Category: আন্তর্জাতিক

  • জলবায়ু সংকটই এখন মূল স্বাস্থ্য সংকট: ডব্লিউএইচও

    জলবায়ু সংকটই এখন মূল স্বাস্থ্য সংকট: ডব্লিউএইচও

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করছে যে জলবায়ু সংকট এখন এক বিশাল স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। সংস্থাটির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে, যা আগে কখনো এতভাবে দেখা যায়নি। এই কারণেই এখন সময় এসেছে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে।

    ডব্লিউএইচওর মহাসচিব টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস গত সপ্তাহে ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘের কৌশলগত জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০-এ অংশ নিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রভাবশালী যুক্তিটি হলো মানুষের স্বাস্থ্য। তিনি এও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

    টেড্রোস আরও বলেন, “মানুষের জন্য তাদের বা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য রক্ষা খুবই সহজ, কিন্তু হিমবাহ বা জীববৈচিত্র্য রক্ষা অত্যন্ত জরুরি হলেও এটি বোঝাতে অনেক সময় কঠিন। যেহেতু স্বাস্থ্য মানুষের কাছের বিষয়, তাই এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, এই সপ্তাহে কপ-৩০-এর স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালিত হবে। ব্রাজিল এই দিনে জলবায়ু সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনা ঘোষণা করবে, যা অন্য দেশগুলোকেও তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে ও জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

    টেড্রোস আরও বলেন, “জলবায়ু সংকটই এখন মূল স্বাস্থ্য সংকট।”

    অন্যদিকে, ডব্লিউএইচওর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান রুডিগার ক্রেখ বলেন, “যদিও জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো officiëleভাবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আলাপচারিতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান তৈরি হয়নি। তবে এখনই সময় এসেছে স্বাস্থ্যকে বৈঠকের অংশ করে নেওয়ার, এবং আমাদের আশা আগামী বছর কপ-৩১-এ এটি বাস্তবায়িত হবে।”

  • পেরুতে বাস উলটে খাদে পড়ে নিহত ৩৭

    পেরুতে বাস উলটে খাদে পড়ে নিহত ৩৭

    পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেকুইপা অঞ্চলে পাহাড়ি সড়ক থেকে একটি বাস ছিটকে পড়ে নদীর গভীর খাদে, যেখানে কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বুধবার (১২ নভেম্বর) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।

    প্রতিবেদন অনুসারে, দুর্ঘটনাটি ঘটে আরেকুইপা অঞ্চলের ওকোনা জেলার পানামেরিকানা সড়কে, যেখানে স্থানীয় সময় সকাল ঠিক তখনই ঘটে। ঘটনাস্থলে থাকা দমকলকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে ৩৬ জনের মৃত্যু ঘটে আরও একজন হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

    ওয়ালথার ওপোর্তো, যারা আরেকুইপা আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি, তিনি বলেছেন, উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, বাসটি একটি ভ্যানের সাথে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার পাশে উলটে খাদে পড়ে যায়। তখন বাসে মোট ৬০ জন যাত্রী ছিলেন।

    সরকারি দিক থেকেও জানানো হয়েছে, আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এই দুর্ঘটনা শোকাহত পরিবারের জন্য এক কঠিন ক্ষতি ও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • পাকিস্তানে সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের আজীবন দায়মুক্তির সুযোগ সংসদ থেকে

    পাকিস্তানে সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টের আজীবন দায়মুক্তির সুযোগ সংসদ থেকে

    পাকিস্তানের সংসদ অর্থাৎ সেখানে দেশের সংবিধানে ব্যাপক সংস্কার করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে থাকাকালীন সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টকে আজীবন দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সাংবিধানিক সংশোধনী অনুমোদন লাভ করে, যা দেশের সাধারণ জনতাকে বেশ উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিবর্তন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, সংশোধনীর ফলে পাকিস্তানের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিয়ে নতুন ২৭তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামের একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা সামরিক ক্ষমতাকে একীভূত করবে এবং একটি ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

    এই সংশোধনীর ফলে দেশটির সেনাপ্রধানের দায়িত্ব এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে সেনাপ্রধান অসীম মুনির সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিয়মিত থাকবেন। গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হয়েছেন।

    সংশোধনী অনুযায়ী, সেনাপ্রধানসহ অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদেরও আজীবন দায়মুক্তির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা পদোন্নতি পেয়ে থাকলে বা অন্য কোনও পরিস্থিতিতে থাকলেও সকল ধরনের ফৌজদারি মামলার হাত থেকে মুক্ত থাকবেন। এই সুবিধা আগে কেবল প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

    বিনিয়োগের একজন উকিল ওসামা মালিক বলেন, “এই সংশোধনী স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের অবশিষ্ট গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করবে।” তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর বেসামরিক তদারকি কমিয়ে দেবে এবং সামরিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করবে, যেখানে আগে সকল বাহিনীর প্রধানরা সমান মর্যাদা পেতেন।

    এছাড়াও, এই সংশোধনী প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকেও দায়মুক্তি দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে তিনি যেকোনো ফৌজদারি মামলার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তবে, বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনও সাবেক প্রেসিডেন্ট আবার অন্য কোনও সরকারি পদে যোগ দেন, তবে এই দায়মুক্তি কার্যকর হবে না।

    জারদারির বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতির মামলা থাকলেও, আগের সময় সেগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এই সংশোধনী them তাকে কার্যত অদণ্ডনীয় করে তুলেছে। তবে ভবিষ্যতে যদি তিনি আবার কোনও সরকারি পদ গ্রহণ করেন, তখন তার জন্য কোনও দায়মুক্তি থাকবে না।

    সাংবিধানিক পরিবর্তনের বৈধতা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন তোলার ক্ষমতাও এই সংশোধনীতে বাধা দেয়া হয়েছে। সংসদে এই বিল পাস হয়েছে বেশ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে এবং এখন এটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়া অধ্যায় শুরু হবে। সূত্র: এএফপি।

  • সৌদি আরবে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও মক্কায় রেড এ্যালার্ট জারি

    সৌদি আরবে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও মক্কায় রেড এ্যালার্ট জারি

    সৌদি আরবে হঠাৎ করে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। বুধবার এভাবে ঝমঝমে বৃষ্টিপাতের কারণে মক্কা দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কিছু রাস্তা জলাবদ্ধ হয়ে গেছে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে মক্কার কেন্দ্রীয় এলাকা মসজিদুল হারামে প্রবল বাতাস ও কালো মেঘের আকাশ দেখা গেলেও সেখানে বৃষ্টি হয়নি।

    সৌদির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে এখনো ভারী বর্ষণ, শিলাবৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। তারা রেড এলার্ট জারি করে সতর্ক করেছেন এবং বলেন, এই পরিস্থিতি রাত পর্যন্ত স্থায়িত্ব থাকতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, ডিফা সহ বিভিন্ন দক্ষিণ মক্কার এলাকায় পানি জমে রাস্তায় হাঁটতি জন জীবন বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে এই প্রবল বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

    এনসিএমের মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি বলেছেন, আগামী ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবের বেশিরভাগ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং নিচু এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য আহ্বান জানান।

    সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, আসির, আল বাহা, জাজান, কাসিম, হাইল, তাবুক, আল জৌফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল ও কিছু পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রবল দমকা বাতাস, শিলাবৃষ্টি, উঁচু ঢেউ এবং আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ জন্য জনসাধারণকে নিয়মিত সরকারি সংবাদ মাধ্যমে তথ্য নেওয়া এবং সতর্ক থাকবার জন্য বলা হচ্ছে।

    বিশেষ করে, মক্কা প্রদেশের সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জনসাধারণ ও চালকদের বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেছে, পানি জমতে পারে এমন উপত্যকা, টানেল ও নিচু এলাকা থেকে বিরত থাকতে। তাছাড়া, জেদ্দা ও তাইফের মধ্যবর্তী সড়কে চলাচলকারী চালকদের মনে রাখা উচিত, স্বচ্ছদৃশ্যমানতা কম এবং রাস্তার পিচ্ছিলত্বের কারণে ঝুঁকি থাকতে পারে। সাংবাদিক সূত্র: দ্য সিয়াসাত ডেইলি।

  • পাকিস্তানের ফের হামলা আশঙ্কা আফগানিস্তানে

    পাকিস্তানের ফের হামলা আশঙ্কা আফগানিস্তানে

    আফগানিস্তানে আবারও আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পর এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সাম্প্রতিক এই হামলার পর পাকিস্তান তার সীমান্তের ভিতরে আফগানিস্তানে লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলা চালানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি আতঙ্কের ষড়যন্ত্রের জন্য আফগান তালেবান সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেন, এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর পৃষ্ঠপোষকতাও রয়েছে সেখানে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর)।

    সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত দুই দিনে পাকিস্তানে দুটি বড় সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে, যার একটির ঘটনা দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানা ক্যাডেট কলেজে, অন্যটি রাজধানী ইসলামাবাদে। এই হামলার ঘটনায় পুরো পাকিস্তানে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তার আলোচনায় জানান, এই হামলার পর সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানে অভিযান চালানোর সুযোগও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তিনি আফগান তালেবান সরকারকে আঙুল দিয়ে বলেন, তাদের আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসাঙ্গঠনগুলোই পাকিস্তানের ওপর অব্যাহত হামলার জন্য দায়ি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তালেবানের আশ্রয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলোই বারবার আমাদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।’

    খাজা আসিফ আরও বলেন, যদি ভারত বা আফগানিস্তান এই ধরনের দুঃসাহস দেখায়, তবে পাকিস্তান তার দাঁত নাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান কখনোই আগ্রাসন চালাবে না, তবে যদি তার ওপর হামলা হয়, কঠোর জবাব দেবে।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত ও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে উত্তপ্ত হয়েছে। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্সে (অর্থাৎ সাবেক টুইটার) এক ঘোষণা দিয়ে খাজা আসিফ বলেছেন, ‘আমরা এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে আছি। যারা ভাবছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু সীমান্তে লড়ছে, শনিবারের আত্মঘাতী হামলাও তাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী এই সংগ্রাম পুরো দেশের যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনীর ত্যাগই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

    হামের পর তিনি এক বিবৃতিতে আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কাবুলের নেতৃত্ব চাইলে পাকিস্তানে সন্ত্রাস রোধ করতে পারে, তবে ইসলামাবাদের বার্তা স্পষ্ট— কাবুল থেকে হামলার যোগসূত্র রয়েছে।’

    সাংবাদিকদের সাথে আলাপের সময় তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান আগেই এই হামলার আশঙ্কা করেছিল। ইসলামাবাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ‘তাদের সব অঞ্চলের হামলার জন্য তালেবানই দায়ি।’ শেষদিকে, তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান সীমান্ত বা শহর— কোথাও কোন ধরনের সন্ত্রাস সহ্য করবে না এবং প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

  • জর্জিয়ায় তুরস্কের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০ সেনা

    জর্জিয়ায় তুরস্কের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০ সেনা

    জর্জিয়ায় তুরস্কের একটি সামরিক পরিবहनকারী বিমান বিধ্বस्त হওয়ার ঘটনায় ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এখন দুর্ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে বুধবার, যখন এই কার্গো বিমানটি আজারবাইজানের গাঞ্জা শহর থেকে উড্ডয়নের পরপরই দুর্ঘটনার শিকার হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমাদের বীর সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন।’

    তরিকদলের সূত্রে জানা গেছে, জর্জিয়ার কাখেতি অঞ্চলের সিগনাগি এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি দেশের সীমান্ত থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঘটে। এটি ২০২০ সালের পর তুরস্কের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সামরিক বিমান দুর্ঘটনা।

    জর্জিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সাকারোনাভিগাৎসিয়া জানিয়েছে, বিমানটি দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশের পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং কোনো বিপদ সংকেত পাঠায়নি।

    আজারবাইজানি গণমাধ্যমের এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর আকাশে কালো ধোঁয়া বিশাল স্তম্ভ উঠছে এবং চারপাশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তায়েপ এরদোয়ান এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

    অন্যদিকে, আজারবাইজান ও জর্জিয়ার নেতারা, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও শোক জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন, যেটি এই বিমানটির নির্মাতা, এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তুরস্ক ও জর্জিয়াকে তদন্তে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহায়তা দেবে।

    সি-১৩০ হারকিউলিস হলো চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ পরিবহন বিমান, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী হিসেবে জনবল, সরঞ্জাম ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করে থাকে।

  • ইসলামাবাদে হামলায় ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    ইসলামাবাদে হামলায় ভারতীয় সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, এই হামলার পেছনে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে এমন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগকে তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “তারা উন্মাদ হয়ে যাননি, বরং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ভারত এই ধরনের অপপ্রচার মেনে নেবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পাকিস্তানে সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানে এই কারসাজির পেছনে বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য কী, তারা বিভ্রান্ত হবে না।” মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১২:৩৯ মিনিটে ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলাকারী বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রায় ১২ মিনিট আদালতের বাইরে ছিল। প্রথমে আদালতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা করতে না পেরে পুলিশ ও আশপাশের গাড়ির লক্ষ্য করে আঘাত করে। তিনি আরও বলেন, «তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীকে শনাক্ত করা আমাদের অগ্রাধিকার। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কিছু রেশ থাকতে পারে, যার উপর আমাদের নজর রাখতে হবে এবং খুব দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে।» এই ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযোগ করেন, ভারতের সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই হামলার সঙ্গে জড়িত। কোনও সন্দেহ না রেখে তিনি বলেন, “ভারত এই অঞ্চলে সন্ত্রাসের মতো জঘন্য অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।” এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘ভারতের সন্ত্রাসী প্রক্সির মাধ্যমে পাকিস্তানের নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা খুবই দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিষয়ে সতর্ক থাকুক এবং ভারতের এসব অপকর্ম বন্ধ করতে বলি।’ তিনি আরও জানান, এই তদন্তের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তোলে মন্তব্য করেন, ‘কাবুলের শাসকেরা পাকিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারে, কিন্তু তারা এই ধরনের যুদ্ধের বার্তা পাঠিয়েছে যা পাকিস্তান পুরোপুরি মোকাবিলা করবে।’ আরেক দিকে, ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। গোষ্ঠীটি সতর্ক করে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধরনের হামলা চালানো হবে। এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, ‘আমাদের যোদ্ধারা আদালত প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে। যারা ইসলামাবাদের বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের রায়ের জন্য দায়ী, তাদের লক্ষ্য করে এই হামলা।’ আরও হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তাদের লক্ষ্য যে মুসলিম প্রধান পাকিস্তানে ইসলামী শরিয়া আইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে।’ সূত্র: এনডিটিভি, ডন

  • পেরুতে বাস উল্টে খাদে পড়ে ৩৭ নিহত

    পেরুতে বাস উল্টে খাদে পড়ে ৩৭ নিহত

    পেরুর দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেকুইপা অঞ্চলে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনায় একটি বাস পাহাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে ২০০ মিটার নিচে খাদে পড়ে গেছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বুধবার (১২ নভেম্বর), স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটে ঐ অঞ্চলের ওকোনা জেলার পানামেরিকানা সুর হাইওয়েতে সকাল সকাল। প্রথমদিকে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন ও আহতদের উদ্ধার করেন। আরেকুইপার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বলা হয়, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।

    ওয়ালথার ওপোর্তো, আরেকুইপার আঞ্চলিক স্বাস্থ্যপ্রধান, বলেন, বাসটি একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেওয়ার পরে রাস্তার কিনারে উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। জানা গেছে, ওই বাসে মোট ৬০ জন যাত্রী ছিলেন।

    সরকারি সূত্র বলেছে, আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই ট্রাজেডি দেশের সমবেদনা ও সহানুভূতির জোয়ার সৃষ্টি করেছে।

  • জলবায়ু সংকটই এখন প্রধান স্বাস্থ্যের হুমকি: ডব্লিউএইচও

    জলবায়ু সংকটই এখন প্রধান স্বাস্থ্যের হুমকি: ডব্লিউএইচও

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সম্প্রতি মন্তব্য করেছে যে জলবায়ু সংকট এখন মূলত একটি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিতে শুরু করেছে। সংস্থার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের উপর পড়ছে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ। এটা এখনও সময়ের ব্যাপার যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা শুরু হয়।

    ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যেখানে কার্ডিয়াক রোগ থেকে শুরু করে নানা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    গত সপ্তাহে ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ-৩০ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস উপস্থিত ছিলেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা কালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সবচেয়ে বড়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি উপেক্ষিত থাকা হয়েছে।”

    টেড্রোস আরও যোগ করেন, “মানুষের নিজেদের বা সন্তানদের স্বাস্থ্য রক্ষা করাই সবচেয়ে সহজ ও জরুরি। হিমবাহ বা জীববৈচিত্র্য রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যেমন জরুরি, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি মানুষের কাছাকাছি।”

    তিনি জানান, কপ-৩০ এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হতে যাচ্ছে যা স্বাস্থ্য বিষয়ক দিবস হিসেবে পালন করা হবে। ব্রাজিল এই দিন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য অভিযোজন পরিকল্পনা ঘোষণা করবে, যা অন্য দেশগুলোকে নিজেদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাপত্র জোরদার করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

    টেড্রোস স্পষ্ট করে বলেন, “জলবায়ু সংকট সত্যিই এখন একটি স্বাস্থ্য সংকট।”

    অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও’র পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রধান রুডিগার ক্রেখ বলেন, “যদিও এই বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, তথাপি এখনও কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বিষয়ক স্থান তৈরি হয়নি।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এখনই সময় হয়েছে স্বাস্থ্যকে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ করে নেওয়ার এবং আমরা আশা করি, আগামী বছর কপ-৩১-এ এই পরিবর্তনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে।”

  • ইসলামাবাদে আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১২ নিহত

    ইসলামাবাদে আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১২ নিহত

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের এক জেলা আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ঘটনাটি ঘটে জি-১১ এলাকার ওই আদালতের প্রবেশদ্বারসংলগ্ন স্থানে। পুলিশ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বলছে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

    ইসলামাবাদ পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা গেছে, এই হামলাকে পরিকল্পিত ও ভয়াবহ আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে প্রশাসন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি উভয়ই এই হামলাকে আত্মঘাতী হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, এটি একটি জোড়ালো বার্তা যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সিস্টেম এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) পোস্টে রাষ্ট্রপতি শোক প্রকাশ করে নিহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসা করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ এই ঘটনাকে দেশজুড়ে একটি সতর্কবার্তা এবং জাগরণের ডাক হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেছেন, আমরা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে আছি এবং যারা ভাবেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধুমাত্র সীমান্তে লড়াই করছে, তাদের জন্য এই হামলা একটি বড় সাবধানবাণী।

    অপরদিকে, কবারুলের পরিস্থিতির ওপর গভীর আলোচনা চালিয়ে তিনি বলেছেন, এখনকার পরিস্থিতি থেকে সফল আলোচনা প্রত্যাশা করা অসম্ভব, কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমقেই পৌঁছেছে।

    ঘটনার আরও বিস্তারিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, নিরাপত্তা ব্যারিকেডের পিছনে একটি পোড়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুনের শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী বাতাসে উঠছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর তারা ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হন; অনেকে দ্রুত দৌড়াতে শুরু করেন, কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, এবং ঘটনাস্থলে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেছেন, গেটের কাছে বেশ কয়েকটি গাড়ির ক্ষতি হয় এবং কিছু গাড়িতে আগুন লেগে যায়। পরিস্থিতির উন্নতি ও তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। সব ধরনের খবর ও আপডেট ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হবে, কারণ মিডিয়া রিপোর্ট কখনো কখনো ভুল হতে পারে। আমরা বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সঠিক সংবাদ পরিবেশনে সচেষ্ট থাকব।