Author: bangladiganta

  • তারেক রহমানের দেশবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ

    তারেক রহমানের দেশবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি সুদূর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছেন। এই ঐতিহাসিক ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক মুসল্লি ও সমর্থকদের সমাগম হয়, যার ফলে বিমানবন্দর পরিণত হয় এক ঢেউয়ে বইয়ে যাওয়া জনসমুদ্রে। এই অনুসারে, তারেক রহমান দেশবাসীকে তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

    অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা, সব মিলিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্যাপনে পরিপূর্ণ ছিল। এর পাশাপাশি, সমাপনীভাবে নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের তিনি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। এভাবেই তারেক রহমান তার স্বদেশে ফিরে আসার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন এবং দেশবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্রের জন্য আরও শক্তিশালী আশার বার্তা

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্রের জন্য আরও শক্তিশালী আশার বার্তা

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বাগত প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন চালানো হয়েছিল, এবং তাদের দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছিল। হাজারো শহীদের রক্তদান ও অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ যখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে, তখন তারা দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশ চাচ্ছি যেখানে কোনো ভিন্নমতের জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হবে না। গত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ব্রেকেঁ এখন আমরা এক মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    নাহিদ মনে করেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও মজবুত করবে। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতেই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ হোক।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও পরিকল্পনা নিয়ে চোখ থাকবে জামায়াতের

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও পরিকল্পনা নিয়ে চোখ থাকবে জামায়াতের

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক শীর্ষ ব্যক্তি তারেক রহমানের ফেরার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি তারেক রহমানকে সাদরে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ এদিন দুপুরে ঢাকার মিন্টু রোডের বাসভবন থেকে তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদ রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। তারা লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসেন। তাঁদের আগমনের ঘণ্টা দেড়েক পরে জামায়াতের আমির ফেসবুকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে এক পোস্ট করেন। জামায়াতের এই নেতা বিবিসি বাংলাকে জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরে এসেছেন, যা দলটির জন্য এক ইতিবাচক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও পরিকল্পনা বিষয়ক সব ঘটনায় জামায়াতের নজর থাকবে। এর আগে, দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লিখেছিলেন, ‘জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বিবিসিকে বলেছেন, তিনি তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে এক ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি মনে করছেন, তারেক রহমান কিভাবে নিজেকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে রাখেন, সেটা তার ওপর নির্ভর করে দেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান কেমন হবে। তাদের এই ফেরাকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও ইতিবাচক বলে মনে করছে, তারা বলছেন, এর ফলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এক সময় ভোটের মাধ্যমে ও সরকারে বিএনপি জোটের অন্যতম পার্টনার ছিল জামায়াত। শেষ বার গত এপ্রিল মাসে তারেক রহমানের লন্ডন সফরকালে দেখা হয় জামায়াত আমিরের সাথে। সে সময় তারেকের মায়ের, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার, লন্ডনে চিকিৎসার জন্য থাকা অবস্থায় এই সাক্ষাৎটি ঘটে। তবে চলতি মাসে জামায়াতের আমিরের লন্ডন সফরে তাদের দেখা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এক সময়ে রাজনৈতিক শত্রু হলেও এখন তারা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী। এসব বিবেচনায়, বিশেষ করে তারেক রহমানের ফেরার পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন কতটা হয়, এই নিয়ে সকলের নজরে রয়েছেন।

  • তারেক রহমানের ফেরায় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, মন্তব্য রিভা গাঙ্গুলির

    তারেক রহমানের ফেরায় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, মন্তব্য রিভা গাঙ্গুলির

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। বৃহস্পতিবার ভারতের সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    রিভা গাঙ্গুলি দাস বলেন, আমি মনে করি তার এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক দিক থেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দিন দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার ফিরলেন, পাশাপাশি খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত অসুস্থতার কারণে দলের পুরো দেখভাল করতে পারেননি, ফলে তিনি দলের দায়িত্ব সামলে নিয়েছেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের প্রথম দিকে প্রচুর অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছিল, এর পরই তারেক রহমান দলীয় সমর্থন শক্তিশালী করে তোলেন। যদিও তিনি অনলাইনে ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কাজ করেছেন, তবুও তিনি দলের নেতৃত্ব সামলাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখন যখন দেশ নানা সহিংসতার মধ্য দিয়ে চলছে এবং রাজনৈতিক মতভেদে বিভক্ত, তখন তার ফেরত দেশের স্থিতিশীলতা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞেরা। এর ফলে বাংলাদেশে মধ্যপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সমঝোতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরলেন বিএনপি’র এই নেতাকর্মী।

  • সরকারের দাবি, পাংশায় সম্রাট হত্যাকাণ্ডের অপপ্রচার স¤প্রদায়িক নয়

    সরকারের দাবি, পাংশায় সম্রাট হত্যাকাণ্ডের অপপ্রচার স¤প্রদায়িক নয়

    রাজবাড়ীর পাংশা থানাধীন এলাকায় অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সামাজিক বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সা¤প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিফুল আলমের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়েছে, রাজবাড়ীর পাংশা থানাধীন এলাকা wherein বুধবার রাতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রাথমিক পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ড মোটেও সা¤প্রদায়িক হামলা নয়। এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্টি হওয়া সহিংস পরিস্থিতির ফল। নিহত ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে এলাকায় উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রাণ হারান। তিনি আগেও বিভিন্ন হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলার অাগে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকত। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সম্রাটের সহযোগী সেলিমকে বিদেশী পিস্তল ও পাইপগানসহ আটক করে। এই ঘটনার পেছনে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে ও কঠোরভাবে ঘোষণা দিচ্ছে যে, কোনো ধরনের আইনবিরুদ্ধ কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার প্রশ্রয় দেয় না। যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলছে। একই সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, একটি মহল নিহতের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিষয়টিকে সা¤প্রদায়িক হামলা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এই অপপ্রচার সমাজের সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। সরকার সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সা¤প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার এড়ানোর অনুরোধ করছে। সরকারের বিশ্বাস, আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ একটি সা¤প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কোনও অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অমৃত মণ্ডল নিজেই এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেন, পাশাপাশি চাঁদাবাজিও করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি ভারতের শরণার্থী থাকাকালীন সময়ে বাহিনী নিয়ে এলাকা দখল ও সন্ত্রাস চালিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকার ফিরেছিলেন, এবং হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে চাঁদা দাবি করেন। তখন অস্বীকার করায় তার বাহিনীর অন্য সদস্যরা বাড়িতে যান, মালিকের ছেলেকে মারধর করেন। এই ঘটনার জেরে বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে সম্রাটকে পিটুনি দেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়।

  • ঘন কুয়াশায় মেঘনায় লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ৪

    ঘন কুয়াশায় মেঘনায় লঞ্চের সংঘর্ষ, নিহত ৪

    ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানী ঢাকা এবং চাঁদপুর, বরিশাল ও ভোলার নৌরুটে মেঘনা নদীতে কয়েকটি লঞ্চের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর نتیجيত চার জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে আনুমানিক ২টার সময় চাঁদপুরের হাইমচর সীমান্তবর্তী নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকামুখী জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিমুখী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় চারজন মারা যান এবং গুরুতর আহত হন ১৫ জন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— ভোলার লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই গ্রামের মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫), এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহিমেদপুর গ্রামের মো. হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)। নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চাঁদপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য জানান, ঘন কুয়াশার কারনে হাই마চরে মেঘনা নদীতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় একটি লঞ্চে একজন মারা যান, বাকি তিনজন ঢাকা যাওয়ার পথে নিহত হন। নৌ-পুলিশের চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় হাইমচর থেকে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ পরিদর্শনে আসছেন নৌবুঝদেষ্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন। ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, এই দুর্ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। অন্যান্য আহত যাত্রীদের মধ্যে একজনের নাম ইলিয়াস, যিনি জানান, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি শুক্রবার সকালে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে নোঙর করে। একই দিনে ঢাকামুখী নৌযানের আরও দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বরিশাল নৌবন্দরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এম খান-৭ লঞ্চটি মধ্যিখানে ভেঙে গেছে, তবে যাত্রীরা অপূর্ণ ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হন। সুপারভাইজার জানান, কুয়াশার কারণে গভীর দৃশ্যমানতা কম ছিল, তখন চাঁদপুর থেকে আসা ঈগল-৪ লঞ্চ ডান দিকে এসে ধাক্কা দেয়, ফলে এম খান-৭ এর পাশের খুঁটি ভেঙে যায়। তবে কোনো যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

  • বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ থেকে শ্রমজীবী কর্মী পাঠানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশের যে কোনও ধরনের জটিলতা বা বাধা ছাড়াই থাইল্যান্ডে শ্রমিক পাঠানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শ্রমমন্ত্রী মিসেস ট্রিনুচ থিয়েনথংয়েস তার অফিসিয়াল কক্ষে এই চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন।

    সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী মিসেস ট্রিনুচ বলেছিলেন, আমরা আশাবাদী, এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা কেবল সুবিধাজনক নয়, এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের পথ সুগম করবে। এতে করে উভয় দেশই শ্রম বাজারে রুচিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে পারবে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী বলেন, আমরা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিতভাবে থাইল্যান্ডে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাব। তিনি শ্রম অভিবাসন সম্পর্কিত প্রক্রিয়া আরও দক্ষ করার জন্য থাই কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশে এসে সরাসরি যোগাযোগ করার আমন্ত্রণ জানান যাতে করে এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন ও বাস্তবায়নে সহজতা আসে।

    বিশ্লেষণে, শ্রমমন্ত্রী তার ঊর্ধ্বতন সহকর্মীদের বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশের শ্রমকলা ও অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নতিতে, পাশাপাশি বর্তমান শ্রম বাজারে শ্রমিকের ঘাটতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের անհրաժեշտতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এছাড়াও, বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত থাই ব্যবসায়ীরা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য প্রধান গন্তব্য দেশগুলোর অনুশীলন অনুসরণ করছে, যা শ্রমবাজারে আরও উন্নত মান, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও সুসংগঠিত ও বিশ্বস্ত করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

  • শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা: রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

    শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা: রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে

    রাজধানীসহ সারাদেশে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রোববার থেকেই শুরু হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে, ফলে শীতের প্রকোপ বেশ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, মধ্যরাত থেকে সকালের দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা পড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উত্তুরে জেলাগুলি এবং নীরবপ্রবাহীয় অঞ্চলগুলোতে ঘন কুয়াশা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ষড়ঋতুচক্রের স্বাভাবিক পূর্বাভাস প্রকাশ করে জানিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও অবগাহন এলাকা থেকে গঠিত উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে বিরাজ করছে এবং সেই সঙ্গে এর বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশের আবহাওয়া পরীক্ষিতভাবে শুষ্ক থাকলেও কুয়াশা এবং তাপমাত্রায় পরিবর্তনের আশঙ্কা ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রথম দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, সারাদেশে প্রাথমিকভাবে আংশিক মেঘলা আকাশে আবহাওয়া থাকতে পারে, তবে খুব বেশি বদল আসবে না। তবে মধ্যরাত্রি ও ভোরের প্রথম প্রহরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা থাকছে। এই সময়ে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রিতে নিম্নমুখী হতে পারে, যা সাধারণত শীতের তীব্রতা বাড়ানোর জন্য দায়ী। দিনের তাপমাত্রাও অল্প কিছুটা কমতে পারে।

    পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শুক্রবার, সারা দেশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় গভীর কুয়াশার দেখা দেবে, যেখানে মাঝারি থেকে অনেক ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, অন্যদিকে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শনিবার ও রবিবার (২৭-২৮ ডিসেম্বর) একই ধরণের আবহাওয়া থাকতে পারে। এই দুই দিনেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকায় শীতের তীব্রতা কমবে না। মধ্যরাত থেকে ভোরের দিকে উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশাও দেখা দিতে পারে। সেই সময়ে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রায় খুব বেশি পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে না।

    চতুর্থ দিনে (২৮ ডিসেম্বর), একই রকম আবহাওয়ার সর্তকতা বজায় থাকলেও রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শেষ দিন, অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর, আবারও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে ভোরের সময় উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সেই সময় রাতের তাপমাত্রা আবারও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সবমিলিয়ে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা বেশ নিচে চলে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকের থেকে আরও বেশী শীত অনুভব করতে বাধ্য করবে।

  • হলিউড নির্মাতা রব রেইনারের স্ত্রীসহ মরদেহ উদ্ধার

    হলিউড নির্মাতা রব রেইনারের স্ত্রীসহ মরদেহ উদ্ধার

    হলিউডের খ্যাতিমান পরিচালক ও অভিনেতা রব রেইনার (৭৮) এবং তার স্ত্রী, মিশেল সিঙ্গার রেইনার (৬৮), তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি বাড়িতে তাদের দেহ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এনবিসি নিউজ ও স্কাই নিউজের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তাদের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রেইনারের কাছের একজন সূত্র জানিয়েছেন, রব রেইনার ও তার স্ত্রী দুজনেরই শরীরে ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল।

    লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। পুলিশ বলেছে, ডাকাতি ও হত্যা বিভাগ এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের ক্যাপ্টেন মাইক ব্ল্যান্ড বলেছেন, এই ঘটনার তদন্ত এখন ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে সম্পন্ন হচ্ছে।

    এদিকে, সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রব রেইনারের বাড়িতে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস রেইনারের মৃত্যুকে শহরের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে অভিহিত করেছেন। রব রেইনার হলিউডের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’, ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’সহ অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। সিনেমা পরিচালনায়ও তার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে; ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’, ‘এ ফিউ গুড মেন’ সহ অনেক কালজয়ী সিনেমা তিনি পরিচালনা করেছেন।

    রব রেইনার ১৯৮৯ সালে মিসেল সিঙ্গার রেইনারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ সিনেমার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। এই দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।

  • মেসির সঙ্গে ছবি পোস্ট করার পর শুভশ্রীকে কটূক্তির শিকার, থানায় অভিযোগ রাজের

    মেসির সঙ্গে ছবি পোস্ট করার পর শুভশ্রীকে কটূক্তির শিকার, থানায় অভিযোগ রাজের

    কলকাতায় লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন টালিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। এই ঘটনার বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। নির্মাতা, বিধায়ক ও শুভশ্রীর স্বামী রাজ চক্রবর্তী টিটাগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

    রাজ চক্রবর্তী বলেন, “একজন নারীকে অপদস্থ করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এর পেছনে কিছু রাজনৈতিক উসকানি রয়েছে। কারা এতে জড়িত, সেটা এখনই বিস্তারিত বলতে চান না, কারণ এতে তদন্তে সমস্যা হতে পারে।” এই ঘটনা কেবল একটি আইনি পদক্ষেপই নয়, একই সঙ্গে ১৩ ডিসেম্বরের পর থেকেই তৈরি হওয়া দীর্ঘ ও ব্যথাজনক সামাজিক বিতর্কেরই ফল বলে মনে করছেন অনেকেই।

    ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় ফুটবল ইতিহাসের এক বিতর্কিত দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক বড় আশা নিয়ে উপস্থিত হলেও, তাদের অনেকেরই সেই দিন মেসিকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। মাঠে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও সেলফি তোলার উন্মাদনা চলাকালীন ফুটবল তারকারা দ্রুত মাঠ ত্যাগ করেন। প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেপ্তার হলেও এর জোশ কমেনি। এরই মধ্যে, অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের দিকে সকলের আঙুল ওঠে।

    সেদিন তিনি যুবভারতীতে উপস্থিত ছিলেন, বলছিলেন তিনি একজন বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পের প্রতিনিধি হিসেবে। কিন্তু, মেসির সঙ্গে তার তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর থেকেই শুরু হয় বিদ্রূপ, ব্যঙ্গ ও কদর্য মিমের বন্যা। যেখানে অনেক দর্শক টাকাপাওয়ার পরও তার প্রিয় খেলোয়াড়কে দেখার সুযোগ পাননি, সেখানে ক্ষোভ স্বাভাবিক— কিন্তু সেই ক্ষোভের লক্ষ্য কেন একজন অভিনেত্রী তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    সেই প্রশ্ন এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন রাজ চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, শুধুমাত্র স্বামী বা পেশার কারণে নয়, তিনি একজন নাগরিকও। তাঁকেও এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “যুবভারতীর অরাজকতা অনভিপ্রেত, লজ্জাজনক এবং ফুটবল প্রেমী বাঙালির প্রতি গভীর অসম্মান। এর মধ্যে গাফিলতির জন্য দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই। ওই দিন বাঙালির আবেগের ওপর আঘাত এসেছে।

    তারপর রাজ শুভশ্রী প্রসঙ্গে বলেন, বিশৃঙ্ঙ্খলার মধ্যেও তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেই উপস্থিতির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অপমানিত হচ্ছেন। তিনি কি শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী, তাই মেসির ভক্ত হতে পারেন না?

    রাজের মতে, একজন মানুষের পরিচয় পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নানা ভূমিকায় নিজেকে দেখাতে পারেন— মা, বোন, স্ত্রী, অভিনেত্রী বা সাধারণ ভক্ত। সব পরিচয় ঊর্ধ্বে একজন মানুষ।

    এছাড়াও, রাজ গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। দেখেন, মাঠে অনেক সাংবাদিক থাকলেও কেন শুধুমাত্র অভিনেত্রীকে ট্রোলের কেন্দ্র করে ধরা হলো— এটা তাঁর লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রোলিং কেবল বর্তমানের অপমানই নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটি বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। প্রতিবাদ ও অপমানের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে, তা একান্তই জরুরি।