ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বলেছেন, হাদির হত্যাকাণ্ডের রাতের ঘটনা পরই ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায় শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীর। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দিনই তাদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তে প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদ দাউদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক মো. আলমগীর শেখ কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। তারা প্রথমে ঢাকার মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত হয়, এরপর সাভার, হেমায়েতপুর, আগারগাঁও ও নরসিংদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তবে, তারা তদন্তে বলেছে, নাটকীয় এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা তারা আগেই করেছিল। এর অংশ হিসেবে, ডিএমপির বিশেষ দল ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছে। ঘটনার মূল masterminds ও পালানোর সহায়তাকারীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে, যার মধ্যে মোট ১১ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বন্ধু মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির নুরুজ্জামান নোমানিয়া, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসি, মো. আমিনুল ইসলাম রাজু, আব্দুল মান্নান এবং আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিমন রয়েছেন। তারা ছাড়াও, হত্যার জন্য ব্যবহৃত দুই বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন, ছুরি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং ভুয়া নম্বর প্লেটসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে জানা গেছে, এই খুনের পরিকল্পনা তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু করে মানিকগঞ্জের কালামপুর, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছানোর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী করে। ধরা পড়ার আগে তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায় এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভারতে তাদের হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, অভিযুক্তরা অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৬৪ ধারায়। পুলিশ বলছে, পুরো তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Author: bangladiganta
-

হাদি হত্যা: হামলাকারীর ২ সহযোগী ভারতের মেঘালয়ে গ্রেফতার
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় পুলিশের মাধ্যমে হাদি হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই খবর রোববার (২৮ ডিসেম্বর) একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়, যেখানে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যায় জড়িত মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ, এবং তাদের ভারতের মেঘালয়ের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই দুইজনের নাম হলো পুর্তি ও সামী।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দু’জন সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। গুলিবর্ষণের ফলে তার মাথায় গুলি লাগে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে initially ভর্তি করা হয়, তবে অবস্থার অবনতি দেখে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু ঘটে।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের হয়, যার প্রধান আসামি হিসেবে শ্যুটার ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার সহযোগীদের এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। অনুমান করা হচ্ছে, তারা ভারতে পালিয়ে গেছে। অবশেষে আজ গোপন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, হাদির হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিল। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে সিএনজিতে করে বেড়াতে বের হয়। এরপর তারা আমিনবাজার, কালামপুর এবং ময়মনসিংহ সীমান্তের দিকে যান। সেখানে ফিলিপ স্নাল ও সঞ্জয় নামের ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের ভারতের মেঘালয়ে আনা হয়।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ভারতে পৌঁছানোর পর ফিলিপ এই দুজনকে তুরা নামে এক স্থানে পৌঁছে দেন, যেখানে তাদের হাতে তুলে দেন ভারতের নাগরিক পুর্তি। পরে সামী নামে আরও একজনের গাড়িতে করে তারা পালিয়ে যায়। এই সম্পত্তি ও মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়।
এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছ’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ পিছনে যারা রয়েছেন, তাদের নাম-ঠিকানা উন্মোচনের জন্য কাজ চলমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে তিনি বলেন, এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড, যার পেছনে বহু লোক জড়িত থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিগগিরই মূল হত্যাকাণ্ডের মূল দায়িদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করা হবে।
-

বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত
বগুড়ার সোনাতলায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও একজন আহত হয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটেছে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাতলা রেল স্টেশনের অদূরে ছয়ঘড়িয়াপাড়ায়।
সোনাতলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, নিহতরা হলো রনি বেগম (৩০) এবং তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (১০)। তারা দুজনই পার্শ্ববর্তী Gobindganj উপজেলার দৌহাইল গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারনা মতে, রনি বেগম তার ছেলেকে নিয়ে সোনাতলা বাজারে কোচিং সেন্টারে যাচ্ছিলেন। রেললাইনের পাশে হাঁটার সময় লালমনিরহাটের দিকে যাওয়া পদ্মরাগ ট্রেন দেখতে পেরে রনি অঝোরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গে তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত মা’কে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তারা দুজনেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন।
ঘটনাকে দেখে পথচারী তাজুল ইসলাম (৬৫) তাদের উদ্ধার করতে গেলে তিনিও ট্রেনের ধাক্কায় আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রনি বেগম মানসিক রোগী ছিলেন, এবং এর আগে বাড়িতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ওই নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ছিল।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে, এবং পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
-

অভিনেত্রীর সঙ্গে ভিড়ের মধ্যে হেনস্তার ঘটনা
অনুরাগীরা প্রায়ই তাদের প্রিয় তারকদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য উৎসুক থাকেন। অনেক সময় তারা ফ্রেমে বন্দি হয়ে ওঠার জন্য অভিনেতাদের স্পর্শও করেন। তবে কিছু সীমা অতিক্রমের ঘটনা ঘটছে সম্প্রতি। এমনই এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণী অভিনেত্রী নিধি আগরওয়ালের সঙ্গে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাতে, যখন দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাস ও নিধির নতুন সিনেমা ‘রাজা সাব’-এর গানের লঞ্চের ইভেন্ট শেষে তারা বাইরো হতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ভক্তদের এক অপ্রত্যাশিত ভিড় জমান। যারা নিশ্চিতভাবে নিরাপত্তার বাধা অমান্য করে, একদিকে পথ আটকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, অন্যদিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়। সবচেয়ে ঘৃণাজনক ছিল, কেউ কেউ নিধির গায়ে থাকা ওড়না ধরে টান টান করে ধাক্কা দিচ্ছিলেন।
ভিড়ের কারণে অভিনেত্রীকে বেশ কষ্টে পড়ে বাইরে আসতে হয়। এ সময় নিধির নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার ঘটনায় অনেক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা কমেন্টে বলেছেন, এই ধরনের অশোভন আচরণ অনেকটাই হায়নার মতো। বিশেষ করে পুরুষদের থেকে এমন আচরণ খুবই নিন্দনীয়। একজন লিখেছেন, ‘মানুষের এই দল এতটাই অপরিপক্ব হয়ে গেছে যে তারা এক মহিলাকে এভাবে হয়রানি করছে। ঈশ্বর তাদের সবাইকে অন্য কোথাও রেখেছেন কি না জানি না।’
প্রসঙ্গত, তেলুগু সিনেমার জনপ্রিয় এ নায়িকা ‘মুন্না মাইকেল’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন। তার বিপরীতে ছিলেন অভিনেতা টাইগার শ্রফ। সর্বশেষ তাকে বড় পর্দায় দেখা গেছে সানি দেওলের সঙ্গে ‘জাট’ সিনেমায়।
-

হাদিকে নিয়ে পোস্ট, চমক ও মামুনকে হত্যার হুমকি
সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফুল ওসমান বিন হাদি ওপর হামলার ঘটনায় দেশ জুড়ে কঠোর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন হাদির মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ এবং শোবিজ অঙ্গনের তারকারা, যারা শান্তিপূর্ণ বিচারের জন্য সবার সহযোগিতা চান।
অপরদিকে, হাদিকে নিয়ে একটি পোস্টের পর চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন, নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ এবং ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকির সঙ্গে তাঁদের ফোন নম্বর ও লোকেশনের ট্র্যাকিংয়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্মাতা অনন্য মামুন সামাজিক মাধ্যমে জানান, ‘হাদিকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা জানে না, হাদি আমার কাছে একটি প্রেমের নাম। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। পৃথিবীতে আসার দিন থেকেই আল্লাহতালা আমার মৃত্যুর নির্ধারিত দিন রেখেছেন।’
এমন হুমকি দেয়া হয়েছে ডাল্টন সৌভাতো হীরা নামে এক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। আগে এহতো হাদিকেও একই অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকি পাঠানো হয়েছিল।
অনন্য মামুনের ব্যাপারে লেখা হয়, ‘এ বাটপারের নাম উল্লেখ করতেও ভুলে গিয়েছিলাম। অনন্য মামুন – দ্য পিম্প। ওই ব্যক্তিকে শুভকামনা জানাই, যেন শান্তিতে থাকে। আর তার সিনেমা কেউ প্রডিউস করলে সেটা তাদের নিজের দায়িত্বে করতে হবে।’
বান্না ও চমককে কাজে না ডাকার বিষয়ে হুমকি দেয়া ব্যক্তিরা লিখেছেন, ‘মাবরুর রশীদ বান্না ও রুকাইয়া জাহান চমক, বঙ্গবন্ধুর ৩২ ভাঙার পর যারা দুর্ব্যবহার ও উল্লাস করেছিল, যদি কেউ মিডিয়ায় তাদের কাজে ডাকার চেষ্টা করে—তাহলে সেটি তাদের নিজের দায়, কারণ তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।’
এছাড়া, চমক ও বান্নাহর লোকেশন ট্র্যাকিং শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে, ‘আমাদের আই টি টিম এই দুইজনের যাবতীয় এক্সেস ট্রেস করবে। সেটার তথ্য আমাদের সংগ্রহ হবে, এবং এর মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় পরিষ্কার বোঝানো হবে।’
-

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ক্রিস রিয়া আর নেই
ব্রিটিশ কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও গীতিকার ক্রيس রিয়া আর নেই। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) তিনি চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু দিন অসুস্থতার পর তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের মিডলসবরোতে জন্ম নেয়া এই শিল্পী ব্লুজ, পপ এবং সফট রক সংগীতের জাদুকর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৫টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি করেছেন। তার কালজয়ী জনপ্রিয় সঙ্গীতের মধ্যে রয়েছে ‘দ্যা রোড টু হেল’, ‘অন দ্য বিচ’, ‘জোসেফিন’ এবং ‘লেটস ড্যান্স’।
বিশ্বব্যাপী তার সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্র্যাক হলো ক্রিসমাসের জন্য লেখা ‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’। ১৯৮৬ সালে লেখা এই গানটি এখন বড়দিনের অনুষ্ঠানের অঙ্গ হয়ে গেছে। তখন তিনি কোন চুক্তি ছাড়া নিজ উদ্যোগে গানটি রেকর্ড করছিলেন, হাতে টাকা না থাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ট্রেনের টিকিট কাটা আর চালিয়ে লন্ডন থেকে মিডলসবরো ফিরছিলেন।
২০০১ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার জীবন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০১৬ সালে তিনি স্ট্রোকের শিকার হন। এত বাধা সত্ত্বেও তার গানের প্রতি ভালবাসা কমেনি। জীবনের শেষের দিকে তিনি পপ সংগীত ছেড়ে এখন মূলত ‘ডেল্টা ব্লুজ’ ধারে মনোযোগী হন।
তার মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত অঙ্গনে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সুরের জন্য কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর থাকবেন।
মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র স্ত্রী জোয়ান এবং দুই মেয়ে জোসেফিন ও জুলিয়াকে রেখে গেছেন।
-

সালমান খান পেরোল ৬০ বছর বয়সের সীমানা
বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা সালমান খান বর্তমানে his জন্মদিন আজ ২৭ ডিসেম্বর। জন্মদিনের এই মহোত্তম দিনটিতে তিনি সম্পন্ন করলেন তার ষাটোর্ধ্ব বয়সের পরিপক্কতা। দীর্ঘদিনের চেষ্টা এবং অনুপ্রেরণার পর কিছুদূর এগিয়ে তিনি অজস্র বার্ষিক উদযাপনের পরিবর্তে এবারও তার জন্মদিন অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং ঘরোয়াভাবে উদযাপন করছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নির্বাচিত পরিচালক, যা ঘটছে পানভেলের নিজস্ব ফার্মহাউসে।
জাঁকজমকপূর্ণ জনসমাগমের বদলে সালমানের এই জন্মদিন পালিত হচ্ছে একান্তই সংক্ষিপ্ত এবং স্বজনবহুল পরিবেশে। সূচিচ্ছন্নভাবে অতিথি তালিকা নির্ধারিত, যেখানে থাকা ব্যক্তিরা বিশেষভাবে নির্বাচিত। জানা গেছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একে অপরের সঙ্গে আড্ডা, স্মৃতি ভাগাভাগি, এবং আন্তরিক সময় কাটানো, বড় কোনও মহরত বা বড় আয়োজনের পরিবর্তে।
তবে, এই বিশেষ দিনটির অন্যতম আকর্ষণ একটি নির্মিত ট্রিবিউট ভিডিও, যেখানে সালමාনের তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা একাধিক পরিচালক তার ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। তারা তাদের কাজের অভিজ্ঞতা, স্মরণীয় গল্প এবং সিনেমার বিবর্তন ও সালমানের দীর্ঘসময়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তার অভিনয় জীবনের বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরেছে।
ভক্তরা তাকে আখ্যায়িত করেন ‘ভাইজান’ নামে। এটি শুধু একটি ডাক নাম নয়, এটি সম্পর্কের প্রকৃত পরিচয়। পরিবারে বড় ভাইয়ের মতো দায়িত্বশীল ও যত্নবান সালমান তার সহশিল্পী, নতুন অভিনেতা এবং সহকর্মীদের পাশে থাকেন। অনেক তরুণ তার হাত ধরে বলিউডে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। এই ‘ভাইজান’ হওয়ার পেছনে রয়েছে দায়বদ্ধতা, দায়িত্ববোধ এবং গভীর ভালোবাসা। তাই বয়স বাড়লেও তিনি শুধু একজন তারকা না, বরং এক প্রজন্মের জন্য জনসাধারণের এক স্বচ্ছন্দ অভিভাবকের চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।
এবারের এই জন্মদিনের বিশেষত্ব আরও একবার প্রমাণ করে যে, সালমান খান বলিউডের খানের ত্রয়ীর মধ্যে শেষ ব্যক্তি হিসেবে ৬০ বছর বয়সে পা রাখলেন। এর আগে এই বছরই ৬০ পূর্ণ করেছেন শাহরুখ খান ও আমির খান। এই সময়টি স্রেফ একটি সাংকেতিক নির্দেশনা, যা বলে দেয় যে, দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি বলিউডের আধিপত্য চালিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে, এটি প্রমাণ করে যে বয়স বাড়লেও তার শিল্পপ্রতিভা এবং প্রাসঙ্গিকতা অটুট থাকছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
-

ফরিদপুরের কনসার্টে বিশৃঙ্খলা, জেমসের প্রতিক্রিয়া
ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপনের শেষ দিনটি যখন উৎসবের পরিবর্তে বিষাদের ছায়ায় ঢাকা পড়ে, তখনই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা যখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জেমসের পরিবেশনে গান শোনার জন্য উত্তেজিত ছিল, তখন হঠাৎ করে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। এই পরিস্থিতির জন্য পুরোটা দায়ই শুধু আয়োজনের অদক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনার অভাবকে দিচ্ছে জেমসের সরাসরি প্রতিক্রিয়া।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে জেমস বলেন, “এটি সম্পূর্ণ আয়োজনের অদক্ষতা এবং ব্যর্থতা।” তিনি আরো বলেন, “আমরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফরিদপুর পৌঁছেছি, তখন থেকেই পরিস্থিতি অচল ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করে ঢাকায় ফিরে যান।”
উল্লেখ্য, একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, জেমস অনুষ্ঠানের স্থান থেকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বেরিয়ে গাড়িতে উঠছেন, এর সময় তার সঙ্গীরা শিল্পীর নিরাপত্তা রক্ষা করেন।
আয়োজক সূত্র জানায়, মূলত অনুষ্ঠানটি নিবন্ধিত দর্শকদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জেমসের আসার খবর শুনে কয়েক হাজার অনিবন্ধিত দর্শক ভিড় জমায়। গেট বন্ধ করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তারা গেটের সামনে ও সড়কে অবস্থান নেন, দেয়াল টপকে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে করে স্কুলের প্রাঙ্গণ ও মঞ্চে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে আয়োজক কমিটির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন এবং কমপক্ষে ১০-১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই অস্থিরতার কারণে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ভণ্ডুল হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটি শুধু নিবন্ধিতদের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু অসতর্কতা ও অপ্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
-

৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করলেন ভুটানের স্পিনার সোনাম ইয়েশে
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একজন ক্রিকেটার দ্বিবারের জন্য সাত উইকেট নেওয়ার দুঃসাহসিক কীর্তি রেখেছেন। ২০২৩ সালে চীনের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুস এবং এই বছর ভুটানের বিপক্ষে বাহরাইনের আলী দাউদ একই রকম অবিশ্বাস্য পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন, যেখানে তারা যথাক্রমে ৮ ও ১৯ রান দিয়ে সাত ব্যাটারকে আউট করেন। কিন্তু এবার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে ভুটানের তরুণ বাঁহাতি স্পিনার সোনাম ইয়েশে। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ৮ উইকেট নেন, আর তার সঙ্গে দেন কেবল ৭ রান।
আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর), গেলেফু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভুটান এবং মায়ানমারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম প্রস্তুতি শেষ হয় ভুটানের জয় দিয়ে। টস জিতে ভুটান ফিল্ডিং নেয়। শুরুতেই ভুটানের নারমান গচায়া ৫০ রানে ৯ উইকেট সহ ১২৭ রান সংগ্রহ করেন।
মায়ানমারকে জেতার জন্য ১২৮ রানের লক্ষ্য দেয় ভুটান। বল হাতে জাদু দেখাতে শুরু করে ভুটানের বাঁহাতি স্পিনার সোনাম। প্রথম ওভারে তার চার বলে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পরবর্তী ওভারে তারা আরও একটি উইকেট নেন। শেষ দুই ওভারে তার জোড়া আঘাতে ভুটান জয় নিশ্চিত করে। ওভারপ্রতি মাত্র ১.৭৫ রান করে তিনি ৪ ওভারে মোট ৭ রান দেন, তার সঙ্গে একটি মেডেনও রয়েছে।
মায়ানমারের পক্ষে হয় ওপেনাররা, কিন্তু তারা খুব বেশি রান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ভুটান ৮২ রানে জয়লাভ করে এই সিরিজে ৩-০ ব্যবধান চালিয়ে যায়। এই বিশাল ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে।
-

শান্তর সেঞ্চুরি ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর ৮ উইকেটে জয়
প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেট টাইটান্সের শুরুটা ভালো হলেও দ্রুত রান তুলতে সমস্যায় পড়েন রনি তালুকদার ও সাইম আইয়ুব। রনি ৩৬ রান করে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন সন্দীপ লামিচানে। পরে, ১৫ বলেই ২৮ রান করে তিনি ফিরে যান। এরপর, বাবার হোয়াইট বল বা পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর বলের মোকাবেলায় ব্যর্থ হন, স্টাম্পিং হন ২০ রানে। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে, জাজাইকে ফিরিয়ে আনা হয়, লামিচানে তাকে আউট করেন। এরপর, রনি দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্রুত রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। রনি ৩৪ বলে ৪১ রান করে বোল্ড হন। ব্যাটিংয়ের বাকিটা সময় ইমন ও আফিফ হোসেন ধীরেসুদৃঢ় কায়দায় খেলে দলের জন্য ১৯০ রান সংগ্রহ করেন। আফিফ ১৯ বলে ৩৩ রান করেন, এবং ইমন অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। রাজশাহী দলের হয়ে লামিচানে দুটি উইকেট নিয়েছেন। শেষমেশ, রাজশাহীর জয় নিশ্চিত হয় ৮ উইকেটে।
