প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি এই প্রক্রিয়ার খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ করেছে যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে যে কোনও ধরনের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, সেই লেনদেনের সব তথ্য সংগ্রহ ও আপডেট করতে হবে। এর মধ্যে তাদের এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য মাধ্যমের মাধ্যমে পাঠানো প্রত্যেক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তথ্যগুলো প্রতি দিন সন্ধ্যা ১২টার মধ্যে সংগ্রহ করবে।
Category: অর্থনীতি
-

বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার
অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০টি করে ইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে, যেখানে এক আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারে পেঁয়াজের disponíveisতা বাড়াতে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন, তাই আবার আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক শুধুমাত্র একবারই আবেদন করতে পারবে। এই কার্যক্রম চলতি অবস্থায় যতদিন বাড়তি নির্দেশনা না আসে, ততদিন অব্যাহত থাকবে।
কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের ব্যবধানে দাম ৪০ টাকার মতো বেড়ে যায়, কেজি প্রতি দর পৌঁছায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এরপর সরকারের অনুমোদনে আমদানি শুরু হলে দাম কিছুটা কমতে শুরু করে, ধীরে ধীরে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নেমে আসে।
গত সপ্তাহে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দেশের পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ শীঘ্রই বাজারে আসবে। তাই কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য আপাতত আরও আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে এই অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন মজুতদার ব্যবসায়ীরা, ফলে আবারো বাড়ছে দাম। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১۵ থেকে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহে কেজিতে দামে ১০ টাকার বৃদ্ধি।
অন্যদিকে টিসিবির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় এখনো ১০ শতাংশ কম দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার কেজি নেওয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি অনুমতি না দেওয়ার ঘোষণা শুনে দামের এই উর্ধ্বগতি ঘটেছে। মজুতদার এবং কৃষকের পর্যায়ে দর বাড়ায়, ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।
এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, যদি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমে, তবে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘আমরা বাজারে তীক্ষè নজরদারি চালাচ্ছি। দেশে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজের মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। তবে দর না কমলে, আমদানি অনুমতি দেওয়া হবে।’ এছাড়া, সরকারের কাছে বর্তমানে ২ হাজার ৮০০টির বেশি পেঁয়াজ আমদানি আবেদন রয়েছে, যার দশ ভাগের এক ভাগ অনুমোদন দিলে বাজারে পেঁয়াজের ভারসাম্য ফিরবে। তবে এমন অনুমোদনে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে।
-

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ
অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, নভেম্বর মাসে তা আবার বাড়ে এবং ৮.২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এর আগে সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই হার Slightly বেড়েছে। অক্টোবর মাসে এই হার ছিল ৮.১৭ শতাংশ, এবং গত বছর নভেম্বরে এটি ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭.৩৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৮ শতাংশ। লক্ষ্যণীয় যে, টানা দুই মাস ধরে খাদ্য ওবাদির মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.০৩ শতাংশ।
বিবিএস উল্লেখ করেছে, গত নভেম্বরে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ। এর মানে হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে অবশ্য জিনিসপত্রের দাম কমে যাওয়া নয়। এটি সাধারণত বোঝায়, কিছু মাসে দাম বৃদ্ধি কিছুটা ধীরগতি লাভ করেছে। অর্থাৎ, কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি সাময়িকভাবে কমে গেছে, যা অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রভাব।
অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়ানো, শুল্ক-কর কমানোসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয় যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ যেন দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্য বাণিজ্য ও আমদানির ওপর নজর রাখা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির উত্থান-পতন কমানোর চেষ্টা চলছে, যেন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যায়।
-

তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বাড়ল
দেশের ব্যাংকখাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫,৯৭৪টি। এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যেও আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। যদিও কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংকখাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, এই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে মোট আমানতও কিছুটা বেড়েছে। জুনে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, আর সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বাড়ে ২০ লক্ষ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি তাকায়। ফলে, তিন মাসে আমানত বেড়ে গেছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।
-

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমাতে ও প্রবাহ বৃদ্ধি করতে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রবাসীরা বিদেশে থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের সার্বিক খরচের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা প্রবাসীদের মাধ্যমে যেসব রেমিট্যান্স পাঠানো হয়, সেই সব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও যোগায়।
প্রবাসীরা বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য মাধ্যমে যে রেমিট্যান্স পাঠান, সেসব সব লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত আগামী দিনে দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এই নির্দেশনা জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশের রেমিট্যান্সের খরচের বিষয়টি মনিটর করে এবং ইতিমধ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জন্য এই খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ আরোপ করে থাকায় এই খরচ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ নিয়ন্ত্রণ করা ও কমিয়ে আনা।
আশা করা হয়, এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যাংকগুলো কার্যকর উদ্যোগ নেবে, যাতে রেমিট্যান্সের খরচ কমানো সম্ভব হয়। বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো কোনও ফি আদায় না করলেও, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বিভিন্ন হারে বিনিময় হার নির্ধারণ করছে। এই পরিমাণ ও হার সমানতালে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সংক্ষেপে, এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যেখানে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং রেমিট্যান্সের পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত হবে।
-

কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট বাজারে আনছে। এই নতুন নোট প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে, এরপর আলাদা আলাদা ব্যাংক অফিসের মাধ্যমে সাধারণের হাতে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন এই ৫০০ টাকার নোটের ডিজাইনে রয়েছে অনেক অভিজাত ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। নোটের সামনের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ফুটে উঠেছে, মাঝখানে পাতা ও কলির সঙ্গে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। অন্যদিকে, নোটের পেছনে দেখা যাবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রতিচ্ছবি। এই নোটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে জলছাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যার নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা ‘৫০০’ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। পুরো নোটে সবুজ রঙের আধিক্য দেখা যাবে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্যের একটি অংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শিরোনামের নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে এ নোট প্রথমবারের জন্য ইস্যু করা হচ্ছে। এই সিরিজের অন্যান্য নোটের মধ্যে রয়েছে ১০০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট, যার কিছু আল্টিমেট এখনও বাজারে এসেছে। এবার আসছে ৫০০ টাকার নোটটিও।
নতুন নোটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে দশটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো, রঙ পরিবর্তনশীল কালি। নোটটি নাড়ালে ডান পাশে থাকা ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। এছাড়াও, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা ব্যবহৃত হয়েছে, যা আলোতে দেখা যায় ‘৫০০ টাকা’ লেখা।
এছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের ডান কোণে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত যুক্ত করা হয়েছে। শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ কিছু অংশ স্পর্শে উঁচু মনে হবে। বিশেষ নিরাপত্তার জন্য, গোপনে ‘৫০০’ লেখা ছাপা হয়েছে যা নির্দিষ্ট কোণে দেখলে স্পষ্ট বোধগম্য হয়। নোটের কার্নিশে লাল, নীল ও সবুজ তন্তু যোগ করা হয়েছে, যা বিশেষ আলোর আলো পড়লে দৃশ্যমান হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও বর্তমানে চলমান পুরনো কাগজের নোট ও কয়েনের চালু ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ কিছু নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। এগুলো টাকা জাদুঘরে, মিরপুরে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
-

নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৮.২৯ শতাংশ
অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, নভেম্বর মাসে আবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। এর আগে অক্টোবরের হিসাবে এটি ছিল ৮.১৭ শতাংশ এবং গত বছরের नवंबर মাসে এই হার ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির এক বিশদ চিত্র প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.০৮ শতাংশ। এই দুই মাসে ধারাবাহিকভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সংকট চলে আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০.০৩ শতাংশ।
বিবিএস জানায়, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির হার থেকে কম। এর মানে, কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার মানে এই নয় যে, জিনিসপত্রের দাম হার মানে বা কমে গেছে। বরং এর অর্থ হলো অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসে দাম কিছুটা কমে বা ধাক্কা খেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনীতির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের নীতিমালা, যার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি, এনবিআর তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, যাতে বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি ঠিক থাকে এবং সরবরাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।
-

বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানি শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো
অস্থির হয়ে পড়া পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানি অনুমতি (আইপি) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রত্যেক আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়া হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদাতা পেঁয়াজ আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবল পুনরায় আবেদন করতে পারবে। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই এই সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ কার্যক্রম until নতুন নির্দেশনা আসে, ততক্ষণ অব্যাহত থাকবে। মাসখানেক আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের মূল্য ভয়াবহভাবে বাড়তে শুরু করে। মাত্র কয়েকদিনে এটি ৪০ টাকা বেড়ে গিয়ে কেজিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দাঁড়ায়। তবে সরকার আমদানি অনুমতি দেওয়ার পর দাম কিছুটা কমে আসে, ধীরেধীরে তা ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নামতে শুরু করে। গত সপ্তাহে সরকার জানায়, দেশে পর্যাপ্ত পণ্যমজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। সেই সঙ্গে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আপাতত আবার আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মজুতদার ব্যবসায়ীরা সুবিধা নেয়ার সুযোগ নিচ্ছেন, ফলে আবার দাম বাড়ছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে থেকে অন্তত ১০ টাকা বেশি। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, এই দামে এখনও গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম। যদিও বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ আসছে, যার কেজি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি বন্ধ হবে – এ খবর শুনে দাম বেড়েছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম যদি না কমে, তা হলে আবার আমদানি অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমরা বাজারের দৃষ্টি রাখছি। দেশে প্রচুর পেঁয়াজের মজুত আছে। শিগগিরই নতুন পেঁয়াজ উঠবে। তবে, যদি এই সময়ের মধ্যে দাম না কমে, তাহলে আমদানি অনুমতি নেওয়া হবে।” এছাড়া, তিনি জানান, সরকারের কাছে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৮০০টির বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন রয়েছে। এর ১০ শতাংশ অনুমোদন দিলে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাবে, তবে দাম দ্রুত কমে যাবে না, যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ চলছে।
-

তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বেড়েছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলমান এই বছর মার্চ শেষের তুলনায় জুন শেষের হিসাবের মধ্যে দেখা গেছে ৫ হাজার ৯৭৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে। এরপর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট সংযোজিত হয়েছে। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও জমার মোট পরিমাণ কমে গেছে। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, জুন শেষে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর শেষের দিকে এটি বেড়ে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে, ব্যাংকে জমার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। জুনের শেষে জমার মোট পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা September এ পৌঁছেছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। এর ফলে, তিন মাসে মোট জমার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধি দেখলে বোঝা যায়, এই সময়ে কোটিপতি হিসেবে বিবেচিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে। জুন প্রান্তিকে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, যেখানে সেপ্টেম্বর শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। প্রথমদিকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। এই সময়ে, মোট কোটিপতি অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, তিন মাসে এই জমার পরিমাণ কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব মানে শুধু ব্যক্তিরাই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তির পাশাপাশি অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের বড় আমানত রাখে। এখানকার একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে একই ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের। এছাড়াও, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকাভুক্তির অংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনের প্রথম সময়, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে এটা বেড়ে ১৯৭৫ সালে ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়। পরবর্তীতে, ২০০১ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি, এবং ২০০৮ সালে এটি ছাড়াল ১৯ হাজার ১৬৩টি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২০ সালে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩,৮৯০টি, ২০২১ সালে তা বেড়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে এগিয়ে হয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।
-

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সুযোগের প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাওয়া এবং খরচের হিসেবনিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, যারা বিদেশে থাকা প্রবাসীদের থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে, তাদের সব ধরনের লেনদেনের তথ্য দৈনন্দিনভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠাতে হবে। এর জন্য পৃথক দুটি সিস্টেমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ডাটা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে প্রতিদিনের তথ্য ওই দিন বিকেল ১২টার মধ্যে জমা দেওয়া যায়।
অধিকাংশ রেমিট্যান্সের খরচ বাড়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে আরও বেশি ফি বা চার্জ নেওয়া হচ্ছে, এর পাশাপাশি করও আরোপিত হচ্ছে। ফলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের উপর খরচ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে খরচ কমানোর উপায় খুঁজে নেবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও প্রবাসী বা ব্যাংক রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে যত ধরনের খরচ বা ফি আদায় করছে, তা রেকর্ড করে পরবর্তী দিন দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রদান করতে হবে। এই তথ্যের মধ্যে থাকবে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের নাম, লেনদেনের উপকরণ, রেমিট্যান্সের পরিমাণ, ফি, ভ্যাট বা কর, বিনিময় হার, এবং অন্যান্য খরচ। এই ডাটা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের খরচ কমানো যায়।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে থাকলেও কোনরকম অতিরিক্ত ফি দিতে হয় না। তবে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বিনিময় হার এবং ফি থাকায় খরচ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দীয় ব্যাংক এই বিষয়গুলো সমন্বয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা বর্তমানে যে খরচে টাকা পাঠাচ্ছেন, তা আরও কমে আসার আশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
