Category: অর্থনীতি

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় নম্বর ০১০৮৩৩১, যা একটি দামী ৬ লাখ টাকার পুরস্কার। দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭, যার মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকটির মূল্য ১ লাখ টাকা, নির্বাচিত হয়েছে দু’টি নম্বর: ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে দু’টি নম্বর: ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ড্রটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ১০ হাজার টাকার জন্য ৪০টি নম্বর, যা হল: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০၇৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    নগদ দখলের জন্য মোট ৩,৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬টি টিকিট। ড্রয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর চালানো হয় ২০ শতাংশ কর।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার বা একীভূতকরণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা এবং পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই পাঁচটি ব্যাংক হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি ও সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে যে, বুধবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আজ থেকেই তাদের পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীন পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই লক্ষ্যেই আজকের দিন থেকে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বুধবার ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর কর্তৃক। জানা গেছে, এই বৈঠকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে এর আগে থেকেই ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণ এ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অবশেষে, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা ও আর্থিক বিভাগ সুপারিশের মাধ্যমে সেটি অনুমোদিত হয়। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ক্রমশই অবনতি হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রওিশনের ঘাটতি এবং মূলধনী ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি; বরং তাদের শেয়ারবাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে হারাতে শুরু করেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালুও ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে ফেললেও সাধারণ গ্রাহকদের সেবা স্থবির হবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সকল ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব জানান।

    গভর্নর বলেন, বোর্ড বাতিল হলেও ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, ব্যবসা চলমান থাকবে, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সবই স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোকে ধাপে ধাপে সম্পদ ও আইটি সিস্টেমের একীভূতকরণ সম্পন্ন করে বিষয়গুলো সমন্বয় করা।

    গভর্নর জানান, এই পাঁচটি ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা ও প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। লিকুইডেশন এড়াতে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত একীভূতিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় বলে ঘোষিত পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ব্যাংকে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়েছে এবং তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, এই পাঁচ ব্যাংক একত্রিত হলে এটি দেশের বৃহত্তম ইসলামिक ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাবে, যার পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নতুন ব্যাংকটি সরকারীয় মালিকানাধীন হলেও পরিচালনায় বেসরকারি ব্যাংকের মতো পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এটি পরিচালনা করবেন পেশাদার এন্ডমডি, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়া বোর্ড। তিনি বলেন, আমরা মনে করি—ইসলামী ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যত।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। ফলে, শেয়ারের মূল্য জিরো বিবেচনা করা হবে এবং কারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।’

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী সব গ্রাহক তাদের টাকা সম্পূর্ণরূপে তুলতে পারবেন। বড় আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এ বিষয় বিস্তারিত পরে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তিনি সকলকে উৎসাহিত করেন, প্রয়োজনীয়তার জন্যই অর্থ উত্তোলন করুন এবং উদ্বিগ্ন না থাকতে।

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়কালে যদি নতুন সরকার পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সরকারি পরিবর্তন ছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে।

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

    চিঠিতে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং তারা এখন ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ায় আজকের দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়।

    এছাড়াও, গত ৯ অক্টোবর সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর, এই ব্যাংকগুলো বন্ধের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারল্য সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। এর ফলে, ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় এসে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের শেয়ারবাজার মূল্য পড়ে গেছে এবং নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    ঢাকা Stock Exchange (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, একীভূত হয় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন से এসব ব্যাংকের শেয়ার বাজারে লেনদেন হবে না।

    ডিএসই ও সিএসই নিজেদের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। এই পাঁচ ব্যাংক হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলো কেন লেনদেন স্থগিত করা হলো, তার কারণ হলো ব্যাংক রেজুলিউশন অর্ডিনেন্স, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, এখন থেকে এই ব্যাংকগুলো অকার্যকর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ নভেম্বর এই নির্দেশনা দিয়ে বলে দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলো অপারেশনে থাকছে না। এই নির্দেশের ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। অতএব, এই শেয়ারগুলো মানে বোঝা যাবে না এবং এগুলোর চূড়ান্ত মূল্য জিরো। কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আলোচিত ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ যথাক্রমে:
    – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক: ৬৫ শতাংশের বেশি, যার পরিমাণ ৭৮৭ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১২০ কোটি ৮১ লাখ)
    – গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০৮ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ)
    – ইউনিয়ন ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ)
    – এক্সিম ব্যাংক: ৩৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৬৫ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ)
    – সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক: ১৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২২৯ কোটি ২০ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ)

    প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশও রয়েছে এই ব্যাংকগুলোতে, যার বিবরণ আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘোষণা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী দুর্বল অর্থনীতির পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন, যদি তাদের বিনিয়োগের যথাযথ ক্ষতি হয়।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ‘বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনও তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিণত হয়ে লিকুইডেশনের (বর্তমান অর্থে পরিসমাপ্তি) মাধ্যমে শেষ হয় এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার কারণে লিকুইডেশনের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

    এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যাকে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন শেষ হওয়ার পরে নিয়োগ করবে।

    এছাড়া সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণও বিবেচনা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই বিধানটি আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডির মত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত।

    অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদারর (যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার) অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলমান ব্যাংকগুলো বড় পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদ মূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনভি) ঋণাত্মক।

    এই আর্থিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী গঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের ক্ষতি বহন করবেন।

    রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাসমূহের অধীনে বিভিন্ন অংশীদারদের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ মূলধনধারী, টিয়ার ২ মূলধনধারী ও সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডার।

    বর্তমানে, এই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ বিবেচনায়, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের কোন সুযোগ বর্তমানে নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে, যেখানে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

    সূত্র: বাসস

  • অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; বছরব্যাপী বৃদ্ধি দেখা গেছে

    অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; বছরব্যাপী বৃদ্ধি দেখা গেছে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই উল্লম্ফনে দেশপ্রেমে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলানের বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, এই সংখ্যাকিছুটা কম বলে গণ্য হলেও, মোট রিজার্ভ বেড়েছে অন্যভাবে—প্রায় ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর থেকে আলাদা রিজার্ভ হিসাব রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে দেখায় না, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী সেটি ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    শুধু ২০২৪ সালের অর্ধেকের তথ্য বলছে, অক্টোবর ৩০ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১৪ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ সোয়া ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী (যা প্রকাশ্য নয়) রিজার্ভের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের পর থেকে রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।

    অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ। এর জন্য মূল উৎস হলো প্রবাসী আয়, রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে প্রাপ্ত ডলার। অন্যদিকে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়—যামান, ঋণের সুদ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের ভিসা খরচ—মিলিয়ে এই মুদ্রা ব্যয় হয়। এসব অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠিত হয়, আর বেশি খরচ হলে তা কমে যায়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি। বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার পরিচালনা করে তারা।

    আর্থিক দিক থেকে দেখলে, চলমান অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, আগস্টে তা ছিল ২৪২.২০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরেএসেছে ২৬৮.৫৮ কোটি ডলার এবং অক্টোবরে তা দাঁড়ায় ২৫৬ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল। সার্বিকভাবে, ওই অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৩ সালের জুনে, দেশের রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। তার পর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ পৌঁছায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। এরপর, নভেম্বর ২০২১-এ তা ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। তবে, এরপর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালে তা কিছুটা সংকোচনের দিকে যায়।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে জিতেছেন নম্বর ০১০৮৩৩১, যার মূল্য ৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, দুটি নম্বরের জন্য ১ লাখ টাকার তৃতীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়—সেগুলো হলো ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুইটি নম্বর—০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    রোববার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য মোট ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। এই নম্বরগুলো হলো: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ۰۷৫۹۰۵۹, ۰৭৬৯۳۹۲, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ড্র-পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর সময় শেষ হয়ে গেলে দাবি গ্রহণ করা হবে না।

    অর্থনৈতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ কর প্রযোজ্য।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো

    আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংককে মার্জার বা একীভূত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর করে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংককে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যাংকগুলো এই খবর ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক বা ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের পরিকল্পনা আছে এই প্রক্রিয়ার আওতায়। এর অংশ হিসেবে আজকে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বুধবার ব্যাংকগুলোның চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর দ্বারা। জানা গেছে, ওই বৈঠকে তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ইতোমধ্যে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আজ বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। গত ৯ অক্টোবর, সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে, এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটজনকভাবে খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে চলমান তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশনের ঘাটতি এবং মূলধন কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ হয়েছে। এর ফলে, তাদের শেয়ার বাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং নিট সম্পদ বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ (৬ নভেম্বর) ঘোষণা করেছে যে একীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে পুঁজিবাজারে কোনও শেয়ার লেনদেন করতে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন ঘোষণা না দেওয়া হয়।

    শেয়ারের লেনদেন বন্ধের জন্য ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। ডিএসই জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিতের মূল কারণ হলো এগুলোর রেজোলিউশন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৫ নভেম্বর এই ব্যাংকগুলোকে অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংক एक চিঠির মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলো এখন থেকে রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের মূল্য এখন শূন্যের নিচে, অর্থাৎ শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    প্রতিটি ব্যাংকের মূলধন ও শেয়ার সংখ্যার বিবরণে দেখা যায়,ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১,২০৮ কোটি টাকা, যেখানে মোট শেয়ার ১২০ কোটি ৮১ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের ২৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬ শতাংশ।

    গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৮৭ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ প্রায় ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৫৩ শতাংশ মালিকানা রাখেন, তালিকায় উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ১৫ শতাংশ।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১০৩৬ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩২ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ, এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ৫৪ শতাংশ।

    এক্সিম ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১৪৪৮ কোটি টাকা, শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩৯ শতাংশ মালিক, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৯ শতাংশ, অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

    শেষে, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১১৪০ কোটি টাকা, মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের ১৯ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল, গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল, গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না। এই ব্যাংকগুলোতে পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সহ সব ধরনের ব্যাংক্রিয় কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে গেছে, তবে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবেই। ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমাদের লক্ষ্যে, এবং ধাপে ধাপে এই পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একত্রিত করে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

    তিনি আরও জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা রয়েছে এবং তারা প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর সুবিধা দিয়ে থাকে। লিকুইডেশন এড়াতে তাদের স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে একীভূত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    গভর্নর বলেন, ‘নন-ভায়েবিল’ বা অস্থায়ীভাবে চলমান না-ছাড়ার মতো ঘোষণা দেওয়া এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

    অন্তর্ভুক্ত এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংক দ্বারা মিলেই দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। নতুন এই সংযুক্ত ব্যাংকের পুঁজি পাত্র হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যে কোনও ব্যাংকের থেকে অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেন, এটি একটি ‘সরকারি মালিকানাধীন হলেও বেসরকারি ব্যাংকের মতো পরিচালিত’ হবে। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো, পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বললেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর জানান, ‘শেয়ারদাতাদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। তাই শেয়ারের মূল্য শূন্যে বিবেচনা করা হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’

    জনসাধারণকে আরও আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা সকল টাকা সম্পূর্ণ নিজেরা তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত পরবর্তীতে গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে জানানো হবে। পাশাপাশি, তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, আতঙ্কে না পড়ে প্রয়োজনীয়তার বেশি অর্থ তোলা এড়িয়ে চলার।

    আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। সরকার বদলালেও, জনগণের সুবিধার জন্য এই অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

    অন্যদিকে, আর্থিক স্থবিরতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, এই ব্যাংকগুলোকে মার্জ বা একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক বিভাগে সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি। বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

    চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং এই ব্যাংকগুলো ‘রেজোলিউশনের’ আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামিক ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’ হবে। এ বিষয়ে আজ ওই ব্যাংকের বিভিন্ন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবহিত করা হবে।

    গত ৯ অক্টোবরে সরকারি অনুমোদন পায় এই নতুন ইসলামিক ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ। চলতি বছর যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এক বছর ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে অনেক চেষ্টা করেও সহযোগিতা করতে পারেনি। ব্যাংকের লিকুইডিটি সংকট, বড় আকারের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন সমস্যা এই ব্যাংকগুলোকে কার্যত দেউলিয়া করে দিয়েছে। অন্তত শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য অনেক কমে গেছে, এবং সকল ব্যাংকের শরৎ সম্পদ মান নেগেটিভে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।