জ্বালানি তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও ফিলিং স্টেশনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য সরকার নতুন একটি সংশোধিত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে, যার নাম ‘ফুয়েল পাস’। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকার দু’টি ফিলিং স্টেশনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে, রেজিস্ট্রেশনকারীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন মালিকরা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী ব্যবহারকারীরা রাজধানীর আসাদ গেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বেশ কিছু ব্যবহারকারী ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তবে অনেকেই এখনও পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য আলাদা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ফুয়েল পাসের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সহজ। fuelpass.gov.bd-এ প্রবেশ করে চার ধাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে, যা বিআরটিএ’র ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। পরে মোবাইলে এসএমএস আকারে ওটিপি আসবে, তার মাধ্যমে যাচাই করে বাকি তথ্য পূরণ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির নিবন্ধন বই (ব্লু বুক), ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারের পদ্ধতিও খুব সহজ। গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ডাউনলোড করে, সাইন আপ করে নিজের গাড়ির তথ্য ও জ্বালানির বরাদ্দ দেখতে পারবেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে, তা সরাসরি দেখতে পাবেন। এছাড়া, অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। তেমনি, আগের লেনদেনের বিস্তারিত হিসাবও ‘হিস্ট্রি’ অপশনে দেখা সম্ভব।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
Author: bangladiganta
-

ফুয়েল পাস অ্যাপের রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার কিভাবে করবেন সহজে
-

আবু সাঈদ ভেবেছিলেন মানুষ তার পাশে থাকবেন, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল: ট্রাইব্যুনাল
জুলাই মাসের গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় এবং পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন। বিচারকরা রায় পড়ার সময় উল্লেখ করেছেন, সে সময় পুলিশ সদস্যরা আবু সাঈদকে বুক পেতে দাঁড় করিয়েছিল, কিন্তু তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিার সকাল ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে এই রায়ের সূচনা হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় পড়ার শুরুতে বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয়ভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন। সে বিশ্বাস করেছিল, সামনে থাকা মানুষগুলো তার শত্রু নয়, তারা তার ক্ষতি করবে না। কিন্তু সে তখন বুঝতে পারেনি, তারা অমানুষ হয়ে গেছে।’ এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ শুরু হয়, যা বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর বিবৃত করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় অষ্টম আসামিদের মধ্যে ছয়জনকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে সাবেক এএসআই আমির হোসেন, শরিফুল ইসলাম (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর), সুজন চন্দ্র রায় (কনস্টেবল), ছাত্রলীগ নেতা ইমরাস চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে পুলিশ গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ, দুই হাত প্রসারিত অবস্থায়। তার বীরত্বের এই মুহূর্তের ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওই আত্মোৎসর্গের বিচার স্বীকৃতির পথে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
-

বিল উত্থাপন করতে থমকে গেলেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে বিল উত্থাপন করতে গিয়ে কিছুটা থমকে পড়েন শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। সংসদের বার্তা দেওয়ার সময়ে বিলের সঠিক প্রস্তাবনা পাঠে সমস্যা হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ severalবার তাকে পুনরায় বলার অনুরোধ করেন।
সকাল ১১টার দিকে ১২তম দিনের অধিবেশন চলাকালে প্রতিমন্ত্রী ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩’ সংশোধনের প্রস্তাবিত খসড়া—’বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করতে গিয়ে পুরোটা স্পষ্টভাবে পড়তে পারছিলেন না। একাধিকবার শব্দ ধরে না পড়ায় স্পিকার দ্রুত বলে উঠেন, ‘‘আবার বলুন।’’
প্রতিমন্ত্রী পরে পেশকৃত বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনা করা হোক।” স্পিকারের অনুরোধে তিনি এই বাক্যটি পুনরায় জোর করে পেশ করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিলটি সংবিধানানুগভাবে উত্থাপন হয়ে সংসদে তুলনা হয়।
ঘটনাটি ছিল সংক্ষিপ্ত ও নির্বিঘ্ন; এরপর সংসদে বিলটি প্রকৃতভাবে আলোচনা ও ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়। স্পিকারও পরিস্থিতি সহজে সামাল দিয়ে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী বিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করান।
সংক্ষেপে, গেজেট ও প্রস্তাব পাঠের ছোটখাটো বাধা সত্ত্বেও প্রতিমন্ত্রী পুনরায় ঠিকভাবে বিলটি উত্থাপন করতে সক্ষম হন এবং ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ সংসদে পাশ হয়ে যায়।
-

প্রতিনিধি সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে পাঁচটি স্থানীয় সরকার বিল পাস
জাতীয় সংসদে ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে’’ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি সংশোধনী বিল কণ্ঠভোটে পাস করা হয়েছে। বিরোধীরা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুললেও সরকার বলছে, স্থানীয় সেবা বজায় রাখা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার উত্থাপিত ও পাসকৃত বিলগুলো হচ্ছে — স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; জেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬; স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল, ২০২৬; এবং স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল, ২০২৬। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলগুলো তোলেন।
সরকারি যুক্তি ও ঐতিহ্যগত ব্যাখ্যা
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, পলাতক ছিলেন বা আত্মগোপনে ছিলেন; এর ফলে স্থানীয় সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল; এখন তা আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সংশোধনীগুলো স্থায়ী প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধানও বাতিল করা হচ্ছে, যা বিরোধীদের আপত্তি ছিল না বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
বাঁচিয়ে রাখা বনাম সংবিধানগত প্রশ্ন
জেলায় (জেলা পরিষদ) সংশোধনী বিল নিয়ে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যশোরের সাংসদ গাজী এনামুল হক বলছেন, বিলটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১, ৫৯ ও ৯৩-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক; সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি অতীতের আদালতের রায়ও টেনে এনে বলেন, স্থানীয় সরকার ভেঙে সরকারি কর্মকর্তা বসানোর বিষয়ে অতীতে আদালত আপত্তি জানিয়েছে।
পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা নিয়ে বিরোধীদের আশঙ্কা
পৌরসভা বিল উত্থাপনের সময় পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ার কথা নির্বাচিতদের মাধ্যমে; অনির্বাচিত প্রশাসক বসানো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি’’ শব্দটির কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড না থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আশঙ্কা দেখান যে ভবিষ্যতে এটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতে পারে।
সিটি করপোরেশন বিলের সময় এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ বলেন, এই বিধান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে ‘‘দলীয়ভাবে পছন্দের লোক’’ বসানোর পথ খুলে দেবে এবং এভাবে আইন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে কালো দাগ হয়ে থাকবে। মীর শাহে আলম জবাবে জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের বিধান আরও স্পষ্ট করা হয়েছে; পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এলাকায় কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতাও যুক্ত করা হচ্ছে।
উপজেলা সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলছেন, একই ধরনের আইন বারবার আনা হলে তা ভবিষ্যতে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে; তিনি দাবি করেন, আইন করলে নির্দিষ্ট দোষ প্রমাণিত হলে তবেই অপসারণের বন্দোবস্ত রাখা উচিত। প্রতিমন্ত্রী আলাদা করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আইন পাস হলে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পূরণ করা হবে এবং সরকারের উদ্দেশ্য স্থানীয় সরকারে স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখা নয়।
ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কে পাস হয়। বাকি চার বিল উপস্থাপনার সময় তীব্র তর্ক-বিতর্ক ও আপত্তি থাকলেও সবই কণ্ঠভোটে পাস করে। জেলা পরিষদ ও পৌরসভা বিল পার হওয়ার পর বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
এক দিনে ৩১টি বিল
দিনটি ছিল আইনপাশ করার দিক থেকে ব্যস্ত—সাংসদে একই অধিবেশনে মোট ৩১টি বিল পাস করা হয়, যার মধ্যে স্থানীয় সরকারের ওপরের পাঁচটি সংশোধনী ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, বাংলাদেশ গ্যাস সংশোধন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিলসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিল রয়েছে।
নিষ্কর্ষ
সরকার বলছে, অন্তর্বর্তী সময়ের দেওয়া সুবিধাগুলোকে আইনে রূপ দিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও সেবা সচল রাখা হচ্ছে এবং তা নির্বাচনের মাধ্যমে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বিরোধীরাও বলছেন, ‘‘বিশেষ পরিস্থিতি’’–এর অনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রেখে দেয়া হলে তা ভবিষ্যতে দমন বা রাজনৈতিক ব্যবহারের বিপদ ডেকে আনতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা ও সংবিধান সম্মত ব্যবস্থা রক্ষা করাই তর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে।
-

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদের পথে
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি দলীয়করণ করে চলছে — যা তিনি নতুন ফ্যাসিবাদ এবং একটি ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের নতুন স্বৈরাচার রুখে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। এর আগে বিরোধী দলটি গুম-প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত কয়েকটি বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের অধিবেশনে এমন কিছু বিল উত্থাপিত হয়েছে যা স্পষ্টভাবে জনসাধারণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। আমরা আমাদের বক্তব্য জানাতে চাইলে সংসদে আমাদের বক্তৃতার সময় অত্যন্ত সীমিত রাখা হয় — সাধারণত দুই থেকে ছয় মিনিট। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কোনো সময়সীমা ছাড়াই ঘণ্টা ঘন্টার বক্তৃতা করেন। স্পিকারের এই ধরনের ভারসাম্যহীন আচরণ সংসদীয় রীতির পরিপন্থী এবং এটি বিরোধী দলের কণ্ঠরোধেরপ্রচেষ্টা বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আমরা বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন দেখতে চাই। কিন্তু সরকার এমন কিছু বিল পাস করছে যার ফলে ক্ষমতাসীন নির্বাহী শাখার হাতে বিচারকের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ চলে আসছে। সরকারের কার্যক্রমে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যে নিরপেক্ষ অধ্যাদেশ করেছিল তা বাতিল করে পুরনো ব্যাখ্যেয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে, তার দাবি, বিচার বিভাগে অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব ফিরে আসবে এবং অতীতে যেমন দলীয় বিচারপতির জন্ম হয়েছে ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
স্থানীয় সরকারের ওপরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। জানানো হয়, জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরিয়ে আপৎকালীন-ভাবেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে উল্লেখ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা গেলো না—কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই তা করা উচিত—তবে সরকার কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই স্থানীয় স্তরগুলোকে দলীয়করণ করেছে, ফলে স্থানীয় সরকারি ব্যবস্থাই ধ্বংসের পথে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরার কলঙ্কিত নির্বাচনের মতোই এইবার বগুড়া ও শেরপুরে একই ধরনের পদ্ধতি দেখা গেছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় — এ কথা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে একজন কর্মী হত্যার পর আরও একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবী করছি, বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি এবং ভবিষ্যতেও সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার রক্ষায় কথা বলব। তবে যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো আইন পাস করা হয়, আমরা আমাদের কণ্ঠ আবারো উচ্চারণ করব এবং জনগণের সাথে মিলে তা প্রতিরোধ করব—যেভাবে অতীতে ফ্যাসিবাদ রোধ করা হয়েছিল, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ তা রোধ করা হবে বলে তিনি জোর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী জোটের several শীর্ষস্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
-

যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতির হার ১২% ছোঁতে পারে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ বাড়বে। প্রধান প্রতিকূলতার ধারা হবে টাকার মানের অবমূল্যায়ন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া — যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে বাড়াবে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে চাপ তৈরি করবে।
প্রতিবেদনে মডেলগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয়, ডলারের হার ও রিজার্ভ ব্যবহারকে ধরা হয়েছে। একটি কন্ডিশনাল হিসাব অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম ৭০% বেড়ে যায় এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০% বাড়ে, আর একই সময়ে টাকার মান প্রথম প্রান্তিকে ৫% এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৫% অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির উপর সমন্বিত ধাক্কায় হার বাড়ে প্রায় ১১.৬৭%—এ সময় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ৯.৫৬%। এই কেসেই রিজার্ভও কমে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ডলারের মাপ থেকে নেমে আসতে পারে ২ হাজার ৬০৬ কোটি ডলারে।
একটি আরও তীব্র পরিস্থিতি ধরলে—যেখানে প্রথম প্রান্তিকে টাকার অবমূল্যায়ন ৫% এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১০% ধরে নেওয়া হয় এবং জ্বালানি তেলের দাম অনিয়মিতভাবে বেড়ে যায়—তাহলে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ১২.২৮% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় রিজার্ভ কমে পড়ার সম্ভাব্য পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে আরেকটি সঙ্কেত ছিল যে, বর্তমান ভিত্তি অনুযায়ী রিজার্ভ ৩১.১২ বিলিয়ন থেকে ২৪.২৪ বিলিয়ন (অর্থাৎ প্রায় ২,৪২৪ কোটি ডলার) পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
তবে প্রতিবেদনে সতর্কতা জুড়ে বলা হয়েছে যে এই সব হিসাব ধারণাভিত্তিক; মডেলগুলোতে তেল ও ডলারের দাম ধরে নেওয়া হয়েছে। যদি বৈশ্বিক তেলের দামে আকস্মিক বড় ধরনের পরিবর্তন না ঘটে, তবু ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১০.৫%-এর মধ্যে থাকতে পারে বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
পূর্বের বাস্তব চিত্র হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১% এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে রোববার পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি ডলার।
রিপোর্টে নীতিগত পরামর্শও দেওয়া হয়েছে — আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং রিজার্ভে চাপ পড়বে। মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ডলার বিক্রি করতে হতে পারে, যার ফলে রিজার্ভ দ্রুত কমে যাবে। ফলত, রিজার্ভ রক্ষা ও বাজারে যোগান শোধন করতে বিনিময় হারে কিছুটা নমনীয়তা আনতে হতে পারে, অথবা দরকার পড়লে ডলারের দাম বাড়াতে হবে। একই সাথে সরকার যদি অভ্যন্তরীণভাবে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করে এবং বাজারে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখে, তাহলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সংক্ষেপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ থেকে পরিষ্কার যে — জ্বালানি তেল ও ডলারের দামের অস্বাভাবিক উত্থান টাকার মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোক্তা মূল্যস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে। তাই সরকার ও নীতিনির্ধারকরা সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলে ক্ষতিকর পরিণতি মোকাবেলা করা সম্ভব। সূত্র: যুগান্তর অনলাইন
-

সিএসআর ব্যয় অর্ধেকের কমে ৩৪৫ কোটি, ১৭ ব্যাংক ২০২৪ সালে লোকসানে
২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে বড় ধাক্কা লেগেছে—সেই বছরে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। আর এর প্রভাব পরের বছর, ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবে দেখা গেল: ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) বছরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে।これは আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশের কম।
গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সবচেয়ে নীচু ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; তার তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমে গেছে।
আসল ধারাবাহিকতাও উদ্বেগজনক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।
খাতজোড়া বিশ্লেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়কার ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসানের হিসাবও উন্মোচিত হয়েছে। ফলত অনেক ব্যাংকের খরচ কাটা এবং সিএসআর ব্যয় হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকারদের একটি অংশ বলছেন, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত; সেই চাপ কমায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা এসব অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলায় এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি—৩৬%—ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় বিপরীতে খরচ কমে হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে।
রিপোর্টে দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর-এ একটাও টাকা খরচ করেনি। এগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।
আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।
সম্প্রতি এই সংকটকে মোকাবিলা করতে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরানো যায় এবং গ্রাহক ও অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি কমানো যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও অবিক্রিয় সম্পদ ও খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়াই জরুরি, যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করা যায়।
-

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব
বর্ণনা
বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক আঘাত লেগেছে; অভিযোগ অনুযায়ী অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরিধি ও ধরন কেবল ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — বরং ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামরিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার কৌশলে গভীর ইঙ্গিত বহন করে। তবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে এই ধরনের ঘটনাসমূহের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে; নীচের বর্ণনা মূলত বিভিন্ন প্রতিবেদনে থাকা দাবির সংকলন ও বিশ্লেষণ।
ক্ষমতার কেন্দ্রেই আঘাত (প্রতিবেদনভিত্তিক)
কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও এই হামলার শিকার হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি ঘটেছে, যা দেশীয় প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ে বড় ধরনের জটিলতা ডেকে আনতে পারে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে—শীর্ষ পর্যায়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যক্তিদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ দেশটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি তৈরি করেছে।
সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি
রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড স্তরে একের পর এক বড় ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ধাক্কা সামরিক সমন্বয় ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রভাব পড়েছে সামরিক স্টাফ, অপারেশন প্রধান ও কৌশলগত প্ল্যানিং বিভাগে—ফলস্বরূপ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং প্রতিক্রিয়া নেয়ায় সময় ও দক্ষতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি ও আঞ্চলিক শক্তিতে প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু ছিল। আইআরজিসির কয়েকটি শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—প্রতিবেদিতভাবেই আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হলে এই কর্মসূচির গতি ও সক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক উপস্থিতি দুর্বল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
গোয়েন্দা কাঠামোয় ধ্বস
রিপোর্টগুলোতে ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গুরুতর ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারীর মৃত্যু গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয়হীনতা ও আভ্যন্তরীন দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্যবস্তু
কিছু রিপোর্টে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরপর হামলায় পারমাণবিক প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূলের মাধ্যমে ওই কার্যক্রমে পরিচালকীয় স্তরে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা দেখায়—যা সুপরিকল্পিত এবং তথ্যভিত্তিক অপারেশন হওয়া নির্দেশ করে।
কুদস ফোর্স ও প্রক্সি নেটওয়ার্কে প্রভাব
কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে কুদস ফোর্স ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করা হয়েছে; এর ফলে সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের সক্রিয়তা ও নির্দেশনামূলক ক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি প্রক্সি ইউনিটগুলোর সমন্বয় ও নেতৃত্ব প্রদানে ফাঁক তৈরি করতে পারে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব
প্রতিবেদনগুলো বলছে যে বাসিজ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষতির ফলে স্বাধিকার ও বিক্ষোভ দমন ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এগুলো দেশের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
কৌশলগত মূল্যায়ন ও প্রতিকূলতা
জরুরি বিশ্লেষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলে: প্রথমত, উচ্চস্তরের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশনগুলি ইঙ্গিত করে যে প্রতিপক্ষের কাছে তথ্য-ভিত্তিক পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল; দ্বিতীয়ত, অপারেশনগুলো অত্যন্ত নির্ভুল ও পরিকল্পিত হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের ব্যবহার পরিলক্ষিত; এবং তৃতীয়ত, ধারাবাহিক নেতৃবৃন্দের ক্ষতি ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে দূরপ্রসারীভাবে দুর্বল করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পথ
ইরানের সামনে এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—কেনা নতুন নেতৃত্ব বিকাশ করা এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কৌশল ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়াসও জরুরি। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের নীতিনির্ধারণ ও স্থিতি পুনর্গঠন জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রদক্ষিণ হতে পারে।
সতর্কতা
উপরের বিশ্লেষণটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিবেদনে থাকা দাবির ভিত্তিতে পুনর্লিখন; নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সরকারি বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ঘটনাগুলো সম্পর্কিত চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও স্থির উপসংহার টানা রিপোর্টিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করবে।
-

৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুনরায় খুলে দেয়। প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর এই প্রথম সেখানকার ফজরের নামাজে অংশ নেন তিন হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি মুসল্লি — যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর ঘটে।
অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর ভিড় করে মানুষ আঙিনায় ঢুকছে এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে আসায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আরও কিছু ক্লিপে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে এবং মুসল্লিদের ব্যবস্থা করছে।
ইসরায়েল পূর্বে মসজিদটি বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই যুক্তি প্রশ্ন করে বলেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। একই সময়ে অন্যত্র বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, এই সময়কে ব্যবহার করে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে—যেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি ও অনুমোদিত কার্যক্রম নির্ধারণের মাধ্যমে বাস্তবতা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছে।
পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্থাপিত ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুসারে পরিচালিত হতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মসজিদের প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এই নিয়ম লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের মসজিদে প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়ে এসেছে, অনেকে তাদের সম্মতি ছাড়াই যাওয়ায় বিরক্তি বেড়েছে।
মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবারও প্রায় প্রতিদিনের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং সেই সময়ও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার পরই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢুকছে; অনেককে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচছে দেখা গেছে।
যুদ্ধের পূর্বে এই ধরনের প্রবেশ সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ হত—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই নিয়ম ২০০৩ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়; তখন সীমিত সংখ্যক গোষ্ঠীকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তী বছরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
ইরান-সংকটের আগে অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০ পর্যন্ত, মোট ছয় ঘনাঘণ্টার বেশি সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে, এটি স্ট্যাটাস কোর ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার লক্ষণ, বিশেষ করে চারত্রিশ দিনের বিরতির পর মসজিদ পুনরায় খোলার পরিপ্রেক্ষিতে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
-

খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নয় মাস বয়সী শামীমের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শামীমকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অভিযোগ, শিশুটি হামের লক্ষণ দেখাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে একটু সুস্থভাবে দেখায় ভেবে তাকে নিয়ে পুনরায় ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে শিশুটির শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠায় তারা দ্রুত যুক্ত করে শিশুটিকে আবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম বলেন, হামের কারণে শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির টনসিল ও ব্রংকাইটিসের উপসর্গও ছিল। বাসায় ফেরার পথে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সংক্রান্ত আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং ঘটনার বিস্তারিত পরীক্ষার তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।