বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃढ़ হলো, যেখানে দেশের গড় মাথাপিছু আয় এখন ২৫৯৩ ডলার। এটি প্রতিফলিত হয়েছে নতুন বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে থাকা জর্ডানের মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার, যা বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশির। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম, যেখানে এর নির্ভরযোগ্য হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিছু সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার দেখিয়ে ছিল, যা এখনকার বাস্তব পরিসংখ্যানের সঙ্গে ততটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে আরও দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথাপিছু আয় এখন ২৬৯৩ ডলার, যা বাংলাদেশের তুলনায় মাত্র ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলংকার ক্ষেত্রে, এই সংখ্যা প্রায় ৫৫০০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে বেশি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬৪০ ডলার, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার কম।অন্যদিকে, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয় যোগ্য আফগানিস্তান, যেখানে এই সংখ্যা মাত্র ৪১৩ ডলার। সততার সাথে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা উন্নতির পথে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
Category: অর্থনীতি
-

স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে, আবার বৃদ্ধি
দেশের বাজারে স্বর্ণের দর আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের নতুন দামের ঘোষণা দিয়েছে। এই তথ্য জানানো হয় বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে। নতুন দাম আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
প্রতিটি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দামে রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস, যা তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল।
-

অর্থমন্ত্রী: জলবায়ু পরিবর্তনে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, মাত্র ২ বিলিয়ন পেলে যায় জান বাজি
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তবে, দুঃখজনকভাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আদায়ের সময় আমাদের জান বের হয়ে যায়। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ নামে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দুটি ধরণের দুর্যোগের মধ্যে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কম নয় আর প্রকৃতি ও মানুষের ক্ষতি একসঙ্গে বাড়ছে। তরুণরা এগিয়ে আসছে জানিয়ে সেটি ইতিবাচক দিক, তবে শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক পাঠানো উপায় নয়। আগুন লাগলে সাধারণ মানুষই প্রথম এগিয়ে আসে, সেটা দৃশ্যমান। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়গুলো আরও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের মতো প্রবল দুর্যোগপ্রবণ দেশে, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলায় বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যেখানে আগামীতে আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ন্ত্রণের আলোচনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংবাদ বেশি তুলে ধরতে হবে। জাপানের ছাত্ররা এ নিয়ে সচেতন, আমাদেরও এখন থেকে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বিষয়টি বোঝানো দরকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ, এখানে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের প্রকোপ বেশি। এজন্য আমাদের মধ্যে সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু, পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যুসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিষয়গুলো তুলে ধরার গুরুত্ব স্বীকার করেন অতিথিরা। আজকের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
-

স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে গেল
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম দুই হাজার ৭১৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা। এই আপডেটের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে, এটি এখন একেবারে ‘মূল্যবান’ থেকে যেন ‘মহামূল্যবান’ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করে। নতুন মূল্যู দাবি আজ সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৩ টাকা। তবে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রূপার দাম এখন এক ভরি জন্য নির্ধারিত ২ হাজার ৮১১ টাকা। অন্য ক্যারেটের জন্য যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম এক হাজার ৭২৬ টাকা।
-

অগাস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে অস্বস্তি রয়ে গেছে
গত আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে। তবে বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে খাদ্য বিভাগের মূল্যবৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যমূল্য সূচক ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ এই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.২৬ শতাংশ কমেছে।
তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। আগস্টে খাদ্য উপাদানের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে এবং বর্তমানে এটি ৭ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। جولাই মাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যমতে, জুলাই মাসে সার্বিকভাবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি প্রায় ০.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়াও, আগস্ট মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে খাদ্য বিষয়ক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এই হার ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) একটি অনুষ্ঠানে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এটা এক রাতের কাজ নয়, সময় নেয়। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আগস্টে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে আমাদের লক্ষ্য ৫ শতাংশের নিচে মূল্যস্ফীতি রাখা।
-

নগদ হবে না ডাক বিভাগের অধীনে, আসছে নতুন বিজ্ঞাপন শীঘ্রই
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য সরকার নগদ বা নগদ অ্যাপকে বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমএফএস খাতের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে চাই, তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের আনছি। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি এবং মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করব। গভর্নর পাশাপাশি জানান, এখন থেকে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদকে আলাদা করা হবে, কারণ বর্তমানে ডাক বিভাগের এতে সামর্থ্য নেই। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানি আনা জরুরি।’ গভর্নর আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা নগদকে নতুন করে গড়ে তুলতে সফল হবেন, যাতে এটি এমএফএস খাতে একটি যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে উঠে দাঁড়াতে পারে। উল্লেখ্য, সূত্র: শীর্ষনিউজ।
-

আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যে অস্বস্তি রয়েছে
গত আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ের তুলনায় কিছুটা কমলেও, খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে অস্বস্তি এখনও রয়ে গেছে। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধির দিকে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে জুলাইয়ের তুলনায় এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা জুলাইয়ের ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশের থেকে বেড়েছে।
বিবিএসের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমেছে। এর অর্থ এই যে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার দামে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছে।
গ্রামাঞ্চলে দেখাচ্ছে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে সার্বিক মূল্যস্ফীতি। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।
শহরগুলোতেও মূল্যস্ফীতিতে কমতি এসেছে, যেখানে সার্বিক হার কমে গেছে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ, দাঁড়িয়ে এখন ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য কাজ চলছে, তবে এটি একদিনে হয় না, সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, চালের দাম বাড়ায় আগস্টে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে কিছুতেই এটি ৫ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে আমাদের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির হারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
-

স্বর্ণের দাম রেকর্ড শীর্ষে, অতীতের সব ধারনাকে ছাপিয়ে গেছে
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরো বৃদ্ধি পেলো। সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) নতুন করে নির্ধারণ করা হলো ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা, যেখানে আগে দাম ছিল সেটির চেয়ে দুই হাজার ৭১৮ টাকা বেশি। এই বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বর্ণের দামে এত বেশি বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে ভেঙে ফেলেছে এবং ধাতুটিকে এখন ‘মহামূল্যবান’ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয়। নতুন দাম আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৩ টাকা। তবে, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দাম মোটেই পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের রূপার এক ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য দুই হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য দুই হাজার ২৯৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক হাজার ৭২৬ টাকা।
-

দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৫৯৩ ডলার
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আপডেট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার سطحে পৌঁছেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই রিপোর্টটি বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসেছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এশিয়ার গরীব দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জর্ডান, যার মাথাপিছু আয় প্রায় ৪ হাজার ৬১৮ ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই তালিকায় ১২তম স্থানে রয়েছে, যেখানে তার মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, কিছু সময় আগে সরকারি তথ্যে দেখা গিয়েছিল, করোনাকালীন সময়ে জনমুখী প্রচারনার মাধ্যমে ভুয়া তথ্য দিয়ে দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ডলার দেখানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার এই প্রতিবেদন মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের থেকে মাত্র ১০০ ডলার বেশি, যেখানে শ্রীলঙ্কার আয় প্রায় ২ হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, তালিকার অষ্টম অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় এক হাজার ডলার কম। পাশাপাশি, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের দেশ হলো আফগানিস্তান, যেখানে এই সংখ্যা শুধুমাত্র ৪১৩ ডলার। এই তথ্যগুলো দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
-

সরকারের অনুমোদন পেলো ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব
বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ হিসেবে গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার। আজ, ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির পঞ্চম সভা, যেখানে এই তথ্য জানানো হয়। এই সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। সভায় বলা হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রেরিত বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো, যা står প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। বিডা প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বলা হয়, এই ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রস্তাবের ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে সাধারণত এই রূপান্তর হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার জট সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রায় ৬,৫০০ কন্টেইনার পড়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে এই জট কমানোর উদ্যোগে, গত দুই মাসে প্রায় ১,০০০ কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সভাপতি দূত এ সময় নির্দেশ দেন, নিলাম কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে। আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার প্রক্রিয়া চলছে এবং পণ্য হস্তান্তরের কাজও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের সুবিধা এক জায়গায় আনার কাজ প্রায় শেষের পথে। এর মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং এবং শেষের দিকে পুরোপুরি প্ল্যাটফর্ম চালু হবে বলে জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউজ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মহল।
