Category: আন্তর্জাতিক

  • হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

    হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়: ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চলে এসেছে। গত একবছরে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ করলেও ভারত তাকে প্রত্যর্পণ না করে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ের বিশ্লেষকরা—মাইকেল কুগেলম্যান, শ্রীরাধা দত্ত এবং সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ—ভারতের সামনে বাস্তবতা, দ্ব›দ্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নানা দিক বিশ্লেষণ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি ভারত হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তবে এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কী ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে, তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

  • ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

    ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

    দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের আইন আল-হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ড্রোন ও বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও অনেক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

    গতকাল মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার সময় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মানার জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নিম্নে থেকে আরও হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

    এই ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল শরণার্থী শিবিরের ভেতর থাকা সংঘটিত সদস্যদের, যারা স্বীকার করে থাকেন যে সেখানে হামাসের সক্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তারা বলেছে, এই হামলাটি হামাসের কার্যক্রমের জন্যতেই চালানো হয়েছে এবং ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, তারা লেবাননে হামাসের উপস্থিতি ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও হুমকি দেখা দিলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    অন্যদিকে, হামাস এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শরণার্থী শিবিরে তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। তারা বলেছে, ইসরায়েলি এই হামলা ছিল নিরীহ শনিবার শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর বর্বরোচিত আঘাত এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের এক ন্যায়বিচারবিহীন লঙ্ঘন।

    একই সময়ে, পশ্চিম তীরে গুশ এটজিওন জংশনে দুই ফিলিস্তিনি সন্দেহভাজনের ছুরিকাঘাত ও গাড়িচাপায় একজন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারী দুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

    ফিলিস্তিনি জরুরি সেবা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি, গাজায় এক আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়ার পর সেখানে আলাদা মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিছু ফিলিস্তিনি এই পরিস্থিতিকে গাজা থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক পুনর্বাসনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করে উঠেছেন, এই বাহিনী গাজায় নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের সূচনা করতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে, জর্ডান ও ফিলিস্তিনের নেতৃবর্গ যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করতে এবং গাজার পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জর্ডানের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তার জন্য তাদের দৃঢ় অবস্থান।

    উল্লেখ্য, লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা গত বছর শেষের দিকে বৃদ্ধি পায় এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে যুদ্ধের রূপ নেয়। যদিও নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, লেবাননের পক্ষ অভিযোগ করছে যে ইসরায়েল প্রায়শই এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। বিশ্লেষক করিম এমিল বিতার বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল লক্ষ্য ছিল ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার, কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়সীমা মানেনি।

  • গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাস, রাশিয়ার কড়া সতর্কতা

    গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাস, রাশিয়ার কড়া সতর্কতা

    গাজায় শান্তি ফেরানোর নামে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে রাশিয়া রাজনৈতিক ও উপনিবেশিক মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছে। গত ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি রেজ্যুলেশন পাস করেছে, যেখানে গাজা অঞ্চলে এই আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠন করার প্রস্তাবনা রয়েছে। তবে এর ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত ছিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানো হলেও রাশিয়া কেন ভোটদান থেকে বিরত থাকল, তা নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। রাশিয়ার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মনে করেন, এই প্রস্তাব স্বচ্ছতার অভাবে এবং ফিলিস্তিনিদের মতামত উপেক্ষা করে তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই নথি যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অজুহাত হয়ে না দাঁড়ায়। ইসরাইল ও অবাধ পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের উপর এই দলিল যেন নিজস্ব স্বার্থের জন্য ব্যবহৃত না হয়।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনাটি উপনিবেশিক যুগের চিন্তাভাবনার মতো, যেখানে ফিলিস্তিনিদের মতামত গুরুত্ব পেত না। তিনি আফসোস করে বলেন যে, এই প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী কীভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সঙ্গে কাজ করবে, সেই স্পষ্টতা নেই। তিনি মনে করেন, এই বাহিনী গাজার পরিস্থিতি পরিচালনার জন্য নয় বরং আরও যুদ্ধোমুখী অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, রুশ দূত বলেন এই বাহিনী ‘রামাল্লার মতামত বা স্বায়ত্বশাসনকে বিবেচনা না করে স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করতে পারে।’ নতুন এই বাহিনীতে করোন তুরস্ক, কাতার ও মিসর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত গাজার পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তার অজুহাতে এই বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প এই ভোটকে ‘ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ দাবি করে বলেছেন, আরও উত্তেজনাপূর্ণ ঘোষণা আসবে। অপর পাশে হামাস এই পরিকল্পনাকে চাপিয়ে দেওয়ার ‘আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে তারা কখনো অস্ত্র দেয়া বন্ধ করবে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সতর্ক করে বলা হয় যে, এই প্রস্তাব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিপূরণের মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে।

  • সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের অনীহার জবাব

    সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের অনীহার জবাব

    হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশাল বৈঠকের পর সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তখনই এক সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যা মুহূর্তেই ট্রাম্পের মনোভাব বদলে দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে জবাব দেন, এই ধরনের প্রশ্ন খাসোগির মতো বিতর্কিত ব্যক্তির প্রসঙ্গে করা হয় কারণ তিনি একজন পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন না। ট্রাম্পের মতে, এ ধরনের কথা বলায় যুবরাজ বিব্রত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এসব বিষয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান কিছুই জানতেন না। ট্রাম্পের ভাষ্য, খাসোগি একজন রাজনৈতিক অস্থির ব্যক্তি ছিলেন, যাকে অনেকেই পছন্দ করতেন না, এ জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য সৌদির যুবরাজের বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেগুলো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগির মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই এই হত্যার অনুমতি দিয়েছিলেন।

    এ বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুবরাজ মোহাম্মদও নিজের মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তাঁর প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

    খাসোগির স্ত্রী হানান ট্রাম্পের এই ভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে যুবরাজের আগের মতামত সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে নিজে খাসোগির হত্যার দায় স্বীকার করেছিল যুবরাজ। এক্স-এ (আগের টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের জন্য তারা যুবরাজের সঙ্গে দেখা করতে চান।

    বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত হানান আরও জানান, খাসোগির স্ত্রী হিসেবে তিনি জীবনে সত্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

  • আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবর

    বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বর্তমান বা সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ। গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে এই আন্তর্জাতিক আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই রায় দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রবল গুরুত্ব পেয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, গত বছর কাকতালীয়ভাবে সংঘটিত ছাত্র-অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এই নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। এতে বিচারপতি মা. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আদালত তিনজনের ট্রাইব্যুনাল এই রায় প্রকাশ করে। অন্য দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আদালত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটিতে তাকে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন দমন করার জন্য দায়ী করে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অন্য দুইটিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

    প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর মাধ্যমে বলা হয়েছে, এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিচারে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

    ভারতীয় জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই রায় ঘোষণা হওয়ার পর ঢাকার আদালত কক্ষেই উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। মানুষ হাততালি ও উল্লাস করতে শুরু করে, কারণ দীর্ঘদিনের বিচার শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বিচারকরা বলছেন, এই রায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।

    কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানাচ্ছে, গত বছর ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে দমন-পীড়নের জন্য শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে পলাতক থাকলেও, তাঁকে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, এই রায় বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থার জন্য নতুন এক দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছে।

  • শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের পর ভারতের প্রতিক্রিয়া

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ভারতে পলাতক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ Penh গেছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের এই রায় তারা প্রত্যক্ষ করেছে। ভারত নিজেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তারা সবসময় বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবে। স্বার্থের জন্য তারা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতার পথে পাশে থাকবে। তবে রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত এই দুই নেতাকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তর করার জন্য। এর কোনও প্রতিক্রিয়া ভারত থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সরকার বলছে, এই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির যদি অন্য কোনও দেশের আশ্রয় নেয়, তবে তা খুবই অবমাননাকর ও অন্যায় হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ভারত সরকার যেন দ্রুত তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়—এটাই তাদের দাবি। এর আগে বাংলাদেশ অসংখ্যবার ভারতকে লিখিত ভাবে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অনেকেরই প্রশ্ন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের মনোভাব ও সিদ্ধান্ত কি হবে। উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই ও আগস্টের মধ্যে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে এই অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া, ঘটনাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছর জেলের সাজা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনাল তাঁদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দাবি করে, পাশাপাশি দেশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও শহীদদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এই রায়ের ফলে শেখ হাসিনা যে ভারতের আইন(?:বা) বা মানসিকতা অনুযায়ী ফেরত আসবেন, সেটি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভূমিধসে ১৮ জনের মৃত্যু

    ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় প্রবল বর্ষণ এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পৃথক দুটি স্থানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়, দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    প্রথমে জানানো হয়, মধ্য জাভার দক্ষিণ উপকূলীয় চিলাচাপ রিজেন্সির চিবেউইং গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। সেখানে এক ডজনের বেশি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধারকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হলো, বেশ গভীরতে থাকা এসব বাড়ি থেকে লোকজনকে উদ্ধার করা খুবই কঠিন। ডিপো অ্যাক্সক্যাভেটর ব্যবহার করেও উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছিল। তবে গভীরতা বাড়ার কারণে উদ্ধার প্রচেষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।

    অপরদিকে, শনিবার মধ্য জাভার বানজারনেগারাতে আলাদা এক ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়। এই ঘটনার ফলে প্রায় ৩০টি বাড়ি ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই বছর থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এপ্রিলে অবধি চলতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি বেশি হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনা থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে নির্যাতনে নিহত অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৮ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দী হিসেবে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন। গাজা থেকে অনেক শতাধিক মানুষ আটক হওয়ার পর তাদের মধ্যে নিখোঁজের সংখ্যাও বাড়ছে, যা করে আরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ান্স ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। ডিয়ার গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    পিএইচআরআই-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব মৃত্যু ঘটেছে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা না দেয়া এবং অপুষ্টির কারণে। তারা এই তথ্য সংগ্রহের জন্য তথ্য অধিকার আইনের অধীন বিভিন্ন নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট, আইনজীবী, স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেছে।

    প্রথম আট মাসের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়টিতে গড়ে প্রতি চার দিনে একটি করে বন্দী মৃত্যুবরণ করেছেন। মে ২০২৪ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হেফাজত মৃত্যুর তথ্য আপডেট করেছে, তবে পিএইচআরআই’র গবেষকেরা আরও ৩৫টি অজানা মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত করেছেন।

    নাজি আব্বাস, পিএইচআরআই-র বন্দী ও আটক বিষয়ক বিভাগের পরিচালক, বলেছেন, এ সংখ্যাগুলো খুবই বড়। তবে তিনি অবহিত করে বলেছেন, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেকের মরদেহ ও মৃত্যুর খবর তাদের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত—হেফাজতে থাকা অনেক মানুষই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের বিষয়ে আমাদের কোনও তথ্য নেই।’

    ইসরায়েলের গোপন নথিতে দেখা গেছে, গাজা থেকে আটক হওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে কারাগারে মারা গেছেন। তবে এই রিপোর্ট বলছে, অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি সাধারণ বেসামরিক মানুষ, যারা হামাস বা ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা নয়। দ্য গার্ডিয়ান, ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’ এবং হিব্রু ভাষার স্থানীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ২০২৪ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর একটি ডেটাবেসে দেখা গেছে, যেখানে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ৪৭ হাজারের বেশি যোদ্ধার নাম রয়েছে, সেখানে শ্বাসরুদ্ধ হেফাজতের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল মাত্র ২১ জন। কিন্তু একই সময়ে গাজা থেকে আটক হওয়া অস্বচ্ছ ব্যাবস্থায় মারা গেছেন ৬৫ জন ফিলিস্তিনি।

    এই সব মৃত্যুর তালিকা অসংখ্য ব্যক্তি, যারা কোনও অভিযোগ বা বিচার পায়নি। এর মধ্যে কয়েকজন ছিলেন ইসরায়েলের নাগরিকত্ব বা অধিকারপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি।

    দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর শারীরিক ও যৌন সহিংসতার মতো নিষ্ঠুরতার ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। এমনকি, ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন–গভির কারাগারে বন্দীদের জন্য গোপন কক্ষে এমন একটি পরিবেশের কথা প্রকাশ্যে বলেও গর্ব করেছেন, যেখানে বন্দীরা দিন আলো দেখেন না।

    বিরোধী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, আইনের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুললেও কোনও উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অস্ত্র ও বন্দুকের মাধ্যমে নির্যাতন চালানো, মৃত্যু বেড়ে যাওয়া—এসব হচ্ছে সাধারণ ঘটনা।

    নাজি আব্বাস মন্তব্য করেছেন, ‘এটা একেকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থায় এটা বিস্তার লাভ করেছে। এটি চলতেই থাকবে।’ এর মূল কারণ, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি। দু’বছর সময়ে একটিমাত্র ঘটনায় বিচার হয়েছে, তার জন্য অভিযুক্ত সেনাকে মাত্র সাত মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর এক ঘটনায় বিচার শুরু হলে ডানপন্থীরা বিক্ষোভ করে, সামরিক বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার হয়। এখন তারা এই মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘অসংখ্য মৃত্যুর পরেও কোনো কর্তৃপক্ষ কেউই এখনো গ্রেপ্তার বা মামলা করেনি। এই নীতিগুলো এখনও চালু থাকলে, সব ফিলিস্তিনি বন্দীর জন্য ঝুঁকি থাকবে—সুস্থ থাকলেও, কমবয়সী হলেও বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকার পরও।’

    অবশ্য কিছু মৃত্যু বেশ আলোচিত হয়েছে, যেমন, ৫০ বছর বয়সী আদনান আল–বুরশ। তিনি আল–শিফা হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ছিলেন। চার মাস আটক থাকার পর ওফের কারাগারে তিনি মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা একজন জানান, মৃত্যুর আগে বুরশকে প্রহরীরা আঙিনায় নিয়ে আসে—তিনি ছিলেন আহত ও কোমর থেকে নিচে উলঙ্গ। এখনও পর্যন্ত মরদেহ গাজায় ফেরত দেয়া হয়নি।

    অন্যদিকে, অনেকের মৃত্যু রয়েছে অজানার মতো। অনেক মৃতদেহের পরিচিতি বা নাম জানা সম্ভব হয়নি। কারাগার ও সামরিক বাহিনী শুধু মৃতের সংখ্যা ও কোথায় মারা গেছে, তার তথ্য দিয়েছে, তবে তাদের নাম বা বিস্তারিত তথ্য দেননি। এর মধ্যে বেশিরভাগই গাজার নাগরিক।

    বন্দীদের পরিবারগুলোও হয়তো এখনো জানে না যে তাদের প্রিয়জন মারা গেছেন। কারণ, ইসরায়েল বন্দীদের অবস্থান জানানো বা তথ্য দেয়ার ব্যাপারে ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোরভাবেই বাধা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের প্রথম সাত মাসে গাজা থেকে আটক হাজারো মানুষের পরিবারের তথ্যই রveal হয়নি। পিএইচআরআই বলছে, এর মধ্যে মূল নীতি ছিল বলপূর্বক গুমের মতো।

    ২০২৪ সালের মে মাসে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে জানার জন্য একটি ইমেইল ঠিকানা চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি খুবই ধীর। পিএইচআরআই মন্তব্য করে বলছে, ‘অব্যাহত ব্যর্থতা ও অস্বচ্ছতা এখনো রয়ে গেছে।’

    আইনজীবীরা বারবার বলছেন, তাদের আবেদন করলে দেখা যায়, যে ক্লায়েন্টের ব্যাপারে তথ্য চাইছে, তাদের এইজড়ো বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড বা নথিপত্রই নেই, যদিও সেই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ প্রমাণিত। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে প্রায় ৪০০ ব্যক্তির ব্যাপারে ‘নথি নেই’ হিসেবে বলা হয়েছে।

    সম্ভবা সবচেয়ে আলোচিত একজন বন্দী হলেন হুস্সাম আবু সাফিয়া, গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে পরিচালকের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে এক অভিযানে আটক করা হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি সৈন্যরা তাঁকে অ্যারেস্ট করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় পর্যন্ত সেনাবাহিনী দাবি করে, তাঁরা তাঁকে হেফাজতে নেননি।

  • ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    ফ্রান্স থেকে ইউক্রেনের জন্য ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান ও উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    রাশিয়ার তীব্র আক্রমণের মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ইউক্রেনের জন্য ফ্রান্স বিশাল এক সামরিক উপহার হিসেবে ১০০টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছে। এই চুক্তি স্বাক্ষর হয় প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির মধ্যে। জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন, কেননা এটি ইউক্রেনের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আশা করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া ২০২৩ সালের মধ্যে শুরু হয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চলবে এবং পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।

    আর্থিক ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফ্রান্স বিষয়টি সমাধানে ইইউর অর্থায়ন ও জব্দ করা রাশিয়ান সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এই পদক্ষেপটি অনেক রাজনীতিবিদ ও দেশবাসীর মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারন এর মাধ্যমে রাশিয়ান সম্পদ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়।

    উভয় নেতার যৌথ ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি জানান, ‘আমরা একটি কৌশলগত চুক্তি করতে যাচ্ছি যা ধারাবাহিকভাবে ১০ বছর চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এই চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি রাডার, আটটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক অস্ত্রপত্র পাবে। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, এই ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে দেশটির জীবনকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

    রাশিয়া সম্প্রতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত বাড়িয়েছে, মূলত জ্বালানি ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে, যা দেশের ব্যাপক ব্ল্যাকআউটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলাগুলিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কিয়েভ ও পশ্চিমা মিত্ররা। গত কিছু সময়ে উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের বালাক্লিয়া শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত ও উন্নত অল্পসংখ্যক আহত হয়েছে।

    ম্যাঁক্রো জেলেনস্কির কাছে বলেন, ‘আমরা ১০০টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিকল্পনা করছি—এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউক্রেনের সামরিক পুনরুজ্জীবনে বড় সহায়ক হবে।’ তিনি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে উৎসাহিত করেন।

    রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটি বর্তমানে সীমান্তবর্তী ক্ষুদ্র ও বড় শহরগুলোয় দূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে হামলা মোকাবিলায় অক্ষম। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ছয় হাজার গ্লাইড বোমা ব্যবহার করছে, ফলে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি ফরাসি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই প্রয়োজন, যেহেতু রাশিয়ানদের নিজস্ব ২৩0 কিলোমিটার পাল্লার অর্পিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

    কিয়েভ ও প্যারিসের এই উল্লেখযোগ্য ঘোষণা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে সময়সীমা, সরবরাহ এবং অস্ত্রের ওপর। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সামরিক সরঞ্জাম যেমন জার্মানির লেপার্ড টু ট্যাংক বা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, সবই প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর heavily dependent।

    এই চুক্তির অর্থ কে দিচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্স নিজস্ব বাজেট এবং ইইউর যৌথ ঋণ ব্যবস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। তবে ব্রাসেলসের আলোচনা অনুযায়ী, এখনই অর্থের যোগান স্বচ্ছ নয় এবং ইউক্রেনের অর্থনৈতিক সহায়তা আগামী দুই বছর ইইউর দ্বারা চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে রাশিয়ার জব্দকৃত ১৬২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ব্যবহারে ঐক্য নেই।

    এদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের মিরাজ এবং মার্কিন তৈরি এফ-১৬ ব্যবহার করছে। সম্প্রতি কিয়েভ সুইডেনের গ্রীপেন যুদ্ধবিমান পাওয়ার আশা করছে। এই আড়ালে, জেলেনস্কি স্পেনের সঙ্গে আরও সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা চুক্তি করবেন এবং চলতি সপ্তাহে তিনি গ্রিসের সঙ্গে একটি গ্যাস চুক্তিও সম্পন্ন করেছেন। এই গ্যাস সরবরাহ শীতে ইউক্রেনসহ বলকান অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১২৩ বিদেশি, আরও ৪৫ বাংলাদেশি সহ আটক

    মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান: ১২৩ বিদেশি, আরও ৪৫ বাংলাদেশি সহ আটক

    অবৈধ অভিবাসন বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্য পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে ১২৩ জন বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানে জোহর অভিবাসন বিভাগ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে দেখা গেছে, একাধিক প্লাস্টিক কারখানায় অসংখ্য বিদেশি শ্রমিককে বৈধ পাস ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ৪৫ জন, মিয়ানমারের ৭১ জন, ভারতের ৪ জন, নেপালের ২ জন এবং পাকিস্তানের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এ সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুমতি না নিয়ে কাজ করা, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়া, এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়াও, এই অবৈধ নিয়োগে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই কারখানার একজন স্থানীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতরে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিছু শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করে, আবার কেউ লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ইমিগ্রেশন ও নিয়ন্ত্রণে থাকা সদস্যরা পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেয়।

    জোহর রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছেন, অবৈধ বিদেশি কর্মীদের আড়াল বা সুরক্ষা দেয়ার সব কৌশলই সরকারী রাডার থেকে छাপা যাবে না। আটককৃত সকল সন্দেহভাজনকে আরও তদন্তের জন্য স্থানীয় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

    জোহর বিভাগ বারবার জানিয়েছে, কর্মীদের অপব্যবহার রোধ এবং অভিবাসন আইন মান্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।