বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বুধবার দিনের শেষে দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আগে গত রোববার এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল গ্রস হিসাবে ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফ হিসাব অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
Category: অর্থনীতি
-

এনবিআর চেয়ারম্যানের দাবি: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইনটি সত্যিই একটি কালো আইন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘করপোরেট কর ও ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআর এর জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এবং করসংক্রান্ত বিশ্লেষকদের মতে, ন্যূনতম করটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি একটি অনুচিত আইন। তিনি একেএই সময়ে মন্তব্য করেন, করের জন্য দেশের প্রবৃদ্ধির স্বার্থে একটি সমতুল্য ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে প্রাসঙ্গিক করনীতি কার্যকর হয়। এনবিআর চেয়ারম্যানের দাবি, করের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে হলে করসংকোচনের পাশাপাশি কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, করছাড় ও করসংক্রান্ত সুবিধাদি দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও, এখনো কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন করের পরিমাণ বৃদ্ধি, যদিও বর্তমানে করের হার কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত বছর দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৭.৪ শতাংশ, আর এবছর তা কমে ৬.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ঋণের বোঝা বাড়ছে, কারণ মূলত রাজস্ব আদায় খুব কম থাকায় পরবর্তী প্রজন্মের উপর ঋণের চাপ বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর একটি ডিজিটাল ও অটোমেটেড সিস্টেম তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কর נফরমেশন সহজ ও দ্রুত হয়। তিনি জানান, অডিটের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে অডিট নির্বাচন কঠোরভাবে ঝুঁকি ভিত্তিক হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও সততা প্রতিষ্ঠা করা যায়। কর জাল বা কর পরিশোধে প্রতারণা রোধে করদাতাদের জন্য আরও বেশ কিছু আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সংলাপে অংশ নেয়া গবেষকদের মতে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী current কর হারকে ‘অন্যায্য’ এবং ব্যবসার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখেছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব প্রধান প্রতিঘাত। উচ্চ অনুরোধ ও জটিল ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ীরা নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই নানা রকম দুর্নীতি ও অস্পষ্ট বিধানের কারণে সমস্যা অনুভব করেন।
-

দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৫৯৩ ডলার
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মানুষের গড় আয় ২৫৯৩ ডলার। এর ফলে গত বছরে এই সংখ্যা ৪২ ডলার বৃদ্ধিপেয়েছে। এই উন্নতির কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলা হয় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু সূচক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। তবে, বিশ্বব্যাংকের অন্যান্য দেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই অবস্থান এখনো বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশের তালিকায়, জর্ডান শীর্ষে থাকলেও সেখানে মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম এবং মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, আগে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভুয়া তথ্য প্রকাশ করে বলা হত যে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩০০০ ডলার। তবে এখন স্বীকৃত তথ্য বলছে, সেই সংখ্যা এর চেয়ে কম। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সড়ক তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে, যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় প্রায় ২৫৯৩ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলঙ্কার আয়ও উল্লেখযোগ্য, যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৫৩৩ ডলার। পাকিস্তানের অবস্থান ৮ম স্থানে, যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬০৩ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় এক হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ আফগানিস্তানের মাথাপিছু আয় মাত্র ৪১৩ ডলার, যা দেখায় এই দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা কত গভীর।
-

সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে। আজ (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বোর্ড সভায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি ছাড়াও উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়্যারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগের প্রস্তাবের মধ্যে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের। এর পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের। মোট প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশের মতো, যা গোটা বিশ্বে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর জন্যও আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কন্টেইনার পড়ে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের সময় বিডা বন্দরে কার্যক্রম দ্রুত করার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেয়, যার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিলামের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নির্দেশনা দেয়।
আশাকরি, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান থাকবে, এবং নিলামের পণ্য হস্তান্তর প্রক্রিয়াও চালু থাকবে। একই সময়ে, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের পরিষেবাগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা সহজে সকল পরিষেবা পাবে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই প্ল্যাটফর্মের সফট লঞ্চিং এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ চালু নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-

ডাক বিভাগের অধীনে থাকছে না ‘নগদ’, ১ সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে
বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নগদ ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছন্দ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার নগদকে দেশের ডাক বিভাগের অধীন থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই অর্থনৈতিক এই খাতে উন্নতি এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি হোক। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নগদকে বেসরকারিকরণ করা হবে এবং এটি জন্য উপযুক্ত বিনিয়োগকারী আনা হবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে এ সব কথা তিনি জানান। গভর্নর আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা সম্ভবত মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেব।’ এটি করার মূল কারণ হলো, বর্তমান সময়ে ডাক বিভাগের অধীনে থাকা নগদ এর কার্যক্রম চালানোর জন্য উপযুক্ত সক্ষমতা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নগদ প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি উন্নত প্রযুক্তি কোম্পানি আনা জরুরি। এতে করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুনভাবে নগদকে গড়ে তুলতে পারবে যাতে এটি মোবাইল অর্থটেক কৌশলে একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: শীর্ষনিউজ.
-

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বুধবার দিনশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে গত রোববার দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সব তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) এর মাধ্যমে ২.০২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর, দেশের রিজার্ভ কমে যায় এবং গ্রস রিজার্ভ পৌঁছায় ২৯.৫৩ বিলিয়নে। বিপিএম৬ অনুসারে, এই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।
অপরদিকে, রেমিট্যান্সের প্রাধান্যসূচক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে, জুন মাসের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে, যা দীর্ঘ ২৮ মাসে সর্বোচ্চ স্তর। এর আগে, মার্চের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে গিয়েছিল। জুনের শেষে, বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালের জুনে ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালে আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ এই মুদ্রার রিজার্ভ crossing ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালের জুলাই শেষে, এই রিজার্ভ ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সরকার পতনের পর থেকে, অর্থ পাচার কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে ডলার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, হুন্ডির ব্যাপক হ্রাসের কারণে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে, ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
-

নিকটতম কর আইনকে কালো আইন বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান আগামীকালিন কর আইনকে একে ‘কালো আইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত একটি সংলাপে ‘করপোরেট কর এবং ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআরের জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শিরোনামে এই বক্তৃতা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ন্যূনতম কর আইন অবশ্যই একটি অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত আইন, যা দেশের ব্যবসা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কর should be based on মুনাফার উপর, তবে বর্তমানে সর্বনিম্ন কর নির্ধারণের প্রক্রিয়া এর বিপরীত। এর ফলে সমস্যা দেখা দেয়, যখন এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কর আহরণ কমে যায়। এ বছরের প্রথমদিকে আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কারণ, যদি ব্যবসায়ীদের জন্য কর সহজ ও সুবিধাজনক করে ধরা না হয়, তবে দেশ থেকে রাজস্ব সংগ্রহ কঠিন হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্র ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, করের ছাড়ের প্রবণতার কারণেই কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন খাতে সরকারের দেয়া করছাড়ের ফলে কর আদায়ের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক করছাড়ের নীতি চালু রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতির জন্য জরুরি হলেও এর ফলে করের মোট পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ট্যাক্স হিল্ড ও এক্সেম্পশন চালু থাকায় কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এতে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
এনবিআর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত বলেন, যদি করভুক্তির আওতা বৃদ্ধি করা যায়, তবে করের হার কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ও ভ্যাট রিটার্নের ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা চলছে, যাতে বোতাম চাপলেই সব কিছু স্বয়ংক্রিয় হয়। এতে অডিট ও করের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে। বর্তমানে ম্যানুয়াল অডিট পদ্ধতি প্রকৃত সমস্যা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, অডিট ঝুঁকি নির্ধারিত ভিত্তিতে হবে, আর যতদিন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা যাবে না, ততদিন অডিট ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে।
অবশেষে, তিনি বলেন, করের আওতা বাড়ানো গেলে করহার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে রিফান্ড অটোমেটেডভাবে করদাতার অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে।
অধ্যয়নে তুলে ধরা হয়, একটি সম্প্রতি পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, বর্তমান কর হার ‘অন্যায্য’ এবং এটি তাদের ব্যবসার জন্য বড় বাধা। অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবে তারা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি, ৭২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কর প্রশাসনে দুর্নীতি তাদের জন্য বড় সমস্যা। ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পরিচালিত এ সমীক্ষায় আরও জানা গেছে, ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবিকে কেন্দ্র করে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হন, যা অনেক সময় উসকানি দেয়।
ভ্যাট সংক্রান্ত জরিপের ফলাফল বলছে, ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, জটিল ভ্যাট আইন তাদের জন্য অন্যতম প্ৰতিবন্ধকতা, এছাড়া অস্পষ্ট নীতিমালা, কর কর্মকর্তাদের সীমিত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণের অভাব ও পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতা তাদের ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান ঢাকার আশপাশের এলাকার, যা দেশব্যাপী ব্যবসা ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত। -

ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, দ্রুত বিজ্ঞাপন আসছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নিশ্চিত করেছেন যে, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে উন্নতি এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য সরকার নগদকে বেসরকারীকরণ করছে। তিনি বললেন, আমরা এ খাতে নতুন দিকনির্দেশনা এবং প্রতিযোগিতা তৈরি করতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নগদকে সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না রেখেই বেসরকারি উদ্যোগে নিয়ে আসা হবে। এর ফলে, এর বিনিয়োগ ও পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেবো। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, বর্তমানে যে নগদ ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তা থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ এখন ডাক বিভাগ এ কার্যক্রম চালানোর জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়। গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, নগদের মূল শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোনও প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনো দরকার, যাতে এটি নতুনভাবে গড়ে উঠে এবং মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়াতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন গঠনের মাধ্যমে নগদ আরও উন্নত হবে ও গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজ ও মানসম্পন্ন হবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।
-

দেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে
দেশে বর্তমানে মাথাপিছু গড় আয় ২৫৯৩ ডলারতে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি আপডেট হওয়া প্রতিবেদন। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশ তালিকায় জর্ডান শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দেশের মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই তালিকায় ১২তম স্থানে পৌঁছেছে, যার মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। জানা গেছে, সরকারের গোপন রিপোর্ট ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বে বাংলাদেশকে প্রায় ৩০০০ ডলার বলেও দেখানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, এই মুহূর্তে ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর, যেখানে তাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৯০০ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, তাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬০০ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় এক হাজার ডলার কম। এশিয়ার সবচেয়ে কম আয়কারী দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে গড় মাথাপিছু আয় মাত্র ৪১৩ ডলার। এই তথ্যগুলো দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের বর্তমান চিত্র দেখিয়েছে আর ভবিষ্যত পরিকল্পনাগুলোকে প্রভাবিত করবে বলে অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
-

বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির পঞ্চম সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি, স্থানীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে।
এছাড়াও, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। বিডার প্রতিনিধির মন্তব্য, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রস্তাবের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ, যেখানে বিশ্বজুড়ে এ রূপান্তরের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনার পড়ে রয়েছে। সরকারের ভূমিকাায়, গত দুই মাসে প্রায় এক হাজার কন্টেইনারের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিলাম কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দেন।
আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনারের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং পণ্য হস্তান্তর কাজও চলমান। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সফট লঞ্চিং September মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষে পুরোপুরি এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হবে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
