Author: bangladiganta

  • অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বর্তমানে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার বা অন্য ভাষায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর একই সময় ছিলো ১৩৭১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় মোট আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর পাশাপাশি রপ্তানি পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ছে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য দেশকে এখনই আমদানির নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যথায় দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে দেশের বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ৪৩৮৭ কোটি ডলার। অপর দিকে, রপ্তানি হয়েছে ৩০০৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই আকাশচুম্বী আমদানির কারণে পণ্যবাণিজ্যে চলতি বছরে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও ভোক্তা চাহিদা বেশি থাকায় দেশ বৃহৎ পরিমাণে আমদানি করছে, যার ফলশ্রুতিতে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে। তবে দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখনো সামান্য ঋণাত্মক থাকলেও, পরিস্থিতি উন্নতির পরিবর্তে আরো বেশি চাপের মধ্যে পড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে চলতি অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যা আগের বছর একই সময়ে ছিলো ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির দিকে, কারণ সামগ্রিক লেনদেনের হিসাব ভালো অবস্থায় রয়েছে। প্রথম ৮ মাসে প্রবাসীরা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

    এছাড়া, দেশের বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি পাচ্ছে দুটো ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, এই সময়ে ব্যাংকগুলো প্রাপ্ত এফডিআই ১০৬ কোটি ডলার থাকলেও চলমান অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ৮৭ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা নেতিবাচক অবস্থায় এসেছে; প্রথম ৮ মাসে নিট বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের মতোই নেগেটিভ থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সূচকীয় পরিবর্তন হয়েছে।

  • ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতে লোকসান ও সিএসআরে হ্রাস

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বছর ছিল। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন আর্থিক সংকটের কারণে বেশ কটি ব্যাংকই নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সাফল্য অর্জনকারী ব্যাংকগুলোও প্রত্যাশিত মাত্রায় লাভ করতে পারেনি। এর ফলে দেশের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতেبان্কগুলোর ব্যয় অনেকখানি কমে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬১ টি ব্যাংক মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকার সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে। এটি আগের বছর থেকে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই অন্তর্মুখী প্রবণতা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে এসেছে। আগে ২০১৫ সালে সবচেয়ে কম ব্যয় ছিল ৫১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে, যা খাতের জন্য নতুন অন্ধকারের ইঙ্গিত দেখাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলো এই খাতে মোট ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে তা ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। ফলে, দুই বছরের ব্যবধানে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ একেছ ৫১৩ কোটি টাকার বেশি, যা প্রায় ৪৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস দেয়।

    বিশ্লেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। একই সময় বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে অনিয়ম, লুটপাট, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে। এর ফলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার পেছনে সব সময়ের আসল আর্থিক ছবি উন্মোচিত হয়। এছাড়াও, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত ব্যাংক লোকসানের হিসাব স্পষ্ট হয়।

    বিশেষ করে শরিয়া ভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এসব ব্যাংকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বিভিন্ন দুর্বল ব্যাংকের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের হ্রাসের পিছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা দরকার। আগে রাজনৈতিক সরকার সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ সৃষ্টি করত। শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বা অন্যান্য দানশীল কার্যক্রমে ব্যাংকগুলোকে অর্থ ব্যয় করতে বলা হত। অনেক সময় এই ব্যয়গুলো প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেত। কিন্তু ২০২৪ সালের সালে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই চাপ অনেক চাপ কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বিবেচনা করে তুলনামূলকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অব্যবহারযোগ্য বা অননুমোদিত খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বাধ্য। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় করতে বলা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অন্য যেকোনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যয় করা যাবে।

    তবে বাস্তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না বললেই চলে। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্য’ খাতে। শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে তা ছিল উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মাত্র ১০ শতাংশের কিছু বেশি ব্যয় হয়েছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। এগুলো হলো-জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, সরেজমিনে দেখা গেছে, এই খাতে ব্যয় করা ব্যাংকের মধ্যে বেশ কিছু ব্যাংক লোকসানে চলে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    অতিরিক্ত উল্লেখ্য, এসব ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক, যদিও মুনাফা অর্জনে না পারলেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে-এবিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

  • অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    অভ্যুত্থানের আশঙ্কা: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবারও ঘটতে পারে সংঘর্ষ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সরকার যদি ২০২৪ সালে অর্জিত গণতান্ত্রিক চেতনা ও সংগ্রামের মূল্য রক্ষা করতে না পারে, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের অভ্যুত্থান ও অরাজকতা ঘটে যেতে পারে। তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন রোববার (৫ এপ্রিল) দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

    আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস বলছে অন্য কথা। ৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকট অর্জন যদি সংরক্ষিত না হয়, তখনই ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো বৃহৎ পরিবর্তন ঘটে। তাই, যদি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ও চেতনা রক্ষার বিফলতা হয়, তবে পরের বছরগুলোতে আবারও অশান্তি ও বিপর্যয় আসতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় অস্বীকার, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর আড়ালে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে নির্বাহী বিভাগের নেতারা ক্ষমতা রাখছেন। এই প্রক্রিয়া বিরোধী দলের ভোটারের জন্য ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানের বিরোধী।

    তিনি আরও উদ্বেগ ব্যক্ত করেন, ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা বেড়েছে। আওয়ামী শাসনামলে ১৮-১৯টি সংস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ফোনের উপর নজরদারি চলে, যা আইনী বাধ্যবাধকতা ছাড়াই হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ক্ষমতা কিছুটা কমে আসলেও বর্তমান সরকার আবারও এই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে আবারও নজরদারির ক্ষমতা চলে এসেছে।

    এনসিপির নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ফ্যাসিবাদী রূপ নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যদি সরকার গণভোটের রায় মানতে না চায়, তাহলে তাদের অবৈধ সরকার ঘোষণা করতে তারা দেরি করবে না। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের অর্জন ভূলুণ্ঠিত হতে পারে, আমরা তাদের অবৈধ বলার ক্ষেত্রেও সংযুক্ত আছি।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আসিফ মাহমুদ বলছেন, তবে আমরা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় তারা সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও গণভোটের নাটকীয়তা দেখে এখন আর অন্য কোনও পথ খোলা নেই, তাই রাস্তায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছি। এর ফলে দেশ ও মূল্যবোধের ক্ষতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ বেশ কয়েকজন নেতা।

  • গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করব, না মানুক সংসদ: জামায়াত আমিরের কঠোর অঙ্গীকার

    জামায়াতে ইসলামী’র আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় তিনি বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সংসদ নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে, ‘৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমি হ্যাঁ এর পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকছি। জনগণের সুপ্রিম উইলের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই রায় বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘এই সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আমরা শক্ত হাতে বাস্তবায়ন করব। এটি ইনশাআল্লাহ, আদায় করে ছাড়ব।’ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ ও জাতি গঠন করতে হলে প্রথমে নিজের দলের ভেতরেই ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। যারা নিজেদের দলের ভিতর গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে সক্ষম হবে না।’

    তিনি যোগ করেন, ‘জনগণ ইতোমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। চব্বিশে তারা নিরপেক্ষভাবে তাদের ভোট দিয়েছেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যদি এই রায় তারা দিয়েছেন, তাহলে কেন তারা সরকার গঠন করতে পারছেন না? কারণ, জনগণের ভোটকে হাইজ্যাক করা হয়েছে, এটিকে ডাকাতি করা হয়েছে। তারা জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে এবং তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে।’ এছাড়া, তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যায়, কিন্তু যখন কপালে মন্দ থাকে, তখন ঘোড়ার জালে আটকা পড়ে। এই পরিস্থিতিতেও জনগণের ধানের মূল্য বুঝতে হবে, কারণ এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য কেবল আন্দোলনের মাধ্যমেই রায় বাস্তবায়ন সম্ভব।’

    সংসদ কার্যক্রমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘আগে যেমন কেয়ারটেকার ব্যবস্থার দাবি আদায়ের জন্য সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তেমনি এখনো মনে করি, জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই এগিয়ে যেতে হবে। সংসদে উদ্যোগের অভাবে যদি সমাধান না হয়, তাহলে অন্য কোন পথ ছাড়াই জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    জ্বালানি সংকটজনিত ভোগান্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়গুলো আলোচনা হলেও তার যথাযথ সমাধান হয়নি। ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সংকট বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনে। এর ফলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    শিক্ষাক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাহত হলে তা ভয়াবহ ফলাফলের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তিকে প্রাথমিকভাবে দেখা উচিত, শিক্ষাকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে থাকা আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের স্বার্থে কাজ করবে এবং অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাগপা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলটির সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। প্রধান বক্তা ছিলেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রাশেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

  • ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    দেশব্যাপী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে এক বৈঠকের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং হাস্যকর করে তুলেছে। তিনি বললেন, সংস্কার সংক্রান্ত ব্যাপারে নির্বাচন পূর্ববর্তী ঐকমত্য এখন ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে একদলীয় ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করতে চাইছে। জনদুর্ভোগের সমালোচনাকেও সরকার দমন করে। তবে বলে রাখতে হবে, ১১ দল এই নব্য ফ্যাসিবাদকে শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

    তিনি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন যেন কোনভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, এজন্য ৯ এপ্রিল বিকেলে সপ্তাহব্যাপী একটি লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল এবং ১২ এপ্রিল জেলাগুলোর প্রধান শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভের আয়োজন করা হবে। ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে এক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যদিকে, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণ অপপ্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। সংসদে অল্প একজনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধানের ব্যাপারে সংকটের মুখে পড়েছে।

    গোলাম পরওয়ার আরও জানান, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদল কথা বলতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির অগ্রাধিকারের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন, তাদেরকেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে জাতীয়তাবিদের দাগ দিয়ে দিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার আন্দোলনে শপথ নিতে হবে।

  • বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদ পথে: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    বিএনপি সরকার নতুন ফ্যাসিবাদ পথে: জামায়াত আমিরের সতর্কতা

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে, যা প্রকৃত অর্থে আবারও একটি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তিনি মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানে ‘অলিখিত বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সাথে সমান সমান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও তাদের দমনমূলক নীতিগুলো এখনো বহাল রয়েছে। তারা আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে, जिसे ঠেকাতে আমাদের আপসহীন প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের এই নেতা।

    বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে সংসদীয় অধিবেশন শেষে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত বিতর্কিত বেশ কিছু বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দল সংসদ থেকে স্বেচ্ছায় ওয়াকআউট করে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের সংসদে এমন কিছু জনবিরোধী বিল উত্থাপন করা হয়েছে যা স্পষ্টতই সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে। আমরা যখন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে চাইক, তখন আমাদের কথা বলার জন্য সময়ের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বিরোধী সদস্যদের জন্য মাত্র দুই থেকে ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে যান, যা সংসদীয় নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক। স্পিকারের এমন গায়ের জোর আচরণ সংসদীয় রীতির ক্ষতি করছে এবং বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দেশের বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার বেশ কিছু বিল পাস করছে, যার মাধ্যমে বিচারকের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতে চলে যাচ্ছে। ২০০১-০৬ এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের নিরপেক্ষ নির্ধারিত ব্যবস্থা বাতিল করে তারা পুরাতন অবস্থায় ফিরে গেছে। এতে করে, তারা প্রমাণ করছে— কিছু খারাপ হলেও হাসিনার নীতি তাদের জন্য আদর্শ। এটি বিচার বিভাগের ওপর হঠাৎ ও বেআইনি হস্তক্ষেপ, যার ফলে অতীতে যেমন বিচারপতি খায়রুল হক ও মানিকের মতো রাজনৈতিক বিভাজনের বিচারপতির উদাহরণ তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতেও একই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে।

    স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে, যেমন জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংক্রান্ত বিলের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে, বেপরোয়াভাবে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি তাদের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলেছিল, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া প্রশাসক বসানো উচিত নয়। কিন্তু এই সরকার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই প্রতিটি পর্যায়েই দলীয়করণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় সরকারের মূল কাঠামোকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।

    শেরপুর ও বগুড়া উপ-নির্বাচনে নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনের কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আজ বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে দেখা গেছে। জনগণের ভোটাধিকার লুণ্ঠনের জন্য একই ধরনের জালিয়াতি ও অসাধু পদ্ধতি আবার ফিরে এসেছে। শেরপুর-৩ আসনে আমাদের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, এরপর আজ আরেকজন কর্মীও নিহত হয়েছেন। আমরা এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা সংসদ বর্জন করিনি, বরং সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। তবে যদি জনগণের স্বার্থের সাথে বিরোধী কোনও আইন পাস হয়, তাহলে আমাদের কণ্ঠ আবারো গর্জে উঠবে। আমরা জানি, জনগণ অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রুখে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ নতুন করে বাকশাল বা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালায়, তবে আমরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে তা ঠেকিয়ে দেব।

    সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধী জোটের বিভিন্ন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

  • সমাজে বিভাজন রুখতে সকলের unity জরুরি: মির্জা ফখরুল

    সমাজে বিভাজন রুখতে সকলের unity জরুরি: মির্জা ফখরুল

    সব ধরনের বিভাজন এবং বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে 새로운 বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে কিছু শক্তি চেষ্টার করে যাচ্ছে, যা আমাদের সকলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে পুরোপুরি বিতাড়িত করতে হবে। এর পরিবর্তে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সৌহার্দ্য এবং সহনশীলতা আমাদের পথচলার মূল শক্তি হওয়া উচিত।’

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এই দেশটি যেখানে ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি সনাতন, খ্রিষ্টান ও পাহাড়ি ধর্মের অনুসারীরাও সমানভাবে বিদ্যমান। এই ভূখণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাসে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সর্বদা Maintaining এসেছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এক সময় ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে মুক্ত থাকতে হবে।

    তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ ও সব্যসাচী সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, যা সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে।’

  • অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তি: তিনজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    প্রায় ষাট বছর আগে রাজধানীর কামরাঙীচর থানাধীন এলাকায় এক সাত বছর বয়সী শিশুকে অঙ্গহানী ও ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ আজ আদালত তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এই অর্থ অনাদায়ে এক বছর additional কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সালাউদ্দিন, মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া, এবং খন্দকার ওমর ফারুক। অন্যদিকে, দুইজন—মোঃ রমজান ও সাদ্দাম—বয়সের কারণে ১০ বছরের কারাদণ্ড পান। একইসাথে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামিকে মামলার থেকে খালাস দেওয়া হয়।

    রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটির পরিবারের কাছে ট্রেজারি হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    আদালত জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম ও খন্দকার ওমর ফারুক বর্তমানে কারাগারে আছেন, তবে সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দাম পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোঃ আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তাদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা। তারা শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অভিযুক্তের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। তদন্তের পর ২০১১ সালের ১৫ মে র‌্যাব-১ এর এএসপি মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন অভিযোগপত্র দেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল মোট ২০ জনকে সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

  • মায়ের ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম

    মায়ের ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম

    উত্তরাধিকার সূত্রে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম তার মায়ের রেখে যাওয়া তিন কোম্পানির প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্র অনুযায়ী, মুন্নু গ্র“পের তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি—মুন্নু অ্যাগ্রো, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ার তার নামে হস্তান্তর করা হয়। এই শেয়ারগুলোর মালিকানা তার মা, প্রয়াত উদ্যোক্তা পরিচালক হুরন নাহার রশিদের কাছ থেকে তার কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। হুরন নাহার রশিদ রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী এই সম্পত্তির উত্তরাধিকার তার কন্যা আফরোজা খানম। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আফরোজার হাতে পৌঁছেছে—মুন্নু অ্যাগ্রো এর ৮৪,২৪৭ শেয়ার, মুন্নু সিরামিকের ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৪০৯ শেয়ার, এবং মুন্নু ফেব্রিকসের ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৮ শেয়ার। বর্তমান বাজারদরে এই শেয়ারের মোট মূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, শেয়ার হস্তান্তরের দিন তিন কোম্পানির শেয়ার দরও কমে যায় বলে ডিএসই নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে আফরোজা খানম মুন্নু গ্র“প ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্নের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্নের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা

    বৈশাখের প্রথম দিন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত বর্ষবরণ উৎসবগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক কার্যপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি এই নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল এবং রবীন্দ্র সরোবরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে অনুষ্ঠিত নববর্ষের অনুষ্ঠান সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে বিকেল ৫টার পরে এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও সীমিত থাকবে, যাতে ভিড় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহজ হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরের গভীর Water patrol দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি, ইভটিজিং, পকেটমার এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।এছাড়া, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনকেও কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, ১৪ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন পুরোদিন বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ফানুস ও আতশবাজি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।