পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আদালতের বাইরে এক আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশের বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় জড়িত চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের সক্রিয় সমর্থন রয়েছে বলে তার ধারণা। মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামাবাদের জেলা ও দায়রা আদালতের বাইরে এই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘ভারতের সন্ত্রাসী প্রক্সির মাধ্যমে পাকিস্তানের নিরস্ত্র নাগরিকদের উপর আঘাত হানা দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। ভারত যেন এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়িয়ে বোঝাতে পারে এমন অপচেষ্টা বন্ধ করে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেছেন, ‘কাবুলের শাসকরা পাকিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারে, তবে এই ঘটনার মাধ্যমে কারা ইসলামাবাদে যুদ্ধ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তা পাকিস্তান বুঝতে পেরেছে, এবং এর জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ ভারতীয় পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোন প্রতিক্রিয়া এখনো স্পষ্টভাবে আসেনি। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লাল কেল্লা পাশে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে আটজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি, শুধুমাত্র সন্দেহ করা হচ্ছে এটি সন্ত্রাসী হামলা। বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এই ঘটনায় পাকিস্তানের рук রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে ভূটানে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই আইনের আওতায় আসবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত সংস্থা এই ষড়যন্ত্রের মূল রহস্য উদঘাটন করবে। যারা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।’ এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছে বিবিসি ও এনডিটিভি।
Category: আন্তর্জাতিক
-

ছত্তিশগড়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে ছয় মাওবাদী নিহত
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বিজাপুর জেলায় সম্প্রতি আরও একবার ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত ছয়জন মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল, যখন ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় জঙ্গলের মধ্যে অভিযান চালাচ্ছিল। এই ঘটনাটি ঘটে কয়েক সপ্তাহ আগে, যেখানে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, দশকের পর দশক ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলন বন্ধের পথে রয়েছে। তবে সেই ঘোষণার কিছু দিন পরে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদীদের বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়। ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় নিযুক্ত সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিয়মিত অভিযানে এনজিও ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এই ঘটনায় অন্তত ছয় মাওবাদী নিহত হন এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে আধুনিক অস্ত্রও রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে আঞ্চলিক কমান্ডারসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সদস্যরা রয়েছেন। এদিকে, কয়েক দশক ধরে চলা এই সশস্ত্র সংগ্রাম, যা গত দুই মাস আগে সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পর স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আবারও সংঘর্ষের মুখে পড়েছে। গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, যারা আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক, তাদের স্বাগত জানানো হবে; তবে যারা অস্ত্রধারণে থাকবেন, তাদের কঠোর প্রতিমুখীন হতে হবে। মাওবাদীরা চীনা বিপ্লবী নেতা মাও সেতুংয়ের আদর্শের অনুপ্রেরণায় ১৯৬৭ সালে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। মূলত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার দাবি করে তাদের এই আন্দোলন শুরু হয়, যা দেশের ইতিহাসে একটি বড় বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত। সেই থেকে এখন পর্যন্ত এই বিদ্রোহে হাজারো জীবন হারিয়েছে—বিদ্রোহী, সেনা ও সাধারণ নাগরিক। ২০০০-এর দশকে মাওবাদীরা দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিল, তবে গত কয়েক বছরে তাদের শক্তি অনেক কমে গেছে। গত অক্টোবরের মধ্যে, বিজেপি সরকারের তথ্যানুযায়ী, দুই দিনব্যাপী অভিযানে ২৫০ জনেরও বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যার মাধ্যমে তাদের নেতাদের উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
-

রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
২০২৬ সালের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা। এই তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। যদিও ইসলামি বিধান অনুযায়ী রমজান মাসের শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রকৃত তারিখ নির্ধারিত হয়, তারপরও প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই বছর রোজা শুরু ও ঈদের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ ডিপার্টমেন্ট (আইএসিএডি) হিজরি-টু- গ্রেগরিয়ান তারিখ রূপান্তর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাসের শুরু হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি, যেখানে প্রথম রোজা হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। পৃথক ক্যালেন্ডার সূচক বলছে, রমজান শেষ হবে ১৮ মার্চ (বুধবার), এরপর ২০ মার্চ (শুক্রবার) সংযুক্ত আরব আমিরাতে উদযাপন করা হতে পারে ঈদুল ফিতর।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাত হল শবে কদর বা লাইলাতুল কদর, যা রমজানের শেষ দশকের মধ্যে পালিত হয়। পন্ডিতদের মতে, ২০২৬ সালে এই রাতটি পড়তে পারে ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার)। মুসলমানরা এই রাতে নৈশপ্রার্থনা, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাত করেন, কারণ এ রাতেই প্রাচীন কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল বলে বিশ্বাস।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হিজরি মাসের দৈর্ঘ্য কখনো ২৯ দিন আবার কখনো ৩০ দিন হয়। ফলে, রোজা ও ঈদের প্রকৃত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর। এই জন্য আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যা চাঁদ দেখা সাপেক্ষ।
সূত্র: গালফ নিউজ।
-

পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি: আফগানিস্তানে ফের হামলা হতে পারে
আফগানিস্তানে আবারো নতুন করে হামলার আশঙ্কা জাগিয়ে উঠেছে, যেখানে পাকিস্তান সতর্ক করে দিয়েছে যে তারা ভবিষ্যতে এসকল হামলা চালাতে পারে। ইসলামাবাদ ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে 최근 সন্ত্রাসী হামলার পর এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সাম্প্রতিক এই আক্রমণের পর পাকিস্তানকে আশঙ্কা রয়েছে যে তারা আফগানিস্তানের ভেতরে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাতে পারে। তিনি আঞ্চলিক শক্তি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, যারা আফগান তালেবান সরকারকে আশ্রয় দেয় এবং পাকিস্তানে হামলার পিছনে এই গোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত দুই দিনে পাকিস্তানে দুটি বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি হলো দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ওয়ানাকা ক্যাডেট কলেজে, অন্যটি হলো রাজধানী ইসলামাবাদে। এই দুই ঘটনার ফলে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দেশটি একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই অনুষ্ঠানে আরও বলেছেন, এই হামলার পর সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের ভেতরে অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, আফগান তালেবান সরকার এই হামলার নিন্দা না করে বরং সাফল্য দেখাচ্ছে যে তারা সন্ত্রাস দমনে যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না। আক্রমণগুলো নিয়ে তিনি বলেন, তালেবানের আশ্রয়ে থাকা গোষ্ঠীগুলিই বারবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। আরও উল্লেখ করেন, ভারতের মতো দেশ বা আরও অন্য কোনো শক্তি অমনোযোগী হলে পাকিস্তান কখনোই হামলার জবাব দেওয়ার ব্যাপারে পিছপা হবে না। তিনি দৃঢ়ভাবেপ বলে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান কখনো আগ্রাসন না চালিয়ে শুধুই প্রতিশোধ নেবে যদি তাদের ওপর হামলা হয়। ইতোমধ্যে, ইসলামাবাদের আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং আরও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে খাজা আসিফ এক পোস্টে বলেছেন, “আমরা এখন এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে আছি। যারা ভাবছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেবল সীমান্তের গাদর লড়াই করছে, তারা এই জন্যই ভুল ধারণা করছে— এই আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে তাদের চোখ খুলে গেছে।” তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইটি পুরো পাকিস্তানের যুদ্ধ, আর সেনাবাহিনীর sacrificesই যেন এই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এছাড়াও, হামলার পর একটি বিবৃতিতে খাজা আসিফ বলেন, কাবুলের নেতৃত্ব চাইলে পাকিস্তানের সন্ত্রাস মোকাবেলায় সফলতা পেতে পারে, তবে এই হামলার পিছনে থেকেছে কাবুলের বার্তা। তিনি বলেন, “কাবুলের শাসকদের যদি ইচ্ছে হয়, তারা পাকিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু ইসলামাবাদের ওপর হামলার বার্তাগুলো কেবলমাত্র কাবুল থেকেই এসেছে।” তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময়, পাকিস্তান আগেই এই ধরনের হামলার আশঙ্কা করেছিল। তিনি সংক্ষেপে বলেন, এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা—“তোমাদের সব অঞ্চল আমাদের নাগালের মধ্যে”। শেষ বর্ষে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান কোনোক্রমে সীমান্ত বা শহরগুলোতে সন্ত্রাস সহ্য করবে না, এবং প্রতিটি হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
-

পাকিস্তানে সেনা ও বিচারব্যবস্থায় বৃহৎ পরিবর্তন আসছে
পাকিস্তান সরকার দেশটির সংবিধানে ২৭তম সংশোধনী আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। শনিবার, ৮ নভেম্বর, সিনেটে সংশোধনী বিলটি পাস করা হয়, যা সেনা পরিচালনা কাঠামো ও বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজারবাইজানে থেকে ভার্চুয়ালি মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করেন এবং এই সংশোধনী বিলের খসড়ার অনুমোদন দেন।随后, বিলটি আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়, যেখানে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার দ্বারা উপস্থাপিত হয়। তিনি জানান, এই সংশোধনী মূলত ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’ এর একটি অংশ, যা ১৮তম সংশোধনী চালু করতে পারেনি।
সংশোধনী খসড়ায় সংবিধানের ২৪৩ ধারা পরিবর্তন করা হবে। এর মধ্যে নতুন করে ‘চেয়ারম্যান জোইন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (CJCSC) পদ বাতিল করে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ পদ সৃষ্টি করা হবে। সেনাপ্রধানই এই নতুন পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও, ফিল্ড মার্শাল, মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স ও অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিটের উপাধি আজীবন বহাল থাকবে। অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডার নিয়োগ করবেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো, ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট গঠন। এই আদালত প্রতিষ্ঠিত হলে সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা নতুন আদালতের হাতে চলে যাবে। আদালতে দেশটির সকল প্রদেশের সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে, বিচারপতি নিয়োগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা বাড়বে এবং প্রধান বিচারপতির মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ করা হবে।
মোট, ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মূল বিষয়সমূহ হলো:
– ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি (২৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর)
– সেনাপ্রধান একই সময়ে এই নতুন পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন
– ফিল্ড মার্শাল, মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স, অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিটের উপাধি আজীবন বহাল থাকছে
– প্রধানমন্ত্রী ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’-এর সুপারিশে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডার নিয়োগ করবেন
– নতুন ফেডারেল সংবিধান আদালত গঠিত হবে
– প্রদেশসমূহের জন্য সমান প্রতিনিধিত্ব থাকবে আদালতে
– বিচারপতি নিয়োগে ভূমিকা বাড়বে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
– আদালতের বিচারপতির সংখ্যা পার্লামেন্ট নির্ধারিত হবে
– সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা নতুন আদালতটিকে স্থানান্তরিত হবে
– ফেডারেল সংবিধান আদালতের প্রধান বিচারপতির মেয়াদ নির্ধারিত হবে তিন বছরএটি কার্যকর হলে পাকিস্তানের সেনা ও বিচারব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হবে এবং দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
-

যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনে বিমান পরিবহন অচল, একদিনে বাতিল ১৪০০-এর বেশি ফ্লাইট
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা সরকারি অচলাবস্থা বা শাটডাউন অব্যাহত থাকায় আকাশপথে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) একদিনেই আটশতটির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আরও হাজারখানেক ফ্লাইট দেরিতে চলাচল করছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই অচলাবস্থার দ্বিতীয় দিনেই দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১,৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শনিবার প্রায় ছয় হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, যদিও শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল সাত হাজারের বেশি।গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা এখনো চলমান রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে অর্থায়নের ব্যাপারে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতির সামাল দিতে পারছে না। শনিবার ছিল এই দীর্ঘ অচলাবস্থার ৩৯তম দিন, যা ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য চলমান।অচলাবস্থার কারণে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, বেতন না পেয়ে কাজ করতে বাধ্য বিমান নিয়ন্ত্রণকারীদের ক্লান্তি আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে দেশের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চলাচল হয়ত আরও ১০ শতাংশ কমে যাবে বলে জানানো হয়েছে।অচলাবস্থার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিমানবন্দর ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা কমে গেছে। নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে দেখা গেছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো গড়ে চার ঘণ্টার বেশি দেরিতে পৌঁছাচ্ছে, আবার ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোরও দেরি হয় তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত। শার্লট/ডগলাস, নিউয়ার্ক, শিকাগো ও’হেয়ারসহ বিভিন্ন এয়ারপোর্টে বাতিলের সংখ্যা বেশি। জন এফ কেনেডি, হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন, লা গার্ডিয়া ও অন্যান্য বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইটগুলো দেরিতে ছাড়তে ও পৌঁছাতে দেখা গেছে। শুধু বাণিজ্যিক ফ্লাইটই নয়, ব্যক্তিগত জেটও নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে, যেখানে অনেক চেষ্টা করে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী ডাফি।তিনি জানান, ”ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোয় ব্যক্তিগত জেটের সংখ্যা কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ছোট বিমানবন্দর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে যাতে সাধারণ ফ্লাইটের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।” এফএএ এর ভবিষ্যত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি ধীরে ধীরে ফ্লাইট সংখ্যাও কমাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৪ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের বেশি ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে।বিমান নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে ক্লান্তি ও অনুপস্থিতি এড়াতে এই কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কারণ বেতন না পাওয়ায় অনেকই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বা অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও, ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সির (টিএসএ) ৬৪ হাজার কর্মীর মধ্যে অনেকেরই বেতন এখনও দেয়া হয়নি, যা বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে। ২০১৮ সালের অচলাবস্থার সময়ও টিএসএ কর্মীদের অনেকের বেতন না পেয়ে কাজে অনুপস্থিত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।
-

শিখ নেতাদের হত্যাকাণ্ডে অমিত শাহের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ
শিখ সম্প্রদায়ের কয়েকজন নেতার হত্যাকাণ্ড এবং ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্রের ঘটনা নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। এই ঘটনায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম উঠে আসছে, যা বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বরাত দিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে, শিখ নেতা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং অমিত শাহের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবর ছাপিয়েছে। কানাডার তদন্তে প্রকাশ, দেশের মাটিতে খালিস্তানপন্থী শিখ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা এবং এর পেছনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, খালিস্তানপন্থি শিখ নেতাদের লক্ষ্য করে হত্যার ষড়যন্ত্র, নজরদারি ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কানাডিয়ান সরকারের বরাতে জানানো হয়, এই দেশে খালিস্তানপন্থী নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা এবং ভীতির সৃষ্টি করতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রুডো প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কানাডার উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী ডেভিড মরিসন পার্লামেন্টের কমিটিতে বলেছেন, এই ব্যক্তির নাম অমিত শাহ, যদিও তিনি কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ দেখাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হাইকমিশন এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।২০২৩ সালের জুনে যুক্তরাজ্যে দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে চুক্তিভিত্তিক খুনিদের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা একদিকে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অন্তরঙ্গ সম্পর্কের দিক নির্দেশ করে। হরদীপ সিং নিজ্জারের খালিস্তানপন্থী নেতার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা কিছু ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, এর পাল্টা হিসেবে ভারতও কূটনীতিক বহিষ্কার করে। যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শিখ নেতারা এটিকে “ন্যায়বিচারের দাবি ও ইতিহাস রক্ষার প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। এই ঘটনার ফলে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার সাথে ভারতের সম্পর্ক তলানীতে পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ঘটনার প্রমাণ ও প্রতিক্রিয়া isig চোখ রেখে আছেন।
-

সৌদিতে মসজিদে হামলার পরিকল্পনায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সৌদি আরবে মসজিদে হামলার পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিতে অভিযুক্ত দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তারা দুজনই সৌদি নাগরিক। বার্তাসংস্থা এসপিএর খবরে জানানো হয়, রোববার (৯ নভেম্বর) এই দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। საუბ্তে বলা হয়েছে, আজই তাদের দণ্ড চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়।
এসপিএ আরো জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে, অভিযুক্তরা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য যারা ছিলেন, এবং তারা অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনাও করছিলেন। তবে, কোথায় এবং কখন হামলার পরিকল্পনা ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সৌদি আরবে কোনো রাজনৈতিক দল বা সশস্ত্র সংগঠন গঠন ও তাতে যোগ দেওয়া সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আন্দোলন-প্রতিরোধের মাধ্যমেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ও কার্যকরির হার অনেক বেশি। এই পদক্ষেপগুলো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স
-

ট্রাম্পের ভাষণ বিকৃতি এবং বিবিসি প্রধানের পদত্যাগ
যুক্তরাজ্যের প্রধান সংবাদ সংস্থা ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি) তাদের শীর্ষ দুটি কর্মকর্তা, মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং হেড অব নিউজ ডেবোরা টারনেস, জরুরি নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভাষণ বিকৃতি করে সম্প্রচারিত হওয়ার ঘটনা, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার (১০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে oficiais ঘোষণা দেন, এই দুই কর্মকর্তা সংস্থার ভেতর চলমান বিতর্ক ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন।
টিম ডেভি গত পাঁচ বছর ধরে বিবিসির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটিকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তার ওপর আবোল-তাবোলের চাপ বাড়ছিল। এছাড়া, দুই শীর্ষ কর্মকর্তার একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ কিছু নথি ফাঁস হয়ে, ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ প্রতিবেদনে জানায়, বিবিসির প্যানোরামা প্রোগ্রামে ট্রাম্পের একটি ভাষণ থেকে দুটি অংশ কেটে একত্রে জোড়া লাগানো হয়—যাতে তাকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো ভাবা হয়। এই এডিটিংয়ের কারণে যুক্তরাজ্য ও মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, রাজনৈতিক নেতারা বিবিসিতে পরিবর্তনের দাবি জানাতে শুরু করেন, ট্রাম্পও এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
রোববার সন্ধ্যায় টিম ডেভি ঘোষণা করেন, “সব সরকারি সংস্থা নিখুঁত নয়। আমাদের সর্বদা স্বচ্ছ থাকা, উন্মুক্ত ও দায়বদ্ধ থাকা দরকার। তবে এই বিতর্ক আমার এই সিদ্ধান্তে আসার কারণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “বেসিকভাবে বিবিসি ভালো কাজ করছে, তবে কিছু ভুল হয়েছে, এবং সেই ভুলের জন্য আমারই দায়ী।”
অন্যদিকে, ডেবোরা টারনেস বলেন, “প্যানোরামা বিষয়ক বিতর্ক এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা বিবিসির জন্য ক্ষতিকর। আমি মনে করি, পাবলিক লাইফের নেতাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হয়, এজন্য আমি পদত্যাগ করছি।”
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিবিসির আরবিক বিভাগে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের সংবাদ পাঠের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অপারগতা রয়েছে—যা এই বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে উন্নত করে। এই নথির লেখক, মাইকেল প্রেসকট, একজন সাবেক বিবিসির বহিরাগত উপদেষ্টা, অভিযোগ করেন যে, ম্যানেজমেন্টের নির্লিপ্ততা তাকে হতাশ করেছে। তিনি ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুতে বিবিসির কভারেজও একপেশে বলে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি বলেন, “আমরা ক্যাপিটলে যাব এবং আমাদের সাহসী সদস্যদের উৎসাহ দেব।” 그러나 ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সংস্করণে সেটি অন্যভাবে দেখানো হয়—“আমরা ক্যাপিটলে যাব… আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব। আর আমরা লড়ব। আমরা কঠোর সংগ্রাম করব।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিটিংয়ের মাধ্যমে এই অংশগুলো একত্রে জোড়া লাগানো হয়েছে, যদিও তারা ঘটনা ঘটার সময়ের মধ্যে ৫০ মিনিটের পার্থক্য ছিল। এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের কাছে বিবিসির এডিটিংকে “মিথ্যাচার” হিসেবে আখ্যা দেয়।
ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিবিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা আমার ভাষণ বিকৃত করার জন্য পদত্যাগ বা বরখাস্ত হচ্ছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর।”
-

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ : হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন ভুয়া ভোটার
ভারতের বিহার রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচনের একদিন আগে ভোট চুরির বিষয়ে ফের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট চুরি হয়েছে। তার দাবি, হরিয়ানার দুই কোটি ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ ভোটার ভুয়া, অর্থাৎ প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন জাল বা ভুয়া ভোটার।
এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটচুরি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এবার তিনি হরিয়ানার ভোট চুরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, হরিয়ানার ভোটার তালিকায় ২৫ লাখ ভুয়া ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে তিনি একটি ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি দেখিয়ে বলেন, ছবিটির নারী একজন ব্রাজিলের মডেল। এই ছবিটি ওই মহিলার অনেক বার ভোটার তালিকায় ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে তার নামকরণ হয়েছে নানা ভিন্ন নামে, যেমন সীমা, সুইটি, সরস্বতী।
২০২৪ সালে হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিজেপি দুর্বল কংগ্রেসকে মাত্র ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, বিজেপি এই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির কৌশল অবলম্বন করেছে এবং নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলো জানে। তিনি বলেন, হরিয়ানার নির্বাচনে কংগ্রেসের জন্য জয় নিশ্চিত ছিল, বহু বুথফেরত সমীক্ষাও সেই প্রত্যাশাই দেখিয়েছিল। কিন্তু ফলাফলের পর দেখা গেল উল্টো ছবি। তিনি আরও বলেন, হরিয়ানায় পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল ঐতিহাসিকভাবেই প্রকৃত ভোটের সঙ্গে মেলে না।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের বিষয়টি অবহিত করে জানায়, যদি ভোটার তালিকায় ভুয়া ভোটার থাকার সন্দেহ থাকে, তবে কেন আগে কেউ অভিযোগ করেননি? নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, হরিয়ানার ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দাখিল হয়নি এবং কোনো মামলা ঝুলে আছে কিনা তা পাঞ্জাব ও হরিয়ানার হাই কোর্টে মাত্র ২২টি মামলা চলমান রয়েছে।
