ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মনোনীত ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাদিক কায়েম সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক ও সুন্দর রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে কার্জন হলের চত্বরে তিনি এসব কথা বলেন। সাদিক কায়েম বলেন, আমি সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। সব কিছুই স্বাভাবিক ও সুবিন্যস্ত। যদি শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়, তবে আমি আশাবাদী যে আমরা জয়ী হব। এখন পর্যন্ত পরিবেশের সব কিছুকেই পজিটিভভাবে দেখছি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আমি মনে করি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ফলাফল আসবে। এ ছাড়াও, এবারের নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলে দলের মূল নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী, আপ বাংলাদেশ ও ইনকিলাব মঞ্চের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের জন্য তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবিরত চলবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটদানের জন্য লাইনে থাকা শিক্ষার্থীরাও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ সারা দিন বন্ধ থাকবে, যা আগামী বুধবার সকালের ৬টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
Author: bangladiganta
-

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী বলেছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ঢুকেছি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার পথে নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের নিয়ম ভাঙচুরের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি জানান, তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত থাকাকালে এই কথা বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিশেষ কার্ড বা পারমিশন দেয়নি, ফলে তাকে মেয়েদের হলে অবস্থিত ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি বলেন, আমি এ ঘটনাকে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ভোটের অংশ হিসেবে দেখছি এবং অভিযোগ করতে চাই না।
প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল সমর্থিত পক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে তারা অনিয়মের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এই কেন্দ্রটিতে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিচ্ছেন।
প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকেরা বাইরে থেকেও ভোট প্রার্থী ও প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায়। কিছু নারী ভোটার এই কার্যক্রমে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবাদ করেন, কিন্তু আবিদুল ও তার সমর্থকরা দাবি করেন, তারা ভোট চাইছেন না; তারা মূলত প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করছেন কারণ ভোটাররা এই নম্বরগুলো মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো প্রার্থী কেন্দ্রে ঢুকে ভোটের জন্য প্রার্থনা বা ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে না। এমনকি কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে এসব অনুমোদিত নয়।
প্রতিপক্ষের অভিযোগের মাঝে দেখা গেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রের কাছেই বুথ ও টেবিল স্থাপন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা কোনো নিয়মভঙ্গের কাজ করিনি। আমাদের হেল্প ডেস্ক কেন্দ্র থেকে অন্তত ১৫০ মিটার দূরে আছে।
অতীতে এই নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ওঠলেও, এ ফালতু অভিযোগ ও গুজব থেকে মুক্ত থাকাই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন। নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
-

গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় ইমামসহ ১৮ জন গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরু পাগলার মাজারে হামলা, পুলিশ বাহনের ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্যতম হলো স্থানীয় মসজিদের ইমাম লতিফ হুজুর, যিনি ঘটনার সময় পলাতক ছিলেন। আজ ভোরে তাকে মানিকগঞ্জের চর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে জানানো হয়, গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজার ভাঙা, মারামারিতে আহত, নিহতের ঘটনা, সম্পদ লুট, কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নুরাল পাগলার দরবারে অগভীর অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় জনতার এক দল। এই ঘটনার সময়, নুরাল পাগলার ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলস্বরূপ একজন নিহত ও দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পাশাপাশি, হামলাকারীরা নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেয়।
নুরাল পাগলার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. আজাদ মোল্লা (৫৫) সোমবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে।
-

ডাকসু নির্বাচনে পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের সময় কার্জন হলে এক ভোট কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা এক নতুন ঘটনা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের সময় এমন একটি পরিস্থিতির জন্য এক পোলিং অফিসারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যখন একজন শিক্ষার্থীকে দুইটি ব্যালট দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অধিদফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কার্জন হলে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে এক ভোটার ভুল করে একের বেশি ব্যালট পেয়েছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, জিয়াউর রহমান, তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই ঘটনা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল এবং অভিযোগকারী ভোটারও বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এরপর বিষয়টি দ্রুত সচেতনতা ও সতর্কতার সঙ্গে সমাধান করা হয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলার জন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্ঘটনা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
-

সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, এই দলের সঙ্গে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।
ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।
অপরদিকে, এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকেও একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
-

রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ
রংপুরে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মরদেহ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান মরদেহের গুলির চিহ্ন বা মৃত্যুর কারণ সুরতহালে যথাযথভাবে উল্লেখ না করতে পুলিশের একটি অংশের চাপ দিয়েছিলেন। এই তথ্য আশ্চর্যজনক এবং উদ্বেগজনক, কারণ এতে স্পষ্ট হয় যে, গোয়েন্দা ও তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষায় বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করছিল।
আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ জুলাই বিকেলে তিনি তাজহাট থানায় দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মরদেহ রয়েছে। প্রথমে আন্দোলনের ভিড় থাকায় তিনি তা দেখতে যাননি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আবার হাসপাতালে গিয়ে আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান, যেখানে তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।
এসআই তরিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, তিনি যখন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান তাকে স্পষ্টভাবে বলেন যে, রিপোর্টে লেখা যাবে না যে ওই ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি সত্য লিখতে চান, তখন তাকে না করার জন্য রেগে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হুমকি দেন। তিনি তাকে চাকরি খোয়ানোর কথাও বলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, 당시 পুলিশের একটি অংশ বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই মামলার পক্ষে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার তদন্ত ৬২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নির্দেশিত হয়েছেন। মামলার আর্জি ও অভিযোগ নিয়ে আদালতে শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান।
-

মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই
সেনার সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, কোনো আন্দোলন বা কোনো চক্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখার বা ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ নেই। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য ব্যক্ত করেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল স্টাফ কর্নেল মোঃ শফিকুল ইসলাম।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাসায় দুর্বৃত্তের সৃষ্টি করা মব বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে এবং এই গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যারা এ ধরণের অবাঞ্চিত কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনোই আমাদের সম্মান পায় না, বরং তাদের কঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে যখন এক মব সৃষ্টি হয়েছিল, তখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেনা কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও জানান, মবের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে। যেখানে যেখানে মব সৃষ্টি হয়, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কখনও কখনও কিছু বিলম্ব হয়, যা মূলত তথ্য সংগ্রহের জন্য। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে মোতায়েন করে, এরপর সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিলতা দেখা দিতে পারে, তবে সেনাবাহিনী কখনোই লুকোচুরি করে না, বরং সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
বিশ্লেষণে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নৃশংসভাবে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা মব সৃষ্টি করে আইন হাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে, আইনশঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী একা দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে, কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, একই ঘটনা যখন ঘটে, তখনই সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে যায়। কখনও কখনও বিলম্ব হয়, কারণ পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে একটু দেরি হয়। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
অবশেষে, রাজবাড়ীতে নুরুল হক বা ‘নুরাল পাগলারের’ মরদেহ পোড়ানোর ঘটনাসহ অন্য কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে তিনি জানান, পুলিশ যখন ঘটনাস্থল জানতে পারে, তখনই সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে।
-

প্রিয় কমেডিয়ান রেজিনাল্ড ক্যারলকে গুলি করে হত্যা
মার্কিন কমেডিয়ান রেজিনাল্ড ক্যারলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে ২০ আগস্ট রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি রাজ্যের সাউথহ্যাভেনে। নিহত শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সাউথহ্যাভেন পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বার্টন লেনে গুলির ঘটনাটি জানার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা রেজিনাল্ড ক্যারলের জীবন রক্ষার জন্য অপারেশন চালান, কিন্তু তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি হয়তো এই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশ ওই কমেডিয়ানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রিয় কমেডিয়ানের মৃত্যুতে তার সহকর্মী ও অনুরাগীরা গভীর শোকপ্রকাশ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা বিভিন্ন পোস্টে তার প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বের জন্য প্রশংসা এবং श्रद्धাঞ্জলি জানিয়েছেন। রেজিনাল্ড ক্যারলের ভাই জোনাথন ক্যারল এসব দুঃখজনক সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে আর্শীবাদ জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের জন্য এই সময়ে তিনি সাহস ও শক্তি পান।
-

জনপ্রিয় টিকটকারের দুঃখজনক মৃত্যু
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিকটকার মালিক টেইলর এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছে তার দেশের নর্থ ক্যারোলিনা অবস্থিত কনকর্ড শহর কর্তৃপক্ষ। তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর, যখন এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
কনকর্ড পুলিশ বিভাগ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানায়, ঘটনার দিন ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ল্যापিস লেন এনডাব্লিউ-তে একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুতই পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, গাড়িটি উল্টো হয়ে রাস্তার পাশে প্রায় ২০ ফুট গভীর এক খাদে পড়ে রয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই গাড়িতে একাই মালিক টেইলর ছিলেন। দেশটির ফরেনসিক বিভাগ ও কনকর্ড পুলিশের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, তিনি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশের অনুমান, অতিরিক্ত মদ্যপানে তার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
টেইলর মারা যাওয়ার পরে তার দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যাঁরাই তাঁকে চিনতেন, সবাই জানেন তিনি আশেপাশের সবাইকে হাসি ও আনন্দে ভরিয়ে তুলতেন। তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো ব্যক্তিত্ব।’
শোকবার্তায় দল আরও জানিয়েছে, ‘তুমি আমাদের মাঝে খুব অল্প সময় ছিলে, কিন্তু তোমার স্মৃতি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে। আমরা সব সময় তোমাকে মিস করব। তোমার আত্মা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছি।’
তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুর এই ঘটনায় তারা গভীর অক্ষমতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কারণ সবাই তার জন্য প্রার্থনা করেছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই তাকে পারিবারিক ও সামাজিক শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া কামনা করছেন।
-

শাহরুখ ও দীপিকা বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এবং হুন্দাই কোম্পানির ছয় কর্মকর্তা বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা কীর্তি সিং এই অভিযোগটি থানায় দায়ের করেছেন। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খবর উঠে এসেছে।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের জুন মাসে কীর্তি সিং একটি হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলেন। 그러나 তিনি অভিযোগ করেছেন, গাড়িটি ইচ্ছা করেই ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলছেন, রাজস্থানের এক হুন্দাই শোরুমের কাছ থেকে এই গাড়ি কিনে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে গাড়িতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি বলেন, যে গাড়িটি তার কাছে বিক্রি হয়েছিল, সেটি জালিয়াতির মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে।
প্রথমে তিনি এই জালিয়াতির বিষয়টি আদালতে অভিযোগ করেন, পরে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর নির্দেশে মথুরা গেট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে কীর্তি সিং জানিয়েছেন, ‘আমি ২০২২ সালে হুন্দাই আলকাজার গাড়ি কিনেছিলাম। গাড়িটি কেনার সময় আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতে গাড়িতে নানা ধরনের ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। বহু বার অভিযোগ করেও কোনও সমাধান হয়নি, এটা আমার এবং আমার পরিবারের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’
আসলে, কেন শাহরুখ ও দীপিকা এই অভিযোগের আওতায় এসেছেন? এর ব্যাখ্যায় কীর্তি বলছেন, ‘শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোন হুন্দাই গাড়ি কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তারা কোম্পানির খারাপ গাড়ির মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং করেছেন, তাই তাঁদের এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, শাহরুখ খান ১৯৯৮ সাল থেকে হুন্দাইয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন, আর দীপিকা পাড়ুকোন ২০২৩ সালে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কীর্তি সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, যা আগামী দিনগুলোতে একটি বৃহৎ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
