Category: আন্তর্জাতিক

  • মেক্সিকোতে জেন-জিরা আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশ

    মেক্সিকোতে জেন-জিরা আন্দোলনে উত্তাল পরিবেশ

    মাদকবিরোধী অভিযানে এক মেয়রের হত্যার ঘটনায় দেশটির জেন-জি আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছে মেক্সিকোতেই। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সহিংসতায় রূপ নেয়া এই আন্দোলনে কমপক্ষে ১৫০ জন আহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে, প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান উল্লেখ করেছে।

    প্রথমে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল জেন-জিরা নামে এক গ্রুপের প্রতিবাদ হিসেবে, তবে ধীরে ধীরে সব বয়সী মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিতে শুরু করে। বিরোধী দলও এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।

    রাজধানী মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা প্রধান পাবলো ভাজকুয়েজ বলেছেন, প্রথমে এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু কিছু মুখোশধারী দল সহিংসতা শুরু করে। বর্তমানে পুলিশ ও পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছে, এর মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশের অভিযানে আহত হয়েছেন ২০ বিক্ষোভকারী।

    প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এই বছরের অক্টোবর থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং এরই মধ্যে তার জনপ্রিয়তা कायम রয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি উচ্চপ্রোফাইল হত্যা ঘটনাসহ কিছু বিতর্কের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে, মিশোয়াকান রাজ্যের উরুয়াপান শহরের মেয়র মাঞ্জো রদ্রিগেজের হত্যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। উনি শহরে মাদক চোরাচালান গ্যাংদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন, তাই তাদের হাতে নিহত হন।

    এ দিকে, রোসা মারিয়া আভিলা নামে এক ৬৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বলেছেন, এই মেয়র ছিলেন সত্যিকারে একজন সাহসী নেতা, যিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাঠাচ্ছিলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় সংকল্প প্রমাণিত। অন্য একজন বিক্ষোভকারী আন্দ্রেস মাসা (২৯) বলেছেন, আমরা আরও নিরাপত্তা চাই।

    বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ন্যাশনাল প্যালেসের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ভবনটির চারপাশে থাকা লোহার বেড়াগুলো ভেঙে ফেলে। এরপর পুরো পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয়। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

  • গাজা গণহত্যায় ৬৩টি দেশ জড়িত, সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতা

    গাজা গণহত্যায় ৬৩টি দেশ জড়িত, সরকারগুলোর বিরুদ্ধে আইনি সতর্কতা

    অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গাজা গণহত্যার জন্য বিশ্ববাসীর চোখে এক নতুন জরুরি সত্য উদ্ঘাটন করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি সহ ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা গাজায় চলমান গণহত্যা ও ব্যাপক নৃশংসতার পেছনে জড়িত। আলবানিজ সতর্ক করে বলেছেন, এসব দেশের সরকার বা কর্মকর্তারা যদি এই গণহত্যার সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এই উদ্বেগ প্রকাশের সময় তিনি বিশেষভাবে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোন অবস্থাতেই চুপ থাকাটা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, গাজায় চলমান মানবাধিকার লংঘন ও গণহত্যার জন্য ৬৩টি রাষ্ট্র দায়ী, যারা ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনে সহায়তা করছে। তিনি নিজের সর্বশেষ প্রতিবেদন “গাজা গণহত্যা: একটি যৌথ অপরাধ” এর ব্যাপক বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেছেন, যদিও গাজা ও পশ্চিম তীরে গণহত্যা ও নৃশংসতার প্রমাণ স্পষ্ট, ইউরোপের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলকে কূটনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আলবানিজ এও বলেন, ব্রিটিশ সরকারের শ্রোতাদের সামান্য কিছু ভূমিকা রয়েছে, যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার বলে পরিচিত, কিন্তু বাস্তবে তাদের এই অবস্থান গণহত্যা বন্ধে বা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তিনি বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের সমর্থনে ব্রিটিশ সরকারের জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করতে হবে। আলবানিজ দৃঢ়ভাবে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই সমর্থন গাজার মানুষকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এখনো ইসরায়েলের কাছে নানা প্রকার আবরণ বা সমর্থন দিচ্ছে, যা গণহত্যা ঠেকাতে এক বড় ধরনের অন্তরায়। বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালির ভূমিকা নিয়ে তিনি দ.Crossত্য দিয়েছেন, এজন্য তারা হয়তো geçmişের ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। আলবানিজ বলেন, “গণহত্যা প্রতিরোধে এই দুই দেশের দায়িত্ব ব্যাপক। বিশেষ করে জার্মানির ইতিহাসের কারণে তাদের আরো বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা আরও একবার ইতিহাসের ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মানবাধিকার ও গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্তের জন্য আলবানিজের ওপর জুলাই মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং তাঁর সম্পদ ব্যবস্থায় বাধার মুখে। ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদর দপ্তরে সরাসরি যোগ দিতে পারছিলেন না, তবে তিনি কেপটাউন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন। আলবানিজ বলেন, “এই নিষেধাজ্ঞা এবং সীমাবদ্ধতা সত্যিই দুঃখজনক। একজন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ও প্রতিবেদন প্রকাশের কাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অন্যান্য জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে থাকা তাদের কূটনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মোকদ্দমা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিন ও আফগানিস্তানের নৃশংসতা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর ও তার ডেপুটির ওপরে নিষেধাজ্ঞা। আলবানিজ এই সিদ্ধান্তকে ‘মাফিয়া-ধাঁচের’ অপপ্রচারে বলে সমালোচনা করেছেন, এবং বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আইসিসির তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, “তারা তদন্ত চালিয়ে যেতে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে এবং আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে পারবেন; এই ব্যবস্থা প্রতিরোধের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, আমাদের এটুকু জানা দরকার যে, এই বিষয়ে আমাদের অনেক অনেক কাজ ও ত্যাগের প্রয়োজন রয়েছে। এই দুর্দশার অবসান ঘটানোর জন্য, আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।” আন্তর্জতিক পরিস্থিতি কতটা সংকটাপন্ন, তা স্পষ্ট করে দিতে আলবানিজ আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান বাধা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে গণহত্যা ও মানবাধিকার লংঘন রোধ সম্ভব হয়।

  • মদিনা যাওয়ার পথে দুর্যোগে ৪২ ভারতীয় মুসল্লি নিহত

    মদিনা যাওয়ার পথে দুর্যোগে ৪২ ভারতীয় মুসল্লি নিহত

    সৌদি আরবে মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে একটি ডিজেল ট্যাংকারের সাথে একটি যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত ৪২ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন। সৌদি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় নিহত ৪২ জনের মধ্যে ২০ জন নারী ও ১১ জন শিশু।

    উপলব্ধ সংবাদ অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে মক্কা-মদিনা রুটের মুহরাস বা মুফরিহাত এলাকায় ঘটে। মুহরাস থেকে মদিনার দূরত্ত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। অভিযুক্ত বাসের অধিকাংশ যাত্রী তখন ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

    তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “মক্কা-মদীনা উপত্যকায় এই সড়ক দুর্ঘটনায় তেলেঙ্গানার ৪২ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় আমি গভীর শোকাহত। আমি রাজ্যপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা নিহতের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে, আমরা সৌদিতে যে কোনো সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।”

    এদিকে, হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এএনআই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ডিজেল ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বাসে আগুন ধরে যায়। আমি সৌদি আরবের ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন আবু মতিন জর্জের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নিহত ও জখম যাত্রীদের নাম-পরিচয় জানার জন্য আমরা হায়দরাবাদের দুটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। মরদেহ ফিরিয়ে আনা ও আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছি।”

  • ইসরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি

    ইসরায়েলি বাহিনী চালিয়েছে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি

    লেবাননে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সৈন্যরা। রোববার এক বিবৃতিতে শান্তিরক্ষীরা জানায়, ভারী মেশিনগানের গুলিটি তাদের বেশ কাছ থেকে, মাত্র ৫ মিটার দূরে আঘাত হেনেছে। আল জানিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, দখলদার বাহিনী এক বছর ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউনিফিলের সূত্রে জানানো হয়, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের কাছ থেকে মেরকাভা ট্যাঙ্ক দিয়ে শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি ছোড়া হয়। ভারী মেশিনগানের গুলি তাদের খুব কাছ থেকে আঘাত হানে, যার দূরত্ব মাত্র ৫.৫ গজের মতো। ইউএনফিল উল্লেখ করে, ওই ট্যাংকটি ইসরায়েলি অবস্থানের ভেতরে চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পরে শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হয়। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সৈন্যরা শান্তিরক্ষীদের টহলদলকে সন্দেহভাজন মনে করে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করতে চান যে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের চলমান লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয়কালে উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা, কারণ এসব কর্মকাণ্ড উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। গত সেপ্টেম্বরেও ইউনিফিল জানিয়েছিল, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো দক্ষিণ লেবাননের শান্তিরক্ষীদের কাছে চারটি গ্রেনেড ফেলে; যার মধ্যে একটি এর কাছাকাছি অবস্থান সম্পন্ন একটি জাতিসংঘের কর্মী ও যানবাহনের কাছে পড়েছিল। ইউনিফিলের দাবি, এই গুলিবর্ষণগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব ১৭০১ এর গুরুতর লঙ্ঘন। বিবৃতিতে তারা আবারও ইসরায়েলি বাহিনীকে শান্তিরক্ষীদের ওপর বা কাছাকাছি যেকোনো আক্রমণমূলক আচরণ ও হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য, লেবাননের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আক্রমণে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, এর বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া, একাধিক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যারা নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছে।

  • বিহার নির্বাচনের ফলাফল বিস্ময়কর, শুরু থেকেই সুষ্ঠু নয় : রাহুল

    বিহার নির্বাচনের ফলাফল বিস্ময়কর, শুরু থেকেই সুষ্ঠু নয় : রাহুল

    বিহার নির্বাচনের ফলাফলে শোচনীয় পরাজয়ের পর প্রশ্ন উঠছে ভোটের সুষ্ঠতা নিয়ে। ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান নেত্রী রাহুল গান্ধী এই ফলাফলের পিছনে নানা ধরনের অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ না দিলেও, ভোট চুরির কথাটি এড়ায়নি। রাহুল জানান, যারা মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিহারের লাখ লাখ ভোটার, যারা আমাদের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তার জন্য আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞ। এই বিস্ময়কর ফলাফল আমাদের জন্য এক ধরনের বিপদফুল হয়েছে। শুরু থেকেই এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে শঙ্কা ছিল।”

    বিহার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দুই দফায়। প্রথম দফায়, ৬ নভেম্বর, ১২১ আসনে ভোটগ্রহণ হয় যেখানে ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি। এরপর ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১২২ আসনে ভোটগ্রহণ হয়, যেখানে ভোট পড়ে ৬৮ শতাংশের বেশি। মোট মিলিয়ে প্রায় ৬৭% ভোটার অংশগ্রহণ করে এই নির্বাচনে। এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিজেপি–জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বনাম কংগ্রেস–আরজেডি নেতৃত্বাধীন মহাগাঠবন্ধনের। ফলাফল জানা যায়, ২৪২ আসনের মধ্যে এনডিএ জোট পেয়েছে ২০২টি আসনে জয়, যেখানে মহাগাঠবন্ধনের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে ৩৫টিতে।

    বিজেপি জেতার সংখ্যা ৮৯টি আসনে, জেডিইউ ৮৫টি। অন্য জরুরি অংশীদার হিসেবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ তার জয়ে অগ্রগতি করেছে। চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ১৯টি আসনে জয় লাভ করে, এবং জিতেন রাম মাঝির নেতৃত্বাধীন আওয়াম মোর্চা পার্টি ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে।

    দ্বিতীয় দফা ভোটের তুলনায়, ২০২০ সালের লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে কংগ্রেসের ফলাফল বেশ খারাপ। তখন তাদের ৭০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল। এবার, ৬১ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে। মহাগাঠবন্ধনের আরেক শরিক, আরজেডি, ২০২০ সালে ১৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং ৭৫টিতে জয়ী হয়েছিল। এবার, ১৪৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে তাদের জয় পেয়েছে মাত্র ২৫টি।

    রাহুল গাঁধী বলেছেন, “আমরা লড়ছি সংবিধান ও গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য। কংগ্রেস ও ইনডিয়া জোট এই ফলাফল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে আর গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সতর্কতা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন ভবিষ্যতের জন্য।

  • ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ, শুক্রবার

    ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ, শুক্রবার

    ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে জানা গেছে যে এটি হতে পারে শুক্রবার, ২০ মার্চ। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংস্থার চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন যে, আশা করা যাচ্ছে যে, আরব আমিরাতে ১৪৪৭ হিজরি রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায়। তবে এক্ষেত্রে চাঁদ চোখে দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। এই বছর রমজান চলতে পারে ৩০ দিন, ফলে সম্ভাব্য ঈদের ছুটি বাড়তে পারে আরও এক দিন। এর ফলে, সংস্থাগুলোর অনুমান অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২২ मार्च পর্যন্ত চারদিনের ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যাকে বলা হয় রীতি অনুযায়ী চার দিনের ঈদ ছুটি। স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে ২৩ মার্চ সোমবার। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ নিশ্চিত করবে ইউএই মুন-সাইটিং কমিটি। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ মার্চই শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, যা ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর মুসলমান সমাজের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এর সঙ্গে গভীর ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকায়, চাঁদ দেখার আগে কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষ এই তারিখ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করবে না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য তারিখে ঈদ উদযাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪ জনের মৃত্যু

    লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি: ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪ জনের মৃত্যু

    উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে অবৈধভাবে ইউরোপে যেতে চাচ্ছিলেন এমন অভিবাসীদের জন্য এটি এক হতাহতের দুঃখজনক ঘটনা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশি সহ কমপক্ষে চার জনের প্রাণহানি হয়। এই ঘটনার মধ্যে অন্য একটি আলাদা নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে যেখানে অর্ধশতাধিক সুদানি ও অন্যান্য দেশের অভিবাসী ঝরেছেন প্রাণের ঝুকিতে। তবে সেই ঘটনায় হতাহত হয়নি।

    ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৬ নভেম্বর) উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার আল-খোমস শহরের উপকূলে। লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে এই নৌকাগুলোর উল্টে যাওয়ার খবর তারা পায়। প্রথম নৌকায় ছিল বাংলাদেশের ২৬ নাগরিক, যাদের মধ্যে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য নৌকাতে ছিল মোট ৬৯ জন; এর মধ্যে দুইজন মিসরীয়, আরও ৬৭ জন সুদানি, যাদের মধ্যে আটজন শিশু। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার এবং মৃতদেহের মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করে।

    লিবিয়া বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যেতে অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এই দেশটি অভিবাসীদের জন্য একটি ট্রানজিট রুটে রূপ নিয়েছে। এখন সেখানে Sাআড়ে ৮ লাখের বেশি অভিবাসী অবস্থান করছেন। গাদ্দাফির পতনের পরে দেশটি নানা মিলিশিয়ার সংঘর্ষে জর্জরিত হয়েছে, এবং যেখানে সাধারণ অভিবাসীরা নিয়মিত নিপীড়ন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।

    অধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ জানায়, লিবিয়ায় শরণার্থীদের এই দুর্দশা অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন দিন দিন বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার কোস্টগার্ডকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অর্থের সহায়তা দিলেও, অভিযোগ উঠেছে যে এই কোস্টগার্ডের একজন অংশ ‘নির্যাতন ও অপরাধে জড়িত’ মিলিশিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। এছাড়াও, ইউরোপের দেশগুলো নিখোঁজ উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়ায় সমুদ্রপথে যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর ওপর নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধা দিয়ে তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো গুরুতর করে তোলা হচ্ছে।

  • মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান, ৪৫ বাংলাদেশিসহ ১২৩ বিদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় কারখানায় অভিযান, ৪৫ বাংলাদেশিসহ ১২৩ বিদেশি আটক

    অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে একটি প্লাস্টিক কারখানায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানটির মাধ্যমে মোট ১২৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ জন বাংলাদেশি। এই অভিযানটি রোববার (১৬ নভেম্বর) চালানো হয়, যা জোহর অভিবাসন বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে শুরু হওয়া এই সাঁড়াশি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন জোহর অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থার সদস্যরা। এই সময় কারখানায় অপরাধের শিকার বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ পাস ছাড়াই কাজে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠেছে।

    আটকদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি ৪৫ জন, মিয়ানমার থেকে ৭১ জন, ভারতীয় ৪ জন, নেপাল থেকে ২ জন এবং পাকিস্তানের ১ জন নাগরিক। কর্মকর্তাদের দাবি, এই বিদেশিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কাজ করাসহ বৈধ কাগজপত্র না থাকা, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়াও, এই অবৈধ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত থাকায় স্থানীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপককেও আটক করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে কারখানায় কিছু শ্রমিক পালানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পিছু হটানো হয় ও লুকানোর স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের লুকানোর বা ঢাল করার চেষ্টা যদি হয়, তবে তা রক্ষাকবচ হবে না। আটককৃত সন্দেহভাজন সবাই স্থানীয় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের আরও তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জোহর অভিবাসন বিভাগ উল্লেখ করেছে, দেশের আইন শৃঙ্খলা ও শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও জোরদার করা হবে।

  • চীনে ৭০ বছরের মধ্যে বৃহত্তম স্বর্ণের খনি উদ্ধার

    চীনে ৭০ বছরের মধ্যে বৃহত্তম স্বর্ণের খনি উদ্ধার

    চীনে ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভাণ্ডার খুঁজে পাওয়া গেছে। লিয়াওনিং প্রদেশে অবস্থিত এই খনিতে প্রায় ১,৪৪৪ টন স্বর্ণ থাকা প্রত্যক্ষ হয়েছে। মাত্র ১৫ মাসের নিরলস অনুসন্ধান এবং গবেষণার মাধ্যমে এই বিশাল ভাণ্ডার চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে দাদংগোউ নামের এই খনিটি এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় স্বর্ণের খনি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই খনিতে প্রায় ২৫.৮৬ লাখ টন আকরিক রয়েছে, যার প্রতি টনে গড়ে ০.৫৬ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। ফলে এই খনিতে মোট স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় ১,৪৪৪ টন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বর্তমান বাজার অনুযায়ী, এই স্বর্ণের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬৬ বিলিয়ন ইউরো যাকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মূল্য। আর এই বছর বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে; প্রতি কিলোগ্রাম স্বর্ণের মূল্য এখন বেশি থেকে বেশি, শতাধিক ইউরো পর্যন্ত পৌঁছেছে।

    এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্র পরিচালিত লিয়াওনিং জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং গ্রুপ। তারা প্রায় এক হাজার প্রযুক্তিবিদ ও কর্মী নিয়োগ করে মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে অনুসন্ধানের কাজ সম্পন্ন করেছে, যা বর্তমানে আধুনিক স্বর্ণখনির ক্ষেত্রে বিরল একটি ঘটনা।

    প্রথমে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই স্বর্ণের ভাণ্ডারকে ‘অতি-বিশাল’ বলা হলেও এর মান কম। তবে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই স্বর্ণভাণ্ডারটির নির্দিষ্ট অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, এটি লিয়াওনিং প্রদেশের পূর্ব অংশে অবস্থিত। নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে এর অবস্থান সচেতনভাবে গোপন রাখা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এই সময়ে, যখন মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত। এই বছর স্বর্ণের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল মার্কিন ডলার, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা। বিশেষ করে, উদীয়মান দেশগুলো তাদের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে স্বর্ণ কিনছে।

    চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বর্ণখনির অনুসন্ধান এবং খনিজ সম্পদের খোঁজ বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে হুনান প্রদেশে ১,০০০ টনের বেশি স্বর্ণের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়া গেছে। একই বছর গাড়্সু প্রদেশে ৪০ টনের বেশি স্বর্ণের খনি পাওয়া যায়।

    চীনের স্বর্ণ উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ৩৭৭.২৪ টন স্বর্ণ উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ০.৫৬ শতাংশ বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণের চাহিদা ছিল প্রায় ৯৮৫.৩১ টন। সাথে সাথে, স্বর্ণের কনসামেশন ও বোর্সের চাহিদাও ২৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সম্পদ রক্ষা ও বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে স্বর্ণের জনপ্রিয়তা সার্বজনীনভাবে বেড়ে চলেছে এবং এটি এখন অন্যতম নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অনেকে বেছে নিচ্ছেন।

  • ইসলামাবাদে হামলায় ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    ইসলামাবাদে হামলায় ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান নয়া দিল্লির

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের আদালত ভবনের বাইরে ঘটেছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ, যেখানে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি দাবি করেছেন, এই হামলায় ভারত সমর্থিত চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগকে কড়া প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানের নেতাদের ভিত্তিহীন ও উন্মাদনামূলক দাবি আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী সমর্থিত ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা চলছে, যা থেকে তারা নিজেদের দৃষ্টিকে বিড়ম্বনা করতে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টি স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারে এবং পাকিস্তান এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে; এতে তারা ব্যর্থ হবে না।’

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, ইসলামাবাদের আদালত ভবনের বাইরে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন এবং আহত হয়েছে ৩২ জন। তিনি বলেছেন, হামলাকারী বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১২ মিনিট আদালত চত্বরে ছিল এবং প্রথমে আদালতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে হিংস্র আক্রমণে পুলিশের যানবাহন লক্ষ্য করে হামলা করে। তিনি আরও জানান, তদন্ত চলমান এবং হামলাকারীকে শিগগিরই শনাক্ত করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর সঙ্গে জড়িত অন্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার জন্য ভারতের সক্রিয় সমর্থিত চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততা অভিযোগ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ভারতের সন্ত্রাসী প্রক্সি দিয়ে পাকিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের ওপর হামলা জঘন্য ও নিন্দার যোগ্য। এই অঞ্চলে ভারতের এ ধরনের অঘোষিত সন্ত্রাসি কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দোষীদের কড়া বিচার নিশ্চিত করবেন।

    তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তুলে মন্তব্য করেছেন, ‘কাবুলের শাসকরা পাকিস্তানে সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারবে, কিন্তু ইসলামাবাদের ওপর এই প্রভাব ও চাপ চালানো কেবল কাবুলের বার্তা, যা পাকিস্তান পুরোপুরি মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

    এদিকে, এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের যোদ্ধারা ইসলামাবাদের বিচার বিভাগে হামলা চালিয়েছে। যারা পাকিস্তানের অ আইনানুগ ও অ-ইসলামী আইনের অধীনে রায় দেন, সেই বিচারক, আইনজীবী ও অফিসাররাই আমাদের লক্ষ্য।’ তারা আরও হুমকি দিয়েছে, ‘পাকিস্তানে ইসলামি শরিয়া আইন প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চালিয়ে যাবে।’ সূত্র: এনডিটিভি, ডন