Author: bangladiganta

  • চাঁদাবাজ-মুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল

    চাঁদাবাজ-মুক্ত খুলনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন রকিবুল ইসলাম বকুল

    খুলনা-৩ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, সাধারণ মানুষের ভোটে তিনি নির্বাচিত হলে খুলনার কোনো জায়গায় চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না। বুধবার বিকেলে পাবলা সবুজ সংঘ মাঠে এক পথসভায় বকুল এই প্রতিশ্রুতি দেন।

    বক্তব্যে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে খুলনাবাসী নানা আঙ্গিকে শোষণ ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে; ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেননি, জনজীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বদলাতে এবং শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে তিনি চাঁদাবাজদের সুরক্ষা দেওয়া কোনো অভিযোগই মেনে নেবেন না এবং চাহিদা হলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ কঠোরতা নিয়ে সিন্ডিকেট ভাঙার কাজ করবেন।

    বকুল আরও জানান, তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের আমানত পেলে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত খুলনা উপহার দেবেন। তিনি বললেন, ‘‘ধানের শীষ শান্তির প্রতীক; এই প্রতীক যদি জয়ী হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরে আসবে।’’

    পাঠসভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবলা সবুজ সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সবুজ সাথী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে বকুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সমাজসেবক ও রাজনীতিক মুশাররফ হোসেন, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির এবং পাবলা সবুজ সংঘের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া খুলনা মহানগর জাসাসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু ও পাবলা সবুজ সংঘ মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ.এ. রহিম উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন মোঃ মতলেবুর রহমান, মিতুল, প্রফেসর সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, শেখ আনসার আলীসহ দৌলতপুর থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

    রকিবুল ইসলাম বকুল জনসভায় দাবি করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী খুলনার সম্পদ লুটে নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে ভীতি দেখিয়ে শাসন করছে—এই অবৈধ শাসনই তিনি ভেঙে দেবে। তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয় যুক্ত করুন যাতে তিনি শান্তি ও উন্নয়নের কাজ দ্রুততর করতে পারেন।

  • ওশিওয়ায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    ওশিওয়ায় গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কামাল আর খান গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গুলি চালানোর অভিযোগে বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান (কেআরকে)কে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আদালতে পেশ করা হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই এলাকায় চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও অন্যান্য প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কেআরকে-কে হেফাজতে নেয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল। তবে কেআরকে বলেছেন, কেউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তিনি দাবি করেছেন যে বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য বাড়ির সামনেই থাকা ম্যানগ্রোভ বা বনাঞ্চলের দিকে লক্ষ্য রেখেই গুলি করেছিলেন। তার কথায়, বাতাসের দিকবদলের কারণে গুলিগুলো ভ্রান্ত পথে চলে গিয়ে পাশের আবাসিক ভবনকে আঘাত করেছে।

    পুলিশ জানান যে তারা এখনও ঘটনার ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে — সিসিটিভি বিশ্লেষণ, বলিস্টিক পরীক্ষাসহ আরও কাগজপত্র ও সাক্ষ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালত তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনানুগ ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে।

    কামাল আর খানকে বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করা হয়। ২০২২ সালে তিনি এক যৌন হেনস্তার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যম ও টিভিতে তার কটাক্ষাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে চলমান গুলিকাণ্ডের মামলায় তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

  • ঢালিউডের ‘ডান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ডান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের স্বতন্ত্র নৃত্যশিল্পী ও প্রথিতযশা অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে আজ সোমবার বেলা সওয়া এগারোটার দিকে তিনি প্রয়াত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮২ বছর। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশভুক্ত পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি; পরে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলে, এক পর্যায়ে ভাগ্য তাকে ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে টেনে আনে।

    জানা গেছে, বেশ কিছু বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল; হাসপাতালের চিকিৎসক ও দুই নার্স নিয়মিত তাকে দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে দুজন নার্স এসে বলেন তার শরীর শীতল এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন— এমনটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী।

    অভিনয়ে তার শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’-র মাধ্যমে। এরপর ১৯৬৬ সালে পরিচালক মুস্তাফিজের ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি নায়িকা শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে বড় পর্দায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন; এ সময়ই মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করান।

    নৃত্য পরিচালনা থেকেই ক্যারিয়ার শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নায়ক হিসেবে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নেন। একাধিক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে ৭০ ও ৮০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে তিনি দর্শকদের কাছে ‘ডান্সিং হিরো’ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। অভিনয়জীবনে তিনি শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেছেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    ইলিয়াস জাভেদ অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বanu, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো—নাচ আর একশনকে মিশিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা এক শিল্পীর বিদায়। শোকসংবেদনায় পরিবারের প্রতি দর্শক ও সহকর্মীদের সহমর্মিতা রইল।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং তা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে; সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি সর্বসাধারণকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মাঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার সমর্থক।

    সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব টিকিয়ে রাখতে এবং সেচের আওতা বাড়াতে তিনি প্রথম দিকে থমকে থাকা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি গলায় কষ্ট নিয়ে বলেন, পদ্মা নদী কেন্দ্রিক যে বিশাল সেচ প্রকল্পটির নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, সেটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি আজ প্রায় বন্ধপ্রায়। আমাদের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ওই প্রকল্পকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা—এটাই তার প্রকল্পের প্রধান অঙ্গ।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, সেচ ব্যবস্থা কেবল রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে উপরের পঞ্চগড় পর্যন্ত সেচের পানি পৌঁছানো হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, কৃষক হাসলেই দেশের উন্নয়ন হবে—এ কথাই তিনি বারবার উদ্ধৃত করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। ক্ষমতায় এলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় কমে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের আশ্বাস দেন, যা নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে উন্নত হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী-শক্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন; এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং স্বনির্ভর হবেন।

    ২২ বছর পর সরাসরি রাজশাহীতে উপস্থিত হয়ে জনসভায় তারেক রহমানের আগমন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়ন ও নির্বাচনী বার্তাগুলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি পুনরায় বন্ধ্যা করে বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, এটা উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন, যা শহরকে কার্যত অচল করে দেয়। জনতার এই প্রভাব ও মহত্ত্বের মাঝেই তারেক রহমান নির্বাচনী লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।

  • নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একটি দল নির্বিচারে সারা দেশে মামলা দিচ্ছে, মামলা-বাণিজ্য করছে এবং জনকে প্রতারণার শিকার করছে।’ তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমগ্নলে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন। ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন ৩১ দফার কথা — তারা ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে কেউ প্রতারিত হবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচারের জন্য রাজনৈতিক মামলা ব্যবহার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরকার বাংলাদেশ নতুন হবে। ৫ আগস্টের আগে কী পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি; আর এমন পরিস্থিতি আর চাই না। আইন-শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যারা নির্দোষ তাদের হয়রানি করা হবে না।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে; তারা জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারি কোথাও হত্যা করেছে—এমন জঘন্য ঘটনায় ১১ দলীয় জোট সহ্য করবে না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’

    তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। ‘তারা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট তা মেনে নিবে না,’ নাহিদ বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করবে।

    আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘এ আসনে আমরা প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজার-৪ আসনকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলে জেলও কেটেছেন।’ তিনি প্রীতমকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা পাক, বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হোক। ১১ দলীয় জোট মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা ফল পাবই, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি জানান, এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা মৌলভীবাজার-৪ থেকেই শুরু হয়েছে।

    নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশ ও আরও অনেকে।

  • তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    তৃতীয় দফায় বাড়ল আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় — নতুন সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এটি আয়ের কর রিটার্ন দাখিলের তৃতীয় দফার সময় বাড়ানো। একইসঙ্গে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হওয়া করদাতারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মো. একরামুল হকের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী জনস্বার্থে এবং সরকারের অনুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ৩১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হলো।

    অন্য একটি বিশেষ আদেশে (এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত) আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী লাইনে থাকা বেশিরভাগ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৫ এর ক্রমিক নং-১ এ যেসব করদাতার নাম উল্লেখ রয়েছে তারা এ থেকে ব্যতিরেকে থাকতে পারে।

    ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা ফাইলিংয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট করদাতা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যথাযথ কারণ দেখিয়ে উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পেলে তারা কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের অনুমতি পাবেন।

    এনবিআরের তথ্যমতে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন; এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা ইতোমধ্যেই তাদের রিটার্ন দাখিল করেছেন।

    আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চলতি বছরে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে দুই দফায় মোট দুই মাস সময় বাড়ানোর পরে এবার তৃতীয় দফায় আরও এক মাস সময় নির্ধারণ করা হলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলেই করদাতাদের জরিমানা কর এবং সরকারি কর রেয়াত বা রিবেট সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

    এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি ও সরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততাকে বিবেচনা করে দ্রুতকরণের চাপ না দিয়ে নিশ্চিত, সঠিক ও শান্ত পরিবেশে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার জন্য সময় বাড়ানো হয়েছে। করদাতাদের জন্য পরামর্শ—সম্ভব হলে এখনই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন সম্পন্ন করুন; সমস্যা হলে সময়মতো সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করুন।

  • এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    এক লাফে ভরি ১৬ হাজার বাড়লো সোনা; ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ছাড়াল

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার নয়, বৃহস্প‌তিবার (২৯ জানুয়ারি) সংগঠন জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকায় পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিউর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ায় স্থানীয় বাজারের দামও বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার তথ্যও সংগঠন তুলে ধরেছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫৫০ ডলার অতিক্রম করেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে বিভিন্ন গুণমানের প্রতি ভরির দাম হচ্ছে— ২২ ক্যারেটের মূল্য ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা; ২১ ক্যারেট ৮ হাজার ১৬৪ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণার পরে গ্রাহক ও জুয়েলারিদের মধ্যে সর্তকতা বেড়েছে; যারা সোনা-রুপা কেনার বা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তারা স্থানীয় ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ দাম নিশ্চিত করে নেবেন বলে বাজার সূত্রে জানিয়েছে।

  • মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    মালয়েশিয়ায় নিপাহ সতর্কতা: ভারত–বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু

    প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করেছে। এবার লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আগত যাত্রীদের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার মাপার যন্ত্র সচল করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের মধ্যে জ্বর—নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ—দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আগত যাত্রীদের উপর লক্ষ্যভিত্তিক স্ক্রিনিং চালানো হবে। তবে এই যাত্রীদের জন্য আলাদা কোনো প্রবেশপথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে দেখা যায় বা নিপাহ-সংশ্লিষ্ট কোনো উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ বলেন, এই ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ঝুঁকি পর্যালোচনাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাচ্ছি, যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’

    মালয়েশিয়ার এই উদ্যোগটি ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দরগুলোতে অনুরূপ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগও দেশজোড়া প্রবেশপথে উচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরান: মার্কিন হামলা হলে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত — আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিকূল পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালী জবাব দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় সামরিক হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

    আরাগচি বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে—আমাদের প্রিয় ভূমি, আকাশ ও সাগরের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।”

    তিনি আরো বলেছেন, গত বছরের সংঘটিত সামরিক ঘটনার অভিজ্ঞতা ইরানকে মূল্যবান শিক্ষা দিয়েছে এবং তা তাদের প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বাড়িয়েছে। “১২ দিনের যুদ্ধে শেখা শিক্ষাগুলো আমাদের আরো শক্তিশালী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা দিয়েছে,” যুক্ত করেছেন আরাগচি।

    ট্রাম্পও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারো ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কণ্ঠে সতর্ক করে লিখেছেন, “ইরানের দিকে একটি বিশাল নৌবহর যাচ্ছে। এটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার মিশন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত, প্রয়োজন হলে জোর ও সহিংসতা ব্যবহার করে।” তিনি আরও বলেছেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসবে এবং একটি ন্যায্য চুক্তি করবে—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। সময় কমে আসছে।”

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের মোতায়েন মূলত শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানকে আলোচনায় আনার কৌশল। কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদনান হায়াজনে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে—যদি তোমরা আমাদের চাওয়া অনুসরণ না করো, ক্ষমতায় জোর প্রদর্শন করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক পক্ষের আবেদন হয়তো কৌশলগত সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলবে না।

    ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে হুমকির পরিবেশে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। আরাগচি বলেছেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট: হুমকির সঙ্গে আলোচনা যায় না। আলোচনার সময়ই সম্ভব যখন আর কোনো হুমকি বা অতিরিক্ত দাবি থাকবে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান সবসময়ই পারস্পরিকভাবে উপকারি ও ন্যায়সঙ্গত পারমাণবিক চুক্তি স্বাগত জানাবে, যা শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি নিশ্চিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিরোধ করে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতিও তীব্র হচ্ছে। হার্মুজ প্রণালী এলাকায় তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী কার্যক্রম বাড়ছে এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করেছে যে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি মার্কিন হামলায় তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে, তাহলে তাকে “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুইপক্ষের সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন অস্থিতিশীলতার চক্র সৃষ্টি না হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংকট এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও সামরিকভাবে এখনো তৎপরতা কৌশলের অংশে রয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা না গেলে অচিরেই আরও তীব্র উত্তেজনার মুখোমুখি হতে পারে—এটাই বিন্দুমাত্র কম নয় বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    চিতলমারীতে স্বপদে বহালের দাবিতে মানববন্ধনে হামলা, আহত ৫

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার থানা রোডে শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে; এতে কমপক্ষে পাঁচ জন আহত হয়েছেন। মানববন্ধন শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে প্রতিপক্ষের কিছু লোক উপস্থিত সভা-সমাবেশে আগ্রাসীভাবে ঢুকে পড়ে এবং নারী-পুরুষভাবে অংশ নেওয়া অচলাদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে দ্রুত উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    আহতদের মধ্যে রয়েছেন শীতল মন্ডল (৬২), সুরেন মজুমদার (৬৫), হাসিবুল বিশ্বাস (৫০), জানজার শেখ (৪৫) এবং একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারী। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা স্থানীয়ভাবে প্রদান করা হয়েছে।

    পরে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মমিনুল হক টুলু বিশ্বাসকে দলীয় নীতিমালা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে বহিস্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থানা রোডে টুলু বিশ্বাসের স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন করেন।

    আহতরা বলেন, টুলু বিশ্বাস বিএনপিতে নিবেদিতপ্রাণ; গতিতে ৩৫ বছর ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় তিনি নানা হয়রানি ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা দাবি করেন, দলের সুদিনের সময়ে কেন তাকে বহিস্কার করা হলো তা তারা জানেন না এবং দলের অভিভাবক সরোণ বা তারেক রহমানের কাছে পুনর্বহালের অনুরোধ জানিয়েছেন।

    বহিস্কৃত নেতা মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, ‘‘যারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভ্রান্ত করে আমাকে বহিস্কার করেছে, তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়েছি। আমার বিচার করার দায়িত্ব আমি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছি; আশা করি দল আমার প্রতি অন্যায় কাজ করবে না।’’

    চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, উপজেলা বিএনপির কোনো নেতাকর্মি মানববন্ধনে হামলার সঙ্গে জড়িত নয়; তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিল; বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেনও বলেন, সেখানে কিছু হাতে-হাতি ঘটা ছুঁইছুঁই ঘটনা হয়েছে, যা মিলিতভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে।