Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ বন্ধ করতে খুব কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি জানান, গতকাল ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ইউএস-সৌদি ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, যখন তিনি জানতে পারেন যে ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়ার দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাদের বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনি যদি যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে আমি আপনার ওপর ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব। আপনারা একে অপরের উপর পরমাণু বোমা ছুড়তে পারবেন, মানুষের জীবন হারাবেন, আর সেই ধুলোবালি লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছে যাবে— এটা অবশ্যই উচিত নয়।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি যখন এই হুমকি দিলাম, তখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান সংঘাত বন্ধ করতে রাজি। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আমাকে বলে যে, তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রস্তুত।’

    অভিনন্দনজনকভাবে, এই হুমকি দেওয়ার কিছুক্ষণ بعد পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শান্তি ফেরানোর জন্য তারা আলোচনা করে এবং পাকিস্তানের সাথে সংলাপে বসে। পাকিস্তান প্রথমে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এক ছোট সেনা অভিযান চালায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যালয় ও ব্যাটেলিয়নের ওপর হামলা হয়, যার ফলে পাকিস্তানের ১৩ সেনাসদস্যসহ মোট ৫১ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হন। এরপর পাকিস্তান পাল্টা ‘বুনিয়ান উন মারসুস’ নামে এক অভিযান পরিচালনা করে। এর ফলে ভারতে ৫ সেনা ও ১৬ জন বেসামরিক নিহত হন। এই পরিস্থিতির মধ্যে ১২ মে ভারতের ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা টেলিফোনের মাধ্যমে বৈঠক করে, এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। সেই সময় থেকে এখনও দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যুদ্ধবিরতিতে রয়েছে।

    এখনো পর্যন্ত, ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন যে, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানের সরকার এ দাবির সত্যতা স্বীকার করেছে, তবে ভারত এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য প্রদান করেনি।

  • বিহারে রেকর্ড গড়ে দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন নীতিশ কুমার

    বিহারে রেকর্ড গড়ে দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন নীতিশ কুমার

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর প্রেসিডেন্ট নীতিশ কুমার। এর মাধ্যমে তিনি দশমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় রেকর্ড। এর আগে কোনো ব্যক্তিই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।

    প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যদি ভবিষ্যতে বিহারের সরকার পতনের কোনো ঘটনা না ঘটে, এবং নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তার ৫ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করে, তবে তিনি দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডের মালিক হবেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিহারের রাজধানী পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩০ জন মন্ত্রীসহ মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার শপথ গ্রহণ করেন। এই মন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জনই বিজেপির পক্ষ থেকে, এবং বাকিরা জেডিইউ-সহ অন্যান্য দল থেকে। নীতিশ কুমার নিজে জোটের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করেন।

    এই সরকারের মোট সদস্য সংখ্যা ৩০ জন। এর মধ্যে ১৬ জনই বিজেপির পদধারী, আর জেডিইউ পেয়েছে ১৪টি মন্ত্রণালয়।

    বিহারের মোট আসন সংখ্যা ২৪৩। গত ৬ ও ১১ নভেম্বর দু’দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে জানা যায়, মোট ৬৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের ফলাফল ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।

    বিহারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিজেপি-জেডিইউ জোট এবং কংগ্রেস-আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগাঠবন্ধনের মধ্যে। ফলাফলে দেখা গেল, ২৪২ আসনে জয় লাভ করেছে এনডিএ জোটের প্রার্থীরা, যেখানে বিরোধী জোট জয়ী হয়েছে ৩৫টি আসনে।

    অর্থাৎ, বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৯টি আসনে এবং জেডিইউ ৮৫টি। অন্য অংশীদাররা হলেন, জনশক্তি পার্টি (চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বে) জিতেছে ১৯টি আসনে, এবং আওয়াম মোর্চা পার্টি ৫টি।

    একই সময়ে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গান্ধী ময়দানে এই শপথের অনুষ্ঠানে। এছাড়া, ভারতের বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও এই অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • নেপালে আবারো জেন জি আন্দোলন ও বিক্ষোভ, বন্দিঃ কারফিউ জারি

    নেপালে আবারো জেন জি আন্দোলন ও বিক্ষোভ, বন্দিঃ কারফিউ জারি

    সেপ্টেম্বর মাসে প্রাণঘাতী ‘জেন জেড’ আন্দোলনের কারণে ক্ষমতাচ্যুত অন্তর্বর্তী সরকারপন্থীদের বিরুদ্ধে তরুণ বিক্ষোভকারীদের নতুন উদ্যোগে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। এরই ফলশ্রুতিতে নেপালের কিছু এলাকায় গ্রেফতার ও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বিশেষ করে বারা জেলায় গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে জেন জেড সদস্যদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল–ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট–লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কঠোর আরোপ করা হয়েছে।

    বুধবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বারা জেলার সিমারা এলাকায় তরুণ বিক্ষোভকারীরা এবং সিপিএন-ইউএমএল কর্মীরা আলাদাভাবে মিছিল বের করে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ প্রশাসন কারফিউ জারি করে।

    প্রশাসনের দাবি, ‘এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে… কেউ গুরুতর আহত হয়নি।’ দেশটির পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এএফপিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি শান্তি বজায় রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের ৫ মার্চের আগ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য রাখতে হবে।

    বুধবার তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সব রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য এবং সামনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের জন্য একটি শান্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।’

    এছাড়াও, তিনি ১০০টির বেশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা চাই এই দেশ নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ দ্বারা পরিচালিত হোক।’

  • পাকিস্তানের অভিযান, ২৩ জঙ্গি হত্যা: ভারতের সমর্থন রয়েছে অভিযোগ

    পাকিস্তানের অভিযান, ২৩ জঙ্গি হত্যা: ভারতের সমর্থন রয়েছে অভিযোগ

    পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ২৩ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এই খবরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতি জানিয়েছে যে, এই অভিযানগুলো আফগানিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কুররাম জেলায় পরিচালিত হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই এলাকার জঙ্গি তৎপরতা ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার পর থেকে বেড়ে গেছে।

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতরা পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) বা এর সহায়ক গোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের পেছনে ভারতের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও কাঠগড়ায় ওঠা এই অভিযোগগুলো কাঠামোগতভাবে অস্বীকার করেছে কাবুল ও দিল্লি। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বর্ণনা করেছে, এই জঙ্গিদের মধ্যে খাওয়ারিজ গ্রুপ, এবং অন্যান্য যারা আফগানিস্তান ও ভারতের সমর্থনে পরিচালিত, তারা এই সব অভিযান চলাকালে ধরা পড়েনি।

    অভিযানগুলো ২০২১ সালের পর থেকে বিশেষত বাড়তে থাকা জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান মিডিয়া জানিয়েছে, দেশটি বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এই অভিযানগুলো আফগানিস্তান সীমান্তের পাশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করার জন্য গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

    সৌদি যুবরাজের সামনে খাসোগি হত্যার প্রশ্নে ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

    হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন।তুরন্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে একজন সাংবাদিক খাসোগি হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুর Suddenly বদলে যায়। ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এই প্রশ্ন উঠানো হয় যুবরাজকে বিব্রত করার জন্য।

    এরপর তিনি নিজেই জানান, মোহাম্মদ বিন সালমান বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানতেন না। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যিনি সম্পর্কে জানতে চান তিনি (খাসোগি) খুবই বিতর্কিত ব্যক্তি। অনেকেই তার পক্ষে ছিলেন না। ফলে এই ঘটনা ঘটে।’

    বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের সৌদি যুবরাজের প্রতি সমর্থনমূলক বক্তব্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগি হত্যা করা হয়। ২০২১ সালে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে বলা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজে এই হত্যাকাণ্ডে অনুমতি দিয়েছিলেন।

    তবে ট্রাম্পের উত্তর দেওয়ার পর জ্বালিয়ে উঠেন যুবরাজ মোহাম্মদ। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন এই তদন্তের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলছেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।’

    খাসোগির স্ত্রীর কাছে এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে তুলতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে যুবরাজের পূর্বের বক্তব্যের পার্থক্য বোঝা যায়। ২০১৯ সালে যুবরাজ নিজেই এক অনুষ্ঠানে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক্স-এ (পূর্বের টুইটার) হানান আরও জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমা চাইতে ও ক্ষতিপূরণের জন্য যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

    বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাস করছেন খাসোগির স্ত্রী হানান।

  • বাবা সিদ্দিকির হত্যা ও সালমানের বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার আনমোল বিষ্ণোই

    বাবা সিদ্দিকির হত্যা ও সালমানের বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার আনমোল বিষ্ণোই

    জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিযুক্ত গ্যাংস্টার অনমোল বিষ্ণোইকে ভারতের দুর্বার তদন্তের পর গ্রেপ্তার করে। তিনি কারাগারে থাকা গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই এবং ২০২২ সাল থেকে পলাতক ছিলেন। এটি এনআইএ-র সন্ত্রাসী এবং গ্যাংস্টার ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে ১৯তম গ্রেপ্তার ব্যক্তি। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে, অনমোল তার ভাই লরেন্স বিষ্ণোই এবং ‘গোল্ডি ব্রার’ নামে একটি সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

    এনআইএ সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অনমোল তার ভাই লরেন্সের অপরাধী নেটওয়ার্ক চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, শুটারদের আশ্রয় দিতেন এবং লজিস্টিক সহায়তা যুক্ত করতেন। এছাড়াও, তিনি বিদেশ থেকে ডাকা এক্সটরশন র‍্যাকেট পরিচালনায়ও জড়িত ছিলেন।

    অতীতে, অনমোলের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে প্রখ্যাত প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকির হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। জানা গেছে, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ওই সময় গুজরাতের সাবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী থাকাকালীন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।

    এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। শুবু লঙ্কা নামে এক সহযোগী একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, তাঁরা ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে মুম্বাইয়ের বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়ির সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম অনুজ থাপন, যিনি পরে পুলিশে গ্রেফতার হন এবং তারপর আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনাক্রমের পরই পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

    বর্তমানে, অনমোল বিষ্ণোইকে ভারতের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চালানো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা ভবিষ্যতেও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর আতঙ্কে ২৮ জনের মৃত্যু, মমতার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর আতঙ্কে ২৮ জনের মৃত্যু, মমতার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (সমন্বিত মতামত নিবন্ধন) প্রকল্প চালুর পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মহত্যার খবর শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে প্রধানন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ওই ঘটনাগুলিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যে এসআইআর কর্মসূচির কারণে ইতিমধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণের অপচয় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বলে তিনি দাবি করেছেন।

    অক্টোবরের শেষদিকে বাংলায় এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় চালু করা হয়। নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছিল, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে বা পরিবারের কারও নাম রয়েছে, তারা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবুও, এই প্রকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও শংকা সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে হতাশায় অনেকেই জীবন দিতে চেয়েছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিএলও (বিল্ডিং লইজ ওয়ার্কার) কাজের চাপেও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। বুধবার সকালে মালবাজারে এক মহিলা বিএলও’র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, এসআইআর প্রকল্পের কাজের চাপের কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তার।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আজ আরও একজন বিএলওকে হারালাম। সে অঙ্গনওয়াড়িতে কাজ করতেন। এসআইআর এর চাপ নিতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে এই প্রকল্প চালু করে কর্মীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মূল্যবান প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। আগে এই কাজের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছিল, এখন রাজনীতির কারণে সেটি মাত্র দুই মাসে সম্পন্ন করতে বলা হচ্ছে।’ তিনি অবিলম্বে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • নীতিশ কুমার আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিহারে

    নীতিশ কুমার আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিহারে

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জনতা দল ইউনাইটেড (জেডইউ)-এর সভাপতি নীতিশ কুমার। এই ঘটনাটি তার জন্য এক বিশেষ মর্যাদার কারণ, তিনি এই শপথ নেওয়ার মাধ্যমে দশমবারের মতো এই পদে অধিষ্ঠিত হলেন, যা ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। ইতিপূর্বে কেউই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেননি।

    বিহার রাজ্য সরকারের এই দীর্ঘায়িত নেতৃত্বে যদি কোনও অপ্রত্যাশিত পতন না ঘটে এবং নীতিশ কুমার তার সিন্ধান্তের মেয়াদ পুরো করেন, তবে তিনি দেশের দীর্ঘতম সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডও গড়বেন।

    আজ, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর), পাটনার ঐতিহ্যবাহী গান্ধী ময়দানে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোট ৩০ জন নতুন মন্ত্রী। এর মধ্যে ১৬ জন বিজেপির এবং অন্য ১৪ জন জেডইউ-এর। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতারা।

    নতুন মন্ত্রিসভার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে জোটের বৃহৎ অংশীদার বিজেপির জয় পেয়েছেন ৮৯টি আসনে, আর জেডইউ পেয়েছে ৮৫টি আসনে। এর বাইরে, জনশক্তি পার্টির চিরাগ পাসওয়ানের নেতৃত্বে ১৯টি আসন এবং আওয়াম মোর্চার ৫টি আসনে জয় লাভ করেছেন প্রার্থীরা।

    বিহার রাজ্যের বিধানসভায় মোট ২৪৩টি আসন থাকলেও, এবারের নির্বাচনে দুটি পর্যায়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটারদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ভোটদান করেছেন। ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৪ নভেম্বর। নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বিজেপি-জেডইউ নেতৃত্বাধীন এনডিএ বনাম কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোট। এতে দেখা যায়, এনডিএ জোটের প্রার্থীরা ২০২টি আসনে জয় লাভ করে, যেখানে বিরোধী মহাজোট জয়ী হয়েছে ৩৫ আসনে।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেইসঙ্গে নানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও ছিলেন উপস্থিত। এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় বড় হামলা, নিহত অন্তত ২৮

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় বড় হামলা, নিহত অন্তত ২৮

    চলমান যুদ্ধবিরতির একাদশ পর্যায়ে গতকাল গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ) আরও এক বিরাট হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত এবং ৭৭ জনের বেশি আহত হয়েছে। ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় এবং গাজার মূল শহর গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় আশেপাশের এলাকাগুলিতে। এই হামলায় ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানেন ইসরায়েলি সৈন্যরা।

  • ভারতের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হাসিনা

    ভারতের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হাসিনা

    ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, নির্বাসিত অবস্থায় হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে চাপের মধ্যে থাকবে। তার ভাষায়, হাসিনার উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কাঁটার মতো আটকে থাকবে। তবে তিনি এও মনে করেন যে, ভারতের নিজস্ব মিত্রদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য এটি একটি প্রতিফলন, কারণ ভারতের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে কিছু সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কুগেলম্যান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বংশভিত্তিক দলগুলো দীর্ঘ সময় সংকটে থাকলেও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় না। তাই আওয়ামী লীগকেও পুরোপুরি বাতিল করার সময় এখনও আসেনি। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই দলটির ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।অন্যদিকে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের পরিস্থিতি ‘অস্বস্তিকর’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারত বুঝতে পারছে যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ জনগণ হাসিনার প্রতি ক্ষুব্ধ, কিন্তু তাকে আবার বাংলাদেশের মূল রাজনীতিতে স্থান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দত্ত আরও বলেন, আদর্শ অবস্থায় ভারত চাইবে একসময় আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কারণ ‘হাসিনা ভারতের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প’। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভারতের জন্য প্রয়োজন ঢাকার অন্যান্য রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। তিনি আরও যোগ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে খুবই সংকটাপন্ন, তাই হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক জটিল না করে এগিয়ে যেতে হবে।জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভর্ধ্বাজ বলেন, হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—ঢাকার বর্তমান সরকারকে তারা ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ হিসেবে দেখে। ভর্ধ্বাজের মতে, বাংলাদেশে এখন যেসব রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আছে, তারা প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করে ও হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকেই দোষারোপ করছে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য হাসিনাকে ফেরত দেওয়া হলে সেটি হবে ভারতের বিরোধী শক্তিগুলোর বৈধতা প্রদান, যা বাস্তবসম্মত নয়।ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিদের’ অপরাধের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে, এবং ভারতের পক্ষ থেকে এই ব্যতিক্রমটাই প্রয়োগ হচ্ছে বলে ভর্ধ্বাজ উল্লেখ করেন। ২০১৩ সালে ছাড়সহ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশ আসামীদের প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য। তবে যদি আসামীরার মধ্যে ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ থাকে, তাহলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে।একদিকে, সম্পর্কের নতুন সমীকরণ গড়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন কিছুটা তিক্ততার মুখে পড়লেও, সম্পূর্ণ ভেঙে যায়নি। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে হাসিনা সম্পর্কের বিষয়টি দুই দেশের কূটনীতিতে বড় বাধা হয়ে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ তাকে প্রত্যর্পত করতে চাইলেও ভারত মনে করছে নাว่า এটি সম্ভব। অন্যদিকে, ভারতও বুঝতে পারছে যে ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।