Category: অর্থনীতি

  • কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের রপ্তানি খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ধারনা অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা অর্থাৎ বারো হাজার কোটি টাকার পণ্যের ক্ষতি হয়েছে। আজ (২০ অক্টোবর, সোমবার) রপ্তানি ও শিল্পখাতের নানা সংগঠনের মিলিত প্ল্যাটফর্ম, এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি), এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে। এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং সরকারের আকারেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং মূল বাজার হারানোর আশঙ্কা গড়িয়ে আসছে। মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করে সরকার ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত পুনরুদ্ধারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু—এখানে এমন অঘটন ফের বলতে চাই না। সংবাদ সম্মেলনে ইএবি নেতারা বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং অঞ্চল দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি ডলারের পণ্য ওঠানামা করে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর দুর্বলতার ঝলকানি। তারা প্রশ্ন তোলে—এখানে কি কোনো স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ডিটেকশন বা ফায়ার প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল? অগ্নিকাণ্ডের সময় বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং টিম কী অবস্থানে ছিল? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে এতটা সময় কেন লেগে গেল? নেতারা অভিযোগ করেন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএএবি), কাস্টমস হাউস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন সংস্থা বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের দেখভাল অভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই অগ্নিকাণ্ডে পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ওষুধের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের রপ্তানি পণ্য পুড়ে গিয়েছে। অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছেন এবং বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে— ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত বিমা দাবি নিষ্পত্তি, বীমার আওতার বাইরে থাকা পণ্যগুলোর জন্য বিশেষ সরকারি তহবিলের ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং আধুনিক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ, রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের পদক্ষেপ, আধুনিক স্ক্যানার ও মনিটরিং সিস্টেমের স্থাপন, কার্গো ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। তারা আরও দাবি করেন, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ—সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার। এতে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আর যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে।

  • অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী পাঠানো অর্থের পরিমাণ reaching ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১.৭৫ টাকায় গণনা)। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয় পুরানো বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যদিও, সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই মাসে সামান্য কম রেমিট্যান্স এসেছে; সেপ্টেম্বরে প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয় ছিল ১৬১ কোটি ১৫ লাখ ডলার। একই সময়ে, জুলাই থেকে অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনে, মোট প্রবাসী আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩.৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সাম্প্রতিক এই ধারা অব্যাহত থাকায় দেশে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে ৫০ হাজার মোবাইল ব্যাংকের জোয়া ও প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত

    বাংলাদেশে ৫০ হাজার মোবাইল ব্যাংকের জোয়া ও প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত

    বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জুয়া ও প্রতারণায় জড়িত থাকা ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলো ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত সময়ে ফ্রিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় বিএফআইইউর প্রতিনিধির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স), এনএসআই, এনটিএমসি, সিআইডি, বিএফআইইউ, মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। একজন বিএফআইইউ কর্মকর্তা নাম প্রকাশের শর্তে জানান, জুয়া ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম রোধে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অ্যাকাউন্টগুলো থেকে একে অপরের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষ্ময়কর বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভর করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    অতিরিক্ত ডিবেঙ্গু কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়া ও আর্থিক প্রতারণার জন্য বেনামি সেনের ব্যবহার বাড়ছে। ভুয়া সিম বিক্রি, মানুষের আঙুলের ছাপের ব্যবহার, বিকাশের নকল অ্যাপ, এবং ডার্ক ওয়েবে ব্যক্তিগত ডেটা উপলব্ধ হওয়ার মতো নানা অপরাধের খবরও উঠে এসেছে।

    সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়েও এখনো কিছু গণমাধ্যমের অনলাইন পোর্টাল জুয়া ও অনিরাপদ কনটেন্ট প্রচার করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি আর چنین অপরাধমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার চলতে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া পোর্টালগুলো অচিরেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত জুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল, তবে অনেক মিডিয়া এতে complied করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, গত মে মাস থেকে এই পর্যন্ত সরকার মোট ৪,৮২০টি এমএফএস নম্বর এবং ১,৩৩১টি ওয়েব পোর্টালের লিংক শনাক্ত ও বন্ধ করেছে। তবে, নতুন করে সিগন্যাল বা আইপি পরিবর্তন করে এই চক্রগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। নম্বর বা ওয়েবসাইট ব্লক করলেও তারা নতুন অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল গ্রুপ গঠন করে আবার জুয়া ও প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণার মোকাবেলার জন্য স্বতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সরকার। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রতারণা এক উপায়ে বন্ধ করলেও নতুন উপায়ে আবার চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তবুও, সরকারের অঙ্গীকার এই ধরনের জাল ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম কঠোর ব্যবস্থায় নিষিদ্ধ ও বন্ধ করার।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ বর্তমানে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী রিজার্ভের এই প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালিত ডলার বিক্রির নিলাম কার্যক্রম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.১১ বিলিয়ন ডলার। এফএমএফের অর্থনৈতিক ফরমুলা অনুযায়ী (আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি) গণনায় রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার।

    রিজার্ভের এই বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রির নিলামে কার্যক্রম। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে, যা ১৩ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে।

    বর্তমানে এই সব অভিন্ন কার্যক্রমের ফলস্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই শক্তিশালী রিজার্ভ বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে দাঁড়ানো।

  • রেকর্ডের পর স্বর্ণ-রুপার দাম কমলো

    রেকর্ডের পর স্বর্ণ-রুপার দাম কমলো

    বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবার কমানো হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দামের পতন। দেশের স্বর্ণের বাজারে এ মূল্য কমার ফলে আমদানিকারক, বিক্রেতা এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি সুখবর। আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দরের কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

    বাজারে স্বর্ণের দাম এই প্রথমবারের মতো এত বেশি কমলো, যার ফলে মানুষ আরো বেশি স্বর্ণ কেনার উৎসাহ পাচ্ছেন। এই দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠক শেষে নেওয়া হয়, যেখানে এই মূল্যস্খাৎ নিশ্চিত করা হয়েছে। আবারও এটা জানানো জরুরী যে, এর আগে ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা।

    নতুন দরে, বিশেষ করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক ভরি কমে দাঁড়ালো ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮২ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়াও, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আর সনাতন পদ্ধতিতে এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১৪২,২২৯ টাকা।

    উল্লেখ্য, এর আগেও ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫০ টাকা বেড়েছিল। তবে এই নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে বাজারে স্বর্ণের মূল্য আরও স্বস্তির জোড়ালো বার্তা পাঠিয়েছে।

    অন্যদিকে, রুপার দামের ক্ষেত্রেও এই মূল্যস্খাৎ দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এক ভরি কমে ৫ হাজার ৪৭০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫,২১৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা আর সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে, ২০ অক্টোবর ৬ হাজার ২০৫ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যারেটের রুপার দাম বাড়ানো হয়েছিল, কিন্তু এখন মোট মূল্য ফের কমেছে।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে, এই দাম কমানোর ফলে ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনাকাটার সুযোগ আরও সুগম হচ্ছে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।

  • কার্গো টার্মিনালের আগুনে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    কার্গো টার্মিনালের আগুনে রপ্তানি খাতে ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা: ইএবি

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় দেশের রপ্তানি শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ট Twelve হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) রপ্তানি ও শিল্প খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম, ইএবি (এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ), একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

    ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানোর আশঙ্কাও উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, এই ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত পুনরুদ্ধারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র, এখানে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা আর ঘটুক না।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং জোন দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন এই স্থানে কোটি কোটি ডলারের পণ্য ওঠানামা করে। এই সংবেদনশীল স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক দুর্বলতা প্রকাশ করে।

    তারা প্রশ্ন ওঠায় বলেন, কি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কি অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন ও প্রটেকশন সিস্টেম ছিল? আগুনের সময় বিমানবন্দরের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক দল কীভাবে ছিল? বাইরে থেকে ফায়ার সার্ভিসের আসতে এত সময় লাগলো কেন?

    নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স—এই তিন প্রতিষ্ঠান এ জন্য দায়ী, যাদের দায়িত্ব ছিল কার্গো টার্মিনালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। তাদের ব্যর্থতার কারণেই আজকের এই বিপর্যয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগুনে প্রথমে তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ফলমূল, ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে। এতে অনেক ক্রেতা তাদের অর্ডার বাতিল করেছেন এবং বেশ কিছু বিদেশি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইএবি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের বিমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি, যেখানে বীমা কাভার ছিল না, সেই পণ্যের জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল থেকে সহায়তা, কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদার, রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, আধুনিক স্ক্যানার এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা স্থাপন, কার্গো ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন ও ফায়ার প্রোটেকশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

    অবশেষে, রপ্তানিকারক নেতারা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দাবি জানিয়েছেন, যাতে কিছু অস্বচ্ছতা বা অবহেলা যেন আবার ফিরে না আসে। তারা সরকারের, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

  • অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্সের লাভ ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অক্টোবরের ১৮ দিনে রেমিট্যান্সের লাভ ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা

    অসাধারণ এক অঙ্কে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভারতের অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এসেছে মোট ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় অন্তত ১৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকায় পরিণত হয়েছে (প্রতি ডলার মূল্য ধরে ১২১.৭৫ টাকা হিসেব করে)। এই তথ্য শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

    চলমান অক্টোবর মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী আয় আগের বছরের সমান সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মোট ১৫২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে এর আগের মাস, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা কম ছিল, যেখানে ওই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৬১ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন মাস ১৮ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ আগের বছর অপেক্ষা ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এই সময়ে মোট ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে যেখানে, আগের বছর এই সময়ের মধ্যে তা ছিল ৮০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    বিশ্লেষকদের অভিমত, এ ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও বাড়ছে।

  • বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলারReached . This আশ্চর্যজনক বৃদ্ধি মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহে জোরের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলাম কার্যক্রমের ফল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩২.১১ বিলিয়ন ডলারReached। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার। Ioএ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    অগ্রগতির ধারাবাহিকতায়, গত ৯ অক্টোবরে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আইএমএফের বিপিএম-৬ মত অনুযায়ী তা ছিল ২৭.১২ বিলিয়ন ডলার। ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ২১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার নিলামের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছে। এই নিলাম কার্যক্রম শুরু হয় ১৩ জুলাই, এবং এখন পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

  • স্বর্ণ ও রুপার দাম কমল টানা রেকর্ডের পর

    স্বর্ণ ও রুপার দাম কমল টানা রেকর্ডের পর

    জাতীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম আরো নিচে নামে। সবচেয়ে প্রিমিয়াম মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম কমে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩৮২ টাকা, যার ফলে একটি ভরি স্বর্ণের বর্তমান মূল্য এখন দুই লাখ আট হাজার ৯৯৫ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও কমানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এর বৈঠকে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। তখন এক প্রকারের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ভেঙে যায়, যেখানে একটি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা।

    নতুন দাম অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম আবার কমে এসেছে, যেখানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম এখন আট হাজার ৩৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার পাঁচশ’ এক টাকা, যা আগে ছিল বেশি। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমে এক লাখ ৭০ হাজার ৯শ’ ৯৪ টাকা। পাশাপাশি, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম কমে হয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার ২শ’ ১৯ টাকা।

    অন্যদিকে, এর আগে ২০ অক্টোবর স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সময়, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছিল। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ছিল দুই লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক হাজার ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ছিল দুই লাখ ৭ হাজার ৫শ’ ৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছিল এক লাখ ৭৭ হাজার ৮শ’ ৫৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১৪৮,৭৪২ টাকা।

    অন্যদিকে, রুপার দামও কমে এসেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ৭৩৫ টাকা কমে now ৫ হাজার ৪৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম কমে ৫ হাজার ২১৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার দামে কমতি ৬০৭ টাকা, নতুন দাম এখন ৪ হাজার ৪৬৭ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৩৫৯ টাকা, যা আগে ছিল বেশি।

    আগে ২০ অক্টোবর, ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ছিল ৬ হাজার ২১০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ছিল ৫ হাজার ৯১৪ টাকা, এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ছিল ৫ হাজার ৭৪ টাকা।

  • বাংলাদেশে জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ৫০,০০০ এর বেশি স্থগিত

    বাংলাদেশে জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ৫০,০০০ এর বেশি স্থগিত

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। জুয়া এবং প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই সময়ে ৫০ হাজারের বেশি মোবাইলভিত্তিক আর্থিক লেনদেন পরিষেবা (এমএফএস) অ্যাকাউন্টকে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায়, যেখানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, সিআইডি, বিএফআইইউ এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধি অংশ নেন, এই তথ্য জানানো হয়।

    বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানান, মোবাইল লেনদেনের মাধ্যমে জুয়া, প্রতারণা ও অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে বিটিআরসি এর মাধ্যমে নানা ধরনের সতর্কতা বার্তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে এসব অনুসরণ করে অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা যায়। চিন্তাজনক বিষয় হলো, জুয়াখোর চক্রগুলো বেনামি সিমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছে, বিকাশের নকল অ্যাপ তৈরি হচ্ছে, মানুষের আঙুলের ছাপ বা ডেটা ডার্ক ওয়েবে পাওয়া যাচ্ছে। এসব বেআইনি কার্যক্রম দেশের অর্থনীতির জন্য বড় বিপদ সৃষ্টি করছে।

    অত্র সভায় সরকারের বিশেষ উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অনেক গণমাধ্যম এখনও জুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, যা সরকারকে বেশ সতর্ক করে দিয়েছে। এখন যদি এই ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ না করা হয়, তবে বিনা নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জুয়া বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছিল, তবে অনেক অনলাইন পোর্টাল এখনও এসব বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সরকার অতিশীঘ্রই এসব পোর্টাল বন্ধ করে দেবে।

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, মে মাস থেকে এ পর্যন্ত সরকারের হাতে এসেছে ৪ হাজার ৮২০টি এমএফএস নম্বর এবং ১ হাজার ৩৩১টি ওয়েবসাইটের লিঙ্ক। তবে, এই চক্রগুলো নতুন করে আরেক ভাবধারায় ফিরে আসছে, তারা আইপি পরিবর্তন ও নতুন নামে ওয়েবসাইট তৈরি করে আবার নতুন অ্যাপ চালু করছে। বন্ধ করা অ্যাপগুলো অনেক সময় পাবলিশড নয় বা এপিআই ব্যবহার করে গোপনভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা এই অপরাধগুলোর সঙ্গে যুক্ত দালাল ও চক্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।