Category: অর্থনীতি

  • সোনার দাম ভরিতে বেড়ে ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বেড়ে ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে, যা শোনার জন্য উৎসুক বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত্রে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দামে ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই নতুন দাম আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। মূলত, স্থানীয় বাজারের তেজাবি সোনার মূল্য কমে যাওয়ার কারণে বিস্তৃত পরিস্থিতির বিবেচনায় এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকায় অনুমোদিত হয়েছে। এর আগের দাম ছিল যথাক্রমে, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছেন, সোনার বিক্রির মূল্যে সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

    এছাড়াও, সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বৃদ্ধি হয়েছে। নতুন দাম অনুসারে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এই দামে বিক্রি হত, ২২ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    দেশের ব্যাংকখাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুনে এই সংখ্যায় ৫ হাজার ৯৭৪টি নতুন হিসাব যোগ হয়। এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। তবে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও একই সময়ে জমা টাকার মোট পরিমাণ কমেছে বিবেচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনের শেষের অবস্থানে ব্যাংকে মোট অ্যাকাউন্ট ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। যেখানে সেপ্টেম্বরের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে, অর্থাৎ তিন মাসে নতুন করে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, জুনে যা ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, তা সেপ্টেম্বরের শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে মোট আমানত ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কোটিপতি অ্যাকাউন্টের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, end of June হিসাব অনুযায়ী, কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১২৭,৩৩৬টি। যেখানে সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ১২৮,৭০টি, অর্থাৎ তিন মাসে ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ১২১,৩৬২টি।

    এই তিন মাসে, রেকর্ড অনুযায়ী, কোটি টাকার অ্যাকাউন্টে জমা অর্থের মোট পরিমাণ কমে গেছে, যেখানে জুনে ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা কমে গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, কোটিপতি হিসাব মানেই ব্যক্তিগত কোটিপতি নয়। অনেক বেসরকারি, সরকারি এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকা বা তার বেশি জমা রাখে। পাশাপাশি, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবও এই গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর থেকে ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৭৫ সালে ছিল ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি এবং ১৯৯৬ সালে এটি পৌঁছেছিল ২ হাজার ৫৯৪ টিতে। এরপর ২০০১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৫ হাজার ১৬২, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩টি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংখ্যা আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, বছর খানেক পরে ২০২১ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি। ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টিতে, ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি, আর বর্তমান বছরের হিসাবে তা উন্নীত হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।

  • দেশ ও বিদেশে মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশ ও বিদেশে মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ স্বরাষ্ট্র, অর্থোপার্জন ও তা নিষ্কাশনের জন্য দেশের বিভিন্ন সম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই বহুমুখী প্রতিরোধ কার্যক্রমে গত বুধবার দেশে তথা বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এরইমধ্যে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছেন। এই তথ্য জানানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত সাধারণ জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভার শেষে। এই সভা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রণয়নের জন্য করা হয়েছিল। সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ দ্রুত উদ্ধার ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনটি আরও যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হবে। এ ছাড়াও, পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১১টি কেসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল বর্তমানে অগ্রগতি লাভ করছে। ইতোমধ্যে ১০৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, আর ১৪টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং চারটি মামলার রায় পাস হয়েছে। দেশের মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যসম্পন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ হয় এবং বিদেশে এসব সম্পদের সঙ্গে আরো ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদও সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্রাধিকার কেসগুলোর জন্য ২১টির MLAT (মাল্টিল্যাটারেল সমঝোতা চুক্তি) দেশের মধ্যে পাঠানো হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এসব কেস দ্রুত চার্জশিট দাখিল, MLAT প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ও মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (APG) ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে ৪র্থ পর্যায়ের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে। সেই কারণে সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ বিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ক সচিব, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডির প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউ-এর প্রতিনিধিরা।

  • ১৩ ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনলো মোট ১৪ কোটি ডলার

    ১৩ ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনলো মোট ১৪ কোটি ডলার

    চলতি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর ফলস্বরূপ ব্যাংকগুলোতে ডলারের অতিরিক্ত প্রকৃতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রার যোগান ও চাহিদার ঠিক স্থান যেখানে থাকবে, এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

    মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ক্রয় সম্পন্ন হয়, যেখানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এ বছরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ডলার ক্রয় হয়েছে ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন অর্থাৎ ২.৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর সময়কালে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।

    অর্থবছর জুড়ে, জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত, রেমিট্যান্স এসেছে মোট ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধ ও অবৈধ অর্থ প্রবাহ বন্ধে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও বলিষ্ট করছে।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ লোক বৃদ্ধি পেয়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ লোক বৃদ্ধি পেয়েছে

    দেশের ব্যাংকখাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর জুন থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। যদিও কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও জমা টাকার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। ফলে তিন মাসে আমানত বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধি: জুন শেষে কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। তবে, সেপ্টেম্বরের শেষে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। এর আগে, মার্চের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

    জুন শেষে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, তবে সেপ্টেম্বরের শেষে এই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, তিন মাসে জমার পরিমাণ কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, কোটিপতি হিসাব মানে শুধুমাত্র ব্যক্তির ক্রমশ ঊর্ধ্বে থাকা নয়। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এ ছাড়া এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকাটা সাধারণ ব্যাপার। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় যুক্ত থাকে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর ১৯৭৫ সালে সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছিল ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, এবং ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি। পরের বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এই সংখ্যাগুলি উন্নতি করেছে। ২০০৬ সালে ছিল ৮ হাজার ৮৮৭টি, ২০০৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০১০ সালের পরে আবার এই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালে এটি বেড়ে হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে এর সংখ্যা পৌঁছায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে হয়েছে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূলত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, নভেম্বর মাসে তা পুনরায় বাড়ে এবং মোট ৮.২৯ শতাংশে এসে পৌঁছেছে। এর আগে অক্টোবর মাসে এই হার ছিল ৮.১৭ শতাংশ, আর গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় এই হার ছিল significantly higher—১১.৩৮ শতাংশ। আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের তথ্যানুসারে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি েই ছিল ৯.০৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হলো, দুই মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশবাসীর জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.০৩ শতাংশ। এটি দেখায় যে, অর্থনীতির এই কঠিন পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

    বিবিএস জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় মজুরি ছিল ৮.০৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। এতে বোঝা যায়, শ্রমিকদের আয় কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়েও বেশি।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানেই অর্থাৎ সব জিনিসের দাম একদম কমে যায় না, বরং বোঝা যায় যে, কিছু কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও সাধারণত দাম একই রকমই রয়েছে বা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

    এক বছরের অধিক সময় ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নানা চেষ্টার মধ্যে দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি দিয়ে বাজারের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি, এনবিআর প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমের ওপর শুল্ক-কর কমানোর পাশাপাশি, আমদানি প্রসার নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকেদে পারে।

  • সোনার দাম ভরিতে বেড়েছে ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বেড়েছে ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বেড়ে গেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দাম নির্ধারণ করে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য এখন দুই লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, যা আগের দামের সঙ্গে তুলনা করলে ৩৪৫৩ টাকা বেশি। এই পরিবর্তন আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এবং আগামীকাল রোববার থেকে এটি কার্যকর হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে গেছে, ফলে নতুন দাম নির্ধারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

  • দেশ ও বিদেশে ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশ ও বিদেশে ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থের উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার। এর মধ্যে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে পাচারকৃত অর্থের সফল উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে।
    বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভার শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এই সভা পরিচালনা করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা।
    সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিদ্যমান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-তে কিছু ধারাকে যুগোযোগী করে সংশোধন করার। এছাড়া, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত ১১টি কেসে গঠিত হয়েছে যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্তদল। এই কেসগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০৪টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টিতে চার্জশিট দাখিল এবং চারটিতে আদালত রায় দিয়েছেন।
    অংখ্য অগ্রাধিকার কেসের জন্য ২১টি মাল্টিলেটারল্যারেল অ্যাাক্ট রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়েছে। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, মামলার নিষ্পত্তি ও এমএলএআর পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নে এশিয়া প্যাসিফিক গ্র“প অন মানিলন্ডারিং (অ্যাপিজি) আগামী ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে চার্থ ইভ্যালুয়েশনের (মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন) ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিষয়ে সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউ এর প্রতিনিধিরা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের থেকে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনলো ১৩ ব্যাংকের থেকে

    চলতি ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ের (রেমিটেন্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি ঘটছে। এই শ্রমের ফলস্বরূপ ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ (সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।

    এটি মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ডলার বিক্রির মূল্যের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। সামগ্রিকভাবে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনেছে মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার। সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিটেন্স) এসেছে মোট ১২৯ কোটি ডলার। comparesপূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয়ে ১৮ শতাংশের বৃদ্ধি হয়েছে।

    অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, এই সময়ে দেশে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের সমান সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। এই হিসেবে, এই ছয় মাসে দেশের প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি বিরোধী অভিযান ও সরকারের উদ্যোগ, প্রণোদনা প্রদান এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির কারণে রেমিটেন্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থা স্বস্তিদায়ক।

    এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত নভেম্বরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও নভেম্বরে আবার বৃদ্ধি পেয়ে এই হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে অক্টোবর মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় যা অনেক বেশি—১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার (৭ নভেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নভেম্বর মাসে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। অর্থাৎ, গত দু`মাস ধরে খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বাড়বেই।

    উল্লেখ্য, গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতির সাথে লড়াই চালিয়ে আসছে সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.০৩ শতাংশ।

    বিবিএস আরও জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে গড়ে জাতীয় মজুরি ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ বৃদ্ধি, যা বাসত্মবিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। এর অর্থ হলো, মজুরি বেড়ালেও সেটি মূল্যস্ফীতির হারকে ছাড়িয়ে যায়নি।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে এই নয় যে বাজারের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে, বরং গত মাসের তুলনায় কিছু কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমে যেতে পারে। তবে সার্বিক দৃষ্টিতে এর মানে হলো মূল্যস্ফীতি এখনও প্রযুক্ত হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

    অর্থনীতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন সুদের হার বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর কমানো ইত্যাদি, যাতে বাজারে সঠিক পরিমাণে আমদানি করতে সুবিধা হয় এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এই সব চেষ্টা এখনও চলমান রয়েছে, কারণ মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে এখনো পুরোপুরি লাভ হয়নি।