Category: অর্থনীতি

  • সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আজ (০৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আসা বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে একা বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়। এছাড়া, স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

    বিডার প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চূড়ান্তভাবেই অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম দফার প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এই রূপান্তর হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বলে সভায় জানানো হয়।

    এছাড়াও, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের জট সমস্যা কমানোর উপর আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকছে। বর্তমান সরকারের সময়ে কন্টেইনারের জট কমানোর জন্য ইতিমধ্যে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আরেকটী লক্ষ্যে, আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই নিলামের পণ্য হস্তান্তরের কাজও সচল।

    বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে এবং আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি আলোচনা হয়। জানানো হয়, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং হবে। এর পুরোপুরি কার্যকারিতা setembro মাসের শেষের দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগদকে বেসরকারিকরণের। তিনি বলেন, আমরা এই খাতে কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি নিয়ে যাব। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

    গভর্নর আরও জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, কারণ ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো এখন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনা জরুরি।’ এর মাধ্যমে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারলে এটি এমএফএস খাতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান তালে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

    সুত্র: শীর্ষনিউজ।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইন একটি কালো আইন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইনটি ব্যবসায় ও করসংক্রান্ত জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি সংলাপে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    চেয়ারম্যান আরও জানান, অনেকের মধ্যে ন্যূনতম করের প্রবণতা রয়েছে এবং এই আইন স্বভাবতই কালো; এটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায় করের ভিত্তি হয় মুনাফার ওপর। কিন্তু ন্যূনতম কর নির্ধারণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ঠিক রাখা যায় না। যেখানে কর আহরণের পরিমাণ কমে যেতে পারে, সেখানে বাস্তবায়ন বেশ জটিল হয়ে পড়ে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলতি বছর আমাদের প্রচেষ্টা হবে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, কারণ যদি ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর সুবিধা না দেওয়া যায়, তবে রাজস্ব সংগ্রহও দুরূহ হয়ে দাঁড়াবে।

    সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।

    চেয়ারম্যান বলেন, করছাড়ের কারণে কর-উৎসকো অনুপাত বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অনেক কর ছাড় দেওয়ার ফলে কর সংগ্রহের হার এখনও পুরোপুরি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তিনি বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অটো ট্যাক্স ছাড় ও রেয়াতের ফলে মোট কর-জিডিপি অনুপাত নিরন্তর কমে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও জানান, দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব আদায়। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কমে গিয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা পাকিস্তানের থেকেও কম। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ঋণের বোঝা বাড়ছে। ইচ্ছামতো ঋণ গ্রহণ ও ঋণের সুদ পরিশোধের সমস্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা তুলতে হচ্ছে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি—অটোমেটেড এনবিআর। এর মাধ্যমে সব কর ও ভ্যাট রিটার্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালনা করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, অডিটের কোয়ালিটি আরও উন্নত করতে অডিটের ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন থেকে ঝুঁকি ভিত্তিতে অডিট হবে এবং যতদিন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম ডিজিটাল না হবে, ততদিন হাতে-কলমে অডিট বন্ধ থাকবে।

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, করজাল বা করের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব। রিফান্ডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতাদের অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে, যা কর সম্পাদনাকে সহজ করবে।

    সংলাপে উপস্থিত এক গবেষণা বলছে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন বর্তমান কর হার অন্যায্য এবং ব্যবসার জন্য বড় প্রতিবন্ধক। একই সঙ্গে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব ও দুর্নীতির বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই নিয়মিত কর দাবির কারণে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কিছু ব্যবসায়ী জানান, স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা পূর্বনির্ধারণ ছাড়া কর কর্মকর্তা ইচ্ছেমতো কর আরোপ করেন।

    ভ্যাট সংক্রান্ত পরিস্থিতিও অনেক ব্যবসায়ীর জন্য আবেদন ও পরিচিতি সহায়ক নয়। অংশগ্রহণকারী ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী জটিল ভ্যাট আইন ও অনির্দিষ্ট নীতিমালা, সহায়তা ও প্রশিক্ষণের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাস ও উচ্চ অনুবর্তন ব্যয় তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এন্টারপ্রাইজ সার্ভের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত এই সমীক্ষায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য হার কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। দেশ এখন দারিদ্র্যের হার Proximately ২৭.৯৩% বা প্রায় ২৮%, যা সরকারের হিসাবেও ২০২২ সালে ছিল ১৮.৭%। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-র এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার নাম ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫।’ এই ফলাফল গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশিত হয়। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যও বেড়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬%, তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৫%। এর মানে হলো, গত তিন বছরে দারিদ্র্য দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এখনও প্রায় ১৮% পরিবার যে কোনো সময় গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮,০৬৭টি পরিবারের অর্থাৎ ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।

    বর্তমান তিন সংকটের প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পিপিআরসি বলেছে, দেশে এখন তিনটি বড় ধরনের সংকট চলছে—কোভিড মহামারি (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া, ঘুষ কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গেল বছরের আগস্টের আগে যেখানে ৮.৫৪% মানুষ সেবা নিতে ঘুষ দিত, সেখানে এই হার আগস্টে নেমে এসেছে ৩.৬৯%-এ। তবে সবচেয়ে বেশি ঘুষ যায় সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে।

    শহরের পরিবারে আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামের পরিবারে আয় কিছুটা বেড়েছে, গড় আয় ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ২৬,১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে দেশের সাধারণ পরিবার গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা হলেও খরচ হয় ৩২,৬১৫ টাকা, যার ফলে সঞ্চয় প্রায় নেই বললেই চলে।

    খাবার খরচ এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা গড়ে ৫৫%। একটি পরিবারের মাসিক মোট খরচের অর্ধেকের বেশি খরচ হয় খাবারে, যা গড়ে ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া, প্রতি মাসে শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসনে ১,৮৯ টাকা খরচ হয়।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় বড় অর্থনীতি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি খুবই জরুরী। শুধু জিডিপির উন্নয়নই নয়, সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের আরও বেশি আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

    তাছাড়া, বর্তমান নানা সংকটের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এগুলির মধ্যে প্রথমটি হলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝামেলা, যার জন্য নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে থাকায় তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দরকার। তৃতীয়ত, ঋণের বাড়বাড়ন্ত বড় সমস্যা। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমবর্ধমান, যা এখনো ব্যাপক নয়, তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৬% মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে। এর ফলে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও এখন কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। বেকারত্বের পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে, এজন্য তৎপরভাবে পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এবারই সময় উদ্যোগ নেওয়ার, কারণ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই বিষয়ে গভীর আলোচনা এবং পদক্ষেপ জরুরি।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    গত রোববারের তুলনায় এই গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    উল্লেখযোগ্য হলো, গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর, গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম৬ অনুযায়ী, সেই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ দেওয়ার কারণে, গত জুন মাসের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কম। জুন শেষে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের রেকর্ড ২০২১ সালের আগস্টে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তারপর ধাপে ধাপে কমে, গত জুলাইয়ে এটি দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পরে, অর্থ পাচার রোধ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে।

    বিশেষ করে, হুন্ডি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে, প্রবাসী আয়ের কারণে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মুদ্রা তহবিলে এসে পৌঁছেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশ, খাদ্যের খরচ সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশ, খাদ্যের খরচ সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ

    তিন বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি মোটেও উন্নতি হয়নি, বরং তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা সরকারী হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) সম্প্রতি এক গবেষণায় এই চিত্র উদঘাটন করেছে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক এই গবেষণা ফলাফল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান গবেষণা রিপোর্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, আর ২০২৫ সালে এসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনো সময় গরিব হয়ে পড়তে পারে। এই গবেষণা মে মাসে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।

    গবেষণা বলছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তিনটি প্রধান সংকট রয়েছে, যেগুলোর প্রভাব পড়ছে সমাজে। এগুলো হলো: কোভিড মহামারীর प्रभाव (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। পিপিআরসির আরও তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষের প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। ওই সময়ের কাছাকাছি সময়ে দাঁড়িয়ে, এখনো অনেক সেবা পূর্বের তুলনায় দুর্বল হলেও কিছুটা কমে এসেছে। বিশেষ করে সরকারি অফিসে, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার হার কমেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, শহরের পরিবারগুলোর আয় কমছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। শহরের এক পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে শহরের পরিবারের গড় আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামের পরিবারগুলোর আয় কিছুটা বেড়েছে, এখন গড় আয় ২৯,০২০৫ টাকা, তবে খরচ ২৭,১৬২ টাকা। ২০২২ সালেও গ্রামের পরিবারের গড় আয় ছিল ২৬,১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে জাতীয়ভাবে দেখা যায়, একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই।

    খাবার খরচের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের মোট মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাবার খাতে। একজন পরিবার মাসে গড়ে ১০,৬১৪ টাকা খাবার কেনায় ব্যবহার করে। এছাড়া, প্রতি মাসে শিক্ষা খাতে ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসন খাতে ১,৮২৩ টাকা করে খরচ হয়।

    হোসেন জিলুর রহমান বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় বৃহৎ অর্থনীতির দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। অর্থনীতির পরিকল্পনায় জনমুখী ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি নয়, সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্য কমানো এবং নাগরিক কল্যাণও অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বোঝা, নারীবান্ধব পরিবারগুলোর অবস্থা, ঋণের চাপ, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও স্যানিটেশন সমস্যাসমূহ। বিশেষ করে, স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে এখনও প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ ন non-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে, যা জাতিসংঘের নির্ধারিত এসডিজি অর্জনকে বাধা দিচ্ছে।

    কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করে হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে কর্মসংস্থানের ব্যাপক প্রয়োজন। বেকারত্বের হার বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফলপ্রসূ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই বিষয়গুলো আমাদের জরুরি প্রস্তুতির জন্য নির্দেশ করে দেয়, যে দিয়ে আমরা দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবো।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১।৩৩ বিলিয়ন ডলারে, যা বেশিরভাগ সময়ের চেয়ে বেশি। একই সাথে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

  • সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে

    সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির (ইনভেস্টমেন্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি) পঞ্চম সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ মোট ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া, স্থানীয় অর্থায়ন ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

    বিডা পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত প্রস্তাবের মধ্যে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ জন্য প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বিশ্বজুড়ে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সরকারের সময়কালে বন্দরে গতি ফিরিয়ে আনতে এর আগে দুই মাসে এক হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও বিশেষ দূত নিলাম কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ দেন।

    আসন্ন মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান রয়েছে এবং পণ্য হস্তান্তর প্রক্রিয়াও অব্যাহত। এ ছাড়া, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের বিভিন্ন পরিষেবাগুলোকে একত্রিত করে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।

    আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর সফট লঞ্চ এবং শেষের দিকে পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শীঘ্রই বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শীঘ্রই বিজ্ঞাপন আসছে

    তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যে নগদটি ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ ডাক বিভাগের পক্ষে এখন এটি চালানো সম্ভব নয়। সরকার মনে করছে, নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানির আনতে হবে যাতে এটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নতুন করে গড়ে তুলে নগদকে এমএফএস খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সক্ষম প্রতিযোগী হিসাবে দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এই বিষয়ে সরকার শীঘ্রই বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর কঠোর ও কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর কঠোর ও কালো আইন

    নার্বিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইনটি একটি কালো আইন হিসেবে বিবেচিত। তিনি এই মন্তব্য করেন রাজধানীর গুলশানে এক সংলাপে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এ সংলাপের শিরোনাম ছিল ‘করপোরেট কর ও ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআরের জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’।

    চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কিছু সময় ধরে ন্যূনতম করের বিষয়টি নিয়ে আলাপ চলে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি অস্বাভাবিক আইন, কারণ করের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মুনাফা। কিন্তু এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা খুবই সমস্যাজনক। তিনি আরও বলেন, আমাদের যখন একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সিস্টেমে পৌঁছানোর কথা, তখনই এই ধরনের আইন সংশোধনের প্রয়োজন। এবার আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজে চলার পরিবেশ তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ ব্যবসা সহজ না হলে দেশের কর আদানে বাধা সৃষ্টি হবে।

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।

    চেয়ারম্যান বলেন, করছাড় ও করহারে অতিরিক্ত গিয়ে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে বলে মনে হয় না। কারণ, দেশের বড় বড় করদাতাদের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলছেন, দেশের বিভিন্ন কর প্রণীতিতে অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত করছাড়ের কারণে করের মূল অনুপাত কমে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের জন্য মোটর চালাতে থাকা ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

    আইনের অপ্রতুল কার্যকারিতা ও করসংক্রান্ত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে করছাড়ের ধারাবাহিক প্রথা চালু থাকায় করের মূল হার বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাপক করছাড় দেওয়ার ফলে দেশের রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা দেশের জন্য ঝুঁকি স্বরূপ।

    চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত যেখানে ১২.২ শতাংশ, আমাদের দেশের এ বছর তা হয়েছে মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা অনেক কম। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব সংগ্রহ অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের উপরে ঋণের বোঝা কমানোর জন্য ও দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প চালানোর জন্য করতালিকা বাড়ানো জরুরি।

    বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর অটোমেটেড সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে, ভ্যাট ও কর রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে এবং অডিটের মানোন্নয়ন হবে। বর্তমানে অডিটের জন্য মানুয়াল পদ্ধতি চালু থাকলেও এটি বন্ধ করা হয়েছে, আর অডিট ঝুঁকি ভিত্তিক বা автомат করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে এককালীন অডিটের ঝামেলা কমে।

    করদাতাদের জন্য আরও সুবিধা আনতে তারা রিফান্ড অটোমেটেড করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে কর প্রদান সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

    একটি সিপিডির সমীক্ষায় দেখা যায়, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী বর্তমান কর হারকে ন্যায্য নয় মনে করেন এবং এটি তাঁদের ব্যবসার উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব, দুর্নীতিও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা।

    অতিরিক্ত জটিলতা ও অস্পষ্ট ভ্যাট নীতিমালা, প্রশিক্ষণের অনুপুষ্টি ও করের শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সমস্যা। ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়।