Author: bangladiganta

  • অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    অব্যবহৃত সরকারি জমিতে বিনোদনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, নগরবাসী যেন বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারে। তিনি বলেন, খুলনায় বোটানিক্যাল গার্ডেন, খেলার মাঠসহ মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব লক্ষণীয়। অনেক সরকারি জমি বর্তমানে অব্যবহৃত থাকা অবস্থায় সেগুলোকে বিনোদনের অনুকূল পরিবেশে রূপান্তর করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৭নং ঘাট এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, শহরের অভ্যন্তরে ছেলেমেয়েরা, পরিবার ও পর্যটকরা যে মানের বিনোদন ও বিশ্রামের সুযোগ পাক, সেই দিকটি বিবেচনায় রেখে অব্যবহৃত সরকারি জমি কার্যকরভাবে ব্যবহার করার প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ৭নং ঘাট এলাকার পূর্ববর্তী উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় করা হয়েছিল। আগামী ৯ এপ্রিল জার্মান সরকারের সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য ও জার্মান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত খুলনা সফর করার কথা রয়েছে। সফরের সময় তারা জার্মান সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো সরেজমিন দেখতে আসবেন। এ প্রতিনিধিদলের সফরের আগেই প্রকল্প এলাকাগুলোর প্রাক-প্রস্তুতি নিশ্চিতে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেছেন।

    পরিদর্শনে কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, সিসিএইউডি-এএমসি প্রকল্পের টিম লিডার মেহেদী হাসান, কেসিসি’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপসহকারী প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রূপসা ঘাটের পাশাপাশি ঘাট সংলগ্ন পন্টুন ও গ্যাংওয়ের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজের জন্য নির্দেশনা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সুশাসনের মাধ্যমে খুলনাবাসী আরও সুন্দর, নিরাপদ ও সংস্কৃতিবান্ধব বিনোদনালয় পাবে।

  • সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরায় তেল কেলেঙ্কারি: পাম্প থেকেই কালোবাজার, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    সাতক্ষীরা জেলায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল ও অকটেনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অভিযোগ আছে, কিছু অসাধু চালক পাম্প থেকে তেল তোলার পর বাইরের বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন, ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নীতিগত গ্রাহকরা তেল পাননি বা অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নিয়মিত থাকলেও একটি সিন্ডিকেট একাধিক পাম্প থেকে প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করছে। তারা পাম্প থেকে স্বাভাবিক দামে তেল ভরে বাইরে নিয়ে এসে ড্রাম বা বোতলে ঢেলে লিটারে উচ্চ মূল্য ধার্য করে বিক্রি করছে। অভিযোগ অনুযায়ী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ ও কিছু প্রাইভেটকার চালক এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িত।

    সাক্ষ্য ও অভিযোগে বলা হয় তারা পাম্পে রাতক্ষণে বা সরবরাহের আগেই সারিবদ্ধ হয়ে লাগাতার লাইন দিয়ে তেল মজুদ করছে। সকাল বেলা গ্রাহকরা এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। ফলে কর্মজীবী, জরুরি সেবাগ্রহী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। জেলা জুড়ে এ চিত্র বেশ কয়েকটি পাম্পেই লক্ষণীয়।

    স্থানীয়দের ভাষায়, বিভিন্ন উপজেলায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। অনেক চালক এখন যাত্রী পরিবহনের বদলে পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে উপার্জন করছেন। এক ব্যক্তি জানান তিনি একইবারে ৫ লিটার পেট্রোল ক্রয় করেছিলেন ২২০ টাকায়; অন্যদিকে বাজারের কিছু স্থানে লিটারপ্রতি দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে—যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করছেন।

    সাতক্ষীরা শহরের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ জানান, তিনি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে খুলনায় গিয়েছিলেন; চালকের আচরণ ও ফোনালাপে সন্দেহ হয় যে চালক পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এমনই আরো অভিযোগ জেলা জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

    অন্যদিকে লোকজনের উদ্যোগে জনৈক মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার হাব জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন যাতে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে চোরাপথে বিক্রি বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটকে খুঁজে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি আবেদনপত্রে দেশের পর্যাপ্ত মজুদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, তবু একটি চক্র পাম্পের তেল চুরি করে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে সংযোগ করে ফেলেছে এবং এর সঙ্গে পাম্প কর্তৃপক্ষের যোগসূত্রও থাকতে পারে।

    স্থানীয় মানুষের দাবি—পাম্পে তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও একক ক্রেতার জন্য উত্তোলন সীমা নির্ধারণ করা হোক, প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করা হোক এবং অসাধুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট আর বাড়বে।

    জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভাবনীয় নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থাপনা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন বলে এলাকাবাসী মনে করেন। সাধারণ গ্রাহকরা আশা করছেন দ্রুত তদন্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে, যাতে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়ানো ও অতিরিক্ত মূল্যকরণের কারণে ভোগান্তি কমে।

  • মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে প্রশাসনে: ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফিরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের Abril-এ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তখন পুরো দেশের মানুষ তার স্বাস্থ্যের খোঁজে উদ্বিগ্ন ছিলেন; ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার খবর সবাইকে স্বস্তি দিয়েছিল।

    ঠিক এক বছর পর আবার এপ্রিল মাসে তিনি ফিরলেন—but এবার ক্রিকেটার হিসেবে না, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে বোর্ডের সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেওয়া এই দিনটি তামিমের জীবনের জন্যও বিশেষ হয়ে থাকল।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ার হিসেবে প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা তাদের প্রথম কাজ। সেই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা তাদের অনিবার্য কর্তব্য। কথার চেয়ে কাজ করে_result দেখাতে চাই—এটাই তার বার্তা।

    নিয়োজনের পর বিকেল ৪টার পর দায়িত্ব নেওয়ার দু’ঘন্টার মধ্যে বিসিবিতে উপস্থিত হওয়া তামিম বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করে ছোটখাটো বৈঠক করেন এবং অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বোর্ডসভা করেন। দায়িত্ব নেওয়া মুহূর্তটিকে তিনি বিশেষ দিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন; যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে অভিষেকের মতো একটা দিনই হয়।

    তামিম বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে ও আমাদের টিম মিলেই আমরা উপলব্ধি করেছি—প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি ঠিক করা। গত এক-দেড় বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠাই আমাদের অগ্রাধিকার।’’

    তিনি জানান, কমিশনকে দেওয়া দায়িত্বটি তারা সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে শেষ করবেন। ‘‘আমাদের ওপর তিন মাসের মধ্যে ফ্রি‌ এন্ড ফেয়ার ইলেকশন আয়োজনের দায়িত্ব এসেছে; আমরা যত দ্রুত ও দক্ষভাবে পারি, তা করবো। একই সঙ্গে প্রতিদিনের কাজের ধারা মসৃণ রাখা এবং বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বা অন্যান্য খুলে থাকা ইস্যুসমূহ সমাধান করাও আমাদের দায়িত্ব হবে।’’

    নতুন বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম বারবার জোর দিয়ে বলেন, বিসিবি ও দেশের ক্রিকেট ফের গৌরবের জায়গায় ফেরাতে হবে। যারা বিসিবিতে কর্মরত ছিলেন বা আছেন, তারা যেন গর্ব করে বলেন ‘‘আমি বিসিবিতে কাজ করি’’—সেই গর্ব পুনরুদ্ধার করাই লক্ষ্য। ক্রিকেটার ও সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মান জানানোও তার তালিকায় প্রথম সারির কাজ।

    তিনি স্বীকার করেছেন, ভুল হবে, সেটা নিয়েই শেখা দরকার। ‘‘আমরা কাজ দিয়েই প্রমাণ করব—শুধু কথায় নয়। দলের মধ্যে ভুল হলে সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়ে উন্নতি করবো’’—কমিটির মানসিকতা এভাবেই থাকবে বলে জানালেন।

    শেষে তামিম জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস্য তানজিল চৌধুরি-কে বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে; তিনি বিসিবির নানান সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেবেন।

  • তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    তামিম নেতৃত্বের এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ বললেন বুলবুল, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এনএসসির গঠিত ১১ সদস্যের এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) থেকে হস্তক্ষেপ চাইেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি করা হয়েছে এবং সেটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাস্যের বিরুদ্ধে।

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কমিটি শেষ বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও দূর্বলতা খুঁজে পেয়েছে—এই প্রতিবেদনের পর এনএসসি আমিনুল বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ঘোষণা করে। যদিও বুলবুল সেই তদন্ত প্রতিবেদন ও এডহক কমিটি দুটিই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    বুলবুল জানান, তামিম যখন বিসিবির দায়িত্ব নেন, রাতেই ৫ এপ্রিল এনএসসিতে তদন্তপ্রতিবেদনের কাগজ জমা হয়—তৎক্ষণাৎ তিনি প্রতিবেদনকে খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অগোছাল দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালিপূর্ণ ও আইনগত ভিত্তিহীন।

    সাবেক এই অধিনায়কের দাবিতে, গত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করেছে। ওই নির্বাচন কমিশনে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল বলেন, ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলর পদের বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটি আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিসিবির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তদন্ত করার অধিকার এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়—এই বিষয়টিও তিনি উঠে ধরেছেন এবং বলেন, এনএসসির হস্তক্ষেপ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    বুলবুল এনএসসির এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলেও আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেন, এনএসসি নিজেদের গঠন করা এডহক কমিটি সম্পর্কে আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছে। তিনি আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং ওই এডহক কমিটিকে কার্যক্রম চালাতে না দেয়।

    তাঁর সতর্কতায়, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং দেশের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসন ঝুঁকিতে আছে। শেষ পর্যন্ত বুলবুল দাবি করেছেন, উচ্চ আদালত অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে থাকবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত এডহক কমিটির স্বীকৃতি তিনি দেবেন না।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    দীর্ঘদিন ধরে পানমশলা বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত মামলায় শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এবার সালমান খান সাময়িকভাবে রেহাই পেলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাজস্থান হাই কোর্ট ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরার নির্দেশ স্থগিত করেছেন। ফলে ওই নির্দিষ্ট দিনে কমিশনে হাজিরি থেকে তাকে মুক্তি মিলেছে।

    এই বিতর্কের সূচনা করেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে পণ্যগুলোর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছিল — বিজ্ঞাপনে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ বললেও আসলে তেমন নয়, যা ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করে এবং পণ্যটিকে নিরাপদ বলে বোঝাতে পারে।

    যোগেন্দ্রের অভিযোগের ভিত্তিতে বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু পরে জয়পুর ও কোটার মতো শহরে বিলবোর্ড ও অন্যান্য বিজ্ঞাপন ফের দেখা যেতে থাকে, যা দেখে কমিশন মনে করে তাদের আদেশ অমান্য করা হয়েছে। একের পর এক শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় আদালত আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এবার রাজস্থান হাই কোর্টের স্থগিতাদেশে তা সাময়িকভাবে স্থগিত রইল; তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়—মামলার পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী কর্মপন্থা।

    প্রসঙ্গত, সালমান বর্তমানে তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত; শুটিং ইতোমধ্যে শেষ। এ ছবিটির কাজের শুরুতে বিষয়টি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপতার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেপতার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপতার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপতার আদেশ দেন।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেপতার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। শুনানি শেষে আদালত ফাহিমকে গ্রেপতার দেখা দেয় এবং পরে পুলিশ তাকে হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। তাদের হাতে আটক করে শাহ আলী থানার পুলিশকে সোপর্দ করা হলেও পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যা মামলায় গ্রেপতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    পেছনের প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় র্যাব কোয়ার্টারের সামনে এক মিছিল চলাকালীন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাসুদ হোসাইন নামে একজন আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার বুকে ইনফেকশন ধরা পড়ে; চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় অপারেশনও করা হয়।

    গত বছরের ২৪ আগস্টেও আলোচনায় এসেছেRelated ঘটনা—তখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টেলিভিশন মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় গ্রেপতার দেখানো হয়েছিল। সেই সময় থেকেই তরুণ প্রজন্মের স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নাম নানা ধরনের ঘটনায় উঠে এসেছে; বিশেষ করে গত বছরের আন্দোলনকালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিপরীতে তার অবস্থানের জেরেই তার নাম বারবার আলোচনায় এসেছে।

    এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্ত কী রকম অগ্রসর হয়, তার তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আলোকপাত করা হবে।

  • নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় পবিত্র সরকার গ্রেফতার

    নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় পবিত্র সরকার গ্রেফতার

    নগরীতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এক মামলায় পবিত্র কুমার সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গত রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পবিত্র সরকার বটিয়াঘাটা উপজেলার মৃত তারাপদ সরকার পরিবারের সন্তান। তার বিরুদ্ধে বহু গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে।তিনি বিএনপির সমাবেশে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের চক্রান্ত, মাদক চোরাচালান, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং খুলনায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার জন্য অর্থ তহবিল সরবরাহের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সততার সঙ্গে তদন্তে আছেন।

  • দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা হত্যা মামলার মূল আসামি বাকা মাসুদ গ্রেফতার

    দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা হত্যা মামলার মূল আসামি বাকা মাসুদ গ্রেফতার

    দিঘলিয়া উপজেলার যুবদল নেতা মুরাদ খাঁ হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসামি বাকা মাসুদ (৪৪) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছ। সোমবার রাতে তাকে মাগুরা থেকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত বাকা মাসুদ উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বাকা মিয়ার ছেলে।

    র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুরাদ খাঁ রাজ্যের সেনহাটি ইউনিয়নের একজন ক্ষমতাবান যুবদল নেতা ছিলেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, উপজেলার কাঁথির চত্বরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ঘটে।

    এরপর, ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে, মুরাদ খাঁ দোকানে জুতা কেনার জন্য বের হন। ঠিক তখনই, বকা মাসুদসহ চিহ্নিত ১১ জন ও অজানা আরও ১২-১৩ জন ছদ্মবেশে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রডসহ তাকে গতিরোধ করে। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করার জন্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মারা যান বলে ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনার পর থেকে বকা মাসুদ পলাতক ছিলেন। প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-৬ তার অবস্থান নিশ্চিত করে, ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে। এখন তিনি পুলিশের হেফাজত রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

  • খুলনা জেলায় সব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্রশাসন

    খুলনা জেলায় সব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে প্রশাসন

    খুলনার নবাগত জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত গতকাল মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, খুলনা জেলায় প্রকৃত সমস্যা যাই থাকুক না কেন, তার সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়ে বলেন, সমস্যা সমাধানে সকলের মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। এছাড়া তিনি নিশ্চিত করেন, তার দপ্তরসহ সরকারি সব দপ্তর থেকে জনসাধারণের হয়রানিমূলক কোনও কাজ হওয়া চলবে না। জনকল্যাণে কাজ করার জন্য গঠিত এই দপ্তরগুলো সম্পূর্ণ নিজস্ব দায়বদ্ধতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম টুটুল, নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মিজানুর রহমান মিল্টন, আশরাফুল ইসলাম নূর, পাশাপাশি মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানাসহ অনেক সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকলের সহযোগিতায় খুলনার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।

  • সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই বললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলছে

    সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই বললেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলছে

    সাতক্ষীরা জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকাকেও দেখা যাচ্ছে না এর উপযুক্ত সরবরাহ ও পৌঁছানোর সুবিধা। ফলে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, একত্রিত কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বা চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা বাইরে উচ্চ দামে বিক্রি করছে, বিধায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ গোটা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ হলেও কিছু চক্র এসব পাম্প থেকে অনেক বেশি পরিমাণে তেল সংগ্রহ করে থাকে। তারা স্বাভাবিক দামে তেল কিনে বাইরে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করছে। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের একটি বড় অংশ এই দপ্তর কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও কিছু প্রাইভেটকার চালকও অবৈধ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে বাইরে থেকেও ড্রাম বা বোতলে করে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছে। কোথাও কোথাও এ তেল ৩০০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে না পারায় অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে অধিক দামে তেল কিনছেন।

    সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ হাজারের বেশি ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এদের অনেকেই এখন গতিশীল পরিবহনের পরিবর্তে তেল বিক্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যা বা আগের দিন রাত থেকে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে, পরের দিন তা বাইরে বিক্রি করছে। এতে করে লাইন আর দীর্ঘ হচ্ছে, এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য তেল প্রাপ্তি অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্মজীবী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে যারা যানবাহন ব্যবহার করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘণ্টাকরণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে।

    আশাশুনির বড়দল এলাকার আলি হোসেন বলছেন, পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের কারণে কাছাকাছি জায়গায় তেল পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ৫ লিটার পেট্রোল ২২০ টাকায় কিনেছেন, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা লিটারে।

    সাতক্ষীরা শহরের একজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আব্দুস সামাদ বলেন, কিছুদিন আগে তিনি খুলনায় একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন। ওই গাড়ির চালক সমানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে কিছু অংশ বাইরে বিক্রি করছিল। বলতে গেলে, এই ব্যবসায় জড়িত চালকরা পাম্প থেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে বলে মনে হয়েছে।

    অন্যদিকে, জেলা পেট্রোলপাম্পের কিছু ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল সরবরাহ থাকলেও চোরাকারবারি ও সিন্ডিকেটের কারণে খোলাবাজারে তেল কঠোরভাবে বিক্রি হচ্ছে। এরা পাম্পের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে অকারণে তেল মজুদ করে রাখে বা অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দেয়। এতে দেখা যাচ্ছে, অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে অন্যথায় খোলা বাজার থেকে অধিক মূল্যে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন একই সময়ে জেলাজুড়ে সব পাম্পে একযোগে তেল সরবরাহ করলে দীর্ঘ লাইনের সমস্যাও কমে আসবে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করে ওই অসাধু ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও পাম্প কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা। সাধারণ জনগণের দাবি, প্রয়োজনীয়তামাত্রা ও ভোক্তার স্বার্থে তেল বিক্রিতে কড়া নজরদারি, সীমিত উত্তোলন এবং দোষীদের ধরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক; অন্যথায় কৃত্রিম সংকটের চক্র দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।