Author: bangladiganta

  • নগরীতে অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে

    নগরীতে অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু অব্যাহত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, নগরবাসী যেন তাদের বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলির পূর্ণ সুবিধা পেতে পারে। খুলনায় বোটানিক্যাল গার্ডেন, খেলার মাঠসহ মানসম্পন্ন বিনোদন কেন্দ্রের অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নগরীতে অনেক সরকারি জমি এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই অপ্রয়োজনে পড়া জমিগুলোর বিকল্প ব্যবহার করে অবকাশ ও বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্য নিয়ে নগরীর ৭নং ঘাট এলাকা পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, জার্মান সরকারের অর্থায়নে পূর্বে এই এলাকাটির উন্নয়ন ও সন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল, জার্মান সরকারের সাত সদস্যের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত খুলনায় সফর করবেন, যেখানে তারা এই প্রকল্পগুলির সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এর আগের প্রস্তুতি হিসেবে, গতকাল বিকেলে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পরিস্থিতি নিজেই পরিদর্শন করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, সিসিএইউডি, এএমসি প্রকল্পের টীম লিডার মেহেদী হাসান, কেসিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, উপসহকারী প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি। এছাড়া, পরবর্তীতে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রূপসা ঘাটসহ ঘাট সংলগ্ন পোর্টুন ও গ্যাংওয়ের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

  • অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

    অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা: ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রগতি আরও ত্বরাণ্বিত করতে, সরকার এক মহা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে—তুলনামূলক দৃষ্টিতে স্বপ্নের মতো, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো। এই ambitious লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিন ঢাকার সংসদ ভবনে, সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবিএস-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার। তবে সরকারের স্বপ্ন আরও উঁচু লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো শীঘ্রই ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলার আকারে প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও স্পোর্টস ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে, সরকার বিভিন্ন দিক থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি ও প্রবাস অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার।

    সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, মূলত সরকারের লক্ষ্যগুলো হলো- বেকারত্ব কমানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতকে আনকোরা করে তোলা। শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করে, শিল্পের উন্নয়নে উৎসাহ দেওয়া, এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করাও এর অংশ।

    বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এসএমই খাতে, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তাদের আয় করার সামর্থ্য বাড়ছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করতে এবং রপ্তানি পণ্যকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার কাজ চলমান।

    প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগের বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হচ্ছে, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বহু পদক্ষেপের কাজ শুরু হবে। অনেকগুলো উদ্যোগ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো একদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবে, অন্যদিকে ২০৩৪ সালের লক্ষ্যের দিকে একই সাথে ইতিবাচক অগ্রগতি নিশ্চিত করবে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ও ছন্দপতন নেই, কারণ দেশবাসীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য এই মহৎ উদ্যোগ অপ্রতিরোধ্য।

  • সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ১০টি এস আলমের

    সংসদে প্রকাশ শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা, ১০টি এস আলমের

    ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন। এই তালিকার মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকসুলভে রয়েছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম। সোমবার সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের ঋণের মোট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সিকদার গ্র“পের, আর দু’টি সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো শিল্প গোষ্ঠীর। এছাড়া, বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের নামও উঠে এসেছে এই তালিকায়।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি আবার নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আবার কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে এই প্রবৃদ্ধির হার ৩.০৩ শতাংশ, যা আগে প্রত্যাশিত ছিল। এর আগের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩.৩৫ শতাংশের বেশি ছিল। অর্থাৎ, গত দুই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার বেশ কমেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সরবরাহের ব্যাঘাতের কারণে দেশের জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার নেয়া শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, পরিবর্তিত সরকারের সময়েও অর্থনৈতিক সংকটজনিত কারণে উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে, দেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আরও কমতে থাকে।

    বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতে এই হার ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবাখাতে ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৮২ শতাংশ, যা এ সময়ে অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে, কৃষি ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শিল্প খাতের অবদান দেশের জিডিপিতে কেন্দ্রীয় হলেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় পুরো দেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২.০৫ শতাংশে নেমে আসে, তবে প্রথম প্রান্তিকে আবার এটি ৪.৯৬ শতাংশে উঠেছিল। কিন্তু চলতি প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি আবার কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন সম্ভব হয়ে উঠছে না।

  • সোনার দামে বড় দিনবদল, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দামে বড় দিনবদল, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে আবারো বৃদ্ধি পেল সোনার দাম। ব্যতিক্রমী এই পরিবর্তনে ভরির মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মতে, এখন থেকে একটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। এটি জানানো হয় বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে, যা আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, লেনদেনে ব্যবহৃত তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন দামের ফলে, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    এছাড়াও, রুপার দামও বেড়ে গেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে, ২২ ক্যারেটের রুপার দাম এখন হচ্ছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় অর্ধেকে নামল

    বংলাদেশের ব্যাংক খাত ২০২৪ সালে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এবং অভ্যন্তরীণ ঝড়ঝাপের কারণে বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জনে অক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও, বেশকিছু ব্যাংক মুনাফা করলেও তাদের আয় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছেনি। এর ফলে, ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) খাতে ব্যয় কমিয়ে আনতে হয়েছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২% কম। এই কমতি নিয়ে এরই মধ্যে বলাবলি হচ্ছে, গত এক দশকে এটিই সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার মানে, এবার এই খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭%।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩% কম। এর আগের বছর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছর ধরে এই খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় সংকেত।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, তথা সরকারে পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের ঘটনাও প্রকাশিত হতে থাকে। এসব কারণে, মুদ্রিত বা কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পাশাপাশি প্রকৃত আর্থিক চিত্র পুনরায় উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ক্ষতির হিসাব বাইরে উঠে আসে।

    বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়ে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণের অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পরিস্থিতি মোকাবেলায়, সরকার দফায় দফায় ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার অন্যতম কারণ হলো রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন। আগের সময়গুলোতে, রাজনৈতিক সরকারের পাশ থেকে নানা পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত। সেই সময়ে ব্যাংকগুলো অনুরোধের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করত, অনেক সময় প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে। ২০২৪ সালে জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ফলে, এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনাপূর্ণভাবে সিএসআর ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অপপ্রয়োগ হয়, যা মূল উদ্দেশ্য- সামাজিক উন্নয়ন থেকে দুরে সরায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য এবং ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। অবশিষ্ট ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করতে পারলেও, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বরাদ্দ ছিল কম।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে- জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, ছয়টি ব্যাংক এমনও আছে যেখানে মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য

    গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে রাজধানীতে একটি ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে, যা তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির স্বরূপ বলে অভিহিত করেন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য এর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং অতীতের মতো কঠিন পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হবে বিএনপিকে।

    দুপুরের পরে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল করে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেমন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’। সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং গণভোটের পক্ষে সমর্থন দেন।

    এই বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপক্ষো করে গণভোটের রায়ের বিরোধিতা করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে, যদি এই রায় অবিলম্বে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিবাদে অবতীর্ণ হবে সংগঠনগুলো। সম্মেলনে বক্তারা সংবিধান সংস্কারের উপর জোর দেন, যাতে জনগণের ভোটাধিকার ও মতামত নিশ্চিত হয় এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

  • আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    আসিফের হুঁশিয়ারি: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন এবং চেতনা রক্ষা না করা যায়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, জনগণের বিজয়ে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন যখন রক্ষা করতে পারেনি, তখন ৭১ সংঘটিত হয়েছিল। এই ইতিহাস থেকে আমাদের শেখার নিয়মিতই আছে, ভবিষ্যতেও এটি ঘটতে পারে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এই সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি সরকারের গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য দেয়া।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা বারবার বিএনপি নেতাদের সংবিধান বললেও, তারা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারে প্রতিনিয়ত ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকাই উচিত, কিন্তু বর্তমান সরকারের পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে নির্বাহী বিভাগকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি বিরোধী দলের হয়, তবে তাকে অপসারণের ভয় দেখিয়ে ক্ষমতাকে খর্ব করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি সংবিধানবিরোধী।

    অপর দিকে, ফোনে আড়ি পাতার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক এজেন্সির ওপর ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা থাকলেও, আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতাগুলো অনেকটা হ্রাস করে আইনগতভাবে সীমাবদ্ধ করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাতিল করে আবারও অনেক এজেন্সির হাতে আড়ি পাতার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

    এনসিপি নেতারা বলছেন, অতীতে আমরা ফ্যাসিবাদ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণের লক্ষণ স্পষ্ট। যদি গণভোটের রায় মানা না হয়, তাহলে তাদেরকে ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করে দেয়া হবে। তারা উল্লেখ করেন, শুরু থেকে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাপী সংকট মোকাবিলায় সকল শ্রেণি-পেশার সাথে বসে সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য তারা প্রস্তুত।

    তবে, দ্রুত রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত তাদের বিরোধী জোটের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে, কারণ গণভোটের নাটকীয়তা দেখে তারা আর স্থায়ী ধৈর্য্য ধরতে পারছে না। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য ক্ষতিকর বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    জামায়াতের আমিরের হুঁশিয়ারি: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়ব না

    সংসদ সদস্যরা বুঝি না বা মানুক বা না মানুক, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো, কড়া বলে জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল কিছু গুঁড়িয়ে দেয়ার পিছনে হস্তক্ষেপ হয়েছে, যেখানে ৭০ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ সমর্থন দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, তিনি ও তাঁর দল ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থেকে জনগণের লোভ ও সাহসের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় আমরা পালন করবই, সরাবই। এই সংসদ মানুক বা না মানুক, রায়কে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’ অন্যদিকে, সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত জাগপা’র ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন কারা সম্ভব, যদি দলের ভেতরেই গণতন্ত্র ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়। যারা নিজেদের দলের মধ্যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না, তাদের থেকে দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের আশা করা যায় না। যারা নিজ দলের মধ্যে গলাকাটাকাটির রাজনীতি করে, তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না। ’তিনি বলেন, ‘জনগণ ঠিকই বুঝেছে। চব্বিশে (১৯৭১ সালে) জনগণ রায় দিয়েছিল। কিন্তু আজ এর হাইজ্যাক হচ্ছে, ডাকাতি করা হচ্ছে। জনগণের অনুভূতিকে অপমান করা হচ্ছে। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে।’ জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাধারণত ঘুঘু বারবার ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন পরিস্থিতি মন্দ হয় তখন জালে ধরা পড়ে। আপনি জনগণের ধান খান, এবার এর বিচার নিশ্চিত হবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যদি সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝে না বা ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রায় বাস্তবায়ন করা হবে। ‘কেয়ারটেকার’ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিও সেই আন্দোলনের অংশ। তবে সংসদে বিষয়টি নস্যাৎ হওয়ায় এবার জনগণের আস্থা নিয়ে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জ্বালানি সংকটে সাধারণ مردم ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমস্যা বাড়ছে এবং এর প্রভাব কৃষি উৎপাদনে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’ শিক্ষাখাতে এই সংকটের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যাহত হলে ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতি হবে। তাই, শিক্ষা একটি বিকল্প ছাড়া অন্য কিছু ভাবা যাবে না।’ শেখার দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্যরা জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ আরও অনেকে।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী চার দিনের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট, সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক যৌথ বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা ও উপহাস করছে। সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নির্বাচনের আগে দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি হলেও এখন তা ভেঙে পড়েছে। মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে একদলীয় অবস্হা তৈরি করছে এবং জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে সরকার সমালোচনা বরদাশ্তা করছে না। তিনি বললেন, কিন্তু দেশের স্বাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামে একযোগে কাজ করছেন ১১ দল। তারা প্রত্যেকে ঘোষণা করেন, গণভোটের রায় যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়িত হবে। আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ শুরু করবে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল জেলাশহরগুলোতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সেমিনার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিরোধীপক্ষের দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করছে। বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট স্বতঃসিদ্ধ মান্যতা পেয়ে গেছে, এরপরও সংসদে এক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদের কথা বলার অধিকার নেই, আর দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন করছে এমন ব্যক্তিদের রাজাকার ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে সরকার। এ সময় জামায়াতের নেতা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের মুখ্য আরও কিছু কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।