Author: bangladiganta

  • অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আেগনেস কালামার্ড। এই চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

    চিঠিটি ২৬ জানুয়ারি লেখা হয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আওয়ামী রাষ্ট্রক্ষমতা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে, এই সময়টি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন সরকার গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অত্যাচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হ্রাস এবং সাংবাদিকসহ নাগরিক সমাজের ওপর নিপীড়নের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়েছে। এসবের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    অ্যামনেস্টি আজকের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করে, যখন জাতীয় আস্থা পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সংগঠনটি স্বীকৃতি দেয় যে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন গুম থেকে নিরাপত্তা, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে এবং অর্জিত মানদণ্ড বাস্তবায়নে নানা বাধা রয়ে গেছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দেশের জন্য একটি বিকল্পের দ্বারপ্রান্ত। এই নির্বাচন দেশের নতুন পথের সূচনা করতে পারে, যেখানে মানুষ এর অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মাননা জানানো হবে এবং তাদের অধিকারের বিকাশ ঘটবে। যদিও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিগুলোর অংশ হয়ে থাকলেও, আইনী প্রক্রিয়া ও বাস্তব প্রয়োগে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষায় আরও মনোযোগী হতে হবে। এসব অধিকার অযোগ্যভাবে হস্তক্ষেপ বা বিধিনিষেধ আরোপ হলে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাবে।

    অ্যামনেস্টি চায়, অন্তর্বর্তী সরকারতাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে, যেন অনলাইন ও অফলাইন, দুটো ক্ষেত্রেই মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। সংগঠনটি বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, মানবাধিকার ও স্বাধীনতা পরিপন্থী নানা আইন অপব্যবহার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়। বিভিন্ন আস্ফালন ও হামলার ঘটনা যেমন ২০২৫ সালে ঘটে, সেটিরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি। এতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অনেক নিরীহ নাগরিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

    সুতরাং, এই নির্বাচনের সময়কালে সরকারের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুতর। তাদের দায়িত্ব হলো, স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, সাংবাদিক ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা, বিরোধীদলের স্বচ্ছ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার করা। এই সময়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মান দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করবে। অ্যামনেস্টি মনে করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উন্নয়নের জন্য এই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, এমন নেতৃত্ব দেখানো যাতে দেশের সবাই স্বাধীনভাবে, নিরাপদে এবং ভয়হীনভাবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এবং দেশের ভবিষ্যৎ গ democrতিতার পথে এগিয়ে যায়।

  • ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে

    আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য নতুন Flug চালু হচ্ছে। এই নতুন পরিষেবাটি ট্রানজিটের প্রয়োজন না থাকায় যাত্রীরা সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচাতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, আপাতত সপ্তাহে দুটি দিন এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

    প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর আবারও পাকিস্তানে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চালু হচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই নন-স্টপ ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকা থেকে করাচি যাত্রা এখনও খুবই সহজ ও দ্রুত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও অনেক বাস্তবমুখী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

    ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব ১৪৭১ মাইল, যেখানে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে। এই ফ্লাইটটি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার পরিচালিত হবে। প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশ আসন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান কর্তৃপক্ষ।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীরা তিন ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, যা ভ্রমণকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট চালুর ফলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো পরিবহনেও নতুন দিগন্ত খুলবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেছেন, এই পরিষেবা দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীরা দোহা, দুবাই অথবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে আসছিলেন, যা সময় ও খরচ বাড়ায়। এখন থেকে রাউন্ড ট্রিপের খরচ হবে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা, যা আগে থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এতে করে যাত্রীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী দামে যাতায়াত করতে পারবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস বললেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষেরই সমর্থন দেব না। বাংলাদেশের জনগণ যারাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, আমরাও সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনও পক্ষের পক্ষ নেয় না। এর মূল কর্তৃত্ব এবং সিদ্ধান্তের অধিকার বাংলাদেশের জনগণের, এবং তাদেরই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকেই সমর্থন জানানো হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করবে, তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি এই নির্বাচন নিয়ে খুবই উৎসাহিত। আমি এই উৎসবমুখর নির্বাচনের ফলাফল দেখতে মুখিয়ে আছি।

    তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানতে পারলাম, তিনি আশাবাদী যে নির্বাচনের দিনটি একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর দিন হবে। আমি আশা করি, ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, সিইসি যে তথ্যগুলো শেয়ার করেছেন, তাতে আমি খুবই খুশি। আমি আশাবাদী, আপনি এবং আপনার সংস্থার মাধ্যমে একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি ১২ ফেব্রুয়ারির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি এবং নিশ্চিত আছি, এই নির্বাচনটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

  • আজ কোথায় হবে বৃষ্টি? জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    আজ কোথায় হবে বৃষ্টি? জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

    মাঘ মাস এখনও বিদায় নেয়নি, তবে এবার শীতের তীব্রতা কমে এসেছে। আজ বুধবার ১৪ জানুয়ারি, আর এই মাসে শীতের স্বাভাবিক কমতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সকালে ঠাণ্ডার পর দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখা গেছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাত দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টায় বলেছে যে, স্বাভাবিকভাবেই দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে আকাশ হালকা থেকে আংশিক মেঘঢাকা থাকতে পারে, তবে রংপুরসহ কিছু কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাত থেকে ভোর সময়ের মধ্যে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে আর দিনের তাপমাত্রা পূর্বের মতই থাকতে পারে।

    আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আসলেও, পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে। তবে ৩০ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন অংশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা। এরপর ৩১ জানুয়ারি সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমবে। ১ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখা যাবে, সেই দিনেও তাপমাত্রা খুব বেশি পরিবর্তন হবে না।

    অবশেষে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এবং চুয়াডাঙ্গায় — ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ১১.৫ ডিগ্রি, রংপুরে ১৪ ডিগ্রি, ময়মনসিংহে ১৩.৫ ডিগ্রি, সিলেটে ১৪.২ ডিগ্রি, বরিশালে ১২.৬ ডিগ্রি, চট্টগ্রামে ১৫.৯ ডিগ্রি এবং খুলনায় ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ওই ইউনিয়নের কেউড়া বাগান।

    আহতরা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মোঃ ওবাইদ উলাহ (১৫)। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে তারা দুইজন কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এতে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে সেখান থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশে এসে তাদের দাগে।

    বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে দুই কিশোরই ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোহেলের মামা মোঃ ইসমাইল জানান, এক কিশোরের পা ও বুকে এবং আরেকজনের বুকে গুলি লেগেছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকা আতঙ্ক-grস্থ হয়ে পড়েছে।

    ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সকালে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গোলাগুলির আওয়াজ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে—প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই দুইজন সীমান্তের কাছাকাছি গেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তে বিজিবির চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

    এটির আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। এরপরের দিন একই এলাকায় স্থল মাইন বিস্ফোরণে জেলে আবু হানিফের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভয়-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ, মর্টার শেল ও বিস্ফোরণের ঘটনা চলছেই। সরকারি জাঁতা বাহিনী মংডু টাউনশিপের আশপাশে আরাকান আর্মি (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীও সংঘর্ষে জড়িয়েছে—ফলত: সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে।

  • ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ভোট উপলক্ষে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: মোটরসাইকেল ৭২ ঘণ্টা বন্ধ, ট্যাক্সি-ট্রাক একদিন নিষিদ্ধ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চলাচল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।

    আর ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত।

    নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। চিঠি ইসির উপ-সচিব মনির হোসেন সই করেছেন।

    তবে সব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা একইরকমভাবে কঠোর হবে না—কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে শিথিলতা থাকবে। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে যে নিম্নোক্ত যানবাহন ও কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে বা অনুমতি সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে:

    – আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের যানবাহন।

    – অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের পরিবহন।

    – জরুরি সেবা নিয়ে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রীর পরিবহন।

    – সংবাদপত্রবাহী সকল ধরনের যানবাহন।

    – বিমানবন্দরে যাওয়া বা বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসার জন্য আত্মীয়স্বজনসহ যাত্রীবাহী যানবাহন (টিকিট বা প্রযোজ্য প্রমাণ দেখাতে হবে)।

    – প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত каждой প্রার্থীর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি যানবাহন এবং প্রতিটি নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে) জন্য একটি যানবাহন, সব কিছুর জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    – নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে চলতে পারবে।

    – টেলিযোগাযোগ সেবা জরুরি সেবার আওতায় গণ্য করা হবে; তাই বিটিআরসি ও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন চলাচলে ছাড় পাবে।

    – জাতীয় মহাসড়ক, বন্দরসংলগ্ন সড়ক এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রাস্তাগুলোতেও নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হবে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, এসব ব্যতিক্রম এবং চলাচলের অনুমোদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ফেরি-অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের মাধ্যমে কড়াকড়িভাবে পরিচালিত হবে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও আইনগতভাবে সম্পন্ন করা যায়।

  • অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা প্রতিরোধ করবে

    নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে হয়, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না; এমন ধরণের নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না — মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মঙ্গলবার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডাঃ তাহের সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটা দুঃস্বপ্নের মতোই থেকে যাবে। জনগণ তা আবারও প্রতিরোধ করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সেই শক্তিকে পতিত করবে।

    তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং সদস্যসংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আরপিওর বিধান পূরণ করতে সক্ষম একমাত্র দলই তারা। এরপরও অনেকে অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নারী বিষয়ে অগ্রাহ্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন; যা বাস্তবে সঠিক নয় — এমনটাই তার মন্তব্য।

    নির্বাচন যে অত্যন্ত নিকটে এসেছে বলেই উল্লেখ করে ডাঃ তাহের বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহন করছেন। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন।

    দলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন বলে তাদের মূল্যায়ন। কারণ, মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের ভোট পুরুষদের চেয়ে বেশি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারীরা যতটা সক্রিয় হয়েছে তা sehen অনিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতাকে থামাতে নারীদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তা শুরু করেছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে; বক্তৃতায় জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি এবং ‘‘জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যাবে’’ জাতীয় ধরনের ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

    তিনি নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা — তাদের সম্মান রক্ষা সব দাবি-দাওয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর হাস্যকল্প হওয়া উচিত নয়। যারা নারী অধিকার বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন — এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

    নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, সেটাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ডাঃ তাহের বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, তার ফলদেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে।

    তিনি সতর্ক করেন যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সরকারেরও এখানে বড় ভূমিকা আছে; যদি জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তার পরিণতি আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে। জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু ও নির্ভেজাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নতুবা দেশের ক্ষতি হবে।

    ডাঃ তাহের আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত ও প্রতিবন্ধিতার মুখে পড়েছেন; অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধামকি ও মারধরের মতো ঘটনা নির্বাচনকালীন বেশ কিছুস্থানে ঘটছে। তার মতে, জনপ্রিয়তাহীন প্রতিপক্ষরা কেন্দ্র দখল করে জেতার কৌশল বেছে নিচ্ছে এবং এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।

    শেষে তিনি পুনরায় সবাইকে আহ্বান জানান—নারী হোক বা পুরুষ, সবারই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এত খারাপ হলে ২০০১–২০০৬ সালের ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিতর্কিত এক দল বদলা‑খোঁজা স্বৈরাচারের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, তারা মিথ্যা বলছে। তাঁর প্রশ্ন ছিল—বিএনপি যদি সত্যিই এতই দুর্নীতিগ্রস্ত হত, তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ে ওই সরকারের құрамে থাকা তাদের দুইজন মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করেননি?

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। মঞ্চে ওঠেন বিকাল ৪টা ৩ মিনিটে পরিচালক স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানসহ। জনসভায় উপস্থিত লোকদের প্রতি সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন বিকাল ৪টা ২৬ মিনিটে এবং ধানের শীষের পক্ষে মত চাইতে তিনি বক্তব্য শেষ করেন বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে। এর পর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    বক্তৃতার সময় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের সেই দুই মন্ত্রী জানতেন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন না, তাই তারা পদত্যাগ করেনি।” তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানও দেখায় যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল, কিন্তু ২০০১ সালে যখন বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই দুর্নীতি দমন শুরু হয়।

    তারেক রহমান এমন কোনো দলকে তীব্রভাবে নিন্দা করেন যারা এখন বিএনপিকে দোষারোপ করে—তার যুক্তি, সরকারের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ওই দলের দুই মন্ত্রীর পদে থাকা নিজেই তাদের বক্তব্যের মিথ্যা প্রমাণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি ভোটের গুরুত্ব নিয়ে অনুরোধ করে বলেন, ভোটের দিন সবাই তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে কেন্দ্র গিয়েই ফজরের নামাজ আদায় করবেন। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন; কেবল ভোট দিয়ে চলে এসে নয়, ভোটের ফলাফল লক্ষ্য করে থাকতে হবে যাতে কেউ আমাদের ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আবার খাল খনন কর্মসূচিতে সবাইকে নিয়ে মিলিত হবেন—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে সামনে হাজির হবে এবং তিনি নিজেও থাকবেন।

    নেতৃত্ব আগমনের আগে-পরেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। উপস্থিতরা “তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম” ও “আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” স্লোগান দেন এবং মঞ্চে তাঁর প্রতি লাল গোলাপ তুলে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার আগে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভা করার দাবি জানান।

    মঞ্চে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন; তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লুৎফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং সমর্থকদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    লোকজন ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’ শ্লোগান দেন। লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরিতে ৫,২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি ভরিতে ৫,২৪৯ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তন জানায়। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও সামগ্রিক অবস্থার প্রেক্ষিতে মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে প্রতিটি ভরির দামসুচি হলো:

    ২২ ক্যারেট — ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা

    ২১ ক্যারেট — ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা

    ১৮ ক্যারেট — ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার নকশা ও মানভেদের কারণে মজুরিতে পরিবর্তন হতে পারে।

    এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাজুস এক দফা দাম বাড়িয়েছিল; তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা (তার ওপর ১,৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি)। সেই সমন্বয়ের পর ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের— ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা। ওই দাম ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে; এর মধ্যে ১১ দফায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩ দফায় দাম কমেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—তাদের মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়ে এবং ২৯ বার কমে।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। অন্যান্য রুপার দরগুলো হলো:

    ২১ ক্যারেট — ৭ হাজার ৪০৭ টাকা

    ১৮ ক্যারেট — ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা

    সনাতন পদ্ধতি — ৪ হাজার ৭৮২ টাকা

    বছরভর রুপার দামও এখন পর্যন্ত ১১ দফা সমন্বয় হয়েছে।

  • খাঁটি খামারিদের গৌরবে সম্মাননা দিচ্ছে ‘প্রাণ দুধ’

    খাঁটি খামারিদের গৌরবে সম্মাননা দিচ্ছে ‘প্রাণ দুধ’

    দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তরল দুধ ব্র্যান্ড ‘প্রাণ দুধ’। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘প্রাণ দুধ–খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ ক্যাম্পেইন।

    ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুগ্ধশিল্পের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা খাঁটি খামারিদের সম্মানিত করা ও তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্পগুলো তুলে ধরে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে দুগ্ধখামারি পেশায় আগ্রহী করে তোলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাণ ডেইরীর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। এখানে প্রাণ ডেইরীর তালিকাভুক্ত প্রায় ১৬ হাজার খামারি অংশ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা প্রদান করবেন। অংশগ্রহণকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরে একটি বিশেষ জুরিবোর্ড গঠন করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    জুরিবোর্ড প্রতিদ্বন্দ্বীর তথ্য-বিবরণী যাচাই করে প্রথমে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ বাছাই করবে। চূড়ান্ত নির্বাচনে জুরিবোর্ডের দেওয়া নম্বর ও ভোক্তাদের ভোটের সমন্বয়ে সেরা তিন খামারিকে চিহ্নিত করা হবে। বিজয়ীদের জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক এবং লক্ষ টাকার সমমূল্যের পুরস্কার; বাছাইয়ে স্থান করা বাকি সাতজনকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

    ইলিয়াছ মৃধা অনুষ্ঠানে বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে যারা দুগ্ধশিল্পের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তাদের সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও গাভি পালনে আগ্রহী করা হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ পৌঁছে দেওয়ার আমাদের অঙ্গীকারও এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হবে।”

    প্রাণ ডেইরীর চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান জানান, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের অসংখ্য খেটে খাওয়া খামারিদের পাশে থেকে ন্যায্য মূল্য, প্রশিক্ষণ ও ভেটেরিনারি সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে অনেক খামারির জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাণের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো. আলী হাসান, প্রাণ ডেইরীর হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তায়িন কাদের, ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহি নাঈমসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।