Author: bangladiganta

  • মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ

    মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ

    বিপিএল ক্রিকেটের উৎসবের মাঝেই শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। মাঠে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হলো ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি। তিনি ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    আজ ঢাকাসহ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃখের দিন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই আসর শুরু করেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ম্যাচ শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে গা গরম করছিলেন মাহবুব আলী জাকি। হঠাৎ করে অস্বস্তি অনুভব করে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিশ্চিত করে জানা গেছে, এই সময় তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়।

    তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য সিপিআর দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত চিকিত্সকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।

    একদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্যে এটা বড় আর্তনাদ, অন্যদিকে দেশপ্রেমিক এই কোচের জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাহবুব আলী জাকি ক্রিকেটে তার নানা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার হিসেবে পরিচিত। ক্যারিয়ার শেষ করে কোচিংয়ে মনোযোগী হন। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি মাশরাফি, তাসকিন আহমেদের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বজয়ী দলের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন তিনি।

    আজ ঢাকায় ম্যাচের আগে একদম শেষ মুহূর্তে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যা সব ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে। মাহবুব আলী জাকির মতো গুণী এই কোচের জীবনের অপ্রত্যাশিত এই ক্ষতি গভীর শোকের বিষয়।

  • মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেছেন কোচ মাহবুব আলী জাকি, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

    মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেছেন কোচ মাহবুব আলী জাকি, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

    রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঢাকা ক্যাপিটালসের অনুশীলনের সময় ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। দলের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি খেলোয়াড়দের অনুশীলন করাচ্ছিলেন যখন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাঠের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। তার শরীরে প্রথমে সিপিআর প্রদান করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কোথায় পৌঁছেছে বা চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণে আছেন। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ, যার জন্য দুপুর ১টায় সূচি ঠিক ছিল। ম্যাচের ঠিক আগে টস করেন ঢাকা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মিঠুন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। টসের কিছু সময়ের মধ্যেই জানা যায় যে জাকির অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনুশীলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং মাঠেই তার জন্য প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েক দফা সিপিআর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের থেকে তাঁর অবস্থা নিয়ে পরবর্তী আপডেট আসলে জানান দেওয়া হবে।

  • অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫৪৬৮ দিন পর জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫৪৬৮ দিন পর জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শেষবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর তারা হেরেনি টেস্টে। তবে অবশেষে সেই দুঃখজনক পরাজয়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। মেলবোর্নে চলমান অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড শক্তি দেখিয়েছে এবং ৫৪৬৮ দিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তাদের প্রথম জয় অর্জন করেছে। এই ম্যাচের ফল পুরোপুরি দুইদিনের ভিতরে নির্ধারিত হয়নি, তবে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া তাদের ১৭৫ রানের লক্ষ্য কঠোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে।

    মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দল মোট ৮৫২ বল খেলেছে চার ইনিংস মিলিয়ে। এর আগে পার্থে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়, যেখানে দুই দল মোট ৮৪৭ বল খেলে। ফলে, এই চতুর্থ টেস্টের চেয়ে কিছুটা বেশি বল খেলেছে। দীর্ঘদিনের হারের চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে হোয়াইটওয়াশের ধাক্কা সামলে, ইংল্যান্ড এই সিরিজে প্রথমবারের মতো জয় পেল। ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ ম্যাস, ২০১৭-১৮ সালে ৪-০ এবং ২০২১-২২ সালে আবার ৪-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল।

    প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের দুই দলেরই প্রথম ইনিংস শেষ হয়, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ১৫২ রান করে ৪৫.২ ওভারে। ইংল্যান্ড ব্যাট করে ১১০ রান, এবং প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৯.৫ ওভারে। এর ফলে, দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার লিড হয় ৪৬ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয়, যেখানে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮৬ রান করতেই ১০ উইকেট হারায়, যার মধ্যে সর্বোচ্চ অর্ধশতকের দেখা মেলে ট্রাভিস হেডের ৪৬ রানে, তিনি ৬৭ বলের ইনিংসে ৪টি চার হাঁকিয়েছেন।

    অ্যালান বোর্ডারের ৩৫৫৩ রান ছাড়িয়ে যেতে চলা স্টিভ স্মিথ অবিচ্ছেদ্যভাবে অবদান রাখতে থাকেন। তিনি অবশেষে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার রান ৩৫৫৩ এ পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, ক্যামন গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার এই ইনিংস শেষ হয় ১৩২ রানে, ৩৪.৩ ওভারে। ইংল্যান্ডের পেসার গ্যাস অ্যাটকিনসন চোটের কারণে পাঁচ ওভারের বেশি বল করতে না পারলেও, তিনি একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য প্রত্যেক পেসার কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন, ব্রাইডন কার্স ৪ উইকেট, বেন স্টোকস ৩ এবং জশ টাং ২ উইকেট শিকার করেন।

    ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরু করে খুবই আক্রমণপরভাবে। উদ্বোধনী জুটি জ্যাক ক্রাউলি (২৬ বলে ৩৪) এবং জ্যাক ডেকেট (২৬ বলে ৪০) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডেকেটের বিদায়ের পর, জো রুট ও অন্য ব্যাটসম্যানরা দ্রুততম সময়ে আউট হন, যা চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে ব্রুক অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে, এবং এই ম্যাচে দ্রুততম সময়ে ৩০০০ রান সম্পন্ন করেন। ব্রুকের খেলা চলাকালে সে ৩৪৬৮ বল খেলেছেন।

    মেলবোর্ন টেস্টের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে প্রথমবার হার মানে, যা তাদের জন্য ছিল এক বড় আশ্চর্য। অজিদের জন্য এই ম্যাচে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, জাই রিচার্ডসন ও স্কট বোল্যান্ড। তবে, এই মেলবোর্ন টেস্ট ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ছিল ২০১৮ ও ২০২০ সালের পর তৃতীয়বার যেখানে অস্ট্রেলিয়া বিফলে পড়ল। এই সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অর্জনে ইংল্যান্ডের গড় রান ছিল ৫.৫, যা অ্যাশেজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পার্থে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৭.২৩ গড়ে রান তুলেছিল। মোট মিলিয়ে এই টেস্টে দুই দল ৫৭২ রান করেছে, যেখানে কোন ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি করেনি, যা আধুনিক ক্রিকেটের ইতিহাসে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এর আগে ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড সিরিজে মোট ৭৮৭ এবং ২০১৫ সালে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ৬৫২ রান হয়েছিল, যেখানে কেউ হাফসেঞ্চুরি করেননি।

  • ভারত এক বছরে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ২২০০ জনকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে

    ভারত এক বছরে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ২২০০ জনকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে

    ভারতীয় রাজধানী দিল্লির সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে চলতি ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই সংখ্যায় নাটকীয় বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র ১৪ জনকে এবং ২০২৩ সালে পাঁচজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, সেখানে এই এক বছরে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে ফিরিয়ে নেওয়া এই ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত এবং প্রত্যাবাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হলে এই সংখ্যাও বেড়ে যায়। তবে, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে কোনও দালিলিক প্রমাণ বা পরিচয়পত্র পুলিশ নিশ্চিত করেনি। পুলিশের দাবি, এই ব্যক্তিরা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি ও অন্যান্য নথিপত্র ব্যবহার করে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিল। তবুও, নানা অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের জোরপূর্বক ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে সীমান্ত দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম ও আসামের জেলায় বেশ কিছু ঘটনার মধ্যে দেখা গেছে, যদিও তাঁদের কাছে ভারতের বৈধ আধার ও নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। সমালোচকদের মতে, বিজেপি সরকার এই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বাছবিচার না করে ভাষার ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই ধরনের অভিযানগুলোর ভয়াবহতা এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, যেমন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের বাসিন্দা সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের ঘটনাটি। চলতি বছর মাঝামাঝি সময়ে, অন্তঃসত্ত্বা সোনালী ও পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। যদিও এ পরিবারের কাছে ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আধার কার্ড ছিল, কিন্তু সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। কয়েক মাস বাংলাদেশে চরম দুর্ভোগের পর, আদালত তাদের ভারতীয় নাগরিক বলে প্রমাণিত করে এবং তারা শীঘ্রই ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা দিল্লি পুলিশের দাবি ও সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। একইভাবে আসামের নলবাড়ি জেলার বাসিন্দা সকিনা বিবির ঘটনাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সমালোচিত হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ডিটেনশন কেন্দ্রের সদস্য থাকাকালীন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হলেও, গত মে মাসে তাকে নিয়মিত হাজিরা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হতে দেখা যায়। এক মাস পর, জুনের শুরুতে, তাকে ঢাকার ভাষানটেক এলাকার রাস্তায় পাওয়া যায়, যেখানে স্পষ্ট হয় যে আসাম পুলিশ তাকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। মামলার শুনানির মাধ্যমে পুলিশ এই পুরো ঘটনাটি চাপা দিতে চাইলেও, এই ধরনের ঘটনা এখনও চলমান এবং অসংখ্য মানুষ পরিচয়ের সংকটে বাংলাদেশের মানবেতর জীবনযাপন করছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

  • ইরানের হাতে ধরা পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার, ১৬ নাবিক আটক

    ইরানের হাতে ধরা পারস্য উপসাগরে ট্যাংকার, ১৬ নাবিক আটক

    পারস্য উপসাগরে কেশম দ্বীপের কাছাকাছি এলাকা থেকে চোরাচালানের অভিযোগে একটি বিশাল পরিমাণ তেল বহনকারী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই ট্যাংকারে মোট ৪০ লাখ লিটার থেকে বেশি জ্বালানি ছিল। একই সঙ্গে, ওই ট্যাংকারের ১৬ জন বিদেশী নাবিককেও আটক করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রেসটিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মোজতবা গাহরেমানি জানান, গত বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ট্যাংকারটি আটক করে। তেল চোরাচালান রোধ এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইরানের বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত এই ট্যাংকারের মূল্য প্রায় ৭ হাজার বিলিয়ন ইরানি রিয়াল (প্রায় ৫০ লাখ ডলার), যা সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ট্যাংকারে থাকা ১৬জন বিদেশী ক্রু সদস্যকে গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সময় কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক বা ট্যাংকারের নাম প্রকাশ করেনি।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান উপকূলরক্ষীবাহিনী বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের জলসীমায় সামুদ্রিক টহল জোরদার করেছে। এসব অঞ্চলে নজরদারি বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ এগুলো বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট।

    এর আগে, গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে ৬০ লাখ লিটার চোরাই ডিজেল বহনকারী এক বিদেশি ট্যাংকার জব্দ করে ইরানি বাহিনী। নভেম্বর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সিঙ্গাপুরের দিকে যাওয়ার পথে একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করে ইরান। এছাড়াও, ১০ আগস্ট পারস্য উপসাগরে ২০ লাখের বেশি তেল বহনকারী একটি ট্যাংকার ও এর ১৭ নাবিককে আটক করে দেশটি।

    সূত্র: প্রেসটিভি।

  • কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

    কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি

    শুক্রবার কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের বাইরে ফের হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সংহতি সংগঠনের উদ্যোগে এ বিক্ষোভের সময় কোনো ধরনের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়নি বিক্ষোভকারীরা। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সেই সঙ্গে দীপু দাস হত্যায় জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। পরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল ডেপুটি হাইকমিশনে গিয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। ডেপুটি হাইকমিশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তার মধ্যে এই কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়। স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দীপু দাস হত্যার সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।

    এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ অনেক সাধু, সন্ন্যাসী ও রাষ্ট্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘোষণা করেন, যদি এই হিন্দু নির্যাতন বন্ধ না করা হয়, তাহলে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন। শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে বাংলাদেশে অবিলম্বে হিন্দু নির্যাতন বন্ধের জন্য দাবি জানাচ্ছেন। গুজব ও অপপ্রচার বন্ধ করে হিন্দু বিদ্বেষ ও অন্যান্য ধর্মের প্রতি ঘ encouraged সক্রিয় থাকতে হবে। শাস্তির আওতায় আনতে হবে হিন্দুদের উপর আঘাতকারী জড়িতদের।

    অন্যদিকে, আরামবাগে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়, যা নেতৃত্ব দেয় বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। এই মিছিলের মধ্য দিয়ে দীপু দাস হত্যার বিচারের দাবি জানানো হয়েছে ও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন বন্ধের পদক্ষেপের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এর পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী হুমকি দেন, যদি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হয়, তাহলে তারা ৫ লাখ সন্ন্যাসী নিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস ঘেরাও করবেন। কলকাতায় উপদূতাবাসের সামনে আবারও বিক্ষোভ করেন তারা। এর আগে, দিঘার বেগবাগান মোড়ে বিক্ষোভের সময় শুভেন্দু এই হুমকি দেন।

    বিপিএসির প্রতিনিধিদল কলকাতা থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে, শিয়ালদহ স্টেশনের কাছাকাছি একটি গেরুয়া পোশাক পরা সাধু-সন্তদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসের দিকে এগোয়; তবে পুলিশ তা আটকে দেয়।

    এরপর, শুভেন্দু অধিকারীসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের আলোচনা শেষে তারা বাইরে আসেন। শুভেন্দু জানান, এই বৈঠকে তারা বাংলাদেশের সংযোজন ও দাবি পৌঁছে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন সংগঠন ও নেতারা এই বিষয়গুলো নিজেদের মাধ্যমে তুলে ধরবেন।

    শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে, ‘যদি সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে নতুন বছরের আগে সব কিছু তুলে ফেলবেন। গঙ্গাসাগর মেলায় লাখ লাখ সাধু পবিত্র যোগসন্ধানে গেলে, আমি তাদের সঙ্গে থাকব ও পথ দেখাব। পুলিশ ক্ষমতা থাকলে দেখবেন, প্রয়োজনে কিছু হবে।’

  • যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন শীর্ষ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

    যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন শীর্ষ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

    যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক আশ্রয় (এ্যাসাইলাম) আবেদনের ক্ষেত্রে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে, যেখানে অনেক আবেদনকারী প্রথমে স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেষ হওয়া বর্ষে যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে প্রতীয়মান বিষয় হলো, এই আবেদনকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪১ হাজার ৫০০ জনই ইতিমধ্যে বৈধ ভিসা বা পারমিট নিয়ে ব্রিটনে অবস্থান করছিলেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভিসা পরিবর্তন বা ভিসা সুইচিং করে আশ্রয় আবেদন করার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য হলো শিক্ষার্থীরা। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে এসে আশ্রয় চেয়েছেন ১৪ হাজার ২৪৩ জন, এবং এরপরই রয়েছে চাকরি বা ওয়ার্ক ভিসাধারীরা, যাঁর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪২۷। অতীতে প্রতি তিন মাসে এই সংখ্যা এক হাজারের নিচে থাকলেও এখন তা প্রতিটি প্রান্তিকে চার হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    ভৌগোলিক দিক থেকে দেখা যায়, প্রথমবারের মতো পাকিস্তান (১১ শতাংশ) শীর্ষে রয়েছে, এরপর রয়েছে ইরিত্রিয়া (৮ শতাংশ), ইরান (৭ শতাংশ), আফগানিস্তান (৭ শতাংশ) এবং বাংলাদেশ (৬ শতাংশ)। গত পাঁচ বছর ধরেই বাংলাদেশ এই তালিকার শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই আশ্রয়ের আবেদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। এ পরিস্থিতি ব্রিটিশ পয়েন্ট-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলপ এই প্রবণতাকে ‘সিস্টেমের অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা ব্যবহার করে স্থায়ী হওয়ার জন্য অসাধু অপকৌশল চালানো হচ্ছে বলে তার দাবি। তিনি আরো বলেন, আশ্রয়ের জন্য দাখিল হওয়া আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ হোম অফিস বলেছে তারা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর ভিজিট ভিসা কড়াকড়ি করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু দেশের আশ্রয় আবেদন ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। যদিও, আবেদনের বিশাল চাপের কারণে ২০২৩ সালের তুলনায় এখনো ৫৪ শতাংশ আশ্রয় আবেদন ঝুলে রয়েছে, যার সংখ্যা ৬২ হাজার ২০০ এরও বেশি।

    পূর্ব লন্ডনের চ্যান্সারি সলিসিটরসের ব্যারিস্টার মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, বর্তমান লেবার সরকার ‘বর্ডার সিকিউরিটি এন্ড অ্যাসাইলাম বিল’ পাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দক্ষ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখে অবৈধ আশ্রয়মুক্ত করার জন্য ব্রিটিশ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ তা। তিনি আরও বলেন, কিছু ভুয়া আবেদনকারণের কারণে অনেক প্রকৃত আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তুষারঝড়, তিন রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি

    যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তুষারঝড়, তিন রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি

    যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতের কারণে ভয়ংকর তুষারঝড় আঘাত হেনেছে। এতে তিনটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই তুষারপাত চলবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর পর্যন্ত। মার্কিন আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির জন্য ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস তিন অঙ্গরাজ্যেই ‘উইন্টার স্টর্ম ওয়ার্নিং’ জারি করেছে।

    নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট রাজ্যগুলিতে তুষারপাতের সম্ভাবনা বাড়ায় হাঁটাচলা ও দৈনন্দিন জীবনপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের বেশ খানিকটা এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে মোট ৩৬টি কাউন্টিতে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি এবং এর পাঁচটি বরোও অন্তর্ভুক্ত।

    পূর্বাভাস অনুসারে, মিড-হাডসন, নিউইয়র্ক সিটি এবং লং আইল্যান্ডের মতো এলাকায় তুষারপাতের ভারি ঝুঁকি রয়েছে। এই অঞ্চলে ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারাবরণ হতে পারে, কিছু স্থানে বরফের স্তর এক ফুটের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাঝারি থেকে গভীর রাতে সড়ক পথ দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে। চালকদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে, প্রয়োজনের মাঝে গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য অধিক সময় নিয়ে চলাচল করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই মৌসুমে সড়ক ও জনসাধারণের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।

  • খুলনা নেতাকর্মীদের প্রতি বিএনপি’র কৃতজ্ঞতা

    খুলনা নেতাকর্মীদের প্রতি বিএনপি’র কৃতজ্ঞতা

    বিগত পঁচাত্তর বছর পর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং তাকে সম্মানার্থে আয়োজিত সংবর্ধনা শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে একজনের সুড়ঙ্গের শীত, কষ্ট ও দুর্ভোগ উপেক্ষা করে খুলনা থেকে ঢাকায় অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার নেতাকর্মীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি।
    গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে দেশে ফিরেছেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে স্বাগত জানাতে ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে খুলনা মহানগর ও অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকায় উপস্থিত হন।
    বিএনপি নেতারা বলেন, কঠিন শীত, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ সত্ত্বেও হাজারো নেতা-কর্মীর এই সমবেত উপস্থিতি দলের একতা, ত্যাগ ও তারেক রহমানের প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই জনসমাগমের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের শক্তিতে এবং তারা একটি আদর্শিক গণতান্ত্রিক দল। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের এই ত্যাগ ও সংগ্রামী ভূমিকা দলের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন প্রেরণা যোগাবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংগ্রামে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
    বিএনপি আশা প্রকাশ করে জানায়, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, মানুষের ভোটাধিকার স্থাপন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের নির্মাণে নেতাকর্মীরা অনড় থাকবেন এবং একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।
    বিজ্ঞপ্তির স্বাক্ষরকারীরা হলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর বিএনপি সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপি আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বাপ্পী, মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ আরো অনেকে।

  • তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হবে: কেএমপি কমিশনার

    তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হবে: কেএমপি কমিশনার

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মद জাহিদুল হাসান বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় রুখতে আমাদের কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের জন্য শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা এ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুক্রবার খুলনার পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কেএমপি কমিশনার স্কুলের অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করে ভবিষ্যতেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি নিজেকে যুক্ত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে তিনি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে শুভ সূচনা করেন।

    সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেএমপির ডেপুটি কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়সহ স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী গণ। খোলা মন নিয়ে তারা এই পুনর্মিলনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যা নতুন দিক দিয়ে সংযোগ স্থাপন করবে।

    এ সময় ছাত্র-শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই মিলনমেলার মাধ্যমে পুরনো স্মৃতিগুলো রোমান্চিত করে তুলেছেন।