Category: অর্থনীতি

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের মাধ্যমে গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবেনা

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের মাধ্যমে গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবেনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচ শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবা পর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটে না। এসব ব্যাংকের পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এ বিষয়ে এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও জানান, যদিও বোর্ড ভেঙে গেছে, তবে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। ব্যবসা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসি সবই স্বাভাবিকভাবে চলবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যাংকগুলোকে ধারাবাহিক পরিচালনা নিশ্চিত করা এবং ধাপে ধাপে পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ এবং আইটি সিস্টেমের একীভূতকরণ সম্পন্ন করা।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা এবং প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। লিকুইডেশন এড়াতে তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রথমে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে ব্যাংকগুলোকে একত্রিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় বলে ঘোষিত এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়েছে। সকাল থেকেই এসব ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা আর কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

    তিনি আরো জানান, দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক হিসেবে পাঁচটি মিলেই গড়ে উঠবে নতুন প্রতিষ্ঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংকের পেইড-অ্যাপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালনা হবে একেবারে বেসরকারি ব্যাংকের মতো। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো, এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    গভর্নর বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশে ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে তিনি বলেন, শেয়ারমূল্য এখন নেগেটিভ হওয়ায় শেয়ারগুলোকে জিরো মনে করা হবে এবং কাউকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    অতিরিক্তভাবে, জনসাধারণকে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী পুরো অর্থ তুলে নিতে পারবেন। বড় অংকের আমানতের জন্য ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুবিধা থাকবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে সকলকে উত্সাহিত করে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় অর্থ তোলার প্রয়োজন নেই—শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করুন।

    নির্বাচনপরবর্তী পরিবর্তনের ধারায় বা নতুন সরকারের অধীনে এই প্রক্রিয়া বন্ধের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কি-না—এমন প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিবর্তন আসলেও এই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে।

    অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এ সকল ব্যাংককে একীভূত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

    ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ এসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে অ্যালার্ট করে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ নভেম্বর থেকেই পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং তারা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হবে।

    এদিকে, ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারে এবং নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিতে পারে। এর আগে, গত ৯ অক্টোবর সরকারি অনুমোদন নিয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, যেখানে দেশের ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা করছে। এর ফলে, এদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেকবার ত্রুটিপূর্ণ পরিস্থিতিের জন্য সাহায্য দেওয়া হলেও, ব্যাংকগুলো কেবল আরও খারাপ হয়ে গেছে; শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য কমে গেছে এবং তাদের নেট অ্যাসেট মূল্য অর্থাৎ এনএভি ঋণাত্মক হয়ে আছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করল পুঁজিবাজার

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ করল পুঁজিবাজার

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছে যে, একীভূতির প্রক্রিয়ার কারণে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে ট্রেড হবে না, যতক্ষণ না নতুন করে কোন ঘোষণা আসে।

    শেয়ার লেনদেন বন্ধের তালিকায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। ডিএসই ও সিএসই থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণ হলো ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলো অ-কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, ব্যাংকগুলো এখন থেকে এই নতুন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই পরিস্থিতির আরও একটি চিঠিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গতকাল বলেছিলেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। সেই কারণে শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং কোনো ক্ষতিপূরণ বা মর্যাদার পরিবর্তন করা হবে না।

    প্রতিটি ব্যাংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বিভিন্ন হার রয়েছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে শেয়ার সংখ্যা ১২১ কোটি ৮১ লাখ যার মধ্যে ৬৫ শতাংশের বেশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৯ শতাংশ শেয়ার। অন্যদিকে, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে শেয়ারের অবশিষ্ট ৬ শতাংশ।

    গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংকে ৯৮৭ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে মোট ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এই শেয়ারের মালিকানা ৫৩ শতাংশ, এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ১৫ শতাংশ।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের মোট ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা প্রায় ১৪ শতাংশ, আর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫৪ শতাংশ।

    এক্সিম ব্যাংক, যার পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা, তার শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯ শতাংশ, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে থাকছে ৩২ শতাংশ।

    সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, এবং শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৯ শতাংশ শেয়ার মালিকানা রাখেন। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১২ শতাংশ।

  • গভর্নর: রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দৃঢ় হবে

    গভর্নর: রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও দৃঢ় হবে

    দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে অর্থনীতি আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে। শনিবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হল রুমে আয়োজিত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরির উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকের অর্থের সহজে পৌঁছানোর লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যতে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপের কোম্পানিগুলোর ক্লেমগুলো স্থাপন করার চেষ্টা চলেছে, যা সফল হলে দ্রুত ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে। আরো বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান, ব্রাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এনজিওর চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • আসন্ন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে পে-কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    আসন্ন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে পে-কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভবিষ্যত সরকারের হাতে। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য তিনি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা হবে ১৫ তারিখে। এর আগে, তিনি আইএমএফের সঙ্গে জুমে আলাপাচার করেছেন। আইএমএফ বলেছে, দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তারা বেশ সন্তুষ্ট। তারা যতটুকু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আশা করছে।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইএমএফের কিছু সুপারিশ রয়েছে, যেমন কর রাজস্ব বাড়ানো। তিনি স্বীকার করেন, দেশের কর শনাক্তের হার কম আছে, এর কয়েকটি কারণও রয়েছে। দেশের মানুষ কর দিতে চায় না, আবার এনবিআর দুই মাস বন্ধ থাকার কারণেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইএমএফের আরেকটি সুপারিশ সামাজিক সুরক্ষার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্যক্ষেত্রে। বর্তমানে আমরা খাদ্য পরিস্থিতিতে ভালো আছি।

    পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের তিন মাস আগে যা কিছু করণীয়, তা আমরা সম্পন্ন করব। সংস্কার প্রক্রিয়াকে চালিয়ে যাব, যদিও এটি সম্পূর্ণ শেষ করা সম্ভব নয়। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভবিষ্যত সরকারকে একটি সুন্দর নিয়োজিত প্যাকেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মূল সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি জানান, ট্যাক্সের বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করেছেন, যারা কিছু সুপারিশ দেবেন।

    অর্থাৎ, পে-কমিশনের বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছেন না, কারণ সেটি দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যত সরকারের জন্য সেটি মাধ্যমে নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ইনিশিয়েটিভ হিসেবে আমরা কিছু নিজ উদ্যোগ নিয়েছি।

    অর্থনৈতিক উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক সেক্টর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, বাকি অংশ ধীরে ধীরে সমাধান হবে। এই সব পরিবর্তন আগামী সরকার পরিচালনা করবে।

    আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পাওয়া যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আগেই জানিয়েছি, এখন কোনো জরুরী প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয় না। আইএমএফ তাদের রিভিউ সম্পন্ন করছে, কারণ তারা চায় যে, নতুন সরকার কতটা এই নীতিগত ভিত্তিতে কাজ করে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে তারা আবার রিভিউ করবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পরিবর্তন আশাকরি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনো তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিকুইডেশনের শেষ পর্যায়ে আসে এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিকুইডেশনের চেয়েও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।’ এর মানে, ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা তাদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাবেন।

    এ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়োগ করা একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এছাড়াও সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে বিবেচনা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থাপিত হয়েছে। যেখানে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশে ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদার ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো বিপুল ক্ষতির মুখোমুখি, তাদের নিট সম্পদমূল্য ইতিমধ্যেই ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতিতে, ব্যাংকিং সেক্টরের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সমস্যা সৃষ্টির এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ক্ষতির ভার বহন করবেন।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বিভিন্ন অংশীদারের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। যার মধ্যে শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, টিয়ার ১ ও টিয়ার ২ মূলধনধারী, সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডাররা রয়েছেন।

    সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বর্তমানে ক্ষতিপূরণের সুযোগ না থাকলেও, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা জিতে নিয়েছেন নম্বর ০১০৮৩৩১। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা এসেছেঃ ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা করে দু’টি নম্বর নির্ধারিত হয়েছে; এরা হলেন ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুই নম্বর, যথাক্রমে ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রোববার এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে, ১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নম্বর হলোঃ ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ড্রয়ের পরের ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে; এই সময় সীমা অতিক্রান্ত হলে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের উপর ২০ শতাংশ কর দিতে হয়।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে জরুরি ভিত্তিতে মার্জার বা একীভূত করে নতুন গভর্নমেন্ট মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম ৫ নভেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংক রেজোিউশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার শেষে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এ জন্য আজই ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছে। গ্রাহকদের তথ্য জানানোর জন্য আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল তারল্য সংকট, শ্রেণিকৃত ঋণের অঙ্কে প্রবল বৃদ্ধি, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন কমতির কারণে এই ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরেও তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নতি পায়নি, বরং শেয়ার বাজারে মূল্য মারাত্মকভাবে পতিত হয়েছে এবং নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সব ধরনের কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর এও উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তবুও দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসি সহ সব ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধরে রাখা এবং ধাপে ধাপে পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একীভূত করে একটি শক্তিশালী সংস্থা গঠন করা।

    তিনি জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা সংখ্যা ৭৫০টি, যেখানে লাখ লাখ আমানতকারী যুক্ত আছেন। লিকুইডেশন এড়ানোর জন্য প্রথম ধাপেই কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে এই ব্যাংকগুলোকে একত্রীকরণ করা হচ্ছে।

    গভর্নর আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় এমন ব্যাংকগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই।

    একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলো একীভূত হলে দেশটির সবচেয়ে বড় শরিয়াহ ব্যাংক হবে এবং এর পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালনা হবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের মতো। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, তাদের ইকুইটির মূল্য বর্তমানে নেগেটিভ। ফলে শেয়ারের মূল্য শূন্য বিবেচনা হবে এবং কাউকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ আমানতকারীরা দুই লাখ টাকার পর্যন্ত সকল টাকা সম্পূর্ণভাবে তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে তুলতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে, সব Depositorsকে তিনি অনুরোধ করেন প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তোলার জন্য, উদ্বেগে না পড়ে।

    প্রায় দিনের শেষে, তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে সরকার যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়াও বন্ধ হবে না। দেশের স্বার্থটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহ ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক মার্জ বা একীভূত করার জন্য এগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি।

    বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে এর বিষয়টা নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং তারা ব্যাংক রেজোলিউশনের (সমাধান) প্রয়োজনীয় বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজকে তারা পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে তাদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-কে জরুরি তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আসন্ন বৈঠকে তাদের ব্যাখ্যা ও অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগের দিনগুলোতে ব্যাংকের কোম্পানি সচিবগণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন।

    অতীত বছরগুলোতে, ৯ অক্টোবর ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয় সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা পরিষদ, এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গত এক বছর ধরে, ব্যাংকগুলো নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তরলতার সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রোফিশিয়েন্সি ঘাটতি এবং মূলধনের দুর্বলতা। এসব কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। বারবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এই ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ার বাজারে মূল্য কমে গেছে এবং তাদের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (নেভি) নেতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি তাদের únীয় সম্প্রীতি ও একীভূত করার প্রক্রিয়া চালু থাকায় নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে এসব ব্যাংকের শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে।

    ডিএসই ও সিএসই নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ার লেনদেন স্থগিতের এই তালিকায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ডিএসই জানিয়েছে, ব্যাংক রেজোলিউশন নিয়ন্ত্রক বা ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলো অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে এই ব্যাংকগুলো এখন আর কার্যক্রমে থাকছে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর তারা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে তাদের পরিচালনা চালাতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে, এই শেয়ারের মূল্য বিনা মানে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কেথাও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    অর্থাৎ, এই ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মালিকানার অবস্থা গুরুতররূপে দুর্বল। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর শেয়ার সংখ্যা ও বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বেশিরভাগ শেয়ার এখন মূল্যহীন বলে গণ্য হবে।

    উদাহরণস্বরূপ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মূলধনের ১,২০৮ কোটি টাকার বিপরীতে ১২০ কোটি ৮১ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিমাণ ৯৮৭ কোটি টাকার মূলধন থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা মাত্র ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে ১,৩৬২ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মালিকানা প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অন্যসব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বড় অংশে এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ কমে গেছে। এতদুভাবে, এই ব্যাংকগুলোর এ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যেন তার কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, সেটাও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী পাঁচটি সমস্যাাপন্ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন। বাংলাদেশের ব্যাংক প্রসেসে একীভূতকরণ বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলাকালে যদি কোনো ব্যাংক শেষ পর্যন্ত লিকুইডেশনের (পরিসমাপ্তি) আওতায় আসে এবং এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন, তবে এটি নির্ধারণের জন্য পৃথক একটি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া, সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা like IMF, World Bank এবং OECD-এর পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের দাবিদার, যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। বিশ্বস্ত আর্থিক বিশ্লেষণ সংস্থা ‘ইকুয়েটর’ এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষতির মুখে, তাদের নিট সম্পদমূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা ভিএভি) ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের সমস্যাগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ব্যাংকের ক্ষতির ভার বহন করবেন। নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অংশীদার যেমন শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ এবং টিয়ার ২ মূলধনধারীর ওপর ক্ষতি আরোপ করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা এখনো সম্ভব নয়। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।