Author: bangladiganta

  • বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে দুটি বিল পাস

    বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে দুটি বিল পাস

    আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন লাভ করে। প্রথমটি হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬, যা বিরোধীদলের প্রতিবাদের মুখে কণ্ঠভোটে পাস হয়। তা উত্থাপনের সময়, এনসিপির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কড়া আপত্তি তুলতে গেলে, সভায় উপস্থিত সদস্যরা তা নাকচ করে দেন। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালে প্রণীত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইনটি পুনরুদ্ধার হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন বিরুদ্ধে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারির কোনও অধ্যাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করেন।

    নছিলেন বিশেষজ্ঞরা অনেকের মতে, এ বিলটি পাসের ফলস্বরূপ মানবাধিকার সংস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং এটি রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, ২০০৯ সালে তৈরি এই আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মানবাধিকারের স্বার্থে নয়, বরং সরকারের মতপ্রতিষ্ঠা ও বিরোধী দল দমন করার জন্য তৈরি হয়েছিল। তিনি মনে করেন, এই বিলের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হবে এবং সরকার বাহিনী ও বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড আরও স্বচ্ছতার অভাবে পরিচালিত হতে পারে।

    তাঁর আরো ব্যাখ্যায়, এই বিলের ফলে মানবাধিকার কমিশনকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আইনটির ভেতরে মূলত সরকারি দপ্তর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই ছিল, যেখানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা থাকতেন। এছাড়া, বিভিন্ন বাহিনী ও শক্তিশালী সংস্থার বিরোধী তদন্তে বাধা দেওয়া কিংবা তাদের ওপর নির্ভরতা থাকছে। এই পরিস্থিতিতে, বর্তমান সংসদে এই বিল পাসের সিদ্ধান্ত বাস্তব বিপদের ঝুঁকি বাড়ায়।

    বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই বিতর্কিত বিষয়ের ওপর আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, অতীতের সংসদে এই ধরনের বিষয়গুলোতে খুব কম সময় দেওয়া হত, তাই তিনি প্রস্তাব করেন সময়ের সীমাবদ্ধতা না রেখে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার।

    শেষমেশ, হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যদি এই বিলটি ২০২৪ সালের মে মাসে উত্থাপিত হতো, তাহলে কোনও সদস্যই এর বিরোধিতা করতেন না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি জানান, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সময়ে এই বিলের বিরোধিতা ছিল না, কিন্তু বর্তমানে নম্বর বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, এই সংসদে এই বিল অবশ্যই পাস হবে।

    আরেকদিকে, বিরোধীপক্ষের আপত্তির মুখে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণের) বিল-২০২৬ও আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই দুটি বিল পাসের ফলে সরকারের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্লেষকরা।

  • অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় ফয়সাল করিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    ঢাকার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফয়সাল করিমকে অস্ত্র আইনের মামলায় দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই আসামি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন। রায়ের সময় ফয়সাল করিম পলাতক ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র‌্যাব-২ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান পায়। অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টার সময় ফয়সাল করিমকে আটক করা হয়। তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চার রাউন্ড গুলি, বিদেশি পিস্তল ও আলামত উদ্ধার করা হয়।

    এরপর পরদিন আদাবর থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব হাবিলদার মশিউর রহমান। মামলার অভিযোগে জানা যায়, ফয়সাল করিম এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও জমি দখলকারি। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি সংঘবদ্ধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, খুন-খ dest, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি অবৈধ অস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

    তদন্তের পর, গত বছরের ২৮ মার্চ, আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার চলাকালে ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

    ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফয়সাল করিম জামিনে ছিলেন। এরপর ওসমান হাদি হত্যা মামলার ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে গোপন সূত্রে জানা গেছে, তিনি গত মাসে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছ।

  • গণপরিবহনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভাড়া দেখা যাবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

    গণপরিবহনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ভাড়া দেখা যাবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, গণপরিবহনের ভিতরে ডাইরেক্টলি ভাড়া দেখানোর জন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিকল্পনা জানান।

    সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী দেশের প্রতিটি মহানগর, বিভাগ ও জেলায় একটা করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি তাদের এলাকার রাস্তার ধারণক্ষমতা ও চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন যানের সংখ্যা নির্ধারণ করে এবং রুট পারমিট অনুমোদন দেয়।

    তিনি আরও জানান, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর অধীনে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গেজেট অপারেট করে গণপরিবহনের ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করে। এরপর, বিআরটিএ তাদের ওয়েবসাইটে এই ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে এবং পরিবহন মালিক ও প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা দেয় যাতে তারা যেন তাদের যানবাহনে ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাতে পারে।

    শেখ রবিউল আলম সংক্ষেপে জানান, বর্তমানে নন-এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা বিদ্যমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীর জন্য ভাড়া সম্পর্কিত তথ্য আরও সহজভাবে দেখতে ও বোঝাতে সক্ষম হবে।

  • যুদ্ধ নয়, শান্তি বেছে নেওয়ার আহ্বান অধ্যাপক ইউনূসের

    যুদ্ধ নয়, শান্তি বেছে নেওয়ার আহ্বান অধ্যাপক ইউনূসের

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষে এখনই কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এই সংঘাত ইতোমধ্যে বিশ্বকে গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে টেনে নিচ্ছে। মানবতার জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষার মুহূর্ত, যেখানে অসংখ্য নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে। বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল সবই ধ্বংসের মুখে এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি গোপন করে বলেন, এটি কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে, যার সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সাহস, সহানুভূতি ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একত্রে কাজ করতে হবে। বিশ্বনেতাদের সামনে এখনই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সামরিক উত্তেজনার বদলে কূটনৈতিক সংলাপের পথে বরাবরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল ক্ষমতার বা রাজনৈতিক দখলের লড়াই নয় বরং মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে শান্তির পথে, সংঘাতের বদলে আলোচনা ও সমঝোতার পথ। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য গড়তে হবে, যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।

  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের দাবি তুললেন: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে প্রত্যর্পণ চান

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের দাবি তুললেন: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে প্রত্যর্পণ চান

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ পুনরায় দাবির বিষয়টি জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেন, জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই দিন তিনি ভারতের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ পুরী এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও আলাপ করেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলাপচারিতায় দুইপক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণের গুরুত্বে একমত ছিলেন।

    বৈঠকে খলিলুর রহমান বলেন, সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সুবিধার ভিত্তিতেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।

    এবারের আলোচনায় তিনি শহীদ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুইপক্ষ একমত হন যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

    অপরদিকে জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিংপুরীর সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ডিজেল ও সার সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। মন্ত্রী পুরি জানান, ভারত সরকার এই অনুরোধটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার ওপরও একমত হয়েছে।

  • হাসনাত: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত

    হাসনাত: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত

    কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিপীড়নমূলকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং এটি ক্রমেই ভয়াবহ মাত্রা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দখল হয়েছে; এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আর স্বাধীন নেই—’বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ে পরিণত হয়েছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১ দিনের বিকেলের সেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)কে বোঝানো হয়েছে এবং বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ শব্দবন্ধটি রাখা হয়েছে। ওই সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক প্রতিরোধকে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণের নামে দমন করা হতে পারে, আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যক্রমও অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।

    হাসনাত প্রশ্ন করেন—সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সংজ্ঞা কে দিবে? ওই সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষমতা থাকছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপরই, ফলে নির্দিষ্ট ধরনের ইন্ডেমনিটি (দায়মুক্তি) এনএইচআরসির কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কমিশনকে নিয়ন্ত্রণমূলকভাবে পরিচালনা করার প্রস্তাব ইতোমধ্যে এসেছে; যদি কমিশন ২০০৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় তবে তা সরকারে বিশদভাবে নিয়ন্ত্রিত—a ফলে স্বাধীন বিচার ও তদন্ত অসাধ্য হবে।

    তিনি বলেন, যদি আমরা গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তদন্ত ও নিরীক্ষার জন্য এনএইচআরসিকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রাখি, তাহলে সেখান থেকে সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কতটুকু আশা করা যাবে সেবিষয়ে সন্দেহ আছে। তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই এনএইচআরসি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চাচ্ছেন—এমন সিদ্ধান্ত কেন গ্রহণ করা হচ্ছে তা ভাবার বিষয়। আবার, যদি কমিশন পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত করা হয়, তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে—তাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    হাসনাত উদ্বেগ জানিয়েছে যে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে যেভাবে দলীয়করণ ঘটছে, সে পরিস্থিতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—অথবা ‘বাপের দোয়া’ বা বিরোধীদল দমনকারী কমিশন হিসেবে রূপ নিতে পারে—এতে তার আস্থা নেই। তিনি দাবী করেন, বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান ও কাঠামো স্পষ্ট ও নিরপেক্ষভাবে চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। নাহলে ভবিষ্যতে বিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানে আবার দখল, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো দলীয়করণ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ দেখা যেতে পারে।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা আরও দ্রুত রুখে দিতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। ঘৃণা নয়—মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও সহনশীল সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ—সবাই মিলে এই ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ক্ষেত্রটি বহুদিন ধরেই সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা ছিল; সেই অপচেষ্টা থেকে সবার মিলিতভাবে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা সম্পন্ন করব।”

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনের সর্বভৌম কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় জোট।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং সংস্কারসংক্রান্ত আগে থেকে হওয়া ঐকমত্যকে ধীরে ধীরে নষ্ট করা হচ্ছে।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নব্য ফ্যাসিবাদকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কার্যক্রম সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করা হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে; গণভোটের রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে এবং সংসদে একক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি করছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের নাম করে রাজাকার হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জোটের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কিন্তু জোরালো কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ বজায় রাখবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত একটি তীব্র বাস্তবতার সম্মুখীন হয়: বছরজুড়ে আর্থিক চাপের ফলে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং বাকি ব্যাংকগুলোর আয়ও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এরই প্রভাব পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্রটি উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এ ব্যয় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪২ শতাংশের মতো।

    গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়। আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমেছে—এখনকার নেমন্তেই খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেটা আরো বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে মোট ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশেরও বেশি গড় হ্রাস।

    খাত সংশ্লিষ্টরা এবং ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব লোকসানের হিসাবও প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সামলাতে সরকার কিছু দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের একাংশ বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরও একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত, ফলে অনেক সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে অনুরোধে ব্যাংকগুলোকে ব্যয় করতে হতো—এগুলোর একাংশ প্রকৃত সিএসআর উদ্যোগের বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও আগস্টে সরকার বদলির পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে ধারণা করে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ו জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিরাপদ চাপের ফলে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে চলে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা উচিত। তবে বাস্তবে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না—প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ খরচ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পাওয়া গেছে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অংশ।

    রিপোর্টে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হল— জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য অনুযায়ী, এই লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—তবে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক দুর্বলতার সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অনিয়মের প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ে বড় পতন দেখা যাচ্ছে। খাতটির পুনরুজ্জীবন ও সিএসআর অর্থের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতি-নিয়মের কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সোনার দাম ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়লো, ২২ ক্যারেটের ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা নির্ধারণ

    সোনার দাম ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়লো, ২২ ক্যারেটের ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা নির্ধারণ

    দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম বাড়ল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) জানিয়েছে যে ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২,৪০৯ টাকায়। এই নতুন মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দর বাড়ায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম হচ্ছে: ২২ ক্যারেট — ২,৫২,৪০৯ টাকা; ২১ ক্যারেট — ২,৪০,৯২০ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ২,০৬,৫১১ টাকা; এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম — ১,৬৮,১৯৫ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৮৯০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে অন্যান্য ধাপের রুপার দামও যথাক্রমে ৫,৫৯৯ টাকা, ৪,৭৮২ টাকা ও ৩,৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক্রেতা ও আভরণকর্মীদের জন্য এটি বাজারে স্বল্পকালীন দর ожল এবং স্বর্ণ-রূপা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।