Author: bangladiganta

  • তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মকর্তার স্ত্রী নিহত

    তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের দূতাবাস কর্মকর্তার স্ত্রী নিহত

    তুরস্কের আঙ্কারায় ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন শাহাদাত নিজেও ও তার দুই সন্তান। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে, আঙ্কারার ইস্পারাতা এলাকায়। বিস্তারিত অনুসারে, শাহাদাত তার পরিবারসহ আনতালিয়ায় যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনায় পড়েন। সে সময় তিনি ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের স্ত্রী মারা যান। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, এখানে তারা এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ খবর পেয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আমানুল হক একটি টিমের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হাসপাতালে যান। এই প্রভাবশালী দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

  • আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বদলে স্কটল্যান্ডকে ডেকেছে

    আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বদলে স্কটল্যান্ডকে ডেকেছে

    আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ যদি ভারতে না যায়, তাদের জায়গায় বিকল্প দলকে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পর দুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    আইসিসি গত ২১ জানুয়ারি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করে। সভায় মূল আলোচ্য ছিল: বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ যদি ভারত সফরে না যায় তাহলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়—খেলতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারতে যেতে হবে, নইলে বিকল্প দলকে সুযোগ দেয়া হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া হলেও বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে।

    সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিন পরে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত জানায়; এ খবর ক্রিকবাজ প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে। স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে রাখা হবে; তারা গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে—এসব ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়। এরপর মুম্বাইয়ে তাদের শেষ ম্যাচ নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    সকালে নেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে বোর্ডকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের দাবিগুলো আইসিসির নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলছে না এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। চিঠির কপি বিসিবি সভাপতি এবং আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

    আইসিসি একই সঙ্গে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। ক্রিকবাজ স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সরাসরি কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবুও জানা গেছে দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।

    গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সেখানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথাই অনুমোদন করেন।

    এর আগে বাংলাদেশের বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটিতে (ডিআরসি) আপিল করেছিল। ওই কমিটি ওই অনুরোধ খারিজ করে এবং আইসিসির পূর্বের সিদ্ধান্ত বজায় থাকে।

    এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—স্কটল্যান্ড কীভাবে দ্রুত দল সাজিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নেবে এবং গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স কেমন হবে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢাকায় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল অধ্যায় সমৃদ্ধ করা অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘসময় নানা রোগে ভুগছিলেন; গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ছিলেও পরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল।

    মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, ‘আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, চিকিৎসক ও নর্সরা লাগাতার ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আর রাখা সম্ভব হয়নি। নর্সরা এসে জানান তিনি সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম নেওয়া ইলিয়াস জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। পরিবার পরে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসে এবং সেখান থেকেই তার সাফল্য আর পরিচিতি গড়ে ওঠে।

    নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই গুণী শিল্পী ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জীবেন্ডি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটান। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিচিতি পান; এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা এবং পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করান। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটুট স্থান করে নেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে, তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হলো: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    সত্তর ও আশি দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানে ছিল ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো নৃত্যাভিনয় আর অ্যাকশনের অনবদ্য মিশ্রণ। আজ তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র一道 একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। চলচ্চিত্র কর্মী ও ভক্ত-শ্রোতাদের তরফ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গত কয়েক দিন আগে একটি আবাসিক ভবনে গুলি ছোড়ার ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলির আওয়াজ পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে আবাসিক ভবনের দেয়ালে বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা যায়। সিসিটি ভির ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে এবং তদন্তের পর কেআরকে-কে हिरासत নেয়া হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তারই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না। অভিনেতা পুলিশকে জানান যে বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি ছুঁড়েছিলেন। কথিতভাবে বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের এক আবাসিক ভবনের দিকে গিয়ে লাগে।

    পুলিশ ঘটনার সময় ও গুলির প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণে আরও অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সিসিটি ভির ফুটেজ সংগ্রহ করছে।

    কামাল আর খান বরাবরই বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত; ২০২২ সালে তাকে এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য তারকাদের নিয়ে কটাক্ষী ও উসকানি মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগও রয়েছে।

  • বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    ২১ জানুয়ারি আইসিসি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করে। মূল আলোচ্য ছিল—বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ যদি ভারত না যায়, তাহলে কী করা হবে। সভায় মর্যাদাশীল সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়: বাংলাদেশ খেলতে চাইলে ভারতেই যেতে হবে, নাহলে বিকল্প দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দেশের অবস্থান অনড় থাকায় সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায়—এই খবর ক্রিকবাজও নিশ্চিত করেছে।

    স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে নেওয়া হয়েছে। তারা কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ খেলবে এবং পরে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সকালের মধ্যে নেওয়া হয়। আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশী দাবিগুলো আইসিসির নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এই পরিস্থিতিতে বিকল্প দলকে খেলায় নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ওই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

    একই চিঠিতে আইসিসি ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায় বলে উল্লেখ রয়েছে। ক্রিকবাজ স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, সরাসরি সাড়া না পাওয়া গেলেও দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে কিছু যোগাযোগ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত মূর্ততা আসে, যেখানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বিষয়টি নির্ধারণ করেন।

    শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ অন্য ভেন্যু পরিবর্তনের আপ্রসত চেষ্টা হিসেবে আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটিকে (ডিআরসি) আবেদন করেছিল; তবে ওই কমিটি তাদের আপিল খারিজ করলে আইসিসির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি ছোড়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান, পরিচিত নাম কেআরকে,কে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওশিওয়ারার একটি আবাসনে একের পর এক চারটি গুলির শব্দ ধরা পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেআরকে পুলিশকে জানান যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি পুলিশের কাছে জানিয়েছেন যে ভাষ, বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করার জন্য বাড়ির সামনে ম্যানগ্রোভের দিকে গুলি ছোড়েন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বাতাসের গতিবেগের কারণে গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের একটি আবাসিক ভবনেই পড়ে।

    পুলিশ বলেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ চলছে। কেআরকের বিরুদ্ধে কোথায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হবে তা তদন্তের পর নির্ধারিত হবে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তিনি এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের নিয়ে কটাক্ষ ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলাও রয়েছে।

    ঘটনাস্থল ও তদন্ত সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কণ্ঠরস মাপা নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ৮২ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে বসবাস করার পর কর্মজীবন তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে আসে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন জাভেদ এবং নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষ সপ্তাহগুলোতে বাড়িতে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল; হাসপাতাল থেকে দুইজন নার্স এসে কিছুদিন ধরে পরামর্শ ও যত্ন দিচ্ছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়, দুই নার্স এসে জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ক্যারিয়ারের শুরুটা হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে; পরে নায়ক হিসেবেও রূপালি পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। কিন্তু আসল সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে নির্মিত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার সঙ্গে তার জুটি দর্শকপ্রিয়তা পায়। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেছেন।

    একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি দিয়ে ৭০ ও ৮০-এর দশকের দর্শকদের মনে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ নামে দৃঢ় জায়গা করে নেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জাভেদের আসল নাম ছিল রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একশর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

    জাভেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ জীবন কাটানোর পর তিনি শান্তিপূর্ণভাবে না ফেরার দেশে চলে গেছেন; চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্ত সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি: চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

    ২০২৬ সালের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির নজর কাড়ে। ২০২৫ সালে চলমান শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেও চীনের রপ্তানি কমেনি—বরং বাড়েছে। ফলে বছর শেষে দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    এই তথ্য প্রকাশের পরই অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ জাগে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা নিবন্ধে সতর্ক করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা করতে চীনের এত বড় উদ্বৃত্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধুমাত্র উন্নত দেশগুলোর উৎপাদনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, নিম্ন এবং মধ্যআয়ের দেশগুলোর শিল্পগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতিভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার শৃঙ্খলাও ঝুঁকিতে পড়ে।

    অন্যদিকে গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন উইবোতে লিখেছেন, এই উদ্বৃত্ত ‘ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে’। তাঁর ভাষ্য, চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং শুধুমাত্র বাণিজ্য-নীতির মাধ্যমেই একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; চীনের পণ্য রপ্তানি জোরে নয়, বাজারের চাহিদা ও প্রতিস্পর্ধার মাধ্যমে হচ্ছে।

    বিশাল রেকর্ড উদ্বৃত্তের পিছনে কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক দিকে শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ, অন্য দিকে আমদানির দুর্বল গতি। ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানির বৃদ্ধি মাত্র ০.৫ শতাংশ—যা রপ্তানির ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে উদ্বৃত্তের ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা, ভোক্তা বিক্রির ধীরগতিঃ বিশেষ করে নভেম্বর মাসে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১.৩ শতাংশে নেমে এসেছিল। একই সঙ্গে আবাসন খাতের সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার কারণে আমদানির ওপর চাপ পড়েছে; ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার বার্ষিক বিনিয়োগে পতন দেখা দিতে পারে।

    আঞ্চলিক বাজার পরিবর্তনও দেখা যায়—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি শুল্কের কারণে ২০ শতাংশ কমলেও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, আষিয়ান ও ইইউ-র বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি রেকর্ড ২৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউয়েনের বহুমাসিক মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া এবং মুদ্রানীতির ফলে চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি সুসংহত হয়েছে। ফলত ২০২৫ সালের সাতটি মাসে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল—যা পূর্বের বছরের মাত্র একবারের তুলনায় অনেক বেশি।

    এই পুরো চিত্রটি দ্ব্যর্থহীনভাবে ইঙ্গিত করে যে—চীনের রপ্তানি-নির্ভরতা গভীর এবং তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বৃদ্ধি করতে পারে। যদি বৈশ্বিক চাহিদা খারাপ হয়ে যায়, চীন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চতুর্ভুজে আটকে যেতে পারে: শক্তিশালী রপ্তানি থাকলেও দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং বিনিয়োগ। ফলে বাণিজ্য অংশীদাররাও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার প্ররোচনা পেতে পারে—শুল্ক, অ্যান্টি-সাবসিডি বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আভাস বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কবার্তাও এসেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যদি চীন একঘেয়েমি রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি ইইউ’র সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে ইইউ চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হতে পারে।

    চীনের অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে লক্ষ করেছেন। গুয়াংডং পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং জানিয়েছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষমতা রাখাই এখন সরকারী অগ্রাধিকার। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও বলেছেন, সমন্বিত বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিংয়ের কিছু বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসে ঘোষণা করা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট (কর ফেরত) বাতিল করা হবে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেট ধীরে ধীরে কমিয়ে আগামী বছরে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে এক সমঝোতা হয়েছে—চীনা গাড়ি নির্মাতারা এখন অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার দায়িত্ব নিয়ে বাজার প্রবেশ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টাও বলা যায়।

    শেষ কথা: চীনের এই বৃহৎ বাণিজ্য উদ্বৃত্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একই সঙ্গে আশীর্বাদ এবং উদ্বেগ উভয়ই। চীনের উৎপাদনশক্তি ও সাশ্রয়ী পণ্যের সরবরাহ বিশ্বের মূল্যচাদরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে; কিন্তু অতিরিক্ত রপ্তানি-নির্ভরতা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা যদি টেকসইভাবে সমাধান না করা যায়, তবে তা ভবিষ্যতে নীতিগত উত্তেজনা ও বাণিজ্যিক প্রতিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যে প্রশ্নগুলো নির্ধারণ করবে উত্তরটি—রপ্তানি আয় কি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, রপ্তানির আয় আমদানিকে ত্বরান্বিত করতে পারছে কি না, এবং বাজারগুলি কতটা আরও উন্মুক্ত হচ্ছে।

    সূত্র: বিজনেস টাইমস।

  • সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    সোনার প্রতি ভরির দাম ছাড়াল ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো সোনার দাম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে এক ভরি সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে—ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার টাকার ওপরে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নতুন এই দাম আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এতো বড় ধাক্কা এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে; তথ্য অনুসারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠেছে, যা স্থানীয় কটকশা মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের বিবরণ অনুযায়ী:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম: ২,৫২,৪৬৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের এক ভরি: ২,৪০,৯৭৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের এক ভরি: ২,০৬,৫৬৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা: ১,৬৯,৬৫৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার (চাঁদা) দামও বেড়েছে। নতুন হারের তালিকায় রুপার দামগুলো হলো:

    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা: ৬,৮৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৬,৫৩২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা: ৫,৫৯৯ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা: ৪,২০০ টাকা

    বাজুসের এ ঘোষণার ফলে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সর্তকতা দেখা যাচ্ছে। অলঙ্কার ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই নতুন দাম কার্যকর হওয়ায় আগামী কয়েক দিনে স্বর্ণবাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাবে কি না তা দেখা হবে।

  • জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে শুক্রবার ভোরে এক ভারতীয় ব্যক্তির গুলিতে স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে—জানায় এনডিটিভি।

    ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকার ১০০০ ব্লকে ঘটে, বলে জানিয়েছে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ। সেখানে পৌঁছালে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ পাওয়া যায়; প্রত্যেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ ও প্রাণঘাতী চিহ্ন ছিল।

    পুলিশ নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১) এবং তিনি আটলান্টার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন তাঁর স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।

    ঘটনার সময় বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষা করতে শিশুরা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল; তাদের মধ্যে একজন ৯১১-এ ফোন করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিতে সক্ষম হলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুরা আহত হননি এবং পরে পরিবারের এক সদস্য তাদের নিয়ে যান।

    আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে ঘটনার প্রতি গভীর শোক ব্যক্ত করেছে। কনস্যুলেট জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    গুইনেট কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চারটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট (গুরুতর হামলা), চারটি ফেলনি মার্ডার (ফৌজদারি হত্যার) অভিযোগ, চারটি ম্যালিস মার্ডার (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার) অভিযোগ, একটি প্রথম ডিগ্রির শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এবং দুটি তৃতীয় ডিগ্রির শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পুলিশ ও কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধে সংঘটিত একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মামলা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানালে তা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।