২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ২৯৯ আসনে গড়ে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসি জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এসব ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। এ প্রতিবেদনের জন্য ইসি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই হার নির্ণয় করা হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের ঘোষণা সম্পন্ন হয়। ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই ঘোষণায় জানিয়েছেন, ২৯৭টি আসনের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কিছু আসনের ফলাফল ঘোষণা অনুমোদনের জন্য এখনও স্থগিত রাখা হয়েছে, যেমন চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২, ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফলাফল ঘোষণা না করার জন্য পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই চিঠিগুলিতে বলা হয়েছে, এসব আসনে আদালতে মামলার চলমান বিষয় থাকায় ফল ঘোষণা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তবে শেরপুর-২ আসনের ফলাফল ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সে সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ এখনো সম্পন্ন হয়নি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের আরেকটি কঠিন দায়িত্ব হলো সব ফলাফল সঠিকভাবে ঘোষণা করা।
Author: bangladiganta
-

বাংলাদেশ যেন নির্বাচন থেকে যেন আর বিচ্যুত না হয়: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেন আর কোনো সময়ই নির্বাচনীয় পথে বিচ্যুত না হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত এবং আরও উন্নত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথপ্রদর্শক হবে।
আজ শুক্রবার সকাল ১১টার কিছু আগে, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর ভোটের জন্য সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সব আশঙ্কা কেটে গেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্ত ভিত পেয়ে গেছে।
সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারির সকালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন হয়ে থাকবে। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের মূল অঙ্গীকার ছিল, আইন বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ও একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন। এই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কোথাও কোথাও যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, তা অনিচ্ছাকৃত। গত দুই দিনের কিছু ঘাটতি থাকলেও, ভবিষ্যতে আমরা সেগুলো সংশোধন ও পূরণ করার জন্য চেষ্টা করব। নির্বাচনকে কেবল সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি ব্যাপক দায়িত্ব মনে করে কমিশন কাজ করে গেছে।
দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সানাউল্লাহ বলেন, ভোটাররা ঈদের উৎসবের মতো পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। এর মাধ্যমে নির্বাচন ঘিরে থাকা শঙ্কাও দূর হয়েছে। বাংলাদেশ আজ এক বিজয়ী জাতি।
অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান, দেশি ও বিদেশি সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিএনসিসির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
-

ইসি ঘোষণা করবেন না তিন আসনের নির্বাচনের ফলাফল
নির্বাচনি এলাকা শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আগামী সময়ের জন্য স্থগিত থাকছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আদালতের আপিল বিভাগের আদেশ ও মামলার অবস্থা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, এ বিষয়ে আলাদা তিনটি চিঠি প্রকাশ করে ইসি।প্রথমে চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য জানানো হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত একটি রিটের আদেশের কারণে এই আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে তার ফলাফল ঘোষণা তখন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যেটা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চলবে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম-২ আসনের জন্য বলা হয়েছে, সরোয়ার আলমগীরও আপিল বিভাগের আদেশের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে তার ফলাফল প্রকাশের জন্যও এখনই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, যতক্ষণ না মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়।
অবশেষে, শেরপুর-২ আসনের জন্য জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, কিন্তু তার ফলাফলও স্থগিত থাকবে। কারণ এই আসনের sonuç ঘোষণা আপিল বিভাগের চূড়ান্ত আদেশের ওপর নির্ভর করবে।
এখনো সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতের শেষ সিদ্ধান্তের ওপর কেন্দ্রীয় প্রতিযোগীদের ফলাফলের ঘোষণা নির্ভরশীলতা থাকবে, যা নির্বাচনে সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
-

এই নির্বাচনে বাংলাদেশে নতুন যুগের সূচনা: ফখরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই মন্তব্য করেন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতোগিয়ে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন একাধিক আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে। আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আজকের দিনটি আসছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি গণতন্ত্রের নতুন যুগের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে।
বিএনপি মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের জীবনের মান উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোটগ্রহণ এই মুহূর্তে স্থগিত। ভোট কেন্দ্রের বাইরে এখনো ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অনেকেই ফজরের নামাজ শেষে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত দল, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বটছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এবার ভোট দিতে যাবেন মোট yaklaşık ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার, যাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩২। এনিয়ে এই নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রত্যাশা নতুন দৃষ্টিতে চিহ্নিত হবে।
-

১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপিসহ মোট ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় (ফকিরখালি রোডের মুখে) অবস্থিত এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমি সকল নাগরিককে আহ্বান করছি—আপনি সবাই যেন রায় দিতে আসেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পাননি; আজ সেই সুযোগ এসেছে ভোটের মাধ্যমে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কোনও প্রতিকূলতা নিয়ে বেশি ভাবছি না। মানুষের ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রশাসন, মিডিয়া ও সেনাবাহিনী যেন নিরপেক্ষ থাকেন, এই কামনা করি।’’
সরকার গঠনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, আমরা সরকার গঠনের খুবই কাছাকাছি। ভোটের ফলাফল পর্যন্ত আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আমরা জনগণের রায় মেনে নিব। জয় নিশ্চিতভাবেই হাতে রয়েছে; তবে জয়-পরাজয় থেকে বেশি আমাদের গুরুত্ব নিয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।’’
আজ সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশের মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করেন। অনেকেই ফজরের সালাম দিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের লাইনেও দাঁড়ান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রত্যেক কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দিতা চলছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
-

বড় কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দেব না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেবেন, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অবিচার ঘটলে তিনি ছাড় দেবেন না। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।
ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছি, এখন অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং সারা দেশের খবর নেব। তিনি জানান, ছোটখাটো বিষয় এখনও যদি হয়ে যায় তবে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে খুব একটা ভাবব না, কিন্তু বড় কোনো সমস্যা হলে আমরা ছাড় দেব না। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়ে আমরা কঠোর।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনটি ভোটের বিরতির পর আজ আল্লাহ আমাদের আবার এই স্বাধীনতা দিয়েছেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমি নিজেই নই, বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি—তারা এই ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিল। এটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও দখলমুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, এই ভোট যেন সবাই গ্রহণ করে, সেই জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এমন সরকার গঠিত হবে, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বললেন, নির্ভয়ে কেন্দ্রে যান, নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের একটি গর্বিত অংশীদার হোন। সবাই যেন নিজের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করেন, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে মিডিয়ার পাশে তার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমাদের ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মিডিয়ায় একই খবর ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ অপরাধ করলে আমি তার বিপক্ষে, তবে যা অপরাধ নয়, তাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।
-

ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেব: তারেক রহমান
বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ চালেছি। গতরাতেও কিছু চেষ্টা চালানো হয়েছে, আজও তারা অব্যাহত রাখতে পারে, তবে আশার কথা হলো জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার সম্পন্ন করতে পারছেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এখন সেই অসুবিধা কিছুটা কম হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের қабলে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব—আমরা সবাই একত্রে চেষ্টা করি যেন ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকারটি ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সকলের উচিৎ যেন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করা।
জয়ের ব্যাপারে বিএনপি কতটা আশাবাদী, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ, আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
অতো আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি যত বেশি সম্ভব আসনে জিততে পারব, যাতে করে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সুবিধা হয়।
নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আশা-কামনা রয়েছে কি না, এই বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের সবাইকেই নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই।
সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি কী, তা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এতক্ষণ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরেছি, এখনো দেশের সার্বিক খবর পাইনি। কিছু সময় ব্যয় হয়েছে, তবে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ দেখে শুনেছি, কিছু কিছু স্থানেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একাধিক রাজনৈতিক দল এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটাচ্ছে। আমরা চাই না এ সব ঘটনা ঘটুক।
তিনি বলেন, দেশের মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ। যদি তারা ভোটের জন্য নিয়ে এগিয়ে আসে এবং অধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে সবাই মিলে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারব।
তবে যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব কাজ সমাজের জন্য বাস্তুহানি এবং অনৈতিক।
ভোটের গণনা যখন ক্ষণস্থায়ী সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সেই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ফলাফল প্রকাশের জন্য দেরি হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। কেন যে ফলাফল দেরি হবে? দেশের সব মানুষ এখনই ফল জানতে চান। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব ভোটের ফল ঘোষণা করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। ফলাফল ঘোষণা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা থাকে, কিন্তু আশা করি এবারও মানুষ দ্রুত তাদের ভোটের ফলপত্র পাবেন।
তিনি বললেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন নির্বাচন হলে আমরা অবশ্যই সেটা মান্য করব। সব দলের জন্য শর্ত হলো—নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া দরকার।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি। মানুষ বিভ্রান্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চলছে, এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, কেউই মানবে না।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি ঢাকা শহরে যে পরিবেশ দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ এবং আবেগের সাথে ভোট দিচ্ছে। এই উৎসাহ দেখে মনে হয়েছে, দেশের ভবিষ্যত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।
-

নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু (৪৮)কে আটক করা হয়েছে। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে, আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের গেটের সামনে। পুলিশ তাকে তখনই আটক করে। বিচারক রানা পারভেজ ওই দিনই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাস বাবুর বাড়ি হলো উপজেলাতোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া। তিনি এলাকায় বিমল দাসের ছেলে হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, জানা গেছে তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।
স্থানীয় সূত্রের মতে, সুকুমার দাস বাবু আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে একটি নমুনা ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে যান। এসময় তিনি ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।
বিচারক তার তিন বছরের সাজা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। পরে তাকে আটোয়ারী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাসকে দ্রুত জেলহাজতে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো অনিয়মই সহ্য করবে না।
-

একজনের ভোট অন্যজনের দিতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন ভোট অন্যজনের দিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত নগণ্য বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগের সরকার আমলে কিছু বিতর্কিত নির্বাচনের সময় একজনের ভোট অন্যজনের দ্বারা দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও যদি এই ধরণের কোনো ঘটনা ঘটে, আমরা তা দ্রুতই খতিয়ে দেখব।’
তিনি আরও জানান, ছোটখাটো কিছু দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া, বর্তমানে নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, গোপন ও উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সংবাদমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে ভারতের কিছু অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে আমাদের সাংবাদিকরা সত্য সংবাদ পরিবেশন করলে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে আরও সাহায্য করবে।’
পরে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় সমন্বয় কক্ষ এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন।
-

ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে ভোটকেন্দ্রে মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি সরকারি মার্সেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটের মুহূর্তে একজন ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখা গেছে। ওসমান হাদি হত্যা মামলার শিকার ভাই রাসেল হাদির বোন মাসুমা হাদি প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রে যান, যেখানে তিনি ভাই হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। তার এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি ভোটকেন্দ্রের সাধারণ প্রাঙ্গণকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। ভোটার এবং পথচারীরা তাকিয়ে দেখছেন, যেন তারা বুঝতে পারছেন, এই ছোট্ট নারীর হৃদয়ে কতটা বিষাদ ও আকুতি। সবাই ওসমান হাদির শূন্যতা অনুভব করছেন এবং তার পরিবারের ভেতরকার এই গভীর যন্ত্রণায় সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।
ভোট দেওয়ার পর, আবেগে ভরা কণ্ঠে মাসুমা হাদি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার অভিযোগের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিচার চাই, ন্যায়বিচার চাই। একজন নাগরিক হিসেবে আমার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে, আর ভাই হত্যার বিচার চাওয়া আমার নৈতিক কর্তৃত্ব।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওসমান হাদির হত্যা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি, কারণ তদন্তে কিছুটা ধীরগতি থাকায় পরিবার ও স্বজনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার চেয়ে বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেন এই নিষ্পাপ ভাইয়ের হত্যা আদালত কোনওভাবেই অমীমাংসিত রেখে না দেয়।
