Author: bangladiganta

  • বিপুল ভোটে জয়ী জুলাই আন্দোলনের আলোচিত মুখ তন্বি

    বিপুল ভোটে জয়ী জুলাই আন্দোলনের আলোচিত মুখ তন্বি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের জুন মাসে আহত হওয়া তন্বি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি ১১,৭৭৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    গত বছর ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র ছাত্রী সানজিদা আহমেদ তন্বি। অসুস্থতার কারণে কিছু দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি আন্দোলনে অটুট থাকেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ফলে ছাত্রদল এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্যানেলগুলো তার জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। নিজেকে সমর্থন দিয়ে মোট ছয়টি প্যানেল অংশ নেয়নি ওই পদে। এই ছয়টি প্যানেল হল- ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে উঠা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

    এদিকে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) মোট ১৪,০৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,০৬৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমার পেয়ে ৩,০৩৮৯ ভোট ও শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩,০৬৮১ ভোট।

    জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এস এম ফরহাদ সর্বমোট ১০,৮৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫,২৮৩ ভোট। অপরাজেয় পর্ষদের মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪,৯৪৯ ভোট।

    এছাড়া এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দীন খান পেয়েছেন ১১,৭৭২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫,০৬৪ ভোট।

    বিশ্লেষণে জানা যায়, এবারের ডাকসুতে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ২৮টি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে ১৮টি হল সংসদে ১৩টি করে পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হল সংসদে মোট ২৩৪ পদের জন্য ১,০৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    অর্থাত্‍ এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯,০৮৭ জন। এর মধ্যে ১৮,৯৫৯ জন ভোটার রয়েছে পাঁচটি ছাত্রী হলে এবং ২০,৯১৫ জন ভোটার ছাত্র হলে। এই নির্বাচনে মোট ভোটপ্রাপ্তি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন বিভিন্ন পদে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৬২ জন ব্যক্তি ছাত্রী প্রার্থী। বিভিন্ন হলে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮টি হলে, যেখানে মোট পদ সংখ্যা ২৩৪। এসব পদে ভোটে অংশ নিয়েছেন মোট এক হাজার তিনজন প্রার্থী।

  • সরকার বাতিল করল ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন

    সরকার বাতিল করল ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন

    সরকার এখন অস্বাভাবিক এয়ার টিকির মূল্য বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩টি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করেছে। এসব এজেন্সি থেকে কোনও ধরনের এয়ার টিকিট ক্রয়-বিক্রয় বা অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক, যা এয়ার ট্রাভেলএজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, এ কে এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পৃথक আদেশে এই বাতিলকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। বাতিল হওয়া এসব ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে রয়েছে কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, সিটিকম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি, আরবিসি ইন্টারন্যাশনাল, মেঘা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার সার্ভিস, মাদার লাভ এয়ার সার্ভিস, জে এস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, হাসেম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফোর ট্রিপ, কিং এয়ার এভিয়েশন, বিপ্লব ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল, সাদিয়া ট্রাভেলস, আত-তাইয়ারা ট্রাভেলস এবং এন এম এস এস ইন্টারন্যাশনাল। সরকার জানিয়েছে, এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই এজেন্সিগুলো বেআইনি ভাবে গ্রুপ বুকিংয়ের নামে রুটের এয়ার টিকিট ব্লক করে রাখছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সাব-এজেন্টের মাধ্যমে উচ্চ দামে টিকিট বিক্রি করছে। তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে, অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে, কালোবাজারি এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত তারা। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৯ ধারার আওতায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় দু’টি এজেন্সি কাগজপত্র দাখিল করে, তবে অন্য ১১টি এজেন্সি কোনও তথ্য বা জবাব দেয়নি, যা নাগরিক অধিকার ও আইন লঙ্ঘনের শামিল। তদন্তে দেখা গেছে, তাদের কার্যকলাপ জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক ও নিয়ম-নীতির বিরোধী। ফলে, এই সকল কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনালসহ মোট ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ পথে যাত্রীর স্বার্থ রক্ষায় নানা সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও যেসব ট্রাভেল এজেন্সি, জিডিএস বা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

  • দেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার এলো

    দেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার এলো

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃढ़ হলো, যেখানে দেশের গড় মাথাপিছু আয় এখন ২৫৯৩ ডলার। এটি প্রতিফলিত হয়েছে নতুন বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে থাকা জর্ডানের মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার, যা বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশির। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম, যেখানে এর নির্ভরযোগ্য হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিছু সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার দেখিয়ে ছিল, যা এখনকার বাস্তব পরিসংখ্যানের সঙ্গে ততটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে আরও দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথাপিছু আয় এখন ২৬৯৩ ডলার, যা বাংলাদেশের তুলনায় মাত্র ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলংকার ক্ষেত্রে, এই সংখ্যা প্রায় ৫৫০০ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে বেশি। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬৪০ ডলার, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার কম।অন্যদিকে, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয় যোগ্য আফগানিস্তান, যেখানে এই সংখ্যা মাত্র ৪১৩ ডলার। সততার সাথে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা উন্নতির পথে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

  • অগাস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে অস্বস্তি রয়ে গেছে

    অগাস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে অস্বস্তি রয়ে গেছে

    গত আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে। তবে বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে খাদ্য বিভাগের মূল্যবৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যমূল্য সূচক ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ এই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.২৬ শতাংশ কমেছে।

    তবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। আগস্টে খাদ্য উপাদানের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে এবং বর্তমানে এটি ৭ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। جولাই মাসে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

    বিবিএসের তথ্যমতে, জুলাই মাসে সার্বিকভাবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি প্রায় ০.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

    এছাড়াও, আগস্ট মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে খাদ্য বিষয়ক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এই হার ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) একটি অনুষ্ঠানে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এটা এক রাতের কাজ নয়, সময় নেয়। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আগস্টে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে আমাদের লক্ষ্য ৫ শতাংশের নিচে মূল্যস্ফীতি রাখা।

  • স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে গেল

    স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে গেল

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম দুই হাজার ৭১৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা। এই আপডেটের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে, এটি এখন একেবারে ‘মূল্যবান’ থেকে যেন ‘মহামূল্যবান’ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করে। নতুন মূল্যู দাবি আজ সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৩ টাকা। তবে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রূপার দাম এখন এক ভরি জন্য নির্ধারিত ২ হাজার ৮১১ টাকা। অন্য ক্যারেটের জন্য যথাক্রমে, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম এক হাজার ৭২৬ টাকা।

  • অর্থমন্ত্রী: জলবায়ু পরিবর্তনে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, মাত্র ২ বিলিয়ন পেলে যায় জান বাজি

    অর্থমন্ত্রী: জলবায়ু পরিবর্তনে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, মাত্র ২ বিলিয়ন পেলে যায় জান বাজি

    অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তবে, দুঃখজনকভাবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আদায়ের সময় আমাদের জান বের হয়ে যায়। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ নামে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দুটি ধরণের দুর্যোগের মধ্যে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কম নয় আর প্রকৃতি ও মানুষের ক্ষতি একসঙ্গে বাড়ছে। তরুণরা এগিয়ে আসছে জানিয়ে সেটি ইতিবাচক দিক, তবে শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক পাঠানো উপায় নয়। আগুন লাগলে সাধারণ মানুষই প্রথম এগিয়ে আসে, সেটা দৃশ্যমান। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়গুলো আরও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের মতো প্রবল দুর্যোগপ্রবণ দেশে, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলায় বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যেখানে আগামীতে আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ন্ত্রণের আলোচনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংবাদ বেশি তুলে ধরতে হবে। জাপানের ছাত্ররা এ নিয়ে সচেতন, আমাদেরও এখন থেকে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বিষয়টি বোঝানো দরকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ, এখানে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের প্রকোপ বেশি। এজন্য আমাদের মধ্যে সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু, পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যুসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বিষয়গুলো তুলে ধরার গুরুত্ব স্বীকার করেন অতিথিরা। আজকের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

  • স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে, আবার বৃদ্ধি

    স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে, আবার বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দর আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের নতুন দামের ঘোষণা দিয়েছে। এই তথ্য জানানো হয় বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে। নতুন দাম আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    প্রতিটি ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ২৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দামে রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস, যা তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল।

  • ফখরুল জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে শঙ্কা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে

    ফখরুল জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনে শঙ্কা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে

    অযাচিতভাবে কিছু রাজনৈতিক দল বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনে অস্থিরতা এবং শঙ্কা সৃষ্টি করা চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন, তবে আমি বিশ্বাস করি তাৎক্ষণিক না হলেও সময় মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবং এই নির্বাচন জনগণের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আগামী সোমবার অনুষ্ঠিতব্য জেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনের জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়েছে, এবং আমরা আশাবাদী এটি সফল একটি অনুষ্ঠান হবে। বড়ো কথা হলো, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই সম্মেলন নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এছাড়া, জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের বক্তব্যে যখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ‘ক্লিন ইমেজ’ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। যোগাযোগের এই সময়, সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের উপস্থিত দেখা যায়।

  • বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    বিএনপি বললো, ফ্যাসিস্ট শাসনে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ক্ষমতায় আনবে

    ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা চলাকালে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আবার শক্তিশালী করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই উদ্দেশ্যে বিএনপিকে শক্তিশালী করে তুলতেই হবে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ কর্তৃক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। গণতন্ত্রের ধ্বংস, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ক্ষতি, পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার লুটেরূপে ধ্বংস হয়েছে। এই সময়টিতে বিএনপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলগুলো ব্যাপক সংগ্রাম ও লড়াই চালিয়ে গেছে। তাদের নেতাকর্মীদের অনেককে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে এবং চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ২৪শে জুলাই কেন্দ্রীয়ভাবে ছাত্র, তরুণ, শিশু, নারীসহ সর্বস্তরের জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে আসে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর জুড়ে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। ঠাকুরগাঁওয়েও গত ১৫ বছরে আমদানিন্তরে প্রায় ১২ জন শহীদ হয়েছেন। জুলাই মাসে চারজন শহীদ হয়েছেন। এই অঞ্চলসহ সমগ্র দেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা শতাধিক মামলা করে হাজারো গণতান্ত্রিক কর্মীকে হয়রানি ও নির্যাতনের পালা চালিয়েছে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি ঐতিহাসিক দল। আজ আমরা একটি মুক্ত পরিবেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির সম্মেলন করতে যাচ্ছি, এই উপলক্ষে আমরা আমাদের ১২ জন শহীদ সহকর্মীকে স্মরণ করছি। তিনি স্মরণ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতंत्रের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতीयতাবাদী দল গঠিত হয়, যা দীর্ঘ ৪৭ বছর আন্দোলন করে আসছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, প্রাণ দিয়েছে এবং কখনোই গণতন্ত্রের লড়াই থেকে সরে আসেনি।

    তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াও দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ফিরে এনেছেন। তিনি কোনদিন মাথা নত করেননি। সেই মহান নেত্রী এখনো দেশের নেতৃত্বে আছেন এবং তার জন্য আমরা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাই।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তিনি আশাবাদী যে, দেশের তরুণ ও এমন সব নেতৃবৃন্দের প্রতি সকলের নজর রয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে জাতি আবারও গণতন্ত্রের পথ শক্তিশালী করবে। তিনি বুঝানোর মাধ্যমে জানান, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনে দেশ ভেঙে গেছে, সব প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী করার জন্য বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, আমি নিজেও এই সংগ্রাম ঘরানার একজন।

    ২০১৭ সালে সর্বশেষ জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর নানা জটিলতার কারণে আর সম্মেলন হয়নি। তবে এখন সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে। সম্মেলনের জন্য সুবিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

    নেতৃবৃন্দের ধারণা, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গম আলী, ওবায়দুল্লাহ হক মাসুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শরিফুল ইসলাম শরীফ। এর মধ্যে শরিফুল ইসলাম গত রোববার রাতে তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এই নির্বাচনে মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকারে নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

    জেলা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল হান্নান হান্নু জানান, সম্মেলনে পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার মোট ৮০৮ জন কাউন্সিলর,সংগঠনের আরও ৪ হাজার নেতাকর্মী, বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ও সমাজকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • তারেক রহমানের আশঙ্কা: সহজভাবে নেওয়া ভুলের সংকেত

    তারেক রহমানের আশঙ্কা: সহজভাবে নেওয়া ভুলের সংকেত

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টি সহজভাবে নেয়া ভুল উদ্যোগ বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা যদি সব কিছু সহজ করে ভাবি, তাহলে বিপদে পড়তে পারি। এক বছর আগে তিনি বলেছিলেন, আমাদের পরিস্থিতি সহজ নয়, বরং এটা জটিল একপ্রকার।
    সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
    তারেক রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও জাতীয় ঐক্য কমিশন বিষয়ে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে অংশগ্রহণ করেছে। তারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছে, তবে কিছু বিষয় নিয়ে মতান্তর থাকায় সেগুলো দেশের জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনি বললেন, আসুন জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখি, তাদেরই শেষ কথা। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য জনগণের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
    তিনি আরও বলেন, ‘দেশে জবাবদিহিতা, নির্বাচনী ব্যবস্থা সবকিছু একসময় ধ্বংস করে দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করা হলেও, এখনও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে গণতন্ত্র ধুলোয় মিশে গেছে। শাসক দলের শোষণ, গুম, খুনের ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনে টানা একটি অন্ধকার যুগের শুরু করে।’
    তারেক রহমান স্মরণ করে, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যে স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ, তা এখন অনেকাংশে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশে এখনো স্বৈরাচার চেষ্টার কোনও সুযোগ নেই। গণতন্ত্রের জন্য যারা জীবনদান করেছে, তাদের আত্মত্যাগের বদলেই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন।
    বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আমাদের দেশে বিভিন্ন রাজপথে রক্তপাত, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছে সাধারণ জনগণ। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা, নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা—সবই আমাদের চোখে পড়ে। কিন্তু শেষমেশ বিজয় দেশের মানুষেরই হয়, শোষকরা পালিয়ে যায়। দেশের মুক্তি ও স্বাধিকার অর্জনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের জায়গা অপ্রতিরোধ্য।’
    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে নীতিও রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, অন্য দলগুলোরও নিজস্ব পরিকল্পনা ও নীতিসহ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বশীল রাজনীতির জন্য প্রয়োজন সবার মাঝে একত্রে কাজ করা। দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন, কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করা, বেকার সমস্যা কমানো ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের বক্তব্য দিচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, অবাঞ্ছিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, স্বৈরাচার ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশের জন্য সঙ্গত হবে না। সবাইকেই দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। সরাসরি বক্তব্যের পাশাপাশি যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’
    প্রসঙ্গত, সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখন যখন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই দেশের শত্রুরা আবার ষড়যন্ত্র শুরু করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন করতে চায় তারা।
    তিনি আরও সাবধান করে বলেন, যারা ভোটের পথে বাধা সৃষ্টি করার চিন্তা করছে, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা—ভুল পথে চললে দেশের মানুষ উপকারী হবে না। জনমত ও গণতন্ত্র রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।
    সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিনকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।