাদের পারমাণবিক বাহিনী আরও জোরদার করছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই তিন দেশের কাছেই বিশালস্ত পারমাণবিক শক্তি রয়েছে, যা বিশ্বকে নিশ্চিন্তে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

    রাশিয়া ও চীন গোপনে তাদের পারমাণবিক পরীক্ষাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন, যদিও কেউ প্রকাশ্যে এই বিষয়গুলো স্বীকার করছে না। সিএবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কাছে যথেষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র আছে, যা দিয়ে বিশ্বকে ১৫০ বার উড়িয়ে দিতে পারি। রাশিয়ারও অনেক আছে, চীনও দ্রুত এগোচ্ছে।”

    সোমবার (৩ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই তথ্য প্রকাশ করে। ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া একমাত্র দেশ নয় যে পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে; রাশিয়া ও চীনও এই অস্ত্র পরীক্ষা করছে, তবে তারা এটাকে মিডিয়ার সামনে আসতে দেয় না। তিনি উল্লেখ করেন, সিএবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ৬০ মিনিটস-এ দেখা যায় এমন এক সাক্ষাৎকারে, “রাশিয়া পরীক্ষা চালাচ্ছে, চীনও করছে— কিন্তু এসব নিয়ে কিছু বলছে না।”

    উপস্থাপিকা নোরা ও’ডনেল তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, বর্তমানে কেবল উত্তর কোরিয়াই পারমাণবিক পরীক্ষা করছে কি না, তখন ট্রাম্প পাল্টা বলেন, ‘‘সহস্রাব্দেরও বেশি সময় পর আবারও পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া।’’ তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আবারও পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “অন্য দেশগুলোও পরীক্ষা চালাচ্ছে। আমরাই একমাত্র দেশ যারা এই পরীক্ষা করি না। আমি চাই না যে আমরা একমাত্র দেশ হিসেবে থাকি যারা পরীক্ষা চালায় না।’’

    তিনি আরও যোগ করেন, “পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে পরীক্ষা না করলে আপনি জানতে পারবেন না তাতে কাজ করে কি না। অস্ত্র বানালেন, কিন্তু পরীক্ষা না করলে এর কার্যকারিতা বোঝা যায় না।’’

    অন্তর্বর্তীভাবে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের কাছে বিশাল পারমাণবিক শক্তি রয়েছে— যা অন্য কোনও দেশের নেই। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে, আর চীন অনেক পিছিয়ে। তবে আগামী পাঁচ বছরে তারা আমাদের সমান পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।”

  • আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ১০, আহত আড়াই শতাধিক

    আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ১০, আহত আড়াই শতাধিক

    উত্তর আফগানিস্তানের মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে সোমবার ভোরের সময় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২৬০ জন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১২:৫৯ মিনিটে ঘটে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ২৮ কিলোমিটার গভীরতায়, মাজার-ই-শরিফের আশেপাশে— যেখানে লোকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার।

    তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালখ ও সমানগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকাগুলো। তারা বলছে, জরুরি উদ্ধার ও সহায়তা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরফত জামান বলেন, উদ্ধারকার্য চলছে এবং মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আশ্বাস দেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ইতোমধ্যেই এলাকায় পৌঁছে গেছেন এবং আশপাশের হাসপাতালগুলোকে জরুরি অবস্থায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    USGS তাদের PAGER সিস্টেমে কমলা সতর্কতা (orange alert) জারি করেছে, যা নির্দেশ করে যে, এই ভূমিকম্পে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের সতর্কতা আঞ্চলিক বা জাতীয় পর্যায়ের জরুরি পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজন হয়।

    বালখ প্রদেশের মুখপাত্র হাজি যায়েদ জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পে মাজার-ই-শরিফের ঐতিহাসিক পবিত্র নীল মসজিদ (ব্লু মসজিদ) আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে এক বড় ক্ষতি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স (X)-এ উদ্ধার কাজের বিভিন্ন ভিডিও এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার কার্যক্রমের ছবি প্রকাশিত হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ তুলে নিচ্ছেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এই ভিডিও ও ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    আফগানিস্তান ভূতাত্ত্বিকভাবে দুটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। চলতি বছরের আগস্টে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে ভূমিকম্প ও এর পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ২,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ আহত হন।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০

    আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছাকাছি এলাকায় শনিবার রাত ১২:৫৯ মিনিটে ৬.৩ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে কমপক্ষে ২০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে, এবং উদ্ধার কাজ চালানোর কারণে হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    এই ভূমিকম্পটি দেশটিতে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ঘটে যাওয়া অন্যতম ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মাত্র দুই মাস আগে, আফগানিস্তানে 강 তেজস্বী ভূমিকম্পে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

    মাজার-ই-শরিফ এলাকার বাসিন্দারা ভয়ঙ্কর এই ভূমিকম্পে অনেকের ঘরবাড়ি বিধ Başkan, বাড়ির ধ্বংসের আতঙ্কে মধ্যরাতে রাস্তায় নামেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, এই শক্তিশালী কম্পনটি গভীরতার ২৮ কিলোমিটার তলদেশে অনুভূত হয়।

    সাধারণ মানুষের কাছে আশঙ্কার বিষয় হলো, বহু ভবন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংসের শঙ্কা রয়েছে। খবরে জানা যায়, পবিত্র নীল মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরকতপুরের মুখপাত্র হাজি জায়েদ বলেন, মধ্যরাতে এই ভূমিকম্পের কারণে অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে গেছে।

    মাজার-ই-শরীফ শহরে মোট জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ওবামা ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানালেন

    ওবামা ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানালেন

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাট দলকে আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের যেন ট্রাম্পের সাধারণ আইনবিরোধী শাসন ও অপ্রদর্শিত মনোভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার হয়। রোববার তিনি এই ডাক দিয়েছেন, যখন তিনি ভার্জিনিয়া এবং নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য দলীয় প্রার্থীদের পাশে থেকে গুজব ছড়াচ্ছেন। আজ সকালেই ওবামা ভার্জিনিয়ার নরফোক শহরের ওল্ড ডমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের এখন একসাথে দাঁড়ানোর সময়, কারণ এই আইনবহির্ভূত ও বেপরোয়া শাসনের মুখোমুখি হতে হবে। এটি এখন খুবই জরুরি, কারণ আমাদের দেশ ও গণতন্ত্রবান্ধব প্রতিষ্ঠান এখন গভীর অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।”
    তবে, এই সংগ্রাম সহজ নয়, এটা তিনি স্বীকার করেছেন। বলেছেন, “প্রতিদিনই হোয়াইট হাউস থেকে আসা তথ্যগুলো মানসিক ভারসাম্যহীনতা বিষয়ে ইঙ্গিত করে, যেখানে নিয়মিতই অবাক করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্য শুল্কনীতি নিয়ে আমি খুবই বিস্মিত, কেননা ব্যবসায়ী নেতাদের জন্য এই ভয়াবহ নীতিগুলো এত সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।”
    তিনি আরও বলেছেন, “সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে শহর শহর সেনা মোতায়েনের বিষয়গুলোও উদ্বেগের কারণ। কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা এই পরিস্থিতি অনুধাবন করেছে, তবে তারা ট্রাম্পকে থামাতে পারছে না। এজন্য আমাদের ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে আসতে হবে।”
    একই দিনে নিউ জার্সির নেওয়ার্ক শহরেও ওবামা বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি বলেন, “ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিদিনই আমাদের জন্য একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সরকার অচল হয়ে পড়ছে, জরুরি পরিষেবাগুলোর অর্থ কেটে দেওয়া হচ্ছে এবং এর মধ্যেই তিনি লাখ লাখ ডলার ব্যয়ে বিলিয়ার্ড বলরুম তৈরি করছেন।”
    প্রসঙ্গত, বারাক ওবামা একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি দুইবার ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তার শাসনকাল শেষের পর পুরোপুরি রাজনীতিতে নিয়োজিত হন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। সম্প্রতি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ভোটে ট্রাম্পের শুল্কনৈতিকনীতির বিরোধিতা করে রেজোল্যুশন পাস হয়, যেখানে প্রথমবারের মতো রিপাবলিকান দলের চারজন সদস্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।

  • ভারতে মন্দিরে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ মৃত্যু

    ভারতে মন্দিরে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ মৃত্যু

    অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে নবনির্মিত একটি মন্দিরে পদদলিত হয়ে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশীরভাগই নারী ও শিশু। এটি ঘটে শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে, যখন একাদশী পূজার জন্য হাজার হাজার মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছিল। হিন্দু সমাজের পবিত্র এই দিনটিতে কাশিবুগ্গার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দিরে ভিড় উপচে পড়া অবস্থায় এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, ভিড়ের চাপে মন্দিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়, যার ফলে পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়। নারীরা জোরেশোরে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাদের হাতে পূজার ঝুড়ি ছিল। ঘটনাস্থলে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার মধ্যে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে, কেউ একজন অন্যকে এগিয়ে আসতে বা উদ্ধার করতে পারছিলেন না। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গেছে, এই মন্দিরটিকে ‘মিনি ত্রিরুপাতি’ বলেও ডাকা হয় এবং এটি সরকারি ভাবে পরিচালিত হয় না। তবে, একাদশী পূজার এই মহা সমাগমের ব্যাপারে মন্দির কর্তৃপক্ষ কোনো আগাম জানানো হয়নি। দুর্ঘটনার স্থানটি নির্মাণ কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইড়ু আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ বলেছেন, এ ঘটনার সম্পূর্ণ প্রকৃতি তদন্ত করে বিচার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি আর আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হবে। সূত্র: এনডিটিভি

  • মেক্সিকোয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের মৃত্যু

    মেক্সিকোয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের মৃত্যু

    উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২৩ জন। নিহতের মধ্যে বেশ কিছু শিশু রয়েছে, এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই দুর্ঘটনা ঘটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হার্মোসিলো শহরে একটি ডিসকাউন্ট স্টোরে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে। রোববার (২ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    হাতাহতের কারণ হিসেবে প্রথমে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অগ্নিকাণ্ডের পরে অসংখ্য মানুষ দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অধিকাংশ মৃত্যু ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ার কারণেই ঘটেছে।

    অগ্নিকাণ্ডের সময়ে সেখানে ছিলো অনেক মানুষ, কারণ এটি হয়ছিলো ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের দিনে, যখন মানুষ প্রিয়জনদের স্মরণে নানা অনুষ্ঠান করছিল। দরিদ্রদের জন্য ডিসকাউন্টের এই দোকানে এ সময়ের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    সোনোরা প্রদেশের গভর্নর আলফোনসো দুরাজো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে জানিয়েছেন এবং উদ্ধার কাজের জন্য সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

    রেড ক্রস জানিয়েছে, উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে ৪০ কর্মী এবং ১০টি অ্যাম্বুলেন্স, যারা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তবে এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত চলছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি হতে পারে শর্ট সার্কিট বা এর আগের বিস্ফোরণের কারণে।

    শহরবাসীর ধারণা, এ ঘটনার পেছনে কোনও ধরনের হামলার অভিযোগ নেই। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান জানিয়ছেন, আগুন লাগার আগে সেখানে কি কোনও বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড নেভানোর জন্য প্রয়োজনে আরও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • নেপালে টানা বর্ষণ ও তুষারপাত: এভারেস্টের পাদদেশে অসংখ্য পর্যটক আটকা

    নেপালে টানা বর্ষণ ও তুষারপাত: এভারেস্টের পাদদেশে অসংখ্য পর্যটক আটকা

    নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলে লম্বা সময় ধরে টানা বর্ষণ, তুষারপাত ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ে গেছেন। শনিবার ভারতের সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা, ত্রাণের ৭৫% আটকে রেখেছে ইসরায়েল

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা, ত্রাণের ৭৫% আটকে রেখেছে ইসরায়েল

    মার্কিন মধ্যস্ততায় যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, তা থেকে কিছুটা হলেও ত্রাণের প্রবাহ বেড়েছে বললেও পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক নয়। গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার কারণে ত্রাণের বড় অংশ এখনো পৌঁছাতে পারেনি। দেশটি প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র ২৫ শতাংশই গাজার মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে পারছে, অর্থাৎ মোট ত্রাণের প্রায় ৭৫ শতাংশই আটকে রয়েছে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে। এ পরিস্থিতিতে মানবিক সংকট হৃদয়বিদারক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন গাজার কর্তৃপক্ষ।

    শনিবারের এক বিবৃতিতে গাজার সরকারী গণমাধ্যমে বলা হয়, গত ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তবে অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাকের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা দৈনিক ৬০০ ট্রাকের নির্ধারিত পরিমাণের খুবই কম—মাত্র ২৪ শতাংশ। এক পর্যায়ে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে এই ট্রাকগুলোতে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের মানবিক সংকট আরও মারাত্মকতর হয়ে উঠেছে।

    এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা চাপ সৃষ্টি করেন, এবং শর্ত বা বিধিনিষেধ বিনা দ্বিধায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেন। অর্থাৎ, কোনো শর্তের তোয়াক্কা না করে মানবিক কাজে এগিয়ে আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিশেষ করে, দীর্ঘ দুই বছর সংঘর্ষের কারণে বহু পরিবার এখন আশ্রয়হীন। অনেকের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রুট পরিবর্তনের ফলে ত্রাণ কার্যক্রম বেশ বেসামাল হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন কনভয়গুলোকে মিসরের সীমান্তঘেঁষা ফিলাডেলফি করিডর দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা মারাত্মক যানজটে আটকে রয়েছে।” এ জন্য যান চলাচল সহজ করার জন্য আরও সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ রুট চালুর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

    অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী শনিবারও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। খাস জোন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে বিমান, কামান ও ট্যাংকের গোলাবর্ষণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পাশের বেশ কয়েকটি ভবনও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, “ইসরায়েলি ড্রোন ও ভারী গোলাবর্ষণে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ধ্বংসস্তুপে রূপান্তরিত হচ্ছে।”

    মহামারী বা জরুরি পরিস্থিতির মতো এই পরিস্থিতিতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৯৪ জন আহত হয়েছেন। পুরো পরিস্থিতি মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ আহত হচ্ছে, অনেক প্রাণ হারাচ্ছে।

  • ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিদরা

    ২০২৬ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিদরা

    নতুন বছর শুরু হতে এখনো দুই মাসের বেশি সময় বাকি। এরই মধ্যে ২০২৬ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদরা। they জানিয়েছেন যে, এই বছর রমজানের শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য বেশ কিছু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    গত ১৬ অক্টোবর, আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থার সভাপতি ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে হিজরি ১৪৪৭ সালের রমজান শুরু হবে আনুমানিক ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে সূর্যাস্তের এক মিনিট পরে চাঁদ আকাশে উঠবে বলে জানা গেছে, ফলে চাঁদটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। তাই, ধারণা করা হচ্ছে, রমজানের সূচনা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ১৯ ফেব্রুয়ারি।

    এছাড়া, ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ২০ মার্চ, শুক্রবার। তিনি আরো বলেছেন, রমজানের প্রথম দিন হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি, এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে ঈদ উৎসবের দিন নির্ধারিত হবে ২০ মার্চ।

    প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যপ্রভৃতি দেশগুলিতে রোজার সময়কাল বৃদ্ধি পাবে। প্রথমে প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা রোজা বজায় থাকবে, যার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে। কালানুক্রমে এটি পৌঁছাবে ১৩ ঘণ্টার কোটার দিকে।

    আল-আরাবিয়া সূত্র বলছে, সৌদি আরবের চাঁদ দেখার কমিটি আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করবে, যেখানে রমজান শুরু ও ঈদের তারিখ নির্ধারণের জন্য আলোচনা হবে। জানা যায়, সৌদি আরব তাদের নিজস্ব উম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রোজা ও ঈদ ঘোষণা করে। তবে উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার তারিখের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ভিন্নতা থাকায়, বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য তারিখ হলো ২০ ফেব্রুয়ারি রোজার প্রথম দিন এবং ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর পালন হতে পারে।

  • তানজানিয়ায় নির্বাচনী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০, বিরোধী দলের দাবি

    তানজানিয়ায় নির্বাচনী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০, বিরোধী দলের দাবি

    তানজানিয়ায় recent ইতিবাচক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন দিনের ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ৭০০ জন নিহতের অভিযোগ উঠেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল চাদেমা থেকে। শুক্রবার, দারুস সালামের কেন্দ্রস্থল থেকে দলের মুখপাত্র জন কিটোকা এই তথ্য পেশ করেন। তিনি জানান, নিহতের সংখ্যার মধ্যে দারুস সালামে ৩৫০ জন, মওয়ানজায় ২০০ এর বেশি এবং দেশের অন্যান্য অংশে এই সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০। এ তথ্য শোনা গেছে একটি নিরাপত্তা সূত্র থেকেও, যা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে তানজানিয়া সেনাবাহিনীর মধ্যেও। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা অন্তত ১০০ জন নিহতের সুস্পষ্ট তথ্য পেয়েছে। মুখপাত্র জন কিটোকা বলেন, চাদেমার পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে মরদেহ গণনা করেছে। তবে, বেশ কিছু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। কিটোকা একান্তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করুন, পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করুন এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখান—এটাই ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে, এ মুহূর্তে কোনো নির্বাচন হয়নি। তাই আমাদের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দরকার, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।