Author: bangladiganta

  • রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একমুখী, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। এই মন্তব্যটি আসে তখনই যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার কথা বলা, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবাদ ছড়ানো এবং ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের বক্তব্য এবং একটি একতরফা, উসকানিমূলক হামলার কৌশল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই নীতিই পুনরায় ফলপ্রসু হচ্ছে না।

    জাখারোভা বলেন, শুরু থেকেই মস্কো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বিষয়টির একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিয়েছে। রাশিয়ার অবস্থান হচ্ছে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

    রেলিজিয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশঃ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সংঘর্ষে ইরানে এক হাজার ৩৪০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে তখনকার শীর্ষ নেতারও উল্লেখ আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জবাবে ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুগুলোকে প্রতিহত করতে জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিক প্রচেষ্টার ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট থেকে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বোমা বর্ষণে হাজারো সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। শতাধিক বিমান হামলায় বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    আইআরজিসি-র ওই সতর্কবার্তা ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে, আমরা এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেব।”

    লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, তারা আজ পর্যন্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছে—যদি ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের পরিকল্পিত আলোচনা তারা বাতিল ভাববে এবং তাতে অংশগ্রহণ করবে না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানী কর্মকর্তাও আলজাজিরার কাছে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে তেহরান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতিটি পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রযোজ্য। ইসরায়েল বরাবরই কথা ভঙ্গে পরিচিত; তাদের প্রতিহত করতে শুধুমাত্র কথাবার্তা যথেষ্ট নয়।”

    একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদটি বলেছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে এবং আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    এই উত্তেজনার প্রভাব সামুদ্রিক পথে দেখা গেছে—বহু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতিতে দুটি ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করলেও পরে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটেও চোখ রাখতে হবে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা আঘাত হানে; এরপর ইরানের পক্ষে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহই ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননে প্রতিক্রিয়ায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। কয়েকদিন আগে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে একসঙ্গে শতাধিক বিমান হামলারও ঘটনা ঘটে, যার ফল স্বরূপ ব্যাপক প্রাণহানি ও আহতের খবর পাওয়া গেছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেয়াব গালান্ট–কাটজ (Israel Katz) বলেছে, তাদের সামরিক বাহিনী লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অবস্থানগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহ নেতৃবৃন্দকে কড়া শব্দে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-সমর্থক ও লেবাননের কর্মকর্তারা বেসামরিক জনগণের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নয় এমন আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং হাসপাতালে মৃত ও আহত মানুষের উপসাগর ভরা বলেও জানানো হয়েছে।

    দীর্ঘ ৩৯ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলা হয়; ইরান ১০ দফার শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করার কথাও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে—কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন, লেবানন এখানে অন্তর্ভুক্ত নয়।

    মানবিক তথা কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে—লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে মিত্র ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক আজ বুধবার (০৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস আয়োজন করা এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য। শহরের বড় সমস্যা হিসেবে তিনি জলাবদ্ধতা কমানো ও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের ওপর জোর দেন। বস্তি উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    প্রশাসক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শুধু সভা-সেমিনার করলেই হবে না; প্রতিটি স্তরে বাস্তব কাজ করতে হবে। শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ চলমান আছে। সাইক্লোন ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি খুলনার সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান।

    গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুয়েটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও সভায় বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) বিষয়ে নীতি ও পরিকল্পনায় গুরুত্ব থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। এই গোলটেবিলের উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করা এবং বাস্তুচ্যুতদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও কার্যক্রম বাড়ানোর উপায় নির্ধারণ করা। এছাড়া জাতীয় و আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, DRR-CCA-Social Protection সমন্বয় বাড়ানোর পথ খোঁজা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের জন্য সুপারিশমালা তৈরি করাও এ বৈঠকের লক্ষ্য ছিল।

    বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি ও কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব সমস্যা, नीति বাঞ্চিত সমন্বয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য পন্থাসমূহ নিয়ে তীব্র আলোচনা করেন।

  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল মাসের ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এবছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তাদের বাস্তব আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারছেন না।

    রিপোর্টে poverty লাইন হিসেবে ধরা হয়েছে কর্মক্ষম ব্যক্তির দৈনিক আয় তিন ডলারের কম হলে তাকে দরিদ্র ধরা হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই বৃদ্ধি সরাসরি লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর اثر ফেলেছে। ওই সময়কালে আনুমানিক অতিরিক্ত মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পড়েছেন।

    বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ না থাকলে চলতি বছরে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বাইরে আসার আশা ছিল। কিন্তু সংঘটিত পরিস্থিতির কারণে এখন কেবলমাত্র প্রায় ৫ লাখ মানুষই সীমার ওপরে উঠতে পারছেন। এর ফল হিসেবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ধরা পড়ছেন—এই হিসাব রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।

    রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চাপের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের বাস্তব মজুরি কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ধীর গতি—এসবই দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল হচ্ছে না এবং কিছু আন্তর্জাতিক নীতিমালার পাল্টা প্রভাবের ফলে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হচ্ছে—এ পরিস্থিতি কাটাতে বিনিয়োগ-আকর্ষণ সহজ করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি, যদিও বাস্তবায়ন কঠিন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিবেচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেয়াও দরকার।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব অন্তত ছয়টি মূল খাতে পড়তে পারে—হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া, আমদানি-রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি-পরিবহন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়া। এসবের সমন্বয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে, এসব প্রভাবে গিনি সূচক ২০২৬ সালে প্রায় ০.২ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—অর্থাৎ বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

    বিশ্বব্যাংক ও প্রতিবেদকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নীতিগত কর্মপরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদি সোশ্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রসার জরুরি যাতে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা যায় এবং দারিদ্র্য পুনরায় বাড়ার ধারা মেনে করা যায় না।

  • বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এনএসসি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল। তবে বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি)-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

    বুলবুল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সরকারিভাবে হস্তক্ষেপ করে তার পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনি চান আইসিসি যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ও ওই কমিটিকে কাজ করতে না দেয়। তিনি জানাচ্ছেন, তামিম যখন দায়িত্ব নেন, তখনই তিনি এনএসসিতে জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    তদন্তে অংশ নেয়া পাঁচ সদস্যের কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া নির্বাচনে একগাদা নিয়মবিরতি, কারচুপির চেষ্টা ও বিভিন্ন দুর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। কিন্তু বুলবুল তার বক্তব্যে বলছেন, ওই নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অব্যাহতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    বুলবুলের মতে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। গত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছিলেন — সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। তিনি দাবি করেন, তামিম ও ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোই তখন আধা-বিচারিক পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়েছিল।

    বুলবুল আরও বলেন, কিছু সাবেক ক্রিকেটার বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই ‘নির্বাচন ফিক্সিং’ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এনএসসির হাতে এমন ধরনের তদন্ত করার বা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—বিসিবি—ভেঙে দেওয়ার আইনি এবং নির্দেশিকার এখতিয়ার আছে কি না।

    বুলবুল আইসিসির নিয়মাক্রমের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—আইসিসি কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ সহ্য করে না। তাই তিনি এই ঘটনার উপরকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, এনএসসির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাবলিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছে।

    এনএসসি বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠনের খবর আইসিসিকে ইমেইল করে জানানো হলেও, বুলবুল তা ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এডহক কমিটিকে বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী ও সরকারি হস্তক্ষেপজনিত বলে অভিহিত করে ‘ভুয়া সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

    বুলবুল আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং মুলতুবি না দিয়ে এডহক কমিটিকে স্বীকৃতি না দেয়। এ পরিস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। সমাপ্তিতে বুলবুল আবারও বলেন, হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হবেন।

  • খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার দুপুরে খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন মুসলিম হিসেবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, কারণ ধর্মীয় শিক্ষাই তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

    মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে—এমনটাই তার আহ্বান। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাদানে আরও আন্তরিক হলে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে আরও বেশি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে।

    মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণির ৯জন এবং অষ্টম শ্রেণির ২জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্ট পুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে, যাদের মধ্যে কৃতি শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

    প্রশাসক নিজে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমনও সেই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে-magistrate তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    পূর্বে রোববার (২৯ মার্চ) বিকাল চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। পরে তারা তাকে শাহআলি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে; পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে এক মিছিলে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাসুদ হোসাইন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন; পরে বুকে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে অপারেশনও করতে হয়।

    এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টেলিভিশনের এক প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদের বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই ঘটনায় এবং চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও বারবার আলোচনায় উঠে আসে। তদন্তমুখী ধারায় তার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় προσωριν রেহাই পেলেন নায়ক সালমান খান। অনুপস্থিতির কারণে একাধিক শুনানির পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এবার রাজস্থান হাই কোর্ট ওই আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ পালন করতে এখন তার বাধ্যবাধকতা নেই।

    অভিযোগকারী যোগেন্দ্র সিংহ বদিয়াল দোষিয়ার করেছেন যে সালমান একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন, যেখানে পণ্যটি ‘জাফরান বা এলাচ মিশ্রিত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা বাস্তবসঙ্গত নয়—এতে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    তবু পরে জয়পুর ও কোটার মতো শহরে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন দেখা যাওয়ায় কমিশন মনে করে তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে। অনুপস্থিত থাকার কারণে সালমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আদালতে আপিল করে তিনি সাময়িকভাবে রেহাই পেয়েছেন।

    ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে সালমান তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত; শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই ছবির প্রাথমিক শিরোনাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’।

  • জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতীয় সংসদ ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করে বিল পাস করেছে। এ নিয়ে শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সভাপতি থাকায় রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অধ্যাদেশ আকারে জারি হওয়া নীতিটির বিলীতে রূপান্তর এভাবেই সম্পন্ন হলো।

    বিলটির কারণবিহিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ২০০৯ সালে গেজেট আকারে জারি করা ওই আইন ও পরে ২৫ মে ২০১৫ সালে প্রদত্ত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ধরনের একতরফা রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানকে বিবৃতিতে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তা দূর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশকে এখন সংসদ স্থায়ী বিল আকারে অনুমোদন করেছে।

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিল পাসের মাধ্যমে ওই আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিশেষ সুবিধাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল।

  • সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগন্যভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন এটি শুধু একক কোনো সংস্থার নয়, দেশের সংবিধান-প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের ইঙ্গিত।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

    হাসনাত বলেন, বলাবলি করা হচ্ছে যে বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’—এর মতো পর্যায়বোধগুলো আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমগুলোকেও একই চিমটে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ-মূলক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য করা হলেও আইন প্রয়োগে তা অস্পষ্টভাবে দেখানো যেতে পারে।

    তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ধারা আছে—সেগুলোকে কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এই দায়িত্ব পড়বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। চাকরিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

    হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ওই কমিশনের উপর যে অধ্যাদেশ বা বিধান রয়েছে সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব চলছে। যদি কমিশন ২০০৯ সালের মডেলে ফের ফিরে যায়, তাহলে সেটি কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে—এমনকি বিরোধী দল কিংবা অনুচিত মতকে দমনের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বললেন, এর ফলে ভিকটিম ব্লেমিং, গুম বা হত্যার ‘বৈধতা’ তৈরির মতো অনুচিত ব্যবহারও সম্ভব।

    তিনি বলেন, যদি আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি—বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের—তাহলে যে অনুসন্ধানগুলো পরিচালিত হবে সেগুলো নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহিত। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা দরকার।

    একদিকে তিনি জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চায়—তাকে তারা নিরাপদ মনে করে। অন্যদিকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই অজুহাতে যদি কমিশন অটোনমাস করা হয়, তাহলে তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?’—এমন দ্ব্যর্থহীন প্রশ্নও উত্থাপিত হয়।

    শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বাস্তবে যদি আমরা এখনকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আবার দেখতে পারি বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া’ কমিশন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংকগুলোর দলীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতি সেই একপক্ষীয় দলীয়করণ। তাই বিল পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা কঠোরভাবে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।