Author: bangladiganta

  • আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: স্পিকার

    আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়: স্পিকার

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ—সংসদ নয়। জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এসব কথা মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বলেন স্পিকার।

    বিষয়টি নিয়ে তাত্ক্ষণিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, ভোলায় জামায়াতের মহিলা কর্মী বিবি সাওদা সুমিকে রোববার (৫ এপ্রিল) রাতের বেরি নিজের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

    জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে নিন্দা করে দাবি করেন, অফিস সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করে ওই নারীকে মুক্তি দিতে হবে। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আগের দিন এক পোস্টে লিখেন, সাওদা সুমির সঙ্গে যে নিকৃষ্ট আচরণ করা হয়েছে তা ‘‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’’ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা প্রায়ই তাদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখতে প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করে; এতে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদীরা স্তব্ধ হয়ে যায়। পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যারা অন্তরে ফ্যাসিবাদ লালন করে তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কি না এবং স্মরণ করিয়ে দেন—লজ্জা, লজ্জা।

    রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে-ইসলামী এই গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে অমানবিক ও অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বিবৃতিতে ওই নারীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এই গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এ ঘটানিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি আখ্যায়িত করেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী জানায়—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গভীর রাতে একজন নারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    সংসদে স্পিকার মন্তব্য করেন যে, সংসদীয় আলোচনা ও দাবীর জায়গা আলাদা; যদি কারো মনোশ্চিন্তা থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সংসদেই তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য এখানে আলাপ আলোচনা হচ্ছে।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা রোধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ঘৃণা ও শত্রুভাব আমাদের সমাজের জন্য ঘातক হতে পারে, তাই ঘৃণাকে চিরতরে বিদায় করে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে পথপ্রদর্শক করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সমাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার পক্ষে কথা বলেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এমন এক দেশ যেখানে ইসলাম ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—all মিলেমিশে এই ভূখণ্ডের অঙ্গ। অতীতেও এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করেছে, সে ঐতিহ্য রক্ষা করাই হবে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, কোনও ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা সমাজকে দুর্বল করে। ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি,’’ তিনি বলেন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় সমাজ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা যাবে। ‘‘আমরা চাই একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে, এজন্য সামনে অনেক কাজ রয়েছে — সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে,’’ তিনি যোগ করেন।

    তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশের শান্তি, সমতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আবেদন করেন ব্যক্তিগত ও সমাজিক বিভেদের চেয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাকে অগ্রাধিকার দিতে।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সমর্থক ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয় এই কর্মসূচির কথা। বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, সরকার জনম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে এবং নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য গড়া হয়েছিল, তা সংস্কারসংক্রান্ত ইস্যুতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন একদলীয় ও নব্য ফ্যাসিস্ট স্বাভাবিকতায় এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে; তবে ১১ দলীয় জোট নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।

    জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন থাকবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় কার্যকর করার পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে দায়ী করে বলেছেন, সরকার বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, বিএনপির কার্যকলাপ সম্পর্কে জাতি হতবাক ও বিস্মিত; গণভোটের রায়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ইতোমধ্যে কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে, এবং সংসদে মাত্র একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধানকে সংকটবশতভাবে টেনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে তাদেরকে সরকারের দিকে থেকে ‘রাজাকার’ জাতীয় তকমা দেয়া হচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

  • জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফের ধীর: অক্টোবর-ডিসেম্বরে ৩.০৩%

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্লো হয়ে এসে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ৩.৩৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৪.৯৬ শতাংশের থেকে কম। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিএসের রিপোর্ট ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনিত কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির সংকট ও সরবরাহ ঝামেলা দেখা দেয় ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

    খাতে ভাগাভাগি অনুযায়ী গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি — ৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতের এই বড় ধরনের কমতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে আরও সীমিত করেছে।

    গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে উঠে আসে, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও নিচে নেমে এসেছে। চূড়ান্তভাবে বছরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে — বিশেষত কারণ শিল্পখাতই জিডিপিতে বড় অবদান রাখে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি যখন ক্ষীণ হয় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা তৈরি হয়।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাত গভীর আর্থিক চাপের মুখে পড়েছিল; ১৭টি ব্যাংক নিট থেকে লোকসান ঘোষণা করেছিল। এই অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতেও—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় গত বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    সেন্ট্রাল ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট খরচ করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সবচেয়ে কম ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে ন্যূনতম ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে—যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য দেখায়, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের (৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা) তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    ব্যালান্সশিটের অবনতি, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাংকিং খাতে প্রকাশিত অনিয়ম-লুটপাট এসব পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের (জুন–জুলাই) ছাত্র-জনতার আন্দোলন, আগস্টে সরকার পরিবর্তন ও সেই সময়কার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে নানা ব্যাংকের অনিয়ম, ঋণ অনুষঙ্গ ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রচারে আসায় কাগজে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় বাস্তব লোকসানও সামনে আসে। বিশেষ করে শরিয়ারভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বেশি চাপে পড়েছে এবং কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ-অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এসব কারণে দুর্বল অবস্থায় পড়া ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরে আনতে সরকার একাধিক банка একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ কমে আসা। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ থাকত; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অনুষ্ঠানসহ নানা খাতে অনুরোধের ভিত্তিতে ব্যয় করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পরে এসব চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে যাচাই-বাছাই করে খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়ন্ত্রিত চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়; তা হলে সিএসআর-এর মূল সামাজিক উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়—এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষার জন্য, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য উপযোগী খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না; ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে বেশি, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা খরচ করেনি। এসব ব্যাংকের নাম: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকদের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আর্থিক চাপ, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধরণ ও পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাতকে স্থিতিশীল করতে এবং সিএসআর অর্থ সমাজের বাস্তবে পৌঁছে দিতে নিয়ম-নীতি কড়াকড়ি করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ও প্রকল্পগুলোর ফলাফল-পর্যালোচনা জরুরি।

  • দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    দেশ রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত: পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশ রক্ষার জন্য ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ইরানি অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া এবং জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত। তিনি এই কথা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে জানিয়েছেন।

    পেজেশকিয়ান পোস্টে লিখেছেন, “১ কোটি ৪০ লাখের বেশি সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশ রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন।” নিজের প্রতিশ্রুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, আমি আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

    পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে বলে সংবাদ সূত্রে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আনার ব্যাপক আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বানের জবাবে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যরাও ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার ইরানে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সামরিক কর্মী এবং প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য রয়েছে। ইরানে মূলত দুটি আলাদা বাহিনী কার্যকর—নিয়মিত সামরিক বাহিনী ‘আরতেশ’ এবং প্রভাবশালী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)। আইআরজিসির আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ নিয়মিত সদস্য এবং কয়েক লাখ রিজার্ভ সদস্য আছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    হরমুজে নিয়ন্ত্রণ পালে ইরানের ভাগ্য বদলে যেতে পারে, মাসে আয় হতে পারে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান তেহরানকে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চাওয়ার নীতিতে অনড় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন খবর গত সোমবার ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট: ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতকে সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বিরোধিতার মুখে টিকেই আছে; ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে করা বিতর্কিত মন্তব্যও এ প্রেক্ষিতেই এসেছে।

    ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি জানালে প্রথমে বলপ্রয়োগের হুমকি দিলেও কূটনৈতিক বিকল্পও খোলা রেখেছিল। তবে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই নৌপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত তারা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে। হরমুজ সঙ্কটের গুরুত্ব অর্থনৈতিক: এই প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এবং বর্তমানে বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে।

    তেহরান মার্কিন ১৫ দফার বদলে নিজস্ব ১০ দফার প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার মেনে নেওয়া, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণের দাবিসহ অনান্য বিষয়। সবচেয়ে মূল দাবি হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির ওপর স্বীকৃত নিয়ন্ত্রণ।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে হরমুজ এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চোক পয়েন্ট’। প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার এবং ভূগোলগত নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের—ইরান ও ওমানের হাতে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান বেশ কয়েকবার জাহাজ-ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত করে এবং চলাচল সীমিত করে দেয়, ফলে বিমা ও পরিবহন খরচ বাড়ে এবং জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়।

    পরে গোপন আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়; এর বিনিময়ে ইরান ‘টোল’ ধার্য করেছে—প্রতি জাহাজে প্রায় ১–২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (কিছু কনজারভেটিভ হিসাব ১০–১৫ লাখ ডলার ধরে থাকে), যেগুলোর বেশিরভাগই চীনা ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এমন নিয়ম চালু হলে ইরানের জন্য রাজস্ব ও স্বার্থ দ্বিগুণ হবে: কনজারভেটিভ হিসাব ধরলে শুধু অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর উপর হারে মাসিক প্রবাহ থেকে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার) আয় হতে পারে। গ্যাসবাহী জাহাজে একইভাবে টোল আরোপ করলে তা থেকে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার মাসিক আয় আসতে পারে।

    এই পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। অবরোধ ও তেল-অবকাঠামোর ওপর হামলার খবরের প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে—২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় জ্বালানি মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—যুদ্ধ শেষ হলে সরবরাহ পুনরায় স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে এবং দাম ধীরে নামার সুযোগ আছে। কিন্তু যদি শান্তি-চুক্তির শর্তে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে ‘টোল’ কস্ট আমদানিতে যোগ হবে এবং পরিবহন ও বিমা ব্যয় বাড়বে—ফলশ্রুতিতে জ্বালানির দাম পুনরায় বাড়তে পারে। কতটা বাড়বে তা অনিশ্চিত; বিশেষ করে যদি বড় আমদানিকারক দেশগুলো (যেমন ভারত) বিশেষ ছাড় বা বিকল্প পথ খোঁজে।

    আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুমান ভিন্ন: গোল্ডম্যান স্যাচস বলেছে, সরবরাহ ব্যাহত হলে প্রতি ব্যারেলে ৪–১৫ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যুক্ত হতে পারে; অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এই ঝুঁকি প্রিমিয়ামকে ২৫ ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য মনে করেছে।

    দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ থেকে অর্জিত টোল আয়কে টেকসই বলে দেখা সহজ নয়—এমন রাজস্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং তাতে প্রাপ্ত অর্থ পুনরায় ইরানকে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করার আশঙ্কাও আছে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল যুদ্ধকালে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংগ্রহ বাড়াতে ব্যবহার করা হতে পারে।

    বর্তমানে তেহরান নির্দিষ্ট কিছু দেশের (যেমন ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান) জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়ে রেখেছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ। যদি শান্তির পরও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তা নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ‘নিয়ন্ত্রিত করিডর’ হিসেবে হরমুজ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে ও সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে।

    সমাপ্তিতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব তাকে উপসাগরীয় জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রহরী বা গেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে—যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানের نفوذ বাড়াবে এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। এই সম্ভাব্য ফলাফলকে নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও বিশ্লেষকরা সতর্কতা জাহির করেছেন—যদি যুদ্ধ এইভাবে শেষ হয়, তবে বিশ্ববাজার ও অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘ সময়ের প্রভাব পড়বে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • খুলনায় নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    খুলনায় নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

    খুলনা: খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত আজ (মঙ্গলবার) তাঁর অফিসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

    মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক জানান, খুলনা জেলার যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সমাধানের জন্য তাঁর দফতর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিটি দপ্তরে জনসাধারণের হয়রানি রাখা হবে না এবং কাজের স্বচ্ছতা ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও ভূমিকা অব্যাহত রাখতে তিনি অনুরোধ করেন।

    সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • তামিমের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

    তামিমের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মঙ্গলবার বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করবে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তা তদন্তের আওতায় আসে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে ওই নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়নি; তদন্তকালে বর্তমান পর্ষদের একাধিক পরিচালকও অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

    এনএসসি ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নাম এবং তদন্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অক্টোবরের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২৫ সদস্যের একটি পর্ষদ দায়িত্বগ্রহণ করলেও শুরু থেকেই বোর্ডটি অস্থিরতার মুখে পড়ে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সাতজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে পর্ষদের সদস্য সংখ্যা কমে ১৭ জনে সীমাবদ্ধ হয়। অবশেষে এনএসসির হস্তক্ষেপে পুরো পর্ষদই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    আদ্যাহক কমিটি নিয়ে আগে গুঞ্জন ছিল এটি ১৫ সদস্যের হতে পারে; তবে চূড়ান্তভাবে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের কাজ হবে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বোর্ডে বিচারযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

    অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা হলেন: তামিম ইকবাল (আহ্বায়ক), রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।

  • নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিসিবি কমিটি বিলুপ্ত; তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

    নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে বিসিবি কমিটি বিলুপ্ত; তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।

    এনএসসি গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে চলমান বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। তদন্তে উদ্ভুট পদ্ধতিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে কাউন্সিলর করে তোলা হয়—যা নিয়মবিরুদ্ধ বলে ধার্য হয়েছে। এই কারণেই বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান আজ (৭ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, এনএসসি ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিশ্বক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নামের তালিকাও আইসিসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনার পর এনএসসি মনে করেছে যে বিসিবি কমিটি গঠনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট দুর্বলতা ও অনিয়ম ছিল। সে কারণেই আইনানুগ ক্ষমতার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    আমিনুল এহসান বলেন, এনএসসি দেশের ক্রীড়া সংস্থাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করে; যেখানে অনিয়ম দেখা যায়, সেখানে পরিষদ আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা-২১ অনুযায়ী যদি কোনো নির্বাহী কমিটি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে না বা সংস্থার স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালায়, তবে এনএসসি সেই কমিটি ভাঙ্গার এবং প্রয়োজন হলে অ্যাডহক কমিটি নিয়োগের ক্ষমতা রাখে।

    এনএসসির সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, গঠিত অ্যাডহক কমিটি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে নতুন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করবে। প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় যারা আছেন, তাদের নাম আইসিসির নোটিশেও পাঠানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।

    এনএসসি সিদ্ধান্তকে স্থানীয় ক্রীড়া অঙ্গনে জরুরি নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আইসিসির অনুসন্ধান ও স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম কেমন হয়, সেটাই ভবিষ্যৎ নির্দেশ করবে যে বিসিবির নেতৃত্ব পূনরায় স্থিতিশীল হবে কি না।