Author: bangladiganta

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ সোমবার (তারিখ অনুযায়ী) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম আজ আদালতে শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমনও ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে গ্রেফতার দেখান এবং পুলিশ প্রহরায় আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। তারা তাকে প্রথমে শাহ আলী থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে এবং পরে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে এক মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাসুদ হোসাইন আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বুকে সংক্রমণ দেখা যাওয়ায় অপারেশনও করাতে হয়।

    গত বছর ২৪ আগস্ট বেসরকারি টিভি প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী থানায় আনলে তাকে भी ওই আন্দোলন সংক্রান্ত আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এরপর থেকে তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও নানা বিতর্কে repeatedly উঠে আসে, বিশেষত আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও জনগণের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে।

    অধিকতর তথ্যের জন্য মামলার তদন্তকারীর পক্ষ থেকে পরবর্তী কল বা বিজ্ঞপ্তি মিললেই বিস্তারিত জানানো হবে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকার জয়যাত্রা

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকার জয়যাত্রা

    বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তির ১৭ দিনেও বক্স অফিসে শক্ত ধাক্কা দেখাচ্ছে। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির তৃতীয় শনিবার ছবিটি প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা টিকে থাকা চলচ্চিত্র হিসেবে নজর কেড়েছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ছবিটি প্রথম সপ্তাহ শেষ করে ছিল প্রায় ৬৭৪.১৭ কোটি টাকার সংগ্রহ নিয়ে। দ্বিতীয় সপ্তাহে এতে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। তৃতীয় সপ্তাহের শনিবারের আয় মিলিয়ে সব মিলিয়ে ভারতে ছবিটির সাময়িক মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি টাকা।

    বহু চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ধুরন্ধর ২’ ১,০০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করতে পারে। ইতোমধ্যেই ছবিটি ‘আরআরআর’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘জওয়ান’, ‘পাঠান’, ‘স্ত্রী ২’ ও ‘অ্যানিমেল’-এর মতো বহু ব্লকবাস্টারের লাইফটাইম কালেকশন ছুঁয়ে গেছে। তবে তালিকার শীর্ষে ওঠার জন্য এটিকে ‘বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন’ এবং ‘পুষ্পা ২: দ্য রাইজ’ এর রেকর্ডও ছোঁয়া লাগাতে হবে। উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল।

    কাহিনীর দিক থেকে প্রথম পর্বে রণবীরকে হামজা নামের একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে আমরা জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থানের গল্প দেখছি—কীভাবে ও কোন পরিস্থিতির ফলে সে ভয়াবহ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিতে রূপান্তরিত হয়, সেটাই এই কিস্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিং ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন আর্জুন রামপাল, আর. মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী ও সারা অর্জুন। এছাড়া দানিশ পাণ্ডোর এবং উদয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীদের উপস্থিতি দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ছবিতে একটি বিশেষ কেমিও রয়েছে পরিচালক আদিত্য ধরের স্ত্রী, অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের।

    বক্স অফিস পারফরম্যান্স কেবল সংখ্যারই খেলা নয়—দর্শক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচকদের যোগ হয়েছে যা ছবিটির ভবিষ্যত পথচলা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘ধুরন্ধর ২’ যে ক্রমে আগাচ্ছে, তাতে পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা প্রবল।

  • আলটিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ: স্পিকার

    আলটিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ: স্পিকার

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আলটিমেটাম দেওয়ার স্থান রাজপথ—সংসদ নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মঞ্চে তিনি জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি সংসদের আলোচ্য হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। (মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল)

    প্রসঙ্গত, ভোলায় জামায়াতে ইসলামী কর্মী বিবি সাওদা (পরিচিত সাওদা সুমি) গ্রেফতারের ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নিন্দা জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে তাকে অফিস সময়ের মধ্যে মুক্তির দাবি তুলেছিলেন। এ ধরনের দাবি থাকায় স্পিকার এ মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি পার্লামেন্টের মাধ্যেমে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।

    ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে তীব্র প্রতিবাদ এসেছে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ হয়েছে তা ‘নব্য ফ্যাসিবাদের’ বহুদূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা সব যুগে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখতে প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়। লজ্জা, লজ্জা!”

    ঘটনাটি শনিবার-রবিবারের সময় বাড়ে—রোববার (৫ এপ্রিল) রাতেই পুলিশ সাওদা সুমিকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে এবং পরের দিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারির পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘটনাটিকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই নারীর অবিলম্বে, নি:শর্ত মুক্তির দাবি করেছে। দলীয় এক বিবৃতিতে (সোমবার, ৬ এপ্রিল) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, এই গ্রেফতারে গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতি গেলো ধাক্কা লেগেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত প্রায় ১১টায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে বাড়ি থেকেই তুলে নিয়ে যায়; গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেছে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ আছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গভীর রাতে একজন নারীকে গ্রেফতারের এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

    সংসদে স্পিকারের মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও অনুসন্ধানexpected হতে পারে; meanwhile রাজনৈতিক নেতারা ও সক্রিয়রা ঘটনাটির নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সোচ্চার থাকছেন।

  • রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

    রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

    সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রিমান্ড ও জামিন দুটোই নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় এবং সেখানে রিমান্ড ও জামিন সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এন এম নাসির উদ্দিন জানান, শিরীন শারমিনকে আজ ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত রাতেই ডিবির হাতে ধানমন্ডির ওই বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল এবং পরে তাকে লালবাগ থানায় জনৈক আশরাফুলের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, লালবাগ থানায় দায়ের করা (মামলা নং-৫) ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তিন নম্বর আসামি বলা হয়েছে। একই মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে শেখ হাসিনা, দুই নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

    ডিবি জানিয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান খুঁজে বের করা, গ্রেফতার করা এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য পুলিশ শিরীন শারমিনের জন্য দুই দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। তবে আদালতে রিমান্ড ও জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে তার বিরুদ্ধে রংপুরে মুসলিম উদ্দিন নামে এক স্বর্ণশ্রমিক হত্যাসহ উত্তরা ও বনানী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে—এই তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল। আজ দুপুরে তাকে ঢাকার আদালতে তোলা হয় এবং শুনানির পর আদালত তাকে স্বরাষ্ট্র সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা মেনে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

  • মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে

    মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা: কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে; এগুলো রুখে দিতে হবে। তিনি ঘৃণার বদলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধই রাখতে সবাইকে অনুরোধ করে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ‘ইস্টার সানডে’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। অনুষ্ঠানে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্যবাদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোকে মানা হবে না।

    তিনি বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অনন্য উদাহরণ যেখানে নানা ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। ইসলাম এখানে প্রধান ধারার অংশ হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতে ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা ঘটলেও সেগুলোকে অতিক্রম করে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে—এটাই তার বার্তা।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশকে আরও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। “আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা সম্পন্ন করতে চাই,” বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে, ঐক্য, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শক্তি; তাই বিভাজন সৃষ্টিকারী কৌশল বন্ধ করতে এবং সমাজে পরিচ্ছন্ন সম্পর্ক ফেরাতে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলোয় জোট দেশজুড়ে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলের মধ্যকার ঐকমত্য ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। জনদূর্ভোগ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করলে গ্রেফতার করা হচ্ছে—এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ঘৃণ্য বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নব্য ফ্যাসিবাদকে কোন মূল্যেই তারা ছাড় দেবে না এবং গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

    জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী: আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। ১১ এপ্রিল দেশব্যাপী উপজেলা ও থানাগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

    জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীদলকে রাস্তা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে দেশ হতবাক ও বিস্মিত হলেও সংসদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট কার্যত স্থগিত অবস্থায় রয়েছে এবং মাত্র এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ড থেকেই সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে, এমন অভিযোগ তিনি তুলেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকটসম্বন্ধে সংসদে বিরোধীদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেয়া হচ্ছে এবং দিল্লির বিরোধী অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক শক্তিদের সরকারি দল রাজাকার বলে ট্যাগ করছে। তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় অর্ধেক

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে এবং এর পরভাব দেখা দিয়েছে ২০২৫ সালে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) মধ্যে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর ব্যয়ে সর্বনিম্ন রেকর্ড।

    তথ্যগুলো দেখায়, ২০১৫ সালের ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকার রেকর্ডের পর এবার সেচ্ছাসেবামূলক এই খাতে ব্যয় পুনরায় নিম্নমুখী হয়েছে — সেই বছরের তুলনায় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ হ্রাস। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা; ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ এবং ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ব্যাংকখাতের শীর্ষস্থানীয়রা ও বিশ্লেষকরা বলছেন এর পেছনে প্রধান কারণটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য ফাঁস। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি জুন-জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমে চাপ পড়ে। একই সময়ে অনেক ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় কাগজে প্রদর্শিত মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিও স্পষ্ট হয় এবং কিছু শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক বিশেষভাবে বড় চাপে পড়ে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে সিএসআর খাতে ব্যয় বাড়াতে হতো; অনেক সময় সেই ব্যয় প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে এলে ব্যাংকগুলো তুলনায় জামেলা কমিয়ে পরিকল্পনামাফিক সিএসআর ব্যয় করতে শুরু করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ণ হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনায় বলা আছে, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে: তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না — ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৬%) ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পোষণ পেয়েছে মাত্র ১০%।

    প্রতিবেদন বলছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখ আছে, ২০২৪ সালে মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেঃ জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহীর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখ্য, এসবের মধ্যে ছয়টি লোকসান করা ব্যাংক সিএসআর খাতে তবু কিছু ব্যয় করেছে — এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশাল ইসলামী ব্যাংক।

    সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জনপ্রতিবাদী আন্দোলন, প্রকাশিত অনিয়ম এবং বাড়তি খেলাপি ঋণের প্রভাব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক যোগ্যতা ও সামাজিক খাতে বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং খাতে পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর আর্থিক শাসন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারকদের নিরপেক্ষ সমন্বয় জরুরি।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের ধীর; অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ফের কমে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবর–ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা গত প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক নিচে এবং এক বছর আগে একই সময়ে হওয়া ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশের থেকেও কম।

    সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার কারণে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধ এবং অন্যান্য অঞ্চলভিত্তিক সংঘাত জ্বালানি-পরিপল্লায় চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সরবরাহে বিঘ্নতা ঘটিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের প্রভাবেই দেশে উৎপাদন ও সরবরাহচেইনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ব্যাহত করেছে—এসব কারণ মিলিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত প্রান্তিকে সবচেয়ে নিচু প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে—শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতেই ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতে এরকম তীব্র স্লিপ অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। কৃষি ও সেবা খাতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা বৃদ্ধি হলেও শিল্পখাতের ধীরগতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে তন্নতন্ন করেছে।

    এর আগে গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পতনYear‑end লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে, কারণ জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদানটিই আসে শিল্প খাত থেকে এবং ওই খাতের দুর্বলতা পুরো বছরের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    বিবিএসের প্রতিবেদন ও অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিবেশ পুনরায় সক্রিয় না হলে সামনের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্থিতিশীল হওয়া চ্যালেঞ্জিং হবে।

  • হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    হরমুজ টোলে ইরানের কপাল বদল? মাসে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব

    ইরান গত সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা তারা গ্রহণ করেনি। তেহরানের দাবিটি স্পষ্ট — ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে শেষ করতে হবে, সাময়িকভাবে নয়। একই সঙ্গে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মন্তব্য ও কূটনৈতিক চাপেও প্রতিরোধ গড়েছে; সম্প্রতি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যও তেহরানের বিরোধিতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী খোলার আবেদন রেখেছিল এবং প্রয়োজন হলে যেখানে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছিল; তবু কূটনৈতিক পথও খোলা ছিল। কিন্তু ইরানের ওপর পশ্চিমা—বিশেষত মার্কিন ও ইসরায়েলি—চাপের মধ্যে তেহরান নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অবস্থান থেকে সীমান্তগত নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানির আনুমানিক ২০ শতাংশ পরিবহন করে; যুদ্ধের আগে এখানে দিনে প্রায় ১০০–১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করত।

    এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার, এবং ভৌগোলিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণই আছে ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হতেই তেহরান প্রথমদিকে ঘোষণা করে যে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না; পরে ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে এই হুমকি বাস্তবায়ন করা হয়। হামলার ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়।

    কয়েক দফা গোপন আলোচনা ও দরকষাকষির পরে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সম্প্রসারণ করা হয়; তার বিনিময়ে প্রায়শই ‘টোল’ দাবি করা হয়েছে—কিছু রিপোর্ট বলছে প্রতি জাহাজে প্রায় ১.৫–২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত টোল নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ১০ দফার একটি তালিকা দিয়েছে; সে তালিকায় রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার নিশ্চিত করা, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান ইত্যাদি দাবি।

    যদি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। কনজার্ভেটিভ হিসাব ধরলে, যদি প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ১ থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলার টোল নেওয়া হয় এবং দৈনন্দিন চলাচল আগের মতো হয় (প্রতিদিন ১০০–১৩৫ জাহাজ), তাহলে কেবল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ইরানের সম্ভাব্য মাসিক আয় পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি দাঁড়াতে পারে। তদুপরি, গ্যাসবাহী জাহাজের ওপর একই ধরনের টোল আরোপ হলে সেখানে থেকে আলাদা করে মাসিক প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ থাকতে পারে—যদি চলাচল ও টোলের হার একই রকমেই ধার্য রাখা হয়।

    বর্তমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতোমধ্যেই ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে; ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—যদি সরবরাহ ব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি ব্যারেলে বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম হিসেবে গোল্ডম্যান স্যাচ প্রাথমিকভাবে ৪–১৫ ডলার বলেছে, আর অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তা ২৫ ডলার পর্যন্ত দেখেছে।

    তবে এই টোলভিত্তিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা অন্য প্রশ্ন। এশিয়ার বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে তেল আমদানিবেশগুলো—এমন অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা সহ্য করতে পারবে কি না সন্দেহজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে টোল আদায় করে পাওয়া অর্থ যদি পুনরায় সামরিক শক্তি বিকাশে বা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে তা নতুন সঙ্কটের জন্মও দিতে পারে—এমনটাই ইরানের অভ্যন্তরীণ কিছু প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।

    সংঘাত চলাকালীন তেহরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) জাহাজকে পারাপার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজকে প্রায় পুরোপুরি আটকে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পরও যদি এই নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে নতুনভাবে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অন্য দিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে তেহরান ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ পরিচালনা করে ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

    ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে হরমুজে আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব ইরানকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহের ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে—এবারকার সংঘাতই দেখিয়েছে ইরান কেবল হরমুজেই প্রভাব বিস্তার করছে না, ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান ইরানের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা, প্রতিরক্ষা ইশতেহার ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দিতে পারে—তবে তা একই সঙ্গে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও জাগাবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    মোজতবা খামেনি: শীর্ষ কমান্ডার হত্যা সত্ত্বেও সশস্ত্র বাহিনীকে দমানো যাবে না

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি সোমবার ভোরে এই মন্তব্য করেছেন, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেরি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। খবরটি খবর সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে।

    লিখিত এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, খাদেরি নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক দশক ধরে নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি খাদেরির ত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করে বলেন, এমন যোদ্ধাদের অব্যাহত সারি ও আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এমন শক্তিশালী ও গভীর প্রতিরোধ তৈরি করেছে, যা সন্ত্রাস ও অপরাধের মাধ্যমে ভাঙা যাবে না।

    খামেনির বক্তব্য তার লেখা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্রে বলা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধে ঝোঁক দেওয়া থেকে ইসরায়েল ইরানের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    মাজিদ খাদেরির হত্যা বিষয়টি নিয়ে তেহরান ও ইসরায়েল—উভয় পক্ষই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, খাদেরি ‘‘ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী’’ এবং তিনি আইআরজিসির তিন শীর্ষ ব্যক্তির একজন ছিলেন।

    একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী আইআরজিসি কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরিকে ‘নির্মূল’ করেছে। বাঘেরি ২০১৯ সাল থেকে ওই দায়িত্বে ছিলেন। তেহরান এখনও এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ঘটনাগুলো ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং খামেনির কড়া মন্তব্যে অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।