Category: অর্থনীতি

  • অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনেই বাংলাদেশের প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকা হিসেবে সাড়ে ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২১.৭৫ টাকায় হিসাব করে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি মাসের এই ১৮ দিনে, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রবাসী আয় ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের অক্টোবরের ১৮ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা এই বছরের একই সময়ের চেয়ে কিছুটা কম। এর পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরে অর্থাৎ আগের মাসে, ১৮ দিনের হিসেবে প্রবাসী আয় ছিল ১৬১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের তুলনায়, বছরের শুরুর ৩ মাস ১৮ দিন—অর্থাৎ জুলাই ১ থেকে অক্টোবর ১৮—র মধ্যে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা একই সময়ের আগের বছরের চেয়ে বেশি। একই সময়ে, ২০১৮ সালে এই অবদান ছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সামগ্রিকভাবে, চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

  • স্বর্ণ ও রুপার দাম কমে গেলো একাধিক রেকর্ডের পর

    স্বর্ণ ও রুপার দাম কমে গেলো একাধিক রেকর্ডের পর

    দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য কমতি এসেছে, যা তেজাবি বা পাকা স্বর্ণের মূল্য কমার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। মহ Economy এর উন্নতির কারণে স্বর্ণের দাম একেবারে নতুন এক রেকর্ড ছাড়িয়ে আবার কমে এসেছে।

    আশা যায়, এই মূল্য কমানোর ফলে স্বর্ণ-খাতের ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য এক লাখ ৮ হাজার ৩৮২ টাকা থেকে কমে এখন দুই লাখ ৮ হাজার ৯৯৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে, এক ভরি স্বর্ণে দাম কমে গেছে আট হাজার ৩৮২ টাকা। এর আগে, ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে যায়, তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা, যা এতদিনের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ছয় হাজার ০০০ টাকার বেশি কমিয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫শ’ এক টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য ছয় হাজার ৮৫০ টাকা কমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমে ৫ হাজার ৮শ’ ৫ টাকা করে ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা রাখা হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, রুপার দামও নিয়মিত কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি দাম ৭৩৫ টাকা কমে এখন ৫ হাজার ৪৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৭০০ টাকা কমে ৫ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৬০৭ টাকা কমে ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪৪৩ টাকা কমে ৩ হাজার ৩৫৯ টাকায় নেমে এসেছে।

    অতীতে, এই দাম কমার আগে ২০ অক্টোবর, ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ছিল ৬ হাজার ২০৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭০৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৩ হাজার ৮০২ টাকা।

  • কার্গো টার্মিনালে আগুনে রপ্তানি ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালে আগুনে রপ্তানি ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাত ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বারো হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) রপ্তানি ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম, অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি), এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

    সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ী বা রপ্তানিকারকরা নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে গেছে, ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করা হোক এবং দ্রুত পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে, যেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য পৌঁছায় বা যায়। এই ধরনের ঘটনা এবার আর যেন না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা উল্লেখ করেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং অঞ্চল দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের হৃদয়। সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের পণ্য—কোটি কোটি ডলারের পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামাল—অুপযুক্তভাবে পরিচালিত হয়। এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিকাণ্ড একটি দুর্ঘটনা নয় বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন।

    তারা প্রশ্ন করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কি কোন স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ডিটেকশন বা প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল? আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কোথায় ছিল? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে এত সময় লাগলো কেন? নেতারা অভিযোগ করেন, সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস হাউস, এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন সংস্থাই কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তার জন্য দায়ী, অথচ তারা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগুনে বিভিন্ন ধরনের রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ও ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামাল। এতে অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছেন, আবার বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করে। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত বিমা ক্ষতিপূরণ, যেসব পণ্য বীমা কাভারের আওতায় ছিল না, সেগুলোর জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল থেকে সহায়তা, বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সেবা আধুনিকীকরণ ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও মনিটরিং প্রযুক্তি স্থাপন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন এবং ফায়ার প্রোটেকশনের উন্নয়ন।

    উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিকার জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সংগঠনের নেতারা।

  • বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সম্প্রতি জুয়া এবং প্রতারণায় যুক্ত থাকায় ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলো ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে এই মাস পর্যন্ত ফ্রিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় বিএফআইইউর একজন প্রতিনিধি এ তথ্য জানান। এ সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, সিআইডি, বিএফআইইউ, মোবাইল অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধি জানান, এসব অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে জুয়া খেলা ও প্রতারণামূলক চক্রগুলো বিভিন্ন ধরনের অবৈধ লেনদেন চালাচ্ছে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মাধ্যমে এসব জাল বা অবৈধ লেনদেনের বার্তা বিনিময় বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কিছু কার্যকরী নির্দেশনাও দেওয়া হবে। যারা এসব অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে, তাদের লেনদেনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

    ডিজিএফআইর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেদারসে বেনামি সিম ব্যবহার করা হচ্ছে, ভুয়া সিম বিক্রি, মানবদগোটার আঙুলের ছাপ জালিয়াতি, বিকাশের নকল অ্যাপ তৈরি এবং ডার্ক ওয়েবে নাগরিকদের ডেটা পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে চক্রগুলো।

    এদিকে, বিশেষ অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, সরকার জুয়া ও অনলাইন অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি করছে। একাধিক নোটিশের পরও কিছু অনলাইন পোর্টালে এখনো জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার চলছে, যা দ্রুত বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নোটিশ ছাড়াই যেকোনো মুহূর্তে এই পোর্টালগুলো বন্ধ করে দিতে পারি।’ গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৪,৮২০টি এমএফএস নম্বর ও ১,৩৩১টি ওয়েবপোর্টালের লিংক বন্ধ করা হয়েছে।

    তবে, এ ক্ষেত্রে কিছু চক্র প্রতিরোধে নতুনভাবে ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও নম্বর ব্যবহার করছে। আইপি বদলিয়ে, ওয়েবসাইটের নাম পরিবর্তন করে আবার চালু করা হচ্ছে। এখনো তারা ভার্চুয়াল অ্যাপ ব্যবহার করে অবৈধ অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বৈঠক ও নজরদারির মাধ্যমে এই চক্রগুলোকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্য রয়েছে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্প্রতি জোরালোভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কারণ হলো রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশाली বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনার কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ ৩২.১১ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে, যাpreviously ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে ছিল। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক সংস্থা আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংकों থেকে ডলার সংগ্রহের ফলে রিজার্ভের এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে। চলতি অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ডলার নিলামের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে, যা ১৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবরে বাংলাদেশের মোট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে বোঝা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহে সাড়া দিয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্থ নীতির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করছে।

  • সোনার দাম আরও বৃদ্ধির সঙ্গে ভরি ছাড়াল ২ লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি

    সোনার দাম আরও বৃদ্ধির সঙ্গে ভরি ছাড়াল ২ লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি

    দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা ও বাজারের অনুরূপ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০ টাকা; যার ফলে এখন সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা—which হচ্ছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই নতুন দাম কার্যকর হবে সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে।

  • ভারত থেকে জাল টাকা প্রবেশের খবরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    ভারত থেকে জাল টাকা প্রবেশের খবরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুতই সতর্কবার্তা জারি করেছে। বুধবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের খবর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, জাল টাকা তৈরি, বহন এবং লেনদেন অবৈধ এবং দেশের আইন অনুযায়ী এটি এক গুরুতর অপরাধ। দেশীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়টি রোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জাল নোটের উৎস, প্রবাহ এবং ব্যবহারের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাংক থেকে জনগণের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নোট গ্রহণের সময় নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন জলছাপ, অসমতল ছাপ, নিরাপত্তা সূতা, রঙ পরিবর্তনশীল কালি এবং ক্ষুদ্র লেখাগুলি ভালভাবে পরীক্ষা করা। বড় অঙ্কের লেনদেন অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। এছাড়াও নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সন্দেহজনক নোট পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়ে দিয়েছে, আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য তাদের ওয়েবসাইট www.bb.org.bd এ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় আসল নোট শনাক্তকরণে এক্স-ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শিত রয়েছে।

    এর আগে সম্প্রতি কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী সাংবাদিক তার ফেসবুক আইডিতে এই বিষয়ক একটি পোস্ট দেন। এটি ব্যাপক ভাইরাল হলে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুতই তৎপর হয়ে ওঠে। তারা এ অপতৎপরতা রুখতে বহুমুখী উদ্যোগ নিতে থাকিয়েছেন বলে জানিয়েছে।

  • কার্গো টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালের অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বারো হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) রপ্তানি ও শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইএবি’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ীদেরই নয়, সরকারও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং বাজার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দ্রুত সরকারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার আসল কারণ খুঁজে বের করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ হোক এবং প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—এমন অঘটন আর দেখতে চাই না।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা উল্লেখ করেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং জোন দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য ওঠানামা করে। এমন সংবেদনশীল স্থানে অগ্নিকাণ্ডটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার অস্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন তাঁরা।

    নেতারা প্রশ্ন তোলেন—এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কি কোনো অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন বা প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল? আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কোথায় ছিল? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিস এসে পৌঁছাতে এত সময় লাগলো কেন?

    অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, এই তিন পক্ষই যদি কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক তদ্বারা দায়িত্ব পালন করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অগ্নিকাণ্ডে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে। বেশ কয়েকটি অর্ডার বাতিল হয়েছে, আর বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত বিমা দাবি মঞ্জুরের উদ্যোগ, যেসব পণ্যে বীমা না থাকলেও ক্ষতি হয়েছে, সেসবের জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন, বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার ও প্রযুক্তি ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন, কার্গো ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানানো হয়।

    অতিরিক্ত, তাঁরা দুর্ঘটনার মূল কারণ শনাক্তকরণে সরকারের সঙ্গে সমন্বিত তদন্ত কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যেন সাম্প্রতিক ঘটনার সত্যতা ও দায়দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নিরূপণ করা যায়।

  • অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পরিণত হলে একটির মূল্যমান ১২১.৭৫ টাকা ধরে মোট দাবি দাঁড়ায় প্রায় ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    চলতি অক্টোবর মাসের এই ১৮ দিনের মধ্যে, আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। 지난해 একই সময়ে প্রবাসী আয় হয়েছিল ১৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে, এ বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয় ছিল ১৬১ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা কিনা এ বছরের অক্টোবরের চেয়ে কিছুটা বেশি।

    এছাড়া, মার্চ-অক্টোবর এই তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রবাসী আয়ে এসেছে মোট ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যেখানে গত বছর ঐ সময়ে ছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য খুবই আশাবাদজনক।

  • বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণার জন্য স্থগিত

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছে 최근 বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট) বিশাল সংখ্যক মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এই কারণে ৫০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত। তবে সম্প্রতি এই বিষয়ে বেশি নজর দিতে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক জমকালো সভায় বিএফআইইউর একজন প্রতিনিধি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স), এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স), এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার), সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট), মোবাইল অপারেটর কোম্পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সেখানে বক্তারা জানিয়েছেন, সরকারের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হচ্ছে যাতে এমএফএস অ্যাকাউন্টগুলো থেকে জুয়া ও প্রতারণামূলক লেনদেন প্রতিহত করা যায়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে আরো কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হবে। স্থগিত অ্যাকাউন্টগুলো থেকে কোথায় কোথায় অনিয়ম হয়ছে, তা বিশ্লেষণ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

    আরও জানা গেছে, অনলাইন জুয়া ও অ্যাটাকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের জন্য বেনামি সিমের ব্যাপারও বাড়ছে। সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া সিম বিক্রি করছে, মানুষের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করছে এবং বিকাশের নকল এপ্প তৈরি করছে। এর ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছে, যা বিভিন্ন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

    অতীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য সময় দিচ্ছিল। তবে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল এখনো অবৈধ ও অনিরাপদ কনটেন্ট প্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে। এসব পোর্টালে জুয়া বিজ্ঞাপন এবং অননুমোদিত কনটেন্ট প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যেকোনো মুহূর্তে এই ধরনের পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যদি অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ না হয়।

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, সরকারের একজন বিশেষ উপদেষ্টার, বলেছে যে, বর্তমানে সরকারের কাছে মোট ৪ হাজার ৮২০টি এমএফএস নম্বর এবং ১ হাজার ৩৩১টি ওয়েব পোর্টালের লিঙ্ক ধরা পড়েছে। কিন্তু চক্রের সদস্যরা প্রতিবারই নতুন করে আইপি ঠিকানা, ওয়েবসাইটের নাম বদলে আবারও চালু করছে। নতুন অ্যাপ তৈরি করে এবং পুরোনো অ্যাপের অপ্রস্তুতিও থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তারা জানিয়েছেন, এই লেনদেন বন্ধের জন্য উচ্চতর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।