আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে খুলনা জেলার এসওএস শিশুপল্লীর সামনে একটি প্রাইভেটকারের সাথে যেকোনো এক অজ্ঞাত নারী রাস্তা পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ দ্রুতগামী এই প্রাইভেটকারটি তাঁকে জোরে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনি রাস্তার ওপরে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই নারী রাস্তা পার হচ্ছিলেন ঠিক ওই সময়ে, এবং ধাক্কার পর তিনি ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। স্থবির হয়ে পড়ে স্থানীয়রা, যারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে, পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাঠানো হয়েছে। পুলিশ দ্রুত গাড়ির চালককে আটক করেছে। ওই ঘটনার পরপরই সচেতন জনতা রাস্তার দু’পাশে যানবাহন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আহত বা অন্য কোনও ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: কবির হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।
Author: bangladiganta
-

সীমান্ত দিয়ে ১৪ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধায় রুখে দিলেন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত কার্যক্রমের মাধ্যমে বিজিবি ওই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। শুক্রবার দুপুর ১১টার দিকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি। এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতপুরের আশ্রয়ণ বিওপি-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুশইনের এ চেষ্টা করার জন্য অন্তত ৬ জন পুরুষ, ৪ নারী ও ৪ শিশু প্রস্তুত ছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ জাব্বার (৭২), তার ছেলে শেখ হাকিম (৪৩), শেখ ওকিল (৪০), শেখ রাজা (৩২), শেখ বান্টি (৩০), শেখ ওকিলের স্ত্রী শাবেরা বিবি (৩০), শেখ হাকিমের স্ত্রী শমশেরি বিবি (৩৮), শেখ রাজার স্ত্রী মাইনু বিবি (২৫), শেখ জব্বারের স্ত্রী আলকনি বিবি (৬২), শেখ হোসেনের স্ত্রী গুলশান বিবি (৯০), আর শিশুদের মধ্যে রয়েছে শাকিলা খাতুন (১১), নাছরিন আক্তার (১২), শেখ তাওহিদ (১১) ও আড়াই বছরের শেখ রুহিত।
বিজিবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা গোচরে আসার পর পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায়। এ পরিস্থিতিতে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মহিষকুন্ডি বিওপি-এর সুবেদার মোঃ আসাদুজ্জামান নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল ও বিএসএফের নিউ উদয় কোম্পানি কমান্ডার এসি অনিল কুমার নেতৃত্বে অন্য ৬ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সীমান্তের মূল পিলার ১৫৪/০৭ এস সংলগ্ন ভারতের চাইডোবা মাঠে এ বৈঠকটি বিকেল ১:৪০ থেকে ২:২০ পর্যন্ত চলে।
বৈঠকে বিজিবি বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের ঘটনায় গভীর প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের ফেরত পাঠানোর আবেদন জানায়। যদি তাদের স্বপ্রমাণিত হয়, তবে বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে নিয়ে যায়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা করে থাকলে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।
-

খুলনায় এনসিপি নেতাকে গুলির ঘটনায় আরও ২জন আটক
খুলনা মহানগরে এনসিপি শ্রমিক সংগঠনের নেতা মোতালেব সিকদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ও সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।তাদের মধ্যে একজন হলো ঢাকাইয়া শামীম এবং অন্যজন মাহাদিন। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে মোতালেব সিকদারকে গুলির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একজন, আরিফ হোসেন (৩৫), أيضاً র্যাবের হেফাজতে এসেছে।র্যাব জানিয়েছে, মোতালেব গুলিবিদ্ধ হলে তার সঙ্গে থাকা আরিফ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মোতালেব গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।জানা গেছে, গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর ১০৯ মজিদ সরণির আল-আসকা মসজিদের গলির ‘মুক্তা হাউস’ নামক বাসায় গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার। পুলিশ ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে অধিকাংশ প্রমাণ—গুলির খোসা, বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কার্যকলাপের আলামত—সহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে আহত মোতালেবের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি মোতালেবের নামের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ৬-৭ জনের নাম উল্লেখ করেন। গত বুধবার এই মামলাটি পুলিশি তদন্তে ডিবি বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।
-

দেশে-বিদেশে ৬৬১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ সংযুক্ত এবং অবরুদ্ধ
বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার করতে বাংলাদেশে মোট ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার সম্পত্তিসহ মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেশের বাইরে ও দেশে উভয় স্থানে সংযুক্ত ও জব্দ করা হয়েছে। এই তথ্য বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া এবং নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করার জন্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার চালু করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার সংক্রান্ত অগ্রাধিকার ১১টি কেসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত টিমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১৪টিতে চার্জশিট দাখিল এবং আদালত চারটে মামলার রায় দিয়েছেন। এর বাইরে, দেশের সম্পদমূল্য ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশের সম্পদমূল্য ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, মোট মিলিয়ে ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারিত ১১টি কেসের জন্য ২১টি মাল্টিলেটারাল অনুরোধ (এমএলএআর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দাখিল, সংশ্লিষ্ট দেশে এমএলএআর পাঠানো এবং মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিতের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নে এশিয়া প্যাসিফিক গ্র“প অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) আগামী ২০২৭-২০২৮ সালে চতুর্থ পর্যায়ের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করবে। এই ইভ্যালুয়েশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলিকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক ও সম্পদ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, সংসদ বিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের সচিব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউ এর প্রতিনিধিরা।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার কিনল ১৩ ব্যাংকের থেকে
চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে এই উদ্বোধনী পরিবর্তনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার (গতকাল) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৪ কোটি ডলার কিনেছে।
এটি মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এই ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ডলার কেনার পরিমাণ পৌঁছেছে ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন বা ২.৮০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনে দেশের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ১২৯ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে জুলাই থেকে ডিসেম্বর, রেমিট্যান্স এসেছে মোট ১১০৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি, যা হুন্ডি প্রতিরোধে সহায়ক হয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, সদ্য সমাপ্ত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এই অর্থের বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।
-

০১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমতে পারে
অর্থনৈতিক দপ্তর নতুন করে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন পেলে তা কার্যকর হবে। এরপর আন্তঃবিভাগীয় শাখা (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করবে। তথ্যসূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯.৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গড়ে এই হার শতকরা Sh0.৫ পয়েন্ট পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই বিষয়ে এখনো তার হাতে কোনও প্রস্তাব পৌঁছায়নি, তবে ব্যাংকাররা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর পক্ষে। সরকারের সিদ্ধান্ত জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কম বিনিয়োগে বেশি আর বড় বিনিয়োগে কম মুনাফা নির্ধারিত হবে। নির্দিষ্ট করে, ৭.৫০ লাখ টাকা বা তার কম মূল্যের বিনিয়োগে বেশি মুনাফা প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও, এর বেশি বিনিয়োগে হার কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন সরকার নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হার নির্ধারণ করেছিল। তখন গড় মুনাফা কিছুটা কমানো হয় এবং ছয় মাস পরে নতুন হার নির্ধারণের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ৩১ ডিসেম্বর এই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, মুনাফা বাড়বে না বা কমবে, এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের সুপারিশ পেলে, পরিপত্র জারি করা হবে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যায়ের সঞ্চয়পত্র হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, যার বর্তমানে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফার হার ১১.৯৩ শতাংশ এবং ৭.৫০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এর আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি। একইভাবে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭ লাখের কম বিনিয়োগে ১১.৯৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে এই হার যথাক্রমে ১১.৮৩ ও ১১.৮০ শতাংশ। তিন মাসে একবারের ভিত্তিতে মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও, বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে, কিছু পরিবর্তন হয়নি। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবেও এই হার অপরিবর্তীত থাকবে। তবে, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড ও সাধারণ ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তীত থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবসায়ের সংগঠন বিএবি-র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার কারণে বড় অঙ্কের অর্থ সরকারি খাতে যায়। হার কিছুটা কমলে, অর্থ সরাসরি ব্যাংকিং খাতে ফিরে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে মোট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ ঋণ ছিল নেতিবাচক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর শেষে, সরকারের মোট সঞ্চয়পত্রে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।
-

দেশের ইতিহাসে সোনার দাম রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে
দেশের বাজারে তৃতীয় দফায় সোনার দাম আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরি প্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা যোগ করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম ধার্য হলো ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন দাম প্রথম বা দ্বিতীয় দফার তুলনায় আরও বেশি, যা সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা দেশীয় হস্তনির্মিত সোনার দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আগে, ১৫ ডিসেম্বর দেশে দ্বিতীয় দফার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরি প্রতি ১৪৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল এবং নতুন দাম ছিল ২২ ক্যারেটের সোনার জন্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনা প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
দামে বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দাম ধার্য আছে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।
-

বাংলাদেশে রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্কমুক্তি ঘোষণা
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে প্রায় গবাদি মানুষের এ বদলে যাওয়া চাহিদা মেটাতে দেশের খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুলভ দাম নিশ্চিতের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশাল একটি ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আবেগ ও এই মাসে সাধারণ মানুষের খাজনা ও প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনা করে খেজুরের আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খেজুর আমদানির জন্য কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন আগামী ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
অতিরিক্তভাবে, বাজেটের সময় বাংলাদেশ সরকার আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে, খেজুরসহ সকল ফলের আমদানিতে অগ্রিম আয়কর হার ১০ শতাংশ থেকে घटিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গত বছর চালু থাকা ৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছাড়ও চলমান থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে খেজুরের আমদানিতে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে, যা সরবরাহের স্তর উন্নত করবে এবং বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে এনবিআর। বিশেষ করে রমজানে ইফতারের জনপ্রিয় উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়, তাই এই ঘোষণা বাজারে নিশ্চিন্ততা ও稳定তা আনবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের এই উদ্যোগ ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে, পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্যও লাভজনক। ফলে রমজান মাসে খেজুরের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও স্বাভাবিক দাম বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
-

ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামকে মনোনীত করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সম্মেলন, যা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই বিশাল সম্মেলনে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন ২০২৬ মেয়াদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নুরুল ইসলাম সাদ্দামকে নির্বাচিত করা হয়। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত সভাপতি পরবর্তীতে সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। জানা গেছে, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে, এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নরত। তাঁর এই দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
-

ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, আর নতুন সেক্রেটারি জেনারেল পদে মনোনীত হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের নেতারা তাদের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করেন।
অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রेटারি জেনারেল নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব পালন ও নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করুন।”
নির্বাচনে নবনির্বাচিত সভাপতি, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, এর আগে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন উদ্যোক্তা অর্থনীতিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমায় পাঠরত।
অন্যদিকে, সেক্রেটারি জেনারেল পদে নির্বাচিত সিবগাতুল্লাহ সিবগা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। তবে, ২০২৫ সালের সেশনে তিনি কেন্দ্রীয় শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন।
