Author: bangladiganta

  • জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি বৃদ্ধির গতি ফের ধীর, অক্টোবর–ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বরে) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বৃদ্ধির হার ফের নিম্নমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সংবাদমতে ওই প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রান্তিকে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের growth ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের growth ছিল ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। লক্ষণীয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি—৬ দশমিক ৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকে এ খাতে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে খুবই কমেছে। অন্যদিকে কৃষি ও সেবা খাতে প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৃদ্ধির হার বেড়েছে।

    পূর্ববর্তী অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ০৫ শতাংশ; এরপর প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও কমে গেল।

    প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিল্প ও পরিবহন খাতে কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। এছাড়া সূত্রে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সীমা থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত বৃদ্ধির পর গ্যাস ও তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়েছে, যা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং মূল্যবৃদ্ধি এনেছে। এসব কারণ মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ralent হচ্ছে।

    আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারী অর্থায়নে ঘাটতি—বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময়ে অর্থসংকট থাকার ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তহবিলে বাধা পড়েছে, যা পরিকল্পিত কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখতে সমস্যা তৈরি করেছে।

    অবশেষে, জিডিপিতে শিল্প খাতের যে গুরুত্ব তা বিবেচনায় রেখে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রয়াত হলে বছরের সমষ্টিগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। শিল্প খাতের দুর্বলতা পুরো অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শীঘ্রই অবস্থা স্থিতিশীল করে তুলতে নীতি ও বাস্তবায়নে মনোযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীনের ভেটো

    রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পক্ষে আনা একটি প্রস্তাব বাতিল হয়েছে। প্রস্তাবটি উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষে পেশ করা হয়েছিল। (বিবিসি)

    নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়, আর পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদান থেকে বিরত থাকে। স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে প্রস্তাবটি পাস করেনি।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র আলোচনার পর মূল খসড়া বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছিল। শুরুতে খসড়াটিকে ‘চ্যাপ্টার সেভেন’—অর্থাৎ সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি—এর আওতায় রাখা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ‘প্রয়োজনীয় সব প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি’সংক্রান্ত অংশটিও বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শুধু সম্মিলিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টাকে ‘জোরালোভাবে উৎসাহিত’ করার ভাষায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়।

    বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। ভোটের আগে তিনি সদস্যদের বলেন, প্রস্তাবটি নতুন কোনো বাস্তবতা তৈরি করছে না; বরং ইরানের ক্রমাগত শত্রুভাবাপন্ন আচরণকে রোধ করার জন্য একটি কড়া পদক্ষেপ, যা বন্ধ করা জরুরি।

    নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া — যে কোনো এক সদস্যের ভেটোই পরিশেষে কোনো প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। 이번 ভেটোর ফলে হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ওই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত করল ইরান

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ স্থগিত করে দিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয়ভাবে—সব কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা আদানপ্রদান বন্ধ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এসেছে। ওই সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-ে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতার মৃত্যু হতে যাচ্ছে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, কিন্তু সম্ভবত তা-ই হতে চলেছে।’

    এরপরপরই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে তবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছাড়াও পাল্টা হামলা হতে পারে।

    সেই背景ে হলেও, মঙ্গলবার সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি সংঘাতের একটি সন্তোষজনক সমাধানের আশাও প্রকাশ করেন।

    সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছে। একটি পাকিস্তানী নিরাপত্তা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, দেশটির বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব একটি বড় ধরনের অগ্রগতির জন্য কাজ করছিল।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • খুলনায় ‘তেলবাজ’ মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের রহস্য: কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি ও প্রতিকারপ্রস্তাব

    খুলনায় ‘তেলবাজ’ মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের রহস্য: কৃত্রিম সংকট, কালোবাজারি ও প্রতিকারপ্রস্তাব

    খুলনায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ যতটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে, ততটাই দায়ী অসাধু মোটরসাইকেল চালকদের একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট — স্থানীয়ভাবে যে গ্রুপকে অনেকেই ‘তেলবাজ’ বলছেন। পেট্রোল পাম্পগুলোয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন এবং ভোগান্তির পেছনে মূলত یہی চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুদ করছে এবং দোকানে লিটারপ্রতি অনেক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে।

    সরেজমিন পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, সকাল ১১টায় তেল দেওয়া থাকলেও ভোর থেকেই মোটরসাইকেলের সারি কিলোমিটার ছুঁই ছুঁই করে। এদের এক বড় অংশ পেশাদারভাবে তেল সংগ্রহ করে — একবার তেল নিয়ে দ্রুত কোথাও ড্রামে ঢেলে পড়ে আবার একই বা অন্য পাম্পে ফিরে এসে পোশাক পরিবর্তন করে লাইনে দাঁড়ায়। ফলে একই এক ব্যক্তিই দিনে একাধিকবার তেল নেয়। পাম্পের কর্মীরা অভিযোগ করছেন, অনেকেই একদিনে ১০ বার পর্যন্ত তেল নিচ্ছে; এতে সাধারণ চালকদের জন্য তেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

    এই সিন্ডিকেট ড্রামে তেল তুলে রেখে পরে খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি সাধারণ দামের সঙ্গে ১০০–১৫০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামান্য সংখ্যক দুষ্কৃতী পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহককে ফিরিয়ে দিচ্ছে, আবার সরকারি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে ড্রাম ভর্তি জ্বালানি নিয়ে বাইরে চড়া দামে বেচে দেয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বন বিভাগের স্টিমারের জন্য পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা লবণচর এলাকায় বিক্রির সময় প্রশাসন ধরেছিল।

    প্রতিরোধের চেষ্টা হিসেবে কিছু পাম্প তেল দেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের টাওয়ারে রং দিয়ে চিহ্ন করছে, তবে চালকরা অন্য পাম্পে গিয়ে সিরিয়াল বা লাইনে এসে পুনরায় তেল ভরছেন, ফলে বিধান কার্যকর হচ্ছে না। খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে পাওয়া তথ্যে গত বছরের তুলনায় সরবরাহ খুব একটা কমেনি; তথাপি বাজারে চাহিদা ভিত্তিহীনভাবে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। ডিলার ও এজেন্ট পর্যায়ে রেশনিং হচ্ছে বলে জানালেও খুচরা পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণ থেকে বাহির হয়ে গেছে।

    প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমান অভিযানও চলছে। ফুলতলার একটি পাম্প — মেসার্স নওশিন এন্টারপ্রাইজ — সম্পর্কে র‌্যাব-৬ জরিমানা করেছে; আর খুলনা জেলা প্রশাসন কাকন ফিলিং স্টেশনকে পরিমাপকরে কম দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করেছে। এসব উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও মজুদকারীরা এবং বাজার manipulators নতুন কৌশল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পেট্রোল পাম্পের শ্রমিকরা বলছেন, তারা অসহায়। ‘একজন চালক যদি একবারের বেশি তেল না নিতে পারত, প্রকৃত চালকেরাই বঞ্চিত হত না,’ এক কর্মীর মন্তব্য। পাম্প মালিকরাও বলেন, সংকটকে পুঁজি করে অনেকে স্বার্থ লুটছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সমস্যা মোকাবিলায় ডিজিটাল সমাধানের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাবে একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার বা মোবাইল অ্যাপ চালুর কথা বলা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী তেলের পরিমাণ এবং তেল নেওয়ার অন্তততম সময় অন্তর-নিয়ম (উদাহরণ: ৩ দিনে একবার) স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে। এতে একজন চালক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পাম্প থেকে তেল নিতে পারবে না এবং কৃত্রিম পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশনের (খুলনা বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা) সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানাচ্ছেন, ‘এ সংকট সরবরাহের চেয়ে বেশি অব্যবস্থাপনার ফল। মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে থাকবে। অবিলম্বে অ্যাপভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা এবং তেল ভাঙার সময় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করলে কালোবাজারি কমানো সম্ভব।’

    প্রয়োজনে প্রশাসনকে কঠোরভাবে অভিযান চালিয়ে মজুদের উৎস শনাক্ত করতে হবে, পাম্প পর্যায়ের তদারকি জোরদার করতে হবে এবং দ্রুত ডিজিটাল বণ্টন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করে প্রতিবার তেল বরাদ্দ ট্র্যাকযোগ্য করা প্রয়োজন। নয়তো সহজ সরল সাধারণ নাগরিকই প্রতিটি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগেন।

  • বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত, অপরজন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    বেনাপোলে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত, অপরজন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    বেনাপোল স্থলবন্দরে ক্রেনের সিলিং তার ছিঁড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং অপর একজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিটিআই মাঠে ভারতীয় ট্রাক থেকে বাংলাদেশি ট্রাকে লোহার সিট খালাস (আনলোড) করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, ক্রেনের দড়ি ছিঁড়ে ঘটনাস্থলে দুইজন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে শাহজাহান আলীর (৫৬) মৃত্যু হয়। অপর আহত শ্রমিক সোহেল হোসেন (৫২) বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

    নিহত শাহাজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার বেনাপোল (পাঠবাড়ি) গ্রামের আফতাবের ছেলে। আহত সোহেল হোসেন একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। উভয়েই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: ৮৯১)-এর সদস্য বলে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিশ্চিত করেছেন।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, পথিমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে; অপর শ্রমিককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর অবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা লক্ষ্য রাখছেন।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পলাশ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে অসাবধানতাবশত ক্রেনের তার ছিঁড়লে দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন; এক জন মারা গেছেন, আর একজন চিকিৎসাধীন। বন্দরের কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনার কারণ জানার জন্য খোঁজ-খবর ও তদন্ত চালাচ্ছে।

  • মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের এপ্রিল—হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছেছিলেন তামিম ইকবাল। তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিল; ধীরে ধীরে ফিরে আসা সুসংবাদের মধ্যেই সবাই স্বস্তি পেয়েছিলেন। ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল—ক্রিকেটার তামিম এবার দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষে বসে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষণার পর দুপুরের পর দায়িত্ব পান তিনি। বিকেল চারটার পর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে দীর্ঘদিনকার পরিচিত কর্মীর ভূমিকায় এবার বোর্ডের প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক বলে পরিচিত এই ওপেনার খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন দলের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

    প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল স্পষ্টভাবে বললেন—প্রাথমিক লক্ষ্য হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তিকে ফিরিয়ে আনা। গত এক-দেড় বছরে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই তাদের অগ্রাধিকার। তা না হলে মাঠে অর্জিত সাফল্য ও দেশের গৌরব ফিরানো সম্ভব হবে না, এমনটিই তার ভাবনা।

    আদহক কমিটির ১১ সদস্যের একটি বাধ্যবাধকতা আছে—তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম জানিয়েছেন, তারা এই দায়িত্বটি সৎ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে চাইছেন। ‘‘আমাদের ওপর যে দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে—ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন তিন মাসের মধ্যে আয়োজন করা—এটি আমরা যতটা সততার সঙ্গে এবং যতটা দ্রুত সম্ভব করতে চাই।’’

    দৈনন্দিন কাজকর্ম মসৃণভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতীকী বক্তব্যও দিয়েছেন নতুন প্রশাসক। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ইস্যুসহ বর্তমানে যেসব চলমান কাজ রয়েছে, সেগুলোকে তারা সঠিকভাবে এগিয়ে নিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে সবার সম্মান ফেরানো ও বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট নিয়ে গর্ব ফিরিয়ে আনাই তার বড় অনুশীলন হবে — কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়রা ও সব স্টেকহোল্ডারের আত্মমর্যাদা প্রাধান্য পাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

    তামিম সরলভাবে মেনে নিয়েছেন—তারা ভুল করবে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষাও নেবে এবং উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে। ‘‘আমরা শুধু কথা বলবো না, কাজ করব; চূড়ান্তভাবে পরিবর্তন আনব,’’ বললেন তিনি।

    বৈঠক শেষে তামিম জানালেন, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরীকে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ও বোর্ডের কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমে জানাবেন।

    নতুন নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই মুহূর্তকে তামিম ‘বিশেষ দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—খেলোয়াড়ি জীবনের পর প্রশাসনে এসে দেশের ক্রিকেটকে আবার গৌরবময় জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ শুরু করেছেন।

  • ভিয়েতনামের কাছে ১-০ হেরে গ্রুপপর্বেই শেষ বাংলাদেশের আশার

    ভিয়েতনামের কাছে ১-০ হেরে গ্রুপপর্বেই শেষ বাংলাদেশের আশার

    থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে এএফসি উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ‘এ’ গ্রুপে ভিয়েতনামের কাছে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপপর্বেই বিদায় নিল বাংলাদেশ নারী দল। এই ম্যাচে জেতার ব্যাপারে ভিয়েতনাম গুরুত্ব দেয়ার কারণে তাদের আশা টিকে থাকল, আর বাংলাদেশ তিন ম্যাচ হারে গ্রুপের তলানিতে থেকে আসর শেষ করে।

    ম্যাচের সিদ্ধান্ত হয় দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে। বক্সে উড়ে আসা এক ক্রসে বল নাগাল পেতে লাফিয়ে মিলি আক্তার চেষ্টা করেন, কিন্তু বল গ্লাভস থেকে বেরিয়ে গেলে সেটি ঝাঁপিয়ে ধরে থি থুই লিনহ—দ্রুত বাম পা চালিয়ে বল জালে ঢুকিয়ে দেন। ওই একটিই গোল ম্যাচের ব্যবধান ঠিক করে দেয়।

    বহুক্ষণ জোরালো লড়াই চললেও প্রথমার্ধে উভয় দলই সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকি আসে ১৩ মিনিটে, যখন সতীর্থের থ্রু পাস নিয়েছেন সাগরিকা। একান্ত অবস্থায় তিনি চিপ শট নিতে চাইলে ভিয়েতনামের গোলকিপার লি থি থু সুন্দরভাবে সেভ করেন। ২৬ মিনিটে আরেকটি থ্রু পাসে সাগরিকা অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগোয়, কিন্তু বলের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

    ভিয়েতনামও প্রথমার্ধে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ বাড়ায়। ২৯ মিনিটে এনগান থি থানের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে বাইরে গিয়ে বিপদ তৈরি না করলেও হুমকি ছিল। ৩৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা লং পাসের আগেই ঝাঁপিয়ে বেরিয়ে এসে মিলি আক্তার দারুণ একটি ক্লিয়ার করেন, যা রক্ষণকে সময় দিল।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণ খেলায় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। ৫৩ মিনিটে গোলের আগে উমহেলা মারমা বক্সে ভালো জায়গায় বল পেলে শট নিতে পারেননি এবং রক্ষণে বডি ট্যাকলে বলটি হারান—এর কয়েক মিনিট পর থেকেই ভিয়েতনামের চাপে পরিবর্তন আসে এবং অবশেষে থি থুই লিনহের সেই কাজ করা গোলই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে ভিয়েতনামের আড়াআড়ি ক্রস থেকে থি থুই লিনহের হেড পোস্টের বাইরে গেলে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারেনি তারা।

    গ্রুপের অন্য ফলাফলে চীন ও আয়োজক থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে কোয়ার্টারফাইনালের যোগ্যতা নিশ্চিত করেছিল। বাংলাদেশ যদি টিকে থাকতে চেয়েছিল, অন্তত ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ড্র প্রয়োজন ছিল, তবে তা করতে পারেনি দল। টানা তিন পরাজয়ে গ্রুপে শেষ হওয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখন সংশোধন দরকার।

    এটি বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃখজনক পুনরাবৃত্তি—পূর্বেও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট ছাড়াও উইমেনস এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে একইভাবে সবগুলো ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায় হয়েছে দল। মাঠে লড়াই তো দেখালেও কার্যনির্বাহী ও কৌশলগত উন্নয়নের মাধ্যমে এখন দ্রুত শক্তি ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম সোমবার শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানি করেন। শুনানি শেষে magistrate তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পরে পুলিশ হেফাজতে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। তাদের কাছে থাকাকালীন ফাহিমকে শাহ আলী থানার কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর বছিলা এলাকায় র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে মিছিল চলাকালে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার ফলে মাসুদ হোসাইন আহত হন; হাসপাতালে চিকিৎসার সময় বুকের ইনফেকশনের জটিলতায় তাকে অপারেশন করাতে হয়েছে।

    এর বাইরে গত বছরের ২৪ আগস্ট আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বেসরকারি টিভির মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে গত বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ও সাধারণ জনতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান নিয়ে বারবার তার নাম উঠে এসেছে।

  • ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১,০০০ কোটির পথে

    ধুরন্ধর ২: ১৭ দিনে প্রায় ৯৬৩.৫ কোটি, ১,০০০ কোটির পথে

    বলিউডের স্পাই থ্রিলার ধুরন্ধর ২ মুক্তির ১৭ দিনেও বক্স অফিসে দারুণ ধাক্কা দেখাচ্ছে। স্যাকনিল্কের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তির তৃতীয় শনিবারে প্রায় ২৫.৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে।

    পরিসংখ্যান বিশ্লেষনে দেখা যায়, ছবিটি প্রথম সপ্তাহে সংগ্রহ করেছিল ৬৭৪.১৭ কোটি টাকা, আর দ্বিতীয় সপ্তাহে যোগ হয়েছে আরও ২৬৩.৬৫ কোটি টাকা। তৃতীয় শনিবারের ২৫.৬৫ কোটি মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬৩.৪৭ কোটি টাকা — আরও একটু এগলেই ১,০০০ কোটি ক্লাবে প্রবেশ করা সম্ভব। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি সেই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে।

    এমন শক্তিশালী পারফরম্যান্সে ধুরন্ধর ২ ইতোমধ্যেই বড় বড় ব্লকবাস্টারগুলোর লাইফটাইম কালেকশন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে আছেন আরআরআর, কল্কি ২৮৯৮ এডি, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২, জওয়ান, পাঠান, স্ত্রী ২ ও অ্যানিমেল। তবে তালিকার শীর্ষে জায়গা করতে হলে এখনও বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন ও পুষ্পা ২: দ্য রাইজ-এর রেকর্ড ভাঙতেই হবে। উল্লেখ্য, ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম কিস্তি বিশ্বজুড়ে ১,৩০০ কোটি টাকা আয় করেছিল।

    প্লট ও চরিত্র নিয়ে সংক্ষেপে—প্রথম কিস্তিতে রণবীর সিংকে হামজা নামে একজন ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে মূলত জাসকিরাত সিং রাঙ্গির উত্থান ও কীভাবে তিনি দুর্ধর্ষ গুপ্তচর হামজা আলি মাজারিসহ কৌশলী হিরোতে রূপান্তরিত হন, তা দেখানো হয়েছে।

    আদিত্য ধর পরিচালিত এই স্পাই অ্যাকশন থ্রিলারে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরজুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, রাকেশ বেদী এবং সারা অর্জুন। এছাড়া দানিশ পান্ডোর ও উদয়বীর সান্ধুর মতো শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বিশেষ চমক হিসেবে আছে পরিচালক আদিত্য ধররের স্ত্রী, অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের এক কেমিও উপস্থিতি।

    সংক্ষেপে, ব্যবসা ও দর্শকের সাড়া—দুইদিকে সফলতা পেয়ে ধুরন্ধর ২ এখনই বাংলোড় গণনা করছে; কবে কোথায় থামে তা বহু নিরীক্ষকের চোখে নজর রাখার বিষয়।

  • ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৩৬৩১ জন উত্তীর্ণ

    ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৩৬৩১ জন উত্তীর্ণ

    সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আজ মঙ্গলবার বিকেলে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে। পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা এখন মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। পিএসসি সচিবালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি পরে জানানো হবে।

    ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা গত ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা একযোগে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা বিভিন্ন সময়ে চালানো হয় এবং তা ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলছে।

    পিএসসি ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার ও ২০১টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিকভাবে অনলাইনে আবেদন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০ ডিসেম্বর, কিন্তু ৯ ডিসেম্বর আবেদন শুরু স্থগিত করা হয়। পরে ২৬ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি।

    সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ফি কমানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০ থেকে করে ১০০ করা হয়; ফলে মোট নম্বর ১১০০ থেকে পরিবর্তন হয়ে ১০০০ করা হয়। এ বিসিএসে প্রথমবারের মতো আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে।

    প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু করার প্রথম নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট, কিন্তু তা স্থগিত করে পরে ১৯ সেপ্টেম্বর আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হলেও আয়োজন করা হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে ১০ হাজার ৬৪৪ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ করা হয়েছিল।

    লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা হলে কিছু অংশের প্রার্থীরা তা পেছানোর দাবি জানায় এবং কেন্দ্র স্থলে আন্দোলনও ঘটে; কিছুদিন পরে কয়েকজন প্রার্থী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। পিএসসি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল এবং নির্ধারিত তারিখে লিখিত পরীক্ষা চালিয়েছে।

    এবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৬৩১ জন প্রার্থীকে এখন মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। পিএসসি ফল ও পরবর্তী সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে বলে জানিয়েছে। প্রার্থীদের জরুরি তথ্যের জন্য পিএসসির প্রকাশিত নোটিশ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।