Author: bangladiganta

  • कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    कुछ শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে নতুন একটি বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যা মোকাবেলা করে এ পথে এগিয়ে যাওয়া যায় না।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের উচিত, এই বিভাজন প্রতিরোধ করে একতার মূল মন্ত্রে লিপ্ত হওয়া। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিই হওয়া উচিত আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ উদাহরণ যেখানে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করেন। এই দেশ ইসলাম ধর্মকে সম্মান করে যেমন, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এখানে মিলেমিশে আছে। এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষেরা অতীতে থেকেই একসাথে বসবাস করে আসছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভক্তির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকেই মুক্ত হতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।”

  • এনটিআরসিএ: তিন ব্যাচের নিবন্ধনধারীরা পাবেন বিশেষ নিয়োগ সুবিধা

    এনটিআরসিএ: তিন ব্যাচের নিবন্ধনধারীরা পাবেন বিশেষ নিয়োগ সুবিধা

    ২০তম শিক্ষক নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর একটি বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১৬, ১৭ ও ১৮তম নিবন্ধনধারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে, এর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ৯ম শিক্ষক নিয়োগের পর ২০তম নিবন্ধন শেষ হবে। এর পরে, ১৮, ১৭ এবং ১৬তম নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যারা যোগ্য, তাদের জন্য আলাদা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সিলেবাসের পরিবর্তন বিবেচনায়, এই সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এর জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।

    এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আরো জানান, এই বিশেষ সুযোগের জন্য ১৬, ১৭ ও ১৮তম ব্যাচের নিবন্ধনধারীদের মধ্যে যেসকলের বয়স ও সনদের মেয়াদ কার্যকর রয়েছে, তারাও এই বিজ্ঞপ্তিতে অংশ নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তাদের স্বার্থে নতুন কিছু সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

    লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়ে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে ঘটেছে। আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি এলাকায় বাস করতেন।

    জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি ৮নং ওয়ার্ডের পানিয়ার টারি এলাকার সীমান্তে। বিজিবির সূ্ত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিএসএফ কলোনির কাছাকাছি শূন্য লাইনের কাছে রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পৃথকভাবে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনাটি নিয়ে সকাল 6:35 মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ঘটে।

    বিএসএফের দাবি, ঘটনা শুরু হয় যখন ৭ থেকে ৮ জন বাংলাদেশি সীমান্তের তারকা-বাঁধ কাটার জন্য ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে বিএসএফ সদস্যরা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। এরপর চোরাকারবারিদের সাথে বিএসএফের ধস্তাধস্তি হয়, এবং এই পরিস্থিতিতে বিএসএফ গুলি চালালে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ভারতীয় বিএসএফের হেফাজতে নিয়ে সেখানে চিকিৎসকদের কাছে নেয়া হলে, চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    61 বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান।

  • সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয় মাসের মধ্যে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার বিদ্যালয় ও কলেজে বিনামূল্যে Wi-Fi সংযোগ চালু করা হবে। এছাড়া, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। এই ঘোষণা তিনি আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক স্তরে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ভিত্তিক টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের আধুনিকায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন কারিগরি কোর্সসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে, সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বিভাজন কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অনন্য ‘এডু-আইডি’ চালু করা হবে।

    আইসিটি বিভাগ পরিচালিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস উন্নয়ন, পাইথন প্রোগ্রামিং ও AI-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য শিক্ষাকে জাতির মূল বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন এবং চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের ঘোষণা দেন। এ ধরনের পরিকল্পনা সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিএনপির সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর প্রশ্নের জবাবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সব উপজেলা কেন্দ্রে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারি করতে ইতিবাচক চিন্তা চলছে।

  • আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে সংসদ পাস সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল

    আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে সংসদ পাস সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী বিল

    জাতীয় সংসদে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হওয়ায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া বারোটার দিকে এই বিলটি পাস হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকেটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক আবার শুরু হয়। বিএনপি নির্বাচনের সময় বলেছিল যে, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা পছন্দ নয়; জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকারের গঠনের পর থেকে বিএনপি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়। আজ বিল পাস হওয়ায়, যতদিন পর্যন্ত নির্বাহী আদেশ পাল্টে না নবায়ন হবে, ততদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হয়, যার মধ্যে ৯৮টির সংশোধন না করেই আইনে পরিণত করার উপদেশ দেওয়া হয়। এই বিলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, যা ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে দায়ের হয়। এই ধারাগুলো গত বছর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছাত্রলীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। গত বছরের ৯ মে রাতে, এনসিপি নেতারা তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন দল এ আন্দোলনে যোগ দেয়। ১১ মে রাতে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করে, এর ফলে যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তারা এই কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে। একই দিনে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। যদিও সরকার সরাসরি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি, তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে দলটি মিছিল, সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলীয় কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার, ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবে না। আইন অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব কার্যক্রম চালালে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের শঙ্কা রয়েছে। তবে অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী শাস্তি হবে। ফলে, এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও, সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে শাস্তির বিধান ছিল না। এখন পাস হওয়া এই বিলের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকছে।

  • শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম সংখ্যা ২৮৩৯

    শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা: সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম সংখ্যা ২৮৩৯

    শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে এখনও মোট ২৮৩৯টি গ্রামে কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি শিশুদের অনেকেরই। প্রাথমিক শিক্ষায় উপস্থিতি বাড়াতে এসব গ্রামে গমনোপযোগী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি। এ ছাড়া, সরকারের অর্থায়নে নির্মাণের অপেক্ষায় আরও ৪ হাজার ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন রয়েছে, যেখানে এখনও কংক্রিটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি।

    আজ সংসদে সরকারের দলীয় সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নে উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৭১৭টি, চট্টগ্রামে ৮১৮টি, রাজশাহীতে ৩৫৫টি, রংপুরে ৩৫৫টি, খুলনায় ৩৪১টি, বরিশালে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গঠিত হয়নি।

    এখানে প্রাথমিক শিক্ষায় অপ্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা মোট প্রায় ২৭৬,৫১৩ জন। অর্থাৎ, এই শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

    অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন দেশে মোট ২৪ হাজার ৩২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৯টি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে, যাতে প্রত্যেক শিশুর জন্য উপযুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

  • হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: তিন মাসে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

    হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: তিন মাসে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

    হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে নির্দেশ দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক একটি সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছেন।

    রায়ে আদালত আদেশ করেছেন যে, সরকার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে এবং আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রায়ে পাশাপাশি বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দায়ভার পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে।

    হাইকোর্ট রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনরায় বহাল করে সংশোধিত অনুচ্ছেদগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বিচারপতিগণ উল্লেখ করেছেন, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর নির্দিষ্ট ধারাগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১৯৭২ সালে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে। এই পরিবর্তন ওই রায়ের দিন থেকেই কার্যকর হবে।

    ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানগতকভাবে অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ—কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি এবং শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্যবস্থা—সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বাধীন থাকবে। রায়ে বলা হয়েছে, এসব দায়িত্ব আর রাষ্ট্রপতির নিকট কেন্দ্রীভূত থাকবেনা।

    হাইকোর্ট একই সঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভেবে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

    রিটের পক্ষে যুক্তকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের উপর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিশ্চিত হলো; তা আর রাষ্ট্রপতির ওপর শশস্ত্র থাকবে না।

    বিষয়টির ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য — ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী এ সংক্রান্ত রিট করেছিলেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ২৭ অক্টোবর রুল জারি করেছিলেন এবং রুলে ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের বিধিমালার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে সেগুলো কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বরও একই বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই নির্দেশটি চূড়ান্ত হয়ে আইনগত বিধিবদ্ধ রূপ পাচ্ছে।

  • স্পিকার: আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ

    স্পিকার: আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা সংসদ নয়, রাজপথ

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ — সংসদ নয়। তিনি সংসদে জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং এখানে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা চলছে।

    মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব কথা জানান স্পিকার।

    পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা (সাওদা সুমি) গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম নিন্দা জানান। তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

    এর আগে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ঘটনাটিকে নব্য ফ্যাসিবাদের লক্ষণ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাওদা সুমির সঙ্গে করা নিকৃষ্ট আচরণ ‘‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’’ বহন করছে। তিনি লেখেন, ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়, ফলে তাদেরই কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’’

    ঘটনাচক্র অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে নিজ বাসা থেকে পুলিশ বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করে। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে ‘‘অমানবিক ও অনভিপ্রেত’’ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মওয়াজ্জম হোসাইন হেলাল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’’ থাকার কথা বলেন; কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর রাতে কোনো নারীকে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতারে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং এই কর্মটিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংসদে স্পিকার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এসব সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সরকার বহুদলের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে চলেছে এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচনের আগের ঐকমত্য ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে সরকার একদলীয় ফ্যাসিবাদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনদুর্ভোগ তুলে ধরলে আটক-নির্যাতনের মতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে বন্ধ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল হবে, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বিএনপির কার্যকলাপে জাতি হতবাক ও বিস্মিত বলেও মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন যে গণভোটের রায়ের বিরোধিতা স্বরূপ বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ইতিমধ্যে কার্যত স্থগিত রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংসদে মাত্র এক–দুইজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকটকালের চিত্র তুলে ধরছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় না এবং দিল্লি ও ভারত-বিরোধী অবস্থান গ্রহণকারী সবকেই সরকারি দলের তরফে ‘রাজাকার’ ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে আহ্বান জানান।

    বৈঠক শেষে জোটের নেতারা বলেন, তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গণভোটের রায় এবং সংবিধান সংশোধনের দাবির পক্ষে গণমত গঠন ও চাপ তৈরি করতে চায়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু শত্রুমুখী শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তা রুখে দিতে সবাইকে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সমাজের মূল শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। মানুষকে ঘৃণার বদলে সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমাজ হবে আরও শক্তিশালী। মির্জা ফখরুল আরও সতর্ক করে বলেন, বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা যদি অনুপ্রবেশ করতে দেয়, তাহলে দেশের শান্তি ও ঐক্য ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

    তিনি দেশের বৈচিত্র্য ও সহনশীলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের বাসস্থান—ইসলাম রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সমাজও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকে এখানে সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে।

    মির্জা ফখরুল এমনই বিভাজন তৈরির পুরনো অপচেষ্টা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠনের চেষ্টা করব। সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সেগুলো সফল করতে সবাইকে নিয়ে এগোতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষকে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্ত রাখার বার্তা দেন এবং সমাজে সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান করেন।