Author: bangladiganta

  • সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা ও এস আলমের অংশ

    সংসদে প্রকাশ: শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা ও এস আলমের অংশ

    ২০২৫ সালের শেষের দিকে দেশে খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বলছেন, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানই এস আলম গ্র“পের মালিকানা। সংসদে আলোচনাকালে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও তাদের ঋণের পরিমাণের কথা বলা হলেও মোট পরিমাণের কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি অর্থমন্ত্রী। শীর্ষ ঋণখেলাপির মধ্যে রয়েছে সিকদার গ্র“পের তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গোষ্ঠীর দু’টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও, বিএনপি’র সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম (সিটিসেল)-এর নাম শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় উঠে এসেছে।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট উৎপাদনের হার আবারও কমে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। এর আগে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ, এবং গত অর্থবছরের একই সময় এটি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, দুই সময়ের তুলনায় চলতি প্রান্তিকে দেশের অর্থনীতির গতি বেশ নিম্নমুখী। এই বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও দেশের অর্থনীতি সংকটাপন্ন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপর যৌথ হামলা চালালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নতুন সরকারের সময় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে পর্যাপ্ত অর্থায়ন সম্ভব হয়নি। এসব কারণের প্রভাবে দেশের জিডিপির বৃদ্ধির হার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিবিএসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে, যেখানে হার কেবল ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ, আর সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। এর আগে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতে সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছিল। তবে চলতি প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার সেভাবে বাড়েনি। কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এই বৃদ্ধির ধারায় এড়িয়ে গেলে, দেশের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্প খাতের এই কম প্রবৃদ্ধি সার্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

  • সোনার দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বাড়ল

    সোনার দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি, ভরিতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা বাড়ল

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে, চলমান মূল্য পরিস্থিতির কারণে ভরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের গোল্ডের দাম পর্যায়ক্রমে বেড়ে এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে, গতকাল থেকে কার্যকর এই নতুন দাম।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শেয়ারবাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এই মূল্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে দেশের স্বর্ণকার, জুয়েলার্স ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর।

    নতুন দামে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের তুলনায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেশি। পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দামে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির বা ঐতিহ্যবাহী ধারণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    এছাড়াও, রুপার দামেও যথেষ্ট বৃদ্ধি হয়েছে। বুধার সূচনালগ্নে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩৫০ টাকা বেশি। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা।

    বাজুসের এই ঘোষণা বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আপডেট হয়েছে এবং ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সরবরাহ করেছে।

  • ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের সংকোচন

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতে লোকসান ও সিএসআর ব্যয়ের সংকোচন

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের এক কঠিন বছর। আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি ও নানা অস্থিরতার কারণে, স্বাভাবিক মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ১৭টি ব্যাংক। এছাড়াও, অন্য ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করেনি। এর প্রভাব পড়ে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে, যেখানে ব্যয় অর্ধেকে নেমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরে ব্যাংকগুলো এই খাতে দুই শঙ্কা পূর্ণ সূচক দেখিয়েছে।

    ২০২৫ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর), দেশের ৬১টি ব্যাংক মোটক্ষেত্রে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন আকারে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এই কমতির হার অনেক বেশি, যা খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় হয়েছে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আর ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরে এই খাতে ব্যয় কমে গেছে মোট ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এই সংকুচিত ব্যয়ের বড় কারণ। ২০২৪ সালের জুন-জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দেয়। পাশাপাশি, একাধিক ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত খবর প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্রটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো কঠিন চাপের মুখে পড়ে, যেখানে ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে, দুর্বল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার একাধিক ব্যাংকের সংহতকরণে উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকাররা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সিএসআর ব্যয়ের এই সংকোচনের পেছনে বড় একটি কারণ হচ্ছে। আগে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের চাপ থাকত, যাতে ব্যাংকগুলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি বা অন্য খাতে অনুদান দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই ব্যয় প্রকৃত সিএসআর এর আওতায় পড়ত না। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন ও পরে সরকার পরিবর্তনের ফলে এই চাপ অনেকটাই কমে গেলে, ব্যাংকগুলো এখন বিবেচনা করে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এই ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, যা মূল লক্ষ্য—সামাজিক দায়বদ্ধতা—কে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট লাভের একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে খরচ করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ব্যয় হতে হবে শিক্ষা খাতে, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়। বাকি ২০ শতাংশ খরচ করা যাবে অন্যান্য দিকে।

    তবে বাস্তবে দেখা যায়, এই নির্দেশনা যথাযতভাবে মানা হয়নি। ২০২۵ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ে সামান্য কিছু হয়েছে, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়াও, এই বছর লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশের কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে, যেমন- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। সকলেই বিভিন্ন শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই বছরগুলোতে।

  • সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েই গণভোট ইস্যুতে ১১ দলীয় ঐক্যের কঠোর সতর্কতা

    সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েই গণভোট ইস্যুতে ১১ দলীয় ঐক্যের কঠোর সতর্কতা

    গণভোটের রায়ের প্রতিবাদ এবং তার অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে কঠোর বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রাঙ্গণে আয়োজিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে ঐক্যের নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের গভীর বৈরী মনোভাব অবস্থানরত তারা সরকারের গণতন্ত্রের পথে হঠাৎ ফ্যাসিবাদী উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চালানো হয়, তবে অতীতের মতই কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলি।

    অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিলে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। তারা হাতে বহির্মুখী প্ল্যাকার্ড নিয়ে উপস্থিত হন, যেখানে লেখা ছিল ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ এবং ‘গণভোট মানতে হবে’সহ নানা দাবির কথা। নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

    এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। সভায় দলের শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন এবং সরকারের রাজনৈতিক নীতির প্রতি সমালোচনা উচ্চারিত হয়।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক সাধারণশক্তির উপর আঘাত। তারা পরিষ্কার করে বলেন, যদি এই রায় তৎকালীন সময়ের মতো দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পাশাপাশি, বক্তারা সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে জনগণের ভোটাধিকার এবং মতামতের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ফলশ্রুতিতে, তারা বলেন, দেশ পরিচালনায় গণতন্ত্রের মূলনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে হলে এই দাবিগুলোর দ্রুত সমাধান ঘটাতে হবে।

  • আসিফের সতর্কতা: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    আসিফের সতর্কতা: ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকারের ২৪ সালের অর্জন কিংবা চেতনা যদি রক্ষা না করা যায়, তবে ২৬ বা ২৭ সালে আবারো একই ধরনের অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাসে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সফলতা তখনই রক্ষা পায়নি, যখন এর ফলাফল पुनরুদ্ধ করা সম্ভব হয়নি। তেমনি, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষ্যে অবিচল থাকলে ভবিষ্যতে আরেকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার বিভিন্ন সময় গণভোটের রায় উপেক্ষা করে, জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও নানা ধরনের রাষ্ট্র সংস্কারমূলক জরুরি অধ্যাদেশ জারি করছে। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো সংবিধানের কথা কেবল আলোচনায় উঠে, কিন্তু সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও, বর্তমান প্রশাসন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে অবৈধভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের ভয় দেখিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।

    অন্যদিকে, ফোনে অডিও অপারেশনসংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বললেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ১৮-১৯টি এজেন্সির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা রাখত, যার ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ক্ষমতা কমিয়ে ৪টি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও, বর্তমান সরকার তা আবারো বহাল করে আনছে, ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা বাড়ছে।

    আসিফ মাহমুদ বলেছেন, বর্তমানে স্বৈরাচারী স্বভাবের লক্ষণ স্পষ্ট। তিনি বলছেন, যদি এই সরকার গণভোটের রায় মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তারা নিজেরাই ‘অবৈধ’ ঘোষণা করবেন। বলেন, শুরু থেকে তারা যদি আমাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে সচেষ্ট থাকে, তাতে আমরা তাদের অবৈধ বলতে সময় নেব না।

    শেষে, তিনি জানান, গণভোট নিয়ে তৈয়ার স্বেচ্ছাচারী নাটকীয়তা দেখে নিজেরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। এই আন্দোলন দেশের জন্য শুভ হবে না বলে সতর্কতা দেন তিনি। সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন অংশীর সঙ্গে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জন্য প্রস্তুত হলেও, এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্দোলন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও নেতৃবৃন্দ।

  • সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর এমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, তিনি গণভোটের রায় নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে, ‘70% জনগণ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। আমি হ্যাঁ এর পক্ষেই ছিলাম, এবং থাকবো। জনগণের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রতি আমরা সম্মান জানাচ্ছি। এই সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব এবং আদায় করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, সোমবার (6 এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) 46তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, একটি দেশের সত্যিকার ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথমে নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার চালু করতে হবে। যারা নিজেদের দলীয় নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, এমনকি নেতাকর্মীদের নিরাপত্তাও দিতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার সুদৃঢ়তা দিতে পারবে না। ফলে তারা জনগণের গণতন্ত্রের উপহারও দিতে অক্ষম।

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায় স্পষ্ট, তারা চব্বিশে বুঝে গেছে। হয়তো প্রশ্ন ওঠে, তাহলে রায় দেওয়ার পরও কেন সরকার গঠন করতে পারছে না? এর কারণ হলো, জনগণের ভোট হাইজ্যাক করা হয়েছে, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে তাদের মতামত উপেক্ষা করেছে ক্ষমতাসীনরা। জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং এর প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখাও গেছে।’

    জামায়াতের আমির বলেন, ‘হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেতে, কিন্তু কপাল মন্দ হলে জালে ধরা পড়ে যায়। এবারও ঠিক তাই হবে। জনগণের ধান খেয়ে তুমি গেছে, এখন তোমার লেজ, পা ও ডানাও ঠিকভাবে কাজ করবে না।’ তিনি বলেন, যদি সংসদ যদি জনগণের স্বার্থে ব্যর্থ হয়, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমেই সেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। আগে ‘কেয়ারটেকার’ ব্যবস্থার জন্য সংসদে প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় এখন জনগণের শক্তির উপর ভর করে দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংকটের কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে ও কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। এর ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রেও এই জ্বালানি সংকটের কারণ দেখিয়ে সব শিক্ষাব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হলে আগামী প্রজন্মের জন্য তা অনেক ক্ষতিকর হবে। শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, এর আগে নয়।

    তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে আমাদের প্রতিনিধিরা দেশের মানুষজনের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং কোনো অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকৃতি দেবে না।’ এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপার মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ, প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। বিশেষ অতিথির মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অনেকে।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    সংবিধান সংস্কার পরিষদে স্মরণসভা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামি ও তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই তথ্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের কাছে জানান।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্বের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং এর উপহাস করছে। তিনি বলেন, সংস্কার ও গণভোটের জন্য স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা ও ঐক্যমতের উপরে ভিত্তি করে রাজনৈতিক নেতারা এগোলে দেশের উন্নতি হতো, কিন্তু বর্তমান সরকারের অমানবিক রাজনীতি সেই পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে জনদুর্ভোগ ও গণআন্দোলনকে দমন করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় ঐক্য অটুট রেখে, যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    অপরদিকে, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সাদা পত্র বিলির কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়াও, ১১ এপ্রিল সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় এক বিশাল জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের জন্য জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আলোচনা হবে।

    সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলকে জনগণের রাজপথের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েই সরকার ভুল পথে হাঁটছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির অপ্রকাশ্য কার্যকলাপের কারণে জাতি হতবাক ও বিস্মিত, কারণ বিএনপি’র নোট অব ডিসেন্ট মুলত আলাদা কিছু নয়, বরং এর মাধ্যমে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

    তাঁরা জ্বালানি সংকট ও সংসদে বিরোধীদের বক্তৃতা বন্ধের অভিযোগও দায়ের করেন এবং বলেন, দিল্লির আগ্রাসবাদের বিরোধী অবস্থান নিচ্ছে এমন ব্যক্তিদের উপর সরকার রাজাকার ট্যাগ দিচ্ছে। শেষদিকে, জামায়াতের এই নেতারা বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার আন্দোলনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যেন দেশের রাজনীতিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হয়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে, যা কঠোরভাবে রুখে দিতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের উচিত এই বিভাজনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করা। আমাদের পথচলা যেন শুধু প্রেম ও সৌহার্দ্য দ্বারা চলতে থাকে।’’

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ হল এমন এক দেশ যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে বাস করে। এই দেশ ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য এক সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলন ক্ষেত্র। এই ভূখণ্ডের ইতিহাসে দেখা যায়, সব ধর্মের মানুষেরা একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে, যা এই দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রমান।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মন্তব্য করেন, একসময় ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়ের মত এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপচেষ্টাকে প্রতিহত করতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সহায়তা ও সহযোগিতায় আমরা ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব তা সম্পন্ন করতে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।’’

  • লালমনিরহাটের সাবেক এমপি সফুরা বেগম ঢাকায় গ্রেপ্তার

    লালমনিরহাটের সাবেক এমপি সফুরা বেগম ঢাকায় গ্রেপ্তার

    লালমনিরহাটের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সফুরা বেগম রুমি ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বুধবার (৮ এপ্রিল) এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। ওসি সাদ আহমেদ এই সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    সফুরা বেগম লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে তিনি গোপনবাসে ছিলেন বলেও ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ঘটনা ঘটে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, অন্য নেতারাও দেশের বাইরে অবস্থান করেন। যারা দেশে থেকেই আত্মগোপনে থাকেন, তাদের মধ্যে সফুরাও একজন।

    অভিযানের সময় জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলার পাশাপাশি হত্যার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান সময়ে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতাকেও দেশত্যাগ বা গোপনে থাকলেও সফুরা বেগমের মতো নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে দেশিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।