Author: bangladiganta

  • সোহান, আকবর ও রুমানা প্রথমবার ভোট দিলেন

    সোহান, আকবর ও রুমানা প্রথমবার ভোট দিলেন

    জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই মাঠ-ঘাটে উৎসবের আমেজ; বহু ভোটার কক্ষপথে এসে ভোট দিতে দেখা গেছে। এ নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত দল অংশ নিয়েছে, তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

    ভোটগ্রহণের এ উৎসবে খেলোয়াড়রাও অংশ নিয়েছেন। রংপুরের নিজ এলাকা থেকে প্রথমবার ভোট দিতে যান যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলি। জাতীয় দলের ক্রিকেটার নূরুল হাসান (সোহান) দৌলতপুরে গিয়ে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নারী দলের ক্রিকেটার রুমানা আহমেদও প্রথমবার ভোট দিয়েছেন এবং তিনি নিজের অঞ্চলে ভোট দিয়ে উৎসাহী ছিলেন।

    সামগ্রিকভাবে 이번 নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার নাম তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

    ভোটকেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকলেও শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক তৎপরতা জোরদার রাখা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী দিনগুলোর ভোটার উপস্থিতি ও প্রক্রিয়া নিয়েও 관심 চোখ রেখে দেখা হচ্ছে।

  • বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত, এই বক্তব্যে অটল আছি: ড. আসিফ নজরুল

    বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত, এই বক্তব্যে অটল আছি: ড. আসিফ নজরুল

    জানানো সিদ্ধান্তই বোর্ড‑ক্রিকেটারদের বলে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে একটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করে স্পষ্ট করে বলেছেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    পোস্টে ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘গতকাল একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচালায় আমাকে বিশ্বকাপ নিয়ে একটা প্রশ্ন করা হয়। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর যা বলার চেষ্টা করেছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত বা অন্তর্নিহিত বার্তা ঠিকমতো বোঝা না যাওয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’’

    তিনি আরো জানান যে, জানুয়ারির শুরু থেকেই তিনি বারবার নিরাপত্তার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতে বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন এবং এই অবস্থানেই তিনি এখনও অটল। ‘‘গতকাল কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই বিষয়টি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না এবং আমাকে এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্নও করা হয়নি,’’ পোস্টে যোগ করেছেন তিনি।

    উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকার চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠান। ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘ক্রিকেটের স্পর্শকাতর সময়ে তাদের এই দান আমাকে কিছুটা আবেগাপ্লুত করেছিল। সেসময় যখন সাংবাদিকরা ভেবে দেখার জন্য জিজ্ঞেস করলেন যে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে মূল বিষয়টি হল না—ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।’’

    তিনি আরও বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটাও সত্য যে ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা ও শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও তারা এটি মেনে নিয়েছে—অতএব দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।’’

    শেষে তিনি স্বীকার করেছেন যে অন প্রতিপালিত আলাপে বিষয়টি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা তার ব্যর্থতা ছিল এবং পুনরায় জোর দিয়েছেন—বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারী, কিন্তু সেটি বোর্ড ও খেলোয়াড়রাও মেনে নিয়েছে।

  • লাইফ সাপোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার পর অভিনেতা তিনু করিমের মৃত্যু

    লাইফ সাপোর্ট থেকে বাড়ি ফেরার পর অভিনেতা তিনু করিমের মৃত্যু

    অভিনেতা তিনু করিম আজ ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বরিশালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন অভিনেতার স্ত্রী হুমায়রা নওশিন।

    হুমায়রা নওশিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “তিনি একদম সুস্থ ছিলেন। তিন দিন আগে আমরা গ্রামের বাড়ি বরিশালে এসেছিলাম। সব ঠিকই ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ শরীর খারাপ লাগায় হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তারদের初 বলাই—হার্ট অ্যাটাকেই মৃত্যু হয়েছে।”

    পেছনের 病 ইতিহাস অনুযায়ী, গত ৮ নভেম্বর তিনু করিম গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ২৪ নভেম্বর তাকে ঢাকায় আনা হয় এবং একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন পর স্বল্প উন্নতি হলে কেবিনে নেওয়া হলেও পরে রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমায় তিনি opnieuw জ্ঞান হারান; এরপর আবার আইসিইউতে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। মোটামুটি চারigg মানHospitalsে কাটিয়ে তিনি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাড়িতে ফিরে এসে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    তিনু করিম ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে। ২০১০ সালে চলচ্চিত্র ‘অপেক্ষা’ দিয়েই তিনি বড়পর্দায় قدم রাখেন। ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ বহু নাটক ও বিজ্ঞাপনে তাঁর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।

    শিল্পীজগত ও ভক্তদের মধ্যে এই খবর শেেকে উৎসাহমূলকভাবে দুঃখ ছড়িয়ে পড়েছে।

  • ফল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, ইতিবাচক রাজনীতির আশ্বাস

    ফল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, ইতিবাচক রাজনীতির আশ্বাস

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর শরিক দলগুলো ইতিবাচক রাজনীতি ও কল্যাণমুখী পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে কিছু আসনে ফল ঘোষণা নিয়ে বিলম্বে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল যত দ্রুত সম্ভব ঘোষণা করলে তারা তার বিশ্লেষণ করে জাতির সামনে ঘোষণা করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, তাঁদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অকল্যাণকর কাজে বিরত থাকার নীতিতে তাঁরা রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে একটি আয়াত পাঠ করে এর বাংলা অর্থ তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। যাতে বলা হয়, উন্নত ও কল্যাণকর কাজে সহায়তা ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে বিরত থাকা, এই দুই নীতিতে তিনি তার দলকে পরিচালিত করবেন। কিছু আসনে ফল ঘোষণায় দেরি হওয়া নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি অসুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় দেয়। বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে ফলাফল দেরিতে ঘোষণা হওয়ার বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, কিছু কিছু আসনের ফলাফলের সিটে দেখা যাচ্ছে যে তারা এগিয়ে থাকলেও পরে অজুহাতে ফলের ঘোষণা থামানো হচ্ছে। কারচুপির আশঙ্কা আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, অনেক কিছু ঘটেছে কিন্তু এখনই বিস্তারিত বলতে চান না। সব তথ্য হাতে এলে তারা ১১ দল মিলেবেশি বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে। ফল মেনে নেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক। তবে ফল গণনা নিয়ে বিলম্বের জন্য কাদের দায়ী, তা খতিয়ে দেখা আবশ্যক। জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রার্থীদের তালিকা প্রাথমিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে, এর চূড়ান্ততা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমির আরও জানান, ফলাফলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মামুনুল হক, নাহিদ ইসলামসহ জোটের কয়েকজন শরিক নেতা।

  • জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা পরাজিত

    জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা পরাজিত

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনার কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ তিন নেতা পরাজিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের ভোটের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা দলটির জন্য হতাশাজনক। যদিও জামায়াতের উল্লিখিত নেতারা জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন। তাদের পরাজয় হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, আরও একজন হচ্ছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মনির। ভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়েছেন এই তিন নেতা। মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভোটের ব্যবধান ছিল তিন হাজার, হামিদুর রহমান আযাদের ব্যবধান ২৮ হাজার, এবং শিশির মনিরের ব্যবধান ছিল ৩৯ হাজার ভোট। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ভবিষ্যত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।

  • বিএনপির নির্বাচনে বৃহত্তর জয়জনক শুভেচ্ছা গ্রহণ

    বিএনপির নির্বাচনে বৃহত্তর জয়জনক শুভেচ্ছা গ্রহণ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাক আসনে জয় লাভের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশব্যাপী সমর্থকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার জুম্‌আ নামাজের সময়, ‘গণতন্ত্রের মা’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

    অবশ্য, নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কারণে বিএনপি থেকে কোনো আনন্দ মিছিল বা বড় ধরনের সমাবেশ নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। এতে দলটির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, তারা দেশব্যাপী মসজিদে- মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য দোয়া ও প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করুন।

    তালিমের পাশাপাশি, সারাদেশের মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে তাদের ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যেন প্রার্থনা করে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম-অমুসলিম সবাই একত্রিত হয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেন, তা-ও অনুরোধ করা হয়েছে।

  • আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ফলাফল ট্যাম্পারিং চলছে

    আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, ফলাফল ট্যাম্পারিং চলছে

    বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে সেই সব আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে তারা মনে করেন ফলাফল বিকৃত হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বাংলামোটরস্থ এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে ভিন্ন ফলাফলের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যাতে স্পষ্টভাবে ফলাফল ট্যাম্পারিং হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ। তিনি জানান, যেসব আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন, সেখানে ফলাফলের প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া ফলাফলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে যে ফলাফল বিভ্রান্তিকরভাবে পরিবরতন করা হয়েছে।’

    অভিযুক্ত বেশ কয়েকটি ঘটনায় তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণা করার আগে বিএনপি প্রার্থীর স্বয়ং তাকে জয়ী ঘোষণা করানো হয়, যা মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিত চেষ্টা। পাশাপাশি, কিছু স্থানে এনসিপি প্রার্থীর বেশি ভোট থাকা সত্ত্বেও ফলাফল বিতরণের সময় ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু ব্যালটের সিল না থাকলেও সেগুলোর ফলাফল ধানের শীষের পক্ষে গণনা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, মন্তব্য করেন, ব্যালট পেপারে যথাযথ সিল থাকা না থাকতো সত্ত্বেও ধানের শীষের পক্ষে ফলাফল দেখানো হচ্ছে। এমনকি, মির্জা আব্বাসকে জয়ী করার জন্য বিভিন্ন নাটকীয় প্রক্রিয়া চালানোরও অভিযোগ করেন তিনি।

    আসিফ মাহমুদ জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছুঁড়ছেন। তিনি আরও বলেন, ফলাফল ঘোষণায় বেশ কিছু কেন্দ্রে দেরি হচ্ছে এবং তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে স্বাক্ষরকর্তা বলেন, এই সব অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি দাবি করেন, যে সমস্ত ফলাফলকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা যাবে না, যতক্ষণ না ভোট পুনঃগণনা সম্পন্ন হয় এবং সঠিক তথ্য প্রকাশিত হয়। একইসঙ্গে, অবিলম্বে ভোটের ফলাফল পুনরায় গণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আহ্বান জানান।

  • ২০ বছর পর সরকারগঠনে ফিরছে বিএনপি, প্রথমবারের মতো বিরোধী দলে জামায়াত

    ২০ বছর পর সরকারগঠনে ফিরছে বিএনপি, প্রথমবারের মতো বিরোধী দলে জামায়াত

    ষোড়শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো সরকার গঠনের পথে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে তাদের ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে ১৭৫টি আসনে। অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫৬টি আসন। এর পাশাপাশি, জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৬টি এবং স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য দলের প্রার্থী গেছেন ১১টি আসনে। এখনও ৪২টি আসনের ফলাফল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিশেষ করে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

    বিএনপির ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। সর্বশেষ তারা ২০০১ সালে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফা দেন এবং তার মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এছাড়া, ১৯৯৬ সালে তারা স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল।

    ই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তারেক রহমানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সরকারে গেলে তারেক রহমানই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং উভয় আসনে তিনি জয়ী হয়েছেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসার সময়, তিনি নির্বাচনী পরিচয় পেয়েছেন।

    তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে। ১৯৯৩ সালে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের প্রথা চালু করেন এবং তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে, ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারান্তরীত হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

    উল্লেখ্য, চলতি বছর ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর, ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    সংসদীয় গণনায়, বাংলাদেশে সরকার গঠনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১ আসনে জয় প্রয়োজন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি এককভাবে সেই সংখ্যাটা ছুঁতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, এবারই প্রথম সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। আগেরবার তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল, এবার তারা প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এই নির্বাচনের ফলে, বাংলাদেশের পার্লামেন্টারিতে নতুন রাজনৈতিক গঠন ও শক্তির ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় মুফতি আমির হামজার জয়

    কুষ্টিয়ায় মুফতি আমির হামজার জয়

    কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ইসলামী বক্তা ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে বেসরকারি ভাবে বিজয় লাভ করেছেন। এই ফলাফলে তিনি ১৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে যথেষ্ট সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১২টার দিকে সকল কেন্দ্রের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, মুফতি আমির হামজা পেয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ৭৮১ ভোট, যা তাকে লিড দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হন।

    এই বিজয় ঘোষণা পাওয়ার পরে সাংবাদিকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে মুফতি আমির হামজা বলেন, আমি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। যদি আজকের ফলাফল সফলতা অর্জন করে, তবে এটি কুষ্টিয়া ৩ আসনের জনগণের বিজয়। আমি সব সময় এই জনগণের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করব। তিনি আরও যোগ করেন, যদি আমার প্রয়াত জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাসেম মহোদয় আজ জীবিত থাকতেন, তিনি এই বিজয়ে বেশ উচ্ছসিত হতেন।

    আসনে মোট ১৪২টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ জন। এই আসনে ভোট প্রদান করেছেন মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৮৪৩টি ভোট। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৯৭। ভোটদান শতাংশের হার ৭২.৯৫। এই ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, নির্বাচনে সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে।

  • দিনভর নাটকীয়তার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হার, জয়ী মির্জা আব্বাস

    দিনভর নাটকীয়তার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হার, জয়ী মির্জা আব্বাস

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে দিনভর নানা নাটকীয় ঘটনা ও উত্তেজনায় ভরপুর শেষ মুহূর্তের আপডেটে, বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন। পাঞ্জাবী ভোররাতে, পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা বিভাগের কর্মকর্তাসহ রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঢাকা-৮ আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট। এর সঙ্গে ছিলো ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট, যার মধ্যে পোস্টাল ভোট ছিল ২ হাজার ৫৫৫। এই ফলাফলে স্পষ্ট দেখা যায়, নাটকীয়তায় শেষে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস, যেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জয় সম্ভব হয় নি।