Category: অর্থনীতি

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫,৭৯৪টি। এরপর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই তিন মাসে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকে অর্থের মোট পরিমাণ কিছুটা কমলেও কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে মোট আমানতও সামান্য বেড়েছে; জুনের শেষের দিকে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর ফলে, তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জানিয়ে, ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশের কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। এরপর সেপ্টেম্বরের শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। এর আগের মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।

    উল্লেখ্য, এই কোটিপতি অ্যাকাউন্টে জমা মোট অর্থের পরিমাণ ছিল জুনে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। 그러나 সেপ্টেম্বরের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়, অর্থাৎ, তিন মাসে মোট ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা কমেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, কোটিপতি হিসাব বলতে বোঝানো হয় ব্যক্তিগত হিসাব নয়, বরং বিভিন্ন বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। আরও বলা হয়, এক ধরণের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারেন এবং কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই অন্তর্ভুক্ত হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচজন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বেড়ে ১৯৭৫ সালে ৪৭, ১৯৮০ সালে ৯৮, ১৯৯০ সালে ৯৪৩, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ এবং ২০০৮ সালে এটি দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে ছিল ৯৩,৮৯০ জন, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ জন।

  • সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩,৪৫৩ টাকা

    বাংলাদেশের বাজারে আবারও বৃদ্ধি পেলো সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দামের নির্ধারণ ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তন আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ার কারণে এ নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির দামে এক ভরি সোনার বিক্রয় মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যোগ করতে হবে সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬%, তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

    এছাড়া, সোনার দাম সম্প্রসারিত হয়েছে রুপার দামেও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।

    অতিরিক্ত আগে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ছিল ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে এই মূল্য ছিল ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    চলতি ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাড়তির ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতির স্বস্তি বজায় রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল (সোমবার) একদফা ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।

    মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ক্রয় অভিযান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এভাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন, অর্থাৎ ২.৮০ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১২৯ কোটি ডলার। গতবছর একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বর্তমান অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। এর ফলে, এই সময়ে প্রবাসী আয় প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা ও ব্যাংকিংখাতের উন্নতিসহ অন্যান্য পদক্ষেপ প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

    এদিকে, সম্প্রতি সমাপ্ত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এর আনুমানিক সমান দামে বাংলাদেশের মুদ্রায় এই অর্থ পরিণত হয় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকায়।

  • দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    দেশের এবং বিদেশের মোট ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ

    বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার ও প্রভাবিত সম্পদগুলোর বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশের মধ্যে ও বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে পাচার করা অর্থের মাত্র ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার এবং সংযুক্ত করা হয়, যেখানে আরও ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ। এই তথ্য সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। মূল লক্ষ্য হলো মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকরিতাকে আরও শক্তিশালী করা, এবং এ জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা ও নীতি প্রণয়ন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এসময় বক্তারা নির্ধারিত আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১১টি কেসের ওপর নজরদারি ও তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ইতিমধ্যে, এই কেসগুলোতে ১০৪টি মামলা দায়ের, ১৪টিতে চার্জশিট দাখিল এবং ৪টি মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে। সরকার আরও বলেছে, দেশে এবং বিদেশে সংযুক্ত সম্পদগুলো গণনা করে দেখানো হয়েছে, যেখানে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। সর্বমোট এই দুটি ক্ষেত্রের সম্পদই ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার। এছাড়া অতি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কর্মাকর্তা ও দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, বাংলাদেশ এখন ভবিষ্যতে মানিলন্ডারিং ও অর্থপাচারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ, যার মূল্যায়ন করছে এশিয়া প্যাসিফিক গ্র“প অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)। আগামী ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে এপিজি পরিচালিত মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে, যা বাংলাদেশের উন্নত মানদণ্ডে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সভায় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, ন্যাশনাল ট্যাক্স বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে, এই সভার লক্ষ্য হলো অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলা।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত আমদানির অনুমতি দিল

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত আমদানির অনুমতি দিল

    বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম হু হু করে steigen হওয়ায় সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই চালিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যার মধ্যে প্রতিটি আইপির পরিমাণ সর্বাধিক ৩০ টন পেঁয়াজ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবলমাত্র নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই এই সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জোড় দিয়ে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অস্থিরতা বন্ধ করতে পাকিস্তানসহ অন্যান্য উপায় না নিয়ে শুধুমাত্র এই সীমিত আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দর চরম উঠানামা শুরু করে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এর দাম প্রায় ৪০ টাকার মতো বৃদ্ধি পায়, যার ফলে প্রতি কেজিতে দর উঠে যায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এরপর সরকারের অনুমোদনে আমদানি কার্যক্রম শুরু হলে দর কিছুটা কমতে থাকে, ধীরে ধীরে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নামে। গত সপ্তাহে সরকার জানিয়েছিল, দেশের মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট আছে এবং নতুন পেঁয়াজ আগামী শিগগিরই বাজারে আসবে। এ কারণে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    তবে এই পদক্ষেপের সুযোগ নিয়ে মজুতদার বা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে বাজারে আবারো দাম হঠাৎ করে চড়ে গেছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২0 টাকার মধ্যে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ টাকা।

    অপরদিকে, টিসিবির তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এখনও ১০ শতাংশ কম দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

    ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আমদানির অনুমোদন না দেওয়ার খবরের ফলে দর বেড়ে গেছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দামের এই বৃদ্ধি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।

    আগে ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমলে সরকারের পক্ষ থেকে আবারো আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাজারে নজর রাখছি। দেশের পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবে যদি এই সময়ে দাম কমে না, তবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারের হাতে ২৮শ’ আবেদন রয়েছে পেঁয়াজের আমদানি জন্য। এর একদশতমাংশ অনুমোদন দিলেই বাজারে অনেক বেশি পেঁয়াজ চলে আসবে। তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার মনিটরিং করছে।’

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরে তা ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, চলতি মাসে কিছুটা দাম বৃদ্ধি হলেও দু’মাস ধরে মূলত খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। সরকারের বাইরে থেকে নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যেমন—আন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সুদের হার বাড়ানো, এনবিআর বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমে শুল্ক-কর কমানো এবং বাজারে আমদানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া।

    বিশ্লেষকরা বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম পুরোপুরি কমে গেছে—এটা নয়, বরং এর অর্থ ভিন্ন মাসের তুলনায় সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগ অব্যাহত আছে।

  • সোনার দাম ভরিতে বদল, বর্ধিত ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বদল, বর্ধিত ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা।

    আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে বাজুস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করে, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমেছে, ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা।

    অতিরিক্ত, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রির মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস প্রতিষ্ঠিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মানভেদ এবং নির্মাণের ধরন অনুযায়ী মজুরিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

    এছাড়া, সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।

    অতিরিক্ত, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে রুপার মূল্য ছিল ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী আরও ৭৩৪ গ্রাহক বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী আরও ৭৩৪ গ্রাহক বেড়েছে

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি হিসাবধারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে যেখানে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২১,৩৬২টি, সেখানে জুন মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১২৭,৩৩৬টিতে। আর পরে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১২৮,৭০টিতে পৌঁছায়। অর্থাৎ, এই তিন মাসে মোট ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

    তবে, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও ব্যাংকগুলোর জমা টাকা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯.৯৬ ট্রিলিয়ন টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৩১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ সময়ে সরকারের শেয়ারও বাড়ছে, তবে জমা টাকার পরিমাণ কমে গেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকায়।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি। যেখানে নতুন করে খোলা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪টি।

    কোটিপতি হিসাবের বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোটিপতি হিসেবে গণ্য হয় এমন অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র ব্যক্তিদের নয়, পাশাপাশি বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকাও সম্ভব।শুধু ব্যক্তিগত হিসাব নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমা রেখেও কোটিপতি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ১৯৭২ সালে মাত্র ৫টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল। এরপর ১৯৭৫ সালে এগুলি বেড়ে হয় ৪৭টি, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে দেড় হাজারের বেশি অর্থাৎ ২,০৫৯টি অ্যাকাউন্ট। ২০০১ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮৮৭৭টি, এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁছায় ১৯ হাজার ১৬৩টিতে।

    আশ্চর্যজনকভাবে, গত কয়েক বছরেও এ সংখ্যায় বৃদ্ধি হচ্ছে। ২০২০ সালে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩,৮৯০টি। ২০২১ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) যথেষ্ট হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আয় বাড়ার ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সমঝাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার (গতকাল, সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি ডলারের ডলারের বিক্রয় করেছে। এই ক্রয় মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এই মাসে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন বা ২.৮ বিলিয়ন ডলার ডলার ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনের মধ্যে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার। এর বিপরীতে, গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এভাবে এই বছর রেমিট্যান্সে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ শতাংশ।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি এই রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল ও স্বস্তিতে রয়েছে।
    এদিকে, নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতিতে এই রেমিট্যান্সের অবদান ব্যাপক এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন।

  • রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ

    রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রবাসীদের বিদেশ থেকে পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের খরচের তথ্য সংগৃহীত করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, প্রবাসীরা বিদেশে থেকে এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে যেকোনো রেমিট্যান্স পাঠালে, সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো যেন প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা চিত্র তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিদিনের মোট লেনদেনের তথ্য পরের দিন সকাল ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সূত্র জানায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা যাতে সহজে এবং কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচের তালিকা সংগ্রহ করছে। দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ অনেক দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এই খরচগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

    বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় বিভিন্ন ফি এবং কর আরোপ করছে। পাশাপাশি, দেশের ব্যাংকগুলোও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে। এ সব কারণেই রেমিট্যান্সের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    এনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, প্রবাসীরা যেকোনো দিন প্রতিটি রেমিট্যান্স লেনদেনের বিস্তারিত, যেমন লেনদেনের তারিখ, প্রেরক ব্যাংকের নাম, ব্যবহৃত উপকরণ, রেমিট্যান্সের পরিমাণ, রেমিট্যান্সে থাকাকালীন ভ্যাট বা কর, রেমিট্যান্সের বিনিময় হার, ফি, অন্যান্য খরচ ইত্যাদি পরবর্তী দিনের দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি, দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য নিয়মিত আপডেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।

    এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো যায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ স্থানান্তর করতে ব্যাংকগুলো কোনো ফি নিচ্ছে না, যা ইতিবাচক ফল পেয়েছে। তবে, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বিভিন্ন দামে রেমিট্যান্সের বিনিময় হার নির্ধারণ করছে, এর সমতা আনতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।