Author: bangladiganta

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানের ফলে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাপক আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। এই বছরগুলিতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ ছাড়িয়ে গেছে; এটি মূলত ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে গুরুতর পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

    ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিত্বদের ওপর এই আঘাত খুবই নাটকীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে অভূতপূর্ব শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা, যার অভাবের ফলে দেশের সংহতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে আব্দুল্লা লারিজানি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরিচিত এই রাজনীতিবিদের ওপরও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। একইভাবে, প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আদর্শ ব্যক্তি। তাঁর ওপরও হামলা হয়, যা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোকে আরও প্রভাবিত করে।

    সামরিক নেতৃত্বের ধারাবাহিক ক্ষতি দেখা গেছে। আইআরজিসি চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই হত্যা করা হয়। তাঁর দায়িত্ব ছিল সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন করা। তার পরে, এই দায়িত্বে থাকা অন্যরা দ্রুত মারা গেলে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদও যুদ্ধকালীন অপারেশনের প্রধান ছিলেন, তাকে হত্যা করে ইরানের যুদ্ধ পরিকল্পনা দুর্বল হয়ে যায়।

    আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন সালামি, যিনি মার্কিন ও ইসরায়েলের অদম্য বিরোধিতার জন্য পরিচিত ছিলেন, তিনি নিহত হন। এরপর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ পাকপোর, কিন্তু তিনিও খুব দ্রুত মারা যান। এই ধারাবাহিকতাটি ইরানের সামরিক শক্তির অঙ্গপ্রতঙ্গকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ, নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরি এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এতে সহায়তা করেন। ফলে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক দাপট কমে যাওয়ার আশঙ্কা দানা বাঁধে।

    গোয়েন্দা বিভাগের ক্ষতি ছিল আরও মারাত্মক। গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ও তার বেশ কয়েকজন সহকারী দ্রুত মারা যান। আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি একজন বিভ্রান্তিমূলক অপারেশনে নিহত হন, পরে দায়িত্ব নেয়া মজিদ খাদেমিও। এর ফলে বোঝা যায় যে, ইরানের গোয়েন্দা কার্যক্রমে ভেঙে পড়েছে সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে এসেছে।

    প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, যাঁরা এদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। মোহসেন ফাখরিজাদেহ, যাঁর ওপর হত্যাজনক অস্ত্র হামলা হয়, ছিল অন্যতম। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন বৈঠক ও নেতৃত্বও আক্রান্ত হয়। এতে বোঝা যায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের ওপরও শত্রুপক্ষের নজরদারি ও আঘাত পরিচালিত হচ্ছে।

    আঞ্চলিক প্রভাবের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কাসেম সোলাইমানি, যিনি ইরানের মূল আঞ্চলিক নেতৃস্থানীয় ছিলেন, ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। এর ফলে সিরিয়া, লেবানন এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইরানের প্রতিলিপি ও নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়। মোহাম্মদ রেজা জাহেদি ও আব্বাস নিলফোরোশানসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের ক্ষতি হয়, যা ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

    অভ্যন্তরীণ দমননীতি ও নিরাপত্তাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বাসিজ বাহিনী প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি ও তার ডেপুটি মারা যাওয়ায় দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অসুবিধায় পড়ে। এই বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানে গভীরভাবে গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ হয়েছে, যা শীর্ষ সিদ্ধান্তের স্তর পর্যন্ত ট্র্যাক করা সম্ভব। হামলাগুলো খুবই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিকল্পনামূলক আক্রমণের দিক নির্দেশ করে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামরিক সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তি ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো শুধুমাত্র সামরিক ক্ষতি নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাতের বহুমাত্রিক চিত্র। এটি নিঃসন্দেহে ইঙ্গিত দেয় যে, আধুনিক যুদ্ধ এখন আর শুধু ময়দানে নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু হত্যার মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। ইরানের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। তবে এই ধারাবাহিক ক্ষতির পরে সেই পথ কতটা সহজ হবে, তা সময়ই স্থির করবে।

  • অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    অবশেষে ৪০ দিন পর আল-আকসা মসজিদ পুনরায় খুলে দেওয়া হলো

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-আকসা মসজিদটি পুনরায় খোলেন, যা চলতি বছরের ৩ নভেম্বর থেকে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ ছিল। এই বিরতিটা ছিল নজিরবিহীন, যেখানে মুসল্লিদের জন্য এই পবিত্র স্থানটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলার পর এই প্রথমবারের মতো মুসল্লিদের জন্য আল-আকসা পুনরায় খুলে দেওয়া হলো। প্রথম দিন ফজরের নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০০-এর বেশি, যারা এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে দীর্ঘ সময়ের বিরতির পর ফিরে আসামাত্রই আনন্দে আত্মহারা হন।

    অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, মসজিদের ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি সেখানে প্রবেশ করছে এবং তারা দীর্ঘদিন পর হতেই এই পবিত্র স্থানটিতে ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত। একই সঙ্গে ভিডিওগুলো দেখাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদের কর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পূর্ণ প্রস্তুতির কাজ, যেন আগের মতোই ইসলামি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সব কিছু প্রস্তুত।

    প্রায় দুবছর ধরে ইসরায়েল এই স্থানটি বন্ধ করে রেখেছিল, এমনকি রমজান, ঈদুল ফিতর ও জুমার নামাজের সময়েও আল-আকসা বন্ধ ছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই বন্ধকে নিরাপত্তা উদ্বেগের নাম দিয়েও নির্দেশ দিয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা এই যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, এই সমস্ত কঠোরতা এবং দখলদারিত্বের মাধ্যমে ইসরায়েল পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই সময়ে অন্যত্র ইহুদিদের বড় ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে চলেছে।

    অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল এই ঐতিহাসিক স্থানটির নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে। প্রবেশের সময়, কার্যক্রম এবং কার্যপ্রণালীতে প্রবল পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা মূলত এই স্থানের প্রাথমিক কর্তৃত্বের সাথে সাংঘর্ষিক।

    আল-আকসা মসজিদটি মূলত পুরোনো জেরুজালেম শহরে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এটি পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম কর্তৃপক্ষকে এই স্থানটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। কিন্তু ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার লঙ্ঘন করে আসছে, যেখানে মুসলিম ছাড়াও উগ্র জাতীয়তাবাদী কিছু ইসরায়েলি প্রার্থনা ও প্রবেশের অনুমতি পেয়ে থাকেন।

    বিশেষ করে, পশ্চিম জেরুজালেমসহ এই অঞ্চলে দখলদারিত্বের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কার্যক্রমের বিরোধিতা করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দখলদার শক্তির এই নিয়ন্ত্রণের কোনও বৈধতা নেই এবং শর্ত অনুসারে এই ভূমির সার্বভৌমত্ব বর্তমান দখলদারদের নয়।

    পুনরায় মসজিদটি খোলার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ রোজই উগ্র সম্প্রদায়ের প্রবেশ ও কার্যক্রম বাড়িয়েছে, এমনকি প্রবেশের সময়সীমাও বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে এই প্রবেশের সময়কাল সাড়ে ছয় ঘণ্টার বেশি। আগে এই সময় ছিল ছোট ছোট পর্যায়ে বিভক্ত এবং সীমিত সংখ্যক মুসল্লির জন্য। এখন এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা আল-আকসার নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থা আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    জেরুজালেমের গভর্নরেট এই সময় বৃদ্ধি নিয়ে বলছে, এটি হঠাৎ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং এই পরিবর্তনটি আল-আকসার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তারা বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত সময় বাড়ানো ‘স্ট্যাটাস-কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলছে এবং নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি ও উদ্বেগের মধ্যেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম নীতিনির্ধারকেরা এই পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ ও ধারণাপূর্ণভাবে মোকাবেলা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৩১ শিক্ষার্থী আর্ককেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৩১ শিক্ষার্থী আর্ককেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিপারমেন্টের ৩১ জন শিক্ষার্থী একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে আর্সকেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং চেক তুলে দেওয়া হয়।

    এছাড়াও, ‘থিসিস অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ। তারকা তাহসিন তন্নি দ্বিতীয় এবং সুমাইয়া খাতুন তৃতীয় স্থান পান। এর পাশাপাশি, রাব্বি ও হৃদয় নামে দুটি শিক্ষার্থী কেড়ে নেন কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড।

    বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি লাভকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে মোঃ হাসিবুল ইসলাম মিশু, কানিজ ফাতিমা খুশি, মোঃ মিজানুর রহমান ও আমিনা তাবাস্সুম প্রমা। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কার পান বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা, তাসাদ্দুক হোসেন, শেখ ফারিয়া ফাইজা ও মোঃ হাসান শাহরিয়ার। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হলেন তাহমিন রহমান, ফাতিমা করিম খুশি, তিথী সরকার, সুরেশ বিশ্বকর্মা, মধুশ্রী রায় ও শেখ সাকিব রহমান। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কৃত হন মোঃ আশিফুর রহমান অমি, সুরাইয়া নওশিন, বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা ও কানিজ ফাতিমা খুশি। আর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আফ্রিদা বিনতে আমির হামীন, এথেনা বারিকদার, তাহমিন রহমান, মোঃ ফেরদৌস মন্ডল রনি, সীমান্ত সাহা রাতুল ও মোঃ নাদিম হোসেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ। সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম; রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার ও পরিচালক মোঃ মোহসিন হাবিব চৌধুরী; চিফ বিজনেস অফিসার (সেলস ও মার্কেটিং) একেএম সাদিক নেওয়াজ; চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং জেনারেল সেলস ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।

    স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ও এক্সটার্নাল রিসোর্স কো-অর্ডিনেটর শিবু প্রসাদ বসু।

    বক্তারা বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং এই সম্মান ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বার্জার পেইন্টস এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইমন কুমার সাহা বিষ্ণুপদ ও এথেনা বারিকদার। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বার্জার পেইন্টসের কর্মকর্তাসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় শিশুকালীন বলৎকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন দণ্ড

    খুলনায় শিশুকালীন বলৎকারের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন দণ্ড

    খুলনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এর পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না পরিলে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে রাখা হবে। অভিযুক্ত যুবক সিয়াম হোসেন কাজল (২০), যিনি নগরীর শিববাড়ি মোড় পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেখ আবুল ফজল বাবলুর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলার রায় বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রদান করেন। আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার নিশ্চিতকরণে জানা গেছে, রায় কার্যকর হয়।

  • কয়রা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ দুই জেলের লাশ দু’দিন পর উদ্ধার

    কয়রা নৌকাডুবিতে নিখোঁজ দুই জেলের লাশ দু’দিন পর উদ্ধার

    কয়রার শাকবাড়িয়া নদীতে আকস্মিক ঝড়ে ঘটেছে নৌকাডুবির ঘটনা, যার ফলে নিখোঁজ হন দুইজন জেলে। দীর্ঘ দুদিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযান শেষে আজ (বুধবার) দুপুরে উপেন মৃধা (৫০) এর লাশ এবং বিকেলে মুকেন্দ মন্ডল (৪২) এর লাশ নদীর তীরে ভেসে ওঠায় স্থানীয়রা তা দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন। নিহত দুই জেলে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন ধরে শাকবাড়িয়া নদী ও সুন্দরবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিখোঁজের পর থেকে টানা দুদিন পর্যন্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন, কিন্তু তাদের খোঁজ মেলেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকির তথ্যমতে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে কয়রার শাকবাড়িয়া নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ ঝড়ের কারণে একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই নৌকায় থাকা জেলেদের মধ্যে একজন সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও উপেন মৃধা ও মুকেন্দ মন্ডল নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। স্থানীয়রা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাদের লাশ দেখতে পান এবং খবর দিলে দ্রুত উদ্ধার করে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই দুর্ঘটনার ফলে এলাকায় শোকের ছায়া এবং গভীর শোক প্রকাশ করছে পরিবার ও স্থানীয় সমাজ।

  • খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মা মৃত্যুর ঘটনা

    খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলেকে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তার মা, যার কারণে তিনি মারা গেছেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। নিহতের নাম মিম্মি বেগম (৪৪), তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত তার ছেলে, নাদিম ইসলাম, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত আটক করে।

    সূত্র মতে, সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক বিবাদে উত্তেজনা বাড়লে, নাদিম তার মা মিম্মি বেগমের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পাশের গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সকাল পৌনে ৯টার দিকে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাদিমকে আটক করে। এ সময় তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাধা দেয়। এর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে অপ্রত্যাশিতভাবে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে, যেটা রোধে পুলিশ সদস্যরা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

    খুলনা জেলা পুলিশের উচ্চ স্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে এবং এই ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

    প্রতিনিধিদল ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি পার্লামেন্টের পরিবেশ委员会 থেকে বুধবার খুলনায় পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো শহরজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলোকে গভীরভাবে বুঝে নেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। দুপুরে একটি আধুনিক হোটেলে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চল সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির, লবণাক্ততা ব্যাপকতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান জরুরি।

  • জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী

    চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার পুনরায় কমতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অক্টোবর-ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৩ শতাংশ, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় কম। গত জুলাই-সেপ্টেম্বরে এই হার ছিল ৪.৯৬ শতাংশ, এবং বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪.৯৬ শতাংশ। এর আগে, গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ। এই ধারাবাহিক কমতি বোঝায় যে, দেশের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পুনরায় দুর্বল হতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিতিশীলতা এবং সংঘর্ষের কারণে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বেড়ে চলা মূল কারণ। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণে ইরানে সংঘর্ষের শুরু হয়, যা পরে আরও কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ঝামেলা দেখা গেছে এবং জ্বালানি সরবরাহের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব আমাদের দেশে মহামারি পরিস্থিতির মতো এক জ্বালানির সংকটের সৃষ্টি করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

    অন্যদিকে, বর্তমানে অর্থনৈতিক স্থবিরতা বিদ্যমান থাকায় সরকারি অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত জুনে অন্তর্বতীকালীন ও নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে তেমন কিছুও করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার শুধুমাত্র ১.২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃষি খাতে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্পখাতে সর্বোচ্চ ৬.৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার অনেক কমে গেছে।

    অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছিল ২.০৫ শতাংশ, যা এর আগে প্রথম প্রান্তিকে ৪.৯৬ শতাংশে উঠেছিল। এই পতনের মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাটি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিল্প খাতের অবদান যদি আরও দুর্বল হয়, তবে অন্যান্য খাতের উন্নয়ন এই ঋতুতে কঠিন হবে এবং বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা দিতে পারে।

  • সোনার দাম ভয়াবহ লাফ, ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম ভয়াবহ লাফ, ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্তের পিছনে স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের রেকর্ড বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। এই মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বাজারে অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দাম কার্যকর হবে।

    নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি হবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    প্রতি ভরি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ থেকে ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্য ক্যারেটের জন্য, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

  • যুদ্ধপরিস্থিতির অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়িয়ে যেতে পারে

    যুদ্ধপরিস্থিতির অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি ১২% ছাড়িয়ে যেতে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে গুরতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ডলার মোকাবেলায় টাকার মান অপ্রত্যাশিতভাবে কমবে এবং জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই প্রভাবগুলো মিলিত হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বর্তমান হার থেকে গিয়ে ১২ শতাংশের বেশি পর্যন্ত উঠতে পারে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ বাড়বে, কারণ আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে গিয়ে রিজার্ভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এর ফলে অর্থনৈতিক বিভিন্ন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যদি জ্বালানি তেলের দাম বেশি না বাড়ে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। এতে আমদানির চাপ কমে যাবে এবং টাকার মান অপরিবর্তিত থাকতে পারে, ফলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন মডেল ও পদ্ধতি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং রিজার্ভের উপর চাপ অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৭০ শতাংশ বাড়ে এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের বাজারে তাকে সামাল দেওয়ার জন্য তেলের দাম সমন্বয় করতে হবে।

    তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হলে, প্রথম প্রান্তিকে এটি ৫ শতাংশ আর দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরো ৫ শতাংশ অবমূল্যায়িত হবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১১.৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যেখানে বর্তমানে সেটি ৯.৫৬ শতাংশ। আবার যদি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের মূল্যও ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ১২.২৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে দেশের রিজার্ভ আরও কমে ২৩০০ কোটি ডলার vicinity-এ দাঁড়াতে পারে।

    তবে এই সব হিসাব অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, যা বিভিন্ন জিনিসের ভবিষ্যদ্বাণী ও ধরণ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। যদি জ্বালানি তেলের দাম অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের পরিবর্তন না হয়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করে খুব বড়ভাবে বৃদ্ধি পায়, তা হলে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির দুর্বলতা আরও প্রকট করে তুলবে। এর ফলে মুদ্রার মান কমে যায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়, ডলার বিক্রি করে রিজার্ভ কমাতে হয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অযৌক্তিক বা হঠাৎ বড় পরিবর্তন হলে, তা ডলারের বিনিময় হারকে দুর্বল করে তুলবে, ফলে মূল্যস্ফীতির উপর বড় ধরনের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি অথবা বিনিময় হার বাড়াতে হতে পারে, যা রিজার্ভের উপর Additional চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

    সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূলত রিজার্ভের চাপ কমাতে এবং ডলারের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য বিনিময় হার কিছুটা নমনীয়তা আনা প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি, অর্থনীতির প্রভাব কমানোর জন্য দেশের জ্বালানি তেলের দাম বা রাজস্ব ব্যবস্থায় সামান্য বাড়তি পরিবর্তন জরুরি হতে পারে।

    সারসংক্ষেপে বলতে গেলে, বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং ডলারের মানের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে। এর ফলে, ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেশি হবে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে। উপরন্তু, এসব অনিশ্চয়তা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা থাকছে।