Category: অর্থনীতি

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির ঘোষণা

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির ঘোষণা

    হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এটি বাজারের দাম সামাল দিতে ও সাধারণ ভোক্তার জন্য সহনীয় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রতিদিন কেবল ৫০টি করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রতি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্টের পর যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই আবার পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক কেবল একবারের জন্য এই আবেদন করতে পারবেন। সরকার জানিয়েছে, এই কার্যক্রম পেঁয়াজের বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পর্যন্ত চালু থাকবে।

  • নভেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে অবশ্য মূল্যস্ফীতি কমে গিয়ে ছিল ৮.১৭ শতাংশ, তবে নভেম্বর মাসে তা আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৮.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় এই হার ছিল অনেক বেশি, তখন তা ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, শহীদ অগ্নি ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বরে খাদ্যবস্তুর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার ছিল ৯.০৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হলো, দুই মাসের জন্যই খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি গত তিন বছর ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড়ে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি ছিল।

    বিবিএস জানাচ্ছে, গত নভেম্বরে জাতীয় মজুরি গড় বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ। এর অর্থ হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কিছুটা কম। তবে, এটি বোঝায় না যে জিনিসপত্রের দাম কমে গেছে; বরং অর্থনীতির অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসে দাম বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে।

    প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বল্পদূরত্বের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার বৃদ্ধি, তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানো, ও বাজারে এসব পণ্য আমদানির প্রবাহ বজায় রাখার চেষ্টা। এসব উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

  • সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, যা আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তন আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে।এর আগে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে গিয়েছিল, তাই এই মূল্য পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোনার বিভিন্ন মানে দাম এইরকম: ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা।অন্যদিকে, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন এবং মানের ভিত্তিতে এই মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে।এছাড়াও, সোনার পাশাপাশি রুপারের দামের উপরেও বৃদ্ধি আনা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দাম ছিল, ২২ ক্যারেটের রুপার ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪ জন

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪ জন

    দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল, সেখানে জুনে সেই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫,৯৭৪টি। এরপর সেখান থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে। তবে এই সময়ে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের মোট জমার পরিমাণ কমে এসেছে। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, ওই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা হয় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকের আমানতও সামান্য বেড়েছে, জুনে যা ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, সেটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি হিসেবে প্রবৃদ্ধি দেখানো হলে বোঝায় শুধুমাত্র ব্যক্তি হিসাবেই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেক বেসরকারি, সরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এছাড়াও, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর বাবদ ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এই সংখ্যায় আরও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

  • প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রবাসীদের পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের বিস্তারিত খরচের তথ্য সংগ্রহ করবে।’objectif এ পর্যায়ে, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা বিদেশে থাকাকালে এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য পদ্ধতিতে পাঠানো রেমিট্যান্সের পুরো লেনদেনের তথ্যগুলো কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পৃথক দুটি ফর্মে এই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছে, যেখানে প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য পরবর্তী দিনের দুপুর ১২টার মধ্যে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের تازা সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে আরও আগে থেকেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের খরচের ডেটা সংগ্রহ করা হয়, আর এই খরচের পরিমাণ বাড়ছে—এমনটি দেখায়। বিভিন্ন দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের জন্য ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো নানা ধরনের ফি আরোপ করে থাকে, পাশাপাশি করও ধার্য হয়। দেশিয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনের জন্য বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ নেয়, যার ফলে খরচ আরও বাড়ছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিদিনের রেমিট্যান্সের বিস্তারিত তথ্য, যেমন- প্রেরকের নাম, ব্যাংকের বা এক্সচেঞ্জ হাউসের তথ্য, ব্যবহার করা উপকরণ, রেমিট্যান্সের পরিমাণ, থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ভ্যাট, কর, অন্যান্য খরচসহ মোট খরচ পরদিনের দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এই তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের খরচ কমানো যায়। আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ দিক হলো, বর্তমানে দেশে প্রবাসীরা তাদের রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের সময় কোনও ফি নেন না, ফলে কিছুটা খরচ কমে। তবে, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো নিজস্ব মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী আরও ভিন্নভাবে রেমিট্যান্সের খরচ নির্ধারণ করে থাকে। এ বিষয়টিতেও সমতা আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    অচেনা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে পেঁয়াজের বাজারের স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা যাবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই আবার আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একমাত্র একবারই আবেদন করতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার ট্রেডারদের দখল থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এই কার্যক্রম যতদিন পর্যন্ত প্রয়োজন, ততদিন চালু থাকবে।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে বৃদ্ধি

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে বৃদ্ধি

    অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ফের বৃদ্ধি পেয়ে দেড় বছরে প্রথমবারের মতো ৮.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত মাসে এই হার ছিল ৮.১৭ শতাংশ, যদিও গত বছরের নভেম্বরে তা ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্বের মাসের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি। পাশাপাশি, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হলো ৯.০৮ শতাংশ। অর্থাৎ, টানা দুই মাস ধরে এই সব খাতে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে মূল্যস্ফীতি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড়ে এই হার প্রায় ১০.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বিবিএসের তথ্যমতে, গত নভেম্বরে দেশের গড় জাতীয় মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৮.০৪ শতাংশ। এর মানে, মজুরি বৃদ্ধি মূল্যের বৃদ্ধি অনুভূতিগুলোর চেয়ে কম।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম একেবারেই কমে গেছে, এমনটি বোঝায় না। বরং, কেবলমাত্র কিছু মাসে দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক।

    বাজার পরিস্থিতির এই পরিবর্তনগুলি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, যেমন সুদের হার বৃদ্ধি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর কমানো। তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রবাহ সচল রাখতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারের স্থিতিশীলতা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে सरकार।

  • সোনার দাম ভরিতে বেড়ে ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বেড়ে ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক নতুন দৃষ্টিকোণ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল দুই লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে শুল্ক ও ভ্যাটসহ অন্যান্য ফি যোগ করে গহনার দাম নির্ধারিত হবে। যারা সোনার গহনাসহ অন্যান্য পণ্য বানাচ্ছেন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। আগামীকাল রোববার থেকে নতুন দামে বিক্রি শুরু হবে এই সোনার, যা বাজারের পরিস্থিতি এবং সোনার দাম কমার প্রভাবে ঘটে। এতদিনের চেয়ে এই দাম বৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং জুয়েলার্সের ওপর। বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে। অন্যদিকে, রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ভরি প্রতি ৪ হাজার ৫৭২ টাকা। এর আগে ভরিতে রুপার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা এখন থেকে বাড়তি মূল্য যোগ করে বিক্রি হবে। এই দাম পরিবর্তনের ফলে বাজারে সোনার ও রুপার দাম সূচক আরও স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা আরও ৭৩৪টি বাড়তে সক্ষম হয়েছে। তবে একই সময়ে ব্যাংকগুলোর জমা টাকার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। আর সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, এই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা যুক্ত হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। এ সময় ব্যাংকের জমা মোট টাকার পরিমাণও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে আমানতের মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষের দিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। তদন্তে দেখা যায়, মোট কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা জুন শেষে ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। আর সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৩৪টি। এর আগে মার্চের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৮৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষে এই জমার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১৪ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। এতে দেখা যায়, তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২২০ কোটি টাকার মতন জমা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে বোর্ডে থাকা ব্যক্তিরা নয়, বরং অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এছাড়া এক ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫জন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁচেছ ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেশি বাড়ছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

  • কাল আসছে নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট ইস্যু করবে। এই নতুন নোটের প্রথম প্রকাশনার স্থান হবে মতিঝিল অফিস, এর পরে অন্যান্য ব্যাংক অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন এই ৫০০ টাকার ব্যাংকনোটের সামনে রয়েছে শহীদ মিনারের ছবি, মাঝখানে লাল ও সবুজ পাতাসহ বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। অন্যদিকে, নোটের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ছবি। নোটের জলছাপের মধ্যে দেখা যাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যার নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা রয়েছে ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। পুরো নোটে সবুজের আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্য এবং শান্তির প্রতীক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে নতুন সিরিজের অংশ। এই সিরিজের নোটগুলোতে স্বাক্ষর থাকছে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের। পরিকল্পনা করা হয়েছে এই সিরিজের মধ্যে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ এবং ২ টাকার নোট ছাপানোর। ইতোমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে এসেছে, এবং এবার যুক্ত হচ্ছে ৫০০ টাকার নোট।

    নতুন এই নোটে বিভিন্ন আধুনিক নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রঙ পরিবর্তনশীল কালি, যা নোটটি নাড়ালে ডান দিকের ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। পাশাপাশি, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা রয়েছে, যা আলোতে ধরলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা দেখা যায়।

    এছাড়াও, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ কিছু অংশ স্পর্শে উঁচু মনে হবে, যা সহজেই অনুভব করা যায়। নোটের কিছু গোপন লেখা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কোণে দেখলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। কাগজের মধ্যে লাল, নীল ও সবুজ তন্তু যুক্ত থাকায় বিশেষ আলোতে এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালুর পাশাপাশি পুরনো কাগজের নোট ও কয়েন আগের মতোই চালু থাকবে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ এক নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোট ও মুদ্রা জাদুঘর, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যায়নে সংগ্রহ করা যাবে।