Category: অর্থনীতি

  • আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ডিজাইন

    আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট আবহাওয়া বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ ডিজাইন

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বাজারে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট ইস্যু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নতুন নোটটি প্রথম মুক্তি দেওয়া হবে মতিঝিল অফিস থেকে, এবং পরবর্তীতে অন্যান্য অফিসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    নতুন ৫০০ টাকার নোটের ডিজাইনে রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা এর সৌন্দর্য্য এবং নিরাপত্তা দুইই বাড়িয়ে দেয়। এর সামনের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মাঝে বাংলার জনপ্রিয় ফুল শাপলার ছবি রয়েছে। পাশাপাশি, নোটের পেছনে প্রতীকীভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি স্থান পেয়েছে। নোটের সবুজ রঙের আধিক্য দেখে মনোযোগ আকর্ষণ করে, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও গৌরবে দারুণভাবে উপস্থাপিত।

    নোটের মাঝে রাখা হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখের জলছাপ, যা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন দেখলে মনে হয় গভীর দৃষ্টিতে বোঝা যায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ নোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ বিষয়ক সিরিজের অংশ হিসেবে। এই সিরিজের আওতায় আগামীতে আরও ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট বাজারে আসছে। ইতিমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট চালু হয়েছে। এখন আসছে ৫০০ টাকার নতুন নোট।

    নতুন এই নোটে নিরাপত্তার জন্য দশ ধরনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রঙ পরিবর্তনশীল কালি, যা নোট নাড়ালে ডান পাশে ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে বদলে যায়। এছাড়াও, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সূতা রয়েছে, যা আলোতে ধরলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা দেখা যায়।

    অতিরিক্ত, দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত রাখা হয়েছে। শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো স্পর্শে উঁচু মনে হবে, যা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক। নোটের কিছু অংশ গোপনে ‘৫০০’ লেখা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কোণে দেখা যায়। কাগজে লাল, নীল এবং সবুজ তন্তু যোগ করা হয়েছে, যা বিশেষ আলোতে আলাদা রঙে উজ্জ্বল হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট ও কয়েনগুলো এখনো প্রচলিত থাকবে। পাশাপাশি, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ধরনের নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোট তৈরি হয়েছে, যা টাকা জাদুঘর ও মিরপুরে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায়, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে, যার মধ্যে প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করার অনুমতি থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যারা চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারা আবার আবেদন করতে পারছেন। একবারের জন্য একমাত্র আবেদন করতে পারবেন। সরকারি এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চলছে, যতদিন পর্যন্ত পেঁয়াজের অসহনীয় দাম বৃদ্ধি বন্ধ না হয়, এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের মূল্য উত্তোলন করে উঠেছিল। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের ব্যবধানে দাম প্রায় ৪০ টাকা বাড়ে, যেখানে কেজি প্রতি মূল্য পৌঁছায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। তবে সরকারের সিদ্ধান্তে যার ফলে দাম কিছুটা কমে, ধীরে ধীরে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় স্থিতিশীল হয়।

    গত সপ্তাহে সরকার জানায়, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন পেঁয়াজ দ্রুত বাজারে আসছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে অপ্রয়োজনীয় আমদানির ফলে দাম বাড়ছে না, এটাই নিশ্চিত করা। তবে এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিচ্ছেন কিছু মজুতদার ব্যবসায়ী, যার ফলে আবার দাম বাড়ছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়, অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তবে টিসিবির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় এখনও পেঁয়াজের দাম ১০ শতাংশ কম। বাজারে নতুন মুড়ীকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাওয়া যাচ্ছে পাতাযুক্ত পেঁয়াজ, যার কেজি মূল্য ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি ঘোষণায় আমদানি বন্ধের খবর শুনে দাম বেশি বেড়েছে। মজুতদার আর কৃষকদের মধ্যে দর বাড়ায় বাজারে পাইকারি ও খুচরা দামে প্রভাব পড়ছে।

    অতীতে ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়ে ছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যদি পেঁয়াজের দাম কমে না, তবে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, বাজারে দৃষ্টি রাখছি এবং দেশে অনেক পরিমাণে পেঁয়াজের মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ আসবে। তবে দাম যত তাড়াতাড়ি কমবে না, সরকারের পর্যবেক্ষণে থাকছে, যাতে কৃষকের ক্ষতি না হয়।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কমলেও নভেম্বর মাসে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগে অক্টোবরের হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় এটি কম ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার (৭ নভেম্বর) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একই সময়ে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। এই দুই মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

    বিবিএস জানিয়েছে, গত নভেম্বরে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর মানে, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম, যা দেখায় সাধারণ জীবনের ব্যয় কিছুটা হলেও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে গেলেও এর মানে এই নয় দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম কমে গেছে। বরং অন্যান্য মাসের চেয়ে ওই মাসে দাম বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হয়েছে বলে বোঝায়।

    গত দু-তিন বছর ধরে দেশের অর্থনীতির জন্য মূল্যস্ফীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি করে এই অস্থিরতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এছাড়াও, এনবিআর তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক ও কর কমিয়েছে, যাতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়মিত থাকে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারের অস্থিতিশীলতা কমানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী সংখ্যা ৭৩৪ দ্রুত বাড়ছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী সংখ্যা ৭৩৪ দ্রুত বাড়ছে

    দেশের ব্যাংক খাতের কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের তুলনায় জুনে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর গত তিন মাসে আরো ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি জমা অর্থের মোট পরিমাণ কমে গেছে। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, এই তিন মাসে নতুন করে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর আমানতের মোট পরিমাণও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকায়। এর ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। কোটিপতি অ্যাকাউন্টের প্রবৃদ্ধি বিষয়ে দেখা গেছে, জুন মাসে এই ধরণের অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। তবে September এর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি, অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টির মতো। মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিই। কোটিপতি অ্যাকাউন্টের জমা অর্থের পরিমাণ শুরুতে ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়, অর্থাৎ তিন মাসে কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, কোটিপতি হিসাব মানে শুধুমাত্র ব্যক্তির কোটিপতি নয়। একটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তি ছাড়াও অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এই ধরনের অ্যাকাউন্ট রাখে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৭, ১৯৮০ সালে ৯৮, ১৯৯০ সালে ৯৪৩, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁছেছিল ১৯ হাজার ১৬৩-এ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যায় আরও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০, ২০২১ সালে বেড়ে হয় এক লাখ ৯ হাজার ৭৬, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ টি।

  • কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বাজারে উদ্বোধন করা হবে নতুন ডিজাইনের ৫০০ টাকার নোট। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে জানিয়েছে যে, এই নতুন নোটটি প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু হবে, এরপর অন্যান্য অফিসগুলোতেও পাওয়া যাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নতুন ৫০০ টাকার নোটের সামনের দিকের ডিজাইনটি বেশ আকর্ষণীয় এবং সৌন্দর্যময়। এতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি রয়েছে, যার পাশে দণ্ডায়মান পাতা ও কলিসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। মাঝখানে শাপলার মতো জাতীয় ফুলের ছবি স্থান পেয়েছে। আবার পেছনে দেখা যাবে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রাচীন নির্মাণশৈলী।

    নোটের জলছাপে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যা অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর নিচে ইলেকট্রো টাইপের মাধ্যমে লেখা ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম দেখা যাবে। পুরো নোটটি সবুজ রঙের আধিক্যজনক ব্যবহারে তৈরি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নতুন সিরিজের নোটটি ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শিরোনামে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে। এই সিরিজের আওতায় ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট মুদ্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে এসেছে। এবার আসছে ৫০০ টাকার নোট।

    নতুন নোটটির নিরাপত্তা বেশ কিছু আধুনিক বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে রঙ পরিবর্তনশীল কালি ব্যবহৃত হয়েছে, যা নোটটি নাড়ালে ডান পাশে লেখা ‘৫০০’ সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। এছাড়া লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা দিয়ে সজ্জিত, যা আলোতে ধরলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা দেখা যায়।

    সঙ্গে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্ত পৌষিপ্তভাবে স্পর্শে অনুভবযোগ্য করে তোলা হয়েছে। নোটের শহীদ মিনার, মূল্যমানসহ কিছু অংশ ইন্টাগ্লিও প্রিন্টে নকশা করা হয়েছে, যা স্পর্শে উঁচু মনে হবে। এছাড়া গোপনে নোটের কোণে ‘৫০০’ লেখা রয়েছে, যা নির্দিষ্ট কোণে দেখলে স্পষ্ট হয়। নোটের কাগজে লাল, নীল ও সবুজ তন্তু ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশেষ আলোতে দৃশ্যমান হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট ও কয়েনের প্রচলন আগের মতোই থাকবে। এছাড়াও, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ নমুনা (অবিনিময়যোগ্য) ৫০০ টাকার নোট তৈরি করা হয়েছে, যা টাকা জাদুঘর, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

  • প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের খরচ ও প্রবাহ আরও উন্নত করতে নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেমাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সার্বিক খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং এই খরচ বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর থেকে প্রবাসীদের পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের ঝামেলামুক্ত ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রতিদিনের রেমিট্যান্স লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য পরের দিন দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার বুধবার জারি করেছে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাংকের মতন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা। জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি আরোপ করে থাকে, যা রেমিট্যান্স খরচের অব্যাহত বৃদ্ধির কারণ। এর ফলে বাংলাদেশেও রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় বিভিন্ন চার্জ ও ভ্যাট যোগ হয়, যার কারণে খরচ বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, প্রবাসীরা প্রতিদিন প্রেরিত টাকা, রেমিট্যান্সের ধরন, মূল্যে বিনিময় হার, ফি ও করের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে এ খরচ কমানো যায়। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ তাদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে কোন ফি নেয় না, এছাড়া বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর বিনিময় হারেও সমতা আনা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান আরও সুদৃঢ় হবে ও খরচের অস্বচ্ছতা দূর হবে বলে প্রত্যাশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও নভেম্বর মাসে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ হার গত বছরের নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে কম। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, নভেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। এভাবে টানা দুই মাস ধরে খাদ্যসামগ্রীর মূল্য বাড়ছে।

    দেশে গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বিরাজ করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

    বিবিএস বলছে, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, অর্থাৎ মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম কমে গেছে না, বরং এটি বোঝায় যে অন্যান্য মাসের তুলনায় নির্দিষ্ট মাসে দাম চাপ কিছুটা কম হয়েছে।

    বিগত দুই-তিন বছরে অর্থনীতির মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়ানোর মাধ্যমে এ সমস্যা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তদ্ব্যতীত, এনবিআর কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, আলু, পেঁয়াজ ও ডিমে শুল্ক ও কর কমিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার অনুমতি দিচ্ছে

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার অনুমতি দিচ্ছে

    অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার। দামের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজের আমদানি অনুমতি দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০টি করে ইপিএস (আমদানি অনুমতির) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রতি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন। এতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ আগস্টের পর যারা আমদানির জন্য আবেদন করেছেন, তারা আর আবেদন পুনরায় দাখিল করতে পারবেন না। একজন আমদানিকারক একবারই এই অনুমতিপত্র পেতে পারেন। এই পদক্ষেপটি বাজারে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সাময়িকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য নেয়া হয়েছে।

    প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে; চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই দাম ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে কেজিতে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছে গেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি অনুমতি দেয়ার ফলে দাম কিছুটা কমে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নেমে আসে। তবে সরকার জানিয়েছে, বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং শিগগিরই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। এই জন্য তারা আমদানির অনুমতি দিচ্ছেন না, যাতে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হয়।

    তবে এই পদক্ষেপের সুবিধা নিচ্ছেন মজুতদার ব্যবসায়ীরা, যার ফলে আবারও দাম বাড়ছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামiscipline মানে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে টিসিবির হিসেব মতে, গত বছরের তুলনায় এখনো ১০ শতাংশ কম দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এছাড়া, বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

    ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আমদানির অনুমতি না দেয়ার খবরে দর আবার বেড়ে গেছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দামের এই বৃদ্ধির ফলে পাইকারি এবং খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

    এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, যদি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমে, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেয়া হবে। তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের কাছে ২ হাজার ৮০০টি আবেদন রয়েছে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য। এর দশ শতাংশ অনুমোদন দিলেই দেশে পেঁয়াজের বাজার সয়লাব হবে; তবে দাম দ্রুত কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪ জন বেড়েছে

    দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর মার্চের তুলনায় জুনে এই সংখ্যাটি বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে। তবে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও জমা অর্থের মোট পরিমাণ কিছুটা কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংকিং সেক্টরে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটির ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বরের শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি—অর্থাৎ তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। এছাড়া, একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ ১৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। ফলে, তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি অ্যাকাউন্টের প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বলছে, জুন শেষে এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ছিল ১২৭,৩৩৬টি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বেড়ে ১২৮,৭০টি—অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। মার্চের শেষে এই সংখ্যা ছিল ১২১,৩৬২টি।

    উল্লেখ্য, জুন শেষে কোটিপতি অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা—অর্থাৎ, তিন মাসে কমেছে প্রায় ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব মানেই এই নয় যে সব কোটিপতি ব্যক্তি। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব অ্যাকাউন্টে ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে অনেক বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের অর্থও থাকতে পারে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনেক অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে। সুতরাং, এই সেটি কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বৃহৎ অর্থে বোঝানো হয়।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল শুধুমাত্র ৫ জন। এরপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৭৫ সালে ৪৭, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি এবং ২০০১ সালে পৌঁছায় ৫ হাজার ১৬২টিতে। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় অর্থাৎ প্রায় ৮ হাজার ৮৭৭টি। ২০০৮ সাল নাগাদ এটি ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালে ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে।

  • কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে, কারণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট ইস্যু করবে। এই নতুন নোটটির প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অফিসগুলোতেও পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মঙ্গলবার।

    নতুন নোটের ডিজাইন বেশ আকর্ষণীয় ও আধুনিক। এর সামনের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি দেখা যাবে, মাঝখানে তো জাতীয় ফুল শাপলার সঙ্গে পাতা ও কলার নকশা। পেছনে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রতিকৃতি। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে, নোটের জলছাপে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যার নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা রয়েছে ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। পুরো নোটটি সবুজ রঙে সাজানো, যা দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রঙের সঙ্গে সুসঙ্গত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নোট বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন নোটগুলো প্রকাশিত হচ্ছে। এতে স্বাক্ষর হিসেবে থাকছে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের। এই সিরিজে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোটের মুদ্রণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে আসন্ন।

    নতুন ৫০০ টাকার নোটের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু আধুনিক বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রঙ পরিবর্তনশীল কথালি—নোটটি নাড়া দিলে ডান পাশে থাকা ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। পাশাপাশি, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা যুক্ত, যা আলোতে দেখা গেলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা ঝলমলে করে।

    এছাড়াও, দৃষ্টিবঞ্চিত বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্তের সৃষ্টি করা হয়েছে, যা স্পর্শে স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। শহীদ মিনার, মূল্যমানের কিছু অংশ ইন্টাগ্লিও প্রিন্টে করা হয়েছে, যা স্পর্শের মাধ্যমে বোঝা যায়। গতিপ্রবাহে থাকাকালীন, নির্দিষ্ট কোণে ধরলে গোপনে ‘৫০০’ লেখা স্পষ্ট হয়। নোটের কাগজে ব্যবহৃত লাল, নীল ও সবুজ তন্তু বিশেষ আলোতে দৃশ্যমান হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট এবং কয়েনগুলো অব্যাহতভাবে চলবে। পাশাপাশি, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘নমুনা’ ৫০০ টাকার নোট মুদ্রণ করা হয়েছে, যা টাকা জাদুঘর, মিরপুর থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।