Author: bangladiganta

  • সিএসআর ব্যয় অর্ধেকের কমে ৩৪৫ কোটি, ১৭ ব্যাংক ২০২৪ সালে লোকসানে

    সিএসআর ব্যয় অর্ধেকের কমে ৩৪৫ কোটি, ১৭ ব্যাংক ২০২৪ সালে লোকসানে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে বড় ধাক্কা লেগেছে—সেই বছরে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। আর এর প্রভাব পরের বছর, ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবে দেখা গেল: ব্যাংকগুলোর কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) বছরে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে।これは আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশের কম।

    গত এক দশকে এটিই সিএসআর খাতে সবচেয়ে নীচু ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; তার তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমে গেছে।

    আসল ধারাবাহিকতাও উদ্বেগজনক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    খাতজোড়া বিশ্লেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়কার ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসানের হিসাবও উন্মোচিত হয়েছে। ফলত অনেক ব্যাংকের খরচ কাটা এবং সিএসআর ব্যয় হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকারদের একটি অংশ বলছেন, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত; সেই চাপ কমায় ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা এসব অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলায় এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয়ের কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি—৩৬%—ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় বিপরীতে খরচ কমে হয়েছে ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে।

    রিপোর্টে দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর-এ একটাও টাকা খরচ করেনি। এগুলো হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সম্প্রতি এই সংকটকে মোকাবিলা করতে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরানো যায় এবং গ্রাহক ও অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি কমানো যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও অবিক্রিয় সম্পদ ও খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়াই জরুরি, যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করা যায়।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তার নিহতের দাবি: পরিণতি ও প্রভাব

    বর্ণনা

    বহু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক আঘাত লেগেছে; অভিযোগ অনুযায়ী অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরিধি ও ধরন কেবল ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — বরং ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামরিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার কৌশলে গভীর ইঙ্গিত বহন করে। তবে লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে এই ধরনের ঘটনাসমূহের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে; নীচের বর্ণনা মূলত বিভিন্ন প্রতিবেদনে থাকা দাবির সংকলন ও বিশ্লেষণ।

    ক্ষমতার কেন্দ্রেই আঘাত (প্রতিবেদনভিত্তিক)

    কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও এই হামলার শিকার হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্তরে শূন্যতার সৃষ্টি ঘটেছে, যা দেশীয় প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ে বড় ধরনের জটিলতা ডেকে আনতে পারে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত করে—শীর্ষ পর্যায়ের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যক্তিদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ দেশটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘাটতি তৈরি করেছে।

    সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক ক্ষতি

    রিপোর্টগুলোতে বলা হয়েছে ইরানের সামরিক কমান্ড স্তরে একের পর এক বড় ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ধাক্কা সামরিক সমন্বয় ও অপারেশনাল সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রভাব পড়েছে সামরিক স্টাফ, অপারেশন প্রধান ও কৌশলগত প্ল্যানিং বিভাগে—ফলস্বরূপ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং প্রতিক্রিয়া নেয়ায় সময় ও দক্ষতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আইআরজিসি ও আঞ্চলিক শক্তিতে প্রভাব

    প্রতিবেদন অনুযায়ী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু ছিল। আইআরজিসির কয়েকটি শাখা—স্থল, নৌ ও মহাকাশ—প্রতিবেদিতভাবেই আঘাত পেয়েছে। মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হলে এই কর্মসূচির গতি ও সক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে নৌবাহিনী ও সামুদ্রিক উপস্থিতি দুর্বল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    গোয়েন্দা কাঠামোয় ধ্বস

    রিপোর্টগুলোতে ইরানের গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও গুরুতর ক্ষতি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হত্যা ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারীর মৃত্যু গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয়হীনতা ও আভ্যন্তরীন দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ফলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি লক্ষ্যবস্তু

    কিছু রিপোর্টে ইরানের পারমাণবিক গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরপর হামলায় পারমাণবিক প্রোগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মূলের মাধ্যমে ওই কার্যক্রমে পরিচালকীয় স্তরে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা দেখায়—যা সুপরিকল্পিত এবং তথ্যভিত্তিক অপারেশন হওয়া নির্দেশ করে।

    কুদস ফোর্স ও প্রক্সি নেটওয়ার্কে প্রভাব

    কয়েকটি সূত্রে বলা হয়েছে কুদস ফোর্স ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের শীর্ষ কমান্ডারদের লক্ষ্য করা হয়েছে; এর ফলে সিরিয়া, লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের সক্রিয়তা ও নির্দেশনামূলক ক্ষমতা ক্ষীণ হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি প্রক্সি ইউনিটগুলোর সমন্বয় ও নেতৃত্ব প্রদানে ফাঁক তৈরি করতে পারে।

    অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব

    প্রতিবেদনগুলো বলছে যে বাসিজ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষতির ফলে স্বাধিকার ও বিক্ষোভ দমন ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে। এগুলো দেশের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

    কৌশলগত মূল্যায়ন ও প্রতিকূলতা

    জরুরি বিশ্লেষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলে: প্রথমত, উচ্চস্তরের লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশনগুলি ইঙ্গিত করে যে প্রতিপক্ষের কাছে তথ্য-ভিত্তিক পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল; দ্বিতীয়ত, অপারেশনগুলো অত্যন্ত নির্ভুল ও পরিকল্পিত হওয়ায় উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলের ব্যবহার পরিলক্ষিত; এবং তৃতীয়ত, ধারাবাহিক নেতৃবৃন্দের ক্ষতি ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে দূরপ্রসারীভাবে দুর্বল করতে পারে।

    ভবিষ্যৎ পথ

    ইরানের সামনে এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—কেনা নতুন নেতৃত্ব বিকাশ করা এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক কৌশল ও প্রক্সি নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের প্রয়াসও জরুরি। তবে এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সফল হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ও প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেশের নীতিনির্ধারণ ও স্থিতি পুনর্গঠন জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রদক্ষিণ হতে পারে।

    সতর্কতা

    উপরের বিশ্লেষণটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিবেদনে থাকা দাবির ভিত্তিতে পুনর্লিখন; নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু ও ঘটনার বিবরণ সম্পর্কে সরকারি বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণে ভিন্নতা থাকতে পারে। তাই ঘটনাগুলো সম্পর্কিত চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও স্থির উপসংহার টানা রিপোর্টিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ওপর নির্ভর করবে।

  • ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    ৪০ দিন পর নামাজের জন্য খুলল আল-আকসা মসজিদ

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুনরায় খুলে দেয়। প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর এই প্রথম সেখানকার ফজরের নামাজে অংশ নেন তিন হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি মুসল্লি — যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করার পর ঘটে।

    অনলাইনে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর ভিড় করে মানুষ আঙিনায় ঢুকছে এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে আসায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। আরও কিছু ক্লিপে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীরা মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে এবং মুসল্লিদের ব্যবস্থা করছে।

    ইসরায়েল পূর্বে মসজিদটি বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইরানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; তবে ফিলিস্তিনি নেতারা এই যুক্তি প্রশ্ন করে বলেছেন যে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। একই সময়ে অন্যত্র বড় ইহুদি ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

    সমালোচকরা বলছেন, এই সময়কে ব্যবহার করে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে—যেখানে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সময়সূচি ও অনুমোদিত কার্যক্রম নির্ধারণের মাধ্যমে বাস্তবতা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছে।

    পুরোনো জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে স্থাপিত ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুসারে পরিচালিত হতে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মসজিদের প্রবেশ, নামাজ আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত মুসলিম কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এই নিয়ম লঙ্ঘন করে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের মসজিদে প্রবেশ ও প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়ে এসেছে, অনেকে তাদের সম্মতি ছাড়াই যাওয়ায় বিরক্তি বেড়েছে।

    মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়ার পরেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আবারও প্রায় প্রতিদিনের মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিদের অনুপ্রবেশ শুরু করেছে এবং সেই সময়ও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিদের বের করে দেওয়ার পরই বহু ইসরায়েলি সেখানে ঢুকছে; অনেককে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে প্রার্থনা ও নাচছে দেখা গেছে।

    যুদ্ধের পূর্বে এই ধরনের প্রবেশ সাধারণত সপ্তাহের কর্মদিবসে দুই শিফটে সীমাবদ্ধ হত—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত। এই নিয়ম ২০০৩ সালের দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদের সময় শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়; তখন সীমিত সংখ্যক গোষ্ঠীকে সকালে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো। পরবর্তী বছরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

    ইরান-সংকটের আগে অনুমোদিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এখন অনুপ্রবেশ চলে সকাল ৬:৩০ থেকে ১১:৩০ এবং দুপুর ১:৩০ থেকে ৩:০০ পর্যন্ত, মোট ছয় ঘনাঘণ্টার বেশি সময়। জেরুজালেম গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে, এটি স্ট্যাটাস কোর ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ও সময়ভিত্তিক বিভাজন প্রতিষ্ঠার লক্ষণ, বিশেষ করে চারত্রিশ দিনের বিরতির পর মসজিদ পুনরায় খোলার পরিপ্রেক্ষিতে।

    সূত্র: মিডল ইস্ট আই

  • খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু

    খুলনায় হামের উপসর্গে নয় মাসের শিশুর মৃত্যু

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নয় মাস বয়সী শামীমের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম এই তথ্য বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে শামীমকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের অভিযোগ, শিশুটি হামের লক্ষণ দেখাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে একটু সুস্থভাবে দেখায় ভেবে তাকে নিয়ে পুনরায় ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    পথিমধ্যে শিশুটির শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠায় তারা দ্রুত যুক্ত করে শিশুটিকে আবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

    হাসপাতাল পরিচালক আইনুল ইসলাম বলেন, হামের কারণে শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির টনসিল ও ব্রংকাইটিসের উপসর্গও ছিল। বাসায় ফেরার পথে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

    ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু সংক্রান্ত আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে এবং ঘটনার বিস্তারিত পরীক্ষার তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।

  • নড়াইলে তিন মাসের শিশু হত্যার অভিযোগ, মা আরিফা জিজ্ঞাসাবাদে আটক

    নড়াইলে তিন মাসের শিশু হত্যার অভিযোগ, মা আরিফা জিজ্ঞাসাবাদে আটক

    নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের আলোকদিয়া এলাকায় এক তিন মাস বয়সী কন্যা শিশু তাবাসসুমকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিহত শিশুর মা আরিফা বেগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওই এলাকায় আটক করেছে।

    ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে ঘটে বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া। পুলিশ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাবাসসুমের বাবা প্রবাসী মানিক চান মোল্যার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার আড়ংগাছা গ্রামে। প্রায় দেড় বছর আগে আলোকদিয়ার খায়রুল বিশ্বাসের মেয়ে আরিফা খাতুনকে ওই গ্রাম থেকেই মানিক চান মোল্যা বিয়ে করেন। সন্তান জন্মের পর আরিফা সাধারনত শশুরবাড়িতেই ছিলেন। কিছু দিন আগে তিনি মেয়ে তাবাসসুমকে নিয়ে বাবার বাড়ি আলোকদিয়ায় বেড়াতে আসেন।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় একটি সংবাদ পেয়ে সবাই ছুটে গিয়ে জানতে পারে তাবাসসুমকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

    নিহতের চাচা শামিম মোল্যা বলেন, ‘‘গতকাল আমার ভাই কুয়েত থেকে ফোন করে বলেছিল আজ ওরা বাড়ি যাবে। কিন্তু আজ ভোরে আলোকদিয়া থেকে ফোন করে বলল আপনার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এসে দেখি তার গলার দুইপাশে দাগ আছে।’’

    নড়াইল সদর থানা পুলিশ কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর মাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

    এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন; পুলিশ আরও তদন্ত চালাচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

  • ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানা ৩ উইকেট, শরিফুলের ১ — পেশাওয়ার দাপটপূর্ণ জয়

    ৪ ওভারে ৭ রানে নাহিদ রানা ৩ উইকেট, শরিফুলের ১ — পেশাওয়ার দাপটপূর্ণ জয়

    পিএসএল ম্যাচে করাচি কিংসকে ১৫৯ রানে হারিয়ে দারুণ জয় পেয়েছে পেশাওয়ার জালমি। নিজেদের করা ২৪৬ রানের জবাবে কিংস মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায়।

    নাহিদ রানা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কার্যকর বোলিং করে — চার ওভারে মাত্র ৭ রানে ৩টি উইকেট তার হাত ধরে। মোট ২৪ বলের মধ্যে ২০টি ডট বল করে তিনি বিরাট চাপ সৃষ্টি করেন। অফ-বোলিংয়ে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ইফতিখার আহমেদও দুর্দান্ত ছিলেন, তিন উইকেট নিয়ে মাত্র ৯ রান খরচ করেন।

    শরিফুল ইসলামও সুফল বয়ে আনেন। তিন ওভারে ২৩ রান খরচ করে তিনি ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেট নেন; তিনটি ওভারই তিনি পাওয়ার প্লেতে বল করেন। প্রথম ওভারে ইফতিখার মুহাম্মাদ ওয়াসিমকে আউট করেন। পরের ওভারের প্রথম বলে শরিফুল ওয়ার্নারকে বিকৃত ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড করান না হলেও ফারহান ইউসুফ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ডাইভ কেচ নিয়ে তাকে বিদায় করান। এমনকি ম্যাচের আগে লস অ্যাঙ্গেলেসে আরোপিত ঘটনার পর বিশ্ব ক্রিকেটে দেখা ওয়ার্নারের এই ইনিংস তার জন্য হতাশাজনক আবির্ভাব হয়ে রইল।

    ব্যাট হাতে কুসাল মেন্ডিস ছিলেন ম্যাচ সেরা—৫২ বল খেলতে ১৪ চার ও চার ছকের সাহায্যে ১০৯ রান করেন তিনি। অধিনায়ক বাবর আজম ইনিংসের অনেকাংশই ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক; ৫১ বলে অপরাজিত ৮৭ রান করেন তিনি।

    ম্যাচের প্রথম অংশে পেসারদের কমানো-চাপটি স্পষ্ট ছিল। শরিফুলের প্রথম ওভার মাত্র ৪ রান, দ্বিতীয় ওভারে পেয়েছিলেন ১১ রান। পঞ্চম ওভারেই নাহিদ বল করতে এসে আজম খানের সঙ্গে কড়া লড়াইয়ে যুক্ত হন; ওই ওভার থেকে মাত্র এক রান আসে। সাত নম্বরে নাহিদের দ্বিতীয় ওভারে তিনি সাদ বেগকে শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ওপরে তুলে দেন এবং নিজেই কুশদিলের মতো বলের ক্যাচ নিয়ে উইকেট পান; সেই ওভারে মইন আলি শেষ বলে চার মারেন ও ওভার হয়ে আসে মোট ৬ রানে।

    গেমের ১৪তম ওভারে নাহিদকে আবার বোলিংয়ে ফিরিয়ে আনলে তিনি কোনো রান না দিয়ে খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জ্যাম্পারকে পতিত করেন — শর্ট বলে খুশদিল কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়ে এবং জ্যাম্পা বোল্ড হন। নিজের কোটার শেষ ওভারে নাহিদ কেবল এক রান দেন। ম্যাচের আগে ঢাকার প্রথম অভিষেকে তিনি হায়দরাবাদ কিংসম্যান্সের বিপক্ষে ৩ ওভারে ৩০ রান খরচ করে উইকেটশূন্য ছিলেন; এবার তিনি সেটা পূরণ করে দলের জন্য বড় অবদান রেখেছেন।

    অন্যদিকে শরিফুলের জন্যও এই ম্যাচ সন্তোষজনক—আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও এবার পাওয়ার প্লে ব্যবহারে আরেক পেসারের চোখে পড়ার মতো পারফরম্যান্স দেখান।

    শেষ পর্যন্ত সীমিত ব্যাটিং ও ধারাবাহিক উইকেটের কারণে করাচি কিংসের ইনিংস দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং পেশাওয়ার বিপুল রান ব্যবধানে জয়ের হাসি ফিরে পায়।

  • বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন

    বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময়সূচিতে পরিবর্তন

    চলতি মাসের ১৭ থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুরুতে সিরিজের সব ওয়ানডে ম্যাচ দিবারাত্রির হিসেবে আয়োজন করার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    বৃহস্পতিবার বিসিবি জানিয়েছে যে ওয়ানডে সিরিজের সব ম্যাচ এখন সকাল ১১টায় শুরু হবে। ওয়ানডের পর দুই দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজও দিনস্থ অর্থাৎ দিনের আলোতে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেগুলোই প্রতিদিন দুপুর ২টায় শুরু হবে। এর অর্থ হলো ফ্লাডলাইটের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দিনভিত্তিক সময়েই খেলাগুলো আয়োজন করা হবে।

    গতকাল বুধবার বিসিবির এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার পর সংবাদ সম্মেলনে সিরিজের সময়সূচি বদলের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে; ওয়ানডেগুলো ১১টা বা সাড়ে ১১টায়, আর টি-টোয়েন্টি দুপুর ২টা বা আড়াইটায় হতে পারে।’

    বিসিবি জানিয়েছে সময় পরিবর্তনের মূলে রয়েছে বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলা ও সাশ্রয়ের প্রয়োজনে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত। দর্শক, খেলোয়াড় ও সম্প্রচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে খেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন বিপাশা হায়াত

    নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, গুণী চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই মুগ্ধ করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পর একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা। অনুষ্ঠানে নিজের কর্মজীবন, দর্শকপ্রতিমূর্তি ও চলচ্চিত্রজগতের নানা স্মৃতি নিয়ে খোলামেলা গল্প করেন তিনি।

    সঞ্চালক ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার প্রস্তাব এবং বিদেশি—বিশেষত বলিউড—থেকে পাওয়া সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বিপাশা জানান, বলিউডের প্রস্তাবটি ‘কেয়ামত…’র সময়ের ঠিক পরে এসেছে। তিনি বলেন, সেটি মূলত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য ছিল। সিনেমার নাম তিনি এখনই মনে করতে না পারলেও যিনি ফোন করেছিলেন তার নম্বরটি এখনো তার ফোনে সেভ করা আছে এবং তাদের সঙ্গে বেশ কিছুবার কথাও হয়েছে।

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিপাশা বলেন, তখন তিনি মনে করতেন নিজের দেশের মানুষকে কখনো ছোট করে দেখা যাবে না। ‘‘জেলা-শহর-গ্রাম—যারা আমাকে গৃহীত করেছেন, তাদেরকে আমি কোনোভাবেই যেন অপমানিত করতে চাইনি,’’ তিনি বোলোডেন। তার কথায়, কোনো বিদেশি প্রজেক্টের জন্য অপ্রাসঙ্গিক বা কম থাকে এমন এক চরিত্রে গিয়ে তিনি সেই ভালোবাসার মূল্যই ক্ষুণ্ণ করতে চাননি।

    বিপাশা নিজের পরিচয়কে কেবল স্টার হিসেবে দেখেন না; তিনি নিজেকে একটি পাবলিক ফিগার বলে মনে করেন। সেই অবস্থান থেকে ব্যাপক দায়িত্ববোধ থাকা উচিত এবং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব বজায় রাখতে চান—এমনকি তা ব্যক্তিগত প্রলোভন ও আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও। তিনি দর্শকদের ভালোবাসাকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষের ভালোবাসাই এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর সেই ভালোবাসার জায়গা থেকে তিনি মনে করেন, বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের চাইতে কিছু বেশি ভালো করার সুযোগ ও প্রয়োজন তিনি দেখেননি।

    পডকাস্টের ওই আলাপচারিতায় বিপাশা তার দর্শকপ্রতিমূর্তি, শিল্পী হিসেবে নীতি-নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পটভূমি আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, যা তার ভক্ত এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে নতুন করে ভাববার জোগান দিয়েছে।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    সালমান খান দীর্ঘদিন ধরেই পানমশলা বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত একটি মামলার জটিলতায় घুরছেন। কয়েকটি শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিগত এক আদেশে তিনি সাময়িক রেহাই পেয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন‑২-এর সামনে হাজিরা দিতে বলেছিল কমিশন। সেই হাজিরার নির্দেশকে স্থগিত করে রাজস্থান হাই কোর্ট সাময়িকভাবে রেহাই দিয়েছেন, ফলে নির্ধারিত দিন হাজিরা দেওয়ার বাধ্যবাদ থেকে মুক্তি পেলেন তিনি। তবে এটি চূড়ান্ত নিষ্কৃতি নয়, পরবর্তী শুনানিতে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    এই অভিযোগটি দায়ের করেছিলেনযোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। বাদিয়ালের দাবি, একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে কাজ করার ফলে সালমানকে (ভাইজান) উদ্দেশ্য করে অভিযোগ আনা হয়—বিজ্ঞাপনে পণ্যগুলোকে ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ ও ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’ বলা হলেও বাস্তবে তা ঠিক নেই, ফলে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং পণ্য নিরাপদ মনে করছেন যা ভ्रामক।

    এই অভিযোগের ভিত্তিতে বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যগুলোর প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জয়পুর ও কোটার সড়কে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন পুনরায় দেখা যাওয়ায় কমিশন মনে করে তাদের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে — যার ফলে মামলাটি জটিল রকমের রূপ নিয়েছে।

    অন্যদিকে, সালমান ব্যক্তিগতভাবে সিনেমার কাজেও ব্যস্ত। তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’‑র শুটিং শেষ হয়েছে; এই ছবির প্রাথমিক শিরোনাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গালওয়ান’। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় মামলার পরবর্তী পরিস্থিতি কিভাবে এগোবে, সেটাই উত্তরের অপেক্ষায়।

  • বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    বিল উত্থাপনে থমকে পড়লেন প্রতিমন্ত্রী নুর; স্পিকার বললেন ‘আবার বলুন’

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উত্থাপন শুরু করতেই মুহূর্তের জন্য থেমে যান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নুরুল হক নুর। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ severalবার তাকে সঠিকভাবে বিল উত্থাপনের সুযোগ দেন এবং বলেন, ‘আবার বলুন’।

    ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে, জাতীয় সংসদের বার্ষিক অধিবেশনের ১২তম দিনের সেশন চলাকালীন। প্রতিমন্ত্রী সংসদে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি পেশকৃত বক্তব্যটি খণ্ড খণ্ডভাবেই পাঠ করতে থাকলে স্পিকার Severalবার তাকে পুনরায় বলতে অনুরোধ করেন।

    প্রতিমন্ত্রী মাইক হাতে বলতে থাকেন, “আমি মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে আনিত বিলটি মহান জাতীয় সংসদে…” স্পিকার তখন শোনার অনুরোধ করে বলেন, ‘আবার বলেন—অবিলম্বে বিবেচনার জন্য।’ প্রতিমন্ত্রী পুনরায় একই ঘোষণা উচ্চারণ করে বলেন, “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী সংশোধন বিল-২০২৬ উত্থাপিত আকারে অবিলম্বে বিবেচনা করা হোক।”

    কয়েকবারের এই প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত সেই বিল সংসদে উত্থাপিত হয়ে সংসদে পাশ হয়। ঘটনাটি সংক্ষিপ্ত ক্‌রমানুশাসনের মধ্যেই ঘটে—স্পিকার গণসংবিধানগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য পূর্ণ করাতে সহায়তা করেন এবং বিলটি গ্রহণ করা হয়।