Category: আন্তর্জাতিক

  • মামদানি জয় যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ট্রাম্প

    মামদানি জয় যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: ট্রাম্প

    নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানি বিজয়ীর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই বিজয়যুক্ত শহরটি এখন থেকে ‘সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ফেলেছে’ যুক্তরাষ্ট্রের। ট্রাম্পের মতে, এই পরিবর্তনের কারণে নিউইয়র্ক এখন ‘কমিউনিস্ট শহরে’ রূপান্তরিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তিনি মামদানির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বুধবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছেন, “আমরা পরিস্থিতি দেখব,” তবে তিনি জানাননি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, এখন নিউইয়র্ক ‘কমিউনিস্ট শহর’ হয়ে উঠছে।

    মামদানির বিজয়ের একদিন পর মায়ামিতে এক বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, “ফ্লোরিডা খুব শিগগিরই নিউইয়র্কের কমিউনিজম থেকে পালাতে আসা মানুষের জন্য আশ্রয় নিয়ন্ত্র স্থান হয়ে উঠবে।” তিনি আরও বলেন, “আমেরিকার নাগরিকদের জন্য এখন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়— কমিউনিজম বেছে নেব, না সমঝোতা?” তিনি আবেগপ্রবণভাবে বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক দুর্দশা চাই না, বরং অর্থনৈতিক অলৌকিকতা চাই।”

    তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাই না নিউইয়র্ক ব্যর্থ হবে। হয়তো কিছুটা সহায়তা দেওয়া হতে পারে মামদানিকে। ওকে আমরা সামান্য সাহায্য করব।

    প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর তিনি নিজের নির্বাচনী জয়ের এক বছর পূর্তিতে ভাষণে উল্লেখ করেন, “আমরা আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করেছি, স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি, এবং সেই মহামারী রাতে দেশকে রক্ষা করেছি।”

    অপরদিকে, ব্যবসায়ী মহল, রক্ষণশীল গণমাধ্যম এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনাকে উপেক্ষা করে, নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মামদানি। তিনি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে আলোচনা করতে চান।

    অভিবাসী মুসলিম এই রাজনীতিক, যিনি কার্যত আউটসাইডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, সবাইকে驚িয়ে দিয়েছেন। তিনি মজার ছলে বলেন, “হোয়াইট হাউস থেকে এখনো আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়নি।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই যে আমরা কিভাবে নিউইয়র্কবাসীর আরো ভালো সেবা দিতে পারি, সেই বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী।”

    মামদানি বলেন, ট্রাম্পের মতোই তিনি জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের মূল্য বৃদ্ধির কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, “প্রেসিডেন্টের জন্য শেখার জিনিস হলো— শুধুই শ্রমজীবী মানুষের সংকট চিহ্নিত করলেই হবে না, সেই সংকটের সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।”

  • ফিলিপাইনে ‘কালমায়েগি’ ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪০

    ফিলিপাইনে ‘কালমায়েগি’ ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪০

    ফিলিপাইনে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘কালমায়েগি’ এর আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৪০ জনে পৌঁছেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদ্ব্যতীত, এখনও ১২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধার কাজের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ঝড় বর্তমানে ভিয়েতনামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। খবর এএফপির।

    এই সপ্তাহে সেবু প্রদেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে রাস্তা-ঘাট ভেসে গেছে, বহু গাড়ি পুরোটাই পানির নিচে ডুবে গেছে, এছাড়াও নদীর ধারের স্থাপনা ও বিশাল জাহাজের কন্টেইনারের বেশ কয়েকটি ভেসে গেছে।

    দেশটির জাতীয় নাগরিক প্রতিরক্ষা অফিস বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ১১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তবে সেবু প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের রেকর্ড হিসেব অনুযায়ী, আরও ২৮ জনের মৃত্যু সংবাদের মধ্যে যোগ হওয়ার পরে এই সংখ্যা ১৪০ ছাড়িয়ে যাবে।

    মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের ছয়জন ক্রু-ও রয়েছেন। গত মঙ্গলবার, সেবুর দক্ষিণে মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য হেলিকপ্টারটি পাঠানো হচ্ছিল, কিন্তু আগুসান দেল সুর এলাকার কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

    ফিলিপাইন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে বিমানবাহিনীর একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, পাইলটসহ ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হেলিকপ্টারটি ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া চারটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি ছিল।

    জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা এক প্রতিবেদনে বলেছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চার লাখের বেশি মানুষ তাদের ঘর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশে আগামী এক বছরের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের সয়াবিন আমদানি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এ চুক্তির আওতায় উল্লেখিত সময়ে বড় পরিমাণে সয়াবিন সংগ্রহ করবে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের উপস্থিতি বাড়বে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতের শিল্পমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সয়ামিলের রপ্তানি আগের তুলনায় কম ছিল। এখন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক পরিমাণে সয়াবিন কিনতে শুরু করলে ভারতের সয়ামিলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে ভারতের সয়ামিলের রপ্তানি কমে ১.৬৩ লাখ টনে আచ్చেছে, যা আগে থাকত তার থেকে ৪৬ শতাংশ কম। এই পরিস্থিতিতে ডিএন পাঠক, ভারতের সয়ামিল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প সংস্থার একজন নেতা বলছেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমদামে অনেক সয়াবিন কিনছে। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আমাদের রপ্তানি অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশ একদিকে বিশাল পরিমাণে সয়াবিন কিনছে, যা আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়।’

    মঙ্গলবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ঘোষণা করে, বাংলাদেশের তিনটি অভিহিত শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী সংস্থা আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন কিনবে।

    এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তি, কারণ চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উত্তেজনার ফলে সয়াবিন আমদানির পরিমাণ অর্ধেকে নিয়ে এসেছিল। তখন চীন বিকল্প বাজার খুঁজছিল; এর মধ্যে বাংলাদেশের সয়াবিন আমদানির সুযোগ তৈরি হয়। এটি বোঝায়, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় পরিমাণে সয়াবিন কিনছে, যা ভারতের জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণের ঘোষণা

    পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণের ঘোষণা

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অবিলম্বে’ পারমাণবিক পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার জবাব হিসেবে পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি জ্যেষ্ঠ বৈঠকে বসে, এই বিষয়ের জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাড়তি তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। পুতিনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে যদি কেউ পারমাণবিক পরীক্ষা চালাতে চান, তাহলে রাশিয়াকে সমান প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা। একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, রুশ প্রশাসন এখন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যাতে পরিস্থিতি বিরূপ হলে শিগগিরই পরীক্ষায় নেমে পড়া যায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে রাশিয়া আর কখনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বমঞ্চে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নতুন করে এই বিষয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও সামরিক অভিনিবেশ বাড়ছে, যার কারণেই পরমাণু অস্ত্র নিয়ে নতুন দিক নির্দেশনা আসছে। ট্রাম্পের গত অক্টোবরের এক ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, “আমরা এখনই পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। যাতে আমাদেরও শক্তিধর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়।” এর পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছিলেন, রাশিয়ার নতুন পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনাবোধ প্রকাশ করেছেন। ক্রেমলিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে একাধিক উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক করেছেন, যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জানান, অপ্রকাশিত দুর্যোগ বা সংকট এড়াতে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের নোভাইয়া জেমলাইয়া ঘাঁটিতে প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বে বর্তমানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি বহুমুখী অস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তির আধিপত্য রয়েছে। রাশিয়ার কাছে প্রায় ৫ হাজার ৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে, যার মধ্যে এক হাজার ৬০০টি সক্রিয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৫৫০, এর মধ্যে সক্রিয় প্রায় ৩৮০০। অতীতের কথায় গেলে, ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছিল বিশাল সংখ্যক ৩১ হাজারের বেশি ওয়ারহেড। চীনও দ্রুত তার পারমাণবিক শক্তির ভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে, বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬০০ ওয়ারহেড, যা প্রতিবছর গড়ে ১০০টি করে বাড়ছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া। মাত্র কয়েক দশক আগে, ১৯৯২ সালে, যুক্তরাষ্ট্র শেষবার পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। পরে ১৯96 সালে বিস্তৃত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ধরনের পরীক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তবে, ভারতের, পাকিস্তানের এবং উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষা তাদের পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প এখনও স্পষ্ট করেননি যে, তিনি যেসব পারমাণবিক পরীক্ষার কথা বলেছেন, তা হচ্ছে বিস্ফোরণমূলক পরীক্ষা নাকি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পারমাণবিক বিস্ফোরণ হয়, তাহলে দেখা দিতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা। কারণ অন্য দেশগুলোও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে পারে। জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষক আন্দ্রে বাকলিৎসকি সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক পরীক্ষার পরিসর বাড়লে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আরও গাঢ় হয়ে উঠবে এবং এটা সার্বভৌম বিশ্ব শান্তির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি আরও যোগ করেছেন, “ক্রেমলিনের এই প্রতিক্রিয়া এককথায় নতুন এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে, যা শেষমেষ সামগ্রিক বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ধাঁচবেয়েও পড়তে পারে।” এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর জন্য একটাই আশঙ্কা, পারমাণবিক শক্তির আধিপত্য আর বিস্তার ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

  • রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    ভারতের বিহার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক দিন আগে ফের ভোটচুরি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের মহাসচিব ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভোটচুরি সংঘটিত হয়েছে। তার মতে, হরিয়ানায় মোট ২ কোটি ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ ভোটার থাকছে ভুয়া বা জাল ভোটার। এর অর্থ হলো, প্রতিটি আটজনের মধ্যে একজন করে ভোটার ভুয়া। এই ধরনের ভোটারদের সংখ্যা বিশ্লেষণে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের ছবি ব্যবহার করে বহু ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একজন ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, ওই মহিলার ছবি বিভিন্ন ভোটার তালিকায় মোট ২২ বার ব্যবহার করা হয়েছে—কখনও তিনি বিভিন নামের সাথে যুক্ত, যেমন সীমা, সুইটি বা সরস্বতী।

    রাহুল গান্ধীর দাবি, এই ভোট চুরির মাধ্যমে হরিয়ানায় বিজেপি পরপর নির্বাচনে জয় লাভ করেছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের হার মাত্র ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হয়েছিল, তাই এই জালিয়াতি ও ভোটচুরির ফলে ফলাফল অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এই ভোট চুরির জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা ও সততা নষ্ট করেছে। রাহুলের মতে, এই নির্বাচনকে টার্গেট করে হরিয়ানায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে। তিনি আরও জানান, হরিয়ানার বেশিরভাগ বুথের ফলাফলের পূর্বাভাসে নিশ্চিত ছিল যে কংগ্রেস জিতবেন, কিন্তু ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অগ্রাহ্য করে বলেছে, তারা যখন এই সম্পত্তি সম্পর্কে গোপন তথ্য জানতে পারে তখন কেন কেউ অভিযোগ করেনি। কমিশনের মতে, হরিয়ানার ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভুল ও ভুয়া ভোটার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ বা মামলা এখনো জমা পড়েনি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এই মুহূর্তে মাত্র ২২টি নির্বাচনী আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ফলে, কমিশন এই অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও বিশাল ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন নেই।

  • মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনের পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই বিজয় দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এখনো শহরটি ‘কমিউনিস্ট শহর’ হয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়গুলো দেখছি” এবং স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেননি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্পের মতে, নিউইয়র্ক এখন ‘কমিউনিজম’ এর রাজত্বে চলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং ফ্লোরিডাকে চরম পন্থা থেকে মুক্ত করার জন্য প্রস্তুত বলেও উচারে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে এই শহরকে বাঁচানো ও উন্নত করার জন্য মার্কিনিদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে— কমিউনিজম গ্রহণ করবেন, নাকি যুক্তিসঙ্গত উন্নয়ন ও সমঝোতা।

    ট্রাম্প তার নির্বাচনী জয়ের এক বছর পূর্তিতে মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি এবং একসঙ্গে দেশকে রক্ষা করেছি।” এরপরেই তিনি জানান, মামদানির বিজয়ে তিনি সহযোগিতার বিষয়েও আগ্রহী এবং বলছেন, “হয়তো তাকে একটু সাহায্য করব।” ট্রাম্প এই বক্তব্য দেন ডেমোক্র্যাট তারকা কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে জয়ের এক বছর উপলক্ষে বক্তৃতায়।

    অবশ্য, ব্যবসায়ী মহল, রক্ষণশীল গণমাধ্যম এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচকদের মতামতের মাঝেই, অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে, অপশনটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটে নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মামদানি। ভোটের পর তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান। মুসলিম অভিযাত্রীর এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জানান, তিনি নিজেকে বহির্বাগত থেকে উঠে আসা একজন outsider হিসেবে দেখেছেন এবং এখন তিনি চমকে দিয়েছেন সবাইকে। তিনি মজার ছলে বলেন, “হোয়াইট হাউস থেকে এখনও আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়নি।”

    মামদানির বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, নিউইয়র্কবাসীর কল্যাণে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আরও কার্যকর আলোচনা করতে চান, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনায়। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের মতো করে আমাদেরও সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যোগ করেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে নিউইয়র্ক আরও সুন্দর এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”

  • ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি এখনও ১২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধারের অপেক্ষায়। এই সময়ে ঝড়টি ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে এএফপি।

    এই সপ্তাহে সেবু প্রদেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে গাড়ি, নদীর তীরে স্থাপনা এবং বিশাল জাহাজের কন্টেনার পর্যন্ত ভেসে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই বন্যার কারণে বহু স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জাতীয় নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নিশ্চিত করে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সেবু প্রাদেশিক প্রশাসন বলছে, তাদের রেকর্ডে দেখা গেছে, মৃতের সংখ্যা আরও ২৮ জন বাড়তে পারে। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়াতে পারে।

    উদ্ধারের সময় গত মঙ্গলবার সেবুর দক্ষিণে মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পাঠানো একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়। হেলিকপ্টারটি আজগাসান দেল সুর এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়।

    বিমানের খবর অনুসারে, হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে তৎকালীন খোঁজখবর ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। পরে বিমানবাহিনী এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ”পাইলটসহ ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।” এই হেলিকপ্টারটি ত্রাণ কাজে নামানো চারটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল।

    জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চার লাখের বেশি মানুষের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন আমদানি করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শীর্ষ তিনটি সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যে তারা এই বৃহৎ অঙ্কের সয়াবিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সয়ামিলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারতীয় সয়ামিলের রপ্তানি ইতিমধ্যে কমে এসেছে। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি কার্যত ভারতের সয়ামিল শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম প্রধান সয়ামিলের বাজার, তবে গত বছর দেশটিতে সয়ামিলের রপ্তানি কমে ১ দশমিক ৬৩ লাখ টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম। এর পাশাপাশি, ভারতের সয়ামিলের প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডিএন পাঠক বলেছেন, “বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমদামে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ সালে আমাদের রপ্তানি significantly কমে যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের এটি একটি বিশাল চুক্তি যা নিশ্চিত করে যে, এখন থেকে তারা বাংলাদেশের মতো দেশে থেকে সয়াবিন কিনবে না। এই বিষয়টি আমাদের জন্য এক প্রকার চিন্তার কারণ।”

    গত মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, বাংলাদেশের তিন শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন কিনবে। এই চুক্তিটি দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীন গত অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা কমিয়ে দিয়ে বিকল্প বাজার খুঁজছিল, তখন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন রপ্তানি করতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখা দেয়।

    এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হলেও, ভারতের জন্য অবশ্যই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যখন এখন বেশিরভাগ দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং স্পর্ধা বাড়ছে।

  • পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার নিজ দেশের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলছেন, তারা পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করতে প্রস্তুত হন।

    বিশ্ব সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাসম্পন্ন দেশ কোনো পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়াও সমান শক্তিতে প্রতিশোধ দেবে। তিনি বলেন, “আমরা সুতরাং পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছি, তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবে, নিরাপত্তা পর্ষদে রিপোর্ট দেবে এবং পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়ার পরে রাশিয়া আর কোনও পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্ব পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা কঠোর নীতির কারণে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উত্তপ্ত।

    অক্টোবরে ট্রাম্প হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেন এবং পরের দিন রাশিয়ার দুটি বৃহৎ তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর ৩০ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছেন “অবিলম্বে” পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার জন্য, যেন যুক্তরাষ্ট্রও অন্য বড় শক্তিগুলোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে তিনি রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সমালোচনা করেছিলেন, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

    ক্রেমলিনের সূত্র জানায়, পুতিন একটি পরিকল্পিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যেখানে তিনি জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বেলোউসোভ বলেন, “আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে। আমাদের পারমাণবিক বাহিনীকে দ্রুত প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ ও প্রতিশোধে সক্ষম হই।” তিনি জানান, রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের নোভাইয়া জেমলাইয়া ঘাঁটি অল্প সময়ের নোটিশে পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনও দেশই আর পারমাণবিক পরীক্ষায় অনড় থাকতে চাইছে না। বিশ্বে বর্তমানে রাশিয়া মোট ৫ হাজার ৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সক্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাও প্রায় একই রকম, যেখানে সক্রিয় ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৩৮০০। ইতিহাসে দেখা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি ওয়ারহেড ছিল।

    অন্যদিকে, চীন এখনও তুলনামূলকভাবে কম হলেও গত কয়েক বছর ধরে তার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে চীনের ওয়ারহেড সংখ্যা প্রায় ৬০০, এবং প্রতিবছর গড়ে ১০০টি করে বাড়ছে। অন্যান্য পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো হলো ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া।

    ১৯৯২ সালে শেষবার পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, এরপর থেকে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় অনেক দেশই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ভারতের ও পাকিস্তানের দেয়া পরীক্ষা ১৯৯৮ সালে এবং উত্তর কোরিয়ার ২০০৬ সালের পর থেকে চলমান। এ বছর ও শেষ নয়, তারা আবার কয়েকবার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং সামগ্রিক বিশ্বস্ততা ও স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, তার কথা কি সরাসরি পারমাণবিক বিস্ফোরণ সংক্রান্ত, না পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি পারমাণবিক পরীক্ষার পথেই ছাড় হতে পারে, যেখানে নতুন অস্ত্রের সরবরাহ ও উৎপাদনের জন্য পরীক্ষা হবে।

    বিশ্লেষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনও দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু হলে এটি অন্য দেশগুলোর ড্রাগে ঠেলে দিতে পারে যে, এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা অবনতি হতে পারে। জাতিসংঘের উচিত এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা এবং অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া। তবে তা না হলে, ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দিকে বিশ্ব চলে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মানবতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

  • বিদেশে সরকার উৎখাতের মার্কিন নীতি শেষ: তুলসী গ্যাবার্ড

    বিদেশে সরকার উৎখাতের মার্কিন নীতি শেষ: তুলসী গ্যাবার্ড

    আন্তর্জাতিকভাবে নানা দেশের সরকার উচ্ছেদ ও শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার পুরোনো মার্কিন নীতির দিন শেষ বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের এই বহুপাক্ষিক নীতিগুলি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পক্ষে যায়নি; বরং এর ফলে বিশ্বে অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রকৃতিগত নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে এক নজির হলো ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএসের উত্থান, যা বিশ্বের বহু অঞ্চলে অকার্যকর এবং ধ্বংসের মুখে পরিণত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নতুন মার্কিন প্রশাসন এই পুরোনো নীতিগুলি পরিত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক পথ গ্রহণ করতে চায়।

    গত ৩১ অক্টোবর বাহরাইনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইআইএসএস) এর বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা সংলাপে’ এসব গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, “পুরোনো ওয়াশিংটনের চিন্তাধারা আজকের বিশ্বের জন্য আর উপযোগী নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমরা পিছিয়ে এসে এক অকার্যকর পর্যায়ে বন্দী হয়েছি, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল অন্য দেশের শাসন পরিবর্তন বা সরকার পুনর্গঠন। এই ‘একই সাইজ সমস্ত জন্য’ নীতির ফলে, যেখানে অন্য দেশের সরকার উৎখাত করে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হত, সেখানে ফলাফল ছিল আরেকটি শত্রুতা, অর্থহানিসহ আইএসআইএসের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি।”

    তুলসী গ্যাবার্ড আরও বলেন, বর্তমানে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আব্রাহাম চুক্তির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে Mỹ এখন জোর দিচ্ছে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর জন্য ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনা ও যোগাযোগের উদ্যোগ। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি এক প্রজন্মের জন্য স্থবির পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠেছেন।

    গ্যাবার্ড উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে নতুন করে শক্তি অর্জন করেছে। তিনি বলছেন, সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে অর্থনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠা, বলকান অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা, ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নয়ন, ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি, রুয়ান্ডা ও ডিআরসি’র মধ্যে শান্তিচুক্তি—এই সকল সফলতা ট্রাম্পের রাজনৈতিক және কূটনৈতিক কৌশলের ফল। এমনকি, মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতও তিনি রুখতে সফল হয়েছেন।

    সর্বশেষ, তিনি উল্লেখ করেন, হামাসের হাতে আটকমাত্র কয়েকজন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি দেখানো যাচ্ছে। যদিও পরিস্থিতি এখনও সূক্ষ্ম, তবে এই শান্তিচুক্তি ধীরে ধীরে ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং এই সংলাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করে তুলছেন।

    গ্যাবার্ড বললেন, এই সব প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি হলো, ‘যৌথ স্বার্থের উপর গুরুত্ব দেয়ার’ ভাবনা। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে পারস্পরিক লাভজনক সমাধানের খোঁজ করা; মতপার্থক্যসমূহ সংলাপে সমাধান করা। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপলব্ধি করেন, সবাই আমাদের মতো একই মূল্যবোধ বা শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে না, যা স্বাভাবিক। তাই গুরুত্বপূর্ণ হলো—অভিন্ন স্বার্থগুলো চিহ্নিত করে, সেই অনুযায়ী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নই স্থায়ী সম্পর্কের মূল ভিত্তি।”

    গ্যাবার্ড আরও বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মানে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে নেওয়া নয়। বরং ট্রাম্প দেখানো চেস্টা করছেন, সরাসরি কূটনীতি ও সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে, যেখানে অন্যরা ভয় পায় সেখানে অগ্রগতি হয়। এতে বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হয়।

    শেষে, বাহরাইনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে গ্যাবার্ড বলেন, ‘আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। বাহরাইন এই ধরণের সংলাপের জন্য আবারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির পথে আমাদের পথপ্রদর্শক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে এর থেকে শিক্ষা নিয়ে যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

    গ্যাবার্ড বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন শান্তির পক্ষে, যেখানে যুদ্ধের বদলে সহযোগিতা নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হবে। এই শান্তিই হবে দেশের সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।’