Author: bangladiganta

  • সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছাল দুই লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ স্বর্ণ ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, মোটো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম বেড়ে গেছে অসাধারণ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সাধারণ ভরি মূল্য এখন চলে এসেছে দুই লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপর, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুস এই ঘোষণা দেয় এবং দাম বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর হবে আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে। সংগঠনটি জানায়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রসারিত হওয়ার ফলে এই দাম বৃদ্ধি ঘটেছে।

    বিশ্ববাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামে দেয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার। এই মূল্য বাড়ার প্রভাব দেশে পড়েছে।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হলো ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্যে ভরি লাগছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকায়।

    সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকায়। অন্য ক্যারেটের রুপার দাম হল, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ভরি রুপার দাম এখন ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    একটি দল চক্রান্তের জাল ফেলেই আমাদের একা করতে চেয়েছিল

    ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সম্প্রতি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে বলেন, একটি দলের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে তারা আমাদের একা করে তুলতে চাইছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, সেই দলই এখন নিজেদের একা হয়ে গেছে। শনিবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি ও ছনবাড়ি বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভার আয়োজন হয় মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে।

    চরমোনাই পীর জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দেশ চালানোর জন্য স্পষ্ট নীতি ও আদর্শের দরকার। তিনি বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স পলিসির কথা বলেছি, যা এখনো আমাদের মূলনীতি। তিনি যোগ করেন, একমাত্র মুসলিম স্বার্থে কথা বলছি, অন্য কেউ ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বলছে না। জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক দল ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে আমাদের একা করে ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদেরই এখন একা হতে হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামারা আমাদের সঙ্গে রয়েছে, আল্লাহও আমাদের পাশে আছেন।

    চরমোনাই পীর আরো বলেন, বিগত ৫৫ বছরে ব্যক্তি ও দলের উন্নয়ন হয়েছে, তবে দেশের সার্বিক কল্যাণ হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার জন্য এক সুযোগ এনেছে। যারা পূর্বে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ, তাদের আর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন বন্দোবস্তে ভোট দিতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতায় এলে জনগণের টাকাপয়সা কারো পকেটে যাবে না, দুর্নীতি হবে না, টাকা পাচার রোধ হবে, সন্ত্রাসও থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

    সর্বোপরি, তিনি বলেন, আমরা ১৯৮৭ সাল থেকে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে আসছি, কোনো লোভ বা লালসায় নীতির পরিবর্তন করিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ কেউ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছে, যার কোনো লাভ হবে না। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানরা এই রাষ্ট্র ও এই জাতিকে গড়বে, এটাই আমার বার্তা। তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ ও ২ আসনে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন— মুন্সিগঞ্জ-১-এ সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ-২-এ দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি কে এম বিলাহ হোসেন।

  • বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, জনগণের আস্থা হারাবো না

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতি করে নিজের বা তার পরিবারের সম্পদ সংগ্রহ করেননি। বরং বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের বিশ্বাস ও আমানতের খেয়ানত তিনি করবেন না।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের বরুণাগাঁও মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই আমি ও আমার পরিবারের পরিচিত। আমরা রাজনীতি করে মালামাল বা অর্থসম্পদ সংগ্রহ করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে আদর্শ প্রতিষ্ঠা ও জনতার অধিকার রক্ষায় কাজ করা।

    তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যদি কেউ আওয়ামী লীগের মতো দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি কখনোই সেই পথে হাঁটবে না।

    বিএনপির ধর্মীয় ব্যবহারের মানসম্মততা নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার এখতিয়ারবিহীন। জামায়াতে ইসলাম ১৯৯১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তবে তারা কখনো জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

    বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারেক রহমান সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। রাজনীতি করলে সরকার গঠন হলে কৃষকরা সহজে সার পাবে, কোন সার সংকট হবে না। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি আরও যোগ করেন, আমরা একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চাই এবং অবাধ নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। শুধু জোরজুলুম বা স্লোগানের মাধ্যমে ভোট পাওয়া যায় না, জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকারের কাজ করে মন জয় করতে হবে।

    এ সময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের আবেদন করেন ও দেশবাসীর জন্য দোয়া চান। গণসংযোগে জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

  • নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যাপ্ত সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কথা মন্তব্য করেছেন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি পক্ষ তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে তারা সফল হচ্ছে না। এই অপপ্রয়াসগুলো শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, যখন আসল দূর্ণীতির ফলাফলের প্রতিফলন হবে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণার সময় তিনি একথা বলেন। এসময় তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট তুলে ধরে সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন শুরু হচ্ছে। ভোটাররাও ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যকে একান্তভাবে পছন্দ করছেন।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারেন, সে জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যাকে ইচ্ছে ভোট দিন, তবে চিন্তা-ভাবনা করে ভোট দিন। কারণ এই ভোট দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটাররা যেন কোনো প্রকার প্রলোভন, সুবিধা বা মিথ্যা আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হন। বরং যতটা সম্ভব যোগ্য ও সত্যকার প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে, যে এলাকার উন্নয়ন ও দেশের পরিবর্তনে সক্ষম।

    প্রচারণা শেষে তিনি শাপলা চত্বরের ভোট দিতে ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

  • জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    জামায়াতের আমিরের চাঁদাবাজদের জন্য কঠোর বার্তা

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যাপকভাবে স্পষ্ট করেন, দেশে বর্তমানে এক নীতিভ্রষ্ট ও অপবিত্র শিল্পের মতো চাঁদাবাজির উত্থান হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কার্ড দেখানো হয়েছে—কমপ্লিট লাল। আমরা কোনভাবেই কারো সন্তানকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত হতে দেব না। যারা এই পথে যেতে চান, তাদের উচিত ফিরে আসা, না হলে তাদেরকে কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”

    আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি), ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। এই জনসভা ছিল নির্বাচনের আগের প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক এক ক האירוע, যেখানে ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় আন্দোলনে শহীদ শহীদদের স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সভার শুরুতেই তিনি এক শহীদ বোনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে বলেন, “এটি আমার নয়, এই সম্মান তাদের প্রাপ্য—শহীদ মাতৃভারতীরা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়য় ছিল।”

    আমির যুবসমাজের জন্য বার্তা দেন, “আমরা তাদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের অকার্যকর করতে চাই না। বরং তাদের কর্মক্ষম করে তুলতে চাই, যাতে তারা দক্ষ কারিগর হয়ে নিজ নিজ খাতে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। শিক্ষার যেকোনো মাধ্যম—সাধারণ, আলিয়া বা কউমি—সেখানে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের সম্মান আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের নিরাপত্তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ার) বড় শহরগুলোর বিভিন্ন রাস্তায় শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে, এবং সরকারি বাসের নিচতলা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।”

    নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, “আমরা দুটি অ্যাপ চালু করব—একটি চাঁদাবাজদের গোপন চিহ্নিত করতে, এবং অন্যটি থেকে জনগণ তাদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবে। যদি নির্বাচন আমাদের হাতে থাকে, তবে প্রতি ছয় মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের কাজের হিসেব দিতে হবে।”

    জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণে তিনি সতর্কবার্তা দেন, বললেন, “যদি আমরা ক্ষমতা পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, কাউন্সিলর ও মেয়ররা বছরে চারবার ওই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করবেন। তখন তাদের বুঝতে হবে, এই নদী পরিষ্কার না হলে তারা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

    জুলাই আন্দোলনের শহীদদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান আদায়ের দাবিও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা করা হবে না। juli গণহত্যার চেতনা এখনও বেঁচে আছে। কোন পক্ষ অবাঞ্চিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করলে, ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের পক্ষ নিতে হবে, কোন দলের নয়, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

    জনসভায় বিরাট অংশগ্রহণ ছিল—দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থান থেকে আসা নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, এবং সাধারণ জনগণ। ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য।

  • দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করণে গুরুত্ব দরকার: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁর জন্য এই শহরের সঙ্গে তার গভীর আবেগ বিদ্যমান। যিনি এই মাটিতে শহীদও হন। চট্টগ্রামের ছেলে খালেদা জিয়াকে তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধি লাভ করেছিলেন। এসব কারণে এই শহর তাঁর পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করছে। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, যাতে প্রত্যেক নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিভিন্ন সমালোচনা করতে পারি; কিন্তু এতে কারো উপকার হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যা ক্ষমতা গ্রহণের সময়ে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের অ升তি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা সুবিধা পায়।

    তিনি আরও বললেন, চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। খাল-নালা বন্ধ হয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি বলেন, খাল কাটা উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন ইপিজেড রয়েছে যেখানে লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এগুলি বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত হয়। আবার ১২ ফেব্রুয়ারি যদি আমাদের ভোটে জয় লাভ করে ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে আরও নতুন ইপিজেড তৈরি হবে। ফলে চট্টগ্রাম হবে দেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

    তিনি বলেন, দেশের পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি দরকার। প্রথম, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অতীতে বিএনপি দেশ পরিচালনা করে তখন যাতে অপরাধ ও অস্থিতিশীলতা কম হয়, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়, দুর্নীতি দমন। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন, এবং ভবিষ্যতে যদি কেউ দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়, তাহলে কোন ছাড় নয়।

    পরিশেষে তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিতে অনুরোধ করেন। বলেন, এই বছর আগে থেকেই ধন্যবাদ জানিয়ে, তাহাজ্জুদে নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়ে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবার সেই ষড়যন্ত্র রুখতে এবার ধানের শীষে ভোট দিন।

    একই সঙ্গে, রোববার ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। কেউ হেঁটে, কেউ মিছিল করে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পরে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। সমাবেশের অংশ হিসেবে নানা ব্যানার-ফেস্টুনে পুরো এলাকা সেজে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ দিয়ে তারেক রহমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং রাত কাটান। তিনি রোববার সকালে তরুণ নেতাদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন, এরপর মহাসমাবেশে যোগ দেন। তার চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পথসভায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

    সেই সঙ্গে, মহাসমাবেশের জন্য চট্টগ্রাম শহর ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সমাবেশের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

    উল্লেখ্য, তারেক রহমান ২০০৫ সালে শেষবার চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। তখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন ও লালদিঘী মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেন।

  • বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

    বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

    শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের আসন্ন উন্নয়নকে সমর্থন ও গভীর বন্ধনকে পুনঃপ্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি আশ্বাস দেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করবে। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের এক শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রণয় ভার্মা আরো বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, সদ্য স্বাধীন ভারতের জনগণ নিজেদের জন্য একটি নতুন সংবিধান তৈরি করেন এবং দেশটিকে একটি সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। তারা সকলের জন্য ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা এবং মর্যাদার অঙ্গীকার দ্বারা আবদ্ধ হন। এর পর থেকেই বিগত ৭৬ বছরে ভারত এক দরিদ্র দেশ থেকে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের অন্যতম বৃহৎ শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে আধুনিকতা, আত্মবিশ্বাস ও অগ্রগামিতা স্পষ্ট। আজ বিশ্বের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে অগ্রসর হচ্ছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এই যাত্রায় বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় একত্রে যে ত্যাগ আর সংগ্রামের ইতিহাস গড়া হয়েছে, তা আজও আমাদের সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তা অবিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

    ভারতের এই কূটনীতিবিদ উল্লেখ করেন, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম— এ ধরনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা দুই দেশের মধ্যে এক গভীর সত্তা স্থাপন করে দিয়েছেন। নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যও এই সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করে।

    প্রণয় ভার্মা বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও ভারত ও বাংলাদেশের দ্রুত সমন্বয় সাধন করছে। আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন এবং জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন এই সম্পর্কের শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে তুলছে।

    তিনি ভবিষ্যতের জন্য উপসংহার টেনে বলেন, এই সফল অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে স্বার্থে-সুবিধায়, টেকসই উন্নয়নে এবং সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত রয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও উদ্ভাবনীপ্রিয় তরুণ জনগোষ্ঠী দুই দেশের জন্য ভবিষ্যতের পথ সুগম করছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম, আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল ও জ্বালানি করিডোর নির্মাণের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং উভয় দেশের বাস্তুতন্ত্রের সংরক্ষণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অবশেষে, তিনি আজকের এই ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের উপলক্ষে বাংলাদেশিদের সঙ্গে এই সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের এই বন্ধন একত্রে বিশ্বের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন, যদিও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এ অংশীদারিত্ব শক্তিশালী হতে থাকবে।

  • সরকারের কঠোর বার্তা দুর্নীতি ৩০ শতাংশ কমাতে পারে: তারেক রহমান

    সরকারের কঠোর বার্তা দুর্নীতি ৩০ শতাংশ কমাতে পারে: তারেক রহমান

    দুর্নীতি সহ্য করা হবে না সরকারের পক্ষ থেকে যদি কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়, তাহলে দেশের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক যুব পলিসি টক-এ তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দেশের সমग्र উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং তরুণদের সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার পরামর্শ দেন। তারেক রহমান বলেন, দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে তরুণদের আহ্বান জানিয়ে, রাজনীতি করতে গিয়ে একে অন্যকে দোষারোপের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এর পরিবর্তে, দেশের জন্য সুস্থ ও নির্মল উন্নয়নের ধারণা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোনের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করছে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, খাল খনন করলে বৃষ্টির পানি ধারণের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও বাড়বে। বিএনপি নেতার মতে, ‘ক্ষমতায় গেলে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার জলাধার তৈরি করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’ প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই কার্যকরতা থাকে, যা না করলে জনগণের আস্থা হারাবে। তারেক রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে ও দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির প্রভাব সমাজে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একমাত্র সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে, তাহলে এই অপরাধ অনেক কমে যাবে। বিএনপি ভবিষ্যতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোর উপর বিশেষ নজর দিতে চায়, যেখানে আগামী ৫-১০ বছরে বৈশ্বিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হয় এমন কারিগরি শিক্ষার নতুন ধারনা যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তোলা যাবে। পলিসি টক শেষে তারেক রহমান সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন। এরপর তিনি ফেনীর পাইলট স্কুল খেলার মাঠ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোয়াগাজী ডিগবাজারে ও দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা করবেন। দিনশেষে তিনি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন এবং ঢাকার গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যাবেন। এই সফরেও তার সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধান নির্বাচ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি

    প্রধান নির্বাচ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি

    আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল স্থাপন করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। শুনানি শেষে তিনি বলেন, গত বছর ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে একটি আবেদন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সিইসি সেই আদেশ বাস্তবায়ন করেননি। এই কারণেই তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে, ‘কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন নিষ্পত্তি না করায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

  • নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কূটনীতিকরা: সিইসি

    নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কূটনীতিকরা: সিইসি

    আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সমগ্র প্রস্তুতির ব্যাপারেও তারা আত্মবিশ্বাসী। গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার সময় রাজধানীর গুলশানে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে কূটনীতিকদের সঙ্গে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নেওয়া সব ধরনের পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে, এবং এতে কূটনীতিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা কমিশনের কাজের প্রশংসাও করেছেন। সিইসি আরো বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকছে না, যা তারা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনীতিকরা আগ্রহী হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সিইসি আরও বলেন, কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা বুঝতে পেরেছেন এবং তারা ভবিষ্যতেও সহযোগিতা দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন উৎসাহী থাকবেন। এর আগে, সকাল ১০টার দিকে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের বক্তব্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সময় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনাও হয়। নির্বাচন কমিশনের জিএস আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই বছর ৮৩টি বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও, প্রায় ৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও ৭৮ জন পর্যবেক্ষক আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অবস্থান করবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় ৫৮ জন বলে জানা গেছে, যা মোট বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় ৩০০-এর কাছাকাছি হতে পারে। ভোটের আগে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশি ও বৈদেশিক সাংবাদিকসহ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আবেদন করার সুযোগ ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশনা জারি করে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ও বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।