Author: bangladiganta

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী নীতির পথে এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করে বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে; গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্থগিত করে দিয়েছে এবং সংসদে মাত্র একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না এবং দিল্লির বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন তাদের সরকার ‘‘রাজাকার’’ হিসেবে ট্যাগ দিচ্ছে। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেকা এগিয়ে আসুক এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

    জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।

  • মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা রুখে দিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর দাঁড়ানো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’

    ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতকাল থেকেই এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে এবং সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধরনের অপচেষ্টা থেকে সকলকে মুক্তি পেতে হবে।ান

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একসম্ভাব্যভাবে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে কাজ অনেক — সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বলা হয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যের ওঠানামা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য표 অনুযায়ী অন্যান্য শ্রেণির দামও এভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম—১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্যান্য হিসেবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, এই নতুন দাম স্থানীয় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে এবং তা আজ থেকেই কার্যকর থাকবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত আর্থিক মন্দার মুখে পড়ে; নিকট হিসেবেই ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। এ আর্থিক চাপে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও দ্রুত কমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর ব্যয়ের সর্বনিম্ন স্তর। আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খাতে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দ্রুত পতন লক্ষ্য করা যায়: ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়াল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ক্যা­­রেন্ট অব দ্য সেক্টর বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলন (জুন–জুলাই) এবং এরপর আগস্টে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সময় কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো ‘মুনাফা’ থেকে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত ক্ষতি সামনে আসে। বিশেষ করে শরীয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক এই ঝটকায় বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারও কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নানা স্তর থেকে অনুদান-সহায়তার চাপে ব্যাংকগুলোকে অনবরত খরচ করতে হত; অনেক সময় তা প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর ওই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন ব্যয়ের বিষয়ে বেশি সক্রিয় ও সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিবার্য চাপে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে—ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করতে হবে; এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা।

    তবে বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে মিল নেই। ২০২৫ সালে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো সর্বাধিক ৩৬% সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে—যা নীতিগত লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে।

    রিপোর্টে আরও দেখা যায়, আলোচিত সময়কালে ১১টি ব্যাংক সিএসআরে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেই তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এইগুলোর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থেকেও সিএসআর খাতে কিছু ব্যয় রেখেছিল।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক সঙ্কোচ হচ্ছে। এটি শুধু অঙ্কের হিসেব নয়—সামাজিক শিক্ষাবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিগত স্পষ্টতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার এখনই সময়।

  • রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একমুখী ও আগ্রাসী কৌশলটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।

    জাখারোভা বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হয়ে ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের উসকানিমূলক ও একপক্ষীয় বাগযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণের কৌশলও ফলপ্রসূ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে যে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করা উচিত এবং একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বলাৎকার করা উচিত। মস্কোর অবস্থান, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জটিল সমস্যার সামরিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আরও কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবেন।

    এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ অভিযান শুরু করার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১,৩৪০ জনের অধিক নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

    প্রতিবাদের জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে লক্ষ্যবস্তুতে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত কিছু ঘাঁটি ছিল। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

    এই ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রাশিয়া মস্কোতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে পুরোদমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলল, জাহাজ চলাচল শুরু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবারের বদলে বুধবার (৮ এপ্রিল) দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতার পরেই প্রথম দুটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করে।

    বার্তাসংস্থা এএফপির সূত্রে মেরিন ট্রাফিক (MarineTraffic) এই খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছে, গ্রিসের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এনজে আর্থ’ আন্তর্জাতিক মান সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘ডেটোনা বিচ’ বরাদ্দ সময় অনুযায়ী ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে বন্দর আব্বাস থেকে রওনা হওয়ার পরে সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটে প্রণালী পার হয়েছে।

    ইরান ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমুখী হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগে ওই প্রণালীকে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে ধরা হতো এবং সাধারণত সেখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলি কোনো দেশকে টোল দিতে হতো না। তবে ইরান যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজ থেকে টোল নেওয়ার ঘোষণাও করেছিল।

    প্রাথমিকভাবে তেহরান বলেছিল, হরমুজে প্রবেশদ্বারের দেশ ওমানও টোল নেবে — কিন্তু পরে ওমান জানায়, তারা এমন কোনো অর্থ আদায় করবে না। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য দক্ষ সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    এফএপি সূত্রে এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনায় ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বুধবার (৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধুলামুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি। শহরের জলাবদ্ধতা নির্মূলের জন্য পরিকল্পিত কাজ করা হচ্ছে এবং বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা শুধু সভা-সেমিনার করে সমাধান হবে না, এর মোকাবিলায় সবাইকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও প্রতিক্রিয়া দেন যে, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। পাশাপাশি সাইক্লোন ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পরিকল্পনা গঠন করা দরকার। তিনি জানান, খুলনার উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

    গোলটেবিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (কুয়েট)-এর সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানে কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও বক্তৃতা করেন।

    বৈঠকে এও উঠে আসে যে, বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। তাই এই গোলটেবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও তা সম্প্রসারণের উপায় চিহ্নিত করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং DRR-CCA-Social Protection ক্ষেত্রে সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক সুরক্ষার জন্য সুপারিশমালা তৈরি করা।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধিসহ স্থানীয় কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

  • চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    চিতলমারীতে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত

    বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪৫)কে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তৃতীয় তলায় ১ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটির পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখকে বিবাদী করা হয়েছে।

    অধ্যক্ষ মোঃ মাশুকুর রহমান জানান, ‘মৈজোড়া গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে মোঃ রাসেল শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অস্থাবর জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাকে নিষেধ করলেও সে হুমকি দিত। বুধবার অফিস কক্ষে ঢুকে মাদ্রাসার কাগজপত্র ও মালামাল এলোমেলো করতে থাকে। তাকে বাধা দিলে রাসেল হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সহকারী অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে সে হুমকি দিয়ে চলে যায়।’

    অভিযোগের বিপরীতে রাসেল শেখের বাবা আবুল কালাম শেখ হাতুড়ি পেটার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি মাদ্রাসায় কয়েকটি পদে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমার ছেলের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে অফিস কক্ষে তর্কবিতর্ক হয়েছে, কিন্তু ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে মারার কথা সত্য নয়।’

    চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • মাঠ থেকে নেতৃত্বে: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    মাঠ থেকে নেতৃত্বে: বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য — তামিম

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই সময় সংবাদমাধ্যম ও ভক্তরাও তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা সেই সংবাদই সকলের জন্য স্বস্তির ছিল।

    এক বছর পর আবার এপ্রিল। কিন্তু এখন মাঠ নয়, প্রশাসনের শীর্ষদলেই দেখা গেল তাঁকে—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তামিম ইকবাল। জাতীয় দলের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের পর বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে আসা এই দিনটি হয়তো তাঁর জন্য আরও বিশেষ হয়ে থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতায় নয়—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ঘোষণার পর—মঙ্গলবার বিকেলের পরই দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দায়িত্ব নেওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হয়ে পরিচিতি-বৈঠক ও অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রথম বোর্ড সভা করেন তিনি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম তাঁর অগ্রাধিকার ঘোষণা করেন: ‘‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষতিগ্রস্থ ভাবমূর্তিটা ফেরাতে হবে, সেটাই আমাদের প্রথম কাজ।’’

    তামিম বলেন, গত এক-দেড় বছরে ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে যে নষ্ট হওয়া অংশ দেখা গেছে, তা ঠিক করা তাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ। সেটা শুধুমাত্র কথায় নয়—কাজ করে প্রমাণ করতে হবে। ‘‘আমরা সবাই মিলে উপলব্ধি করছি যে প্রথমেই আমাদের এটি মোকাবিলা করতে হবে।’’

    অ্যাডহক কমিটির ১১ সদস্যের মূল বাধ্যবাধকতা তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম জানান, তারা সেই দায়িত্ব নেবে সততা ও দ্রুততায়—একই সঙ্গে দৈনন্দিন কার্যক্রমও মসৃণভাবে চালিয়ে নেবে। তিনি বলেন, ‘‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন আয়োজন করা আমাদের দেওয়া দায়িত্ব; আমরা যতটা সততা ও যতটা দ্রুততা করা সম্ভব, সেটাই করব। পাশাপাশি যে সকল কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে করা হয়েছে—বিশ্বকাপ ইস্যু সহ সবকিছু—তার সঠিক সমাধান করাও আমাদের কাজ।’’

    নতুন বোর্ড প্রধান হিসেবে তামিম বারবার জোর দেন যে ক্রিকেটকে আবার গর্বের জায়গায় নিয়ে আসাই তাদের চিরকাজ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিগত সময়গুলিতে যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, সেটি শোধরাতে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। সমালোচনা থাকবে, ভুলও হবে—কিন্তু আমরা ভুল থেকে শিখব এবং তাদের শুধরে উন্নতি করব।’’

    তিনি আরও বলেন, বিসিবিতে যারা কাজ করেছেন, তারা বাইরে গিয়েও গর্ব করে বলতেন ‘‘আমি বিসিবিতে কাজ করি’’—এটা আবার ফিরিয়ে আনাই হবে তাদের লক্ষ্য। ক্রিকেটারদের সম্মান নিশ্চিত করা এবং সব স্টেকহোল্ডারকে সম্মান দেখানোও তাঁদের অগ্রাধিক্য।

    সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, অ্যাডহক কমিটির সদস‍্য তানজিল চৌধুরীকে বোর্ডের মুখপাত্র মনোনীত করা হয়েছে; তিনি ভবিষ্যতে বিসিবির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেবেন।

    সাবেক অধিনায়ক ও সফল ওপেনার হিসেবে তামিম বার্তা দিয়েছেন—কথার বাইরে থেকে কাজ করে পরিবর্তন আনবেন তারা। ‘‘আমরা বদল আনব; কথার জন্য বলছি না, কাজ করব। ভুল হবে তো হবে—কিন্তু আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার চেষ্টা করব।’’

    নতুন দায়িত্বে তামিমের এই ঘোষণাগুলোকে মাঠ ও প্রশাসনের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হিসেবে দেখছেন অনেকে। এখন প্রত্যাশা থাকবে—দাবি মোতাবেক দ্রুত বাস্তবায়ন ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গিয়ে কতটা খেলাধুলার স্বচ্ছতা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারে।

  • তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি বুলবুলের, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    তামিমের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটি ‘অবৈধ’ দাবি বুলবুলের, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) যে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শেষ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখেছে—তার পরিপ্রেক্ষিতে এনএসসি অভিভাবক হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে। তবে সেই কমিটিকে অবৈধ দাবি করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি বুলবুল, এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে দিয়েছেন যাতে নতুন এডহক কমিটি কার্যক্রম শুরু করতে না পারে।

    বুলবুল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে, যা বিসিবির সংবিধান এবং আইসিসির নিয়মের পরিপন্থী। তিনি বলেন, এনএসসিতে ৫ এপ্রিল জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পূরণকর্তৃত্বহীন এবং অনভিপ্রেত; তাই তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খণ্ডন করেছেন।

    তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘অনিয়ম ও কারসাজি’সহ বহু দূর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে—তবে বুলবুল সে সব অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেছেন, নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন; প্রতিবেদনের উপসংহারকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

    বুলবুলের তর্ক, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। সেই কমিশনে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। বুলবুল দাবি করেছেন, তামিম ও জড়িতদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল—ক্লাব কাউন্সিলরপদ সংক্রান্ত ১৫টি বিষয়—তেগুলোও আংশিক বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তার নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার সাবলীলতা এনএসসির নেই। আইসিসির নিয়ম অনুসারে কোনো ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকা বারণ—এটি তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে যে তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিহিত করেছেন।

    এনএসসি যখন বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করে, সে তথ্য তারা আইসিসিকে ইমেইলে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেছে বলেও জানানো হয়। 이에 বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ ও ‘ভুয়া সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি বিসিবির সংবিধান ভঙ্গ করার পাশাপাশি আইসিসির সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত নিয়মও লঙ্ঘন করছে।

    বুলবুল আইসিসিকে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং নতুন এডহক কমিটিকে কাজ করতে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এনএসসির এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

    শেষে বুলবুল পুনরায় দাবি করেছেন—এডহক কমিটি ও তদন্ত প্রতিবেদন দুটোই অবৈধ, এবং হাইকোর্ট কোনো ভিন্ন রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি বলেই থাকবেন। তিনি চেয়েছেন দ্রুত আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক।